মিথ্যে বলাটা আমার বাবার কাছ থেকে শেখা। ছেঁড়া জুতো পরে মাসের পর মাস কাটিয়ে দিতেন। কেউ ভ্রু কুঁচকে তাকালে এক গাল হেসে বলতেন, কী বিপদ দেখুন তো, নতুন জুতো কিনেছি, পরলেই পায়ে ফোস্কা পড়ে যায়।
বাবার কোনো নতুন জুতো নেই। বাথরুমে পিছলে যাওয়ার পর একটা চপ্পল কিনেছেন। পুরনো চপ্পলটার তল ক্ষয়ে গিয়েছিল। ভ্যান থেকে একটা চপ্পল কিনেছেন, পঞ্চাশ টাকায়। কেনার পরদিন ফিতে ছিঁড়ে গেছে। সেটা আবার অনেক কায়দা করে জিআই তার দিয়ে সেলাই করেছেন। বৃষ্টির দিন চপচপ আওয়াজ করে সেই চপ্পল পরে বাজার থেকে ফিরেন। ফিরেই অফিস যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠেন।
এরমধ্যে মা হয়ত বলছেন, পস্তুদানা এনেছো?
যাহ, ভুলে গেছি।
আবারও সিলভার কার্প!
সব পচা মাছ... রিন্টু গামছাটা দেয়... স্নানে যাই।
বাবার খুব তাড়া। আমি জানি বাবা ইচ্ছে করেই পস্তুদানা আনেননি। পস্তুদানার দাম অনেক। আর রুই কাতলার দিকে বাবা যান-ই না। মাঝারি সাইজের সিলভার কার্প নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
পয়সা বাঁচাতে হবে। দিন দিন খরচ বাড়ছে। ভাই ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছে। বোনটা দেবে এসএসসি। প্রাইভেট টিউটর, নতুন কাপড়, হলের খরচ... ছোট ডাইরিতে সারাদিন সেসবের হিসেব করেন। কোনোপ্রকারে টেনেটুনে যেন সংসার নামের অচল গাড়িটাকে সামনে নিয়ে যাচ্ছেন মানুষটা।
বাড়ি থেকে কেউ এলে ঝামেলা লেগে যায়। ডায়রিতে কাটাকুটি বেড়ে যায়।
প্রতিদিন বাবা বলেন, ভালোমন্দ কিছু আনা দরকার, কিন্তু সময় পাচ্ছি না। জোরে জোরে বলেন, যাতে আগন্তুকরা শুনতে পায়।
তখন বাবা সকাল সকাল বাসা থেকে বেড়িয়ে যান অফিসের নাম করে। আসলে যান করিম চাচার বাসায়। সেখানে গিয়ে দু’দান টুয়েন্টি নাইন খেলে অফিস যেতেন। ফিরতেন রাত করে। যেহেতু বাজার করার সময় নেই, যা আছে তাই খাও।
বেলায় বেলায় সিলভার কার্প খেয়ে বিরক্ত হয়ে লোকজন চলে যেত তিন দিনের মাথায়।
বাবা হাঁফ ছেড়ে বাঁচতেন।
ভেতরে যা-ই হোক, কলোনির সবচেয়ে সুন্দর বাসাটা ছিল আমাদের। বাসার সামনটা আলো করে রাখত করবী দোলনচাঁপা দোপাটী। শীতে ফুটত ডালিয়া। বাবাই বাগান করতেন। সাজিয়ে রাখতেন গৃহমুখ। আরো একজন ভেতর থেকে লড়াইটা চালিয়ে যেতেন। আমার মা। তখনও আমাদের বাসায় ফ্রিজ আসেনি। মা কী এক বিশেষ কায়দায় মাছ ও মাংস মিটসেলফে জমিয়ে রাখতেন। অতিথি এলে সাজিয়ে দিতেন সঞ্চয়ের ডালা।
অবশ্য একটু বড়ো হওয়ার পর বেশি বিরক্ত লাগত মাকে। ভদ্রলোকের সব অত্যাচার এ মহিলা নীরবে মেনে নেয় কেন? কৃচ্ছ্রতাসাধনের তো একটা মাত্রা আছে! টয়লেটে দুটো লাইট থাকত। ষাট ওয়াটের ফিলামেন্ট বাল্ব কেবল অতিথি এলে জ্বালানো যেত। ডিমলাইটের আলো-আঁধারির মধ্যে প্রকৃতিকে সাড়া দিতে গিয়ে কত অঘটনই না ঘটেছে!
বাবা ছিলেন মিলের কমার্শিয়াল ম্যানেজার। বড়ো হয়ে বুঝেছি তাঁর হাতে ছিল কাঁচা টাকার লেনদেন। কিন্তু সংসারের টানাটানি আমাদের পিছু ছাড়ে নি। লোকে আড়ালে বলত কঞ্জুস।
বাবা সবসময় একটা পরিতৃপ্তির আবহ আনার চেষ্টা করতেন। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকটায় যখন আলু ভাজি আর ডাল দিয়ে আমাদের রাতের খাবার সারতে হত, তখন তিনি হাতের তালু চাটতে চাটতে বলতেন, দারুণ হয়েছে রান্নাটা মিতার মা।
মা নির্বিকার থাকতেন। ডালের গামলায় হয়ত চামচ ডুবিয়ে নাড়তেন।
আমাদের কিসের অভাব, পেট ভরে দুবেলা খেতে পারছি। পুজো পার্বনে নতুন কাপড় পরছি। এতোটা পাবো কখনো ভাবিনি।
পুজো পার্বণে আমরা নতুন কাপড় পেতাম, এ কথাটা ঠিক না। বাবা বছর দু-তিন পর এক প্রস্থ কাপড় কিনতেন। সেটাই পরে কাটিয়ে দিতেন অনেকদিন। আর আমরা নতুন কাপড় পেতাম বদলাবদলি সিস্টেমে। এ বছর আমি নতুন কাপড় পেলে ভাই পুরনো। আর পরের বছর তার উল্টোটা। এ বেলায় কিছুটা সুবিধা পেত বোন। কারণ তার বদলাবদলি করার মানুষ ছিল না। মাকে কখনো কাপড় কিনতে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। নতুন কাপড়ে মানুষটাকে কেমন দেখায় দেখেছি তার শেষ বয়সে।
পুজোর বন্ধে আমরা বাড়ি যেতাম দল বেঁধে। আমাদের কাজ ছিল গাট্টিভরা কাপড় টেনে ট্রেনে তোলা। গ্রামের বাড়িতে গেলে বাবা হতেন দানবীর হাতেম তাঈ। বুড়োরা আলাপ করত, মজুমদারের পোলা ম্যালা বড়ো অপিসার অইছে।
এই কয়টা দিন ছিল স্বপ্নের মতো। মনে হত দিন কয়েকের জন্য স্বর্গ ঘুরিয়ে আনেন বিধাতা। খাঁটি দুধ, ময়রার দোকানের মিষ্টি, পাকা রুই, বিরনি চালের ভাত, রসের পিঠা...। এভাবে বোনাসের টাকাগুলো শেষ করে বাবা মিলে ফিরে কিপ্টামি শুরু করতেন। বুঝতাম তার এই বাড়ি যাওয়াও ছিল এক মিথ্যে নাটক। ঠাঁট দেখানোর নাটক।
বাবার এক বন্ধু এসেছিলেন বাসায়। বিরাট বৈষ্ণব। আশ্রমিক হয়ে গেছেন। অনেক খুঁজে তাঁর বাল্যবন্ধুকে তিনি পেয়েছেন। বহুদিন পর বন্ধুকে পেয়ে দুজন শিশু হয়ে গিয়েছিলেন। কত হাসি কত ঠাট্টা। বাবা যে এতো আমোদ করতে পারেন আমাদের জানা ছিল না। সেদিন বাবা বেশ বড়ো একটা চিতল মাছ এনেছিলেন। এ দেখে মা অবাক।
বাবা হেসে বলেছিল, লালু আবার মুইঠ্যা পছন্দ করে...
দুই বন্ধু মিলে শোবার ঘরে বসে খুব আড্ডা দিচ্ছিলেন। আমি পাশের ঘরে বসে পড়ি। পড়া থেকে মন শুধু পিছলে যায় কথায়।
বুঝলি, এই যে সংসার... এ মায়া... এ ভ্রম... এ মিথ্যে...
মিথ্যেই যদি অন্তরে সুখ দেয়... তো সেই মিথ্যেই তো ভালো...
মোহে পড়ে থাকিস না বন্ধু... আত্মাকে মুক্তি দে... নিস্কাম হ...
আমি মুক্তি দিতে চাই না যে... হাজার জ্বালা যন্ত্রণা জেনেও আমি বারবার সংসারে ফিরে আসতে চাই। এই মিথ্যের মধ্যে সুখ খুঁজে পেতে চাই ... আমলিকের মতো তীব্র কষার মধ্যে একটা মিষ্টি অনুভূতি...
আমরা বড়ো হওয়ার পর আমাদের সামনে মিথ্যে বলতে বাবা লজ্জ্বা পেতেন। একবার ফার্মেসিতে গিয়েছি বাবার সঙ্গে। একটা ঔষধ কিনবেন। কিন্তু ঔষধটা নেই। দোকানী বলল, একই জেনেরিকের অন্য কোম্পানির ঔষধ আছে, নেবেন? বাবা পকেট থেকে চশমা বের করলেন। চশমার একটা ডাঁটি ভাঙা। দোকানী মুচকি হেসে উঠল।
বাবা নিখুঁত অভিনেতার মতো বললেন, আর বলবেন না, সকালে বিছানা থেকে উঠে দেখি ডাঁটিটা ভেঙে গেছে। হয়ত চাপ টাপ লেগেছে। নতুন চশমা কেনার সময় পেলাম না।
অথচ গত দুবছর তিনি এই এক ডাঁটির চশমা ব্যবহার করছেন। হয়ত দোকানীও জানে।
দোকান থেকে বের হয়ে চোখাচোখি হতেই বাবা ধরাপড়া অপরাধীর মতো হেসে উঠলেন, বড়ো মিথ্যে থেকে বাঁচতে জীবনে ছোটো মিথ্যের আশ্রয় নিতে হয়। এতে কোনো পাপ নেই।
বুঝতাম বাবা আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলো মিথ্যে দিয়ে ঢাকতে চাইতেন।
দিন যায়, সংসারের খরচ বাড়ে। এদিকে মিলের একাংশ বন্ধ। কবে পুরোটাই বন্ধ হয়ে পড়ে তার নেই ঠিক। বাবা তখন বিকল্প আয়ের সন্ধানে মরিয়া হয়ে উঠলেন।
একদিন দেখলাম বাবা বই পড়ায় খুব মনোযোগী হয়ে উঠছেন। যে বাবা ব্যাংকের জমা বই বাদে অন্য কোনো বই হাতে তুলতেন না, তিনি এতো পড়–য়া হয়ে উঠলেন কেন? বইগুলো উল্টে পাল্টে দেখলাম। বাবা হোমিওপ্যাথি শিখছেন। হয়ত কোথাও ভর্তি হয়েছেন।
বছর খানেকের মধ্যে বাবা পুরো দস্তুর ডাক্তার হয়ে উঠলেন। কোথা থেকে একটা পুরনো আলমারি এনে ভরিয়ে দিলেন লাল কাঁচের বোতলে। ড্রইংরুমে একটা টেবিল বসানো হলো। সেখানে সাদা কাপড় দিয়ে দিব্যি হয়ে গেলো ‘জীবনানন্দ হোমিও হল’। আমি তার অবৈতনিক কমপাউন্ডার। চালের গুড়োর মতো সাদা সুগারে অখণ্ড মনোযোগে ঢালতাম মাদার টিংচার। বাবা আড়চোখে পুত্রের কৃতবিদ্যায় দক্ষতা লক্ষ করতেন। রোগী যাওয়ার পর খুব নরোম স্বরে বলতেন, টিংচার একটু কম দিস বাবা। বিশ টাকার ভিজিটে তুই যে ত্রিশ টাকার ঔষধ দিয়ে দিলি ...
হোমিও হলের কল্যাণে বাসাটা প্রায় বাজার বনে গেল। সন্ধ্যার পর লোকজন এসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে। কোনো কাজ কর্ম নেই। এককথা বারবার বলে। বাবা হাসিমুখে মাথা নাড়ান। আমি বুঝি, বিরক্তিতে উনি ফেটে পড়ছেন। কিন্তু ধরা দিচ্ছেন না।
জ্বর কাঁশি আর গরম ফোঁড়া নিয়ে রোগীরা আসে। ঔষধের কার্যক্ষমতা নিয়ে আমর যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কতবার এক টিংচার দিতে আরেক টিংচার দিয়ে দিয়েছি। মাত্রারও ঠিক ঠিকানা নেই। এক ফোঁটার জায়গায় তিন ফোঁটা দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু রোগী দিব্যি ভালো হয়ে গেছে। ক’দিন পর রোগী হাসি মুখে ফিরে হাত দিয়ে গরম ফোঁটা শেষমেশ কতো বড়ো হয়েছিল তা দেখায়। বাবা বিদ্যা-গৌরবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন।
প্রথম প্রথম ভেতর থেকে চা আসত। বাবা দেখলেন এভাবে দানছত্র খুলে বসলে কদিন পর পথে নামতে হবে।
মা আমাদের সংসারে কোনো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন না। তবে অপরিহার্য ছিলেন প্রতি পদক্ষেপ। গুরুত্বপূর্ণ হতে হলে মাঝে মাঝে নিজের গুরুত্ব জাহির করতে হয়। অথবা অন্যের দ্বারা গুরুত্ব আরোপ করতে হয়। কিন্তু কোনোটাই ঘটেনি মায়ের বেলায়। মাথা ঘোরানো নিয়ে শয্যাগত হলেন। দু-তিনদিন বাবার হোমিওপ্যাথ খেয়ে চুপচাপ চলে গেলেন। বাবার খরচের হিসেব লম্বা করলেন না।
ব্যবসা বন্ধ হলো, কিন্তু বিদ্যচর্চা নয়। বাসায় আর এলোপ্যাথির সিরাপ বড়ি আসে না। রোগ যাই হোক, চিকিৎসা এক ফোঁটা মাদার টিংচার। টিংচারের ঝাঁজে অর্ধেক রোগ ভালো হয়ে যেত। অর্ধেকটা রয়ে যেত ভোগান্তির জন্য।
বাবা মাঝে মাঝে আফসোস করে বলতেন, বাবারা ভালো করে পড়, তোদের জন্য তো কিছু রেখে যেত পারলাম না... এই বিদ্যাই ভরসা...
আমরা বড়ো হলাম ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত জেনে। যে যার মতো রুটি রুজির ব্যবস্থা করে নিলাম। বাবাও চাকরি শেষে ভাইয়ের সরকারি বাসায় উঠলেন। সেখানে ঘাগট-রুই আসে। আমরা হৈচৈ করে খাই।
বাবা বারেন্দায় রোদ পোহাতে পোহাতে বিড়বিড় করে, ছোটো মিথ্যে বড়ো মিথ্যাকে গ্রাস করে ফেলে...
রাতারাতি আমাদের সংসারের চেহারা পাল্টে গেল। বড়ো ভাই কথা বলেন কম, কিন্তু যা বলেন সত্য বলেন। তার অভিধানে টানাপোড়েন নেই। নেই শূন্যতার হাহাকার। রাতদিন অফিসে ছোটেন। সরকারি গাড়ি ভর্তি বাজার আসে। উইকএন্ডে আমরা বেড়াতে যাই। মা নতুন শাড়ি পরে ভীষণ অস্বস্তি বোধ করেন। বাবা নতুন লুঙ্গি পরেন না মাড়ের যন্ত্রণায়। তিনি শুধু কাপড় জমান ওয়ারড্রপে।
কিন্তু বড়ো ছেলের জয়যাত্রা বেশিদিন দেখে যেতে পারলেন না মা। মা মারা যাওয়ার পর তার পূর্ণনামটা আমরা জানতে পারলাম। মিতার মা’র আড়ালে এক দীপ্তি রানি অধিকারীকে আমরা এতো কাল অধিকার করে রেখেছিলাম। এই অধিকারের এফিডেভিট বের করতে গিয়েই তাঁর দীপ্তি পাওয়া গেল। জানা গেল শহরতলীতে একলপ্ত ভূমি আছে তাঁর নামে। বাবা খেয়ে না-খেয়ে এ জায়গাটুকু কিনেছেন আমাদের ভবিষ্যৎ চিন্তায়।
বাবা উঠে পড়ে লাগলেন সেই শহরতলীতে ফিরে যেতে। একটা টিনশেডের ঘর তুলতে। সারাদিন বসে বসে ঘরের ডিজাইন আর ইট সিমেন্টের হিসেব করেন।
বড়োভাই কিছু বলেন না। উনি ব্যস্ত তার চাকরি নিয়ে।
কিন্তু একদিন সকালে বাবাকে বারেন্দায় বসে হিসাব করতে দেখা গেলো না। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বাবা ঘুম থেকে উঠেননি। বাবার খোঁজ নেয়ার কোনো মানুষ অবশ্য বাসায় তখন নেই। গিয়ে দেখি কাঁথার ভেতর কুঁকড়ে পড়ে আছেন তিনি। মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। প্রচণ্ড ব্যথা পেটে।
কয়েকদিন ডাক্তারখানায় দৌড়াদৌড়ি করে জানা গেলো বাবার কোলনে ক্যান্সার। এডভান্সড স্টেজ। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।
ভাই ভীষণ ব্যস্ত। আমি হাসপাতালের খোঁজে বের হই। একটা মাঝারি দরের ক্লিনিকের খোঁজও মেলে। কেমো দেওয়ানোর জন্য। তার পর অপারেশন। বাবা বেঁকে বসেন। মোটামোটা হোমিওপ্যাথের বইগুলো নিয়ে সারাদিন বসে থাকেন। তার নাকি এর চিকিৎসা জানা আছে।
কদিন পর দেখা গেলো তার রুম ভরে গেছে লাল লাল বোতলে। শামসুকে দিয়ে বোতলে পানি ভরান আর ঝাঁকান। ক্যান্সার নিরাময়ের ঔষধ প্রস্তুত হচ্ছে।
আমি ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার খেঁকিয়ে ওঠে, লোকটাকে কী ঘরে রেখে মারতে চান?
রাতের বেলা ব্যথা বেদনা তীব্র হলে হাসপাতালে যেতে রাজি হন। কিন্তু দিনের বেলায় বেঁকে বসেন। এক গাদা এ্যালোপ্যাথি ঔষধ খেয়ে শুরু করেন হোমিওপ্যাথের ওপর গবেষণা।
মন বলে, বাবা মৃত্যুর আগে শেষ মিথ্যে নাটকটা করে যাচ্ছেন...
*****
লেখক পরিচিতি: জয়দীপ দে কথাসাহিত্যিক ও গবেষক। ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮০ সালে চট্টগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পড়াশোনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ, পেশা অধ্যাপনা।
প্রকাশিত উপন্যাস: নিষুপ্ত, গহন পথে, উদয়ের পথে ও কাসিদ। গল্প সংকলন: হারকিউলিসের পাখা গবেষণা গ্রন্থ: একাত্তরের কার্টুন. অন্যচোখে একাত্তর, রেলকে ঘিরে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের আদিকথা।


1 মন্তব্যসমূহ
এমন গল্প এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলা যায়।পড়ে বিশ্বাস জন্মায় এতো আমাদের পরিবারের গল্প।লেখকের মুন্সিয়ানায় সর্বজনীন।পড়ে খুব আনন্দ পেলাম।
উত্তরমুছুনঅভিজিৎ জানা