সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৬

আংটি

মূলঃ ইউজেনিয়া ভিতেরি

অনুবাদঃ ফজল হাসান

প্রতিদিন, বিশেষ করে রবিবার শেষ বিকেলে, তেরেসা সমুদ্রের প্রশস্ত পাড়ে ঘুরে বেড়ায়, যা ‘লিবার্টি’ নামে পরিচিত । তার উজ্জ্বল এবং সুতীক্ষ্ণ চোখ সারাক্ষণ শুধু কাছের এবং দূরের জিনিস খোঁজার কাজে ব্যস্ত থাকে । এসব জিনিসের মধ্যে রয়েছে রোদচশমা, কাঁটা চামচ, চিরুনী, এমনকি অন্যান্য টুকিটাকি জিনিসপাতি, যা শহরের ধন্যাঢ্য লোকজন এসে ভুল করে ফেলে যায় । মাঝে মাঝে তাকে উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে কঠিন সংগ্রাম করতে হয় । কেননা প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে তার আকাঙ্ক্ষিত জিনিসপত্র ভেসে যায় । সমুদ্র হিংস্র হলে সে ভেজা বালির ওপর চুপচাপ বসে দূরের ফেনায়িত ঢেউয়ের দিকে বিষণ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।


সে ধীর পায়ে মাথা নিচু করে সমু্দ্র কূলে ভেজা বালির ওপর হাঁটে এবং আশেপাশের বালিতে তার সজাগ দৃষ্টি দ্রুত ঘুরে বেড়ায় । তার দেহের গড়ন আহামরি কিছু না । তাই ঘোরাঘুরির সময় সে পথচারীদের নজরে পড়ে না । কিন্তু তার এই খোঁজাখুঁজির কাজ শুধু লুইসের জন্যই ।

লুইসের জন্য ভেজা বালিতে জিনিসপত্র খোঁজার করার মূল কারণ হিসাবে সে ভেবে নিয়েছে যে, সংসারের খরচাপাতিতে সরাসরি অংশীদার হবে এবং লুইসকে খানিকটা চিন্তা মুক্ত করবে । নিঃসন্দেহে সামান্য আর্থিক সাহায্য তাদের সংসারের সচ্ছ্বলতা বজায় রাখতে পারবে । যখন সে লুইসের মাসিক আয় জানতে পারে, তখনই সে ‘একটা কিছু করে সাহায্য করবে’ করার কথা তাকে জানায় । তবে খোলসা করে বলেনি সে কোন উপায়ে অর্থকড়ি উপার্জন করবে । সে আশা করেছিল তার কথা শুনলে হয়তো লুইস নিজেকে পরিবর্তন করবে । কিন্তু না, লুইসের কোনো পরিবর্তন হয়নি । কেননা তাকে মানসিক এবং শারীরিক যন্ত্রণা দিয়ে লুইস যেটুকু মনের আনন্দ উপভোগ করে, সে নিজেকে সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত করতে চায় না । লুইস ততক্ষণই তেরেসাকে যন্ত্রণা দেয়, যতক্ষণ না সে এসে তার সামনে নতজানু হয়ে ক্ষমা ভিক্ষা চায় । যাহোক, আজ দামী কিছু খুঁজে পেলে হয়তো তার ভাগ্য বদলে যাবে । কিন্তু এখন পর্যন্ত সে ভেজা বালিতে যেসব গহনা খুঁজে পেয়েছে, তার মূল্য যৎসামান্য ।

সে ভাবে, হে ঈশ্বর, আজ যেন মূল্যবান কিছু পেয়ে যাই ।

যাই হোক না কেন, লুইসকে আর্থিক সাহায্য করার জন্য সে আনন্দিত, যদিও তা নিতান্তই নগন্য ।

লুইস যখন তাকে মারধর করে, যা নিত্যদিনের গদবাঁধা ঘটনা, সে চুপ করে সহ্য করে এবং বিনিময়ে অপেক্ষা করে কখন লুইস প্রহার বন্ধ করে একটুখানি মমতার আলতো পরশ বুলিয়ে দিবে তার গায়ে । সে জানে, সবার উপরে সত্য হলো, লুইস তার স্বামী ।

আচমকা বিদ্যুৎ ঝলকের মতো একটা উজ্জ্বল আলো তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে । অন্যদের হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুঁজে পাওয়া ওস্তাদের প্রতি ভাগ্যদেবী হয়তো সুপ্রসন্ন হয়েছে । ভেজা বালির ওপর আলবৎ দামী এবং আশ্চর্য একটা কিছু পড়ে আছে । নজরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে ভোঁ দৌঁড়ে ছুটে যায় এবং পাছে যদি কেউ তাকে দেখে ফেলে, সেই ভয়ে সে চোখের পলকে নীচু হয় ।

‘যেহেতু এটা অত্যন্ত সুন্দর, তাই আমি আমার নিজের জন্য রাখবো,’ মনে মনে সে বললো ।

এটা উজ্জ্বল পাথর দিয়ে তৈরী আংটি, যা সূর্যের দিকে আলোকিত পাখা মেলে আছে । তেরেসা কনিষ্ঠা আঙুলে পরিধান করে, যেন জীবন্ত কোনো কিছু তার আঙুল জড়িয়ে আছে । তার ভয় হচ্ছিল, যদি কোনো দূরন্ত বাতাস কিংবা উত্তাল ঢেউ এসে তার আঙুল থেকে আংটিটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় । যাহোক, যরপরনাই খুশিতে সে ভেজা বালির ওপর আহত পাখির মতো লাফাতে লাফাতে বাড়ির পথে পা বাড়ায় । সে আপনমনে বিড়বিড় করে বলে, ‘এটা আসল আংটি, খাঁটি আংটি ।’

হঠাৎ তার আনন্দের বেলুন ফুটো হয়ে যায় । কেননা আজকের এই ঘটনা হয়তো অন্যান্য দিনের মতোই আটপৌড়ে এবং একঘেঁয়েমী ।

লুইস হয়তো বলবে, ‘দেখি, কোথায় পেলে ? আমাকে দাও ।’

এবং যখন সে আংটি স্বামীর হাতে তুলে দিবে, তখন সে বলবে, ‘আবর্জনা ... এর কোনো দাম নেই ।’ বলেই লুইস তাকে নির্ঘাত নিত্যদিনের ঘটনা মাফিক তার মুখমন্ডলে বার কয়েক চপেটাঘাত করবে ।

যাহোক, পুনরায় তেরেসা আংটিটি নেড়েচেড়ে দেখে এবং অনুচ্চ স্বরে বলে, ‘নাহ্, এটা, হ্যাঁ এটা আসল আংটি । এই আংটি নিশ্চয়ই দামী । হ্যাঁ এটা ... । আমার স্বামী দোকানে নিয়ে কয়েক সেন্টে বিক্রি করে দিবে ।’

তেরেসা অল্পতেই দমে যাওয়ার পাত্রী নয় । সে কিছুতেই লুইসকে আংটি দেবে না । খুশীতে সে একেক করে প্রতিটি আঙুলে আংটি পরে এবং প্রতিবারই তার চোখে নতুন ভাবে ধরা দেয় । তার কাছে মনে হয় একটা আংটির ভেতর অনেকগুলো আংটি ।

সে লুইসকে আংটি দিবে না । অন্তত এই আংটি তো নয় । মনের আনন্দকে জিইয়ে রাখার জন্য সে তার কাছে রাখবে । যাহোক, অবশেষে আঙুলে আংটি পরার পর সে নিশ্চিত বোধ করে । আংটির মাঝখানের রঙিন ছোট্ট পাথরে সে সবকিছুই সুন্দর দেখতে পায় ।

তোমার মনিব কি অপ্সরী ছিল ? এবং তার হাত কেমন ছিল ? এই মুহূর্তে তার আঙুলে যাওয়ার জন্য তোমার কোনো তাড়া নেই । তুমি এখন তেরেসার, শুধুই তেরেসার । তার আঙুলে তুমি যেভাবে ছিলে, এখন ঠিক সেভাবেই থাকবে এবং তার হাতের আঙুল আলোকিত হয়ে জ্বলবে । তোমাকে অভিবাদন হে ঐশ্বরিক পাথরের আংটি ।

স্ত্রীকে ঘরে ঢুকতে দেখেই লুইস উঠে দাঁড়ায় । ‘তাহলে, তুমি কি আজ কিছু পেয়েছ ?’

তেরেসা একটু সময় নিয়ে বললো, ‘না, না । আজ কিছুই পাইনি ।’

‘হুম ... আশ্চর্য ! গত রবিবার থেকে কিছুই পাওনি ।’

এবার লুইস স্ত্রীকে কোনো চড়থাপ্পড় দেয়নি । বোধহয় সে ভীষণ ক্লান্ত, হয়তো সে তেরেসার গলার স্বরে ভিন্ন কিছু আন্দাজ করেছে । যাহোক, দু’পাশের কাঁধে শ্রাগ করে সে পুনরায় ঘুমোতে চলে যায় ।

কিন্তু পরদিন সেই পুরোনো হিংসাত্বক চিত্র ফিরে আসে । সেই মুহর্তে তেরেসার কাছে তা মামুলি বিষয় এবং ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না । কেননা সে যখন মূল্যবান আংটি আঙুলে পরে একলা থাকে, তখন তার মন ভালো হয়ে যায় এবং সে তার নারী মনকে আলোকিত করে রাখে । তবে লুইস তেরেসার মধ্যে একটা ভিন্ন কিছু লক্ষ্য করেছে । কেননা প্রচণ্ড ঘৃণায় সে তুচ্ছ গহনা ভেবে সজোরে ছুড়ে দেয় এবং মাটিতে থুথু ফেলে । সেই মুহূর্তে হঠাৎ লুইস তার উদ্যত হাত সংযম করে ।

‘তোমার চুল খুব সুন্দর দেখাচ্ছে,’ বিড়বিড় করে লুইস বললো ।

আংটির প্রতি সম্মান জানিয়ে আজ তেরেসা সুন্দর করে চুল বেঁধেছে । নিঃসন্দেহে এই অলৌকিক আংটি তার চেহারায় পরিবর্তন এনে দিয়েছে । সে ভাবে, লুইস যদি আসলেই তার চেহারার পরিবর্তন লক্ষ্য করে থাকে, তাহলে সে প্রহার করার পরিবর্তে তাকে বরং কাছে টেনে জড়িয়ে ধরবে এবং আদর-সোহাগ করে চুমু খাবে ।

পরদিন অপরাহ্নে লুইস অপ্রত্যাশিত কারণে আগেভাগে ঘরে ফিরে এবং রীতিমত তেরেসাকে চমকে দেয় । সেই সময় তেরেসা দরোজার পাশে দাঁড়িয়ে আঙুলের মাঝে আংটির সৌন্দর্য গভীর মনোযোগ দিয়ে উপভোগ করছিল ।

‘ওটা কি ? খুবই সুন্দর ? আজই পেয়েছ ?’

তড়িৎ গতিতে তেরেসা তার হাত পেছনের দিকে লুকোয় ।

‘না, না, আমি পাইনি,’ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সে দ্রুত গতিতে বললো ।

‘তা না হলে কি ? তুমি কি চুরি করেছ ?’

‘না, না, ওরা আমাকে দিয়েছে ।’

লুইস অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ে । তারপর উপহাসের ভঙ্গিতে তেরেসার কথা পুনরাবৃত্তি করে, ‘ওরা আমাকে দিয়েছে !’ একটু থেমে পুনরায় জিজ্ঞেস করে, ‘তোমাকে এই আংটি কে দিয়েছে ?’

এবার তেরেসা মাথা তুলে সোজা হয় । তারপর তার দু’ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে যে কথা বেরিয়ে আসে, তা ডাহা মিথ্যা এবং সেটা তার আত্মসম্মানকে অটুট রাখার জন্যই সেই মিথ্যা কথা বলা । ‘একজন ... একজন লোক ... ।’

রাগে-ক্ষোভে লুইসের মুখ ফুলে ওঠে এবং ঘুষি দেওয়ার জন্য সে হাতের মুঠি শক্ত করে উপরে তোলে । তেরেসা চোখ বন্ধ করে এবং ঘুষির জন্য অপেক্ষা করে । কিন্তু লুইস তাকে কিছুই করলো না, বরং আস্তে করে হাত নামায় । তেরেসার চোখেমুখে অন্যরকম দ্যুতি দেখে সে উল্টো দিকে ঘুরে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় ।

কিন্তু কয়েক মিনিট পরেই লুইস পুনরায় ঘরে প্রবেশ করে এবং সরাসরি জিজ্ঞেস করে, ‘শোনো, তুমি কি সত্যি আমাকে রাগিয়ে দিতে চাও ? কোথায় তুমি আংটি পেয়েছ ?’

‘একজন লোক আমাকে দিয়েছে ।’

‘কে সেই লোক ?’ লুইস রীতিমত গর্জে ওঠে ।

‘একজন বাদামী রঙের মানুষ ... দীর্ঘ এবং মাথায় কালো চুল ... একজন লোক । সে বলেছে, আমাকে সে পেয়ার করে ... ।’

এই একটু আগে যা বলেছে, তা নিয়ে তেরেসা এখন আর ভাবে না । তার মনে হয়, কথাগুলো যেন সেই স্বপ্নপুরী থেকে এসেছে, যা এতদিন সে বুকের অন্দরমহলে সযত্বে লালন-পালন করেছে । একসময় কন্ঠস্বর নরম করে সে বললো, ‘আমাকে সে তার সঙ্গে নিয়ে যেতে চায় ... সে আমাকে আহ্লাদ করে ডাকে, প্রিয়তমা, আদরিনী ।’

‘তুমি একটা নষ্ট মহিলা । দাঁড়াও, তাকে দেখাচ্ছি ... ।’

বলেই লুইস ঘুষি দেওয়ার জন্য ডান হাত গোল করে উপরে তোলে । পরমুহূর্তে নিস্তরঙ্গ সরোবরের মতো তেরেসার শান্ত এবং স্নিগ্ধ মুখের দিকে তাকিয়ে সে পুনরায় হাত নামায় ।

তেরেসার চোখেমুখে স্নিগ্ধ হাসির রেখা ফুটে ওঠে ।

‘এখন তুমি তা করতে পারবে না । সে আমার জন্য দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে । শীঘ্রই আমি তার কাছে চলে যাবো ।’

হঠাৎ লুইসের মুখভঙ্গি আমূল বদলে যায় । তার চোখেমুখে রাগের কোনো আলামত নেই । কয়েক পলকের জন্য সে ফ্যাকাসে দৃষ্টিতে তেরেসার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে । তারপর আচমকা সে তেরেসার পায়ের কাছে নতজানু হয় ।

‘না, তেরেসা, তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না, কিছুতেই যেতে পারো না । আংটি ফেরত দিয়ে দাও । তোমাকে আরো সুন্দর আংটি কিনে দিবো । আজই আমি ওদেরকে বেতন বাড়িয়ে দিতে বলবো ।’

তেরেসা আলতো করে স্বামীর এলোমেলো চুলে বিলি কাটে । তখন তার আঙুলের মাঝে আংটির পাথর অন্ধকার রাতের উজ্জ্বল তারার মতো জ্বলজ্বল করে ।


লেখক পরিচিতিঃ 
ইকুয়েডোরের হাতে গোণা যে ক’জন উল্লেখযোগ্য কথাসাহিত্যিক আছেন, তাদের মধ্যে ইউজেনিয়া ভিতেরি অন্যতম । তার পুরো নাম ইউজেনিয়া ভিতেরি ব্লাঙ্কা সেগুরা । তিনি একাধারে একজন ঔপন্যাসিক, গল্পকার এবং অধ্যাপক । তার জন্ম উপকূলীয় গায়াকিল শহরে, ১৯২৮ সালের ১৪ এপ্রিল । তিনি ছিলেন বিধবা মায়ের ছয় সন্তানের একজন । ছোটবেলা থেকে পড়াশুনায় তার ভীষণ আগ্রহ ছিল । ফেরীওয়ালার কাছ থেকে বই ভাড়া নিয়ে তিনি সাহিত্যের ওপর জ্ঞানার্জণ করেন । মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে গল্প লেখা শুরু করেন । তার লেখার মূল বিষয় সমাজের উঁচু ও নিচু এবং বিত্তবান ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে সামাজিক অসামঞ্জস্য, সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, এবং নারী নির্যাতন ও নিম্ন শ্রেনীর নারীদের দৈনন্দিন জীবনের করুন কাহিনী । প্রথম ছোটগল্প সংকলন ‘রিং এন্ড আদার স্টোরিজ’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে । তার অন্যান্য গল্প সংকলনের মধ্যে রয়েছে ‘টুয়েলভ্ স্টোরিজ’ (১৯৬২), ‘শুজ এন্ড ড্রীমস্’ (১৯৭৭), ‘সিলেক্টেড স্টোরিজ’ (১৯৮৩) এবং ‘এ টেইষ্ট অফ ইকুয়েডরঃ দ্য কালেক্টেড স্টোরিজ অফ ইউজেনিয়া ভিতেরি’ (২০০৮) । ‘ওনলি নাইনটি মাইলস্’ তার প্রথম উপন্যাস, যা ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয় । ‘ব্ল্যাক অ্যালকোভস্’ বা ‘ডার্ক বেডরুমস্’ (১৯৮৩) তার অন্য উপন্যাস । লেখালেখির স্বীকৃতি হিসাবে তিনি একাধিক সাহিত্য পুরস্কার অর্জণ করেন । পুরস্কার প্রাপ্ত লেখা উপন্যাস এবং ছোটগল্প ইংরেজী ছাড়াও রাশিয়ান, ইতালিয়ান এবং বেলজিয়াম ভাষায় অনূদিত হয়েছে । তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তার লেখায় আর্নেষ্ট হেমিংওয়ে, ভিক্টর হুগো এবং ফিওদর দস্তয়েভস্কির প্রভাব রয়েছে । ব্যক্তিগত জীবনে ইউজেনিয়া ভিতেরি মার্ক্স মতবাদে বিশ্বাসী । ১৯৬৩ সালে স্বৈরাচারী সরকারের অত্যাচার থেকে নিস্কৃতি লাভের আশায় চিলিতে নির্বাসিত হন । সেখানে চিলির লেখক পেড্রো জর্জে ভেরাকে বিয়ে করেন । পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে সামরিক শাসনের পতন হলে তিনি সপরিবারে স্বদেশে ফিরে আসেন এবং বর্তমানে কুইটো শহরে বসবাস করেন ।


গল্পসূত্রঃ ‘আংটি’ গল্পটি ইউজেনিয়া ভিতেরির ইংরেজিতে অনূদিত ‘রিং’ গল্পের অনুবাদ । স্পেনিশ ভাষা থেকে গল্পটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন এল এস থমাস । গল্পটি ‘এ টেইষ্ট অফ ইকুয়েডরঃ দ্য কালেক্টেড স্টোরিজ অফ ইউজেনিয়া ভিতেরি’ গল্প সংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে । তবে ইংরেজীতে গল্পটি প্রথম ‘রিং এন্ড আদার স্টোরিজ’ ছোটগল্প সংকলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল । দারিদ্রতা এবং স্বামীর নিত্যদিনের অত্যাচার এবং শারীরিক নির্যাতনের কাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে কুড়িয়ে পাওয়া একটা আংটি যে সংসারের শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে, তারই কাহিনী লেখক এই গল্পটিতে তুলে ধরেছেন । গল্পটিতে আংটি রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে ।




নুবাদক পরিচিতি
ফজল হাসান

অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী অনুবাদক, গল্পলেখক ও ছড়াকার । ফজল হাসান সাহিত্যিক ছদ্মনাম। পোষাকী পরিচয় ড. আফজল হোসেন । মধ্য-সত্তরে দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য পাতায় প্রথম মৌলিক ছোটগল্প ‘অন্ধকারে কালো চুল’ প্রকাশিত হয় । একই সময়ে প্রথম ছড়া বেরোয় বাংলা একাডেমির ‘ধান শালিকের দেশ’ ম্যাগাজিনে । ঢাকার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার সাহিত্য পাতায়, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং অনলাইন ম্যাগাজিনে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে তার মৌলিক এবং অনুবাদ গল্প । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেনীতে অনার্স ও মাষ্টার্স এবং অষ্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রী । বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সপরিবারে ক্যানবেরার বাসিন্দা ।

প্রকাশিত গ্রন্থঃ মৌলিক ছোটগল্প – ‘চন্দ্রপুকুর’ (২০০৮) এবং ‘কতোটা পথ পেরোলে তবে’ (২০১০) । অনুবাদ ছোটগল্প সংকলন – ‘আফগানিস্তানের শ্রেষ্ঠ গল্প’ (২০১৩), ‘নির্বাচিত নোবেল বিজয়ীদের সেরা গল্প’ (২০১৩), ‘ইরানের শ্রেষ্ঠ গল্প’ (২০১৩), ‘নির্বাচিত ম্যান বুকার বিজয়ীদের সেরা গল্প’ (২০১৫) এবং ‘চীনের শ্রেষ্ঠ গল্প’ (২০১৫) ।

আগামি বই মেলায় (২০১৭) আরোও তিনটি অনুবাদ ছোটগল্প সংকলন প্রকাশিত হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন