সোমবার সাদা কাপড়গুলো কেচে পাথরের স্তূপের ওপর ছড়িয়ে দাও; মঙ্গলবার রঙিন কাপড়গুলো কাচো আর দড়িতে শুকাতে দাও; অনাবৃত মাথায় সূর্যের তাপের মধ্যে হেঁটে বেড়িও না; খুব গরম মিষ্টি তেলে কুমড়োর মিষ্টি বড়া ভাজো; ছোট পোশাকগুলো গা থেকে খুলেই ভিজিয়ে রাখ; নিজের ব্লাউজ বানানোর জন্য তুলোর কাপড় কেনার সময় খেয়াল কর যেন তার মধ্যে আঠা না থাকে, কেননা এরকম হলে এক বার কাচার পরে আর ভাল থাকবে না; নোনা মাছ রান্না করার আগে সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখ; রোববারের স্কুলে তুমি সত্যি ‘বেন্না’ গান গাও?; এমনভাবে নিজের খাবার খাও যাতে তোমাকে দেখে কেউ অসুস্থ বোধ না করে; রবিবারগুলোয় একজন পরিণত মেয়ের মতো হাঁটতে চেষ্টা কর এবং বেশ্যার মতো করে নয় যা হওয়ার জন্য তুমি মুখিয়ে আছো; রবিবারের স্কুলে ‘বেন্না’ গান গেও না; লাফাঙ্গা ছেলেগুলোর সঙ্গে কথা বলা একদম উচিত নয়, এমনকি পথ-নির্দেশ দেওয়ার জন্যও না; রাস্তায় ফল খেও না- মাছিরা তোমাকে অনুসরণ করবে; ‘কিন্তু আমি রবিবারগুলোয় মোটেও ‘বেন্না’ গান করি না এবং রোববারের স্কুলে ‘বেন্না’ গান করার প্রশ্নই ওঠে না’; এ হল কেমন করে বোতাম জুড়তে হয়; এ হল তুমি যে বোতামটি এক্ষুনি জুড়লে তার জন্য কেমন করে বোতাম-ঘাট বানাতে হয়; এ হল কেমন করে পোশাকে হেম সেলাই করতে হয় যখন তুমি দেখতে পাচ্ছ হেম সেলাই নীচের দিকে নামছে এবং তার ফলে নিজেকে প্রতিহত করছো যে তোমাকে বেশ্যার মতো যেন না লাগে যদিও আমি জানি তুমি সেদিকেই তীব্রভাবে ঝুঁকে আছো; এ হল তুমি কেমন করে তোমার বাবার খাকি জামা ইস্ত্রি কর যাতে এতটুকু কুঁচকে না থাকে; এ হল তুমি কেমন করে তোমার বাবার খাকি প্যান্ট ইস্ত্রি কর যাতে তা টানটান হয়ে থাকে; এ হল কেমন করে তুমি ঢ্যাঁড়স চাষ কর- বাড়ি থেকে দূরে, যেহেতু ঢ্যাঁড়স গাছ লাল পিঁপড়েদের আশ্রয় দেয়; এ হল তুমি যখন কচু ফলাচ্ছো, খেয়াল রাখ যেন গাছগুলি যথেষ্ট জল পায় না হলে খাওয়ার সময় গলা চুলকাবে; এ হল যেভাবে তুমি কোণাকাঞ্চি ঝাট দাও; এ হল কেমন করে তুমি পুরো বাড়ি ঝাট দাও; এ হল কেমন করে তুমি উঠোন ঝাট দাও; এ হল কেমন করে তুমি সেই ব্যক্তিকে দেখে হাসো যাকে তুমি খুব একটা পছন্দ কর না; এ হল কেমন করে তুমি সেই ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে হাসো যাকে তুমি একেবারেই পছন্দ কর না; এ হল কেমন করে তুমি সেই ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে হাসো যাকে তুমি পরিপূর্ণভাবে পছন্দ কর; এ হল কেমন করে তুমি চা পানের টেবিল সাজাও; এ হল কেমন করে তুমি নৈশ ভোজের টেবিল সাজাও; এ হল কেমন করে তুমি একজন বিশিষ্ট অতিথির জন্য নৈশ ভোজের টেবিল সাজাও; এ হল কেমন করে তুমি মধ্যাণ্য ভোজের টেবিল সাজাও; এ হল কেমন করে তুমি প্রাতরাশের টেবিল সাজাও; এ হল কেমন ব্যবহার করতে হয় সেইসব পুরুষদের সঙ্গে যারা তোমাকে তেমনভাবে চেনে না, এবং এইভাবে তারা তোমাকে চট করে বেশ্যা মনে করবে না যে বিষয়ে তোমাকে সতর্ক করেছিলাম; প্রত্যেকদিন পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নিশ্চিত হও, এমনকি তোমার নিজের থুতু হলেও; টিপ্পি খেলার সময় পা ফাঁক করে বোসো না- তুমি বালক নও, বুঝেছ; অন্যদের (গাছের) ফুল তুলো না- হয়তো অন্যকিছু তুলে ফেলবে; কালো পাখিদের পাথর ছুঁড়ো না, কেননা এটা মোটেও কালো পাখি নাও হতে পারে; এ হল কেমন করে পাউরুটির পুডিং বানাতে হয়; এ হল কেমন করে ডুকুনা বানাতে হয়; এ হল কেমন করে গোলমরিচ-সুপ রান্না করতে হয়; এ হল কেমন করে ঠাণ্ডা লাগার ভাল ওষুধ তৈরি করতে হয়; এ হল কেমন করে বাচ্চা তাড়ানোর ভাল ওষুধ বানাতে হয় এমনকি তা বাচ্চা হয়ে ওঠার আগেই; এ হল কেমন করে মাছ ধরতে হয়; এ হল কেমন করে তোমার অপছন্দের মাছটা জলে ছুঁড়ে ফেলতে হয়, এবং এভাবে খারাপ কিছু তোমার ওপর আরোপিত হবে না; এ হল কেমন করে পুরুষকে বোকা বানানো যায়; এ হল কেমন করে একজন পুরুষ তোমাকে বোকা বানায়; এ হল কেমন করে একজন পুরুষকে ভালবাসা যায়, এবং এসব কার্যকরী না হলে অন্যান্য উপায়ও আছে, যদি এগুলো কার্যকরী না হয় হতাশ হওয়ার মতো ভেঙে পোড়ো না; এ হল কেমন করে বাতাসে থুতু ছুঁড়ে দিতে হয় যদি তোমার ইচ্ছে হয়, এবং এ হল কেমন করে দ্রুত সরে যেতে হয় যাতে তোমার ওপর ওই থুতু না পড়ে; এ হল কেমন করে শেষ সাক্ষাৎ করতে হয়; সবসময় পাউরুটি চিপে টাটকা কিনা নিশ্চিত হও; ‘কিন্তু কী হবে যদি পাউরুটিওয়ালা আমাকে রুটি স্পর্শ করতেই না দেয়?’; মোটের ওপর তুমি কি বলতে চাও যে তুমি সত্যি সেইরকম মেয়েই হতে চাইছো যাকে পাউরুটিওয়ালা রুটির কাছেই ঘেঁসতে দেবে না?
--------------------------------------------
মূল গল্প- ‘Girl’ from ‘The New Yorker’, 26 June, 1978 issue. লেখকের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘At the Bottom of the River’ (1983)-এর অন্তর্গত হয়।
জামাইকা কিনকেড:
তাঁর জীবন আন্টিগুয়া ও আমেরিকার সীমায় ব্যপ্ত। নিজের জীবন তাঁর লেখার উপজীব্য বলে অনেকে মনে করেন। তিনি ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম দ্বীপ আন্টিগুয়ায় জন্মেছিলেন ১৯৪৯ সালে। দারিদ্র পীড়িত পরিবার সামলাতে সেখান থেকে নিতান্ত কিশোরী বয়সে কাজ করতে তাঁকে পাড়ি দিতে হয় নিউ ইয়র্ক সিটির শহরতলীতে। আর জীবন মোড় নেয় অন্য খাতে। তিনি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন লেখক। কালো মানুষের দুঃখ-যন্ত্রণার সঙ্গে মিশে যায় গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনের ভালমন্দ। এই গল্পটিতেও পাওয়া যাবে সেই জীবনের স্বাদ।
মেয়েদের লেখার ইতিহাসে তাঁর নাম বিশিষ্ট হয়ে আছে।
গল্প-উপন্যাস ছাড়াও উদ্যানবিদ্যা বিষয়ে লেখেন। এছাড়া নানান বিষয়ে নন-ফিকশনও লেখেন নিয়মিত। তিনি হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আফ্রিকা ও আফ্রিকা-আমেরিকান স্টাডিজের অধ্যাপক।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প সঙ্কলন ‘অ্যাট দ্য বটম অফ দ্য রিভার’, উপন্যাস ‘অ্যানি জন’, ‘লাকি’, ‘দ্য অটোবায়োগ্রাফি অফ মাই মাদার’ ইত্যাদি। এছাড়াও আছে তাঁর গ্রন্থিত ও অগ্রন্থিত বহু লেখা।
পাঠ সূত্র:
১, কুমড়োর মিষ্টি বড়া- (পাম্পকিন ফ্রিটারস্) আন্টিগুয়া দ্বীপের জনপ্রিয় মিষ্টি পদ। মিষ্টি কুমড়ো, আটা, চিনি, নুন, জায়ফল গুঁড়ো প্রভৃতির মিশ্রণের লেই বানিয়ে তেলে ভাজা মিষ্টি বড়া।
২, বেন্না গান- ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম দ্বীপ আন্টিগুয়ার লোকগান। যৌনতা বিষয়ক রূপক, প্রতীক, যৌন কেচ্ছা, নানান গুজব গানের বিষয়। বিষয়ের জন্য কিশোরী মেয়ের গানে অংশ নেওয়া অশোভন মনে করে বড়রা, অন্তন্ত এই গল্পে মা চায়ছেন না মেয়ে এই গানে অংশ নিক। কিন্তু এটাই এই দ্বীপের গোষ্ঠী-সংস্কৃতি। গোপনে গাওয়া এই গান নাকি ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে একসময় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল।
৩, কালোপাখি (ব্ল্যাক বার্ড)- কোকিল জাতীয় পাখি।
৪, ব্রেড পুডিং- পাউরুটি দিয়ে বানানো পুডিং। মিষ্টি পদ হিসেবে ক্যারিবিয়ান দ্বীপে জনপ্রিয়।
৫, ডুকুনা- মিষ্টি আলু, নারকেল কোরা, ময়দা, চিনি প্রভৃতির মিশ্রণে সি-গ্রেপস্ বা কলা পাতার মোড়কে তৈরি পিঠে। কিছুটা আমাদের জড়াপিঠে বা পাটিসাপ্টার মতো দেখতে। তবে পুরহীন।
৬, গোলমরিচ সুপ- (প্যাপার পট) অনেক রকম ঝড়তি-পড়তি সব্জি দিয়ে মূলত গরুর মাংসের জনপ্রিয় সুপ। পরে মাছ এবং শুয়োরের মাংসও ব্যবহার করা শুরু হয়। এই পদের মধ্যে কালো মানুষদের ইতিহাসও জড়িয়ে বলে অনেকে মনে করেন।


0 মন্তব্যসমূহ