এই বয়স পর্যন্ত পারিপার্শ্বিক জ্ঞানহারা রঙ্গলালের এমন দৌড় কেউ দেখেনি। ধুপছড়ি গ্রামের উদ্দেশ্যে তেমন দৌড় যখন সে দিল যেখানে তার বাড়ি; তখন তার কাছে সমস্ত পৃথিবী একটা কালো আঁধারের ভেতর লুপ্ত হয়ে গেছে। সে আঁধারের ছায়া তার বোধের উপর পড়ে তাকে প্রায় সম্পূর্ণ হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে ফেলেছিল। কেবল একটা কথাই তার মনে ছিলো যে, গ্রামের দিকে দৌড়াতে হবে। তার এই উদভ্রান্তের মত দৌড় দেখে সুবিলাস, পিঠে শুকনো কাঠের বোঝা। তাতে গোঁজা একটা কুড়াল ও হাতে একটা দা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সব ফেলে দিয়ে মাঝ রাস্তা থেকে কোনকিছু জিজ্ঞাসা না করে জঙ্গলের দিকে দিল দৌড়। রঙ্গলালের মুখে এবং দৌড়ের ভঙ্গিতে কেমন ভূত দেখে সে এমন বিচলিত হল, সে ছাড়া আর কেউ জানে না। তাদের এ দৌড়ের আঁচ ধানের জমিতে কাজ করা লোকগুলোর মধ্যেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করল। একজন মাঝবয়সী মহিলা তার সদ্য কৈশোর পেরোনো ছেলেকে ভর্ৎসনা করে চাপা স্বরে বলল- “ও মরা, হা করে কী দেখছিস? তোর গোজেনরা আসছে শিগগির পালা।”
আশেপাশে যারা কাজ করছিল তারাও এ চাপা স্বরের ওজন বুঝতে পেরে আর কোন প্রশ্ন না তুলে পড়ি-মরি জঙ্গলমুখি ছুটল। গোজেন যে কে বা কারা ওরা বেশ জানে। সুতরাং অতি কৌতুহলে ‘গোজেন কারা’ বোকার মত এ প্রশ্ন করে দুই কদম বেশি দূরত্ব অতিক্রমের সময়টুকু পর্যন্ত কেউ হারাতে রাজি নয়। যেন সদ্য ডিম ফুটে চরতে বেরোনো মুরগির ঝাঁকে চিল পড়েছে। যে যেদিকে পারে প্রাণ নিয়ে পালাল।
পাঠানের মত বিশাল শরীর এলিয়ে দিয়ে পাঠান্যা উঠোনের প্রান্তে আম গাছের নিচে বাঁশের ফালি দিয়ে তৈরী চৌকির উপর বসে মুরগির খাঁচা বুনছিল। পরদিন হাটবার, বাজারে মুরগি বিক্রির জন্য নিতে হবে। যুবকদের চাঞ্চল্য তাকে আক্রান্ত করেনি। তবে কারও দৌড়ে আসার শব্দ শুনে বাঁশের হুঁকো থেকে মুখ তুলে রঙ্গলালের ভাবগতিক দেখে কিঞ্চিত বিচলিত মুখে জানতে চাইল-“কী হয়েছে?”
হঠাৎ বাধা পেয়ে ক্লান্তি আর উত্তেজনার চাপে কোন রকমে ‘সাপ-মিলেবী-জুম’ এই তিনটি শব্দের একটা বাক্য উচ্চারণ করেই রঙ্গলাল ভাঙা দেয়ালের মত ধসে পড়ল। পাঠান্যা গেল বেকুব বনে। মাথা-মুণ্ডু বুঝতে পারল না কিছুই। মিলেবী, রঙ্গলালের ছয়-সাত মাস আগে বিয়ে করা নতুন বউ। মিলেবী শব্দটির আগে সাপ আর পরে জুম এই তিনটি শব্দের বাক্যটি থেকে হঠাৎ ছিটকে আসা অসংখ্য প্রশ্নের ভিতর হাবুডুবু খেতে খেতে পাঠান্যা মনে মনে এর অর্থ উদ্ধার করল এরকম-‘সম্ভবত মিলেবী জুমে বড় কোন সাপ দেখেছে আর সেটা মারার জন্য রঙ্গলাল পাড়ার লোকজনকে খবর দিতে এভাবে জগৎ-অস্থির করা দৌড় দিয়েছে।
রঙ্গলালের অবস্থা দেখে পাঠান্যা মনে মনে একটু হাসল, তাচ্ছিল্য আর কৌতুকবোধের হাসি। নিজের যুবক বয়সের একটা ঘটনার কথা তার মনে পড়ল। একবার বাঘের কাঁধে চড়ে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে একটা বাঘ মেরে ছিল। অবশ্য বিষের টোপ গিলে বাঘটা ছিলো আধমরা। আর সেও একা ছিলো না, ছিলো দশ বার জনের একটা দল। হোক না বিষ খেয়ে আধমরা আর বৃদ্ধ বাঘ। তারপরও বাঘ তো! আর ক’দিন আগে শিকারে গিয়ে কি সে একটা দাঁতাল শুয়োর বল্লমের ঘায়ে এফোঁড় ওফোঁড় করেনি? এছেলে একটা সাপ দেখেই কিনা এমন অস্থির! আরে সাপ তো অহরহই দেখা যায়, তারা মারেও। অনেকে সাপের মাংস রেঁধে বেশ তৃপ্তি করে খায়। অত অস্থির হওয়ার কী আছে?
জুমে এখন ফসল তোলার সময়। ধানে সোনালি পাকা রং ধরেছে। রঙ্গলাল ও মিলেবী দু’জনে দিনরাত জুম পাহারা দেয়। রাতের বেলা বন্য শুয়োর, সজারু; দিনের বেলা বাঁদর, কাঠবেড়ালি, টিয়ে, চড়ুই , বুলবুলি, বাবুই, মুনিয়া পাখির উৎপাত। কখনও কখনও হাতি আসে, সব তছনছ করে দিয়ে যায়।
একটু পরে রঙ্গলাল কিছুটা ধাতস্থ হল। যদিও তখনও তার অস্থিরতা কাটেনি। তাকে ভূতগ্রস্তের মত দেখাচ্ছিল। বলল, তার স্ত্রী মিলেবীকে একটা বিরাট অজগর সাপে গিলে ফেলেছে। জুমে ঘুরে ঘুরে মিলেবী শসা, ভুট্টা, মারফা ইত্যাদি ফসল তুলছিল আর সে জুম-ঘরে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল। অনেক্ষণ পর মিলেবীকে ডেকেও কোন সাড়া না পেয়ে খুঁজতে গিয়ে দেখে একপাশে কাত হয়ে পড়ে আছে কাল্লোঙ (টুকরি) ও মাথায় দেয়ার কাপড় ‘খবং’। কিছু দূরে বিরাট এক অজগর মোচড় দিচ্ছে। অজগরের মুখে মানুষের দুটো পা। এরপর আর কিছু দেখার অবসর তার হয়নি। দৌড় আর দৌড়----।
উদ্ধারকারী দল পৌঁছে দেখল, জুমের কিছু অংশে পাকা ধান তছনছ করে একটা বিরাট অজগর অত্যন্ত নিরীহ ভঙ্গিতে শুয়ে আছে। চারদিকে শুনশান নীরবতা। সাপটার পড়ে থাকা ভঙ্গি এমন শান্ত এবং চেহারা এত নিরীহ যে, বুঝাই যায় না কিছুক্ষণ আগে সে কী এক মর্মান্তিক কাণ্ড করে ফেলেছে। কেবল বিসদৃশভাবে পেটের মাঝখানটা ফুলে আছে। সবাই স্বীকার করল জীবনে এত বড় সাপ তারা দেখেনি। সাপের মুখ বেঁধে মাপা হল, প্রায় বিশ হাত লম্বা। উদ্ধারকারী দলের লোকজন মিলেবীর কথা সাময়িক ভুলে গিয়ে তাদের সর্পজ্ঞান জাহির করতে প্রতিযোগিতায় নেমে গেল। কে, কখন, কোথায়, কেমন, কত বড়, কত লম্বা সাপ দেখেছে বা মেরেছে, সাপটা বিষাক্ত ছিলো কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। সাপ সম্পর্কিত তাদের কোন অভিজ্ঞতাই যেন বাদ গেল না। কেবল রঙ্গলাল সাপটার মতই চুপচাপ আর তারও বেশি নিরীহ এবং নির্বিষ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
সাপটাকে গ্রামে নিয়ে আসা হল। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এ নিয়ে লেগে গেল তর্ক। কেউ বলল- এখনই সাপের পেট কেটে লাশ বের করে রাতের ভেতর দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত, কারণ পরদিন বুধবার। একজন বলল- এরই মধ্যে বিকেল গড়িয়ে এসেছে। কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা নামবে, সম্ভব নয়। আরেকজন বলল -তারপরও লাশ বের করে রাখা উচিত না হয় পেটের ভিতর থাকলে হজম হতে শুরু করবে। তার প্রতিবাদে আরেকজন বলল -সাপ একবার খেলে হজম হতে দুই-তিন মাস লাগে, একদিনে কিছুই হবে না।
তর্কের মীমাংস আর হল না। হঠাৎ আরেকটা সংবাদে পুরুষের দল যে যেদিকে পারল ছুটে পালাল। কোলাহলপূর্ণ স্থান মুহুর্তে অজগর সাপটার মত নীরব হয়ে গেল। এবার গ্রামে সত্যি সত্যি গোজেনরা আসল। এসেই তারা নিজেদের পোশাকের মত দেখতে অজগরের মুখোমুখি হল।
দলের কমান্ডার লেফট্যানেন্ট জহির বেশ খেয়ালী লোক। প্রত্যেক অপারেশনে বের হওয়ার সময় তার মাথায় বিচিত্র খেয়াল চাপে। আর মওকা বুঝে সে তার বিচিত্র খেয়ালগুলো চরিতার্থ করে নেয়। এটা তার কাছে এক ধরনের খেলা। এ খেলার খুব জুৎসই একটা উপকরণ পাওয়া গেছে বলে ভেতরে ভেতরে সে বেশ চনমনে হয়ে উঠল।
গ্রামের কার্বারী (গ্রাম প্রধান) অরুনলালকে ডেকে সর্পবৃত্তান্ত শুনে কমান্ডার জানতে চাইল, তারা কী করতে চায়। কার্বারী সাপের পেট কেটে লাশ বের করে দাহ করার অনুমতি চাইল। লেফট্যানেন্ট জহির এর পরিবর্তে গ্রামের পুরুষ, যারা পালিয়ে গেছে তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনতে হবে বলে শর্ত দিল। একজনও যদি পালিয়ে থাকে তাহলে লাশ সাপের পেটে হজম হতে থাকবে। শর্ত দিয়ে বৃদ্ধ অরুনলালের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ম করে তাকিয়ে থাকল।
অরুনলাল রাজি হয়ে তার বাড়িতে ফিরে এল। যদিও সে জানে এটা সম্ভব নয়। কারণ সে বৃদ্ধ, সে বশীকরণের কোন মন্ত্র জানে না। তাছাড়া গ্রামের সকলে কি তার এক কথায় যূপকাষ্ঠে একসাথে এসে মাথা দেবে? অন্যদিকে কমান্ডারের সাথে তর্ক করার অর্থ নিজের বিপদের গর্তকে প্রশস্ত করা। হ্যাঁ বলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
পরদিন ভোর হতেই কমান্ডার জহির কার্বারীর উঠোনে গিয়ে হাজির হল। কার্বারীর জীবনে এমন অবাক করা ভোর আর আসেনি। তার যতদূর মনে পড়ে এই বৃদ্ধ বয়সেও গত রাতে ঊর্ধাঙ্গের কাপড় খুলে হাতপাখা নাড়তে নাড়তে ঘুমিয়ে পড়েছিল। কমান্ডার সাহেব এসে উঠোনে দাঁড়িয়ে আছে এ কথা শুনে তার মনে হল সূর্যটা হঠাৎ নপুংসক হয়ে পড়েছে, এখন বুঝিবা মাঘ মাস।
কমান্ডার জহিরের চোখে-মুখে শরতের স্নিগ্ধতা মেশান অনাবিল হাসি। কার্বারীকে ডেকে বলল- ‘‘কার্বারী কোন ভয় নেই। তোমার লোকগুলোকে ফিরে আসতে বল। তারা এসে মৃতের সৎকার শুরু করে দিক। আরে, একদিন সবাইকে মরতে হবে। এভাবে লাশ ফেলে রাখা ঠিক হবে না। এ গ্রামে আমরা কয়েকদিন থাকব, সবার সাথে মিলেমিশে থাকতে চাই। আর গ্রামের সকলকে আজকে ভোজের নিমন্ত্রণ, দুপুরে কারও বাড়িতে রান্না হবে না। আজকে আমিই খাওয়াবো। সবাই যেন হাজির থাকে।’’
কথা শুনে অরুনলাল মনে মনে আশান্বিত হয়ে ভাবল লোকটা বোধহয় অন্যদের চেয়ে ভাল। সকালের কুয়াশার মত সূর্য ওঠার সাথে সাথে তার মন থেকে ভয়-শঙ্কা আস্তে আস্তে দূর হয়ে যেতে লাগল।
অভয়বাণীতে আশ্বস্ত হয়ে কিছু লোক ফিরে এলে কাজ শুরু হয়ে গেল। একদল চিতা তৈরীতে, একদল রান্নায়, অন্যদল লাশের ব্যবস্থা করতে লেগে গেল।
এর মধ্যে গ্রামের নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-শিশু সবাইকে এনে জড়ো করা হল। কমান্ডারের আদেশ।
অজগরের পেট কেটে লাশ বের করে কলাপাতা বিছিয়ে তার উপর রাখা হল। হাড়গোড় গুঁড়ো, কিছুটা বিকৃত। উলঙ্গ যুবতী নারীর দেহ লোকজনের শালীনতা বোধের উপর অস্বস্তিকর একটা সুড়সুড়ি দিতে শুরু করলে কেউ কেউ লাশ ধুয়ে কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতে চাইল। হোক না মৃত আর বিকৃত, তবুও যুবতী নারীই তো। কিন্তু কমান্ডরের নির্দেশ, ঢেকে দেয়া যাবে না। ওভাবেই থাকবে, সবাই দেখুক মৃত্যু কত ভয়ঙ্কর, কত বীভৎস। আর যারা কমান্ডারের আদেশ অমান্য করে তিনি তাদের এমন বীভৎস কিছুর সাথেই পরিচয় করিয়ে থাকেন। লোকজন মনঃক্ষুন্ন হলেও প্রতিবাদ করে কেউ সাহস দেখাতে গেল না।
অজগর সাপের চামড়া ছাড়িয়ে শুকোতে দেয়া হল। ওটা কমান্ডার সাহেব নিয়ে যাবেন দুর্লভ সংগ্রহ হিসেবে। ভোজের ব্যবস্থা হল অজগরের মাংস দিয়ে।
যদিও লোকজনের কাছে অজগরের মাংস মহার্ঘ বস্তু, বরাত জোরে কদাচিৎ মেলে কিন্তু এখন অবস্থা ভিন্ন। গ্রামের কোন লোক বা নিকট আত্মীয় মারা গেলে লোকজন মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান দেখিয়ে তার শান্তি কামনায় সাতদিন্যার শ্রাদ্ধকর্ম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাঁচা মাছ-মাংস গ্রহণ থেকে বিরত থাকে। এখানে চোখের সামনে উলঙ্গ বিকৃত লাশ রেখে, উপরন্তু যে সাপ তাকে গিলেছে সেই সাপের মাংস দিয়েই ভোজের আয়োজন, স্বভাবতই কেউ খেতে চাইল না।
খেতে না চাইলেও শেষ পর্যন্ত সকলের সংস্কার ভয়ের কাছে পরাজিত হতে বাধ্য হল। অনিচ্ছার পেট অরুচিতে পূর্ণ থাকে। দু’এক গ্রাস মুখে দিয়েই সকলে উঠে পড়ল। রঙ্গলাল কিছুতেই খেতে রাজি হচ্ছিল না বলে কমান্ডার জহির দু’জন সেপাই দিয়ে জোর করে মুখ ফাঁক করিয়ে রঙ্গলালের মুখে খাবার ঠেসে ধরে খেতে বাধ্য করল।
এরপর থেকে রঙ্গলাল চোখের দৃষ্টিকে দিগন্ত দিয়ে পৃথিবীর বাইরে ছুড়ে ফেলে প্রাণপূর্ণ পৃথিবীতে আলাদা এক পাথর হয়ে গেল।
কমান্ডার জহির দলবল নিয়ে গ্রাম থেকে চলে গেলেও রঙ্গলালের দৃষ্টির শূন্যতা আর কাটল না। সেই যে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল, কেউ তাকে কথা বলতে শোনেনি। একা একা ঘুরে আর সারাদিন শূন্যদৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে কী দেখে কেউ জানে না। বিকেল হলে শ্মশানের দিক থেকে একবার ঘুরে আসে। জুমের ফসল যে পশু-পাখির পেটে গেল এ নিয়ে তার সামান্য ভ্রুক্ষেপও নেই।
এক রাতে দরজায় কিসের ধাক্কা শুনে রঙ্গলাল ঘুম থেকে জেগে উঠল। সিথানের পাশে রাখা হারিকেন উঁচকে দিয়ে দরজা খুলতেই “সাপ!” বলে চিৎকার করে ঘরের ভেতর দিল দৌড়। দরজার সামনে মাথা সমান উচু একটা অজগর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে। লোকমুখে শুনেছে জোড়-সাপের একটা মারলে নাকি বেঁচে থাকা অপর সঙ্গী একদিন নয়তো একদিন ফিরে এসে প্রতিশোধ নেয়। এ নিশ্চয় মিলেবীকে গেলা অজগরটার সঙ্গী। প্রতিশোধ নিতে ফিরে এসেছে।
রঙ্গলাল আর দেরি করল না। এক টানে হরিণ-শুয়োর শিকারের বল্লমটা বের করে এনে সাপের বুক লক্ষ্য করে আমূল বসিয়ে দিল। রাতের নিস্তব্ধতাকে হতচকিত করে দিয়ে অজগরটা মানুষের মত আঁধার চেরা এক বিকট মরণ-চিৎকার দিয়ে ভূপাতিত হল।
—---
* গোজেন: গোঁসাই, সৃষ্টিকর্তা।
লেখক পরিচিতি: বিপম চাকমা। জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৭৮ সাল। জন্মস্থান, রাঙামাটি জেলার কাওখালী উপজেলার পোয়াপাড়া গ্রাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাভাষা ও সাহিত্যের ওপর কৃতিত্বের সাথে স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত। লেখালিখির শুরুটা কবিতা দিয়ে শুরু হলেও পরে গল্প লেখায় মনোযোগী হন। চাকমা এবং বাংলা দুটো ভাষাতেই তিনি লেখালিখি করে থাকেন। প্রকাশিত গ্রন্থ: অজগর(গল্পগ্রন্থ,২০১৭) আগুনলাগা ভোর(উপন্যাস,২০১৮), আজবঅ সাপ(চাকমা ভাষায় লেখা গল্পগ্রন্থ, ২০১৯)।

1 মন্তব্যসমূহ
বিপম চাকমার উপন্যাসের নাম 'গ্রহণ লাগা ভোর', আগুন লাগা ভোর নয়।
উত্তরমুছুন