রবিবার, ১১ মে, ২০১৪

দেশভাগের কথাপর্ব : জয়শ্রী সরকার--যে গৃহকর্তী বছরের পর বছর এ তুলসী গাছের তলে প্রদীপ দিয়েছে সে আজ কোথায়?

জয়শ্রী সরকারের বাড়ি নেত্রকোনায়। সংস্কৃতি কর্মী। বাংলাদেশ উদিচী শিল্পী গোষ্ঠীর সংগঠক। পেশাগতভাবে উন্নয়ন কর্মী। লেখেন কবিতা আর গল্প। দেশভাগ নিয়ে যখন জয়শ্রী সরকারের সঙ্গে কথা হয় তখন তিনি ঢাকা থেকে এসেছেন নেত্রকোনায় মায়ের কাছে। উঠোনে বসে আড্ডাঘরে সাক্ষাৎকার লিখছিলেন। সেটা ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৪ তারিখ।   এরপরে তিনিও ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ঢাকায় ফিরে গেছেন। তবে থেমে থাকেননি। মাঝে মাঝে আড্ডাঘরে যোগ দিয়েছেন। দেশভাগ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। শেষ হয়েছে এপ্রিল ২০১৪ তারিখে। 
--কুলদা রায়



কুলদা রায় : দেশভাগ শব্দটি আপনি কখন, কিভাবে, কোন প্রসঙ্গে প্রথম শুনতে পেয়েছিলেন?

জয়শ্রী সরকার : আমাদের একটা মাটির উঠোন ছিল। কোন এক দুপুরে মা স্কুল থেকে ফিরে বলেছিল পানি নিয়ে কি ঝামেলা হচ্ছে ইন্ডিয়া আর বাংলাদেশে। ফারাক্কা বাঁধ। কি যে হয় বলা যায় না। রায়ট, হিন্দুদের কচুকাটা করা, দেশভাগ ঐ শব্দগুলো সেদিন মা বলছিল। যে সময়টার কথা বললাম সেটা যতদূর মনে পড়ে আমার তৃতীয় শ্রেণীতে পড়বার আগে। কিন্তু আমি উঠানে বসেই ভাবছিলাম যে যুদ্ধ হলে কোথায় পালাবো। আমাদের একটি শালকাঠের বড় চকি ছিল। সেই চকির নীচে পালবার একটি পরিকল্পনা করছিলাম, আবার ভাবছিলাম যে বড় হবার পর যদি যুদ্ধ লাগে তবে তো আকাশ পর্যন্ত একটি সিড়ি বানাতে পারবো ‍ওটা দিয়ে অল্প সময়ের জন্যে আকাশে ওঠে যাবো। যখন বোমা, হেলিকপ্টার দেশ থেকে যাবে তখন এসে নামবো । কখনো ভাবতাম বন্যাদের ঘরে লুকিয়ে থাকবো। বন্যা ছিল পাশের ঘরের। মূলত মূসলমানদের তো আর তাড়াবে না। তাই ছোট্ট বুদ্ধিতে এর বেশি ভাবতে পারতাম না।
আসলে টেলিভিশনে তো যুদ্ধ দেখতাম, আর বলা চলে ছোটবেলা থেকেই বড়দিদি ভাইয়াকে উদীচীর প্রোগ্রামে নিয়ে যেতো মা, আমিও যেতাম দেখতে। তো কিছু কিছু গান তো শুনতাম, নাটক দেখতাম। খুব বেশি যে বুঝতাম তা না। কিন্তু একটা খারাপ কিছু, খুব বেশি ঝগড়া, এবং ইন্ডিয়া বাংলাদেশ হিন্দু মুসলমান এগুলোর মধ্যে একটা কি যেনো ঝগড়া আছে, তবে সেটা কি বুঝতাম না। একটু বড় হয়ে বইয়ে দেশভাগ শব্দটা পেয়েছি, আর একটু বড় হয়ে পেলাম একটি তুলসী গাছের কাহিনী। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সেই লাইনটি“আমরা যখন এ বাড়িতে এসে ওঠেছি তখন এখানে কোন হিন্দুয়ানীর চিহ্ন সহ্য করা হবে না”-এই শব্দকয়টা ছোট্ট মনে সেদিন যেমন কষ্ট দিত-- আজো দেয়। দেশভাগ এর স্পষ্ট ধারনা আমি ঐ গল্প থেকে প্রথম জেনেছিলাম। সেই গল্পটা আজো আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। যদিও এখন চারপাশেই অনেক আলামত দেখে আজ বুঝতে পারি দেশভাগের প্রেক্ষপটটি কেমন ছিল। তবে আজ আর চকির নিচে বা আকাশে সিড়ি দিয়ে ওঠে চলে যাবার কল্পনা করি না। আজ ভাবি আমার দেশ, আমার মাটি, কিসের দেশ ভাগ কিসের ভিটে বাড়ি চলে যাওয়া।

আপনি বলতে পারেন তৃতীয় শ্রেণীর আগে কিভাবে আমার উঠোনের কথা মনে থাকে। আমি খুব স্মৃতিকাতুরে। অনেক স্মৃতি এখনো আমার চোখে ভাসে। এই যে আপনাকে বলছি আমি এখন ঠিক উঠানোই বসে আছি। একটু ঝাপসা কিন্তু বুঝতে পারছি বসে বসে।


কুলদা রায় :  দেশভাগ বিষয়ে আপনার দাদু-দিদিমা বা অন্য কোনো আত্মীয়স্বজন কী বলেন?

জয়শ্রী সরকার :  আসলে আমার বাবার পরিবারের প্রায় সবাই ১৯৬৭ সালের দিকে বাড়িঘর ফেলে চলে গিয়েছিল ভারতে। ভুল বললাম চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু আমার বাবা যায়নি। বাবা দেশ ছেড়ে ১৫ দিনের বেশি গিয়ে বাইরে থাকতে পারে না।ঠাম্মা দাদুকে আমি কাছে পাইনি। আমরা দাদু দিদাকে পেয়েছি। দিদাও খুব আমার খুব ছোট বেলায় রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়। বাকী থাকে দাদু। সেভাবে দেশভাগের কথা সে গল্প করেছে কিনা কিছুতেই মনে করতে পারছি না। তবে হিন্দু মুসলামানের দাঙ্গা শব্দটি শুনেছি। মূলত ১৯৭১ এর গল্প অনেক বেশি শুনেছি। আর ঐ যে কিছু হলেই মা বা আশেপাশে বলতে শুনতাম কখন যে রায়ট লেগে যায়।এ শব্দগুলো একটা আতংকই ছিল। তবে আমি ওয়ালীউল্লার“ একটি তুলসী গাছের কাহিনীই আমাকে প্রথম দেশভাগ সম্পর্ক ধারনা দিয়েছিল। উনি ই আমাকে বলেছিলেন। ঐ গল্পটি পরেই আমি অনুভব করেছিলাম দেশভাগের মূল ঘটনা, বা অর্থ যাই বলেন। অনেকগুলো লাইন বিচ্ছিন্নভাবে মনে আসছে, যে গৃহকর্তী বছরের পর বছর এ তুলসী গাছের তলে প্রদীপ দিয়েছে সে আজ কোথায়? / লাল পাড়ের একটি মসৃন কালো শাড়ি, সে যেন দেখতে পায়। হয়তো সে শাড়িটি গৃহকর্তীরই কেমন বিষন্ন ভাবে সে শাড়িটি দোলে স্বপ্ন হাওয়ায়।


কুলদা রায় :  রায়ট বলতে তিনি কী বোঝাতেন? রায়টের ফলে কী ঘটতো? কেনো ঘটতো? এ বিষয়ে আপনার মা কী কী বলেন।

জয়শ্রী সরকার : রায়ট বলতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে বুঝাতো। তবে সাম্প্রদায়িক শব্দটা তো এতো ব্যবহার হতো না। এ শব্দটা অনেক বড় হয়ে আমি বুঝেছি। শুনতাম হিন্দু মুসলমানের যুদ্ধ। রাতের আঁধারে বাড়িঘর ফেলে চলে গেছে হিন্দুরা। তবে এগুলো বুঝেছি অনেক পরে। বড়মামা বলতো এই ভারতবর্ষ বিভিন্ন সময় দাঙ্গা হয়েছে। ৪৮ দেশভাগ, ৬৫ টি তে পাক-ভারত যুদ্ধ। ঐ সময়ই দাঙ্গা হয়েছে। তখন অনেক হিন্দুদের দেশ ছেড়ে রাতের আধাঁরে চলে যেতে হয়েছে। দেশভাগের ব্যাপারে আসলে খুব বেশি কিছু বড়দের মুখে শুনিনি। ঐ একটা শব্দই শুনেছি বারবার-- কখন যে আবার রায়ট লাগে। তবে মায়ের কাছে আমি ৭১ এর অনেক গল্প শুনেছি। ঐ সময় বা তার কিছু পরে আমার মায়ের দাদুর মামার বাড়ির প্রায় সবাই দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিল। আপনি চাইলে সে গল্পটা আমি বলতে পারি।


কুলদা রায় : বলুন।

জয়শ্রী সরকার :  আঠারোবাড়ি, আমার দাদুর মামার বাড়ি। দাদু মানে আমার মায়ের বাবা।আঠারো বাড়ির প্রান্তোষ সরকারের বাড়ি। পাটের বড় ব্যবসায়ী ছিলেন, এলাকায় নাম ধাম বেশ ছিল। এদেশ থেকে তো প্রায় দূর্যাগেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে। সাতাত্তর বা তার কিছ পরের দিকে তারাও সিদ্ধান্ত নেয় চলে যাবে। সেই সম্ভাবনা থেকে এক মুসলিম ব্যবসায়ী বন্ধুর কাছে বাড়িটি বিক্রি করবার কথা বলেন। এবং বায়না বাবদ অল্পকিছু টাকাও নেয়। তবে কথা হয় যেদিন তারা চলে যাবে তার আগে বাকী লেনদেন এবং বাড়ির সীমানা বুঝিয়ে দেয়া হবে।

সাড়ে উনিশ কাঠার উপর ভিটেতে ছিল অনেক গাছ, বাঁধানো পুকুরে সুসজ্জিত। বাড়ির মেয়েরা এই ঘাটে নিত্তপ্রয়োজনীয় কাজ ছাড়াও অবসর সময়ে বসে গল্প স্বল্প করতো। মা অনেকবার ঘাটের পাড়ে বসে বাসনকোসন, ধোওয়া, পিসিদের চুলে বিলিকাটার গল্প করেছেন।

বাড়ি বিক্রির আলোচনার কিছুদিন পরেই হঠাৎ করে বাড়ির সীমানায় ছেলেরা ঢুকা শুরু করলো। আম পাড়ে, জ্যাম পাড়ে, পুকুর ঘাটে স্নান করে। এ নিয়ে বাড়ির মেয়েরা কর্তাদের জানায়, ক্ষোভ বাড়ে।

মশিউর রহমান যদু মিয়া, জিয়ার আমলের প্রধানমন্ত্রী যেদিন মারা যায় সেদিনকার কথা। দিনটি ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ।  ভোরে সবাই ঘুম ভেঙ্গে বাইরের কাপড় পড়ে কেও টয়লেটে, কেও বাসী কাজকর্ম সারায় ব্যস্ত। হঠাৎই হুড়মুড় করে একদল ঢুকে যায় বাড়ির ভেতর। এবং কিছুক্ষনের মধ্যে তাদের বের হয়ে যেতে হয়। তখন দেশে এমনিতেই সঙ্কটময় সময় চলছে। আর এদেশে সব সময়ে হিন্দুদের উপর চড়াও হওয়া সুবিধাজনক বলেই প্রমানিত বারবার।

সেদিন এক কাপড়েই  সবাইকে বের হয়ে যেতে হয়েছিল সবাইকে। কোন একটা সুতার টুকরো তারা নিয়ে যেতে পারেনি। বের হয়ে যাবার পর দশ বার জন মানুষ আশেপাশের বাড়িতে ভাগ ভাগ হয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। বাড়িতে একটি অবিবাহিত মেয়েও তখন রয়েছে। তাকে আশ্রয় নিতে হয়েছিল পরের বাড়িতে।  বেশ অনেকদিন পর্যন্ত আত্মীয় স্বজন, ও প্রতিবেশিদের তোলা অর্থে তাদের খাবার জুটেছে। মা বলে-- আঠারোবাড়ি থেকে খবর আসে, বাবা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে, মামাদের এই দিন সে দেখতে চায় না, মনে বল পায় না, তোর দিদাকে পাঠায়। মানুষের বাড়ি থেকে পরে তারা মন্দিরের পেছনে একটি জায়গায় একটা ঘর তুলে থাকতো। সেও এতকাল প্রান্তোষ সরকারের সুখ্যাতির জন্যে এলাকার হিন্দুজনগণে বদৌলতে হয়েছে। ফিরে এসে দিদার ও নাকি কি কান্না! পরে মামলা হয়েছে কিন্তু লাভ তেমন কিছু হয়নি। কারন আনুমানিক দীর্ঘবছর পর জমির জন্যে তারা কিছু টাকা দিয়েছে কিন্তু সেটা না দেবার মতো্ই।

প্রান্তুষ সরকারের উত্তরাধীকারীরা এখন একচিলতে একটি বাড়িতে থাকে। অনেকেই চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে।। অনেকবার এই পরিবারটার অভাব, দুঃখ ও ফেলে আসা ভিটের দীর্ঘশ্বাস আমরা মায়ের গল্পে পেয়েছি। মা এই কথাগুলো এমন করে বলতেন যে মনে মনে একটি চিত্রায়ন করতাম আমরা। সেই সকালের দৃশ্য যেনো আমি দেখতে পাই। যদিও তখন আমার জন্মই হয়নি।বড় হয়ে আমি একবার গিয়েছিলাম আঠারোবাড়ি।

জয়শ্রী সরকার : মশিউর রহমান যদু মিয়া কি প্রধানমণ্ত্রী ছিলেন না ডেজিগনেশন সিনিয়র,মণ্ত্রী? এটা কি ঠিক? জিয়ার মিলিটারী আমলে এই পরিবারটি হারিয়েছিল ভিটে। অবশ্য জিয়ার কেনো সব আমলেই হিন্দুদের একটু আধটু বাড়িঘর ছাড়তেই হয়। 


কুলদা রায় : মশিউর যাদু মিয়া মাওলানা ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির নেতা ছিলেন। চাইনিজ পন্থী হিসেবে পরিচিউতি ছিলেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তাকেননি। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানে মন্ত্রী ছিলেন।

জয়শ্রী সরকার :  মশিউর রহমান যাদু মিয়া যেদিন মারা গেলেন সেদিনটিতেও ওদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। 


কুলদা রায় :  এরপরেও নানা সময়ে দেশত্যাগ করেছেন সংখ্যালঘুরা। আপনি কি মনে করেন এগুলো সবই ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সুদূরপ্রসারী ফল?

জয়শ্রী সরকার :  ঘটনা একটার সাথে আর একটা সম্পর্কযুক্ত। আর সাতচল্লিশে যে মানসিকতার মানুষের জন্যে ভিটের সাথে সন্তানের ছেদ ঘটেছিল, যুগে যুগে প্রত্যেকটি সময়ে সেই একই মানসিকতার জন্যে ভিটে আর সন্তানের মাঝে কাঁটাতার উঠেছে। সেই ক্ষেত্রে দেশত্যাগ ৪৭ এর ধারাবাহিকতা বলা যেতেই পারে। ইতিহাস তো ধারাবাহিক গল্পের সাক্ষ্য বহন করে। যদি শাহবাগের দারুন সময়ে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গার ছবি আমি না দেখতাম তবে আমার পক্ষে সাতচল্লিশের মর্মান্তিক অবস্থা কখনোই অনুভব করা সম্ভব হতো না। এই ২০১৩’র জন্যেই আমার মনে ১৯৪৭ এর ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড।

কুলদা রায় : ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে বাঙালী মুসলমানদের একটা বিরোধ শুরু হয়ে গেল। তখন আর ধর্মের বন্ধনটা প্রধান থাকল না। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে বিদায় জানানো হল। তারপরও কী করে স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনটা বহাল থাকে? এখনো সংখ্যালঘু নির্মূল চলছে? 
 

জয়শ্রী সরকার : নিজের ঘরের মানুষ বিভীষণ না হলে ৪৭, ৫২, ৭১ এ রাজাকার বা দেশবিরোধী মানুষগুলো আসলো কোথা থেকে। এতো অস্বীকারের নয় মুসলিম বন্ধুরা বিভিন্ন সময় হিন্দুদের রক্ষা করেছে। সবার মানসিকতা তো একরকম নয়। এখনো আমার মুষ্টিমেয় বন্ধু মুসলিম। তাদের সাথে আমি পৃথিবীর যেকোন জায়গায় যেতে পারি। আমার ভয় নেই।

আসলে আমরা বাংলাদেশীরা অতি আবেগপ্রবণ। ফলে বাণিজ্য যারা করে খুব সহজে আমরা তাদের কথার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে যাই। বেশি আচ্ছন্ন হই ধর্ম নামক ব্যবসায়। কি দেশ, কি পড়শি, কি ভাই কি বোন। আমি আবারও বলবো যে-মানসিকতার মানুষরা ৪৭ শে ছিল তাদের প্রজন্মরাই বয়ে নিয়ে চলেছে যুগের পর যুগ তাদের বর্বর চিন্তাধারাকে। আর বর্বরদের পক্ষে সবই সম্ভব। উনাদের বর্বর না বলে বোকাও বলা যেতে পারে। ছোটবেলায় আবু’দার কেচ্ছা শুনতাম, আবু’দাকে গ্রামের কিছু লোক বললো আবু’দা তোর ঘরে আগুন লাগিয়ে দে তো পারিস কি না। আবু’দা তাই করলো। ঘরে যে মা রয়েছে সে খবর নেই। তো আমাদের আবু’ দাদারা তো মায়ের খবরই রাথেন না, পড়শির খবর কখন রাখবে। তাই আবু'দারা যতদিন পৃথিবীতে আছে ততদিন কমিউনাল ক্লিনজিং ঘটবেই। আর এই আবু’দার সংখ্যা সোনার বাংলায় একদম কম নয়, কম হবার সম্ভাবনাও কম।


কুলদা রায় :  অর্থাৎ কিছু মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা প্রবাহিত হয়েছে প্রজম থেকে প্রজন্মে। কিন্তু রাষ্ট্রের দ্বায়িত্ব তার নাগরিককে নিরাপত্তা দেয়া। রাষ্টের চোখে হিন্দু বা মুসলমান বলে কিছু নেই।

জয়শ্রী সরকার :  মানসিকতা যে যা লালন করবে সে তা পালন করবে সেই তো স্বাভাবিক। যে আজ সরকারপক্ষ, কাল সে বিরোধীপক্ষ। এই ক্ষমতায় থাকার জন্য এদেশে সাম্প্রদায়িকতার প্রশিক্ষণ হয়,চর্চা হয়। চর্চার একটা গুণ তো সবার মধ্যেই থাকবে-- সে যে দলই হোক।
বুঝতে হবে আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িকতার প্রশিক্ষণ হয়।
আপনি চর্চা করলেও আপনি পারবেন, কথা হলো কে কোন কৌশলে করছে।


কুলদা রায় : দেশভাগ নিয়ে বই-পত্র কেমন পাওয়া যায়?

জয়শ্রী সরকার :  ‘উপমহাদেশের দাঙার গল্প”-একটি বই দেখেছি আমি । পড়া হয়ে উঠেনি। আর কি পাওয়া যায় আমি ঠিক জানিনা দাদা।  আমি খুব একটা পড়ুয়া মেয়ে নই।

তবে আপনি জিজ্ঞাসা করবার পর ইচ্ছে হয়েছে জানা দরকার কি কি বই পাওয়া যায়। সময়ে করে খুব শিঘ্রই যাবো আজিজে।

৪টি মন্তব্য:

  1. বাস্তব...
    শ্রাবণী।

    উত্তরমুছুন
  2. সত্যি আমাদের এখানে সম্প্রদায়িকতার চর্চা হয়||

    উত্তরমুছুন
  3. মালুয়ান বলে দশবার গালি দেয়নি এমন মুসলিম শতকরা একজনও পাওয়া কঠিন| যতই বই পুস্তক পড়ছি ততই যেন সাম্প্রদায়িকতা নতুন নতুন কায়দায় গেঁথে যাচ্ছে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মস্তিষ্কে|

    সাক্ষাৎকারটি ভাল লাগল

    উত্তরমুছুন