বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৩

নুন পান্তার গড়াগড়ি-২

সেলিনা হোসেন


গ্রামের মেঠোপথে খয়েরি রঙের ফতুয়া পরে হেঁটে যায় আরজ আলী। মাথার ওপর কালো রঙের ছাতা। হাঁটতে গিয়ে টের পান মাজায় ব্যথা। তারপরও জোরে জোরে হাঁটেন। ব্যথায় কাবু হতে হবে এমন ভাবনা বাতাসে উড়িয়ে দেন। উড়ে আসে সবুজ রঙের ফড়িং। ছাতার ওপর বসে। উড়ে আসে প্রজাপতি। ছাতার ওপর বসে। উড়ে আসে -- কোথা থেকে কি উড়ে আসে তা দেখতে পান না বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক আরজ আলী মাতুব্বর। শুধু ঝাঁ-ঝাঁ রোদে হেঁটে যান। খয়েরি রঙের ফতুয়া ঘামে ভিজে উঠে।

ক্লাশে মুজতবা আলীর গল্পটি ছেলেমেয়েদের বলতে বলতে খুব ক্লান্ত হয়ে যান আরজ আলী মাতুব্বর। মনে হয় ঝিমুনি আসছে। পরক্ষণে ভাবেন গল্পটি বলতে ভালো লাগছে না। আসলে এটিতো কোনো হাসির গল্প নয় যে ওরা বুঝবে। তাহলে ওদের বলে লাভ কি? একজন প্রাথমিক স্কুলের মর্যাদা ওরা কতটা বুঝবে। তিনি তখন নিজেকে সংযত করেন। চেঁচিয়ে বলেন, বল পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল -- ছেলেমেয়েরা চুপ করে থাকে। কারো মুখে কথা নাই। মুখগুলো এক একটি চরের মতো। নদী থেকে জেগে উঠেছে। বসতির জন্য তৈরি করতে সময় লাগবে। তিনি রেগে ওঠেন। আঙুল তুলে শাসিয়ে জিজ্ঞেস করেন, তোরা কথা বলছিস, না যে?
রোজ রোজ একটা লাইন শুনতে ভালো লাগে না?
ভালো লাগে না!
আরজ আলী মাতুব্বর বিপন্ন বোধ করেন। বুঝি এই মুহূর্তে তার মতো অসহায় মানুষ পৃথিবীতে আর একজনও নেই। তিনি পৃথিবীর মানচিত্রের ওপর তার অদৃশ্য দৃষ্টি ঘুরিয়ে আনেন। দেশের সীমানা খোঁজেন। মানুষের বাসস্থান দেখেন। রাষ্ট্রের শিক্ষানীতির ওপর আলো ফেলেন। কিছুই ছুঁতে পারেন না তিনি -- হাত দিয়েও না, বিদ্যাবুদ্ধি দিয়েও না।
তখন ওদের দিকে তাকিয়ে বলেন, যদি এই লাইনটি না বলিস তাহলে পরের লাইনটি বল। মনে আছে তোদের?
ওরা সমস্বরে বলে, আছে।
বল।
বলব না।
আমি বলি?
মিনমিনে স্বরে একজন বা দুজন বলে, বলেন!
তিনি বলেন, ‘কাননে কুসুম কলি সকলে ফুটিল
আমরাতো ফুটবোনা স্যার।
ফুটবি না?
না। আমি বাপের সঙ্গে মাছ ধরব। জেলে হব।
আমি চাষভূষার ছেলে। জমিতে হাল দেব। পানি সেচব।
আমি লঞ্চঘাটের কুলি হব।
আরজ আলী টেবিলের ওপর রাখা বেত তুলে চিৎকার করে বলেন, থাম। থাম বলছি। বাঁদর কতগুলো। বাঁদরামি করার আর জায়গা পাস না! বিচ্ছু কতগুলো।
ওরা এক মুহূর্ত চুপ করে থাকে। তারপর হি-হি করে হাসে। হাসিতে ঘর ফাটায়। ছুটে আসে প্রধান শিক্ষক।
আপনার ক্লাসে এত হৈচৈ কেন আরজ মাস্টার --
তিনি বোকার মতো তাকিয়ে থাকেন। কি বলবেন বুঝতে পারেন না। ক্লাসের ফার্স্ট বয় আগ বাড়িয়ে বলে, তিনি আমাদের ফুঠে উঠতে বলেন।
ঠিকইতো বলেন।
আমরা ফুটব কেমন করে?
এই ফোটা মানে মানুষ হওয়া।
মানুষ!
প্রবল বিস্ময় ধ্বনিত হয় ছেলেমেয়েদের কণ্ঠে।
মানুষ কি স্যার?
হেডমাস্টার বিরক্তির সঙ্গে বলেন, মাত্র ক্লাশ ফাইভে পড়ে। এখনই ডেঁপো হয়ে গেছে। এদের জন্য বেতই দরকার। ছেলেমেয়েরা ভয়ে কুঁকড়ে যায়। চুপ করে থাকে। মাথা নিচু করে রাখে। হেডমাস্টার চলে যান।
আরজ আলী নরম স্বরে বলেন, বস সবাই।
ছেলেমেয়েরা কথাবার্তা না বলে চুপচাপ বসে পড়ে। নিজেদের জায়গায় বসে, উদগ্রীব কণ্ঠে টিচারের দিকে তাকিয়ে থাকে।
স্যার।
বল।
আমরা এখন কি করব?
আমি তোদেরকে রচনা লিখতে দেব।
কি রচনা স্যারগরুর রচনা লিখব?
হ্যাঁ, লিখ।
ছেলেমেয়েরা মাথা নিচু করে লিখতে থাকে। তখন তিনি ভাবেন, ওদেরকে কুকুরের রচনা লিখতে বললে ভালো হতো। সঙ্গে সঙ্গে ওদেরকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, এই তোরা থাম। গরুর রচনা লিখতে হবে না। তোরা কুকুর নিয়ে রচনা লিখ।
কুকুর, স্যার কুকুর নিয়ে লিখব?
তোরা কুকুর দেখিসনি?
সবাই চেঁচিয়ে বলে, হ্যাঁ দেখেছি। রাস্তাঘাটে কত কুকুর ঘুরে বেড়ায়।
লিখতে পারবি না?
একজন বলে, কুকুরতো গরুর মতো উপকারী না।
অন্যজন বলে, গরু গরিবের বাড়িতে থাকে। বড়লোকেরা কুকুর পালে। কুকুর বড়লোকের বাড়িতে থাকে। রোজ রোজ মাংস খায়। আমরা রোজ রোজ মাংস খাই না। কোরবানীর ঈদের সময় এক-দুই দিন খেতে পাই।
হি-হি করে হাসে ছেলেমেয়েরা।
এই থাম। থাম। আরজ আলীর মনে হয় ওদেরকে থামানোর জন্য তাঁর কণ্ঠে মিনতি। তিনি চিৎকার করে কথা বলতে পারছেন না। একসময় ওরা নিজেরা থামলে তিনি বলেন, তোরা নেড়ি-কুকুর নিয়ে রচনা লিখ। ওটা কারো বাড়িতে থাকে না। পথে-ঘাটে-বাজারে ঘুরে বেড়ায়।
স্যার ঠিক, ঠিক স্যার। আমরা নেড়ি কুকুর নিয়ে রচনা লিখব। এই কুকুর মানুষের বাড়িতে থাকে না। নিজের খাবার নিজে খুঁজে খায়। ওর কপালে মাংস কমই জোটে।
ছেলেমেয়েদের মাথা ঝুঁকে পড়ে খাতার ওপর। তিনি এতক্ষণ দাঁড়িয়েছিলেন। শান্ত ক্লাসে তিনি চেয়ারে বসেন। খোলা দরজা দিয়ে বাইরে তাকান। ঘরে দৃষ্টি ঘুরে এলে খেয়াল করেন লাল টুকটুকে ফিতা জড়ানো একটি মেয়ের চুলে। যেন তার রোকেয়ার শৈশব লাল রিবনে ফুটে উঠেছে। আরজ আলী হাঁ করে তাকিয়ে থেকে বিড়বিড় করে বলে, কেমন আছিস মা তুই? তোর জন্য আমার গর্ব আছে। আমার মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, এটি কম বড় কথা নয়! গাঁয়ের সব ঘরে এই খবর আছে। আমার নুন আনতে পান্তা ফুরালে কী হবে পিতার গৌরব যার থাকে তার আর নুনই বা কি আর পান্তাই বা কি!
তখন ছেলেমেয়েরা নিজেদের খাতা তাঁর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে, স্যার হয়ে গেছে। নেড়ি-কুকুর নিয়ে আমরা অনেক কিছু লিখতে পেরেছি। অনেক মজা করে লিখেছি স্যার।
দে, খাতা দিয়ে যা।
আজ আমাদের ছুটি স্যার?
হ্যাঁ ছুটি, যা।
ছেলেমেয়েরা হুটোপুটি করে বেরিয়ে যায়। আরজ আলী শূন্য ঘরে একা। ছেলেমেয়েদের খাতা পরীক্ষা করেন। ভাবেন, আজ বাড়ি ফিরবেন না। দুটো বেঞ্চ জোড়া লাগিয়ে শুয়ে থাকবেন। আজ তার খিদে পাবে না। পানির পিপাসাও পাবে না। তিনি ভাববেন এই হরিপুর গ্রামে বাস করে তিনি অজানার পথে যাত্রা করবেন। কারণ আর পাঁচ দিন পরে তিনি ঢাকা শহরে যাবেন এক গৌরবের দায়িত্ব পালন করতে। তখন তাঁর ক্লাসে আসেন হেডমাস্টার। তাঁর টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে খেঁকিয়ে বলেন, এইসব খাতাপত্র নিয়ে এমন বেকুবের মতো বসে আছেন কেন আরজ মাস্টার?
ছাত্রছাত্রীকে নেড়ি-কুকুর নিয়ে রচনা লিখতে বলেছিলাম।
নেড়ি কুত্তা? আপনার কি কাণ্ডজ্ঞান কমে গেছে? নাকি --
আমার কাণ্ডজ্ঞান ঠিকই আছে হেড মাস্টার সাহেব।
তাহলে আপনার কি হয়েছে?
ছেলেমেয়েরা লিখেছে, নেড়ি-কুকুর স্বাধীন প্রাণী। সারা গাঁয়ে ঘুরে বেড়ায়। যেখানে খুশি সেখানে শুয়ে থাকে। নেড়ি-কুকুরের মাথা আছে, দুইটি চোখ একটি নাক আছে। দুটি কান একটি বাঁকানো লেজ আছে। আর চারটি পা আছে। নেড়ি-কুকুর চার পায়ে সাঁই সাঁই করে দৌঁড়ায়। কুকুরের পা খুব দামী। গল্পে আছে স্কুল ইন্সপেক্টরের এক পায়ের জন্য যেই টাকা ব্যয় হয় স্কুলের শিক্ষকরা সেই পরিমান টাকা বেতন পান না। আমাদের এই স্কুলের স্যারদের এখন তেমন অবস্থা। সেইজন্য তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন। এখন থেকে আমরা নেড়ি-কুকুরকে আরও বেশি ভালোবাসবো। পারলে ওদেরকে দুধ খেতে দিব।
হেডমাষ্টার দুটি খাতা পড়ে সব খাতা টেবিল থেকে নিচে ছুঁড়ে ফেলেন। চিৎকার করে বলেন, আপনি ছাত্র-ছাত্রীকে নষ্ট করেছেন। আমরা যে আমাদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছি এসব কথা ওদেরকে আপনার বলার দরকার কি?
আমরা যখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবীর স্মারকলিপি দিতে যাব তখন স্কুল বন্ধ থাকবে না?
না, স্কুল বন্ধ থাকবে না। অন্য চিটাররা তো থাকবে। আমি আর আপনি শুধু ঢাকায় যাব। আপনি বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না আরজ মাস্টার।
আরজ আলী মাতুব্বর ঠান্ডা গলায় বলেন, আমি যা সত্য তা বলি। আমি কোনো বাড়াবাড়ি করি না।
ওহ বাবা, আপনি তো দেখছি সত্যপুত্র যুধিষ্ঠির, কথা বলতে বলতে হেডমাস্টার বেরিয়ে যান। আরজ আলী মাতুব্বর ছাত্র-ছাত্রীদের খাতাগুলো ভাঁজ করে টেবিলে তোলেন। ক্লাসঘরের মাটির মেঝেতে বসে থাকার কারণে তাঁর পায়জামা ধুলিমলিন হয়ে যায়। পাঞ্জাবির নিচের অংশও নোংরা হয়। ভাবেন, জীবনতো এমনই ধুলো-কাদায় মাখামাখি হয়ে থাকে। তারপরও তুলে ধরতে হবে এইসব শিশুদের জীবন। দায়িত্ব এড়ানো দায়িত্ববানের কাজ নয়। স্কুলঘর থেকে বের হয়ে তিনি যখন মেঠোপথে হেঁটে যান, দেখতে পান ফসলের ক্ষেত সবুজ হয়ে আছে। ফসল কাটার সময় হয়নি। তাঁর মনে হয় মেঠোপথে হেঁটে যাওয়া মানুষের ক্লান্তি থাকে না। এই পথে হাঁটতে তাঁর বেশ লাগছে। তিনি আরজ আলী মাতুব্বর। একজন স্কুল শিক্ষক। স্বল্প বেতনের মানুষ। নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাওয়াদের দলে। তাতে কি, তারপরও শিক্ষকের মর্যাদাতো তার আছে। তিনি আসলে মর্যাদাবান মানুষ। নানা ভাবনায় তাঁর পায়ের গতি দ্রুত হয়। তিনি বাড়ি এসে পৌঁছান।

পরদিন ছোট একটি ব্যাগ নিয়ে বাসে ওঠেন। হেডমাস্টার সাহেবও আছেন। ঢাকায় গিয়ে তাঁরা আলাদা হয়ে যাবেন। তিনি যাত্রাবাড়িতে বড় ছেলের বাসায় উঠবেন। হেডমাস্টার যাবেন মেয়ের বাসায়। বাস ছাড়ার পর রোকেয়া ফোন করে। ভেসে আসে তাঁর আদরের কণ্ঠ, আব্বা! আপনি কি বাসে উঠেছেন?
আমি রওনা করেছি মা। তোমাকে দেখার জন্য আমার মন উতলা হয়ে আছে। তুমি ভালো আছ তো মা?
আব্বা, আমি খুব ভালো আছি। সাত দিন পরে আমার পরীক্ষা শুরু হবে। মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করছি। ফার্স্ট ক্লাশ আমি পাবোই আব্বা।
আমি রাতদিন তোমার জন্য দোয়া করি। আমি তোমার গর্বিত পিতা।
আব্বা -- হাসিতে মিলিয়ে যায় মেয়ের কণ্ঠ। হাসিতে ভরে থাকে বাতাসের তরঙ্গ। গর্বিত পিতার আনন্দ নিয়ে আরজ আলী বাসের ঝাঁকুনি উপভোগ করেন। স্বপ্ন দেখেন তাঁদের আন্দোলন সফল হয়েছে। বেসরকারি প্রাইমারি রেজিস্টার্ড স্কুলগুলো জাতীয়করণ করেছে সরকার। তাঁদের অভাব ঘুচেছে। মেয়েটি যে ধার করে পরীক্ষার ফিস জমা দিয়েছে সে টাকাটা শোধ দিতে তাঁর কোনো বেগ পেতে হবে না।
সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছালেন। নাসেরের বাসায় জড়ো হয়েছে খলিল আর রোকেয়া। সবাই মিলে রাতের খাবার খেলেন। তিনি বললেন, আমাকেতো কাল আটটার মধ্যে শহীদ মিনারে পৌঁছাতে হবে। ওইখান থেকে আমাদের মিছিল প্রধানমন্ত্রীর অফিসের দিকে যাবে। আমরা তাঁর হাতে স্মারকলিপি দেব।
আপনি শুয়ে পড়েন। সকালে আমি আপনাকে শহীদ মিনারে পৌঁছে দিয়ে আসব। রাতে আমি আর হোস্টেলে ফিরব না। আসেন আব্বা।
আরজ আলী শুয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোররাতে ঘুম ভেঙে যায় তাঁর। মিছিলে যাওয়ার উত্তেজনায় বাকি রাতটুকু আর ঘুম আসে না। একই ঘরের মেঝেতে বিছানা করে শুয়েছে রোকেয়া। হঠাৎ হঠাৎ খুকখুক কাশে ও। ভাবেন, মেয়েটির কি শরীর ভালো নেই? শহীদ মিনারে পৌঁছে দেবে ও। ওকে কি এখন উঠতে বলবেন? না থাক। নিজেই ঘুম থেকে উঠবে। তিনি কপালের ওপর হাত রেখে দুচোখ বুঁজে থাকেন।
দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষকরা এসেছেন। বেশ লম্বা মিছিল শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা শুরু করে। শাহবাগে আসার সঙ্গে সঙ্গে মিছিল থামিয়ে দেয় পুলিশ। আর এগোতে দেবে না। তাঁদের নেতারা থেমে থাকতে রাজী নন। বলেন, আমরা নিজের হাতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেব। হুঙ্কার দেয় পুলিশ -- তা হবে না। এক পাও সামনে যাওয়া যাবে না।
শুরু হয় কথা কাটাকাটি। তারপর লাঠিচার্জ। ধ্বস্তাধ্বস্তি। গরম পানি ছিটানো। টানা-হেঁঁচড়ায় রাস্তায় পড়ে যান কেউ কেউ। একজন জিজ্ঞেস করেন, আমার পুলিশ রতন তোমার বাবার নাম কি?
আমার বাবার নাম দিয়ে আপনি কি করবেন? দরকার কি আপনার?
বাবার নাম কি ভুলে গেছ মানিক?
অদ্ভুত তো! সব জায়গায় কেবল মাস্টারি করা।
তখন দাঁতমুখ খিঁচিয়ে তেড়ে উঠেন আরজ আলী মাস্টার। বলেন, আসলে তোর বাপের পরিচয় নাই। তুই একটা জাউরা পোলা।
কি বললেন!
আরজ আলীকে চিৎ করে দিয়ে তাঁর বুকের ওপর পা তুলে দেয় একজন পুলিশ। তাঁর প্রশস্ত বুকের খাঁচার ওপর বিশাল বুট দানবের মতো বীভৎস আকার নিয়ে ফুটে ওঠে। আরজ আলী মাতুব্বর ভয়ে চোখ বন্ধ করেন প্রথমে। তারপর আকস্মিক চিৎকারে ফেটে পড়েন।
তুই কি ভুলে গেছিস যে আমি একজন শিক্ষক। হায় আল্লাহ আমি কি তোদেরকে কিছুই শেখাতে পারিনি?
না, কিছুই শেখাননি। যা শিখিয়েছেন তা কোনো কাজে লাগে না।
আরজ আলী অনুভব করেন, তাঁর বুকের উপর পুলিশের বুট চেপে আছে। চাপ বাড়তে থাকে। তাঁর দম ফুরিয়ে আসছে বোধ হয়। তিনি বলেন, মা রোকেয়া তোমার পরীক্ষার ফিসের টাকা আমার আর দেয়া হলো না। আমি ওই টাকা জোগাড় করব বলে অধিকারের দাবি নিয়ে ঢাকা শহরে এসেছিলাম। বুটের চাপ খানিকটা হালকা হয়। তিনি বড় করে শ্বাস ফেলেন। তিনি শুধু জানতে পারেন না যে তার মেয়েটি তাঁকে কখনো বলেনি, বাবা আমি আর কুমারী নেই।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন