সালমান রুশদি হলেন তেইশটি বইয়ের লেখক, যার মধ্যে রয়েছে Midnight’s Children, Victory City, এবং সর্বশেষ প্রকাশিত The Eleventh Hour. রুশদি ছিলেন গ্রান্টা পত্রিকার শুরুর দিককার প্রধান লেখকদের একজন, যখন পত্রিকাটি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছোট ঘর থেকে প্রকাশিত হতো।তিনি দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকাটির সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, এবং তিনি এর পাতায় গল্প, প্রতিবেদন, কবিতা, স্মৃতিকথা ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ লিখেছেন। এই বসন্তে (২০২৫) গ্রান্টা-র সম্পাদক ম্যানহাটনে রুশদির বাসায় গিয়েছিলেন। তাঁরা এক ঘণ্টা ধরে পত্রিকাটির সঙ্গে রুশদীর সম্পর্ক, ভারতীয় কথাসাহিত্যের গতিপথ এবং ভারতীয় রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সংঘাত নিয়ে কথা বলেছিলেন। তাদের আলাপের একটি অংশ সম্পাদক তাঁর ফোনে রেকর্ড করেছিলেন, এবং স্পষ্টতার স্বার্থে সামান্য সম্পাদনা করেছেন। সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন শাহনাজ রেজা।
সম্পাদক:
বিল বাফোর্ড, গ্রান্টা-র প্রথম সম্পাদক, একটি মজার গল্প বলেন : তিনি মিডনাইটস চিলড্রেন–এর প্রাথমিক গ্যালি সংস্করণ একটি ট্রেনে পড়ছিলেন এবং বইটির প্রেমে পড়ে যান—আপনাকে তখনও তিনি চিনতেন না বা কখনো দেখেননি। আর তারপর তিনি আপনার অনুমতি ছাড়া এই পত্রিকায় বইটির একটি অংশ ছাপিয়ে দেন।
সালমান রুশদি:
গ্রান্টা ৩–এ।
সম্পাদক:
হ্যাঁ, গ্রান্টা ৩–এ।
রুশদি:
আমি সেটা জানতে পারি একটি পার্টিতে। জনাথন কেপ প্রতি বছর বড়সড় এক লেখক-পার্টি দিত—বড়দিনের সময়—আর তখন সেটা আরও জমকালো হতো। কারণ তারা কোনো সাংবাদিককে ডাকত না, শুধু লেখকদের আমন্ত্রণ জানাত। মিডনাইটস চিলড্রেন তখনো প্রকাশিত হয়নি—এটা ডিসেম্বর ১৯৮০—কিন্তু হয়তো একটি গ্যালি ঘুরছিল। আমি ছিলাম নতুন লেখক, সেই কেপ পার্টিতে গিয়েছিলাম। চারপাশে ডরিস লেসিং, জন ফাউলস—যাকে ভাববেন তিনি আছেন। মার্টিন [এমিস] ছিল। ওকে ওখানেই প্রথম দেখি।
সম্পাদক:
আপনি ওখানেই এমিসের সঙ্গে প্রথম দেখা করেন?
রুশদি:
হ্যাঁ। তারপর বিল বাফোর্ড এলো, আমি তাকে কোনোদিন দেখিনি, আর সে বলল, ‘আমি তোমাকে কিছু দেখাতে চাই।’ সে আমাকে ভবনের সামনের দিকে নিয়ে গেল, যেখানে সে তার ব্রিফকেস রেখেছিল, এবং গ্রান্টা ৩–এর একটি কপি বের করল। সে বলল, ‘দেখো, এখানে মিডনাইটস চিলড্রেন–এর প্রথম অধ্যায়।’
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘ঠিক কীভাবে এটা এখানে এল?’ তারপর সে বলল যে সে টম ম্যাশলারকে—কেপের প্রকাশক—জিজ্ঞেস করেছিল, আর টম ম্যাশলার বলেছিল ‘ঠিক আছে’। কিন্তু কেউ আমাকে কিছু বলেনি।
সম্পাদক:
আপনি কোনো কাগজে সই করেননি?
রুশদি:
না। আমি বলেছিলাম, ‘দেখো, পেমেন্টের বিষয়ে তো প্রশ্ন উঠছে।’
সম্পাদক:
আমরা এখনই এখানে বসে সেই ঋণ শোধ করতে পারি।
রুশদি:
আমার মনে হয় তারা আমাকে পরে প্রায় ৪০ পাউন্ড দিয়েছিল।
সম্পাদক:
শুনে মনে হয় আপনি ব্যাপারটাকে খুব স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিলেন।
রুশদি:
আচ্ছা, যা হয়েছে তা হয়ে গেছে। মানে, গ্রান্টা ৩ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওখান থেকেই পত্রিকাটি তার নিজের ছন্দ পেতে শুরু করে। অ্যাঞ্জেলা কার্টার, রাসেল হবান—অনেক ভালো লেখক সেই সংখ্যায় ছিলেন। মহলটা ছিল অসাধারণ।
আমি মনে করি যখন মিডনাইটস চিলড্রেন প্রকাশিত হলো, গ্রান্টা তখনো ক্যামব্রিজে একটি আর্ট গ্যালারির উপরের ঘর থেকে বের হতো। বিল আমাকে সেখানে একবার পাঠ পড়তে ডাকল—এটা ছিল আমার জীবনের প্রথম বুক রিডিং।
বিল আর আমার মধ্যে সঙ্গে সঙ্গেই খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি হলো। যদিও আমি কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলাম। কারণ টম ম্যাশলার কখনো নিশ্চিত করেননি যে তিনি বিলকে অনুমতি দিয়েছিলেন, আর লিখিতেও কিছু ছিল না—যা থাকা উচিত ছিল—তবুও আমি ভাবলাম, আচ্ছা, ব্যাপারটা ভালোই হলো।
সম্পাদক:
বাফোর্ড বলেন যে তখন তিনি ছিলেন এক ধরনের ‘হাসলার’—লোকজনকে ধরে কাজ করিয়ে নেওয়া লোক। কিন্তু ছোট ম্যাগাজিন চালাতে কি ঠিক এমনই মানুষ দরকার হয় না?
রুশদি:
হ্যাঁ। যতই আমি তাকে চিনেছি...গ্রান্টা-১–এর জন্য সে আমেরিকার প্রতিটি জীবিত মহান লেখককে লিখেছিল, ‘আমি তোমার কাছ থেকে কিছু ভালো লেখা চাই।’ আশ্চর্যজনকভাবে, অনেকেই তাকে লেখা পাঠিয়েছিল।
সম্পাদক:
আপনার ১৯৮০–র দশকের লেখালেখিকে বিভিন্নভাবে দেখা যায়। কেউ বলবে, ‘তিনি বম্বাই থেকে উঠেছেন’—আর পেছনে থাকবেন সাদত হাসান মান্টো। আবার কেউ বলবে—ভালো শব্দ না পেয়ে বলছি—‘ওয়ার্ল্ড লিটারেচার’, অর্থাৎ ‘এটা যেন ভারতের মার্কেস।’ আরেকভাবে বলা যায়, আপনি তখন লন্ডনে একটি প্রজন্মের অংশ ছিলেন, যেখানে ইয়ান ম্যাকইউয়ান, মার্টিন এমিসের সঙ্গে আপনার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। এখন আপনি সেই প্রজন্মটিকে কীভাবে দেখেন?
রুশদি:
এই সব দৃষ্টিভঙ্গিই ঠিক। প্রজন্ম নিয়ে বললে—তখন সবাই আমাদের একটি “প্রজন্ম” বানানোর চেষ্টা করত।
সম্পাদক:
গ্রান্টা–ও, অন্ততপক্ষে।
রুশদি:
মার্টিন, ইয়ান, জুলিয়ান [বার্নস], ইশ [কাজুও ইশিগুরো], অ্যাঞ্জেলা। আমাদের মধ্যে কেউ খুব ভালো বন্ধু ছিল। কেউ কেউ একে অপরকে খুব চিনতও না। কেউ কেউ পরস্পরের লেখা পর্যন্ত পছন্দ করত না। আমরা প্রত্যেকে প্রজন্ম বলে ডাকাকে প্রতিহত করতাম। আর আমাদের কোনো “প্রকল্প” ছিল না—আমরা প্রত্যেকে একে অপরের থেকে খুব ভিন্ন ছিলাম।
সম্পাদক:
তবুও কিছু মিল ছিল। যেমন, আপনার ‘প্রজন্মে’ ইতিহাসের বড় বিষয়গুলো লেখায় টেনে রুশদি আনা হচ্ছিল—যা সবার লেখকই করেননি। আপনি ভারতের বিভাজন লিখছেন; ম্যাকইউয়ান জার্মানি আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে লিখছেন; এমিস বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নাৎসি–স্টালিন নিয়ে লেখায় গেলেন; ইশিগুরো তার উপন্যাসগুলোর পটভূমিতে এইসব ইতিহাস রাখেন।
রুশদি:
আমি এসেছি এমন একটি দেশ থেকে, যা তখনই জন্ম নিয়েছিল। সাম্রাজ্য–বিষয়টিও তখন খুব সামনে ছিল। এছাড়া আমার ইংল্যান্ডের পাবলিক স্কুল-জীবন ছিল খুব খারাপ, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়-জীবন ছিল খুব ভালো। তাই আমি ইংল্যান্ডকে কঠিন পথ দিয়ে শিখেছি।
সম্পাদক:
আপনি কি কখনো ইশিগুরোর সঙ্গে কথা বলেছেন যে আপনাদের দুজনেরই এক ধরনের ‘হিন্টারল্যান্ড’—পেছনের দেশ—আছে? সে খুব ছোটবেলায় জাপান ছেড়ে এসেছে, কিন্তু এখনো নানা ভাবে ফিরে যায় সেই দিকে।
রুশদি:
আমি তার হয়ে বলতে চাই না। আমার মনে হয় জাপান বিষয়টি এখন তার জন্য আগের মতো উপস্থিত নেই। তার সাম্প্রতিক বড় সাফল্যগুলো—যেমন Never Let Me Go—উৎসবিষয় থেকে অনেকটাই দূরে। আমি এখনো তেমনভাবে আলাদা হতে পারিনি। আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব এমন একটি প্রধান চরিত্র তৈরি করা যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নয়।
সম্পাদক:
৮০-র দশকে আপনার লেখায় মনে হয় আপনি আপনার হারানো ভারতের প্রতি এক ধরনের ভালোবাসা প্রকাশ করেছিলেন, অথবা নিজের মধ্যে সেটিকে পুনর্গঠন করছিলেন।
রুশদি:
যখন আমি মিডনাইটস চিলড্রেন লেখা শুরু করি—৭০–র দশকের মাঝামাঝি—তখন আমি ভারত থেকে অনেক দিন দূরে। এর মধ্যে আমার বাবা-মা—আমার জন্য বেশ হতাশাজনকভাবে—পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন, যেখানে যাওয়ার প্রতি আমার কোনো আকর্ষণ ছিল না। তাই আমি ভয় পাচ্ছিলাম—আমি হয়তো আমার শিকড় হারাচ্ছি। তাই আমি ঠিক করলাম, আমাকে এমন একটি বই লিখতে হবে যা সেই ভূখণ্ডটিকে আমি নিজের জন্য পুনরুদ্ধার করতে পারি। আমি সবসময় ভাবতাম মিডনাইটস চিলড্রেন হলো সেই বই, যা আমার জন্য সেই ভূগোল ফিরিয়ে আনল।
সম্পাদক:
আপনি Granta 11 (১৯৮৪)–এর জন্য রাজ এবং তার চিত্রায়ন নিয়ে একটি মজার লেখা লিখেছিলেন—আমার মনে হয় সেটি সেই বছর যখন পল স্কটের Raj Quartet (১৯৬৬–৭৫) টিভিতে দেখানো হয়েছিল। আপনার লেখাটি থেকে যে বিষয়টি বেরিয়ে আসে তা হলো—আপনি এক বিশাল শিল্পের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, যা ই. এম. ফস্টার থেকে স্কট, তারপর টিভি, তারপর পপ কালচারের দিকে ছড়িয়ে আছে। আপনাকে এমন এক বৃহৎ স্কেলের কিছুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছিল।
রুশদি:
যখন আমি মিডনাইটস চিলড্রেন শেষ করি, তখন আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে কেউ এটা প্রকাশ করতে চাইবে কি না। কারণ বইটি খুব লম্বা ছিল, অদ্ভুত ধরনের ইংরেজিতে লেখা ছিল, এতে প্রায় কোনো শ্বেতাঙ্গ চরিত্র ছিল না, এবং এটি ছিল না ভারতের ওপর ব্রিটিশ অভিজ্ঞতার গল্প—যেমন অন্য সব বই ছিল। অবশ্যই ছিল A Passage to India (১৯২৪), ছিল Heat and Dust (১৯৭৫)—সেরকম বই। এই বইটা লেখা ছিল এক বড়সড় ঝুঁকি—আর, আচ্ছা, মনে হয় সেই ঝুঁকি সফলই হয়েছিল।
সম্পাদক:
আমাদের প্রজন্মের অনেকেই ভুলে যায় যে মিডনাইটস চিলড্রেন ভারতীয় রাষ্ট্রের বিরোধিতায় পড়েছিল অনেক আগেই—আয়াতুল্লাহ খোমেনি The Satanic Verses–এর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করার (১৯৮৮) অনেক বছর আগে।
রুশদি:
ইন্দিরা গান্ধী আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। একটি বাক্য নিয়ে মামলা হয়েছিল, যেখানে আমি তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা বলেছিলাম। তিনি সেটা পছন্দ করেননি, কারণ আমি লিখেছিলাম যে সঞ্জয় তার বাবার অকাল মৃত্যুর জন্য তার মাকে দায়ী করতেন—কারণ তাদের বিচ্ছেদ। এটি ভারতে খুব পরিচিত গল্প; বহুবার প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তিনি সেটিকে ভিত্তি করে আমাকে মামলা করলেন। আর সমস্যা হলো—মামলাটি ছিল তিনজন মানুষকে নিয়ে—যার দুজন মৃত, আর তৃতীয় ব্যক্তি আমাকে মামলা করছে।
সম্পাদক:
শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা কীভাবে মিটল?
রুশদি:
তিনি খুন হলেন। আপনি মৃতকে মানহানির মামলায় তুলতে পারেন না। শেষ পর্যন্ত মামলাটি খুব আগ্রাসী ছিল না। তিনি শুধু চেয়েছিলেন যে আমরা ওই বাক্যটি সরিয়ে দিই। আগেই প্রকাশিত বই–সংস্করণ বাজার থেকে তোলার কথাও বলেননি। আমি বলেছিলাম, ‘যদি সত্যিই করতে হয়, করি—ওটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বাক্যও নয়—কেটে দেবো। কিন্তু বইটি পুনর্মুদ্রণ করতে হবে।’ কিন্তু তারপর তিনি নিহত হলেন। তো…
সম্পাদক:
একটি চূড়ান্ত সমাপ্তি। কিন্তু মামলাটি নিশ্চয়ই আপনাকে চাপের মধ্যে ফেলেছিল।
রুশদি:
আমি বলতে চাই—ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাকে মামলা করেছেন—এটা খুবই ভয়ানক ছিল। আমি আইনজীবীদের সঙ্গে অদ্ভুত সব আলোচনা করেছি। টম ম্যাশলার, আমি, আর আইনজীবীরা। আমি মনে করি আমি কেপ-এর নিয়োগ করা এক মহা ভারী আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘তো, আমাদের প্রতিরক্ষা কী?’ তিনি বললেন, ‘দেখুন, আপনাকে যদি মানহানিতে দোষী সাব্যস্ত হতে হয়, তাহলে যাকে আপনি বদনাম করছেন, সে হতে হবে ‘সৎ চরিত্রের’ মানুষ। তাই যদি আপনি আমাকে ব্যাখ্যা করতে পারেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সৎ চরিত্রের নন, তাহলেই আপনার প্রতিরক্ষা দাঁড়াবে।’ আর আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, তার মানে আমরা ইংরেজ আদালতে ইমার্জেন্সি–র বিচার করাতে পারি।’ টম ম্যাশলারের মুখ থেমে থেমে সাদা হয়ে যাচ্ছিল।
সম্পাদক:
ইমার্জেন্সির বিচার—এটা তো অভূতপূর্ব হতো।
রুশদি:
হ্যাঁ। যদিও সেটা হতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পথ। কেপ প্রকাশক অবশ্যই সে পথে যেতে চাইছিল না। কিন্তু আমি ভাবছিলাম—এটা দারুণ হতো—কারণ এতে এমন বিচারকেরা থাকতেন যাদের ইন্দিরা গান্ধী বাঁকাতে পারতেন না—আর তারা ইমার্জেন্সির নৃশংসতা পরীক্ষা করতেন।
সম্পাদক:
তবে এটিই আমাকে এমন এক প্রশ্নে নিয়ে যায়—আপনি যেন ভারতের ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে ‘বিরোধী শিবিরে’ ছিলেন।
রুশদি:
আমি সবসময় ভুল দিকে ছিলাম। রাজীব গান্ধীই The Satanic Verses প্রথম নিষিদ্ধ করেছিলেন।
সম্পাদক:
ফতোয়ার আগে।
রুশদি:
ফতোয়ার আগেই। কারণ তিনি কয়েকজন মুসলিম এমপি-র প্রতিবাদ পেয়েছিলেন। ‘ব্লক ভোট’ রাজনীতি। আর যখন Shame (১৯৮৩) বেরোয়, তা পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হয় জিয়া-উল-হকের কারণে। মানে, যদি আপনি এমন উপন্যাস লেখেন যা একজন পাকিস্তানি একনায়ককে বিদ্রূপ করে, আর সে সময় দেশে যদি একজন একনায়ক ক্ষমতায় থাকে...
সম্পাদক:
আপনি যখন ‘ভারতীয় লেখালেখি’—মিডনাইটস চিলড্রেন-এর আগে এবং পরে—দেখেন, তখন মনে হয় উপন্যাসটি যেন নিজস্ব একটি ধারা তৈরি করেছিল। এবং বহু ভারতীয় লেখক—হয়তো বেশি লেখক—তার রেশ ধরে ফেলেছিলেন, এবং সবই ইংরেজিতে। ১৯৯৭ সালে আপনি Mirrorwork নামে ভারতীয় লেখালেখির একটি সংকলনের ভূমিকা লিখেছিলেন। সেখানে আপনি বলেছিলেন, যা আজ আরও তীব্র শোনায়—ভারতের আঞ্চলিক ভাষাগুলোতে গল্প আছে, ভালো গল্পও আছে, কিন্তু সেগুলো মূলত প্রাদেশিক হয়ে থাকবে, এবং সত্যিকারের সাহিত্যিক আন্দোলন ঘটছে ইংরেজি ভাষায় ভারতীয় লেখালেখিতে। আমার মনে হয় আপনি শুধু একজন আঞ্চলিক লেখক রেখেছিলেন—মান্টো।
রুশদি:
আমি ভীষণ ঝামেলায় পড়েছিলাম।
সম্পাদক:
ধরুন আপনি ঠিকই বলেছিলেন। এখন আপনি মনে করেন এরপর কী হলো? কারণ এখন তো দৃশ্যপট একেবারে উল্টো। দিল্লি বা মুম্বাইয়ের প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বললে শোনা যায়—সবকিছুই এখন অনুবাদ নিয়ে। সবাই ‘অথেনটিসিটি’ খুঁজছে। পুরস্কার-কমিটিগুলো তার ওপর পুরোপুরি মুগ্ধ।
রুশদি:
আমার মনে হয় তিনটি ঘটনা ঘটেছে। প্রথমত, ভারতের প্রকাশনা-শিল্প এখন অনেক শক্তিশালী—আগের চেয়ে অনেক বড় পরিসরে।
দ্বিতীয়ত, এখন সত্যিই অনুবাদ শুরু হয়েছে। ভারতে সবসময় সমস্যা ছিল ভারতীয় ভাষাগুলোর মধ্যে অনুবাদে—আপনি যদি বাংলায় লিখেন, হিন্দির পাঠক পড়তে পারত না—রবীন্দ্রনাথও না। আগের অনুবাদগুলোও খুব ভালো ছিল না। এখন পরিস্থিতি অনেক উন্নত—মানুষ আর ভাষার অঞ্চলে আটকে নেই—ইংরেজির মতো ভাষা–সীমার বাইরে যেতে পারছে।
তৃতীয়ত, ইংরেজিতে লেখালেখি অনেক রকম হয়ে গেছে—এটা শুধু সাহিত্যিক উপন্যাস নয়—এখন আছে পাল্প ফিকশন, রোমান্টিক ফিকশন, ইরোটিক ফিকশন—এটা এখন অনেক বড় ক্ষেত্র, যা স্বাস্থ্যকর। এখন যারা নতুন লেখক হচ্ছে, তারা হয়তো সেই বাধা অনুভব করবে না যা আমি করেছিলাম—আমি ভাবতাম ভারতে শুরু করার মতো সাহিত্য–জগতই নেই। এখন আছে।
সম্পাদক:
তাহলে আপনি মনে করেন আজ কলকাতার একজন বাঙালি লেখক—ধরা যাক—গুজরাতিতে অনুবাদ হওয়ার বেশি সম্ভাবনা রয়েছে?
রুশদি:
এটাই এখনো সমস্যা—ভাষা–অঞ্চলের মধ্যে অনুবাদ। এবং ইংরেজি থেকে ভারতীয় ভাষায় অনুবাদও। তবে কাজ হচ্ছে। জানেন তো, আমার লেখাকে হিন্দিতে প্রকাশ হতে অনেক সময় লেগেছে। কিন্তু এখন, আমাকে মালয়ালম, হিন্দি, বাংলা, মারাঠি ইত্যাদি নানা ভাষায় প্রকাশ করা হয়। তাই এটি খুবই স্বাস্থ্যকর। আমি মনে করি মিডনাইটস চিলড্রেন এমন কিছু করেছিল যাকে আপনি বলতে পারেন—‘দরজা লাথিয়ে খুলে দেওয়া’। এটা ভারতীয় ইংরেজি–লেখকদের অনুভব করিয়েছিল যে তারা শোনা যেতে পারে, তাদের পশ্চিমাকে অনুকরণ করতে হবে না। তারা নিজেদের স্বর খুঁজে নিতে পারে।
সম্পাদক:
মানে, ইংরেজিতে লেখা হওয়ার পরও বইটি একের পর এক ‘দরজা খুলেছে’, যার ফলে আজ এমন অবস্থা—ভারতের আঞ্চলিক ভাষার একজন লেখকও আন্তর্জাতিক পাঠক পেতে পারে। আপনি আপনার ভূমিকায় বলেছিলেন—সিনেমার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। কারণ মাধ্যমটাই ভিন্ন। সত্যজিৎ রায়ের মতো একজন পরিচালক নিজের ভাষায়, নিজের শর্তে বিশাল ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে পেরেছিলেন।
রুশদি:
কিন্তু তাকেও ভারতে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছিল। বলিউডের মানুষরা তাকে পছন্দ করত না। ভারতের বহু তারকা তাকে অভিযুক্ত করেছিলেন—তিনি নাকি পশ্চিমা দর্শকদের জন্য ভারতের নেতিবাচক ছবি তৈরি করেন। ভারতের সবচেয়ে বড় তারকা নারগিস—যিনি Mother India (১৯৫৭)–র নায়িকা—তাকে আক্রমণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সে ভারতের ইতিবাচক অর্জনগুলো নিয়ে কেন সিনেমা বানায় না—যেমন বাঁধ নির্মাণ?’
সম্পাদক:
রায়ের বানানো একটি ড্যাম–নির্মাণ নিয়ে সিনেমা—আমি সেটা দেখতাম।
রুশদি:
যখন রায় জীবনে একবার হিন্দি বাজারে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন, তার The Chess Players (১৯৭৭) চলচ্চিত্রটি দিয়ে—যা হিন্দিতে তৈরি হয়েছিল এবং হিন্দি সিনেমার তারকাদের নিয়ে—তখন বোম্বের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তার বিতরণ আটকানোর জন্য খুব চেষ্টা করেছিল। এবং কিছুটা সফলতাও পেয়েছিল। যদিও ছবিটি তার দর্শকসংখ্যা বাড়ানোর জন্য বানানো হয়েছিল, প্রায়ই সেটিকে সেই দর্শকের কাছে পৌঁছাতে দেওয়া হচ্ছিল না।
সম্পাদক:
দেখা যায় যে মোদী যুগে বহু আঞ্চলিক ভাষা এক অদ্ভুতভাবে লাভবান হয়েছে। কারণ দিল্লি যত হিন্দিকে এগিয়ে দিতে চেয়েছে, অন্য রাজ্যগুলোর স্থানীয় ভাষা তত বেশি প্রতিরোধ তৈরি করেছে।
রুশদি:
আর এসবই এই ভাষাগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও মনোযোগ পেতে সাহায্য করছে, জানেন তো। ইন্টারন্যাশনাল বুকার পুরস্কার সম্প্রতি দুইটি ভারতীয় বইকে দেওয়া হয়েছে যা মূলত ইংরেজিতে লেখা ছিল না—গীতাঞ্জলি শ্রী-এর Tomb of Sand (হিন্দি থেকে ইংরেজি অনুবাদ: ডেইজি রকওয়েল, ২০২১) এবং বানু মুশতাকের Heart Lamp (কন্নড় থেকে ইংরেজি অনুবাদ: দীপা ভাসথি, ২০২৫)। ১৯৮০–র দশকের শুরুতে এই ধরনের ঘটনা কখনো সম্ভব ছিল না।
সম্পাদক:
আপনি এবং নাইপল—দুজনই ভারতীয় অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যাতা, ফিকশন এবং নন-ফিকশনে। কিন্তু ঐতিহাসিক ব্যাখ্যায় আপনারা একেবারেই দুই প্রান্তে।
রুশদি:
যখন আমি Victory City (২০২৩) লিখছিলাম, তখন আমি যে বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে লিখছিলাম তার মধ্যে একটি ছিল নাইপলের নির্মিত বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ছবি; যেখানে সে মূলত ব্যবহার করছে—‘মুসলমান, খারাপ; হিন্দু, ভালো’। বিজয়নগর মুসলিম বাহিনীর হাতে ধ্বংস হওয়া যেন আহত সভ্যতার রূপক। অথচ আপনি যদি সেই সময়কার প্রকৃত ইতিহাস দেখেন, তা মোটেও সেরকম নয়। আসলে মুসলিম সুলতানি শাসন এবং বিজয়নগর সাম্রাজ্য একে অপরের ভেতরে অনেক বেশি মিশে ছিল। তারা পরস্পরের সঙ্গে বিয়ে করত। বিজয়নগর বাহিনীতে মুসলিম সেনাপতি ছিল। গলকোন্ডার বাহিনীতে হিন্দু সেনাপতি ছিল। বিষয়টি ধর্মের নয়—ক্ষমতা, আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক আধিপত্যের।
হিন্দুত্ববাদীরাও এখন বিজয়নগরকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করছে। আর আমি ভাবলাম, এটা ভাঙা দরকার।
সবাই এখন ভারতের ইতিহাস নতুনভাবে লেখার চেষ্টা করছে। এবং প্রায়ই তারা ইতিহাস এমনভাবে লিখতে চায় যাতে মুসলমানদের অবদান ছোট হয়ে যায় এবং অ–মুসলিম অবদান বড় হয়। নাইপল সম্পর্কে অদ্ভুত বিষয় ছিল—সে যখন প্রথম ভারত যেতে শুরু করল, তখন ভারত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অনেক ভালো অবস্থায় ছিল—তখন সে দেশটাকে একদমই পছন্দ করত না। আর দেশ যত বেশি হিন্দুত্বময় হলো, ততই সে সেটাকে গ্রহণ করল।
সম্পাদক:
তার India: A Million Mutinies Now (১৯৯০) বইতে মনে হয় যেন সে ত্রিনিদাদের শিশু–কালের হিন্দু ধর্মের সঙ্গে আবার সংযোগ ফিরে পাচ্ছে—একটি প্রোটেস্ট্যান্ট ধারা–ধর্মীয়, কঠোর, মৌলবাদী রূপ, যা সেই অঞ্চলে তখনো বিদ্যমান ছিল।
রুশদি:
ভিডিয়া আর আমার মধ্যে তেমন কোনো মিল ছিল না। আমরা একে অপরকে খুব ভালোও চিনতাম না। হয়তো ছয়বারের মতো দেখা হয়েছে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার—আমি তার সঙ্গে প্রায় সব রাজনৈতিক বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতাম, কিন্তু আমি তাকে পড়তে ভালোবাসি।
অবাক হওয়ার মতো নয়—আমি A House for Mr. Biswas (১৯৬১)–কেই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার লেখায় মানবিক উষ্ণতা কমে গিয়েছিল। A Bend in the River (১৯৭৯) একটি অসাধারণ উপন্যাস, কিন্তু এর মনোভাব খুব শীতল। ভারতের ওপর তার নন–ফিকশন বইগুলো আমি পছন্দ করি না। আসলে An Area of Darkness (১৯৬৪)–কে আমি অন্য দুইটির চেয়ে বেশি পছন্দ করি, কারণ সেটি বেশি সত্যনিষ্ঠ মনে হয়। একজন বিদেশফেরত মানুষ বুঝতে পারছে যে তার মহিমান্বিত মাতৃভূমি আসলে ততটা মহিমান্বিত নয়—এটা আমি যথেষ্ট সৎ বই বলে মনে করি। যাই হোক, আমি মনে করি না ভিডিয়া কখনো গ্রান্টায় লিখেছিল। তাই তো?
সম্পাদক:
ইয়ান জ্যাক তার কিছু বোম্বে–নোটবই গ্রান্টা ৫৭–তে ছাপিয়েছিলেন। নাইপল Paris Review–এ একটি ছোটগল্প ছাপিয়েছিলেন, আর New York Review of Books–এ অনেক লিখেছিলেন। তিনি তখনকার সহ–সম্পাদক রবার্ট সিলভার্সের খুব কাছে ছিলেন—যিনি তাকে রেগান যুগের আগুনের মাঝখানে পাঠিয়েছিলেন ১৯৮৪ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশন নিয়ে একটি লেখা লিখতে, যার নাম ছিল ‘Among the Republicans.’ নাইপল নিউইয়র্ক-এর বুদ্ধিজীবী মহলের প্রতি খুব আকৃষ্ট ছিলেন—যেমন আমার পুরোনো প্রতিবেশী এলিজাবেথ হার্ডউইক—
রুশদি:
আর বিশাল এলিটিজম।
সম্পাদক:
এবং তিনি নরম্যান মেইলারকে মজার মানুষ মনে করতেন।
রুশদি:
বলুন তো, আমাকে New York Review of Books–এ কয়বার ছাপা হয়েছে?
সম্পাদক:
একবারও নয়? সত্যি?
রুশদি:
বব সিলভার্সের তার ‘ইন্ডিয়ান’ ছিল। আমার তরুণ বয়সে, এমন সময় ছিল যখন আমরা আমার লেখা পাঠাতাম New York Review–এ, আর সেটা এত দ্রুত ফেরত আসত যে বোঝা যেত খামটাই খোলেনি। তারপর আমরা পাঠানোই বন্ধ করে দিলাম।
সম্পাদক:
আপনার গ্রান্টা–ধাঁচের প্রতিবেদনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো The Jaguar Smile (১৯৮৭) বইটি।
রুশদী:
হ্যাঁ, সেটা ১৯৮৬–র সময়। আমি তখন The Satanic Verses লিখছিলাম এবং বেশ আটকে গিয়েছিলাম। বইটির কিছু সমস্যা ছিল—কীভাবে এগোব বুঝতে পারছিলাম না। তখন আমি আমন্ত্রণ পেলাম [সান্দিনিস্তাদের সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকে] আমাকে মানাগুয়া যেতে বলল। আমি ভাবলাম—আমাকে আমার নিজের মাথা থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তব সমস্যার মধ্যে থাকা মানুষদের দেখতে হবে। তাই বইটি এসে পড়ল। আমাকে সেটি লিখতেই হলো, তারপর আবার The Satanic Verses–এ ফিরতে হলো। এটা আমার একমাত্র বড় মাপের সাংবাদিকতা।
সম্পাদক :
আপনাকে নিশ্চয়ই খুব দ্রুত লিখতে হয়েছিল।
রুশদি:
খুব দ্রুত, খুব দ্রুত। কারণ আমি ভাবলাম—যুদ্ধ চলছে। যদি কিছু লিখতে হয়, এখনই লিখতে হবে। আর সত্যি বলতে, সনি মেহতা, আমার নপফ–এর সম্পাদক, দারুণ সমর্থন দিয়েছিলেন—বললেন, ‘ঠিক আছে, আমরা এটা এখনই ছাপব।’ আমি নিকারাগুয়া থেকে ফেরার কয়েক মাস পরই বইটি বেরিয়ে গেল। আর তার কিছু অংশ গ্রান্টাতেও ছাপা হয়েছিল—যেমন সেই ‘ভালোবাসার ডিম খাওয়া’ অধ্যায়টি।
সম্পাদক:
এই গ্রান্টার ভারত–সংখ্যার জন্য আমি ৮০–৯০–এর দশকের ভারতীয় সাহিত্য পড়ছিলাম। বিক্রম সেঠকে পড়তে গিয়ে মনে হলো তিনি যেন আপনাকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখছেন—অথবা আপনার বিপরীতে দাঁড়িয়েই লিখছেন। A Suitable Boy (১৯৯৩) যেন বলে—‘চলো বিপরীত দিকে যাই, সম্পূর্ণ বাস্তবতার ওপর পা-চাপা দিয়ে।’ বইটি উত্তর ভারতের মধ্যবিত্ত এক বিরক্তিকর, প্রাদেশিক জীবনের ধৈর্যশীল, ভালোবাসাভরা, অত্যন্ত বিশদ চিত্র।
রুশদি:
হ্যাঁ, এটা একেবারেই বিপরীত দিক, এবং সম্ভবত ভালোই হয়েছিল।
সম্পাদক:
সেঠের The Golden Gate (১৯৮৬) সময়ের সঙ্গে আরও ভালো লাগে। এটা এক অদ্ভুত, মোহনীয় উপহার।
রুশদি:
সে তো ইউজিন ওয়ানেগিন-এর ছন্দ ব্যবহার করেছিল।
সম্পাদক:
হ্যাঁ, বন্য আর সুন্দর।
রুশদি:
আমি বহুদিন এটা দেখি না, কিন্তু মনে পড়ে আমি খুব পছন্দ করতাম। আর আমি তার লাদাখ–বিষয়ক বইটিও পছন্দ করি—From Heaven Lake (১৯৮৩)। আর এখন তো জানেনই—আজ যেকোনো সময় যুদ্ধ হয়ে যেতে পারে।
সম্পাদক:
হ্যাঁ, আবার ট্রিগারে আঙুল রাখা হয়েছে।
রুশদি:
কয়েকদিন আগেই পাহালগামে একটি জঙ্গি হামলা হয়েছে কাশ্মীরের এক সুন্দর পাহাড়ি গ্রাম। আমার শৈশবে আমরা ছুটি কাটাতে কাশ্মীরে যেতাম—আমার জীবনের অনেকটা ওখানে কেটেছে। পাহালগামের ঠিক বাইরে এক পাহাড়ি তৃণভূমি আছে—এক অবিশ্বাস্য সুন্দর, উঁচু মাঠ যার নাম বৈসারান। ওই পর্যটকেরা ওখানেই ছিল, সেখানেই জিহাদিরা এসে তাদের হত্যা করেছে। আমি ছোটবেলায় সেই মাঠে খেলতাম—এখন সেটা এমন জায়গা যেখানে মানুষ খুন হয়।
সম্পাদক:
আপনি কবে শেষবার কাশ্মীরে গিয়েছিলেন?
রুশদি:
খুব বহুদিন আগে। সম্ভবত ১৯৮০–র কোনো সময়ে। এখন দুর্ভাগ্যবশত ইসলামবাদী উগ্রতা এবং এসব কারণে আমার যাওয়াটা ঠিক হবে না।
সম্পাদক:
তাহলে তো আপনাকে বডিগার্ড নিয়ে যেতে হবে?
রুশদি:
ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে যেভাবে আচরণ করে, আমি সেটাও চাই না। কিন্তু আমি যদি ওটা না চাই, তাহলে অন্যরাও খারাপ আচরণ করবে। আমার পরিবার তো কাশ্মীরি—এটা আমার জন্য গভীর ক্ষতি।


0 মন্তব্যসমূহ