শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৩

লিখতে শুরু করলেই দৃশ্য ভেসে উঠত

রূপঙ্কর সরকার
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
নাট্যকার। আলোকচিত্র শিল্পী। এবং গল্পকার।  অন্তর্জালের গল্পকার হিসেবেই নিজেকে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন রূপঙ্কর সরকার। থাকেন কোলকাতায়। মিতবাকে বলেছেন নিজের গল্পের ভুবন।  --গল্পপাঠ
------------------------------------------------------------------------------------------------------------

১. গল্প লিখতে শুরু করলেন কেন?

-  শুরু করেছি অনেক আগে। যখন ছাত্র ছিলাম তখনই। লিখতে ভাল লাগত, তাই লিখতাম। এর পরে নাটকের জগতে চলে এলাম। তখন কেবলই নাটক লিখেছি, ভাল বাংলা নাটকের অভাব বোধে। আবার বহুকাল পর একটি ওয়েব ম্যাগ থেকে অনুরোধ আসাতে গল্প লিখতে পুনরারম্ভ করলাম।

 ২. শুরুর লেখাগুলো কেমন ছিল?

- শুরুর লেখা বলতে সেই ছাত্র জীবনের লেখা। সেগুলো খুবই প্রশংসিত হয়েছিল। এমনকি আমার একটি গল্প অবলম্বনে একটি বিখ্যাত ছায়াছবিও হয়। অবশ্য ছবির প্রযোজক নিশ্চয়ই জানতেননা, যে গল্পটি আমার। সেটি এক বিখ্যাত ঔপন্যাসিকের জিম্মায় ছিল, সেখান থেকে চুরি যায়।

৩. গল্প লেখার জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছেন? নিলে সেগুলো কেমন?

- বিশেষ কোনও প্রস্তুতি নিয়েছি বলে মনে পড়েনা। গল্প মাথায় এলে, ছেঁড়া ছেঁড়া কিছু দৃশ্য চোখের সামনে ভাসে, আমি কেবল সেগুলো জুড়ে দিই


৪. আপনার গল্পলেখার কৌশল বা ক্রাফট কি?

- কোনও কৌশলই নেই। আগেই বলেছি। কিছু খন্ডিত দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে। এমনকি ঘুমের মধ্যে স্বপ্নেও আসে। তাড়াতাড়ি উঠে, যেটুকু মনে পড়ে, তা লিখে নিই কোনও স্ক্র্যাপ কাগজে। পরে খালি সেগুলো জুড়ে দিই। যখন নাটক লিখতাম, তখনও এমনি হ’ত। কোন দৃশ্যে কে ঢুকবে বা মোট চরিত্র ক’টি, কিছুই আমার জানা থাকতনা, লিখতে শুরু করলেই দৃশ্য ভেসে উঠত, আর আমি খালি লিখে যেতামআমার নিজস্ব অবদান বলতে, দৃশ্যগুলিকে ভাষায় রূপান্তর করা, আর কিছু নয়।


৫. আপনার নিজের গল্প বিষয়ে আপনার নিজের বিবেচনা কি কি?

- এইটুকু বলতে পারি, আমার নিজের লেখা পড়তে তো খুব ভালই লাগে।

 ৬. আপনার আদর্শ গল্পকার কে কে? কেনো তাঁদেরকে আদর্শ মনে করেন?

- আমি বাংলা গল্প বিশেষ পড়িনি। ছাত্র জীবনে, সমারসেট মম, গী দ্য মপাসাঁ এবং ও হেনরির কিছু গল্প পড়েছিলাম, তাও ৪০/৪৫ বছর আগে। বাংলা গল্প আমার পড়া হয়ে ওঠেনা, তার জন্য আমি বিশেষ লজ্জিত। যে বিদেশি লেখকদের লেখা পড়েছি, তাঁদের আদর্শ মনে করার কোনও কারন ঘটেনিতাঁদের লেখা পড়েছিলাম এক সময়ে এবং পড়তে ভাল লেগেছিল, এই মাত্র। হ্যাঁ, তবে একেবারে হাল আমলে হুমায়ুন আহ্‌মেদের হিমু ও মিসির আলি সিরিজের প্রায় সব লেখাই পড়ে ফেলেছি। বিদগ্ধ মহলে ওঁর সাহিত্যপ্রতিভা নিয়ে কিঞ্চিৎ সংশয় প্রকাশ হয়েছে, তাও দেখেছি। আমি প্রতিভার কারবারি নই, ওঁর গল্পে ডিটেলের অসংখ্য ভুল থাকা সত্বেও আমার পড়তে খুব ভাল লাগত, এটুকু বলতে পারি।


৭. কার জন্য গল্প লেখেন? আপনি কি পাঠকের কথা মাথায় রেখে লেখেন? লিখলে কেনো লেখেন? আর যদি পাঠকের কথা মনে না রেখে লেখেন তাহলে কেনো পাঠককে মনে রাখেন না লেখার সময়ে?

- সম্ভবতঃ এই প্রশ্নের উত্তর আগে দেয়া হয়ে গেছে। আমি কারো কথা মাথায় রেখেই লিখিনা। মাথায় দৃশ্য আসে, আমি জুড়ে দিই, এই মাত্র। আমার গল্পের চরিত্রদের নামও চলে আসে সেভাবেই। আমি কখনও কোনও নাম নিয়ে সমস্যায় পড়িনি।

 ৮. এখন কি লিখছেন?

- যেহেতু নাটকের জগত থেকে সরে এসেছি, গল্পই লিখে যাচ্ছি যখন যা মাথায় আসছে। কিছু ছড়াধর্মী বা অন্তমিলযুক্ত পদ্যও ( কবিতা বলতে পারছিনা) লিখেছি ইত্যবসরে।

৯. আগামীতে কি লিখবেন?

- যদি নাটকের জগতে ফিরে না যাই, গল্পেই থাকব। আসলে আমার নাটক অন্য কেউ পরিচালনা করলে, আমার মনে হয়, তারা নাটক নষ্ট করছে। নিজে পরিচালনা করার এখন কিছু শারীরিক অসুবিধা আছে। নাটকে ফিরলে নাটকই লিখব, ওটাই প্রথম প্রেম। 



লেখক পরিচিতি
বয়স : ৬৫ বছর
প্রকাশিত বই :  ‘ধানাই পানাই’ ( প্রকাশ, জানুয়ারি, ২০১৩)
লেখক পরিচিতি :  প্রধাণতঃ নাট্যকার ও নির্দেশক। এখন শারীরিক কারণে 
                           নাটকের ধকল সহ্য হয়না বলে গল্প লিখছেন।






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন