রবিবার, ১১ মে, ২০১৪

'গোত্রপিতার হেমন্ত'

'গোত্রপিতার হেমন্ত'
লস্ট ইন ট্রান্সলেশন

অদিতি ফাল্গুনী

তরুণ বয়সে মানুষের দুঃসাহস কিছু বেশি থাকে। যেমন আমারও ছিল। সম্ভবত এজন্যই আজ থেকে আরো বছর দশেক আগে (১৫ ডিসেম্বর ২০০৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০০৪ নাগাদ) এক মাস ধরে সদ্য প্রয়াত কলম্বিয়ান তথা ল্যাটিন আমেরিকান ঔপন্যাসিক, একই সাথে কোটি মানুষের হূদয়ে জনপ্রিয় ও শিল্পের যাবতীয় শর্ত মেনে অতীন্দ্রিয় ভুবন বিস্তারী লেখক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের 'দ্য অটাম অফ দ্য প্যাট্রিয়ার্ক' উপন্যাসটি অনুবাদের কাজে হাত দিই এবং মাত্র এক মাসের ভেতর শ-দুয়েক পাতা অনুবাদ করেও ফেলি। অবশ্য মূল ভাষা (হিস্পানী বা স্প্যানিশ) থেকে করা হয়নি। বইটি আমি অনুবাদ করেছি মার্কেসের প্রধান অনুবাদক গ্রেগোরি রাবাসার করা অনুবাদ থেকে। মার্কেস নিজেই যার অনুবাদ খুব পছন্দ করতেন। মনে করতেন, তাঁর বাক্যের জাদুকরী কাব্যময়তা অনেকটাই রক্ষা করতে পারেন রাবাসা। এখন পেছন ফিরে তাকালে অবিশ্বাস্য লাগে। নিজেরই বিশ্বাস হতে চায় না! সত্যিই কি এটা করতে পেরেছিলাম আমি?

১৯৮২ সালে নোবেল পাবার পর মার্কেসের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং একইসাথে শৈল্পিকভাবেও সফলতম উপন্যাস যেটাকে ধরা হয় সেই 'ওয়ান হানড্রেড ইয়ার্স অফ সলিচিউড' বা 'নিঃসঙ্গতার শতবর্ষ' সারা বিশ্বে বিভিন্ন ভাষায় কয়েক কোটি কপি বিক্রি হয়। তবে মার্কেসের নিজের কাছে সেরা কাজ বলে মনে হতো 'এল ওতোনো দেল প্যাত্রিয়ার্কা' বা 'দ্য অটাম অফ দ্য প্যাট্রিয়ার্ক'। সমালোচকদের মতে, এটা মার্কেসের দুরূহতম উপন্যাস। বইটি প্রথম খুঁজে পেয়েছিলাম শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের 'বিদিত'-এ। তার আগে কয়েকদিন কেন জানি পড়াশোনায় একদম মন বসছিল না। টানা এক সপ্তাহের বেশি কোনো বই-পত্র বা এমনকি পেপারও পড়তে ইচ্ছে করছিল না। এমন এক ক্লান্ত বিকেলে 'বিদিত'-এ বইটি দেখে অন্যমনস্কভাবে নাড়াচাড়া করতে গিয়ে সেই যে চুম্বকের মতো আটকে গেলাম... সতেরো পৃষ্ঠা টানা পড়ার পর হুঁশ হলো। নাহ্, এভাবে দাঁড়িয়ে পড়ার চেয়ে কিনে ফেলি। প্রথম লাইনের চিত্রকল্পই কী অদ্ভুত আর উজ্জ্বল, আমার অক্ষম অনুবাদে যা এমন : 'সপ্তাহ শেষের দিনগুলোতে শকুনের ঝাঁক রাষ্ট্রপতি প্রাসাদে নেমে এসে ব্যালকনির জানালার পর্দা অবিরত ঠুকরিয়ে আর ডানা ঝাপটানোর উন্মত্ত শব্দে ভেতরের নিশ্চল সময়কে উত্তেজিত করে তুললো এবং সোমবার সকালে এক মহত্ ব্যক্তির মৃত ও পচনশীল মহিমার গন্ধবাহী তপ্ত অথচ কোমল বাতাসে নগরী জেগে উঠল তার শতাব্দীর আলস্য ঝেড়ে, শুধু তখনি আমরা সাহস পেলাম ভেতরে ঢোকার (Over the weekend the vultures got into the presidential palace by pecking through the screens on the balcony windows and the flapping of their wings stirred up the stagnant time inside, and at dawn on Monday the city awoke out of its lethargy of centuries with the warm, soft breeze of a great man dead and rotting grandeur)।' অবাক হয়ে ভেবেছিলাম এমন বাক্যও হয়? এমন দীর্ঘ কবিতার মতো বাক্যনিচয়?

সেসময় আমি কাজ করি 'দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট' পত্রিকায়। প্রতিবেদকের চাকরি। সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত কাজের ঘড়ি চলে। তারই ফাঁকে ফাঁকে অফিসের ডেস্কে বসে মাঝে মাঝে পড়ি। দীপ্ত এক সমুদ্ররেখার স্থির চিত্র তখন আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ইংরেজি পত্রিকার কম্পিউটারগুলোতে সাধারণত বাংলা হরফ থাকে না। একদিন অফিসের আইটি এক্সপার্টকে বলে-কয়ে বিজয় ইনস্টল করালাম। মুশকিল হচ্ছে, আমি নিজেই তখনো ভালো বাংলা টাইপ করতে পারি না। কখনো কখনো একগাদা ইংরেজি রিপোর্ট লেখার ফাঁকে চকিতে এক-আধ প্যারা বাংলায় হাতড়ে হাতড়ে টাইপ করি, তারপর আবার এন্তার কেজো লেখার স্তূপ। এভাবেই আর এক ডিসেম্বর এসে গেল। একদিন খোদ সম্পাদকের রুমে ঢুকে একটি দরখাস্ত দিলাম। একমাস 'বিনা বেতনে' ছুটি চাই। কেন? অনুবাদ করব। কী অনুবাদ করবে? একটি ল্যাটিন আমেরিকান রাজনৈতিক উপন্যাস। সম্পাদক অবাক হলেও ছুটি দিলেন। একমাস ধরে বাসায় প্রতিদিন সকালে অনুবাদ শুরু করতাম। মাঝে মাঝে ঘুমাতাম। আবার কাজ করতাম। শুরুর দিকে বাংলা টাইপ ছিল মন্থর। তিন-চার দিনের ভেতর ঝড়ো টাইপ আয়ত্ত্বে এসে গেল বাংলাতেও। একমাসে অনুবাদ শেষ করে অফিসে ফেরার দু'দিন পর অবশ্য কর্তৃপক্ষ আমাকে অব্যাহতিপত্র দেন। আমার পরম সুহূদ কিছু সহকর্মী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়েছিলেন, আমি এই এক মাস অন্য নানা জায়গায় কাজ খুঁজে না পেয়ে আবার ফিরে এসেছি। এটা 'বিদ্রোহ' হিসেবে ধরা হয়েছিল এবং আমাকে কিছু জিজ্ঞেস না করেই শাস্তি চূড়ান্ত হয়েছিল। তবে সাহিত্য ও অ্যাক্টিভিজমের জীবনে চড়াই-উতরাই থাকেই যা আমি আমার নিয়তি বলেই মেনে নিয়েছি। আরো এই অতি পবিত্র বাঙালি লোক সমাজে এমনটি ঘটেই।

বইয়ের প্রসঙ্গে ফিরে আসি। স্প্যানিশ ভাষায় 'এল ওতোনো দেল প্যাত্রিয়ার্কা' এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। মূল থেকে ইংরেজিতে রাবাসা বইটি অনুবাদ করেন ১৯৭৬-এ। মার্কেসের অধিকাংশ বই বাংলা ভাষায় এপার ওপার দুই বাংলাতেই অনুবাদ হলেও এই বইটি এপার বাংলায় সম্ভবত আমিই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র অনুবাদ করেছি। দীর্ঘ যত বাক্যবন্ধ ও স্বল্প সংলাপে লেখা এ গ্রন্থটি এক অনির্দিষ্ট ক্যারিবীয় রাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে লেখা। কাহিনির মূল নায়ক এক গোত্রপিতা এবং একটি রাষ্ট্রের একনায়ক যিনি দেশটি শাসন করেছেন ২০০ বছর ধরে।

কে এই গোত্রপিতা বা একনায়ক? ক্যারিবীয় সাগরের উপকূলে এক দরিদ্র দেশের পাহাড়ি এলাকার যাযাবর পাখিওয়ালী বেনদিসিয়ো আলভারাদোর গর্ভের বিবাহ বহির্ভূত অবৈধ সন্তান যিনি কখনো স্কুলে যেতে পারেননি পয়সার অভাবে তিনিই কালক্রমে হয়ে ওঠেন সেদেশের একনায়ক। রাষ্ট্রের শাসনভার নেবার সময়েই এক রেড ইন্ডিয়ান ভবিষ্যত্ গণনাকারিণী বৃদ্ধা তাঁকে বলেছিলেন, তিনি ১০৭ থেকে ২৩২ বছর অবধি বাঁচবেন। তাইই হয়। জেনারেল অনন্তকাল অবধি বেঁচে থাকেন আর শাসনকাজ অব্যাহত রাখেন। তিনি অসুখের নিরাময়কারী, ভূমিকম্প, বন্যা ও মহামারীর সংশোধনকর্তা আর তাঁর হাত থেকেই রাষ্ট্রের যত অন্ধ, খঞ্জ ও কুষ্ঠরোগীরা সুস্থ হবার জন্য লবণ নেয়। তাঁর হারেমে এক হাজার উপপত্নী জেনারেলের ঔরসে তাদের সাড়ে সাতমাস বয়সী দেখতে বামুন সন্তানদের নিয়ে বাস করে যেহেতু জেনারেলের কোনো সন্তানই স্বাভাবিক মানব সন্তানের চেহারা ও বৃদ্ধি নিয়ে জন্মায় না।

অদ্ভুত ব্যপার হলো, উপন্যাসটি পড়তে পড়তে বারবারই মনে হয়েছে, এ যেন আমাদের শৈশব-কৈশোরের লম্পট বেহায়া স্বৈরাচারী একনায়ক এরশাদের আখ্যানই পড়ছি। মার্কেসের এই উপন্যাসে রাষ্ট্রের জনগণ কোনোদিন জেনারেলকে দেখতে পায়নি। দেশটির পত্র-পত্রিকায় জেনারেলের গতকালের ছবি বলে যেসব ছবি ছাপা হয় সেসব আলোকচিত্র হয়তো এক শতাব্দী আগেকার জেনারেলের কোনো ডামির ছবি যাকে একনায়কই হয়তো পরে হত্যা করেছেন কোনো বিশেষ কারণে। পুরো উপন্যাসে জেনারেলের কোনো নাম জানান না লেখক। তবে জানা যায় তাঁর ডামি প্যাট্রিসিয়া আরাগোনেস (এক গণঅভ্যুত্থানে জেনারেলের উদ্দেশে ছোঁড়া গুলি গায়ে বিদ্ধ হলে যিনি মারা যান), জেনারেলের সহযোদ্ধা স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনারেল রড্রিগো দ্যু আগুইলার যাকে পরবর্তীকালে জেনারেল নিজেই হত্যা করেন, রেড ইন্ডিয়ান জেনারেল সাতুর্নো সান্তোস, উচ্চাকাঙ্খী বেসামরিক যুবক জোসে ইগনাসিয়ো স্যায়েনজ্ দ্যু লা বারা (যদিও স্প্যানিশ উচ্চারণরীতি অনুযায়ী জোসে শব্দটির উচ্চারণ হবে হোজে, কিন্তু এই গ্রন্থে সাধারণ পাঠকের সুবিধার্থে আমি ইংরেজি উচ্চারণরীতিই অনুসরণ করেছি), ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের সহায়তায় যে দেশপ্রেমিক যোদ্ধাকে হত্যা করে তাঁর ক্ষমতায় আরোহণ সেই জেনারেল লোটারো মুনেজ, গোত্রপিতার একমাত্র বৈধ স্ত্রী লেতিসিয়া ন্যাজারেনো অথবা গোত্রপিতা যে তরুণীর প্রেমে উন্মাদ হয়েছিলেন সেই ম্যানুয়েলা স্যানচেজ ও আরো অনেকের নাম। অসংখ্য হত্যাপ্রচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করেছেন জেনারেল, দু হাজার শিশুকে ডিনামাইটের তোপে সমুদ্রে উড়িয়ে দিতে তাঁর মুহূর্তের দ্বিধা হয়নি, দেশের যেকোনো নারী বা কিশোরীকে যখনই চেয়েছেন সম্ভোগ করেছেন বলপ্রয়োগে, ক্ষমতার সম্ভাব্য সমস্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি হত্যা করেছেন। পুরোটাই কি আমাদের এরশাদের কাহিনি নয়? খানিকটা শ্রীলঙ্কার একনায়ক রাজাপাক্ষের মতোও। ২০১০-এ কলম্বো যাবার সুযোগ হয়েছিল। বিমানবন্দর থেকেই শুরু হয় রাজাপাক্ষের ঝুলন্ত ছবির প্রদর্শনী। শহরের বড় সব রাস্তা জুড়েই তার ছবি। রাষ্ট্রীয় টিভিতে সংবাদের শুরুতে তার ছবি। অথচ খোদ সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলীদের ভেতরেও তার বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ। মাত্র এক বছর আগে প্রভাকরণকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। কলম্বোর টিভি, পত্র-পত্রিকা, অফিস-আদালত বা রাস্তা-ঘাটে সিংহলী বৌদ্ধ, মুসলিম বা খ্রিস্টান দেখলেও আমি কোনো তামিল দেখিনি। তবু সিংহলীদের ভেতরেই রাজাপাক্ষের সাথে দেশের চিত্রনায়িকা ও মডেলদের নিয়ে স্ক্যান্ডাল, তার ভাইকে সেনাবাহিনী প্রধান করা এবং দেশের ক্রমবর্দ্ধমান দ্রব্যমূল্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখেছি।

মার্কেসের এই উপন্যাসে দেশের মানুষ আশায় আশায় বুক বাঁধে, এই বুঝি জেনারেল মারা গেলেন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায়, কোনো বিপ্লবী অভ্যুত্থানে বা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে। বহুবার তাঁর মৃত্যুর গুজব রটে, এমনকি তাঁর মৃতদেহ পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু শেষাবধি দেখা যায়, ওই শবদেহটি কোনো ডামির বা তিনি নিজেই মৃত্যুর অভিনয় করেছেন সহযোগীদের আসল চেহারা চিনে নিতে। কোনো বিপ্লব প্রচেষ্টাই আর সফল হয় না। কারণ প্রগতিশীলেরা শেষপর্যন্ত বারবার আন্দোলন বিক্রি করে দেয় রক্ষণশীলদের হাতে। নিরক্ষর একনায়ক লিখিত আইনের দুর্বলতা সহ্য করেন না বলে মুখে মুখে আইন রচনা করেন এবং রাষ্ট্রীয় ডিক্রির পিঠে বৃদ্ধাঙ্গুলির কালির ছাপ ঘষে দেন তাঁর স্বাক্ষর তথা চূড়ান্ত রাষ্ট্রীয় সিলমোহর হিসেবে। দেশের মানুষ তাঁর মুখচ্ছবি উত্কীর্ণ দেখতে পায় মুদ্রায়, ডাকবিভাগের খাম বা কন্ডোমের মোড়কে, যদিও তারা জানে এই ছবি আসলে গোত্রপিতার প্রতিকৃতির অনুকৃতির অনুকৃতির অনুকৃতি যা দেখেছে তাদের পিতাদের পিতাদের পিতাদের পিতাগণ। সামরিক শাসন বা একনায়কতন্ত্রের ওপর কতটা ক্ষোভ থাকলে এমন রচনা সম্ভব, তা-ই ভাবি।

অনুবাদকের পাশাপাশি সৃজনশীল লেখক হিসেবেও আমাদের দেশের, আমারই শৈশব কৈশোরে দেখা একনায়ককে নিয়ে একাধিক গল্প ও উপন্যাসের ভাবনা আমার মাথায় আছে বহুদিন ধরে (যদিও সেই একনায়ককে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য সাবান দিয়ে ধুইয়ে-মুছে পরিষ্কার করছে এদেশেরই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দল; নানা কারণে সেই দলটিকে মনে না নিলেও আমাদের মেনে নিতে হয়)। জীবন-জীবিকার সংগ্রাম, গত একবছরের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ফেসবুক নামক 'প্রয়োজনীয় মন্দে'র প্রকোপে সুস্থিরভাবে লিখতে বসা হচ্ছে না।

মার্কেসের আর একটি ছোট ও তাঁর প্রথম উপন্যাসটিও আমি দীর্ঘদিন ধরেই অনুবাদ করব ভাবছি। হ্যাঁ, 'লিফ স্টর্ম' বা 'পাতাঝড়'। আরাকাতাকা নামের শহরে মার্কিন ফল বাজারজাতকরণ কোম্পানি 'ইউনাইটেড ফ্রুটস লিমিটিড'-এ সেখানে কলা চাষিদের ওপর যে নির্বিচার গুলি চালিয়েছিল তার ভিত্তিতে এই উপন্যাস তিনি রচনা করেছেন। তাঁর রচিত 'পেয়ারার সুবাস' আমার এত প্রিয় যে গতবছর একটি দৈনিকের ঈদ সংখ্যায় সিরাজ শিকদারের পেয়ারা বাগানের যুদ্ধ নিয়ে লেখা আমার উপন্যাসের (যা বই হিসেবে এখনো শেষ করতে পারিনি) নাম রাখব 'পেয়ারার সুবাস'। পৃথিবীর মহাকাব্য বা বড় উপন্যাসগুলোর শক্তিমত্তা এখানেই যে তাজমহলের যেমন মিনিয়েচার হয়, তেমনি এইসব মহাকাব্য বা উপন্যাসের ভেতরের সংবেগ ও স্ফূর্তি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সাসানিদ-পার্সি-মুঘল মিনিয়েচার পেইন্টিংয়ের মতোই আমরাও আমাদের প্রতিপার্শ্বকে ফুটিয়ে তুলতে পারি সমধর্মী মহত্ত্বের আদলে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন