বিরহিলিও পিনিয়েরার দুটি গল্প



অনুবাদ: হারুন রশীদ


১. ভালোবাসার দৃষ্টি

এটা একটা দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার, কিন্তু সত্যিটা স্বীকার করতে আমার দ্বিধা নেই: জীবনে কোনো নারী আমাকে ভালোবাসেনি। অথচ মাত্র কয়েকদিনের প্রেমানন্দের বিনিময়ে আমি যে কোনো ছলাকলা প্রতারণাও মেনে নিতে রাজী ছিলাম। তবে  আমার এই দুর্ভাগ্যের জন্য নারীরা দায়ী, নাকি তাদের বশ করার ব্যাপারে আমার অযোগ্যতাই বেশি দায়ী সেটা বলাও মুশকিল। কে জানে? পঞ্চাশ বছর বয়সে এসে জীবনকে নতুন ঝামেলার মধ্যে ফেলতে কে চায়? লোকে বলে এই বয়সে মানুষ এমন বাস্তবসম্মত কোনো সমাধান বেছে নেয়, যেটা ঘরোয়া চিকিৎসার মতো। আমার মনে হয় আমি সেটা পেয়ে গেছি। এক কথায় বলতে গেলে এটা প্রেমময় চাহনির মতো খুব সহজ এবং নিরাপদ একটা সমাধান। 

যে নারীদের আমি এই রোমান্টিক খেলার জন্য বেছে নেই তারা কখনোই বুঝতে পারে না আমি তাদের সাথে প্রেম করছি। কারণ যা করার সবটাই আমি একতরফা করি।  আমি তাদের কাছে প্রেমের প্রস্তাব করি, আবার আমিই তাদের হয়ে প্রস্তাবে সায় দিয়ে থাকি। চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে আমি তাদের এমন একটা ব্যাপার বলি যেটা ছাড়া আমার এই খেলা ভেস্তে যাবে। আমি এমন একটা অবস্থার কথা বোঝাতে চাইছি যেখান থেকে ফিরে আসা যায় না। আপনি বরফের টুকরো ভর্তি একটা ট্রে কল্পনা করতে পারেন। প্রেমিকাদের কাছে আমি এমন একটা চেহারা নিয়ে উপস্থিত হই, চালাক চতুর মেয়েগুলোও আমার চেহারার দিকে তাকিয়ে পিছলে যায়।

আমি যেখানে কাজ করি সেখানে ঠিক ছিয়ান্নব্বই জন নারী কাজ করে। তাই আমি যে এলেনার প্রেমে পড়ে যাবো তাতে অবাক হবার কিছু নেই। মাস ছয়েক আগে আমার একটা সার্জারি হয়েছিল। তেমন গুরুতর কিছু নয়, কিন্তু অফিস থেকে সবাই দল বেধে আমাকে দেখতে হাসতাপালে উপস্থিত হয়েছিল। এলেনা যে বিকেলে আমাকে দেখতে এসেছিল সেদিন আমার একটু জ্বর জ্বর লাগছিল। নার্স তখনো থার্মোমিটার নিয়ে এসে পৌঁছায়নি। কৌতূহলবশত প্রত্যেকে আমার কপালে হাত দিয়ে জ্বর মাপার চেষ্টা করছিল। এলেনাও আঙুল দিয়ে হালকাভাবে আমার কপাল স্পর্শ করলো। আর সেটুকুই যথেষ্ট ছিল ওকে বেছে নেবার জন্য।

সেদিন থেকে মেয়েটা আমার হয়ে গেছে। মানে এই খেলার নিয়ম অনুযায়ী সে এখন আমার অধিকারে চলে এসেছে। আমি তাকে প্রশ্ন করি এবং নিজেই তার উত্তর দেই। আমার যদি সত্যি সত্যি ওকে কথা বলাতে হতো, নিশ্চিতভাবে তার উত্তর হতো না বোধক। কী দরকার অমন একটা ঝুঁকি নেবার, যেখানে সে নিজেই আমার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

প্রিয়তমা এলেনা, আমি জানি তুমি আমাকে কতো ভালোবাসো এবং তুমি সেটা কোনোদিনই জানবে না! কক্ষণো না এলেনা! কেন জানো? চোরা চাহনী দিয়ে আমার তাকানোর পদ্ধতিটা এত নিখুঁত যে তুমি কোনোদিনও টের পাবে না তোমার কতটা অনুরাগী আমি। তুমি যদি ভদ্রতার বাইরে গিয়ে তোমার বন্ধুদের সাথে এ বিষয়ে আলাপ করো তাহলে বড়জোর এটুকু বলতে পারবে যে আমি কখনো তোমার দিকে তাকাই না। 

অন্যদিকে আমি কিন্তু আমাদের প্রেমের সবকিছুই বলতে পারবো। যেমন ধরো গত রাতের গোপন অভিসারের কথা। তুমি আমাকে খুঁজতে এসে এতই ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলে যে বাচ্চাদের মতো আমার জুতো পায়ে দিয়ে বোঝার চেষ্টা করলে আমি কীভাবে হাঁটি। তারপর আমরা এমন উন্মত্ত আদর সোহাগে লিপ্ত হয়ে পড়েছিলাম যা তুমি কখনোই জানবে না। আপাত চোখে এটাকে বেদনাদায়ক স্বার্থত্যাগ মনে হতে পারে, কিন্তু এটা আমার কাছে জলের মতো পরিষ্কার যে, কোনো ফালতু লোকের সাথে সাময়িক ফূর্তি করার চেয়ে আমার তীব্র ভালোবাসার কাছে নিজেকে সমর্পণ করে তুমি খুব ভালো কাজ করেছো।  

আর এভাবেই আমি আমার জীবনটা কাটিয়ে দিয়েছি। মানে যে জীবন আমি ফেলে এসেছি, ভালোবেসেছি এবং ভয় পেয়েছি। নারীদের কাছ থেকে আমি ভালোবাসা পেয়েছি, পুরুষেরা আমাকে ভয় পেয়েছে। পৃথিবীতে এমন কোনো নারী নেই যে আমাকে ঠেকাতে পারে আমি যে মেয়ের দিকে নজর দিয়েছি তার ভালোবাসা পাওয়ার দুঃসাহস দেখাবে তেমন কোনো পুরুষ নেই, যদি কেউ চেষ্টা করে তাহলে সে নিশ্চিত পরাজিত হবে আমার চোখ দুটো ঠান্ডা, কাচের মার্বেলের মতো অনুভূতিহীন। তবুও সেগুলোর উজ্জ্বলতা একটুও কমেনি এবং সবদিকে নজর রাখতে  পারে।

মাঝেমধ্যে নরকেও- আমার জন্য তা-ই,কেউ কেউ জ্বলন্ত আগুন এবং আর্তনাদকে উপেক্ষা করতে শিখে ফেলে।



১৯৬২

------------
মূলগল্প:Look of love

২. দ্য ফেস


একদিন সকাল বেলা আমার টেলিফোনটা বেজে উঠল। অন্য প্রান্ত থেকে এক অচেনা কণ্ঠ বলে উঠল, তিনি মারাত্মক একটা বিপদের মধ্যে আছেন। শুনে আমি ভদ্রতা করে জানতে চাইলাম তিনি আমার চেনা কেউ কি না। জবাবে তিনি বললেন আমরা কেউ কাউকে চিনি না, আমাদের কখনো দেখা হয়নি, কখনো হবে না।

এমন কথা শোনার পর কী করা যায়? যিনি ফোন করেছেন তাকে বলা, আপনি ভুল নাম্বারে ডায়াল করেছেন, তারপর ফোনটা কেটে দেয়া। হ্যাঁ, আমিও, আমিও তাই করলাম। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরেই ফোনটা আবার বেজে উঠল। এবার আমি সেই নাছোড়বান্দাকে বললাম, আপনি কী ফোন নাম্বারটা ভালো করে দেখে তারপর ডায়াল করবেন প্লিজ! এই সাত সকালে ঠাট্টা-তামাশা শোনার মতো অবস্থা আমার নেই। দয়া করে আমাকে অযথা বিরক্ত করবেন না। 


এবার তিনি কাতর কণ্ঠে বললেন, ফোনটা রাখবেন না প্লিজ। আমি কোনোরকম মজা করছি না, ভুল নম্বরেও ফোন করিনি। যদিও এটা ঠিক আমরা কেউ কাউকে চিনি না, কিন্তু আপনার নাম্বারটা আমি নিজেই ফোনবুক থেকে বেছে নিয়েছি। 


আমি যেন আর কোনো আপত্তি করতে না পারি তার জন্য তিনি তাড়াতাড়ি বললেন, বুঝলেন সবকিছুর জন্য দায়ী আমার চেহারা। আমার চেহারা এত বেশি মোহনীয় যে মানুষ আমাকে রীতিমত ভয় পায়, যেন আমি তাদের বড় কোনো ক্ষতি করে ফেলব।


এই কথা শোনার পর আমার মধ্যে একটু কৌতূহল জাগলো। আমি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, মন খারাপ করবেন না। এই পৃথিবীতে সবকিছুরই সমাধান আছে...

তিনি বললেন, এটার কোনো সমাধান নেই। এটা এমন এক অভিশাপ, যার কোনো প্রতিকার নেই। মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। এমনকী আমার নিজের বাবা-মাও বেশ কিছুকাল আগে আমাকে ত্যাগ করেছে। আমি এখন শুধু বাড়ির কাজের লোকদের সাথেই মিশি এবং ঘরের কোণে নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করি। পারতপক্ষে ঘর থেকে বের হই না। টেলিফোনই আমার একমাত্র সান্ত্বনা। কিন্তু মানুষের কল্পনা শক্তি এত কম এমন একজনকেও পাইনি যে আমাকে পাগল মনে করেনি। কেউ ফোন কেটে দিয়েছে, কেউ ফোনে গালি দিয়েছে। কেউ কেউ অবশ্য আমার কথা শুনেছে, সেজন্য পুরস্কার হিসেবে তাদের অট্টহাসি শুনতে হয়েছে। আবার এমন কিছু লোকের দেখাও পেয়েছি যারা ফোন পেয়ে অন্য লোকদের ডেকে আমার কথাগুলো শুনিয়েছে, যেন এক পাগলের সন্ধান পেয়েছে। আর এভাবেই একের পর এক আমি সবাইকে হারিয়ে ফেললাম।


তার কথাগুলো আমার ভেতরে নাড়া দিলো। আবার এটাও ভাবছিলাম আমি হয়তো কোনো  বদ্ধ উন্মাদের পাল্লায় পড়েছি। কিন্তু তার কণ্ঠ এত আন্তরিক এবং বেদনায় ভরা যে আমি অট্টহাসিতে ফেটে পড়তে পারলাম না, জোরে ধমক দিতে পারলাম না, ফোনও কাটতে পারলাম না। আমার মনে আরেকটা সন্দেহ জেগেছে। আমাকে নিয়ে কেউ মজা করছে না তো? কোনো ফাজিল বন্ধু আমার কল্পনাশক্তিকে উস্কে দেওয়ার জন্য এমন কিছু করছে না তো? (আমি একজন ঔপন্যাসিক)। আমি সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করি। সন্দেহের কথাটা খোলাখুলিই বললাম তাকে। 


শুনে তিনি দার্শনিকের মতো বললেন, বেশ,  যদি তাই ভেবে থাকেন, আমার কিছু করার নেই। আপনার পক্ষে সন্দেহ করাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাকে যদি একটুও বিশ্বাস করতে পারেন, আমার কথাগুলোর মাধ্যমে আপনার মধ্যে যদি সামান্যতম করুণারও সৃষ্টি হয়, তাহলে আমার কথার সত্যতা মর্মে মর্মে অনুভব করবেন।


আমি কিছু বলার আগেই তিনি বলে উঠলেন, আপনাকে যা বলার বলে দিলাম। এখন আমি শাস্তির জন্য অপেক্ষা করবো। আপনি কী করবেন? উচ্চস্বরে হেসে উঠবেন না কি ধমক দিয়ে ফোন রেখে দেবেন?


আমি তাড়াতাড়ি বললাম, আরে না, আমি সেরকম কিছু করতে যাচ্ছি না। সত্যি বলতে আপনি আমাকে কৌতূহলী করে তুলেছেন। ঠিক আছে আপনি ফোন করতে পারেন। কিন্তু সপ্তাহে দু'বারের বেশি আমি কথা বলতে পারব না। হাজারো কাজের ব্যস্ততা আমার। দুর্ভাগ্যবশত আমার চেহারাটা এমন যে সবাই, প্রায় সবাই সেটা দেখতে চায়। আমি একজন লেখক,আর আপনি নিশ্চয়ই জানেন লেখকদের কত ঝামেলার মধ্যে থাকতে হয়।


তিনি বললেন, বাঁচালেন! খোদা আপনার মঙ্গল করুন! আপনি আমাকে খাদের কিনারা থেকে ফিরিয়ে আনলেন।


তার কথা শেষ হবার আগেই আমি বললাম, তবে আমি ভয় পাচ্ছি বিষয়বস্তুর অভাবে আমাদের কথাবার্তা বেশিক্ষণ চালানো সম্ভব হবে কিনা। কারণ আমাদের মধ্যে কোনো মিল নেই। আমরা পরস্পরের বন্ধু নই কিংবা আমাদের এমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই যেগুলো নিয়ে আলাপ করা যায়। আমার মনে হয় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আমাদের কথা ফুরিয়ে যাবে এবং আমরা পরস্পরের প্রতি বিরক্ত হয়ে পড়ব।


তিনি বললেন, সেটাও ভেবেছি আমি, এই ঝুঁকিটা মানুষ তখনই নেয় যখন তারা পরস্পরের মুখ দেখতে পায় না... তবু চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কী? আমি একটু সংশয়ের সাথে বললাম, তা ঠিক, কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি ব্যর্থ হলে আপনি আরও হতাশ হয়ে পড়বেন। সমাধানের এই চেষ্টা সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে না তো?


অদ্ভুত চিন্তাভাবনা থেকে তাকে বিরত রাখতে পারলাম না। একদিন তার মাথায় আরো বিচিত্র একটা পরিকল্পনা ভর করলো। তিনি বললেন, আমরা বাইরের কোনো অনুষ্ঠানে গিয়ে আলাদাভাবে উপস্থিত থাকবো। পরে টেলিফোনে সেটা নিয়ে আমাদের অনুভূতি বিনিময় করবো। এই প্রস্তাবটা প্রথমে আমার কাছে বিরক্তিকর মনে হয়েছিল, কিন্তু শেষমেশ মনে হলো বিষয়টা মজার হতে পারে। তিনি যখন বললেন অমুক সময়ে তমুক সিনেমা হলে থাকবো, তখন আমি সেখানে গিয়ে হাজির হলাম ঠিক সময়ে। যাওয়ার পর হলভর্তি শত শত লোকের ভিড়ে তার মোহনীয় এবং ভীতিকর চেহারাটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করলাম। একসময় কৌতূহল এতই তীব্র হয়ে উঠল যে ইচ্ছে হলো পুলিশ এসে দরোজা আগলে দাঁড়াক, তারপর বের হবার সময় এক এক করে সবাইকে পরীক্ষা করে দেখুক হলঘরে এমন চেহারার কে আছে যে কিনা একই সঙ্গে ভয়ংকর এবং আকর্ষণীয়। কিন্তু পুলিশের পক্ষে এ ধরণের পদ্ধতি কতটা কাজে দেবে? একজন প্রাণবন্ত তরুণ কিংবা কুৎসিত ঘাতক যে কারোরই তো মোহনীয় কিংবা ভয়ানক চেহারা হতে পারে। এটা ভেবে আমি নিজেকে শান্ত করলাম। 


আমাদের পরবর্তী টেলিফোন সংলাপে যখন তাকে আমার এই প্রচেষ্টার কথাটা বললাম, তিনি প্রায় কান্নাভেজা স্বরে বললেন আমি যেন কখনও তার চেহারা দেখার সাহস না করি, এমনকী মজা করার ছলেও না। তিনি নিশ্চিত আমি যদি একবার তার "বিস্ময়কর" চেহারাটা দেখি, তাহলে জীবনে আর কখনো তার মুখোমুখি হতে চাইবো না। যদি আবারো এমন কিছু করার চেষ্টা করি তাহলে তার কতটা ক্ষতি হবে সেটা যেন মনে রাখি। তাকে যদি একজন অসহায় মানুষ ভেবে একটুও ভালোবেসে থাকি তাহলে যেন চেহারা দেখার চেষ্টা না করি। বলতে বলতে তিনি একটু নার্ভাস হয়ে উঠলেন এবং বললেন আমরা ভবিষ্যতে আর কখনো একসাথে কোনো অনুষ্ঠানে যাবো না। 


আমি বললাম, ঠিক আছে। মেনে নিলাম। আপনি যদি তাই চান, তাহলে আমরা আর কোথাও 'একসাথে' হবো না। কিন্তু একটি শর্তে. . . .তিনি দুর্বলভাবে বললেন, শর্ত. . . . আপনি আমার উপর শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন। আমি কল্পনা করার চেষ্টা করছি আপনার ওই শর্তের কারণে আমাকে কতটা মূল্য দিতে হবে।


আমি বললাম, আচ্ছা বুঝলাম আপনি যেটা নিয়ে চিন্তিত সেটা হলো কখনো মুখ দেখা দেখি না করা.ঠিক আছে সেটার জন্য আমি জোরাজুরি করবো না। এমনিতেই আপনি আমার কৌতূহলের মাত্রা যথেষ্ট বাড়িয়ে তুলেছেন। তিনি মিনতি করে বললেন- বেশ, তাহলে শর্তটি কী? আপনি অন্য যে পরিস্থিতিই কল্পনা করুন না কেন তা হবে বোকামি। ভালো করে ভেবে দেখুন যেন এমন কিছু না হয় যাতে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যায়। কারণ টেলিফোন সংলাপেই আমরা সবচেয়ে নিরাপদ তাতে কোনো সন্দেহ নেই।


এবার আমি চিৎকার করে বলে উঠলাম- জাহান্নামে যাক তোমার টেলিফোন! আমার অবশ্যই তোমাকে দেখতে হবে। আচ্ছা ঠিক আছে। দেখবো না, প্লিজ! 

রাগের মাথায় সম্বোধনটা তুমিতে নামিয়ে আনলাম। তারপর তড়িঘড়ি করে ক্ষমা চাইলাম, কারণ আমার মনে হলো কথা শুনে সে প্রায় অজ্ঞান হয়ে গেছে। বললাম, না মানে আমি এটা বলতে চাইছি না যে আমাকে তোমার চেহারা দেখাতেই হবে! আমি কখনও তা দেখার কথা বলবো না। কারণ আমি জানি আমাকে তোমার প্রয়োজন। তাই যদিও আমি আক্ষরিক অর্থেই তোমার মুখ দেখার জন্য মরছি, আমি তোমার নিরাপত্তার খাতিরে সেই ইচ্ছাকে বিসর্জন দিলাম। তুমি নিশ্চিন্ত থাকতে পারো। আমি যা বলতে চাইছি তা হলো কষ্ট আমিও পাচ্ছি। চেহারা শুধু তোমার সাথে চালাকি করছে না, চালাকি করছে আমার সাথেও। তুমিই চেহারা দেখার কৌতূহলটা জাগিয়েছো আমার মধ্যে, আবার তুমিই আমাকে বাধ্য করছো সেই ইচ্ছেটা ত্যাগ করতে!


আমি কিন্তু তোমার কাছ থেকে এই আচরণ আশা করিনি। সে একেবারে ক্ষীণ কণ্ঠে উত্তর দিল। এটা এমন একটা অভিশপ্ত চেহারা যে এমনকী আড়ালে থেকেও চালাকি করতে পারে! আমি তো কখনো কল্পনাও করিনি তুমি তা দেখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে?


তারপর একটা দীর্ঘ বিরতি। আমরা কথা বলতে বলতে খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। অবশেষে নীরবতা ভেঙে সে বলল, তুমি এখন কী করতে চাও?

যতক্ষণ সম্ভব ঠেকিয়ে রাখতে চেষ্টা করবো। মানসিকভাবে যতক্ষণ না . . . যতক্ষণ. . . .

হ্যাঁ, যতক্ষণ না তুমি তোমার কৌতূহল দমিয়ে রাখতে পারছো। তার কণ্ঠে পরিষ্কার বিদ্রূপের ছাপ। কিন্তু তুমি যতক্ষণ করুণা করতে চাও, তার চেয়েও বেশি সহ্য করতে পারে।


না, মোটেও না। এটা একেবারেই সত্যি নয়। আমি প্রায় চিৎকার করে তাকে বললাম। তুমি যা বলতে চাইছো সেটা মোটেও সত্যি নয়! . . . আমি তোমাকে শুধু করুণা করে এমন আবেগজর্জরিত হইনি। তোমার জন্য আমার বুকের ভেতর একটা জায়গা তৈরি হয়ে গেছে। তারপর একটু তিক্ত স্বরে বললাম- দেখো এখন আমি তোমার মতোই নিজেকে অভিশপ্ত মনে করছি।


আমার অবস্থা দেখে সে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য মজা করে কথা বলার চেষ্টা করল। কিন্তু ওসব কথা শুনে আমার মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল। তারপর সে বলল যেহেতু তার চেহারার এমন একটা প্রভাব আছে যেটা আমাকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে বাধ্য করে, আমাদের কথাবার্তা এখানেই শেষ হয়ে যাওয়া উচিত। ভবিষ্যতে সে এমন কাউকে খুঁজে বের করবে যে কিনা চেহারা দেখার মতো অস্বাস্থ্যকর কৌতূহল দেখাবে না। 


সাথে সাথে আমি অনুনয় করে বলে উঠলাম, কিছুতেই না! তুমি যদি এমন কিছু করো, আমি মরে যাব। থাক- আমরা যেমন ছিলাম তেমনই থাকি। শুধু তুমি আমাকে তোমার চেহারা দেখার ইচ্ছেটা ভুলিয়ে দাও।


সে জবাব দিল- আমি এটা নিয়ে কিছু করতে পারব না। যদি তোমার সাথে ব্যর্থ হই তাহলে  আমাদের সব এখানেই শেষ।

আমি মিনতি করে বললাম, আচ্ছা তাহলে আমাকে অন্তত তোমার কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ দাও। আমি একটা প্রস্তাব করি- তুমি আমার বাড়িতে এসো। . . .

তুমি নিশ্চয়ই মজা করছ। এখন তুমি জোকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছো। তুমি যা বললে সেটা মজা করেই বলেছো। ঠিক না?


আমি ওকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। শোনো, আমি তোমাকে বলার চেষ্টা করছি- হয় তুমি আমার বাড়িতে এসো অথবা আমি তোমার বাড়িতে যাবো। যেটাই করি না কেন, আমরা অন্ধকারে মুখোমুখি বসে কথা বলবো। কেউ কারো চেহারা দেখবো না।

সে আমাকে বলল, দুনিয়ার কোনো কিছুর বিনিময়েই আমি এটা করব না! যদি তুমি টেলিফোনে কথা বলেই এমন পাগল হয়ে যাও, মুখোমুখি কয়েক ইঞ্চি দূরত্বে থাকলে কী অবস্থা হবে ভাবতে পারো?


তবু শেষমেষ মুখোমুখি বসার ব্যাপারে আমি তাকে রাজী করাতে পারলাম। আমার কোনো কথা ফেলতে পারতো না সে, আমিও ওর কোনো কথা ফেলতে পারতাম না। আমাদের "সাক্ষাৎ"টি তার বাড়িতে হয়েছিল। তবে সেই সাক্ষাতের সময় সে নিশ্চিত করতে চেয়েছিল আমি কোনোরকম চালাকি করবো না। বাড়িতে ঢোকার পর হলঘরে একজন ভৃত্য এসে আমাকে সাবধানে আগাগোড়া সার্চ করে দেখল। বলল, বাড়ির মালিকের হুকুম।


না, আমি কোনো টর্চ বা দিয়াশলাই নিয়ে যাইনি। তেমন কিছু করার কোনো পরিকল্পনা আমার ছিল না। কিন্তু সে আমাকে হারানোর ভয়ে এতটাই ভীত ছিল যে তার এইসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা হাস্যকর এবং আপত্তিকর তা বুঝতে পারছিল না। কাজের লোকটা যখন নিশ্চিত হয়ে গেল যে আমি কোনো রকমের আলো বহন করছি না, সে আমাকে অন্ধকারে হাত ধরে নিয়ে ঘরের শেষ প্রান্তে এক হাতলওয়ালা চেয়ারে বসাল। অন্ধকার এতটাই গাঢ় ছিল যে আমি হাতটা মুখের সামনে ধরেও দেখতে পাচ্ছিলাম না।


ব্যাপারটা একটু অপার্থিব মনে হচ্ছিল আমার, এ ছাড়া অন্ধকারে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছিল না। সে যাই হোক, আমি যে শেষমেষ ফোন ছাড়া সরাসরি ওর কণ্ঠ শুনতে পাবো এটাই সবচেয়ে বড় কথা। আমার কাছ থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে একটা চেয়ারে বসে আছে সে- অদৃশ্য কিন্তু  অশরীরি নয়, ভাবতেই উত্তেজনা বোধ করছিলাম। আমি ওকে 'দেখার' জন্য ভেতরে ভেতরে পুড়ছিলাম। ভাবছিলাম সে কি ইতোমধ্যে কাছাকাছি কোনো চেয়ারে বসে আছে নাকি এই ঘরে আসতে আরো দেরি আছে? না কি শেষ মুহূর্তে সে তার মত পরিবর্তন করে ফেলেছে, ভৃত্যটা এসে সেটাই জানাবে একটু পর? আমি রীতিমত দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকার পর আমি বললাম: তুমি কী আছো?

তুমি আসার অনেক আগেই। আমি তোমাকে এতক্ষণ 'দেখছিলাম'। আমার দূরত্ব থেকে কাছাকাছি একটা জায়গা থেকে তার কণ্ঠ শোনা গেল।


আমিও তোমাকে 'দেখছিলাম'। ভাবছিলাম পৃথিবীতে এর চেয়ে সুখের ঘটনা আর কী হতে পারে?


অনেক ধন্যবাদ তোমাকে। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল সে। এখন আমি জানি তুমি আমার অবস্থাটা বুঝতে পেরেছো। আমার মনে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তুমি কখনোই এই অন্ধকার ভেদ করার চেষ্টা করবে না।


সেটা ঠিক। আমি বললাম। তোমার অন্ধকার চেহারার চেয়ে এই আঁধার ঢের ভালো। আর আমার মনে হয় তোমার চেহারার ব্যাপারটা আরেকটু খোলাসা করার সময় এসেছে।

ও হ্যাঁ, নিশ্চয়ই! সে তার চেয়ারটা সরিয়ে বসলো। 

আমার চেহারার গল্পটা দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে ওটা ছিল আমার পরম মিত্র, অন্য ভাগে ওটা আমার নৈতিক শত্রু। প্রথম ভাগে আমরা যখন বন্ধু ছিলাম তখন যে পরিমাণ অপকর্ম করেছি একটা গোটা সেনাবাহিনীর চেয়েও বেশি। আমার চেহারার কারণে কারো বুকে চাকু, কারো পেটে বিষ ঢুকেছে। কেউ অসম যুদ্ধে প্রাণ দেবার জন্য দূরের দেশে গেছে। অন্যরা বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর জন্য প্রতীক্ষা করেছে। আমি বিশেষ করে তাদের কথা বলছি যেসব দুর্ভাগা আমার চেহারাকে আশীর্বাদ মনে করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে। আমি বুঝি না এটা কীভাবে সম্ভব যে চেহারা দেখে সবাই ভয়ে পালিয়ে যায় সেই চেহারা কী করে অন্তিম আশীর্বাদ হতে পারে?


সে বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল, যেন উত্তর খোঁজার বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছে। অবশেষে, সে আবারো তার গল্প শুরু করল:


এই রক্তাক্ত খেলা (বলতে গিয়ে একটু আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিল) ধীরে ধীরে আমার আত্মাকে একটা যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে দিচ্ছিল। হঠাৎ করে আমার মনে হলো আমি নিজেকে নিঃসঙ্গ করে ফেলছি। মনে হচ্ছিল আমার চেহারাই এটার জন্য দায়ী। আমার অন্তরে জমে থাকা বরফ গলে যাচ্ছিল আমি নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু অন্যদিকে আমার চেহারা সেই বরফকে আরো জমাট কঠিন করে তুলছিল। যখন আমি আমার সবটুকু দিয়ে মানুষের সহানুভূতি আদায় করার চেষ্টা করছিলাম, তখন আমার চেহারা তার অপরাধগুলি দ্বিগুণ উৎসাহে ছড়িয়ে দিচ্ছিল। অতঃপর আমি এই পরিণতি বরণ করলাম যেখানে তুমি এখন আমাকে দেখছ।


কথা শেষ করে সে উঠে দাঁড়ালো এবং হাঁটতে শুরু করল। আমি তাকে শান্ত হয়ে বসতে বললাম, কারণ আমার ভয় ছিল অন্ধকারে সে হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতে পারে। সে আমাকে বলল যে এই ঘরটাকে সে তার আত্মা দিয়ে চেনে তার প্রমাণ স্বরূপ সে আমাকে অন্ধকারে কফি খাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ জানালো। আমি তার কাপ নাড়াচাড়া করার শব্দ শুনতে পেলাম। ক্ষীণ একটা আলোকচ্ছটা আমাকে জানান দিল সে একটা পাত্র ইলেকট্রিক চুলার ওপর রাখলো। আমি সেই ক্ষীণ আলোকশিখার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ওটা থেকে খুব সামান্যই আলো ছড়াচ্ছিল এবং সে এমন কৌশলে দাঁড়িয়েছিল ওটা দিয়ে তার ছায়াও বোঝা যাচ্ছিল না। 


কৌতুক করে বললাম- আমি কিন্তু বিড়ালের মতো অন্ধকারে দেখতে পাই। সে জবাব দিল বিড়াল কখনো এমন কুকুরের মুখ দেখতে চায় না যার চোখগুলো খচ্চরের মতো। চেহারা আড়াল করে রাখা অবস্থায় বাড়িতে একজন অতিথিকে আপ্যায়ন করতে পারার আনন্দে সেও কৌতুকে অংশ নিল। বলল, কফি তৈরি হতে একটু সময় লাগবে, সেই অবসরে তুমি চাইলে তোমার হাতের নাগালে কালো পায়ার লাল টেবিলটাতে যে ম্যাগাজিনগুলো রাখা আছে সেগুলো পড়তে পারো।


পরবর্তীতে সেই দিনটার কথা ভেবে আমি অনুভব করলাম একটা বিশাল শূন্যতা থেকে তার চরিত্রের এই বিচিত্র রূপান্তর ঘটেছিল। কিন্তু আমি ব্যাপারটাকে অত নেতিবাচক ভাবে দেখতে চাইনি। আমার এমনটা মনে হচ্ছিল কারণ আগে কখনো ওরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। সত্যি বলতে আমি নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম যে আমাদের দেখা সাক্ষাতের ব্যাপারে আসলে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তাছাড়া একটা শারীরিক অসঙ্গতি এমন কোনো গুরুতর বিষয় নয়। আবার অন্যদিকে এটাও মনে হচ্ছিল আমি যদি তার চেহারা দেখতে না পাই, তাহলে আমি হয়তো নিজের বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলবো এবং একটা সময় তাকেও হারিয়ে ফেলবো। কিন্তু সেটা ভাবতে গিয়ে মনে হলো যেহেতু ওর চেহারার সাথে আত্মার কোনো সংঘাত নেই, সেক্ষেত্রে ওই চেহারা অন্যের ওপর কী প্রভাব বিস্তার করতে পারে? ধরা যাক আমি ওর চেহারাটা শেষমেষ দেখেই ফেললাম, সেই চেহারা কী আমার ধ্বংস ডেকে আনবে? কিন্তু সেটা কীভাবে সফল হবে? ওর আত্মা তো আমাকে রক্ষা করার জন্য সর্বদা সজাগ থাকবে। আমাকে রক্ষা করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কী হতে পারে।


আমাদের পরবর্তী সাক্ষাতে এই বিষয়টা যুক্তিসহকারে তাকে বুঝিয়ে বললাম। বলার সময় আমার মনে হচ্ছিল আমার যুক্তিতে পরাস্ত হয়ে সে অন্ধকার ঘরটাকে আলোয় ভরিয়ে তুলবে। 


কিন্তু আমি বিস্মিত হলাম তার কথা শুনে। সে বলল-  তুমি সব ধরণের সম্ভাবনার কথা ভেবেছো ঠিক, কিন্তু একটা সম্ভাবনার কথা ভুলে গেছো। তুমি তো প্রত্যাখ্যাত হতেও পারো...

শোনামাত্র আমি চিৎকার করে উঠলাম। কী বলছো তুমি? আরো কী সম্ভাবনা থাকতে পারে ওখানে?

সে বলল, অবশ্যই আছে। আমি তো নিশ্চিত নই আমার আত্মা চেহারার বিরুদ্ধে গিয়ে তোমাকে রক্ষা করবে কিনা।

এবার আমার মনে হচ্ছিল দুটো জাহাজ যেন মাঝ সমুদ্রে পরস্পরের সাথে ধাক্কা খেতে যাচ্ছে। আমি আর্মচেয়ারে ডুবে যাচ্ছিলাম। কিংবা চেয়ারের চেয়েও গভীর কোনো কাদার মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে পড়ছিলাম আরো ভয়ানক কোনো সম্ভাবনা নিয়ে। আমি ওকে বললাম: তাহলে তোমার আত্মা কি পবিত্র নয়?

হ্যাঁ পবিত্র তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যদি আমার চেহারা আলোর মুখ দেখে তখন কী হবে সেটা কি জানি? যদি কোনো কারণে আমার চেহারা প্রকাশ্যে আসে তখন আমার আত্মা ওটাকে রক্ষা করতে আসবে নাকি ওটার বিরুদ্ধে যাবে সেটা তো জানি না আমি।


আমি চিৎকার করে বললাম,  তুমি বলতে চাইছো যে তোমার আত্মা তোমার চেহারার উপর এতটাই নির্ভরশীল? সে কান্নার দমকে রীতিমত ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল, যদি সেটা না হতো তাহলে আমরা এখানে অন্ধকারে বসে থাকতাম না। আমরা ঝলমলে সূর্যের নিচে একে অপরের মুখ দেখতাম।


আমি কোনো জবাব দিলাম না। আর কোন শব্দ খরচ করা নিরর্থক বলে মনে হলো। আমি মনে মনে ওর মোহনীয় চেহারার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম। এখন আমি জানি কীভাবে ওটাকে পরাস্ত করতে হবে। ওটা আমাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করবে না কিংবা ওকে ছেড়ে যেতে বাধ্য করবে না। আমার পরবর্তী সাক্ষাতে আমি স্থায়ীভাবে ওর পাশে থাকবো কোনো অন্ধকার ছাড়াই। আলোকিত ঘরে আমরা দুজন মুখোমুখি বসবো।


এ বিষয়ে বলার মতো খুব সামান্য বাকি আছে। কিছুদিন পর  আমি ওর বাড়িতে গেলাম। আর্মচেয়ারে বসে ওকে আস্তে আস্তে বললাম- আমি আমার চোখ দুটো উপড়ে ফেলেছি। অতএব তোমার  চেহারা আর কখনো আমাদের দুজনের আত্মাকে আলাদা করতে পারবে না। যেহেতু অন্ধকারের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে, তুমি নিশ্চিন্তে বাতি জ্বালিয়ে ঘরটা আলোকিত করতে পারো।


----------
মূলগল্প: The Face



অনুবাদক পরিচিতি:  পরিচিতি:হারুন রশীদ, জন্ম ১৯৬৯। নিবাস চট্টগ্রাম। পড়াশোনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। পেশায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরামর্শক। ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রাচীন সভ্যতা নিয়ে লেখালেখি করেন। প্রকাশিত গ্রন্থ: ১) International Trade Management (Amazon, 2020), ২) উপনিবেশ চট্টগ্রাম (পূর্বস্বর, ২০২১) ৩. Secret Journey of Sarat Chandra Das(Amazon, 2022), ৪. Global Trade Orbit (Amazon, 2023) ৫. থাংলিয়ানা (কথাপ্রকাশ, ২০২৪), ৬. শরচ্চন্দ্র দাস: নিষিদ্ধ তিব্বতে প্রথম বাঙালি (বাতিঘর, ২০২৪)





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ