রবিবার, ২৭ মার্চ, ২০১৬

মালায়লম গল্প : পাঠানের বাচ্চা

গল্পকার -লেঃ ইউ এস মেনন
ইংরেজি অনুবাদ –মিসেস সুশীলা মিশ্র
ইংরেজি থেকে গল্পান্তর –তাপস গুপ্ত।

অরাজকতা তুঙ্গে। ধ্বংশ, হত্যা। হত্যা আর ধ্বংশ। দিন রাত। রাদ্দিন। এতবড়ো শহর এখন আস্ত কবরখানা। ধর্মের দোহাই, মানুষ পেটাচ্ছে মানুষকে, কোপাচ্ছে, খুন করছে। ইতস্তত হাত পা ছড়ানো মৃতদেহ। এখানে ওখানে গাদামারা লাশ। কোথাও পাশ কাটিয়ে, কোথাও মরা মানুষ দবিয়ে চটকে হুমড়ি খেয়ে পড়তে পড়তে পালিয়ে বেঁচেছি। হিন্দু আর শিখ শুধুমাত্র এই পাপে ভিটে থেকে উৎখাত মানুষ, প্রাণ ভয়ে ছুটছে। তাড়া খেয়ে চোদ্দপুরুষের ভিটে হারিয়ে মিলিটারিদের খাঁচায় চালান হয়ে এসেছি, ভারতবর্ষের ক্যাম্পে।


পা রেখে দাঁড়াবার ফুরসুত পাইনি, দিল্লী থেকে টেলিগ্রাম পেলাম, সেখানেও দাঙ্গা। উন্মত্ত মানুষ আমাদের হেডঅফিসে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ফাইল পত্তর তছনছ। পুড়ে শেষ। আমার ব্রাঞ্চঅফিস লাহোরে। জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছি, তবু সেই মুহূর্তে, অফিসের দলিল দস্তাবেজ টাকা-পয়সা, হিসেব কিচ্ছু আনতে পারিনি, সব পড়ে আছে।

আমাদের লাহোর ফ্যাক্টরি এমন এক মুসলিম বেল্টে, আমি নিশ্চিত, ফাইল পত্তর উদ্ধার মানে, জীবন হাতে করে সেখানে যাওয়া এবং লাশ হয়ে স্রেফ লাশের গাদায় মিশে যাওয়া।

অস্থির লাগছে। কী করি?

কুড়ি বছর কোম্পানির নুন খেয়েছি। কোম্পানি আমাকে জিন্দা রেখেছে। আমার পরিবারকে খাওয়াচ্ছে, পরাচ্ছে। সাহারা দিচ্ছে। একজন কেরানি হয়ে এই কোম্পানিতে জয়েন করেছি। আজ আমি লাহোর ব্রাঞ্চের মাথা। দায়-দায়িত্ব আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলেছে। তিলতিল করে কোম্পানির বড়ো হওয়া মিশে গিয়েছে আমার সঙ্গে। তার প্রাণস্পন্দন কুড়েকুড়ে খাচ্ছে। কী করি?

রাত দশটা বাজে। সারাদিন মালপত্তরের সাথে মালপত্তরের মতো পেষাই মাড়াই হয়ে আমি, আমার বউ, ছেলে এখানে পৌঁছেছি। বঊ ছেলে কতগুলো ভাঙাকাঠের পেটি আর শতচ্ছিন্ন দূর্গন্ধময় কম্বলের ভিতর মরার মতো ঘুমুচ্ছে। কয়েক মুহূর্ত ওদের মুখে তাকিয়েছিলাম। মনেমনে বললাম –বিদায়, যদি ফিরি দেখা হবে।



টর্চলাইট, পাঁচঘোড়ার একটা রিভলবার কোটের পকেটে চালান করে দিলাম। ক্যাম্পের সাইকেলখানায় চেপে রওনা দিলাম, ফ্যাক্টরির দিকে। ব্ল্যাকআউটের রাত্রি। ঘুরঘুট্টি অন্ধকার। সাইকেল স্পীডে চালানো দায়। এখানে মরা, ওখানে আধমরা মানুষেরা শুয়ে বসে অদৃশ্য হয়ে আছে। শেয়াল কুকুর রাস্তায় উঠে এসেছে। ওদের ডাক রাতকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। যা ভয় করেছিলাম, রাস্তার মোড়ে কিছুতে আটকে দাঁড়িয়ে গেলো সাইকেল। নেমে দাঁড়ালাম। টর্চের আলোয় দেখি, ফুলের মতো সুন্দর এক কিশোরী। জানিনা, কোন মায়ের কোল খালি করে এখানে পড়ে আছে! পোষাকহীন লাশ। খুনিরা স্তনদুটো ফালাফালা করে কেটেছে। চোখদুটো তখনও খোলা। দেখছে পৃথিবীকে। বোবা মুখখানা হাঁ। পরম মমতায় চোখের পলক নামিয়ে দিলাম। জন্মের মতো বুঁজিয়ে দিলাম মুখ। গোপন লজ্জা ঢেকে দিলাম রুমালে।

চলে যেতেই হলো। কারখানার গেটে পৌঁছতে গির্জার ঘন্টায় রাত এগারোটা বাজলো।

বজ্রপাতের মতো হুঙ্কার আমাকে স্তব্ধ করে দিলো।

-কে, কে ওখানে? এক পা’ও নড়বে না।

অন্ধকারে বেয়নেট ঝলসে উঠলো। আমার হাত ঢুকে গেলো কোটের পকেটে। চেপে ধরেছি রিভলবারের বাঁট। গলা নিচু করে বললাম –চৌকিদার, আমি।

চৌকিদার রাইফেল নামালো। কোটের বোতাম ঠিকঠাক করে। টুপি নামিয়ে গোঁফ মুচড়ে নেয়। নিজেকে সটান সোজা করে এক পা তুলে সশব্দে মাটিতে রাখে। মিলিটারি কায়দায় স্যালুট ঠুকে বলে –সালাম সাব।

-চৌকিদার, গেট খোলো।

-মাপ করবেন সাহেব। খুলতে পারবো না। যখন তখন গুন্ডারা এসে আপনার তলব নিচ্ছে। আশেপাশে কোথাও ঘাপটি মেরে আছে। কিছু ঘটে গেলে ঠেকাতে পারবো না। পালিয়ে যান। দেরি করবেন না।

হুকুম করলাম –চৌকিদার!

-না, হুজুর, দয়া করুন, জলদি পালান। মেমসাহেবার অল্প বয়স, সুন্দরী। ছোটসাহেব কচি দুধের বালক। তাঁদের বিপদে ফেলবেন না।

এখন প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। চৌকিদারের আস্পর্দা দেখে বিরক্ত হই। রাগে শরীর জ্বলে ওঠে। এমন কি কাঁপতেও শুরু করি। বলি –চৌকিদার, তর্ক করার সময় নেই। দু’চারখানা কাগজ অফিস থেকে বের করতেই হবে।

মাথা নিচু করে চৌকিদার বলে –ঠিক আছে, স্যর।

গেট খুলে দিলো।




তখন ভয়ে আমার হাত পা কাঁপছে। নড়বড়ে হাতে অফিসঘর খুলি। টর্চের আলোয় দামি কাগজগুলো যে মুহূর্তে পেয়ে গেছি, চৌকিদার চিৎকার করে উঠলো

–হুজুর সর্বনাশ! বেজন্মার বাচ্চারা এসে গেছে। খোলা দরোজা দিয়ে দেখলাম, দু’শোগজও হবে না, একদল উদ্দণ্ড মানুষ এলোপাথারি টর্চের আলো বনবন করে ঘোরাতে ঘোরাতে চলে আসছে। আলোয় আঁতিপাতি করে কাঊকে খুঁজছে। উন্মত্তের মতো চেঁচাচ্ছে –পাকিস্থান জিন্দাবাদ। হিন্দুস্থান মুর্দাবাদ।

নিমেষে বুঝে নিলাম, আমি শেষ।

চৌকিদারকে বললাম –আব্দুর রহিম, অফিসের অনেক নুন খেয়েছো, দাম দিতে পারবে?

-হুজুর, আমার বাপ পাঠান। আমি পাঠানের বাচ্চা।

-বেশ, অফিসের এই কাগজগুলো তোমার জিম্মায় দিলাম। যত্ন করে রেখো। দাঙ্গা শেষ হলে দিল্লির অফিসে পাঠিয়ে দিও।

সে কাগজগুলো আমার হাত থেকে নিলো। অসম্ভব যত্নে কোটের পকেটে তুলে রাখলো। বিড়বিড় করে বলল – পাঠান আমি, পাঠানের বাচ্চা। জানি, কী করে নুনের দাম দিতে হয়।

আপন মনে বেশ কয়েকবার কথাগুলো বলছিলো। কিছু সময় চুপচাপ। তারপর জিজ্ঞেস করলো

- স্যর, আপনি এখন কী করবেন?

রিভলবার বের করে দেখাই। বলি –এটাই শেষ সম্বল।

আব্দুর সাইকেলখানা অফিসে ঢুকিয়ে তালা মেরে দিলো। চাবি ঢুকিয়ে নিলো পকেটে। ছুটে গেলো গ্যারেজে। চোখের পলকে একটা কালো বোরখা কোত্থেকে জোগাড় করে আনলো। বললো,

– রিভলবারটা আমাকে দিন, স্যর। হ্যাঁ, ঝটপট এটা গলিয়ে নিন।

কিছু বোঝার আগেই, বোরখা দিয়ে মুড়ে দিলো আমাকে। রিভলবারটা পকেটস্থ করে ফেললো। মুহূর্তে ভদ্দরলোকের মতো দাঁড়িয়ে গেলো আমার সামনে। যেন কিছুই হয়নি। ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না।

জিজ্ঞেস করলাম –বিয়ে করোনি, বোরখা কোথায় পেলে?

ঘন বাদামি দাড়ি আর পাকানো গোঁফের ফাঁকে ঢেউ খেলে গেলো। দশবছরে এই প্রথম ওর মুখে হাসি দেখলাম। শয়তানগুলো ততক্ষণে অফিসের গেটে পৌঁছে গেছে। আব্দুর রহিম বাঘের মতো গর্জন করে উঠলো। -কে ওখানে ? দাঁড়াও। একচুল নড়বে না।

উন্মত্তরা হিংস্র চিৎকার করে উঠলো –পাকিস্থান জিন্দাবাদ।

আব্দুর গলা নামিয়ে বলল – সেলাম আলাইকুম।

নেতা চিৎকার করে ওঠে –রহিম, তোর সাহেব, সেই কাফেরটা কোথায়?

-সে এখেনে নেই।

-নেই মানে?

আব্দুর নেতার নাম ধরে পালটা চিৎকার করে বলে –গুলাম, কাফেরের বাচ্চাটা এখেনে আসবে কোত্থেকে?

-ওই বোরখাটা কে ?

আমি জানি। রেহাই নেই। আমার ছায়া দেখে ফেলেছে। বোরখা ধরে টান মারার চেষ্টা করলো।

-শয়তানের বাচ্চা!

আব্দুর সাক্ষাৎ যমদূতের মতো লাফিয়ে পড়ল ওর ঘাড়ে। রাইফেলের বাট দিয়ে চেপে, ওকে পেড়ে ফেললো।

-এ্যাত্তো সাহস তোর! পর্দানসীনের গায়ে হাত দিস, আর নিজেকে পাকিস্থানি বলে চেল্লাস? লজ্জা করে না?

ওর সঙ্গীরা সোল্লাসে বাহবা দিয়ে উঠলো –সাবাস আব্দুর, একদম ঠিক করেছিস।

নেতার দিকে তাকিয়ে খ্যালখ্যাল শব্দে হেসে উঠলো। গা ঝাড়া মেরে উঠে দাঁড়ালো গুলাম। ভবি ভুলবার নয়। ফের জিজ্ঞেস করে –সত্যি করে বল, বোরখার মধ্যে কে?

-আমার জেনানা।

-কাফেরের বাচ্চাটা এখেনে আসেনি?

- আল্লার কিরে, না।

-কেউ ওকে সাইকেলে এদিকেই আসতে দেখেছে।

-যে দেখেছে তাকে জিজ্ঞেস করোগে যাও। ব্যাঙ দেখতে সাপ দেখেছে।

-তুই তোর বঊ জাহান্নামে যা।

আমাকে না পেয়ে, ক্ষোভে ফেটে পড়লো গুলাম। দ্বিগুন রাগ উগরে দিলো সাঙ্গপাঙ্গদের লক্ষ্য করে

-পাকিস্থান জিন্দাবাদ। দে এই ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগিয়ে। কাফেরের বাচ্চাটা যদি ভিতরে থাকে, জ্যান্ত পুরে মরুক।

কথা মাটিতে পড়লো না, তার আগেই অফিসবিল্ডিং ভিজিয়ে দিলো কেরোসিনে। লাগিয়ে দিলো আগুন। দাউদাউ আগুনের শিখা লকলক করে উঠলো।

-পাকিস্থান জিন্দাবাদ। হিন্দুস্থান মুর্দাবাদ।

বীরপুঙ্গবেরদল কাড়া-নাকাড়া বাজিয়ে মহাদিগ্বিজয়ে বেরিয়ে পড়লো আবার। কী জানি কাদের সর্বনাশ ঘনিয়ে এলো!




দাউদাউ জ্বলছে ফ্যাক্টরি। ভিতরে আমি থরহরি কাঁপছি। সদাই গম্ভীর, উদ্ধত, বীরত্বে ঝলমল করে পাঠানের মুখ। দেখলাম, সাদাছাই, রক্তশূন্য পাঁশুটে হয়ে গেছে। এ এক অন্য আব্দুর রহিম।

তবু সে কতো বিনয়ী, দৃঢ়। বললে, -স্যর, এক মুহূর্ত নয়। চলুন, আপনাকে বিপদের বাইরে রেখে আসি। এই এলাকায়, এ রকম রোওয়াব দয়া করে আর দেখাবেন না। মুঠোতো নয়, ইস্পাতের সাঁড়াশি। আব্দুর আমার হাত চেপে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে চললো। হাতের রক্ত চলাচল দু’পাশে ভাগ হয়ে গেছে।

এতক্ষণে একটা হিন্দু এলাকায় এসে পৌঁছেছি। যাক, খানিক হাঁপ ছাড়লাম।

হুশ করে একটা লরি এসে দাঁড়িয়ে গেলো সামনে।

-হিন্দুস্থান জিন্দাবাদ। পাকিস্থান মূর্দাবাদ।

পাঁচ ছ’জন দশাসই শিখ বেরিয়ে এলো। ওরা খ্যাক খ্যাক করে হাসছিল। হাসির কোনো জাত হয় না। সেই একই হাসি। একজন বললো –এইতো সেই শুয়োরের বাচ্চা, আমার পাগড়ি টেনে খুলে দিইছিলো।

-ওঃহো, মেনন সাহেব।

একজন আমাকে চিনতে পেরেছে। বুকে জল এলো। আমার জানাশোনা ফ্যামিলির ছেলে। আব্দুরকে দেখে, সে যেনো আকাশ থেকে পড়লো।

জিজ্ঞেস করলো –এটা কী হলো, মেনন সাহেব?

আমি ভরসা নিয়ে বললাম –আরে সর্দারজি, এ আমার ফ্যাক্টরির পাহারাদার। এক্ষুণি আমার প্রাণ বাঁচিয়েছে। পৌঁছে দিচ্ছে আমাকে।

ওরা তখন মানুষ নেই। জ্যান্ত নরকের কসাই। হেসে উঠলো –হাঃ হাঃ হাঃ! মামার বাড়ি!! মোছলা হাতে পেয়ে ছেড়ে দেবো? মেনন সাহেব স্রেফ একবার লরির ভিতর তাকান।

দেখলাম, দশ পনেরোজন মুসলমান নারী, পুরুষ, শিশু বান্ডিল পাকিয়ে বাঁধা। আমার গা হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে এলো। মানুষগুলোর চোখ-মুখ ফ্যালফ্যাল করছে। বুঝতে অসুবিধে নেই, ওদের কসাইখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নরকের একটা কসাই বললো –ওদের নিয়ে ফূর্তি করতে যাচ্ছি। আর একজন খিকখিকিয়ে হেসে উঠেই ভয়ংকর হয়ে উঠলো। চেপে ধরলো আব্দুরের ঘাড়। কাতর স্বরে মিনতি করলাম –সর্দারজি, ও মুসলিম সত্যি, এটা আরো সত্যি, আমার মতো একজন হিন্দুর প্রাণ বাঁচিয়েছে। ভুলে যাবেন না, ও একজন হিন্দুর কাছে দেবদূত।

কসাইটার মুখ ব্যঙ্গের নিঃশব্দ হাসিতে বেঁকে গেলো।

-ভুলে যাবো? কক্ষণো না। ভুলে যাওয়ার অভ্যেস একদম নেই। ক্ষমাও করি না, মশাই। কুড়িবছর একটা মুসলিম অনাথকে খাইয়ে পরিয়ে মানুষ করেছি, আর সে! আমি বাড়ি ছিলাম না, সেই ফাঁকে দলবল জুটিয়ে এনে আমার বউ, তিনটে মেয়েকেই টুকরো টুকরো করে কেটেছে। ওদের লাশ এখনও উঠোনে পড়ে আছে। মিষ্টার মেনন, সৈন্য-সামন্তদের যুদ্ধ নয় যে ক্ষমা চাইবেন, রক্তের বদলে রক্ত। জানকা বদলা জান।

রাগে দুঃখে সে থরথর করে কাঁপছিলো।

অন্য কসাই বলল –ছাড়, তোর কম্ম নয়। পাকিস্থানি শালা কুত্তার বাচ্চা, আর সাউথ ইণ্ডিয়ান! ওই একই হলো। দু’টোয় বিধর্মী। শয়তানের বাচ্চা। দুটোকেই নিকেষ করে দিচ্ছি।

লাফ মেরে নেমে পড়লো আর একশিখ ছোকরা। হাতে বন্দুক। শিখ বন্ধুটি তার সঙ্গীকে এক ধমকে থামিয়ে দিলো। আমার দিকে ফিরে বললো – মিঃ মেনন, আপনি সাউথ থেকে এসেছেন, বরং সাঊথেই ফিরে যান।

নতজানু হয়ে, হাত জোড় করে বলতে গেলাম, আব্দুর রহিম আমাকে থামিয়ে দিলো।

বললো –স্যর, খুব হয়েছে, এখনও বেঁচে আছি। পাঠানের বাচ্চা পাঠান আমি। আমার বাপ ঠাকুদ্দা মরতে ভয় পাইনি, আমিও পাই না।

যথারীতি কোটের বোতাম ঠিকঠাক করে, মাথার টুপি নামিয়ে, গোঁফ মুচড়ে উপরে তুলে নিলো। নিজেকে সটান সোজা পাটপাট করে, একপা তুলে সদর্পে মাটিতে ফেললো।

মিলিটারি কায়দায় স্যালুট ঠুকে,বলে উঠলো –সালাম সাব।

কোটের পকেট থেকে অফিসের কাগজ বের করে আমার হাতে দিয়ে বললো –এটা রাখুন।

মুহূর্তে বাঘের মতো বিক্রমে ঘুরে দাঁড়িয়ে বের করে ফেললো রিভলবার। এবং চিৎকার করে উঠলো –এবার দ্যাখ, কাফেরের বাচ্চারা।

রিভলবার থেকে বেরিয়ে যায় একটা বুলেট। একজন শিখ লুটিয়ে পড়লো। আবার একটা বুলেট। আর একজন শিখ। দুটো বুলেটের উত্তরে ফিরে এলো তিনটে বুলেট। পাঠানের হাত গড়িয়ে পড়ে গেলো রিভলবার। বিশাল দেহটা শুয়ে গেলো মাটিতে। থিরথির করে কাঁপছিলো। ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার আগে একখানা হাত তুলে ধরলো আকাশের দিকে। ওখানে তখনও অন্ধকার তবু তার অন্তরালে এক এবং একটাই নীল। পাঠানের বাচ্চা প্রাণপন শক্তিতে বাতাস কাঁপিয়ে আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে দিলো একটা হুঙ্কার –কাফের মূর্দাবাদ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন