বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

আফসার আমেদের গল্পের ভুবন : লেখার ইশারা আমি পেতাম সংসারের ভেতরে পদচারণা করার চিহ্নের টানে

গল্পপাঠ
গল্প লিখতে শুরু করলেন কেন


আফসার আমেদ-

আর কিছু পারি না বলে গল্প লিখতে শুরু করলাম। খুব ছোট বয়েস থেকে। সেজন্য বিদ্যায়তনিক পড়াশুনার ফল খারাপ হয়েছে। ভালো চাকরি পাইনি। দুর্বিষহ জীবন যাপন করে চলেছি এখনও। যদিও স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। চাকরি করব না এমনই মনে করেছিলাম। অনেকটা বয়স পর্যন্ত লেখালেখির আয় দিয়ে সংসারও সামলেছি। পরে ছেলেমেয়ে দুজনের পড়াশুনার খরচ যোগাড় করতে গিয়ে টান পড়ল। তখন সাদামাটা চাকরি নিয়ে অসুবিধেয় থাকা শুরু হয়। গল্প বা উপন্যাস লেখার ভেতর দিয়ে আমি কিছু বলতে চাই বলেই এই  কলমচিগিরি। গল্প লিখে চলা। এখন কর্মক্ষেত্র থেকে অবসর নেওয়ার উপান্তে পৌঁছে লেখাকে অবলম্বন করে শেষ জীবনটা নির্বাহ করতে চাই। কেন না বলার অনেক কিছু বাকি আছে, অধরা থেকে গেছে অনেক কিছু। নতুন আঙ্গিকের চর্চা করা যেতে পারে। আমার কলম সেভাবে লিখিয়ে নেবে।



গল্পপাঠ
শুরুর লেখাগুলো কেমন ছিল?

আফসার আমেদ
শুরুর লেখাগুলি খুবই স্বতঃফূর্ত ছিল। বসলেই লেখা হয়ে যেত। একটি ঘোরের মধ্যে লেখা শুরু করতাম, ঘোরের মধ্যেই শেষ করতাম। লেখা আমার কাছে আসত, আমি লেখার কাছে যেতাম না।


গল্পপাঠ
গল্প লেখার জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছেননিলে সেগুলো কেমন?

আফসার আমেদ
লেখার ইশারা আমি পেতাম সংসারের ভেতরে পদচারণা করার চিহ্নের টানে। প্রস্তুতি ছিল না। ছিল অভাব কাগজ কলমের। তখন তো বলপেনের প্রচলন ছিল না। এমন কি লেখা যেতে পারে সে রকম ঝরণা কলমেরও অভাব ছিল। কালি পেতাম না, এমন কি বাড়ির মেয়েদের আলতাও ব্যবহার করতাম। কাগজের অভাবে হ্যান্ডবিলের পেছনটা ও ক্যালেন্ডারের পেছনটা ব্যবহার ছিল। এগুলিরই আমার প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়ত। আর কিছু নয়। লেখার সময়? সে তো পড়াশুনার প্রয়োজন পড়ত না। সব সময়ই লেখার সময়।


গল্পপাঠ
আপনার গল্পলেখার কৌশল বা ক্রাফট কি?

আফসার আমেদ
গল্প লেখার ক্রাফট বা লেখার কৌশল আমাকে ধরেনি, আমি নিজেই লিখতে লিখতে তৈরি করেছি। তিনশোটি গল্প লিখেছি, একটা আর-একটার মতো নয়।


গল্পপাঠ
আপনার নিজের গল্প বিষয়ে আপনার নিজের বিবেচনা কি কি?

আফসার আমেদ
আমার নিজের গল্প নিয়ে বিবেচনার কোন অবকাশই নেই। তাহলে লিখব কখন? নুনের গুণ গাওয়ার সময় নেই, পান্তা যোগাড় করতে হবে এখনই।


গল্পপাঠ
আপনার আদর্শ গল্পকার কে কেকেনো তাঁদেরকে আদর্শ মনে করেন?

আফসার আমেদ
সবাই আমার আদর্শ গল্পকারযাদের লেখা সেতারের ঝালার মতো বেজে ওঠে। কেননা আমরা সমাজের লেখক। বাজে গল্প আদর্শ নয়। ভালো গল্প আমার আদর্শ। লেখকের তালিকা অনেক দীর্ঘ।


গল্পপাঠ
কার জন্য গল্প লেখেন

আফসার আমেদ
নিজের জন্য গল্প লিখি। ছাপার পরে সেটা সকলের হয়ে যায়। তখন আমার হাতে থাকে না বলে আবার একটা গল্প লিখি। পাঠকের কথা ভেবে গল্প লিখতে চাইলে লিখতেই পারতাম না। মনে হয়, না ছাপলেই কত ভালো হতো। পাঠকরা মশা মারবেন, না গল্প পড়বেন? ব্যাঙ্কে লাইন না দিয়ে, আয়ের হিসেবে গরমিলের সুযোগের সময় না দিয়ে, শীতে লেপ মুড়ি না দিয়ে শুয়ে, নারী-পুরুষ যৌনতায় না গিয়ে, মাছের কাঁটা বাছার সময় দেবেন, না গল্প পড়বেন? তারপর টেলিবন্ধন, ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেট বাদ যাবে যে! লাফিং ক্লাব বাদ যাবে কেন? হাসুন। হাসি স্বাস্থ্যের জন্য উপকার। পাঠকের কথা মনেই থাকে না। হা-হা-হা-

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন