নির্বাচিত গল্প প্রসঙ্গে কথাসাহিত্যিক নাহার মনিকা


নাহার মনিকা কবি ও কথাসাহিত্যিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে ক্যানাডার ক্যুবেক-এ সরকারি স্বাস্থ্যবিভাগে কর্মরত। দেশ-বিদেশের নানা পত্রপত্রিকায় লিখছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাঁর প্রকাশিত গল্প ও উপন্যাসসমূহের মধ্যে রয়েছে : দখলের দৌড়, মন্থকূপ, বিসর্গ তান, জাঁকড়, পৃষ্ঠাগুলি নিজের। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তাঁর নির্বাচিত গল্প। বইটি নিয়ে কথা বলেছেন গল্পপাঠের সঙ্গে।

গল্পপাঠ
লেখালেখির একটা পর্যায়ে আসার পর নির্বাচিত গল্প প্রকাশিত হয়। আপনার নির্বাচিত গল্প বইটি প্রকাশিত হয়েছে পুঁথিনিলয় থেকে। প্রকাশের পর অনুভূতি কেমন ছিল?

নাহার মনিকা :
তিনটি গল্পগ্রন্থ (পৃষ্ঠাগুলি নিজের, জাঁকড় এবং দখলের দৌড়) প্রকাশিত হবার বেশ অনেকদিন পর আমার নির্বাচিত গল্প প্রকাশিত হয়েছে। এ যাবৎ লেখা গল্প থেকে বাছাই করা গল্প নিয়ে এই সংকলন। ছোটগল্পের আগ্রহী পাঠকেরা একসঙ্গে আমার অনেকগুলো গল্প পড়তে পাবেন—এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। পুঁথিনিলয় অত্যন্ত যত্ন নিয়ে বইটি প্রকাশ করেছে। এর প্রচ্ছদ, ছাপা ও বাঁধাই দেখে লেখক হিসেবে প্রকাশকের পেশাদারিত্বে মুগ্ধ হয়েছি!

গল্পপাঠ
কতটি গল্প স্থান পেয়েছে এই সংকলনে?

নাহার মনিকা :
আটচল্লিশটি গল্প।

গল্পপাঠ
গল্পগুলো কত বছর ধরে লেখা? অর্থাৎ কত সাল থেকে কত সালের মধ্যে লেখা?

নাহার মনিকা :
২০০৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পনেরো বৎসরে লেখা।

গল্পপাঠ
বইটি প্রকাশের পর পাঠকসাড়া কেমন পেয়েছেন?

নাহার মনিকা :
বই প্রকাশিত হবার পর পাঠক সাড়া পাওয়ার বিষয়টি আসলে আপেক্ষিক। কোনো বই পাঠকপ্রিয়তা পাচ্ছে কি পাচ্ছে না এর সংগে বইটির উৎকর্ষতা শত ভাগ জড়িত বলে আমার মনে হয় না। অনেক প্রকাশিত গ্রন্থ তাৎক্ষণিকভাবে পাঠকপ্রিয় হতে নাও পারে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে, পাঠরুচি পরিবর্তনের সঙ্গে, কিংবা নির্ধারিত পাঠকগোষ্ঠীর কাছে বিশেষ কোনো কারণে একটি বইয়ের চাহিদা তৈরি হতে পারে।

তারপরও তাৎক্ষনিক সাড়া পাওয়ার বিষয়টিকে আমলে না নেওয়ার কারণ নেই, পাঠক বই সংগ্রহ করবেন, পড়বেন এতে যে আনন্দ আছে, তা থেকে নিজেকে দূরে রাখার যুক্তি আমি খুঁজে পাই না। আমার নির্বাচিত গল্প প্রচুর পাঠক নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করেছেন। যতজন অচেনা পাঠক বইটি সংগ্রহ করে আমাকে জানিয়েছেন তা সত্যি আপ্লুত হওয়ার মতো।

গল্পপাঠ
গল্পকার হিসেবে বইটির কোন গল্পটিকে আপনি এক নম্বরে রাখবেন? কেন রাখবেন, বিস্তারিত যদি বলেন...।

নাহার মনিকা :
পাণ্ডুলিপি তৈরির সময় সূচি তৈরি করতে গিয়ে আমি গল্প লেখার কালানুক্রম অনুসরণ করিনি, কিন্তু গল্পের গুরুত্ব বিবেচনা করতে গিয়ে কিছুটা দ্বিধায় পড়েছিলাম। কাজটি লেখকের জন্য সহজ না। আমি দেখেছি, একটি গল্প লিখে আমি অত সন্তুষ্ট হইনি, কিন্তু সেটি প্রকাশের পর অনেক পাঠক মন্তব্যে বা পাঠ প্রতিক্রিয়ায় তাদের মুগ্ধতা জানিয়েছেন।

তাই, কোন গল্প দিয়ে আমার বইটি শুরু করব—এটা নিয়ে বেশ ভেবেছি। ‘পলায়নপর’ শিরোনামের গল্পটি দিয়ে শুরু করার কারণ—নিরীক্ষাধর্মী এই গল্পে রাজনীতি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, একজন যুবকের কিংবা পলিটিক্যাল ক্যাডারের মা-এর অনুভব বয়ানের চেষ্টা করেছি। একজন মা তার ছেলের কথা বলছেন, ঘটনা ও পরিস্থিতির কারণে যে ছেলে নিজের দাঁত অক্ষত রাখতে চাইলে তাকে মাথার খুলি ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

আবার, একদম শেষের গল্পটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প ‘বিস্মরণের আগে আগে’। এই গল্পে একজন মুক্তিযোদ্ধা তাঁর যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বলতে চান, বয়সের কারণে যার স্মৃতিক্ষয় হচ্ছে, কিন্তু তাঁর আকুল গল্প শোনার মতো মানুষ নেই, যা আমাদের দেশের আজকের বাস্তবতা। তো এই দুই গল্পের ব্র্যাকেটে আরো ছেচল্লিশটি গল্প আছে, প্রতিটি গল্প স্বাতন্ত্রপূর্ণ। কোন মনযোগী পাঠক/সমালোচক যদি সেগুলোকে গুরুত্ব অনুযায়ী ক্রমানুসার করেন, আমি তার বিবেচনায় আস্থা রাখব।

গল্পপাঠ :
দীর্ঘ প্রবাস জীবন যাপন করছেন। প্রবাসে থেকে বাংলা সাহিত্য চর্চায় কোনো প্রতিকূলতা আছে কিনা? আপনার কি মনে হয় দেশে থাকলে আরও ভালো লিখতে পারতেন?

নাহার মনিকা :
শুরুতে, অর্থাৎ ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ এ বছরগুলোতে, যখন আন্তর্জালের এত আধিপত্য ছিল না, তখন দূরত্বটা বেশী অনুভব করেছি। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। তথ্য প্রবাহের কারণে পৃথিবী তো গ্লোবাল ভিলেজ। সংবাদমাধ্যম আমাদের সকলের কাছে একই গতিতে পৌঁছায়। এখন দূরত্বকে আর অত দূরের মনে হয় না। বরং দূর থেকে দেখতে পারাটিকেও আমার গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। আমি অভিবাসী জীবনের গল্প লিখেছি, আমার গল্পের চরিত্ররা যে দেশ ও প্রবাসের ভেতর এক মানসিক চলাচলের মধ্যে থাকে, সেটি দেশের বাইরে না থাকলে লিখতে পারতাম কি না জানি না। আমার লেখা যেহেতু ক্যামেরায় ফটো তোলার মত বিষয় না তাই দূরত্বকে খুব বড় অসুবিধা বলে মনে হয় না।

তারপরেও, দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বলতে যা বুঝি, মানুষের জীবন, ইতিহাস, রাজনীতি, যাপনের দিকে ঝুঁকে থাকার ধরণ এসব নানান কিছু কাছ থেকে দেখার, বুঝতে চাওয়ার জন্য দেশে নিয়মিত যাতায়াত করারও প্রয়োজন আছে।

আর, সংযোগের প্রসঙ্গে বলি যে আমি বরাবর দলছুট লেখক, সেদিক থেকে দেশে থাকলে আরো ভালো লিখতাম কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত নই। আজকাল মফস্বলে বাস করা আর দেশের বাইরে বাস করাতে খুব ফারাক করা যায় না, সাহিত্য চর্চার প্রসঙ্গেই বলছি।

গল্পপাঠ
দেশের বাইরে থাকলে অবশ্য স্মৃতিরা সবসময় জাগরুক থাকে। লেখালেখির জন্য স্মৃতি জরুরি। আপনার কী মনে হয়?

নাহার মনিকা :
অবশ্যই। একজন লেখক নানান উপায়, নানান পদ্ধতিতে স্মৃতি তৈরি করেন এবং এর ব্যবহার করেন। চোখের সামনে পাতা ঝরে যাওয়া কিংবা কাক উড়ে যাওয়ার সামান্য স্মৃতিও জাবর কাটার মতো লেখায় এসে বিরাট আকার নিয়ে ফেলতে পারে। আমি সব সময় বলি যে লেখক তার অভিজ্ঞতা লেখে, সে অভিজ্ঞতা সরাসরি,কিংবা উপস্থিতিজাত হতে হবে এমন কোন কথা নেই।

গল্পপাঠ
উপন্যাস রচনা কি জটিল প্রক্রিয়া? আপনি কীভাবে দেখেন?

নাহার মনিকা :
আমার দুটি উপন্যাস লেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে (২০১৬ সালে বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে ‘বিসর্গ তান’, ২০১৯ এ বৈভব থেকে ‘মন্থকূপ’) সে সূত্র ধরে বলবো—উপন্যাস রচনা পরিশ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া। জটিল কি না সেটি নির্ভর করছে এর প্রেক্ষাপট, নির্মাণশৈলী, ভাষা ও আঙ্গিকের ওপর। আমার লেখা দুটো উপন্যাসে নিরীক্ষার চেষ্টা আছে, প্রধান চরিত্রকে ঘিরে একটি পরিবার, একটি জনপদের কাহিনির আবর্তনের মধ্যে একটি জগৎ নির্মাণের প্রয়াস আছে।

‘মন্থকূপ’ উপন্যাসে কোন অধ্যায় নেই, একটি চরিত্রই পুরো উপন্যাসে কথক যে তার জীবনের যাত্রার কথা বলতে গিয়ে পারিপার্শ্বকে সমূলে তুলে আনছে। এই ধরণটি পড়তে গিয়ে পাঠক ঘোরগ্রস্থ হয়েছেন- এমন পাঠ প্রতিক্রিয়া পেয়েছি।

উপন্যাস, আমার মতে পাঠককে একটি বহুরৈখিক ভ্রমণের অংশীদার করে, যেখানে পাঠক বাস্তব ও কল্পনার আবর্তে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন, আবার ফিরে পান।

গল্পপাঠ :
গল্প লেখার প্রতি কীসে আপনাকে অনুপ্রাণিত করেছিল? কোনো গল্প পড়ে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, নাকি কোনো ব্যক্তি বা কোনো ঘটনা আপনাকে অনুপ্রাণিত করেছিল?

নাহার মনিকা :
ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে গল্প লিখতে শুরু করিনি। গল্প লিখতে শুরু করার আগে আমি বেশ অনেকদিন কবিতা ও অন্যান্য গদ্য লিখেছি। নির্দ্দিষ্ট কোন অনুপ্রেরণার কথা বলা সম্ভব না, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে কাজ করি। ২০০৫ সালের একদিন, মনে আছে কাজের বইপত্র একপাশে সরিয়ে হলুদ আক্রান্ত’ নামের একটি গল্প লিখে ফেলি। পরে ভেবে দেখেছি, গল্পটি বেশ অনেকদিন ধরে সঙ্গে ছিল, আর সব কাজের মধ্যেও আমি গল্পটিকে মাথার ভেতরে লিখে চলছিলাম, সে কারণে কাগজের ওপরে খুব দ্রুত লেখা হয়েছিল সেটি। সাহিত্যিক বন্ধুদের আড্ডায় সে গল্প পাঠ করলে সবার আগ্রহ ও উৎসাহ পেলাম। গল্পটি ‘বাংলামাটি’ নামের সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর ‘ডানায় বাহানা’ এবং ‘আড়াল’ নামের দুটি গল্প লিখলাম। ‘আড়াল’ গল্পটি ঈদসংখ্যা সাপ্তাহিক ২০০০ এ প্রকাশিত হলো। সেই থেকে নিয়মিত হওয়া। লেখা প্রকাশিত হতে থাকা সম্ভবত আমার জন্য অনুপ্রেরণার কাজ করে।

গল্পপাঠ :
কানাডায় বাংলা সাহিত্য চর্চা কেমন হচ্ছে?

নাহার মনিকা :
ক্যানাডাতে অভিবাসীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, বাংলা ভাষা এবং সাহিত্য চর্চা হচ্ছে। অনেকে দেশে থাকতে লিখতেন, এখানে এসে সে চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিদেশের জীবন দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বেশ কঠিন, তবুও অনেকে নতুন লিখতে শুরু করেছেন। নন-ফিকশন নিয়েও কাজ হচ্ছে। আন্তর্জালের সুবাদে পাঠকের কাছে পৌঁছাতে কোন বাঁধা নেই।

আমি যে শহরে থাকি, মন্ট্রিয়াল, এখানে ‘উঠান চিত্রশালা’ সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করে থাকে, উত্তর আমেরিকায় বসবাসকারী লেখক কবি এতে যোগ দেন। ক্যানাডার অন্যান্য শহরেও কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে যোগাযোগ হয়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। সাহিত্যচর্চার এই মিথস্ক্রিয়ার বিষয়টি বিদেশের মাটিতে বসে বাংলায় লেখালেখির জন্য উৎসাহব্যঞ্জক বলে আমার মনে হয়।

গল্পপাঠ :
বাংলাদেশের ছোটগল্প সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী? সমকালীন গল্পকাররা কেমন গল্প লিখছেন?

নাহার মনিকা :
দেশভাগ, স্বাধীনতা যুদ্ধ, স্বাধীন দেশে নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ছোটগল্প বিষয়, ভাষা, আঙ্গিক ইত্যাদি মিলিয়ে একটা নিজস্ব অবয়ব পেয়েছে, যেমনটা একটা নির্দ্দিষ্ট ভূখণ্ডের মনোরৈখিক জীবনধারার কারণে থাকা উচিৎ। তবে দেশের ইতিহাস, রাজনীতি জটিল হলে সে জটিলতা বিশ্লেষণের জন্য যে মাত্রার সংবেদনশীলতা দরকার সেটি হাতে গোনা কিছু লেখক বাদ দিলে আমাদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রচুর লেখা থাকার পরেও মনে হয় যে আরো গল্প হতে পারতো। বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদের যে উত্থান ঘটেছে, যে কারণে আমাদের সংস্কৃতি চর্চা কিছুটা হলেও হুমকির মুখে, সেটি ছোটগল্পের নির্মাণে এবং নিরীক্ষায় কী ধরণের প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে আমার আশংকা ও ঔৎসুক্য রয়েছে।

গল্পপাঠ
কোনো গল্প কি আপনি একবারেই লেখেন, নাকি লেখার পর বারবার এডিট করেন?

নাহার মনিকা :
একটানে আমি খুব কমই গল্প লেখি। কখনো লিখলেও তা বার বার সংশোধন করি, প্রকাশের জন্য পাঠানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সংশোধন করি।

গল্পপাঠ
আপনি সাধারণত দিনের কোন সময়টায় লেখেন?

নাহার মনিকা :
আমি চাই সকাল বেলাটায় লিখতে, কিন্তু পেশাগত কারণে সেটা সবসময় হয়ে ওঠে না। সে কারণে যখন সময় পাই, লেখার দিকে সবটা মনযোগ দেয়ার মত ইচ্ছে এবং পরিবেশ থাকে, তখনই লেখি।

গল্পপাঠ
এখন কী পড়ছেন? সম্প্রতি পড়া কোন বইটি আপনার মনে রেখাপাত করেছিল?

নাহার মনিকা :
আমি এক সঙ্গে দু’তিনটি বই পড়তে শুরু করি, এর মধ্যে যেটি আমার মনযোগ ধরে রাখে তা আগে শেষ হয়। এ তালিকায় এখন আছে ‘বার্মা ক্রনিকলস,’ লেখক গি দেলিল (Guy Delisle) ফরাসীভাষী ক্যানাডিয়ান গ্রাফিক উপন্যাসিক, এনিমেটর । যিনি তার স্ত্রীর চাকুরীর সুবাদে মায়ানমারে ছিলেন, হাউস হাসব্যান্ড হিসেবে তাদের শিশু সন্তানের দেখাশোনা করেছেন, আর পাশাপাশি কমিক এর মত ছবি এঁকেছেন, সঙ্গে ছোট ছোট বাক্যে নিজের পর্যবেক্ষণ। বইটি ২০০৭ সালে লেখা। তৎকালীন মায়ানমারের রাজনৈতিক, সামাজিক পরিস্থিতি একজন বহিরাগত মানুষের চোখে এবং আঁকায় একটি চিত্তাকর্ষক বই।

পড়ছি ইউভাল নোয়া হারারির স্যাপিয়েন্স, আ ব্রিফ হিষ্ট্রি অফ হিউম্যানকাইন্ড। এই বইটি অনেকদিন ধরে পড়ার তালিকায় ছিল। সামাজিক দর্শন ও মানুষের ইতিহাস বিষয় হিসেবে আমাকে আকর্ষণ করে। মানুষ তার প্রায় সত্তর হাজার বছরের ইতিহাস ভুলে কেন পাঁচ/ছয় হাজার বছরের ধর্ম ও ধর্মের ইতিহাস নিয়ে বুদ হয়ে মারামারি খুনোখুনি করে পৃথিবীকে নরক বানিয়ে তুলছে—হারারি এর কার্যকারণ ঐতিহাসিক বিশদে ব্যাখা করা স্বত্তেও এই ভাবনা আমাকে বিষাদগ্রস্ত করে। বইটি প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা, তরতরিয়ে পড়া যাচ্ছে।

পড়ার তালিকায় আরো আছে ত্রিদিব সেনগুপ্ত’র চারটি উপন্যাসের সংকলন। প্রথম উপন্যাস “তপন বিশ্বাসের খিদের বত্রিশ ঘণ্টা’ এর বাক্যের গঠন, ভাষার গাঁথুনি এবং বিষয় দিয়ে আমাকে আটকে ফেলেছে।

গল্পপাঠ
ভবিষ্যতে কী লেখার ইচ্ছে?

নাহার মনিকা :
আমার তৃতীয় উপন্যাস লেখা শুরু করেছি, সেটা শেষ করা আপাতত ইচ্ছে। এ ছাড়া ছোটগল্প লিখছি। ·


সাক্ষাৎকার গ্রহণের কাল : জানুয়ারি, ২০২৬

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ