বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

মারজরি বার্নাড--এর গল্প : গাব গাছ

অনুবাদ : সুদর্শনা রহমান 

 মাত্র একবার-ই বসন্ত এমন ভাবে এলো আমার জীবনে যে, আমি তা কক্ষনো ভুলবো না । সারাটাশীতকাল আমি অসুস্থ থাকার পর ধীরে, ধীরে সেরে উঠছিলাম । তেমন আর কোনো ব্যথা বেদনা ছিলনা শরীরে, চিকিৎসা ও করতে হয়নি আর যেতেও হয়নি ডাঃ এর কাছে ঘন, ঘন আগের মতো । পুরনো রুপালী আয়নার সামনে দাঁড়ালে যে, পাণ্ডুর প্রতিবিম্ব দেখতাম নিজের তাও মিলিয়ে যাচ্ছিল, এখন শুধু আমার শক্তি দরকার গায়ে গতরে । কত্তো দিন হয়ে গেছে নিজেকে আমি গুটিয়ে রেখেছি সব কিছুর থেকে,পুরানো রুটিনে ফিরতে কষ্ট যেমন হচ্ছে, ভাল ও লাগছে অনেক । নিজেকে যে কি হাল্কা লাগছে, একেবারে স্বচ্ছ ভার শূন্য, আমার মন যেন শিশুর ত্বকের মতো নরম আর মোলায়েম । যা কিছুই ঘটছে সবই যেন মনে হচ্ছে এই প্রথম, এমন ছিল আমার অনুভূতি । যেন, বিশাল খালি একটা প্রেক্ষাগৃহে মৃদুমন্দ একটা বাজনা বেজে যাচ্ছিল কোমল মৃদু ধিমি লয়ে ।


আমার জনালার বাইরেই সারি সারি ঝাউ গাছ । যে ঘরটায় আমি থাকছিলাম শেটা ছিল, একটা বড় সড় খোলা মেলা ঘর, উঁচু সিলিং তার কিনার গুলো মৌচাকের মতো নকশা কাঁটা, রুচিহীন ঢাউস আকারের সব পুরনো আসবাস পত্র দিয়ে সাজানো । সকালের নরম আলোর ঠাণ্ডা আমেজ আমার পছন্দ কিন্তু, তার চাইতেও বিকেলের রোদ্দুরটাতেই আমার বেশী প্রিয়, রাতটাকে যতটা সম্ভব ঠেকিয়ে রাখা যায় দূরে । যখন এসেছিলাম এখানে তখন, ঘরের সামনের গাছটা ছিল পাতা বিহীন বেগুন রঙা গোধূলির মতো । ঠিক রাস্তার ওপারেই ছিল বড় একটা আঙ্গিনা ঘিরে মজবুত আর উঁচু সারবাঁধা ফ্ল্যাট । রাত্রির বেলায় যখন আলো জ্বলে ওঠে তা অনেকদূর আকাশের গায়ে ছড়িয়ে পড়ে । এই ফ্ল্যাট গুলোর মধ্যের একটির জানালা ছিল ঠিক আমার জানালার মুখোমুখি । আমি লক্ষ্য করে দেখেছি যে, সব সময় ওই ভারী কাঁচের জানালাটা বন্ধ করে রাখা । রাস্তাটা অনেক চওড়া কিন্তু চুপচাপ তারপরও, মনে হতো আমার ঘরের জানালা আর সামনের ফ্ল্যাটের জানালা খুব কাছাকাছি । ওটা বন্ধ হওয়াতে আমার বেশ খুশীই লাগতো যে, কেউ আমাকে দেখছে না আমার নির্জনতা ও কোনো ব্যঘাত ঘটবে না, আমি নিজের মতো করেই থাকতে পারবো একাকী ।


প্রথম থেকেই নিজের এই ঘরটাকে আমি খুব পছন্দ করেছিলাম, যেন আমার চারিদিকে ঝিনুকের মতো একটা আবরণ ঢেকে রেখেছে কিন্তু, আমাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে না । শেষ বিকেলের রোঁদ যখন জানালা গলে চুইয়ে, চুইয়ে ঢোকে বিবর্ণ সাদা দেয়ালে তার ছায়া পড়ে । একসময় লক্ষ্য করে দেখি যে, আমার জানালার সামনের পত্রহীন গাছটার পল্লব গুলোতে কলি ফুটতে শুরু করেছে । জানালার সামনের গাছের ছায়াটাকে ঘরের ভেতরে মনে হতো যেন, দেয়ালে ঝোলানো আঁকা একটা নয়ন জুড়ানো জলছবির মতো । যে বয়স্ক মহিলাটি আমার ঘর পরিষ্কার পরিছন্ন করে দিতো ওকে জিজ্ঞেস করে জেনেছিলাম ওটা একটা 'গাব গাছ' । গাছটার ছায়াটা এতো মনোরম লাগতো যে, দেয়ালের গায়ে ওর প্রতিফলিত ছায়াটা আমার মনের জমা সকল কালিমাকে ধুয়ে মুছে নিঃচিহ্ন করে দিয়েছিল একেবারে ঝকঝকে, চকচকে আরশির মতো ।


আমার ঘরের সামনের রাস্তা দিয়ে যারা যাতায়াত করতো তাঁদের, সবাইকে আমি চিনে গিয়েছিলাম । প্রতিটি মানুষের ভঙ্গী তাঁদের হাঁটা চলা, কাপড় পরবার ধরন দেখে, দেখে আমার মুখস্ত কিন্তু, কারো সাথে কক্ষনো ঘনিষ্ঠ হবার ইচ্ছে জাগেনি মনে । শুধু, রাস্তার ওপাশের একজন মহিলাকে আমি বিশেষ করে লক্ষ্য করতাম, মনে হতো আমার সমবয়সীই হবেন বা হয়তো । দীর্ঘাঙ্গী, একহারা, ছিপছিপে, লাবণ্যময়ী, ভারী সুন্দর মুখশ্রী । সবসময়েই গাঢ় রঙের দামি পোশাক পরনে, চেহারায় আর চলনে ফুটে উঠতো চাপা একটা আভিজাত্যের ভাব । একাকী যাওয়া আসা করতন সবসময় । কেন যেন মনে হতো উনি ইচ্ছে করেই কাউকে কাছে ভিড়তে দেন না । এই যে একা থাকেন এটাও ওনার নিজের ইচ্ছেয় । প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল তাঁর এমন দৃঢ় ব্যক্তিত্ব পূর্ণ যে, আমার মনে হতো ওনার জীবনের সব কিছুই যেন ওনার নিয়ন্ত্রণে ।


ঈশদুস্ন ফেনায়িত দুধের মতো দিনগুলো ফুলে, ফুলে উঠছিল বলে তা ধীরে ধীরে লম্বা হচ্ছিলো আর প্রতিদিন সামনের ফ্ল্যাটের জানালাটাও একটু একটু করে খুলছিল সেই সাথে । যে যতোই নিজেকে যতই গোপন করুক না কেন, বসন্তের রং এসে একটা দোলা দেবেই দেবে নিস্তরঙ্গ জীবনে, সব সময়ই এমন আমার মনে হতো । তবে, শুধু সামনের ফ্ল্যাটের জানালাটাই খুলছিল না, এক গোছা গাব ফল ও পরিপুষ্ট হয়ে উঠেছিল সদ্য বেড়ে ওঠা যুবতী তরুণীর পেলব স্তন আকৃতির মতো হয়ে । গাব ফল গুলোর গা থেকে যে কমলাটে সোনালী আভা বিচ্ছুরিত হতো এমন ছিল তার রং যেন যেন বসন্ত সকালের মূর্ত প্রতীক । আমার কাছে মনে হতো অনেকদিন পর দেখা একটা মধুময় বিস্ময়কর স্মৃতি । এখন মনে পড়েছে, ছোটবেলায় আমাদের বাড়ির শেষ সীমানায় একসাথে অনেক গুলো গাবগাছ মিলে মিশে বেশ একটা ঝোপের মতো হয়েছিল । হেমন্তে কালে গাব গাছের পাতাগুলো হয়ে যেতো মরচে লাল, সূর্যের আলো পাতার উপর পড়লে মনে হতো বাড়ির বাইরে যেন আগুন লেগেছে আর ঘরের ভেতরটায় একটা স্বর্গীয় গোলাপী রঙা আলো ছড়িয়ে দিতো, একেবারে হৃদয় কাড়া ছিল সেই দৃশ্য ! এরপরই শুরু হয়ে যেতো পাতা ঝরানো দিন, তখন শুধু শূন্য শাখার সূচালো আগাগুলোতে থোকা থোকা সোনালী গাব হাওয়ায় দোল খেতো, আঃ কি যে অপরূপ ! মজবুত গাছের ঝাড়গুলো সারা বসরই একটা যাদুমাখা ঔদ্ধত্ব নিয়ে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো । ঘরের আঙ্গিনায় এই গাছটাকে দেখেই আমার মনের মধ্যে সেই আগুন রঙা পাখীটা যেন বেদনার একটা সুর গেয়ে উঠলো কারন, এখন মনে পড়েছে আজ খুব ভোর সকালে আমি গাব গাছ গাছটাকে দেখেছিলাম পাশের খয়েরী আঁশফল গাছের উপর ধুসর ছায়া ফেলে রেখেছে । জানিনা কেন যে প্রতি হেমন্ত আমাকে সময়ের আগেই বসন্তের আগমনী মনে পড়ায় ।




গাব গাছে ফল আসে হেমন্তে অথচ এখন বসন্ত, আমি আবারো জানালায় ঘেঁষে বাইরে দেখছিলাম, সত্যি গাছটা ওখানে দাঁড়িয়ে জলজ্যান্ত। না, না এটা আমার নিছক কল্পনা নয় তাহলে, ওই তো হেমন্তের ফলগুলো বসন্তী রোঁদের ছোঁয়া লেগে পেকে উঠছে ধীরে ধীরে। অথচ অন্য ঋতুতে সেই সুদূর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা কাঠের গুঁড়ো দিয়ে ঢাকা বাক্স বন্দী গাব ফল প্রতি বসরই আমদানি হয় হিমঘরে আর কতো দামেই না তা বিকোয়!


এক বিকেলের দিকে সূর্য্যি যখন জানালার কার্নিশে ঢলে পড়েছে, তখন দেখলাম একটা হাত জানালা গলিয়ে অনেকগুলো গাব ফল ছিঁড়ে ছিঁড়ে নিচ্ছিল। শুধু হাতের লম্বাটে শিল্পিত সরু আগুল গুলোই দেখতে পাচ্ছিলাম। আরে, এ যে পর্দার আড়ালে দাঁড়ানো আমার ঘরের সামনের সেই রমণীটির ছায়া। উনি যে ওখানেই থাকেন, ওনার ঘরের জানালা আর আমার ঘরের জানালা একদম মুখোমুখি ।


আজকাল সামনের বাড়ির জানালাটা হরহামেশাই খোলা থাকে, মনে হতো ওটাও কুঁড়ি ফুটে বের হয়েছে যেন সদ্য! জানালাটার কার্নিশে নৌকোর মতো আকারে বাদামি রঙা একটা চীনা মাটির টবে কোনো গাছের বীজ বোধহয় পুঁতে রেখেছিলেন রমণীটি। খানিকটা দূর থেকে ও আমি দেখতে পেতাম তাঁর শৈল্পিক আগুল গুলো ছোট্ট একটা ঝাড়ি হাতে ওতে পানি ঢালছে, মাঝে মাঝে রুপালী রঙা খুরপি দিয়ে মাটি আগলা করে দিচ্ছেন। যদিও, কোনও দিনও একবারের জন্যও তিনি মুখ তুলে তাকাননি, আমি কিন্তু মাত্র অল্প দূরের জানালায় দাঁড়িয়ে ওনার সব কাজ দেখতে পেতাম।


কখনো সখনো অলস বিকেলে যখন হাঁটতে বেড়িয়েছি রমণীটির পাশ ঘেঁষেই গেছি, এখন আমি ওনার সব কিছুই চিনি। ওনার হাঁটা চলার ভঙ্গী, হাতের সরু আগুল, দেহের খাঁজ খোঁজ, পরনের কাপড় মায় ওনার গায়ের রঙটাও আমার খুব পরিচিত। কিন্তু, কেন যেন আমার মনে ওনার সাথে একটা কথা বলবার ইচ্ছেও জাগেনি কোনোদিন। ইচ্ছে করলেই আমি ওনার নামটা জেনে নিতে পারতাম শুধু, আঙ্গিনা পেরিয়ে বাড়ির গায়ে ঝোলানো ভাড়াটিয়াদের নামের তালিকা থেকে খুঁজে নিতে হতো, আমি তো জানতামই কোন ঘরের বাদিন্দা উনি । কেন জানিনা কক্ষনো তা করিনি কেন?


আমার মতোই তিনিও ছিলেন বড় একা, সেটাই যেন ছিল একটা বড় বাধা অথচ, এটাই হতে পারতো একটা যোগাযোগের সহজ মাধ্যম আমাদের মাঝে। একাকী রমণীরা অনেক সময় নিজের চারিদিকে একটা দুর্ভেদ্য প্রাচীর তুলে রাখেন, আর আমিও যে একেবারে একা ছিলাম তাও নয় শুধু, নিজের জীবনটাকে উঁচু শিকেয় তুলে রেখেছিলাম যেন। ইচ্ছে করলেই ডজন খানেক বন্ধু, বান্ধব সব সময়ই আমাকে ঘিরে থাকতে পারতো কিন্তু, বিশ্বাস যোগ্য একটাও বন্ধু যে আমার ছিল না। তেমনি ছিল না কোনো প্রেমিকা, এমন কি গোপন কেউ ও নয় । ওনার হয়তো তেমন কেউ ছিল ভাবাতাম আমি মনে মনে, যা থেকে উনি বেচে থাকার প্রাণশক্তি পেতেন ।


ওনার জানালার ধারের টবের বীজগুলো অঙ্কুরিত হতে শুরু করেছে, রোজই কিছু ফিকে সবুজ রঙের কচি পাতা দল মেলছিলো, অন্ধকার ঘরের ভেতর থেকে ও আমি তা স্পষ্ট দেখতে পেতাম। আচ্ছা, কি গাছের চারা ওগুলো ফুল নাকি সব্জি, মনে একটু ছেলেমানুষি কৌতূহল জাগতো! মনে, মনে আশা করতাম ওগুলো যেন, টিউলিপ ফুল হয় কেন যে, তা আশা করতাম কে জানে। তবে, আজকাল ওনার ঘরের জানালাটা প্রায় সকল সময়ই হাট করে খোলা থাকে, ওতে ঝোলানো থাকে সূক্ষ্ম লেসের কারুকাজ করা একটা স্বচ্ছ পর্দা । উনি কক্ষনো পর্দাটাকে সরান না শুধু, মাঝে মাঝে মৃদুমন্দ বাতাস এসে দুলিয়ে দিয়ে যায়।


রাস্থার ধারের গাব গাছটা আবার নূতন পাতায় আর কুঁড়িতে সেজে উঠেছে। পুরো গাছটাই যেন সবুজ পরীর মতো দেখায়, সেই সাথে সাথে আমার ঘরের দেয়ালে তার ছায়া ও বদলে, বদলে নানা রকম রুপ পায়। শীতের সেই রুগ্ন জীর্ণ শীর্ণ ভাবটা মোটেই আর আগের মতো নেই। বেশ সতেজ অথচ কমনীয় একটা স্নিদ্ধ তরতাজা ভাব গাব গাছটার। দৃপ্ত ভঙ্গীতে ডাল পালা গুলো যখন নড়েচড়ে আমি প্রাণ ভরে তা, উপভোগ করি ওর ছায়ায় বসে পড়ন্ত বিকেলে। গাব ফুলের কুঁড়ি গুলোর কথাও ভাবতাম, মনে মনে ওগুলোকে মাতৃ জাঠরে থাকা শিশুর সাথেই শুধু তুলনা করা চলে। এখনো ঘুমন্ত কিন্তু, প্রাণ চঞ্চল একই সাথে। দোল খাওয়া ছায়ার কারুকাজ দেখতে, দেখতে আমার মনে একটা মিষ্টি বিষাদ ছড়িয়ে যেতো। পুরুষ মানুষদের ধূসর জীবনেও বসন্ত আসে!


এক বিকেলে জানালায় দাঁড়িয়ে বাইরে দেখছিলাম। ধীরে গোধূলি নেমে আসছে তবে, তখন ও বেশ খানিকটা গরম ভাব রয়েছে বাতাসে। ভারী রোদ্দুর যেন কুঁচি, কুঁচি সোনার গুঁড়ো ভাসিয়ে দিয়েছে হাওয়ায় আর তা রেণু, রেণু হয়ে অবর্ণনীয় সৌন্দর্যে ছড়িয়ে, ছড়িয়ে যাচ্ছিল পুরনো ধাঁচের উঁচু উঁচু বাড়ির দেয়াল আর আনাচে কানাচে গুলোতে ও। এমন সময় তিনি পর্দার আড়ালে এসে দাঁড়ালেন, গায়ে আলগা করে জড়ানো গাঢ় রঙের বাথরোব। মনে হয় এই মাত্র স্নান সেরেছেন, এখন বোধহয় পোশাক বদলাবেন, রোজ যেমন তিনি সকালে বা বিকেলে করেন। জানালার ধারে এমন দৃপ্ত ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে রইলেন যেন তিনি গাব গাছেরই একটা প্রলম্বিত প্রশাখা। এক ধেয়ানে বাইরে চেয়ে আছেন দেখছেন যেন আবার কিছুই দেখছেন না। আমার হৃদয়ের ভেতর রক্ত খানিকটা ছলকে উঠলো চাপা উত্তেজনায়। খুব আস্তে, আস্তে করে উনি ওপর দিকে হাত ওঠালেন আর তক্ষুনি ঝুপ করে বাথরোবটা ওনার শরীর ছেড়ে পায়ের কাছে খুলে পড়লো। অসহ্য সুন্দর একটা রমণীয় নগ্ন শরীর পর্দার আড়ালে দাঁড়ানো কিন্তু, নির্ভুল ভাবে বলে দেয়া যায় ওটা সেই ওনারই, ভুল হওয়ার কোনো অবকাশই নেই তাতে, তাঁর মুখটা কেবল ছায়া ঢাকা তবুও।

লেখক পরিচিতি
সুদর্শনা রহমান 
অস্ট্রেলিয়া

গল্পকার। অনুবাদক। চলচ্চিত্রকার। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন