সুকুমারবাবু আছেন?
আছেন।
কোথায়?
বেরিয়েছেন।
এই বললেন আছেন!
আছেন মানে এসেছেন। এখন বেরিয়েছেন। বেরিয়েছেন মানে ফিরবেন।
টিফিনে বেরিয়ে থাকলে আধঘণ্টার মধ্যে ফিরবেন জানি। তবে টিফিনে বেরিয়েছেন কিনা জানি না। আপনি বরং ঐ লাল সার্টপরা ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করুন।
সুকুমারবাবু কখন ফিরবেন?
সিনেমার টিকেটের জন্যে বেরিয়ে থাকলে এক ঘণ্টার মধ্যে ফিরবেন বলতে পারি। তবে এই জন্যেই বেরিয়েছেন কিনা বলতে পারি না। আচ্ছা আপনি ঐ মোটামতো ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করুন তো।
সুকুমারবাবু কখন ফিরবেন?
কেনাকাটার জন্যে বেরিয়ে থাকলে দু ঘণ্টার আগে ফিরবেন না জানি। তবে কেনাকাটার জন্যে বেরিয়েছেন কিনা জানি না। আপনি একবার ঐ কালো কোটপরা ভদ্রলোকের কাছে খোঁজ নিন।
সুকুমারবাবু কখন ফিরবেন?
মোটামুটিভাবে চারজন বন্ধু সুকুমারবাবুর সঙ্গে দেখা করতে সেন জানি। একজনের সঙ্গে বেরুলে ফিরতে আধ ঘণ্টা। আরেকজনের বেলায় এক ঘণ্টা। আরেকজনের সঙ্গে বেরুলে দু ঘণ্টা। আরেকজনের বেলায় তিন ঘণ্টা। কিন্তু কোন বন্ধুটির সঙ্গে বেরিয়েছেন জানি না। তাই ওদের ওদের কারুর সঙ্গে বেরিয়ে থাকলে আধ ঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে ফিরবেন এটুকু বলতে পারি। অবশ্য যে বন্ধুটির সঙ্গে বেরুলে ফিরতে তিন ঘণ্টা লাগে তার সঙ্গে বেরিয়ে থাকলে কি করে ফিরবেন বলতে পারি না। কারণ, আড়াই ঘণ্টা পরেই অফিস ছুটি হয়ে যাবে। তবে সেরকম হলে একেবারেই ফিরবেন না জানি। অবশ্য তিনি কখন বেরিয়েছেন জানি না। গোড়াতেই জানা দরকার তিনি ঠিক কখন বেরিয়েছেন। আপনি ঐ জহর কোটপরা ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করে দেখুন তো। তারপর আমি বলব।
সুকুমারবাবু কখন বেরিয়েছেন?
তিনি বেরিয়েছেন এটুকু বলতে পারি, কেননা তার গলা শুনতে পাচ্ছি না। তিনি এসেছেন এটুকুও বলতে পারি, কেননা তার গলা শুনতে পেয়েছিলাম। কিন্তু কখন বেরিয়েছেন তা বলতে পারি না। ঐ যে টাকমাথা ভদ্রলোক বসে আছেন আপনি একবার তাকে জিজ্ঞেস করুন।
সুকুমারবাবু কখন বেরিয়েছেন?
টিফিন আওয়ার্স শুরু হওয়ার আগেই বেরিয়েছেন এটুকু বোধহয় নিশ্চয় করে বলতে পারি। কারণ, টিফিনের আগে বেরিয়ে থাকলে টিফিনের আগেই ফিরে আসেন দেখেছি। তবে টিফিনের আগে বেরিয়ে টিফিন আওয়ার্স-এর পরে ফিরে এসেছেন এরকম কনোদিনই হয়নি এরকম বলতে পারি না। তবে অফিসে আ্সতে যদি বারোটা বেজে গিয়ে থাকে তাহলে টিফিনের আগে বেরোন নি এটুকু বলতে পারি, কারণ অফিসে আসার পর এক ঘণ্টা বিশ্রাম না করে তিনি বেরোন না দেখেছি। তবে বারোটার পর অফিসে এসে কোনোদিনই টিফিনের আগে বেরোন নি একথা বলতে পারি না। তবুও প্রথমে জানা দরকার তিনি কখন অফিসে এসেছেন। ঐ যে দেখছেন চাদর জড়িয়ে বসে আছেন উনি আমাদের বড়োবাবু, আপনি তাঁকে একবার জিজ্ঞেস করুন তো। তারপর আমি ভেবে দেখব।
সুকুমারবাবু এসেছেন?
এখানে দশটা থেকে ডিউটি।
সুকুমারবাবু তাহলে দশটায় এসেছেন।
এখানে যারা চাকরি করেন তাদের ডিউটি দশটা থেকে এবং সুকুমারবাবুও এখানে চাকরি করেন। আর কিছু জানার আছে?
আচ্ছা, সুকুমারবাবু কখন বেরিয়েছেন?
এখানে দশটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত ডিউটি। মাঝখানে দেড়টা থেকে দুটো পর্যন্ত টিফিন আওয়ার্স।
সুকুমারবাবু কখন বেরিয়েছেন কেবল এটুকু জানলে আমার বড়ো উপকার হয়।
এখানে যাঁরা চাকরি করেন তাঁদের টিফিন আওয়ার্স ছাড়া দশটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত সব সময়ই অফিসে থাকার কথা এবং সুকুমারবাবুও এখানে চাকরি করেন। আর কিছু বলার আছে?
সুকুমারবাবু কখন ফিরবেন?
আশ্চর্য! আপনি যাঁদের এখন বেরুবার কথাই নয় তাঁদেরই একজনের ফেরার সময় জিজ্ঞেস করছেন!
*****
লেখক পরিচিতি: অমল চন্দ। শুধু শাস্ত্রবিরোধী আন্দোলনের গল্পকার বললে অমল চন্দের প্রতিভাকে খাটো করা হয়। বিষয়ভাবনা, বুদ্ধিদীপ্ততা, লেখার নির্মাণ এবং একইসঙ্গে লেখার মধ্যে লীনতা আর নির্লিপ্ততা বজায় রাখা -- তাঁকে অনন্য করে তুলেছে। ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করা অমল চন্দ সারাজীবনে লিখেছেন মাত্র দুটি গল্পগ্রন্থ এবং তিনটি উপন্যাস। মাত্র আটান্ন বছর বয়সে ১৯৯৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।


1 মন্তব্যসমূহ
আহা,বেশ তো! আমি সরকারী কর্মচারী -----
উত্তরমুছুন