(উৎসর্গ : রাহুল পুরকায়স্থ)
বিচ্ছেদে মন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে, যদি-না তা পূর্বপরিকল্পিত হয়।
অনীক চুপ করে বসেছিল ঘাসের উপর, সামনে নতমুখ চরাচর—ঈশানী। পার্কের এককোণে লেকের জল স্থির, অনুকম্পাহীন। বেশ অনেকটা সময় কেটে গিয়েছিল এভাবেই; অন্তত তেমনটাই মনে হয়েছিল অনীকের। চায়ের দোকানে বসে, খোশ আড্ডা হঠাৎ থামিয়ে থিয়োরি অফ্ রিলেটিভিটি বোঝাতে গিয়ে একদা ওদের পাড়ার বুজু—কারণে-অকারণে বিদ্যে ফলানো যার মজ্জাগত, প্রিটোরিয়া স্ট্রিটের থিয়েটারে ঈশানীর সঙ্গে নাটক দেখে আসার পর থেকে আড়ালে-আবডালে যাকে ‘জ্ঞানমঞ্চ’ বলে থাকে অনীক—হাতের ভাঁড়টা ডাস্টবিনে ছুড়ে দিয়ে বলেছিল : ‘তুমি তোমার প্রেমিকার হাত ধরে কোনও একটা নির্জন রাস্তা ধরে হেঁটে যাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দু-ঘণ্টা কেটে যাবে কোথা দিয়ে, বুঝতে পারবে না। মনে হবে, এই তো সবে হাঁটতে শুরু করলাম।’ জ্ঞান দেওয়ার সময় উলটোদিকে যে-ই বসে থাকুক না-কেন, ‘তুমি’ সম্বোধনে চলে যায় বুজু। বোধহয় ভাবে, ওতে খানিক গ্রাম্ভারি ভাব আসে। ‘ঠিক তেমনই তোমাকে যদি আগুনে তাতানো একটা টকটকে লোহার শিকের উপর মোটে দু-সেকেন্ডও বসিয়ে রাখা হয়, তোমার মনে হবে যেন দু-যুগ! সময়ই কাটছে না। আইনস্টাইন সাহেব এটাকেই বলছেন আপেক্ষিকতাবাদ। দেখলি, কেমন সহজ করে বুঝিয়ে দিলাম!’
অনীকের মনে হচ্ছিল, সময় কাটছে না মোটে, বন্ধ হয়ে থেমে গেছে হাতঘড়ির স্বাভাবিক চলন। ঈশানী চলে যাচ্ছে তাকে ছেড়ে, বরাবরের জন্য ছেড়ে যাচ্ছে, মরে গেলে যেমন চলে যায় মানুষ। এত বছরের একটা সম্পর্ক, শেষ সুতোটুকুও ছিঁড়ে যাচ্ছে—এমন পরিস্থিতিতে অথচ কাঁদতে পারছে না সে, চোখে জলের বিন্দুমাত্র আভাস অবধি নেই। একটা বেয়াড়া মাছি উড়ে বেড়াচ্ছে ঈশানীর মুখের কাছে, মাথার চারপাশে; আড়চোখে দেখেছিল সে।
সময় কাটছে না একদম। ঈশানীর উপস্থিতি ক্রমে বিরক্তিকর হয়ে উঠছে তার কাছে, বুজুর আস্ফালন সরে যাচ্ছে, মনে পড়ছে শৈশবের পারিবারিক ভ্রমণ : দার্জিলিং। মিরিক যাওয়ার পথে জিপের পিছনে বাবার সঙ্গে অনীক আর ওর জ্যাঠতুতো বোন। বোন জিজ্ঞেস করছে : ‘কাকু, মিরিক আর কত দূর?’ অনীক, বছর সাতেকের তখন, তাকেও যেহেতু কিছু একটা বলতেই হবে, ফলত স্কুলের বই থেকে প্রশ্ন তুলে আনে : ‘বাবা, স্বাস্থ্য কাকে বলে?’
ক্লাস টু। ‘প্রকৃতি পরিচয়’। ঘটনাটা মনে পড়ামাত্র বইটার ছবি উঁকি দিয়ে যায় অনীকের স্মৃতিতে।
‘মাছি জীবাণুর বাহক। কোনও খাদ্যদ্রব্যের উপর মাছি বসলে সেটা খাওয়া অনুচিত। কোনও সজীব বস্তুর উপর মাছি বসলে সেখানে পচন ধরেছে বলে বোঝা যায়।’
প্রাইমারি স্কুলের সময়কালীন পাঠ—‘পচে যাওয়া বস্তুর উপর মাছি ভনভন করে’—একটা সময় পর্যন্ত তাকে বুঝিয়েছিল, মাছি বুঝি শুধু নোংরা জায়গাতেই ঘুরঘুর করে। তখনও সে জানত না যে, মাছিদের ঘোরাফেরা একধরনের অদৃশ্য সতর্কতা, অনিবার্য দুঃদ্বপ্নের আগাম আভাস।
অনেকক্ষণের নীরবতা ভেঙে ফের কথা শুরু করে ঈশানী : ‘তুই তো আর কিছু করলি না। সেই এক রোজের ঘষটানি। সারা দিনের পর ফিরিস ক্লান্ত হয়ে, অথচ কাজের কাজ কিছুই হয় না। তোর লাইফে কোনও অ্যাম্বিশন, কোনও স্বপ্নই নেই।’
উত্তরে দু-চার কথা—চাকরির বাজার, বেকারত্ব, সরকারি অথচ কন্ট্র্যাক্চ্যুয়াল জব, ততোধিক দুর্নীতি ইত্যাদি নিয়ে—বলতেই পারত অনীক, কিন্তু কিছু না-বলে সে শুধু দেখছিল, মাছিটা বারবার এসে বসতে চাইছে ঈশানীর শরীরে। তাকে যত তাড়ানোর চেষ্টা করছে ঈশানী, ততই যেন বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে মাছিটা। অনীক বোঝে, যে-কোনও বিচ্ছেদই আসলে পচনজনিত।
দুই.
ইদানীং সেল্স্ লাইনে কোনওরকমে মাথা গলিয়েছে অনীক, সম্পূর্ণ শরীর নিয়ে সেঁধোতে এখনও বিস্তর দেরি। কলেজ স্ট্রিটে হেডঅফিস। টেক্সট বুক পাবলিশিং হাউজ। টেক্সট বইয়ের পাশাপাশি সিলেবাসভিত্তিক রেফারেন্স বইয়ে ঠাসা ক্যাটালগ। সিলেবাস বদলাতে-না-বদলাতেই তার মানেবই বাজারে চলে আসে। কাঁধের ঝোলা আর পিঠের ব্যাগে বই ভরে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে সেইসব বইয়ের স্পেসিমেন কপি দিয়ে আসতে হয় ওকে। বাজার ধরার জন্য কখনও-সখনও খেজুরে আলাপও চালাতে হয় এমনকি; সেটা অবশ্য লোক বুঝে। মাস খানেক আগেই যেমন মথুরাপুরের একটা স্কুলে গিয়েছিল ও, অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডস্যারের সঙ্গে এ-কথা সে-কথা বলতে-বলতে হঠাৎ ভদ্রলোক বলে বসলেন : ‘আপনার তো রেগুলারই কলেজ স্ট্রিট যাওয়া পড়ে, তাই না?’
অনীকের হাতে তখন ঈষৎ হলুদ মলাটের একটা পেপারব্যাক। ক্লাস নাইন-টেনের বাংলা আর ইংরেজির বই দুটো, আরও-পাঁচটা নোটবই আর নেটবই ঘেঁটে লেখা মানেবই, নতুন সিলেবাস অনুযায়ী, নতুন মলাট, সদ্যপ্রকাশিত; পত্রপাঠ তাকেও বেরিয়ে পড়তে হয়েছে। আপাতত স্কুলে-স্কুলে ঘোরা ক-দিন, কলেজমুখো হওয়ার দরকার নেই এখন। অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডস্যারের চাউনি বইয়ের উপর স্থির। ওঁর ভাসিয়ে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর এক্ষেত্রে আর কিছুই হতে পারে না : মুখভঙ্গি আর হাসি দিয়ে সম্মতি জানিয়েছিল অনীক।
‘আসলে কী বলুন তো, বয়স যত বাড়ছে, মায়ের কোমরের ব্যথাটা তত বাড়ছে। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি, জানেন, কাজের কাজ কিস্যু হল না। শেষপর্যন্ত, এই তো গত সপ্তাহে আর-কি, একে-তাকে ধরে এসএসকেএমের একজন সিনিয়র অর্থোপেডিককে দেখালাম। তা রিপোর্ট-টিপোর্ট সব দেখে উনি কয়েকটা ব্যায়াম দেখিয়ে দিয়েছেন আর বলেছেন, এবার থেকে কোমরে একটা বেল্ট পরতে। এই বয়সে মায়ের একটা নতুন গয়না হল, আর-কি!’ এইসব পরিস্থিতিতে মুখে একচিলতে হাসি ঝুলিয়ে রাখে অনীক, পাশাপাশি নীরবতার গুরুত্ব মাথায় রাখে, মুখে রা কাড়ে না মোটে। ‘আলাদা করে মাপ-টাপ আর দিতে পারবে না মা। বারবার ওই অশক্ত শরীরে এদিক-ওদিক করার ধকল সইবে না। আপনি যদি কোমরের একটা বেল্ট নিয়ে আসেন নেক্সট দিন, তাহলে বড়ো উপকার হয় আমার।’
কোমরের ওই বেল্টটা অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডস্যার ভদ্রলোকটিকে দেওয়া ছাড়া পরের সপ্তাহে মথুরাপুরে আসার আর কোনও কারণ ছিল না অনীকের, তবু এসেছিল সে; বলাই বাহুল্য, আসতে একপ্রকার বাধ্যই হয়েছিল। পুরস্কারস্বরূপ স্কুলের লাইব্রেরির জন্য দু-ধরনের বইয়েরই অর্ডার-লেটার হাতে পেয়ে গিয়েছিল দিনের দিন। দুপুরের দিকে অফিসে গিয়ে সেটা জমা দিয়েছিল ও; বাড়ি ফিরবে বলে বেরিয়ে পড়েছিল তারপর।
ইউনিভার্সিটির সামনে, ট্রামলাইনের উপরে কলকাতা পুলিশের গার্ডরেলের সার। পুলিশে-পুলিশে ছয়লাপ গোটা চত্বর। একে-তাকে জিজ্ঞেস করে অনীক জেনে ফেলে, শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতি নিয়ে ছাত্রদের মিছিল শুরু হবে—কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা। স্লোগানে-স্লোগানে সরগরম হয়ে আছে কলেজ স্ট্রিট। সময় নষ্ট না-করে ইউনিভার্সিটি আর মেডিক্যাল কলেজের মাঝের রাস্তা, কলুটোলা, দিয়ে সিধে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউর দিকে হাঁটতে শুরু করে সে; ট্রপিকালের সামনে থেকে বাস ধরে নেবে বরং—ওদিকে তেমন যানজট হওয়ার কথা নয়।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেল্স্ কাউন্টার পেরিয়ে পোস্টঅফিসের দিকে যাচ্ছিল অনীক, বাড়ি ফেরার খুব-একটা তাড়া ছিল না যেহেতু, তুলনায় ধীরেই হাঁটছিল। স্টেট ব্যাঙ্কের এটিএমের ঠিক আগে ওর নজর পড়ে ফুটপাথে সাজিয়ে-রাখা অগুনতি পুরোনো বইয়ের মধ্যে বিশেষ একটার দিকে। বইটার প্রচ্ছদে চোখ আটকাতেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে সে। ‘মাছি’। জঁ-পল সার্ত্র। ম্যাড়ম্যাড়ে কালো এবং তদ্রূপ ইটরঙা প্রচ্ছদের উপর, আকারে বেশ বড়োসড়ো, আউটলাইনসমৃদ্ধ মাছি বসে আছে একটা; বসে আছে ঠিক নয়, সেঁটে আছে। মুখমণ্ডলে ভরপুর বিরক্তি ফুটে ওঠে অনীকের। দোকানির কাছে জানতে চায় সে, এমন ক-টা মাছি আছে তার সংগ্রহে; ফুটপাথের বইটা বাদে আরও-একটা কপি আছে শুনে দরদাম শুরু করে, শেষমেশ ষাট টাকার বিনিময়ে মাছি দুটোকে কিনে পুনরায় এগিয়ে যায় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউর দিকে। বিপুলাকৃতি দুটো মাছি, প্ল্যাস্টিকের প্যাকেটে মোড়া, সেঁধিয়ে থাকে ওর কাঁধের ঝোলার ভিতর।
বাসরাস্তার দিকে হাঁটতে-হাঁটতে ভাবে অনীক, বাড়ি ফিরে সবার আগে মাছি দুটোর সদ্গতি করতে হবে। নতুন করে যে-রাসায়নিক তৈরি করেছে সে, সকলের অলক্ষ্যে, প্রথমে ওটা দিয়ে দেখবে; কাজ হলে কেল্লাফতে, পরীক্ষা সফল, আর না-হলে তো আগুন আছেই—হাতের পাঁচ—মুশকিল আসান।
তিন.
বাবা মারা যাওয়ার পর প্রথম-প্রথম বাড়ি থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকবার চেষ্টা করত অনীক। চেষ্টা করত যত কম সময় বাড়িতে থাকতে হয়; কেন-না জনমানবহীন তিন কামরার ওই বাড়ি, বাইরের দেয়াল রংহীন, জংধরা গ্রিলের গেট, লজঝরে তালা, নাগাড়ে টপ-টপ করে জল পড়ে চলা বাথরুমের বেয়াড়া কল—সব যেন গিলে খেতে আসত তাকে। অনেক রাত করে, আশেপাশের কমদামি কোনও ঝুপড়ি হোটেল থেকে রাতের খাওয়া সেরে, পাড়ায় যখন ফিরে আসত সে, লাইটপোস্টের আলো জ্বলত না অধিকাংশ দিনই, জ্বললেও দপদপ করত, গলি জুড়ে সংঘবদ্ধ কুকুরদের চিৎকার, পাড়ার একদম শেষের বাড়িটা ঘিরে তখন ভয়ের বাতাবরণ তৈরি হত তার মনে। অন্তরে ভীত-সন্ত্রস্ত অনীক, ফলত পা বুঝি-বা আটকে যেত ইটরাস্তায়, এগোতে চাইত না।
শীতের এক রাতে, মাথার উপর পূর্ণ চাঁদ, ঠিক এভাবেই নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়ানো অনীকের মনে হয়েছিল, একপাল মাছি, পঙ্গপালের ধাঁচায় দলবদ্ধ, ঘিরে রেখেছে বাড়িটাকে। সেই মুহূর্তে ওর পাশে যদি কেউ থাকত, অবধারিত দেখত, কুয়াশা।
জীবন থেকে ঈশানীর চলে যাওয়ার পর, যখন থেকে তার মস্তিষ্কে প্রবল হয়ে উঠতে থাকে মাছির প্রাদুর্ভাব, সে বুঝতে পারে ক্রমে : মাছির উপস্থিতি মাত্রেই পচনের অস্তিত্বের প্রতি ইঙ্গিত। তার পর থেকেই এক মাছিমুক্ত চারপাশের স্বপ্ন, নিজের বহুবিধ অক্ষমতা সত্ত্বেও, খেলা করতে থাকে ওর দৈনন্দিনে। বাবা বেঁচে তখনও, ফলত তেমন কিছু করে উঠতে পারত না; যদিও মাছি প্রতিরোধের জুতসই উপায়ের অনুসন্ধান চালিয়ে যেত তলে-তলে।
বাবা মারা যাওয়ার পর সবার প্রথম যে-কাজটা করে অনীক, তা ছিল : বাড়িটাকে যথাসম্ভব নিরাপত্তায় মুড়ে দেওয়া। বাজারে নতুন যে-দোকানটা হয়েছে, মাস ছয়েক হবে, হার্ডওয়্যারের, সেখানকার মালিকের থেকে নামধাম জোগাড় করে যোগাযোগ করেছিল মিস্ত্রির সঙ্গে। তারপর ওর নির্দেশমতো প্রতিটা জানলার মাপে-মাপে ফাইবারগ্লাসের জালি লাগিয়ে দেওয়া হয়। জানলায় জালি লেগে যাওয়ার পর থেকে বাড়ির বিষয়ে ভয়টা ধীরে-ধীরে কমে আসে অনীকের। যদিও এতসব কিছুর মধ্যেও মাছি দূরীকরণের চিন্তা তার মাথা থেকে সরে না। মায়ের ব্যবহৃত বহু পুরোনো দু-তিনটে শিশি ছিল, আতরের—সব সে খালি করে দেয় কাচের একটা বড়ো বোতলে। তারপর থেকে যখন যা পায়—কাপড় কাচার তরল সাবান, বাসন মাজার লিক্যুইড, ফিনাইল, ডেটল, হারপিক, লিকার চায়ের তলানি, আফটার-শেভ, মায় নিজের থুতু পর্যন্ত—মেশাতে থাকে ওই বোতলে। রোজ বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় বোতলের মুখ খুলে রেখে যায়, যাতে ঘরে মাছি ঢুকলে, গন্ধে-গন্ধে এসে পড়ে ওই মিশ্রণের কাছে। রাতে ঘরে ফিরে, হাত-পা ধুয়ে সাফসুতরো হওয়ার আগেই, চলে আসে বোতলের সামনে; ভালো করে পরখ করে দেখে, মাছির কোনও নাম-ও-নিশান না-পেয়ে বোঝে, এখনও ঠিকমতো বানাতে পারেনি প্রতিষেধক। সে-কারণে পরদিন আবারও নতুন কোনও তরলের সন্ধান পেলে, নিয়ে এসে ঢেলে দেয় ওই বোতলে। অথচ মাছির প্রবেশের ক্ষেত্রে জালের যে-অন্তরায় সে সেঁটে রেখেছে জানলায়, চা-পাতা ছাড়া ঘরে যে আর কোনও খাবার নেই বহুদিন, সেসব মাথায় আসে না।
মিশ্রণের পরিমাণ বেড়ে চলে, বদলে-বদলে যায় তার বর্ণ ও গন্ধ, মাছি মরে না অথচ।
সেদিন নাকে-মুখে গামছা বেঁধে, কলুটোলা থেকে কিনে-আনা দুটো বইয়ের উপর নিজের বানানো মিশ্রণ—রাসায়নিক—ঢেলে দেখেছিল অনীক, মাছি দুটো অবিকল একই থেকে গেছে, যেমন-কে-তেমন; ওদের শরীরে মৃত্যুকালীন যন্ত্রণার সামান্য লক্ষণও ধরা পড়েনি। পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে সে বুঝেছে, সাফল্যে পৌঁছাতে এখনও অনেক পথ পেরোতে হবে তাকে।
চার.
পাবলিশিং হাউজ থেকে বেশ কয়েকটা নতুন বই ধরানো হয়েছে ওদের। সিলেবাস যত বদলায়, টেক্সট বুক পাবলিশার্সদের তত লাভ। ভৌতবিজ্ঞান, জীবনবিজ্ঞান, ইতিহাস আর ভূগোলের বইগুলোর স্পেসিমেন পৌঁছে দিতে হবে স্কুলগুলোয়। সেইমতো শিয়ালদহ সাউথ সেকশন থেকে একটা সোনারপুর লোকালে চড়ে বসেছিল অনীক। নতুন বই হাতে পেলে প্রথম দিনই খুব দূরের কোনও স্কুলে যায় না ও। আজও তেমনই একটা দিন : যাদবপুরের স্কুলগুলোয় ঘুরে-ঘুরে সময় কাটিয়ে দেওয়া গেলে ভারি ব্যাগ আর বইতে হবে না বেশি।
প্রথম দুটো স্কুলে গিয়ে তেমন কোনও হিল্লে করতে পারেনি অনীক। মেজাজ পুরো খিচড়ে আছে। দ্বিতীয় স্কুলটা থেকে বেরিয়ে একটা চায়ের দোকানে গিয়ে ঢুকল ও। ভাঁড় ফেলার ড্রামের মুখটায় কয়েকটা মাছি ঘুরঘুর করছে।
মাছির উৎপাতের কারণেই হবে নিশ্চিত, দোকানে বেশিক্ষণ বসল না অনীক, চা খেয়ে বেরিয়ে এল রাস্তায়। পরের স্কুলটা এখান থেকে হাঁটাপথে মিনিট দশেক বড়োজোর। একটা সিগারেট ধরিয়ে হাঁটতে শুরু করল ও।
স্কুলের টিচার্স্রুম আজ বেশ সরগরম। নিম্নচাপের কারণে ক-দিন একটানা বৃষ্টির পর রোদের দেখা মিলেছে গতকাল থেকে। সেই জন্যই বোধহয় টিচার্স্রুমে এত খোশমেজাজ। সায়েন্স গ্রুপের দুটো বিষয় আর ইতিহাস—স্পেসিমেন কপিগুলো ওখানেই গছিয়ে দিতে পেরেছে অনীক। শুধু একটা বইয়ের জন্য আটকে থাকতে হচ্ছে; ভূগোলের টিচার ক্লাস এইটের ঘরে, ক্লাস নিচ্ছেন।
খামোখা সময় নষ্ট করতে ভালো লাগছিল না অনীকের। টিচার্স্রুমের বাইরের লম্বা বারান্দায় ইতিউতি ঘোরাঘুরি করল কিছুক্ষণ। তারপর যাবতীয় দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে পায়ে-পায়ে পৌঁছে গেল ক্লাসরুমের দরজায়। মুখচেনা হওয়ায় অসুবিধা হল না কোনও, দিদিমণি ক্লাসে ডেকে নিলেন। ক্লাসের মেয়েদের সবারই সামনে খাতা খোলা, লিখে চলেছে কিছু; হয়তো কোনও প্রশ্নের উত্তর, হয়তো নিয়মমাফিক ক্লাসটেস্ট। দিদিমণির সামনের টেবিলে চক-ডাস্টার, একপাশে গোটানো ম্যাপ যার উপরে-নিচে কাঠের রুল। পিছনের দেয়ালে ব্ল্যাকবোর্ড, বাঁপাশে দেয়ালপত্রিকায় অপটু হাতের লেখা এবং অনুরূপ অলংকরণ, ডানপাশের হুকে ঝোলানো একটা ম্যাপ—ভারতের মানচিত্র—আঞ্চলিক ভূগোল।
দিদিমণি মন দিয়ে বই দেখছেন, মেয়েরা উত্তরপত্রে মগ্ন, অনীকের চোখ ঘুরে বেড়ায় এদিক-ওদিক। সাদা দেয়ালের প্রায় সর্বত্র আর্টপেপার : কোথাও আর্কিমিডিসের প্লবতার সূত্র, কোথাও ছবিতে রামমোহন আর বিদ্যাসাগরের মুখের আদল—ঔপনিবেশিক বাংলার নবজাগরণের প্রতীকস্বরূপ, কোথাও-বা ব্যাঙের পৌষ্টিকতন্ত্র।
মেয়েদের লেখার গতি ক্রমে বাড়ছে, ক্লাসের সময় শেষ হয়ে আসছে বোঝা যায়, সূচিপত্রের সঙ্গে অধ্যায়গুলো মিলিয়ে-মিলিয়ে দেখছেন দিদিমণি, বুঝে নিতে চাইছেন কতটা কাজে লাগবে ওঁর। এমন সময় বাইরে থেকে ভিতরে ঢুকে-আসা একটা মাছির গতিপথ খেয়াল করে দেয়ালে ঝোলানো মানচিত্রের দিকে নজর গেল অনীকের। মাছিটা বেখাপ্পাভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে ভারতের ম্যাপের চারপাশে। চোখ সরু হয়ে গেছে ওর; আকারে ছোটো কোনও বস্তুর উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা তুলনায় সোজা হয় ওতে।
যেইমাত্র ক্লাসশেষের ঘণ্টা বেজে উঠল, ‘বইটা তাহলে আমি রাখলাম’ বলে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন দিদিমণি, লেখা থামানোর নির্দেশ দিলেন মেয়েদের। ততক্ষণে জামার বুকপকেট থেকে একটা ভিজিটিং কার্ড বের করে তাঁর দিকে এগিয়ে দিয়েছে সে। ভদ্রমহিলা কার্ডটা নিলেন, ওঁর ঘাড় আর কাঁধের উন্মুক্ত অংশে পিছলে গেল অনীকের দৃষ্টি : দিদিমণির পিছনের দেয়ালে ভারতের যে-মানচিত্র ঝুলছে, সেটার ডানদিকের কিঞ্চিৎ মাঝামাঝি—পশ্চিমবঙ্গের একেবারে ঠিক উপরে—গিয়ে বসেছে মাছিটা। বলা ভালো, উড়ে এসে জুড়ে বসেছে।
ভাবলেশহীন, ফ্যাকাশে মুখে তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভূগোলের দিদিমণি জিজ্ঞেস করেন : ‘কী হল? বলবেন কিছু?’
‘না-না, কিছু না।’ আমতা-আমতা করে কোনওরকমে এড়িয়ে গেলেও ভিতরে-ভিতরে আন্দোলন বাড়তে থাকে অনীকের। মুখে কিছু না-বললেও সে বোঝে, হৃদ্স্পন্দন এখন বেশ দ্রুত—অস্বাভাবিক—মাছির ছটফটে দ্রুতির মতোই অবিকল।
পাঁচ.
কলেজ স্ট্রিটের বইয়ের দোকান, চায়ের দোকান, ফুটপাথ লাগোয়া ভাঙাচোরা দেয়াল—আজকাল সর্বত্রই যেন মাছিদের আনাগোনা নজরে পড়ে অনীকের। ইদানীং মাছি বেড়ে গেছে প্রচুর; অথচ কিছুতেই অব্যর্থ হচ্ছে না তার লক্ষ্যভেদ—সময় চলে যাচ্ছে এদিকে, তবু ঠিকমতো বানিয়ে তুলতে পারছে না প্রতিষেধক। সে বুঝে পায় না, চারপাশে হঠাৎ এত মাছি বেড়ে গেল কীভাবে! তার মনে হয়, মাছিরা এই শহরটাকে বুঝি রেডিয়োগ্রাফির মতো স্ক্যান করছে; জরিপ করে জেনে যাচ্ছে, খুঁজে নিচ্ছে কোন-কোন অংশে পচন সর্বাধিক।
কিছুদিন পরের ঘটনা : কয়েকদিন ধরেই বিচ্ছিরি এক গন্ধ তার সঙ্গ নিয়েছে। সে যেখানে যায়, বেয়াড়া সেই গন্ধ তার পিছুপিছু সেখানেই এসে পৌঁছায়। পচে গেলে যেমন গন্ধ বেরোয়, তেমন; পচা খাবারের গন্ধ, মাংস বের করে নেওয়া তৃণভোজী প্রাণীদের চামড়াপচা গন্ধ, মানুষ পচার গন্ধ। দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে ইদানীং মাস্ক পরে অনীক। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সেই যে মাস্ক পরে, চা-সিগারেট বাদে একমাত্র খাবার সময়টুকু—তাছাড়া খোলে না মোটে; রাতে বাড়ি ফিরে এসে তবে শান্তি।
সেদিন অনীক একটা স্কুলে গিয়েছিল বই দেখাতে; রোজ যেমন যায়। সেই স্কুলের জীবনবিজ্ঞানের মাস্টারমশাই বইয়ের স্পেসিমেন কপি হাতে নিয়ে, খানিক উলটে-পালটে, হাসতে-হাসতে বললেন : ‘এই বইটায় অনেক ভুল আছে, ভাই। এই যেমন দেখো, রাজ্য সরকার কত ভালো-ভালো পদক্ষেপ নিয়েছে তা নিয়ে একটা তথ্যও নেই জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যাপ্টারে।’
ভদ্রলোকের কথা শুনে মাথা নাড়ে অনীক, অস্ত্যর্থক না নঞর্থক—স্পষ্ট বোঝা যায় না। আসলে এতদিনে সে জেনে গেছে, স্কুলপাঠ্য বই এখন আর শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, সরকারি দলের রাজনীতি প্রচারের যন্ত্র। পড়াশোনা আর হয় না তেমন। ভবিষ্যতে শুধুমাত্র তারাই পড়াশোনা করতে পারবে, যাদের মা-বাবার অগাধ টাকাপয়সা থাকবে। রাস্তার ধারের দেয়ালে ‘এখানে প্রস্রাব করবেন না’ লেখা থেকে শেষ শব্দটা যেমন মুছে দেয় কোনও বিচ্ছু ছেলে, তেমনই ‘সবার জন্য শিক্ষা’-র ঠিক পরে কারা যেন দিনের আলোয় বসিয়ে দিয়ে গেছে অতিরিক্ত একটা শব্দ : সবার জন্য শিক্ষা নয়।
ছয়.
সেদিন সন্ধ্যায়, প্রকাশনার দপ্তর থেকে বেরিয়ে কলেজ স্ট্রিটে খানিক উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি করে, ট্রামলাইন ধরে শ্যামবাজারের দিকে হাঁটতে শুরু করল অনীক। ঠিক ছিল, কিছুটা পথ হেঁটে, রাস্তার ধারে অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন কোনও-একটা চায়ের দোকানে গিয়ে বসবে অল্প সময়ের জন্য : চা খাবে, সিগারেটও। বাস ধরবে তারপর।
বড়ো রাস্তার ধারে, বিলবোর্ডে, বিধায়ক-সাংসদের হাসিমুখ, তার ঠিক পাশে, নিচে, ডাস্টবিন জুড়ে মাছিদের ভনভনানি। মাছিদের এখন আর কোনও ধরাবাঁধা গন্তব্য নেই বোধহয়; তারা সর্বত্রগামী—অফিস-কাছারি, সরকারি দপ্তর, ক্লাসরুম, স্টুডিয়ো, আদালত, এমনকি হাসপাতালের আইসিসিইউ পর্যন্ত তাদের অবাধ চলাচল।
তখনও পর্যন্ত পছন্দসই কোনও চায়ের দোকান নজরে পড়েনি অনীকের। হাঁটতে-হাঁটতে হঠাৎ ওর চোখে পড়ে, সামনের ফুটে, সারিবদ্ধ দোকানগুলোর সামনে একটা ছোটোখাটো জটলা। কী কারণে এমন আকস্মিক ভিড়, তা জানবে বলে এগিয়ে যায় ও। কাছে গিয়ে দেখে, যে-দোকানটার সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে মানুষজন, সেটা একটা মাঝারি মাপের ইলেকট্রনিক্স শপ। কাচের ওপারে নানান মাপের কয়েকটা টেলিভিশন। তারই একটায় খেলা চলছে : ফুটবল : ঈস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান। লিগের খেলা বলেই বোধহয় কোনও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখানো হচ্ছে না। নয়তো রাস্তায় দাঁড়িয়ে টিভি দেখার এই ভিড় এখন আর চোখে পড়ে না অনীকের।
সবুজ ঘাসের উপর লাল-হলুদ আর সবুজ-মেরুন জার্সির দাপাদাপি। দূর থেকে দেখে অনীক। যত ভিড়, সবই খেলা ঘিরে। লোকজনকে ঠেলে এগোতে চায় না সে। পাশের একটা টিভিতে গতকালের সিরিয়ালের রিপিট টেলিকাস্ট চলছে, বোঝা যায়; তার পাশেরটাতেও তেমনই রিয়্যালিটি শোয়ের পুরোনো এপিসোড। খেলার দর্শক এগুলোকেও কবজা করে ফেলেছে। তুলনায় ফাঁকা জায়গায় গিয়ে সিগারেট ধরায় ও। একমুখ ধোঁয়া ছাড়লে দোকানের কাচে লেগে ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার ভিতর দিয়ে সে দেখে, ওপারের টিভিতে মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক মুখ। হাতের মাইকে সাদা রুমাল। কোনও-এক জনসভায় বক্তব্য রাখছেন অননুকরণীয় বিভঙ্গে। কাচের ঘেরাটোপের কারণে বাইরের দুনিয়া সেসব বাণী থেকে বঞ্চিতই থেকে যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর নড়াচড়া দেখতে-দেখতে নির্বিকার সিগারেট খেয়ে চলে অনীক। সিগারেট যখন শেষের দিকে, সে দেখে, মুখ্যমন্ত্রীর চিবুক আর কণ্ঠার ঠিক মাঝের অংশে চামড়ার উপর জেগে আছে একটা আঁচিল—কালো, ছোটো। ঝটিতি উলটোদিকের ফুটপাথে ঘাড় ঘোরায় ও, দেখে, বড়ো একটা হোর্ডিংয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ—আঁচিলহীন; তিল নেই, তালও নেই।
ঘাবড়ে গিয়ে ফের টিভির দিকে ঘাড় ঘোরায় অনীক। এইচডি পর্দায় চ্যানেলের ক্যামেরা তখন আরও একটু ক্লোজ-আপে ধরেছে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ। মুখ্যমন্ত্রীর চিবুক আর কণ্ঠার ঠিক মাঝের অংশে, চামড়ার উপর বসে আছে একটা মাছি—কুণ্ঠাহীন।
এর কিছু পরে, বাড়ি ফেরার পথে, বাড়ি ফেরার আগে, অনীক ভাবতে থাকে, একটা মাছি যে কী বার্তা বয়ে আনতে পারে, জলজ্যান্ত এক শহরের কেউই যেন তা বুঝে উঠতে পারছে না। খেলায় মাতোয়ারা সবাই। তার মনে হয়, যেখানে পচন, সেখানেই মাছি। যখন পুরো জনপদই পচে যায়, তখন মাছি শুধু বসে থাকে না—নীরব অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। ·
লেখক পরিচিতি : অনির্বাণ বসু পশ্চিম বঙ্গের কথাসাহিত্যিক। জন্ম ১৩৯২ বঙ্গাব্দের ১২ আষাঢ়। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : গাঢ় লাল লিপস্টিক এবং মেরিলিন মনরোর গল্প, এখানে যত্নসহকারে চক্ষু পরীক্ষা করা হয়, অ-এ অজগর আসছে তেড়ে, যারা কয়েদখানায় ঢুকে যায়, প্রকাশিত উপন্যাস : হাঁকামনা, মণিকর্ণিকা, ছায়াছবির শেষাংশ সংবাদের পর। তাঁর গল্প নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে যেমন, তেমনই অনূদিত হয়েছে মলয়লম, মারাঠি, ওড়িয়া এবং হিন্দি ভাষাতেও। ‘এখানে যত্নসহকারে চক্ষু পরীক্ষা করা হয়’-এর জন্য পেয়েছেন রবিশংকর বল স্মারক সম্মান। ভূষিত হয়েছেন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ প্রদত্ত ইলা চন্দ স্মৃতি পুরস্কারে।


3 মন্তব্যসমূহ
খুব ভালো লাগলো 'মাছি' গল্পটা।
উত্তরমুছুনদুর্দান্ত! ধারালো শব্দের শরীর নিছক গল্প হয়ে রইল না। সংকেত, ইঙ্গিতে এমন এক অস্ত্র হয়ে উঠল, যার ফলায় ফালাফালা হয়ে গেল চিরাচরিতের ভেতরে অন্তঃসারশূন্যতা। 'অনুকম্পাহীন' শব্দটির আশ্চর্য প্রয়োগে যে উত্তরণ ঘটল, এ যেন এক স্থানীয় প্লটকে বিশ্বায়িত করে তুলল।
উত্তরমুছুনবরাবরের মতো সার্থক একটি ছোটগল্প। প্রতীক ভাবনা মুগ্ধ করেছে, মূল বিষয়কে সমৃদ্ধ করেছে। তবে প্রতিকভাবনাকে উল্লেখ না করলে পাঠ আরও সুখকর হতো। হয়ত 'মাছি' আরও কিছুর প্রতীক হয়ে উঠতে পারত পাঠকের ভাবনায়।
উত্তরমুছুন