বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কৃষণ চন্দরের গল্প : সুন্দরী প্রতিযোগিতা

অনুবাদ : জাফর আলম

দুই বন্ধু যদি আইসিএস কর্মকর্তা হয় তাহলে ভারসাম্য বজায় রাখা বড়ই কষ্টকর। কিন্তু সুন্দরী রণভা বিচক্ষণতার সঙ্গে দুই প্রেমিকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেছে। কারণ রণভা সুন্দরী। তার কমনীয় চেহারা দেখলে বিদেশী আর্ট ম্যাগাজিনের কভার মনে হয়। তার দেহের চামড়া নাইলনের কাপড়ের মতো মোলায়েম দাগহীন আর তার উদ্ভিন্ন যৌবন ভরা দেহখানি নতুন মডেলের গাড়ির মতো যেন স্প্রিংযুক্ত। অন্য মেয়েদের দেখলে মনে হয় তাদের মাতাপিতা অনভিজ্ঞ হাতে লালন পালন করেছে। কিন্তু রণভা যেন আধুনিক কারখানায় নিপুণভাবে তৈরি মডেল। তার দেহের প্রতিটি ভাঁজ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেন নিখুঁতভাবে কারিগর যথাস্থানে সেট করে দিয়েছে। তাই মন চায় রণভাকে জিজ্ঞাসা করতে কোন কারখানায় তার দেহ তৈরি যেখানে আরও দশ হাজার তারই মতো নিখুঁত স্বাস্থ্য দেহের অধিকারী মেয়ে সরবরাহের অর্ডার দেয়া যায় কিনা?


যমুনা রণভার ন্যায় সুন্দরী নয়। কিন্তু এমনভাবে হেলেদুলে হাঁটত যেন হ্রদের পানির বুকে ছোট ছোট ঢেউ পরস্পর কোলাকুলি করছে আর দেহের প্রতিটি ভাঁজ এমন ভঙ্গিমার সৃষ্টি করতে থাকে, একমাত্র বেহালার ছন্দময় সঙ্গীতের সঙ্গে তুলনা করা চলে। পাহাড়ের ধারে ত্রপ্রোমাল রোডে যখন সে ভোরে পায়চারি করতে বের হতো তখন লোকজন তার সদ্য ঘুম থেকে জেগে ওঠা দেহের নিখুঁত স্বাস্থ্য লাবণ্য দেখে মোহিত হয়ে পড়ত।

তম্বী জোবেদার কণ্ঠ ছিল সুমধুর। তাকে দেখলে গ্রামোফোন কোম্পানির রেকর্ডের কথা মনে পড়ে, হাসি তার মুখে লেগেই থাকত। তার শ্যামলা কমনীয় চেহারায় শুভ্র দাঁতগুলো হাসলে অপূর্ব লাগত। সে অট্টহাসিতে ফেটে পড়লে মনে হতো যেন শ্যাম্পেনের দুটি গ্লাস একটা অন্যটার সঙ্গে টোকা লেগেছে। তাই অনেকেই এই ধরনের মহিলার সান্নিধ্য লাভের ফলে ক্লাবে মাদকরস গলাধকরণ না করেই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মৃণালিনীর চোখ ছিল উদাস আর ঠোঁট ছিল অত্যন্ত সুন্দর। তার দৃষ্টি হালকা রঙের গালিচার ন্যায় মনোরম। তাকে দেখলে মনে হয়, জীবনের একই একঘেয়ে কণ্টকময় পথে গাছের ছায়ার ন্যায় তার কাজল কালো চোখের ভ্রুর ছায়ায় বিশ্রাম নিলে মন্দ হত না। মৃণালিনীকে দেখে দার্জিলিং-এর চায়না শৃঙ্গে যেতে পথে ফুটপাথের পাশের রেস্তোরাঁর কথা স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে। এই সব রেস্তোরাঁর নিস্তব্ধ নিঝুম বারান্দায় আবছা আলোতে দণ্ডায়মান বেয়ারা আর সতেজ লাইম জুইস সব কিছু মিলিয়ে অপূর্ব রোমান্টিক পরিবেশ। এই সব চীনা রেস্তোরাঁয় বসে অধিকাংশ সময় মৃণালিনীর কথা মনে পড়ে। কারণ মৃণালিনীর সৌন্দর্যের কমনীয়তা ছিল ভিন্নধর্মী।

রোজ গোলাপের ন্যায় সুন্দরী ছিল না কিন্তু মযূরীর ন্যায় অবশ্যই ছিল। নৃত্যের তালে তালে অনেকের হৃদয়ে ভূকম্পনের সৃষ্টি করত। রক এন রোল থেকে আধুনিক ক্ল্যাসিকাল কিন্তু প্রেমিক ছিল মাত্র একজন। সেই প্রেমিকের জন্য সে আজ দু’বছর যাবত অপেক্ষায় আছে। কারণ রোজ প্রেমিককে বিয়ে করতে চায়। বিয়ের জন্য ধৈর্য ধরা প্রয়োজন। এ্যানে পেড্রোজার জন্য প্রতীক্ষা করছে সে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হল পেড্রোজা আর অপেক্ষার তোয়াক্কা করেনি। কারণ সে একজন আইসিএস কর্মকর্তা। রণভার ন্যায় অপূর্ব সুন্দরী মেয়েও তাকে লিফট দিতে গৌরববোঁধ করত। কিন্তু রোজ তার তুলনায় রণভাকে অধিকতর সুন্দরী মনে করে না। রোজের দেহের গড়ন ১২/১৩ বছরের কিশোরীর ন্যায় পাতলা লিকলিকে। তার সুমধুর কণ্ঠ আর ববকাটা চুল সুন্দর মানাত। তার ববকাটা চুল দেখলে অর্কেস্ট্রার কথা মনে পড়বে। তার দেহের গড়ন জেট বিমানের ন্যায় নাজুক খুচরা যন্ত্রপাতি দিয় তৈরি। রণভার কি সাধ্য পেড্রোজাকে তার বুক থেকে ছিনিয় নেয়।

ইলা ইতোপূর্বে ছিলেন মিসেস ফিলচাদ, এখন নিঃসঙ্গ। স্বামীর কাছ থেকে তালাক নিয়েছে। এখনও তার দেহের ভাঁজে ভাঁজে যৌবনের ঈশারা। তিনি ছিলেন নেপালী। স্বাস্থ্যটাকে অক্ষুণ্ন রেখেছেন অতিযত্নে। আর্য আর চীনা বিউটি তার দেহে একাকার হয়ে গেছে।

আবার হিল স্টেশনে চিফ কমিশনার সাহেবের তিন কন্যা রয়েছে। কমিশনার সাহেব এদের যোগ্য বরের সন্ধ্যানে আছেন। এদের নাম যথাক্রমে সুধা, মাধুরী আর আশা। তিনজনের মধ্যে আশা ছিল কুশ্রী। অবশ্য মাধুরী সুধাও তেমন কমনীয় ছিল না। হাজার হোক কমিশনার সাহেবের মেয়ে, তাই ওদেরও সুশ্রী হিসেবে গণ্য করা যায়। কারণ ইদানিং মন্ত্রীদের বক্তৃতাকেও সাহিত্য মর্যাদা দেয়া হয়। তাছাড়া শীতা মেলহোত্রা, ব্রজেস, আবদূর রহমান, বলসিয়ার কাউর, খুরশীদ গোরদালা আর মনঞ্জুর আনন্দের মেয়ে গৌরীও হিল স্টেশনের বার্ষিক সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। এই সুন্দরী প্রতিযোগিতা ছিল স্টেশনের সবচেয়ে বড় জাতীয় উৎসব। সেদিন ক্লাবের লনে বহু লোকের সমাগম হয়েছে। রংবেরঙের পতাকা লতাপাতা দিয়ে লনকে সাজানো হয়েছে। চোখ ঝলসানো দামী শাড়ি পরিহিতা মহিলা শিশুর ভিড়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী তরুণীদের ভয়মিশ্রিত হাসি আর প্রেমিক মাতাপিতার সাহস প্রদান শেষ মুহূর্তে ব্লাউজ পরিবর্তন আর শাড়ির ভাঁজ দূরস্ত করা চলছে। বাপরে, সুন্দরী প্রতিযোগিতা নয় যেন আইসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি পর্ব চলছে। সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারিণী তরুণীর গৌরব কম নয়। প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতায় ডজনের অধিক মেয়ে অংশগ্রহণ করে থাকে আর অভিভাবক মাতাপিতা আনন্দে এতে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়ে থাকেন।

সেদিন ছিল সুন্দরী প্রতিযোগিতার ফাইনাল। রোহিলাখণ্ডের সাবেক চিফ কমিশনার কুমার বান্ডা সিং আর বিশিষ্ট কবি সীতারাম হলেন সুন্দরী বাছাইয়ের বিচারক। বিচারের পাল্লা যাতে কোনদিক ঝুঁকে না পড়ে এবং নিরপেক্ষ বিচার হয় এজন্য সাবেক বিচারপতি দেশপান্ডেকে বিচারকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যারিস্টার সৈয়দ এমতিয়াজ হোসনকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। কথিত আছে ব্যারিস্টার সাহেব রোজ নাকি স্ত্রীকে মারধর করেন। বিচারক মণ্ডলীর পঞ্চম সদস্য হলেন কুমায়ুনের বিশিষ্ট ধনী দেওয়ান বলরাজ শাহ। ভদ্রলোক আবার উল্টো দৈনিক স্ত্রীর কাছে পিটুনি খেতেন। কমিটিতে কোন মহিলা সদস্য নেয়া হয়নি। কারণ মেয়েরা নিজের চেয়ে অন্য কাউকে অধিক সুন্দরী মনে করে না। তাই অনেক চিন্তা-ভাবনার পর কোন মহিলা বিচারককে কমিটিতে নেয়া হয়নি। সুন্দরী প্রতিযোগিতার বাছাই কমিটিতে মোট পাঁচজন সদস্যই থাকল। যারা শ্রেষ্ঠ সুন্দরীদের গুণাগুণ বিচার করে ফলাফল ঘোষণা করবেন। সর্বপ্রথম ঘোষক ক্লাবের বারান্দায় দাঁড়িয়ে তিনবার ঘণ্টা বাজান। ঘণ্টাধ্বনি শুনে ক্লাবের বিভিন্ন কামরা থেকে লোকজন বেরিয়ে লনে সমবেত হন। প্রথম সারিতে সোফায় পাঁচজন বিচারক বসেছেন। তার পর বিশিষ্ট সদস্যগণ, তার পর ক্লাবের বিশিষ্ট সদস্যগণ, তৃতীয় সারিতে শহরের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, তার পর সাধারণ দর্শক উপবিষ্ট। পেছনের সারিতে সমবেত লোকজনের হৈ চৈ। ঘোষক জোরে ঘণ্টা বাজিয়ে চুপ করতে অনুরোধ জানান।

বিচারপতি দেশপান্ডে দাঁড়িয়ে সর্বপ্রথম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী তরুণীদের নাম ঘোষণা করেন। অতঃপর ব্যান্ডের বাজনা শুরু হয়। ব্যান্ডের তালে তালে দর্শকদের দৃষ্টি ক্লাবের সিঁড়িতে গিয়ে পড়ে। ক্লাবের কক্ষে প্রসাধনরত সুন্দরীরা একে একে বের হয়ে বিচারকমণ্ডলীর সামনে হাজির হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিঁড়ি থেকে নিচে লন পর্যন্ত লাল গালিচা বিছিয়ে দেয়া হয়েছে। এই গালিচার ওপর সুন্দরীরা নিজেদের রূপ যৌবনের মহড়া দেখাবেন। অনেক দর্শক দূরবীণ বের করে নিয়েছে।

সর্বপ্রথম ইলা গাঢ় রংয়ের শাড়ি পরে কোমর দুলিয়ে সিঁড়ি থেকে নিচে নামে। ইলার ব্যবহৃত সেন্টের সৌরভে পুরো অঙ্গন মুখরিত আর তার মুখে বিজয় সুলভ হাসি। বিচারকদের সামনে ইলা নানা ভঙ্গিমায় তার দেহ সৌন্দর্যের কলাকৌশল প্রদর্শন করে। কোমল হাত বাড়িয়ে শাড়ির আঁচল সামলিয়ে নিয়ে এক ঝটকায় বিচিত্র ভঙ্গিতে মোড় ঘুরলে দর্শকদের প্রাণে দোলা দিয়ে যায়।

এরপর মোগল রাজকুমারীর বেশে দর্শক সমীপে হাজির হয় লাস্যময়ী জোবায়দা। পরনে গাঢ় জামরঙের গারারা আর গায়ে হালকা হলুদ রঙের দুলের লাখনৌ স্টাইলের কামিজ। মাথায় চুমকি লাগানো ওড়না। মদের পান পাত্রের ন্যায় চিকন তার গলা; ইচ্ছে হয় পানপাত্র থেকে ঢেলে সব মদ এক নিঃশ্বাসে পান করে নিই। গলায় পাথর খচিত জরির গলাবন্ধ তার কমনীয়তা আরও বৃদ্ধি করেছে। ভিন্নতর স্টাইলে কোমর দুলিয়ে জোবায়দা বিচারকদের সামনে এসে হাজির হয়। মুখে তার স্মিত হাসি আর এই হাসির ফাঁকে তার শুভ্র সমুজ্জ্বল দাঁতগুলো মুক্তোর ন্যায় ঝিকঝিক করছিল। সুন্দরী রোজ গাঢ় সবুজ রঙের সেমিজ আর আটসাঁট ব্লাউজ পরে দর্শকদের সামনে এসে হাজির। ব্লাউজের কাপড় ঠেলে তার উদ্ভিন্ন যৌবন যেন ফেটে পড়ছিল। তার চিকন কোমর আর নাদুস নুদুস পায়ের ভিরু পদচারণা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দর্শকদের অবিরাম হর্ষধ্বনি আর হাততালিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। ফটোগ্রাফাররা ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দে রোজের ছবি তুলতে থাকে। মুচকি হেসে সুন্দরী রোজ দর্শকদের অভিনন্দন মাথা নত করে গ্রহণ করে আর তাদের কুর্নিশ জানায়। এরপর আসে চিফ কমিশনার সাহেবের তিন কন্যা প্রথমে সুধা মেহতা, তার পর মাধুরী মেহতা আর সর্বশেষ আশা মেহতা। তাদের সৌন্দর্য মোটামুটি চলনসই, যার বর্ণনা দেয়ার প্রয়োজন নেই। যেহেতু চিফ কমিশনার সাহেবের কন্যা, তাই তার মন রাখার জন্য বিচারকমণ্ডলী থেকে শুরু করে অনেকেই হাততালি দেন। কিন্তু আশা মেহতাকে দেখে দর্শকবৃন্দ হাততালি দিতেও ভুলে যান। কারণ মেকাপেও তার কুশ্রী রূপ ঢাকা পড়েনি। আশা মেহতা চলে গেলে যেন দর্শকরা হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। সীতা মেহলহোত্রা একটা মিহি তসরের বেনারসী শাড়ি পরে এসে দর্শকদের অভিবাদন জানালেন। পরনের পেটিকোটও তার বেশ দামী। ভাব দেখে অনুমিত হয় পরনের পেটিকোট নাইলনের হলে বেশি নাম্বার মিলবে।

এবার এলেন দেবদাসী বেশে এলোকেশে খোঁপা বেঁধে মাথায় ফুল গুঁজে মৃণালিনী। এক নজরে এমনভাবে তাকিয়ে থাকে, যেন বনের হরিণ শহরে এসে পথ হারিয়ে ফেলেছে। অতঃপর একে একে যমুনা প্রজেস, খুরশীদ ঘোরী প্রমুখ তরুণী বাইরে এসে নিজেদের রূপযৌবন প্রদর্শন করে ভেতরে চলে যায়। সর্বশেষ এলো সুন্দরী রণভা, সঙ্গে সঙ্গে ব্যান্ডের বাজনা বেজে উঠল। রণভা পাজামা, কামিজ আর সেলোয়ার পরে এসে দর্শকদের অভিবাদন জানায়। তার দেহের প্রতিটি ভাঁজে ফুটে উঠেছিল যৌবনের রূপরেখা। দর্শকরা বাহবা দিতে থাকে। সকলের অভিমত এবারের সুন্দরী প্রতিযোগিতায় রণভাই প্রথম স্থান অধিকার করবে।

প্রতিযোগী তরুণীদের মহড়া শেষ হল। এবার বিচারকরা ক্লাবে গিয়ে শলা পরামর্শ করতে থাকেন কে প্রথম আর কে দ্বিতীয় তৃতীয় স্থানের অধিকারী যোগ্য গুণাগুণের দিক থেকে। দর্শকদের মধ্যে জোর জল্পনা-কল্পনা চলছে সুন্দরীদের গুণাগুণ নিয়েই কে প্রথম হবে এবার। অধিকাংশ অভিভাবক নিজ নিজ মেয়ের সৌন্দর্য চর্চায় ব্যস্ত। অধিকাংশ দর্শকই রণভার সপক্ষে বায় দিয়ে বসে সেই একমাত্র প্রথম হওয়ার যোগ্য। কেউ কেউ আবার জোবায়দা, যমুনা প্রভৃতিকে প্রথম হওয়ার যোগ্য বলে রায় দিচ্ছে।

পনের মিনিট পর বিচারপতি দেশপাণ্ডে সুন্দরীদের তালিকার কাগজ নিয়ে দর্শকদের সামনে এসে হাজির হলেন, দর্শকদের মাঝে আর গুঞ্জন নেই। বিচারপতি দেশপান্ডে চশমা ঠিকভাবে চোখে লাগিয়ে ঘোষণা করলেন, সুন্দরী প্রতিযোগতিার বিচারকমণ্ডলী একমত হয়ে বছরের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী হিসেবে গুণাগুণ বিচারের পর নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথম স্থান অধিকারের যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন মিস সুধা মেহতা, দ্বিতীয় মিস মাধুরী মেহতা এবং তৃতীয় মিস জোবায়দা।

এদিকে চিফ কমিশনার সাহেবের বাড়িতে দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ এক সঙ্গে দুই তনয়া বিউটি কন্টেস্টে প্রথম দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। কিন্তু এতেও বেগম সাহেবা সন্তুষ্ট নন। কারণ আশা মেহতা বাড়িতে গিয়ে ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কাঁদছিল। দু‘বোন পুরস্কার পেয়েছে অথচ সে বাদ পড়েছে।

সন্ধ্যায় চিফ কমিশনার সাহেব ক্লাব থেকে বাড়ি ফিরলে বেগম সাহেবা এক হাত নিলেন আর বললেন, হায় মেয়েটা সকাল থেকে কেঁদে কেঁদে হয়রান, তুমি আশার দিকে একটুও খেয়াল করলে না। তুমি কিসের চিফ কমিশনার, যখন আমার মেয়েটা পুরস্কারই পেল না সুধা আর মাধুরী তো বর পাবেই। অথচ যে মেয়েটার প্রতি বিশেষ নজর দেয়া উচিত ছিল, তা দিলে না, হায় আমার কপাল।”

চিফ কমিশনার সাহেব গর্জন করে উঠেন, তুমি কি পাগল হয়েছ। তোমার দুই কন্যাকে যে কোন প্রকারে পুরস্কার দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। আবার তৃতীয় কন্যাকেও যদি পুরস্কার দেয়া হয়, তাহলে লোকে কি বলবে বলত। প্রকৃত পক্ষে ‘ন্যায়বিচার’ বলে একটা প্রবাদ তো রয়েছে।

অনুবাদক পরিচিতিজাফর আলম  
উর্দু সাহিত্যকে বাংলাদেশে পরিচিত করা ও জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জাফর আলম। একটি ভাষাভাষি সাহিত্য অনুবাদে সারাজীবন নিয়োজিত থাকা অল্পকিছু অনুবাদকদের তিনি একজন। তিনি শুধু অনুবাদই করেননি, মান্টো, কৃষণ চন্দ, মুন্সি প্রেমচান, মুলক রাজ আনান্দ, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ প্রমুখের সমগ্র সাহিত্য ও সামগ্রিক পরিচয় আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন।
পেশাজীবনে সরকারি চাকুরি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে প্রায় দশক ধরে তিনি উর্দু সাহিত্য অনুবাদ করছেন। অনুবাদের অনেক দিকই তার উন্মোচিত। আছে অনুবাদের নিজস্ব ধরন। নিজস্ব পাঠকগোষ্ঠীও তৈরি আছে তার। তার বইয়ের সংখ্যা ত্রিশ। স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছে একুশে পদকসহ অন্যান্য পদ ও পুরষ্কার।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন