শহীদুল জহিরের গল্প : আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস



আমাদের মহল্লা, দক্ষিণ মৈশুন্দির শিল্পায়নের ইতিহাস আমাদের মনে পড়ে; মহল্লায় গরম পড়তে শুরু করলে চৈত্র, বৈশাখ অথবা জ্যৈষ্ঠ মাসে তরমুজওয়ালারা তরমুজ নিয়ে আসে এবং আমরা তরমুজ খেতে শুরু করি, আমরা তখন তরমুজ সম্পর্কে সচেতন হই, আমরা লক্ষ করি যে, এই তরমুজওয়ালারা মহল্লার গলির সংকীর্ণ একটি জায়গায় মাটিতে দেয়ালের পাশ ঘেঁষে, গোল গোল তরমুজের ছোট ছোট ঢিবি বানিয়ে বসে, তারা এই জায়গায় কেন বসে আমরা বুঝতে পারি না, ফলে এই জায়গায় এসে রিকশা, ঠেলাগাড়ি, গরুর গাড়ি, বেবিটেক্সি, কুকুর, বেড়াল, ছাগল এবং মানুষ একটি জট পাকিয়ে ফেলে; দক্ষিণ মৈশুন্দিতে মাছি বেড়ে যায়, আমাদের নাকের ওপর সেগুলো এসে বসে, নীল মোটা মাছি এবং কালো সরু মাছি, ফলে আমরা বিরক্ত হই; আমরা তাদেরকে বলি, তুমরা এই মাছির দিনে তরমুজ লয়া আহ ক্যালা! বাবুল মিয়া অথবা দুলাল, অথবা বাবুল মিয়াই একটা ফুটবল নিয়ে এলে এতক্ষণ রাস্তার ওপরে হৈচৈ করতে থাকা বালকেরা তার পিছন পিছন গ্রাজুয়েট স্কুলের দিকে চলে যায়, তখন মহল্লায় নীরবতা নামে এবং আমরা বুঝতে পারি এতক্ষণ আমরা কী যন্ত্রণার ভেতর ছিলাম এবং তখন এই নীরবতার ভেতর আমরা মহল্লায় লেদ মেশিন চলার শব্দ শুনতে পাই; আমাদের তখন মহল্লার ইতিহাস মনে পড়ে, আমরা তরমুজ সম্পর্কে বিশদ/বিস্তারিত জানতে পারি, আমরা দুই হাতের তালুর ভেতর তরমুজ ধারণ করে এর ওজন পরখ করতে শিখি, এবং ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে হাতের ভেতরকার তরমুজের ওজনের সঙ্গে এর অন্তর্গত গুণের বিষয়টির যোগসূত্র অনুধাবনে পারঙ্গমতা অর্জন করি, আমরা মুণ্ডিত মস্তকের মতো এর চকচকে গায়ে আলতো করে কর স্থাপন করে এই জিনিসটি বোঝার চেষ্টা করি যে, এই ফলটির দেহ সতেজ এবং ভেতরের রসালোভাব অক্ষুণ্ণ আছে কিনা; আমরা তরমুজওয়ালাকে জিজ্ঞেস করি, তরমুজের দিনে মাছি হয়, না, মাছির দিনে তরমুজ; তখন মহল্লার বালকেরা ফিরে আসে, কারণ, তাদের তখন ইচ্ছে করে মহল্লার রাস্তায় গোল্লাছুট খেলতে এবং ফলে আমরা মহল্লার কাচের কারখানার চুল্লির আগুনের চাপা শব্দ আর শুনতে পাই না; এই অবসরে আমরা তরমুজ কাটি এবং তরমুজ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের বিষয়ে সমৃদ্ধ হই, গাঢ় সবুজ রঙের চামড়ার নিচে তরমুজের ভেতরটা হবে সাদা, কখনো কখনো গোলাপি, কিন্তু মূলত সাদা, এবং যে তরমুজের গায়ের রঙ ফেকাসে সাদা অথবা ছিটকাপড়ের মতো, তার ভেতরটা হবে রক্তের মতো লাল, আমরা তখন তরমুজওয়ালাদের কাছে জানতে চাই, তরমুজ দুই রকমের কেন হয়, কারণ, আমাদের সামনে তরমুজ নির্বাচনের এই সঙ্কট উপস্থিত হয়, যা আমাদের পিতাদের ছিল না, তরমুজ তখন, সে সময়, এক রকমের ছিল; তারা এরকম বলেন, যেমন আমরা বলি, গরম পড়তে শুরু করলে তরমুজওয়ালারা তরমুজ নিয়ে আসে, তখন মহল্লায় মাছি বেড়ে যায় এবং আমরা তরমুজওয়ালাদের বলি, মিয়ারা মাছির দিনে তরমুজ লয়া আহ ক্যালা! তখন হাজি আব্দুর রশিদ তার লেবেঞ্চুশ কারখানার নির্মাণ কাজের জন্য বালু এনে মন্দিরের সামনের রাস্তার ওপর ফেলে এবং মহল্লার বালকেরা মন্দিরের দেয়াল বেয়ে দোতলায় উঠে, নিচে, বালুর স্তূপের ভেতর লাফিয়ে পড়ে; হৈচৈ-এর কারণে আমাদের তন্দ্রা ছুটে যায় এবং তরমুজ সম্পর্কে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি, আমরা তখন চাকু অথবা বঁটি অথবা দা দিয়ে তরমুজ কেটে খাই, রাস্তায় বালকেরা তখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং গোল্লা ফেলে রেখে বাড়ি ফেরে; আমরা এই বিষয়টি খেয়াল করতে পারি না যে, আমরা তরমুজের সঙ্গে অনেক বিচি খেয়ে ফেলি, সেজন্য, অথবা বেশি পরিমাণে তরমুজ খাওয়ার কারণে আমাদের পেটের ভেতরটা মোচড় দেয়, আমরা তরমুজওয়ালার কাছে যাই এবং বলি, তরমুজে বিচি হয় ক্যালা। তখন মহল্লায় লেদ মেশিনের শব্দ থেমে যায় এবং আমরা বিষণ্ণ হয়ে পড়ি, কারণ, আমাদের তখন মনে হয় যে, তরমুজের বিচির জন্য আমরা মহল্লায় হয়তো একটি গৌরব থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ব; আমরা জানতে পারি যে, তারা, অর্থাৎ আমাদের পিতারা, তখন তরমুজ খায়, গাঢ় সবুজ চামড়ার ওপর পিরামিডের মতো সাদা ফালি, এবং তারা কালো কুচকুচে বিচি খেয়ে ফেলে, ফলে মহল্লার ইতিহাস আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়; তারা বলে, আমরা যা জানি না তা, এবং যা জানি তা পুনরায়; হাজি আব্দুর রশিদের পেটে মোচড় দিলে তিনি বিছানায় শুয়ে পড়েন এবং ভাবেন, আম কত রকমের হয় কিন্তু তরমুজ কেবল এক রকমের হয় কেন, সেই সময় অন্ধকার ঘরের ভেতর শুয়ে তিনি বুঝতে পারেন যে, তার ছেলে আব্দুল জলিলের জন্য একটি লেদ মেশিন বসানো দরকার; এবং এভাবে আমরা তরমুজ খেয়ে যখন জিরাই তখন মহল্লায় নাটবল্টু তৈরির ইতিহাস আমাদের মনে পড়ে এবং আমরা তখন মহল্লার একমাত্র কবি, একমাত্র প্রেমিক, একমাত্র ঘরপলাতক নারী এবং একমাত্র আত্মহত্যার ঘটনার কথা স্মরণ করতে পারি; তরমুজের বিচি খেয়ে ফেলার পর পেটে যে ব্যথা হয়, সেই ব্যথার ভেতর হাজি আব্দুর রশিদের অন্তর্দৃষ্টি উন্মোচিত হয় এবং তিনি মহল্লায় লেদ মেশিনের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা বুঝতে পারেন এবং তার মনে হয় যে, নিঃসন্তান বিধবা, বৃদ্ধা রহিমা বিবির দেড় কাঠার বাড়িটা তার প্রয়োজন; আমরা তখন জিরাতে জিরাতে আমাদের পেটের ব্যথার কথা ভাবি এবং আমাদের আক্ষেপ হয় এই জন্য যে, এই গরমের ভেতর তরমুজই যদি খেতে না পারি তাহলে আমরা আর কী খাব! তরমুজ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বাড়ে, কারণ, তরমুজের রসের গন্ধে মাছি বেড়ে যায় এবং মাছি আমাদের নাকের ভেতর প্রবেশ করে; আমাদের হাঁচি হয় এবং আমরা হাঁচি দেবার শারীরিক-যৌন আনন্দকে আবিষ্কার করি, আমাদের জীবনে তিনটি জিনিস আমরা সনাক্ত করতে পারি, লেদ মেশিন, তরমুজ এবং মস্তিষ্কের শেকড়ের গোড়া থেকে উঠে আসা হাঁচি দেয়ার আনন্দ; আমাদের মনে পড়ে মহল্লার ভেতর শেফালি আখতারের বেড়ে ওঠার ঘটনার কথা, সে যেদিন নিখোজ হয় অথবা বাড়ি থেকে পালায়, তার জন্য আমাদের কষ্ট হয়; আমরা মনে করতে পারি যে, সেটা ছিল আব্দুল গফুরের সর্বশেষ পতন, আমাদের মনে হয় কাঁখের পিতলের কলস পড়ে যাওয়ার মতো আমরা এই পতনের শব্দ শুনতে পাই, এজন্য আমাদের কোনো আনন্দ কিংবা দুঃখ হয় না, আমাদের মনে হয় যে, এই পতন অনিবার্য ছিল; কারণ, ঘটনাটা আমাদের কৈশোরেই ঘটে, হাজি আব্দুর রশিদ তরমুজের বিচি খেয়ে ফেলার পর তার পলেস্তারা খসা চুন-সুরকির দালানের আধো-অন্ধকারের ভেতর হাত দিয়ে পেট চেপে ধরে শুয়ে থাকার সময় সেই স্বপ্নটি দেখেন এবং তার সেজ ছেলে আব্দুল জলিলকে ডেকে পাঠান, এবং আমরা জানতে পারি তরমুজের বিচি খেয়ে ফেলার পর হাজি আব্দুর রশিদের চোখের সামনে কী করে মহল্লা এবং দেশের ভবিষ্যৎ ভেসে ওঠে এবং পরবর্তীকালে আমরা যখন বিচি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি তখন আমরা বিচলিত হই এই কারণে যে, মহল্লায় আমরা লেদ মেশিনের শব্দ থেমে যেতে শুনি এবং আমাদের আশঙ্কা হয় যে, মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি মালিক সমিতির দক্ষিণ মৈশুন্দি শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেনও হয়তোবা অসুস্থ হয়ে পড়বে এবং পরবর্তী শুক্রবার দোলাইখাল এলাকায় উপপ্রধানমন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীর যে ভাষণ দেয়ার কথা সেই ভাষণে একই সঙ্গে দক্ষিণ মৈশুন্দির নাম ঢুকিয়ে দেয়া হয়তো তার পক্ষে আর সম্ভব হবে না, কিন্তু তরমুজ সম্পর্কে আমাদের জানার বাকি ছিল; আমাদের এরকম মনে হয় যে, আমাদের পিতারাই সুখী ছিল, কারণ, তাদের জীবন সরল ছিল, তাদের সম্মুখে দুই রকমের তরমুজ থেকে একটি বেছে নেয়ার সঙ্কট ছিল না; আমরা জাপানি লাল তরমুজ খাই, কিন্তু আমরা নিশ্চিত হতে পারি না এটা লাল তরমুজই কিনা, ফলে আমরা তরমুজের বিচি খেয়ে ফেলি এবং হাজি আব্দুর রশিদ বিছানায় শুয়ে তার তিন নম্বর ছেলে আব্দুল জলিলকে ডেকে পাঠান এবং সে এলে, মহল্লায় লেদ মেশিন বসানোর কথা বলেন, কিন্তু তার লজেঞ্জ কারখানার সঙ্গে লাগানো রহিমা বিবির বাড়িটি তার দখলে আসে না, এই বৃদ্ধা কেন এরকম করে তা আমরা বুঝতে পারি না; তখন একদিন দোহার থেকে অথবা নবাবগঞ্জ থেকে আব্দুল গফুর এসে হাজির হয়, তার সঙ্গে তার তিন ছেলেমেয়ে আসে, আমরা জানতে পারি যে, সে, আব্দুল গফুর, রহিমা বিবির বোনের ছেলে এবং রহিমা বিবি তার বাড়িসহ জায়গা আব্দুল গফুরকে হিবাদলিল করে দান করে; এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের মহল্লার শিল্পায়নের ইতিহাস বদলে যেতে পারতো, কিন্তু আমাদের তখন এরকম সন্দেহ হয় যে, আমাদের পেট মোচড়ানোর ভাবটা বেশ কঠিন এবং গভীর, এবং তখন হাজি আব্দুর রশিদ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রেরণা ফিরে পান; এই কথা যখন আমরা জানতে পারি, আমরা ভয়ানক উত্তেজিত হয়ে পড়ি, কারণ, আমরা বুঝতে পারি যে, গরুর গাড়িতে করে শিগগিরই মন্দিরের সামনে বালু এনে ফেলা হবে, আমরা এই সময়টির জন্য প্রতীক্ষায় থাকি, এবং আমরা তখন শেফালিকে দেখতে পাই, আমাদের মনে পড়ে যে, শেঞ্চালি একটি ফুলের নাম, আমরা মাঝারি আকৃতির হালকা পাতলা আব্দুল গফুরকে দেখে বুঝতে পারি যে, মটর পার্টসের অথবা বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দোকানদার হিসেবে তাকে খারাপ লাগবে না দেখতে, কিন্তু মাছি সম্ভবত তাকে বিরক্ত করে ফেলে, ফলে আমরা দেখি যে, সে আমাদের ব্যাপারে নিরাসক্ত হয়ে পড়ে এবং নারিন্দা প্রাইমারি স্কুলে মাষ্টারি শুরু করে, তখন আমরা তার বড় ছেলে আজিজুল হক এবং ছোট ছেলে আমিনুল হককে দেখি; আমরা দাঁতে কেটে নিয়ে তরমুজের টুকরো জিভ দিয়ে তালুর সঙ্গে ঠেসে ধরি, গরম এবং খরার দিনে তরমুজ খাওয়ার সময় আমাদের যে আনন্দ হয়, যেই আনন্দের ভেতর আমরা শেফালির বেইমানির কথা ভুলতে পারি না, আমরা সেই মানুষটিকে বের করতে পারি না যার সঙ্গে সে চলে যায়, এবং আমাদের মনে হয় যে, একই মহল্লায় থেকে সে আমাদের ঠকায়, কারণ, হয়তোবা সে তরমুজ খাওয়াকে ঘৃণা করতে শেখে তার পিতা, আব্দুল গফুরের কাছ থেকে; কিন্তু তখন আমরা আলমগীর হোসেনের কথা জানতে পারি, আমরা জানতে পারি যে, পেট মোচড়ানোর কারণে শুয়ে থাকার যে অবসর সে পায়, সেই সময়টি আমাদের জন্য বড় আশীর্বাদের মত হয়ে ওঠে, তখন আমাদের শেফালির কথা মনে পড়ে, তার কথা মনে হলে আমাদের, অর্থাৎ দক্ষিণ মৈশুন্দির লোকদের ঝর্ণা বসাকের কথা মনে পড়ে এবং আমাদের এক প্রকারের দুর্বোধ্য শোক হয় এবং হাজি আব্দুর রশিদ নির্মাণ কাজের জন্য মন্দিরের সামনে বালু এনে ফেললে সকাল বেলা বাবুল মিয়া এবং তার দল বালু নিয়ে খেলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে; তারপর আমরা ঘরে ফিরি এবং আমাদের মায়েরা, হায় আল্লা অখনতরি ইস্কুলে যাসনিকা, বলে তেড়ে এলে আমরা আমাদের মলিন খাতা এবং পাতা ছেঁড়া বই নিয়ে দৌড় দিই; এখানে এই গ্রাজুয়েট হাই স্কুলে আমরা আজিজুল হক এবং আমিনুল হককে পাই এবং একটি বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের নৈকট্য স্থাপিত হয়, যখন আমাদের স্কুলের পিটি টিচার ননি বসাক পিটির লাইনে আমাদের কান মলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আজিজুল হক এবং আমিনুল হকেরও কান মলে দেয়; আমরা তখন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরি, কিন্তু শেফালির জন্য আমাদের বহুদিন মন খারাপ থাকে, আমরা বুঝতে পারি না, তবু থাকে, আমরা তাকে ফুল বলে ডাকি, এই শেফালি ফুল; সে বাংলাবাজার স্কুলের ফিরোজা রঙের ইউনিফর্ম গায়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে হাসে এবং বলে, শেফালি ফুল নাকি? আমরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি, মহল্লায় বহুদিন আমরা ফুলগাছ দেখি নাই এই কথাটি আমরা স্মরণ করতে পারি এবং আমাদের মনে হয় যে, শেফালি কি ফুল নয়, গাছ? আমরা তখন আমাদের কথা সংশোধন করি, এই শেফালি গাছ; এবং তখন সে আমাদের জীবনের সম্ভবত প্রথম সমস্যাটি উপস্থিত করে, কারণ, সে আবারও হাসে এবং বলে, শেফালি কি গাছ? আমরা পুনরায় বিভ্রান্ত হই এবং খবর পাই যে, রহিমা বিবির জায়গাটুকু না পেলেও হাজি আব্দুর রশিদ মহল্লায় লেদ মেশিন বসানোর পরিকল্পনা ত্যাগ করে নাই, তরমুজ অথবা তরমুজের বিচি বেয়ে বিছানায় পড়ে থাকার সময় সে তার পরিকল্পনার ছক গুছিয়ে নেয় এবং তরমুজ সম্পর্কে আমরা আরো সচেতন হই, কারণ, আমরা দেখতে পাই যে, আমাদের জীবনে অবসরের সঙ্গে এই ফলটির সম্পর্ক কত নিবিড়; 'মেশিনটুলস ফ্যাক্টরি মালিক সমিতি'-র আলমগীর হোসেন যখন তরমুজ অথবা তরমুজের বিচি খেয়ে বিছানায় শুয়ে থাকে তার তখন হাজি আব্দুর রশিদের তরমুজ খাওয়া এবং পেট মোচড়ানোর কারণে শুয়ে থাকার এই ঘটনাটির কথা স্মরণ হয়, এবং বিছানায় শুয়ে শুয়ে সে তার কথাগুলো সাজিয়ে নেয়, অথবা লিখে ফেলে, কিন্তু আমরা জানতে পারি যে, উপপ্রধানমন্ত্রীর ভাষণে হাজি আব্দুর রশিদের তরমুজের বিচি খাওয়ার এই ঘটনার কথা অন্তর্ভুক্ত করা যায় না; শুক্রবার বাদজুম্মা অনেকে দোলাইখাল এলাকায় যায় এবং সাদা পাঞ্জাবি ও কিস্তিটুপি পরা উপপ্রধানমন্ত্রীকে ছোট ছোট লেদ কারখানায় উঁকি দিতে দেখে, তারপর তারা তার বহু প্রতীক্ষিত ভাষণ শোনে, এই ভাষণে তিনি দক্ষিণ মৈশুন্দির কথাও উল্লেখ করেন; আলমগীর হোসেন যার মাধ্যমে উপপ্রধানমন্ত্রীর ভাষণে দক্ষিণ মৈশুন্দির নাম ঢোকায় তার সেই বন্ধু, উপপ্রধানমন্ত্রীর গণসংযোগ কর্মকর্তার কাছ থেকে সে ভাষণের একটি কপি সংগ্রহ করে এবং এই ভাষণের একটি বাক্যের ভেতর আমাদের মহল্লা, দক্ষিণ মৈশুন্দির নাম আমরা এভাবে দেখতে পাই, 'দোলাইখাল, দক্ষিণ মৈশুন্দি, ইত্যাদি এলাকার লোক ছোট লেদ কারখানায় নীরবে যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তার মূল্যায়ন এবং প্রশংসা আমাদের করতেই হবে', অচিরেই আমরা মহল্লার সব লেদ কারখানায় এই ভাষণটির ফটোকপি টাঙানো দেখতে পাই এবং আমাদের সুবিধার জন্য 'দক্ষিণ মৈশুন্দি নামটার নিচে লাল রঙের মার্কার দিয়ে দাগ দিয়ে দিই, আমাদের আনন্দ এবং গর্ব হয়, কিন্তু এর ভেতর আমাদের একটি বঞ্চনার কথা মনে পড়ে, আমাদের এই সাফল্য দেখানোর জন্য মহল্লায় আমরা তখন আব্দুল গফুরকে পাই না, আমাদের মনে পড়ে সে মহল্লায় আসার পর আমাদেরকে ‘তরমুজখোর' বলে গাল দেয়, কিন্তু পরিণতিতে আমরা টিকে যাই, কারণ তরমুজ মাথা ও নাভি ঠাণ্ডা রাখে, আর সে তার বাড়িতে এক নিঃসঙ্গ বায়ুচড়া দুপুরে কড়িবর্গার সঙ্গে ঝুলে থাকে; আমরা এই খবর পাওয়ার পর বিস্মিত হই না, কারণ, তরমুজ সম্পর্কে আমাদের জানা ছিল, আমরা তখন রাস্তায় যাই এবং দেখি যে, সংকীর্ণ রাস্তার ওপর তরমুজওয়ালাদের দোকানের কারণে পুলিশের গাড়ি আটকে যায়, আমরা তখন এতদিন পর বুঝতে পারি তরমুজওয়ালারা কেন চিপা জায়গায় দোকান নিয়ে বসে; পুলিশ সহজে মহল্লায় ঢুকতে পারে না, তারা ঢুকতে পারার আগেই আমরা পুলিশ আসার খবরটা পেয়ে যাই, ফলে আমরা প্রস্তুত হতে পারি, আমরা আটকে যাওয়া পুলিশকে একটি প্রশ্ন করি, প্রশ্নটি হঠাৎ করেই আমাদের মাথায় আসে, কারণ তরমুজওয়ালা তখন একটি তরমুজ কেটে তার টকটকে গর্ভ উন্মোচিত করলে এই রঙের ঔজ্জ্বল্য আমাদের হঠাৎ অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়, আমরা পুলিশকে জিজ্ঞেস করি, আচ্ছা ভাই, তরমুজে কি ভেজাল হয়া পারে? আটকে যাওয়া গাড়ির ভেতর বসে থাকা সূত্রাপুর থানার পুলিশ আমাদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কটমট করে তাকায়, তখন আমরা বড় চালকুমড়োর মত একটি করে তরমুজ নিয়ে নিজেদের বাড়ি ফিরি, এবং মহল্লায় তখন আমরা আমাদের নারীদের ব্যতিক্রমী মেধা এবং রুচির প্রকাশ অবলোকন করি; আমরা যখন তরমুজ কিনে আনি তরমুজওয়ালা চাকু দিয়ে চৌকো কোণাতোলা একটি টুকরো কেটে বের করে এর লাল রঙ দেখায়, আমরা সেটা পরখ করার পর সে বলে, এক্কলে মাখখন, এবং টুকরোটা পুনরায় যথাস্থানে প্রবেশ করিয়ে দেয়, আমরা যখন এই তরমুজ বাসায় নিয়ে আসি, আমাদের স্ত্রীরা কাটা টুকরোটা প্রথমে পুনরায় টেনে বার করে এবং আমরা শুনতে পাই যে, তারা বলে, এমুন লাল, মনে লয় য্যান বুকের ভিতর থেইকা কইলজা টাইনা বাইর করলাম, তাদের কথা শুনে আমরা প্রথমে চমৎকৃত হই, তারপর আমাদের একাধিক প্রতিক্রিয়া হয়, আমাদের মনে হয় যে, এই কথাটি আমাদের কেন আগে মনে হয়নি, তারা এই ধারণাটা কোথায় পেল? আজিজুল হকের কবিতায় কি তরমুজের এ রকম উপমা দেয়া হয়ে থাকতে পারে? এবং আমাদের স্ত্রীরা কি তার লেখা কবিতা পড়ে? আমাদের মনে হয় যে, হয়তোবা পড়ে, কিন্তু আমাদের একই সঙ্গে মনে হয় যে, আজিজুল হকের কবিতা পড়ে কি আমাদের স্ত্রীরা বুঝতে পারে? আমরা জানি না, কিন্তু আমরা বিমর্ষ বোধ করি, কারণ, আমরা যখন ঝর্ণা বসাকের কথা জানতে পারি আমাদের তখন ননি বসাক স্যারের ওপর রাগ হয়, আমরা তার হাতে কানমলা এবং বেত খেয়ে গ্রাজুয়েট হাই স্কুলের জীবন শেষ করে লেদ মেশিন অথবা কাচের কারখানায়, পুরানো যন্ত্রাংশ অথবা ইলেক্ট্রিকের সরঞ্জামের দোকানে জীবিকার জন্য ঢুকে পড়ি অথচ আমরা জানতে পারি না যে, মনি বসাকের একটি মেয়ে আছে, এবং আমাদের জীবন এক ধরনের অপচয় বোধে আক্রান্ত হয় যখন ঝর্ণা বসাক ফিল্মের নায়িকা হয় এবং আমরা তাকে আবিষ্কার করি; আমরা রূপমহল সিনেমা হলে গিয়ে চান্দা অথবা তালাশ, অথবা উভয় ছবিতেই তাকে দেখি; ; তাকে দেখে আমাদের বিষণ্ণতা বেড়ে যায়, কারণ, আমরা বুঝতে পারি যে, কি অসাধারণ সুন্দরী সে, কিন্তু সে আমাদের নয়, আমাদের মনে হয় যে, ফিল্মের নায়িকা হয়ে যাওয়ায় আমরা তাকে হারাই; সে আমাদের এত কাছে ছিল, জোড়পুল, বনগ্রাম, পদ্মনিধি লেন, অথবা অন্য কোথাও, কোনো চুন-সুরকির নোনা ধরা দালানের ভেতর, কিন্তু আমরা জানতে পারি নাই; আমরা ঠিক করি যে, আমরা ননি বসাক স্যারকে ডেকে একদিন জিজ্ঞেস করব, ঝর্ণা বসাক সত্যি তার মেয়ে কিনা; কিন্তু আমাদের আর সময় হয় না, আমরা স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিই এবং ঝর্ণা বসাকের শোক ক্রমান্বয়ে নেমে যায়, তবে তার কথা আমরা ভুলে যাই না; তখন আজিজুল হকের কবিতা লেখার কথা আমরা যখন শুনি, আমাদের মনে হয় যে, সে কী নিয়ে কবিতা লেখে? কারণ, তার লেখা কোনো কবিতার চেহারা আমরা দেখতে পাই না, আমাদের সন্দেহ থাকে না যে, আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে অথবা ভোর হলো দোর খোল ধরনের কোনো কবিতা আমরা হয়তো দেখতে পাব, অথবা হয়তোবা কোনো প্রেমের কবিতা, ঝর্ণা বসাককে নিয়ে, কারণ, ননি বসাকের অত্যাচার সহ্য করার পর ঝর্ণা বসাকের বিষয়ে শোকগ্রস্ত না হয়ে আজিজুল হকের কি কোনো উপায় ছিল? আমাদের মনে হয় না, কিন্তু আজিজুল হক পাগল হয়ে যাওয়ার পর তাকে যখন পাবনায় পাগলাগারদে নিয়ে যাওয়া হয়, তার আগ পর্যন্ত আমাদের হাতে তার একটি মাত্র কবিতা আসে এবং আমরা । পড়ে কিছুই বুঝতে পারি না, আমরা বরং তরমুজ সম্পর্কে জানতে পারি, পুলিশকে আমরা জিজ্ঞেস করি, তরমুজ খাইবেন? তারা আমাদেরকে ধমক দেয়, ধুত, আমরা হাসি, কারণ, পুলিশ দেখলে আমাদের সবসময় হাসি পায়; আমরা বুঝতে পারি যে, তরমুজ হচ্ছে ডিমের মতো, পচে যেতে পারে, ভেজাল হতে পারে না; কিন্তু এই বিষয়টি কালক্রমে আমাদেরকে অন্য এক ধরনের বিভ্রান্তির ভেতর ঠেলে দেয়, আমরা মহল্লায় দিনে দেড়মণ নাটবল্টু, দশমণ পাউরুটি/বিস্কুট/লেবেঞ্চুশ, সাতগ্রোস কাচের গ্লাস বানানোর পর বিকালে অথবা সন্ধ্যায় জানতে পারি যে, তরমুজে ভেজাল হতে পারে, সাদা তরমুজের ভেতর লাল রঙ এবং চিনির পানি ইঞ্জেকশন করে ঢোকান হয়, ফলে তরমুজ হয় লাল এবং মিষ্টি, এই কথা শুনে আমরা বিস্মিত এবং একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ হই, আমাদের মনে হয় যে, মানুষের জীবনে কি কোনো মূল্যবোধই অবশিষ্ট থাকবে না! তখন আামরা একটি বাঁশির সুর মহল্লার ভেতর দিয়ে বয়ে যেতে শুনি, আমাদের স্ত্রীরা দরজার কপাট ধরে দাঁড়িয়ে উৎকর্ণ হয়, আমরা দেখি এবং আমাদের মনে পড়ে যে, পরম নিষ্পাপ তরমুজেও ভেজাল হয়, আমরা তখন তরমুজ কেটে ফালা ফালা করি, কিন্তু এর লাল রঙের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারি না, এই রঙ আসল, না নকল; তরমুজের কারণে, বেশি জ্ঞানের অসুবিধার দিকটি আমাদের সামনে প্রকাশিত হয়, জ্ঞান আমাদের মনের এতদিনকার শান্তি নষ্ট করে দেয়, আমরা বলি, হালার মায়ামানুষতো মায়ামানুষ, তরমুজেই ভেজাল হয়; কিন্তু তখন এক সময় আমরা শেফালিকে দেখি, হাফ প্যান্টের অংশ গুটিয়ে আমরা দেয়ালের পাশে লাইন করে দাঁড়িয়ে পেশাব করি, তারপর যখন ঘুরে দাঁড়াই, দেখি যে, শেফালি স্কুল থেকে ফিরে আসে, আমরা, বালকেরা, তার হাতে একটি গাছের চারা দেখতে পাই এবং তৎক্ষণাৎ তা চিনতে পারি, কীভাবে পারি তা বুঝতে পারি না, পারি, এবং আমরা চিৎকার করে উঠি, এই শেপালি ফুলগাছ; আমরা দেখি যে, শেফালি যেতে যেতে তার ক্লান্ত মুখটি ঘুরিয়ে তাকায়, তার মুখের দিকে তাকিয়ে আমরা বুঝতে পারি না শেফালিফুল গাছ আমরা কাকে বলি, গাছের চারাটিকে, নাকি শেফালিকে, তখন, তারপর আমাদের মনে হয় যে, শেফালিকে নিয়ে আমাদের পূর্বেকার বিভ্রান্তির সমাধান এটাই, শেফালি ফুলও নয়, গাছও নয়; শেফালি, শেফালি ফুলগাছ; এ ব্যাপারে আমরা যখন নিশ্চিত হই তখন পঁচিশ নম্বর বাড়ির মামুনের কথা আমরা শুনতে পাই, সে খুব ভাল একটি কাজ করে, আমরা জানতে পারি যে, সে তরমুজওয়ালার কাছে গিয়ে বলে, মিয়া ভেজাল দেওয়া তরমুজ লয়া আহো ক্যালা, কিন্তু তরমুজওয়ালা তার কথা বুঝতে পারে না, আমরা যখন শুনি আমাদের প্রথমে মনে হয় যে, তরমুজওয়ালা আসলেই কথা বুঝতে পারে নাই, তরমুজওয়ালারা বোকা হয়, কারণ, তা না হলে তারা তরমুজ বিক্রি করত না, আমাদের মতো কিনে খেত; কিন্তু পরে আমাদের মনে হয় যে তরমুজওয়ালাই আসলে চালাক, সে তরমুজ না খেয়ে পয়সা জমায়, এবং মামুনের কথা শুনে ইচ্ছে করে না বোঝার ভান করে, কি কন আপনে? কিন্তু মামুন যখন ব্যাপারটা পুনরায় বুঝিয়ে বলে সে হাসে এবং আমরা তার বুদ্ধিমত্তার বিষয়ে নিশ্চিত হই, সে তরমুজের একটা ছোট টুকরা কেটে নিয়ে মামুনের গায়ের সাদা শার্টের নিচের প্রান্তে ঘষে দিলে কাপড়টা লাল হয়ে যায় এবং মামুন বিজয়ীর ভঙ্গিতে বলে, এই রং আইলো কইথন, মিয়া, আবার কও রং দেও না! কিন্তু ঘটনার তখনো বাকি ছিল, তরমুজওয়ালা তখন কাছের দেয়ালের গা থেকে এক চিমটি শেওলা তুলে নিয়ে মামুনের শার্টে ঘষে দেয় এবং সাদা শার্টে লাল দাগের পাশে সবুজ রঙের একটি দাগ হয়ে যায়, এবং সে বলে, এ্যালা? তখন মামুনের কিছু বলার থাকে না; আমরা যখন এই গল্প শুনতে পাই, নিজেরা পরীক্ষা করে দেখি, এবং তখন আমাদেরও কিছু বলার থাকে না, ফলে আমাদের স্ত্রীরা তরমুজ ছোট চৌকো করে কেটে বাটি ভরে নিয়ে আসে, আমরা টুকরো তুলে মুখে দিই, আমাদের মুখের গর্তের ভেতর অল্প চাপে হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো গলে যেতে থাকে তরমুজ এবং হাতের ভেতর নারী; এক হাতে তরমুজের বাটি, অন্য হাতে যুবতী স্ত্রীর একটি স্তন ধারণ করে আমরা পৃথিবীতে গোলাকার বস্তুর মর্ম বুঝতে পারি; তখন স্কুল পালিয়ে আমরা একদিন বলাকা সিনেমা হলে একটি ইংরেজি ছবি দেখতে যাই, এন্ড হোয়েন শি ওয়াজ গুড, আমাদের সঙ্গে, আমাদের মনে পড়ে, আজিজুল হকও ছিল; আমরা এই ছবির ইংরেজি কথাবার্তা বুঝতে পারি না, কিন্তু ছবির একটি দৃশ্যে তরমুজ দেখতে পেয়ে আজিজুল হক ছাড়া আমাদের সকলের আনন্দ হয়, ছবির নায়িকা নাপিতের চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করছিল এবং তরমুজের গায়ে সাবানের ফেনা লাগিয়ে শেভ করার মহড়া দিচ্ছিল; আমাদের পিতারা চুমুর দৃশ্যওয়ালা ছবি দেখার জন্য আমাদের গাল দিলেও আমরা দেখতে পাই যে, জীবনে কত কিছু শেখার আছে, আজিজুল হক ছাড়া আমরা অন্য সকলে তখন স্কুল ছেড়ে দিই এবং আমাদের দাড়ি মোচ গজাতে থাকে, তখন শেভ করতে গিয়ে গাল এবং গালের নিচে ক্রমাগতভাবে কেটে যেতে থাকলে ইংরেজি ছবি দেখার অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগে, আমরা দাড়ি শেভ করার বিষয়টি অনুশীলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি এবং আমরা তখন তরমুজ কিনে নিয়ে আসি, এক তরমুজে তখন দুই কাজ হয়, দাড়ি শেভের অনুশীলন এবং খাওয়া, আমরা তরমুজের গায়ে সাবান লাগিয়ে রেজর দিয়ে এই ফেনা পরিষ্কার করে তুলে আনি তরমুজের গায়ে আঁচড় না লাগিয়ে, এবং দাড়ি কাটার ব্যাপারে আমরা দক্ষ হয়ে উঠি, মহল্লার ভেতর কেবলমাত্র আজিজুল হক দাড়ি কাটে না এবং তার চুল লম্বা হয়ে কাঁধ ছোয়, কারণ, তার রক্তের ভেতর তরমুজের প্রতি গভীর এবং প্রবল এক অনীহা ছিল; তার পিতা, আব্দুল গফুর, যখন মহল্লার লোকদের ‘তরমুজখোর' বলে, আমরা শুনতে পাই যে, মহল্লার লোকেরা তাদেরকে বলে, 'পাগলের গুষ্টি', সলিমুল্লাহ কলেজে পড়ার সময় আজিজুল হকের চুল পাক দিয়ে নেমে আসে, তখন আমাদের কাজী নজরুল ইসলাম অথবা রবীন্দ্রনাথের কথা মনে পড়ে, 'আমরা বলি, কবিকবি ভাব’, এবং আমরা দেখি যে, আমাদের অনুমান সত্য হয়ে ওঠে, কারণ, আমরা জানতে পারি যে, আজিজুল হক কবিতা লেখে; কিন্তু তার কবিতা আমরা বুঝতে পারি না, আমরা কোনো একদিন কোনো এক কাগজে তার লেখা একটি কবিতা দেখতে পাই, তখন সেটা আমরা পড়ে দেখার চেষ্টা করি, কবিতাটা ছিল এরকম: তিনটি বিন্দু ছিল সামনে। ডানে বাঁয়ে এবং/মাঝখানে/অথবা / একটি রেখা ছিল/ডান থেকে বাঁয়ে কিংবা/বাম থেকে ডানে/অথবা একটি বাক্য ছিল রেখার মতো/কারণ, তখন অর্থ ছিল না/কারণ, তখন বাক্য রেখা ছিল/ এবং রেখা বিন্দু ছিল, অথবা/তখন অর্থ ছিল/রেখা তখন বাক্য ছিল/ এবং বাকা জীবন ছিল/কারণ, তখন স্বপ্ন ছিল/বাক্য তখন কথা ছিল,/কিন্তু তখন স্বপ্ন ছিল না/আমরা জাগরণের পীড়নের ভেতর নিদ্রিত ছিলাম/আমাদের নিদ্রার ভেতর ভালবাসার অঙ্কুর ছিল না/কারণ, তখন বাক্য রেখা ছিল/ রেখা তিনটি বিন্দু ছিল/মাটিতে/পানিতে/ এবং আকাশে/ কারণ, তখন অর্থ ছিল না/এবং তোমার কথা/অন্য কথা ছিল: আজিজুল হকের কবিতার কোনো অর্থ যখন আমরা বুঝতে পারি না, আমরা তরমুজ কিনে এনে কেটে খাই এবং বলি, পাগল, তারপর একদিন, সে লুঙ্গি ছাড়া মহল্লার রাস্তায় নেমে পড়লে আমরা তাকে পাগলাগারদে নিয়ে গিয়ে রেখে আসি। তখন মহল্লার বাতাস সুগন্ধে ভরে যায়, স্কুল থেকে বাসায় ফিরে আমরা বই রেখে কফিলুদ্দিন ব্যাপারির নূতন বিস্কুটের কারখানার দিকে দৌড় দিই, আমরা গিয়ে দেখি কারিগরেরা লম্বা লম্বা উঁচু টেবিলের ওপর ময়দা ছেনে টিনের ট্রে-র ওপর বিস্কুট বানিয়ে রাখে এবং নিচে মেঝেতে পাতা চাদরের ওপর মহল্লার লোকেরা বসে অপেক্ষা করে, তারপর মৌলবি আসেন এবং আমরা ‘ইয়ানবি সালামালাইকা' বলে মিলাদ পড়ি, মিলাদ পড়া শেষ হলে কুঁড়েঘরের মতো চুল্লির চারকোনা দরজা খুলে ফেলা হয় এবং নৌকার বৈঠার মতো লম্বা কাঠের হাতা প্রবেশ করিয়ে দিয়ে কারিগরেরা এই কারখানার প্রথম তৈরি বিস্কুটের ট্রে বের করে আনে এবং কফিলুদ্দিন ও তার ছেলেরা ছোট ছোট ঠোঙ্গায় এই বিস্কুট ভরে আমাদের হাতে ধরিয়ে দেয়; এভাবে মিলাদ পড়ানোর পর হাজি আব্দুর রশিদের লজেঞ্জ কারখানায় উৎপাদিত প্রথম লজেঞ্জের ভাগ আমরা পাই, কিন্তু লেদ মেশিন বসানোর পর ৪৪০ ভোন্টের ১/২ ঘোড়া শক্তির মটর বসানো হয় এবং আমরা ভিড় করে আব্দুল জলিলের কারখানা দেখতে যাই, পুনরায় মিলাদ পড়ার পর আমরা জিলাপি খাই এবং মহল্লায় শব্দ এবং মিষ্টি গন্ধের ভেতর আমাদের ল্যাংড়া পুতুলের কথা মনে পড়ে, আমরা কফিলুদ্দিন ব্যাপারির ছেলেকে বলি, পুতুল আয়া পারেনিকা, অর লাইগা বিস্কুট দেন; কিন্তু পুতুল বেগমের বিস্কুটের ঠোঙা আমরা তার কাছে পৌঁছে দিতে পারি না, বিভিন্ন ঝামেলায় পড়ে আমরা নিজেরাই তা খেয়ে ফেলি, আমরা তখন ফুলের গন্ধ পাই এবং আমাদের স্ত্রীরা বলে, শেফালি ফুলের ঘেরাণ আহে, বিস্কুট এবং লজেঞ্জ ফ্যাক্টরির ছড়িয়ে দেয়া মিষ্টি গন্ধ ছাপিয়ে এই গন্ধ ভেসে আসে এবং আমাদের স্ত্রীরা তখন বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, শেফালি ফুল, নাকি হাস্নাহেনা? মহল্লায় বহুদিন আমরা ফুল দেখি নাই, কিন্তু হাস্নাহেনার কথা শুনে আমাদের মনে পড়ে যে, শীতের দিনে হাস্নাহেনার তীব্র গন্ধে সাপ আসে, বহুদিন আমরা মহল্লায় সাপ দেখি নাই; আমরা তখন আসলাম ব্যাপারির খোঁড়া বড় মেয়ে পুতুল বেগমের জন্য জিলাপি চেয়ে নিই এবং মন্দিরের রোয়াকে পা ঝুলিয়ে বসে নিজেরাই তা খাই, তখন আমাদের স্ত্রীদের কাছ থেকে আমরা ঘটনাটা জানতে পারি এবং মহল্লার রাস্তায় পুতুলের প্রতীক্ষা করি, কিন্তু সে আসে না, ফলে আমরা আব্দুল গফুরের বাড়ির দেয়ালের সঙ্গে লাগানো আসলাম ব্যাপারির বাড়িতে যাই এবং দেখতে পাই পুতুল দুপুর বেলা তাদের বাইরের বারান্দার এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেয়ালের ওপর দিয়ে আব্দুল গফুরের বাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে; সে আমাদের দিকে ফিরে তাকায়, তার ফরসা সুন্দর মুখ এবং ওপরের ঠোঁটে ফুটে থাকা কালো তিলের সুষমা আমাদেরকে বিচলিত করে, কিন্তু তখন কোমরের নিচে আমরা যখন তাকাই, সালোয়ারের ভেতর তার অকেজো পা ঝুলে থাকতে দেখি; আমরা এই বিষয়টি বুঝতে পারি যে, দেয়ালের অন্য পার থেকে আমিনুল হক মেয়েটির শুধু মুখ দেখতে পায়, লাঠিতে ভর দেয়া নিচের অংশ দেখে না, এবং এভাবেই ঘটনাটা ঘটে; তরমুজ নিয়ে কত রকমের জটিলতা আমাদের আক্রান্ত করে, মহল্লায় নারী এবং পুরুষ, আমরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে পড়ি এবং আমাদের জীবনের একমাত্র আনন্দ তরমুজ খাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়, কারণ, আমাদের স্ত্রীরা তরমুজ স্পর্শ করতে অস্বীকার করে, আমরা পুনরায় বুঝতে পারি যে, নিষ্পাপ বলে কিছুই নেই, এবং আমরা জানতে পারি, আমাদের স্ত্রীরা আলমগীর হোসেনের স্ত্রীর কাছ থেকে এই গল্প জানতে পারে; আলমগীর হোসেন তাদের সমিতির সভায় অথবা সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য বগুড়া যায়, তখন যাওয়ার পথে কোনো এক জায়গায়, বেড়া, উল্লাপাড়া অথবা শেরপুরের কাছে, বিস্তৃত মাঠে মাটিতে বিছানো খড়ের ওপর লতাগুলোর মতো তরমুজ গাছ দেখে সে চিনতে পারে, 'কারণ, বড় বড় ডিমের মতো সাদা তরমুজ মাঠ জুড়ে পড়ে ছিল, তখন সে সেই দৃশ্যটি দেখতে পায়, একটি লোক, সম্ভবত কৃষক, রাস্তার দিকে পিছন ফিরে বসে পাছার কাপড় উদোম করে তরমুজ ক্ষেতের ভেতর মলত্যাগ করে; এই খবরে আমাদের মন খারাপ হয়, আমরা বিষণ্ন হয়ে পড়ি, কিন্তু তরমুজের নেশা ত্যাগ করা আমাদের পক্ষে সম্ভবপর হয় না, আমরা তরমুজ কিনে নিয়ে ঘরে ফিরি এবং এই ফল দেখে আমাদের স্ত্রীরা বমি করে ফেলে, ফলে তখন মন্দিরের রোয়াকে বসে থেকে আমরা বিরক্ত হয়ে উঠি, আমাদের বারবার পেশাব চাপে, দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে হাফপ্যান্টের ফাঁক দিয়ে তিনবার পেশাব করার পর আমাদের চুপ করে বসে থাকতে হয়, কারণ, বৃষ্টির জন্য রাস্তা কাদা হয়ে যাওয়ায় আমরা খেলতে পারি না, তখন হাজি আব্দুর রশিদের লেদ কারখানার নির্মাণের জন্য ইট বয়ে আনতে গিয়ে একটি সবুজ রঙের ট্রাকের পিছনের চাকা আলি আকবরের বাসার সামনে কাঁচা মাটিতে বসে যায় এবং আমরা তৎক্ষণাৎ মন্দিরের বারান্দা ত্যাগ করে গিয়ে তরমুজের মাছির মতো ট্রাকটিকে ঘিরে ধরি; কিন্তু কৃষকদের কথা আমরা ভুলতে পারি না, আমরা আবার তরমুজওয়ালার কাছে যাই, গিয়ে বলি, গ্রামের মানুষ এমুন খবিশ ক্যালা, হালারা হোগা বাইর কইরা রাখে, তারপর বাটি থেকে চারকোনা করে কাটা তরমুজ নিয়ে মুখে দিই, কিন্তু আমাদের স্ত্রীরা খায় না এবং আমরা দেখি যে, একা একা খেতে আমাদের ভাল লাগে না, তখন আমরা একটি অনুভব অথবা উপলব্ধিকে আবিষ্কার করি, একা তরমুজ খেতে গিয়ে আমরা আমাদের জীবনে স্ত্রীর প্রয়োজনীয়তার কথা বুঝতে পারি; তখন তরমুজওয়ালা আমাদেরকে এই সঙ্কট থেকে রক্ষা করে, সে বলে, সাবান দিয়া ধুইয়্যা খান, এবং আমরা বাংলা সাবানের একটা করে ফালি কিনে নিয়ে আসি, এবং তখন, আমরা যখন বাঁশির সুর শুনতে পাই আমরা পুতুলের সঙ্গে দেখা করার কথা ভাবি; আমাদের মনে পড়ে যে, আব্দুল গফুর মাষ্টারের ছোট ছেলে যখন গ্রাম থেকে প্রথম আসে সে তখনই একটি বাঁশি সঙ্গে করে আনে, এই বাঁশিটি ছিল অন্য রকম, এ ধরনের বাঁশি আমরা এর আগে মহল্লায় কাউকে বাজাতে দেখিনি, আমিনুল হক মহল্লায় আসার আগে আমরা বাঁশির পাছায় ফুঁ দিয়ে বাজাতাম, কিন্তু তার বাঁশিটি দেখে আমরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি, এটা ছিল আগাগোড়া একটা খোলা নলের মতো, পাছায় ফুঁ দেয়ার কোনো ব্যবস্থাই ছিল না, এই বাঁশি বাজানোর ফুটো ছিল এক প্রান্তে নলের গায়ের ওপর; আমরা চেষ্টা করে যখন এই বাঁশি বাজাতে ব্যর্থ হই, তখন সম্ভবত তা ল্যাংড়া পুতুল শুনতে পায় এবং এতে করে হয়তো তার ঔৎসুক্য বাড়ে, কারণ, আমাদের মনে হয় যে, ল্যাংড়ারা এরকমই হয়, তারা নিজেরা চলতে পারে না বলে তাদের মন অলিগলি হাঁটে; তখন আমরা আমাদের সৌভাগ্যের বিষয়টি বুঝতে পারি, কারণ, পুতুলের মত টাইফয়েড জ্বরে আমাদেরও পা শুকিয়ে যেতে পারতো, কিন্তু তা যায়নি, তখন এই আনন্দের কথা শুনে আমাদের স্ত্রীরা আমাদের সঙ্গে পুনরায় তরমুজ খেতে রাজি হয়, আমরা চাকর পাঠিয়ে বরফের কুচি কিনে আর্নি, বাটিতে টুকরো করা তরমুজের সঙ্গে বরফ মেশানোর পর আমরা যখন তা মুখে পুরে আমাদের স্ত্রীদের দিকে তাকাই তারা টু-ইন-ওয়ানের রেডিওর বোতাম টিপে দিয়ে বলে, আচকা রেডিওতে আমিন ভাইয়ের প্রগ্রাম আছে, আমরা তখন একটি প্রলম্বিত বোঁ.. ধ্বনি শুনি, এতে আমাদের বড় অস্থিরতা হয়, আমরা পুনরায় মহল্লার তরমুজওয়ালার কাছে যাই এবং জানতে চাই, তরমুজ আসলে গাছের ডিম কিনা, কিন্তু সে বলে যে, তরমুজে তা দিলে তরমুজ জন্যে না, ঘোড়ার বাচ্চা জন্মে, তাই কেউ তরমুজে তা দেয় না, কারণ, ঘোড়ার বাচ্চার জন্য তো ঘোড়ার মা-ই আছে; ঘোড়ার ডিমের কথায় আমরা বুঝতে পারি যে, আমিনুল হক কোনো একদিন বাঁশি বাজানো থামিয়ে যখন তাদের বাড়ির প্রাচীরের ওপর দিয়ে তাকায় তখন সে সেই প্রাচীরের ওপর ডিমের মতো একটি মুখ দেখতে পায়, আমরা এইসব বিস্তারিত জানতে পারি, অথবা বিস্তারিত জানতে পারি না, কিছু কিছু জানতে পারি, পুতুলের মুখটির দিকে তাকিয়ে আমিনুল হক ক্রমাগতভাবে দেয়ালের কাছে সরে আসে এবং একদিন ওপর দিয়ে তাকায়, তখন, সেদিন, সে এই খণ্ডিত নারীকে আবিষ্কার করে, কিন্তু তখন তার আর ফিরে যাওয়ার পথ থাকে না, কারণ, মহল্লায় লোক বেড়ে যায়, লেদ মেশিনের কাজ শুরু হয় এবং বাবুল মিয়া ও তার সঙ্গীরা মহল্লার রাস্তায় চোরপুলিশ খেলতে গিয়ে চিৎকার করে মাথা ধরিয়ে দেয়, আমরা মাথা ব্যথার জন্য কডোপাইরিন কিনে খাই, কিন্তু ব্যথা যায় না, তখন পটুয়াটুলির কাপড়ের ব্যাপারি ইয়াকুব আলি মহল্লায় চার নম্বর লেদ মেশিন বসায়, কাঠের বড় বাক্সের ভেতর রাখা মেশিনটি একটি ট্রাকে করে এনে নামানো হয়, কিন্তু ব্যাপারি সাহেবের চৌষট্টি নম্বর বাড়ির দরজা দিয়ে সেটা ভেতরে প্রবেশ করানো কষ্টকর হয়ে পড়ে, আমরা তখন খবরটা পাই এবং কপালের দুইপাশে স্যালোনপাসের পট্টি লাগিয়ে ইয়াকুব ব্যাপারির বাড়িতে গিয়ে মেশিনটা দেখি এবং ভাড়া করে আনা শ্রমিকদের সঙ্গে হাত লাগিয়ে ঠেলা দিই; আমাদের মহল্লার চারটি লেদ মেশিন যখন চলতে থাকে আমরা তার শব্দ পাই এবং আমাদের হাজি মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ ব্যাপারির কথা মনে পড়ে, আমাদের এটা ভেবে দুঃখ হয় যে, তার নামটি এবং তার তরমুজের বিচি খাওয়ার ঘটনার কথা উপপ্রধানমন্ত্রীর ভাষণে আমরা ঢোকাতে পারি না, আমরা যখন বলি যে, এই ভাষণের একটি করে কপি আমাদেরকেও দেয়া হোক, আলমগীর হোসেন নিজের পয়সায় ফটোকপি করে তা আমাদেরকে দেয়, আমরা সেটা বারবার পড়ে ঘুমুতে যাই; ঘুমের ভেতরে আমরা আমাদের মাথা ব্যথা টের পাই, স্যালোন পাসের মেহুলের ঘ্রাণ আমাদের নাকে আসে, আমরা তখন তাকে দেখতে পাই, সে ঘাড়ের ওপর দিয়ে তার ক্লান্ত মুখ ঘুরিয়ে তাকায়, আমরা তখন তরমুজের মূল কথাটি জানতে পারি এবং দেখি যে, তরমুজের সঙ্গে আমরা কত গভীরভাবে জড়িত, পুতুলের সব বিস্কুট এবং জিলাপি মন্দিরের বারান্দায় বসে খাওয়ার পর, দেয়ালের ওপর দিয়ে আমিনুল হকের সঙ্গে তার দেখা হওয়ার কথা আমরা জানতে পারি এবং তাদের বাসায় গিয়ে বলি, প্রেম করচ! আমরা জানতে পারি যে, আমিনুল হকের প্রেমে পড়েছিল আসলে দুজন এবং তখন আমরা একটি চক্র আবিষ্কার করি; তরমুজের সরবরাহ কমে এবং দাম বেড়ে যেতে থাকে, অবশেষে একদিন আমরা এই খবরটি পাই যে, তরমুজওয়ালা মাত্র তিনটি তরমুজ নিয়ে মহল্লায় হাজির হয়েছে, এই কথা শুনে আমাদের রাগ হয়, আমরা তার কাছে যাই এবং কাঁধে ধাক্কা দিই, মাথায় গাট্টা মেরে বলি, আমাগো লগে ফাইজলামি করচ ! কিন্তু তরমুজের সরবরাহ বাড়ে না, তরমুজওয়ালা তিনটি তরমুজ ফালি করে কেটে গামছার ওপর ভাগা দিয়ে রাখে, আমরা এক ফালি করে কিনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে খাই, আমাদের দুর্ভিক্ষের কথা মনে হয়, আমাদের জীবন ম্রিয়মাণ হয়ে আসে, আমাদের এক হাতের ভেতর কেবল স্ত্রীর বক্ষ থাকে, আর একহাত খালি, আমরা স্ত্রী সংসর্গের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ি; আমরা তখন তরমুজওয়ালাকে পুনরায় ধরি এবং সে আমাদেরকে বলে যে, ট্রাক ধর্মঘটের কারণে রাজশাহী, বগুড়া এবং চট্টগ্রাম থেকে তরমুজ আসে নাই, ফলে, তখন আমাদের জানার দরকার হয় ট্রাক ধর্মঘট কেন হচ্ছে, আমরা জোড়পুলে ওয়াজেদ ডাক্তারের ডাক্তারখানায় গিয়ে সেদিনের ইত্তেফাকটা পাই এবং জানতে পারি যে, ট্রাক ধর্মঘট হচ্ছে কারণ ট্রাকের টায়ার টিউব এবং খুচরা যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে গেছে, আমাদের তখন মনে হয় যে, এই সঙ্কটের দ্রুত একটা সমাধান হওয়া দরকার, মহল্লায় যারা যন্ত্রাংশের দোকানদারি করে আমরা তাদের কাছে যাই এবং যন্ত্রাংশের মূল্য বৃদ্ধির দুটো কারণ জানতে পারি, এক, যারা স্থানীয়ভাবে এই যন্ত্রাংশ তৈরি করে তারা তাদের উৎপাদিত দ্রব্যের দাম তিনগুণ বাড়িয়েছে, এবং দুই, মটর গাড়ির যন্ত্রাংশের আমদানির ওপর যে শুল্ক ধার্য ছিল, তা বিশ শতাংশ বাড়িয়ে পঁয়তাল্লিশ শতাংশ করা হয়েছে; আমরা তখন মহল্লায় গ্রাইন্ডার/ব্লেন্ডার ইত্যাদি আধুনিক গৃহস্থালির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে শুরু করি এবং আমাদের স্ত্রীরা এই মেশিনের ভেতর ফেলে তরমুজের শরবত বানাতে শেখে, এবং তা খেয়ে আমাদের মনে হয় যে, তরমুজের গুণের কোনো শেষ নাই, আমরা তাই আলমগীর হোসেনকে খুঁজে বের করে বলি, কিছু করেন আমাগো লাইগা, তরমুজের দাম বাইড়া গেল, দশ ট্যাকার তরমুজ অখনে তিরিশ ট্যাকা দাম, আমরা বাঁচি কেমনে; তখন সে আমাদেরকে বলে যে, লেদ মেশিনের কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে, কর বসানো হয়েছে, তাছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের, যেমন চাল, ডাল, তরমুজের দাম বেড়েছে, কাজেই তারা কী করতে পারে; তার কথা শুনে আমরা বুঝতে পারি কেমন করে তরমুজের দাম বাড়ে বলেই তরমুজের দাম বাড়ে, তরমুজ কেমন করে নিজের দাম নিজে বাড়িয়ে নেয় একটি চক্রের ভেতর দিয়ে, এবং এই চক্রের ভেতর আমরা দক্ষিণ মৈশুন্দির অবস্থান আবিষ্কার করি, আমরা তরমুজের দাম কমানোর কোনো পথ খুঁজে পাই না, ত্রিশ টাকা থেকে নেমে তা পঁচিশ টাকায় স্থায়ী হয়, ফলে আমাদের তৈরি বিস্কুট, লজেঞ্জ, নাটবল্টুর দাম বাড়ে; তরমুজের মতো চমৎকার একটি জিনিস আমাদের জীবনকে কেমন জটিল করে তোলে, তবে তরমুজ সম্পর্কে আমাদের অভিজ্ঞতা প্রসারিত হয়, কারণ, আমাদের মহল্লায় হাস্নাহেনার ঘন মিষ্টি গন্ধ এবং বাঁশির ভারি সুর বাতাসে ভেসে আসে, এবং আমরা পরে যখন ভেবে দেখি, আমরা বুঝতে পারি, তরমুজ খাওয়া কতটা উপকারী এবং লাভজনক, এটা কেবল দেহ মন ঠাণ্ডা রাখে, তা নয়, এটা জীবনে একটি উদ্দেশ্য এনে দেয়, না হলে শূন্যতার ভেতর মানুষ পথ হারায়; তখন আমরা পূর্ণাঙ্গ মন ও খণ্ডিত দেহের ভেতর আটকা পড়ে যাওয়া পুতুল বেগমের মুখের দিকে তাকাই, আমাদের কথা শুনে তার মুখ বিষণ্ণ হয়ে ওঠে, এই মুখের দিকে তাকিয়ে আমাদের খারাপ লাগে, আমরা তাই কাদায় আটকে পড়া ট্রাকের কাছে মজা দেখার জন্য বসে থাকি এবং জানতে পারি, একটি ট্রাককে কাদা থেকে টেনে তুলতে কত কাজ করতে হয়, তখন আমাদের খাটো হাফপ্যান্টের ফাঁক দিয়ে কিছু দেখা যায় বুঝতে পেরে আমরা উঠে দাঁড়াই, তখন ট্রাকের হেল্পার পিছনের এক্সেলে জ্যাক লাগিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চাকাটা উঁচু করে, তারপর চাকার নিচে ভাল করে ভাঙা ইটের কুচি গুঁজে দেয়ার পর ড্রাইভার ইঞ্জিন চালু করে টান দিলে গাড়ি ঝাঁকি দিয়ে গর্ত পার হয়ে বের হয়ে যায়; আমরা তখন হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরি, আমাদের হাতে লেদ মেশিনের মবিলের গন্ধে আমাদের স্ত্রীরা বিরক্ত হয়, এমুন বয় আছে, তারা বলে, এবং আমরা আমাদের হাতের দিকে তাকাই, উল্টেপাল্টে দেখি, আমরা বুঝতে পারি যে, হাত না থাকলে আমরা বাঁচতে পারতাম না, হাত দিয়ে শুধু যে, কাজকর্ম করে বেঁচে থাকি, তাই নয়, হাত রক্ষা করা সহজ, হাত নিরাপদ দূরত্বে ঝুলে থাকে, নিজের ভার নিজেকে বহন করতে হয় না, পা-কে হয়, এবং পা-কে রক্ষা করা কঠিন, গর্তে পড়ে ভাঙে, কুকুর/সাপ কামড়ে দেয়, পা থাকার কারণেই আমিনুল হক মারা পড়ে; এবং এই খবর পাওয়ার পর আমরা তরমুজওয়ালার কাছে যাই, দুহাতের দশ আঙুল দ্রাঘিমা রেখার মতো ছড়িয়ে করতলের ভেতর একটি তরমুজ নিয়ে ফাঁকা চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে যখন বোঝার চেষ্টা করি, তখন আমাদের মনে হয় যে, সাপ এবং নারীর ভেতর একটা সম্পর্ক আছে, আমরা তরমুজওয়ালাকে তরমুজ সম্পর্কে অনেক জটিল প্রশ্ন করি, তরমুজ সারাবছর ধইরা হয় না ক্যালা, এবং আমাদের মনে হয় যে, এর একটা সমাধান দরকার; তখন আলি আকবর ব্যাপারির বাড়িতে মহল্লার প্রথম ফ্রিজ আসে এবং আমরা দল বেঁধে ফ্রিজ দেখতে গিয়ে ঠাণ্ডা পানি পান করি এবং এর গুণাবলীর কথা শুনি, তখন আমাদের মনে হয় যে, সারাবছর ধরে তরমুজ খাওয়া হয়তো আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে, কিন্তু তা হয় না, আমাদের সমস্যা থেকে যায় এবং এই চিন্তা আমাদের মাথা থেকে বের হয় না, ফলে আমাদের মাথা ভার হয়ে থাকে; তখন আমরা নাইট শো-তে নিশাত সিনেমা হলে ছবি দেখতে যাই, নাগিনীর প্রেম, আমরা বুঝতে পারি যে, অনেক সাপ, নারী হয় এবং অনেক নারী, সাপ; তখন আমরা পুলিশকে জিজ্ঞেস করি, তরমুজে ভেজাল হয় কিনা, কারণ, আমাদের মনে হয় যে, যদি তরমুজে ভেজাল হয়, তাহলে নারী, সাপ এবং সাপ, নারী হতে পারবে না কেন, পুলিশ আমাদের প্রশ্নের জবাব দেয় না, আব্দুল গফুরের শূন্য বাড়ির ভেতর থেকে তার লাশ সংগ্রহ করে নিয়ে যায় এবং রাহমা বিবির এই বাড়িটি ভেঙে জামরা মসজিদ বানাই; কারণ, নারী সাপেরা সবসময় পুরুষদের ভালবাসে, নাগিনীরা প্রেম করে এবং প্রেমে পড়লে তারা ভয়ঙ্কর হয়ে যায়; আমরা বুঝতে পারি যে, আমিনুল হক এই ছবিটি দেখে নাই, কারণ, আমাদের মনে হয় যে, এটাই নিয়ম, যার জীবনে যা ঘটবে সে সে-বিষয়ে জানবে না, কিছু দেখবে না, তা না হলে ঘটনার আগে সকলেই সব কিছু জেনে যেত এবং ঘটনাই ঘটতে পারতো না; আমরা জানতে পারি যে, আমিনুল হকের জীবনে এক অর্ধেক নারী এবং এক পূর্ণাঙ্গ সাপ এসে দাঁড়ায়, আমরা বুঝতে পারি যে, দুজনেই আসে ফুলের গন্ধ এবং বাঁশির সুরের টানে, এবং আমাদের মনে হয় যে, এটাই স্বভাবিক ছিল, কারণ ফ্রিজের ভেতর তরমুজের বার মাসের বরাদ্দ ভরে রাখা সম্ভব নয়, ফলে আমাদেরকে পুনরায় অপেক্ষা করতে হয় হাজি আব্দুর রশিদের অসুস্থতার জন্য এবং বরাবরের মতো তিনি এবারও আমাদেরকে নিরাশ করেন না, আমরা তখন একদিন তার অসুস্থ হয়ে শয্যা গ্রহণের খবর পাই এবং ভাবি যে, এবার কিছু একটা হবে এবং কিছু একটা হয়; বিছানায় শুয়ে থেকে বিরক্ত হয়ে গেলে তিনি তরমুজ খেতে চান, কিন্তু তখন তরমুজের মৌসুম ছিল না, তার পাঁচ ছেলে এবং তিন মেয়ের জামাই ঠাটারি বাজার, রায়সা বাজার, বাদামতলি, শ্যামবাজার ঘুরে খালি হাতে ফিরে আসে, মহল্লার সব ফ্রিজ খুঁজে দেখা হয়, তরমুজ পাওয়া যায় না; আমরা তখন খুব মন খারাপ করি, তখন শেফালি, অর্থাৎ শেফালি আখতার, যখন শেফালি এবং হাস্নাহেনা ফুলগাছ লাগায় এবং আমরা ফুলের গন্ধ পাই, এই গন্ধের তীব্রতা আমাদেরকে বিহবল এবং ভীত করে তোলে, কারণ, আমরা বুঝতে পারি যে, কোনো কিছুরই বেশি ভাল না, ফলে আমিনুল হকের ফেরার পথ থাকে না, সে দেয়ালের অন্য পাশে বাঁশির সুর এবং ফুলের গন্ধের ভেতর দাঁড়ানো নারীর খণ্ডিত অস্তিত্ব আবিষ্কার করে; তখন কোনো একদিন আমিনুল হক তার হাত প্রসারিত করে দিয়ে পুতুলের মুখ স্পর্শ করলে সে বুঝতে পারে যে, পুতুল নীরবে কাঁদে; আমরা যখন এইসব কথা শুনি তার কান্নার কারণ অমরা বুঝতে পারি, এবং আমরা হাজি আব্দুর রশিদের কথা শুনতে পাই, তার অসুস্থতা খারাপের দিকে এগোয়, তিনি দ্বিতীয় দিনও তরমুজ খেতে চান; কিন্তু যখন তরমুজ পাওয়া যায় না, তাকে তরমুজের মৌসুমি চরিত্রের কথা আমরা বলি, তিনি আগেও এ কথা জানতেন, কিন্তু রোগশয্যায় শুয়ে এ কথা শোনার পর মনে হয় যেন এই প্রথম তিনি বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন হন, তিনি বিষণ্ন হয়ে পড়েন এবং তার ছেলেদের তার শয্যা পাশে ডেকে আনেন; তিনি বুঝতে পারেন যে, মানুষই যদি স্থায়ী না হয় তাহলে তরমুজের স্থায়ী হতে পারার উপায় নাই, কারণ, মানুষ এবং তরমুজ উভয়ই পচনশীল; আমরা তখন মানুষের সঙ্গে বস্তুর সম্পর্কের বিষয়ে সচেতন হই, আমিনুল হকের আঙুল যখন পুতুলের মুখের ভিজা তিল স্পর্শ করে, তার মনে হয়, হয়তো সে বুঝতে পারে যে, অশ্রু হচ্ছে গলে বয়ে যাওয়া হৃদয়, তখন হয়তো না জেনেই একটি পূর্ণ সাপের চাইতে অর্ধেক নারী তার কাছে শ্রেয়তর লাগে; সে হাস্নাহেনার ঝোপের কাছে তার বাঁশি ফেলে রেখে দেয়াল পার হয়ে আসে এবং অন্ধকারের ভেতর এই নারীকে বুকের ভেতর নেয়; আমরা পরে পুনরায় নিশাত, মুকুল অথবা শাবিস্তান সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখি, বেহুলা; এই বইয়ে নায়িকা সুচন্দা নায়ক লখিন্দর রাজ্জাককে সাপের কামড়ের পরও রক্ষা করে, আমাদের কাছে পুতুল বেগমকে বেহুলার মতো মনে হয়, কিন্তু আমিনুল হককে সে রক্ষা করতে পারে না, সম্ভবত প্রথম চুম্বন তার জীবনের শেষ চুম্বনে পরিণত হয়, কারণ, পরদিন ভোরে হাস্নাহেনার ঝোঁপের কাছে আমাদের মহল্লার বাঁশিবাদক আমিনুল হকের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং আমরা শুনতে পাই যে, সে সাপের কামড়ে মারা যায়: আমরা পরে জানতে পারি যে, একটি সাপিনী প্রেমে কাতর ছিল এবং সাপিনীরা প্রেম ভাগ করে নিতে জানে না, আমিনুল হক যখন দেয়াল টপকে পুতুলের কাছে যায়, সে তখন হাস্নাহেনার ঝোঁপের কাছে অপেক্ষা করে; আমরা বুঝতে পারি যে, সাপিনীর এই প্রেম হয়তো একতরফা ছিল, এবং একতরফা প্রেম কতো প্রবল হতে পারে তা আমরা জানতে পারি, যখন পঞ্চম দিনেও তরমুজ না পেয়ে লোকজন খালি হাতে ফিরে আসে, হাজি আব্দুর রশিদ কাতর হয়ে কেঁদে ফেলেন, তারপর ছেলেদের মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ মুছে বলেন, আমি আর বাঁচুম না, এবং তিনি সত্যি আর বাঁচেন না; কিন্তু তার মৃত্যু আমাদের মহল্লায় আর এক নূতন দিগন্ত উন্মোচিত করে, দক্ষিণ মৈশুন্দিতে 'হাজি ফুড প্রডাক্ট কোম্পানি' প্রতিষ্ঠিত হয় কেবলমাত্র তরমুজ কৌটাজাত করার জন্য; আমরা এই কোম্পানির মালিক হাজি আব্দুর রশিদের বড় ছেলে হাজি রইসুদ্দিনের মুখে তার পিতার নির্দেশের কথা শুনি এবং আমরা বুঝতে পারি যে, মৃত্যুশয্যাতেও হাজি আব্দুর রশিদের চিন্তা করতে পারার ক্ষমতা পরিষ্কার ছিল, পাঁচবার তরমুজ খেতে চওয়ার পরও যখন তরমুজ পাওয়া যায় না, তখন তিনি সঙ্কটের গভীরতা উপলব্ধি করতে পারেন এবং বড় ছেলে রইসুদ্দিনকে বলেন, একটা তরমুজের ফ্যাক্টরি বসাও, তারপর তিনি মারা যান; আমরা তাকে পোস্তগোলা কবরস্থানে দাফন করে আসি, এবং বুঝতে পারি যে, এবার আমরা সারা বছর তরমুজ পাব, আমাদেরকে কৃষক এবং প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বসে থাকতে হবে না; তখন আমাদের মহল্লার দক্ষিণ প্রান্তে পড়ে থাকা এক টুকরো খালি জমি হাজি রইসুদ্দিন কিনে ফেলে এবং এই জায়গায় হাজি ফুড কোম্পানির ফ্যাক্টরি তৈরির কাজ শুরু হয়, আমরা তখন হাজি রইসুদ্দিনের বাসায় যাই এবং সে আমাদেরকে বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা বুঝিয়ে বলে, আমরা জানতে পারি যে, তরমুজ কাটা, বাছাই ও পরিষ্কার করা, তারপর জীবাণুমুক্ত অবস্থায় কৌটাজাত করার ব্যবস্থা হবে ফ্যাক্টরিতে এবং এখানে আমাদের মহল্লার ১৫/২০ জন কাজ পাবে; তখন পুনরায় ইট এবং বালু এনে ফেলা হলে মহল্লার বালকেরা বালুর ভেতর লাফালাফি করে এবং আমরা মৃত হাজি আব্দুর রশিদের কথা ভুলতে পারি না, আমরা চিৎকার করে উঠি, এই শেপালি ফুল গা-ছ, আমরা তাকে আর পাই না, আমরা তাকে হারাই,

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ