বৃহস্পতিবার, ২৪ মে, ২০১৮

লুসিয়া বার্লিনের গল্প : কার্পে ডিয়েম

মূল: লুসিয়া বার্লিন 
অনুবাদ: ফজল হাসান 

বেশির ভাগ সময় বুড়ো হয়ে যাওয়াকে আমি স্বাভাবিক মনে করি । বরফের উপর দিয়ে স্কেইট করা মানুষের মতো আচমকা কিছু একটা আমাকে তীব্র যন্ত্রণা দেয় । স্কেইট করার সময় মনে হয় তারা স্বাধীন, তাদের দীঘল পা উড়ে বেড়ায় এবং পেছনের দিকে চুল ভাসতে থাকে।
অন্য অনেক কিছুই আমাকে আতঙ্কিত করে তোলে, যেমন ট্রেনের দরজা । স্টেশনে ট্রেন থামার পরে দরজা খোলার আগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা । যদিও খুব বেশি দেরি না, কিন্তু তারপরেও দেরি । কোন সময় নেই । 

এবং খুচরো পয়সা চালিত স্বয়ংক্রিয় লন্ড্রি । কিন্তু আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন এগুলো আমার জন্য একটা সমস্যা ছিল। এমনকি দ্রুতগামী মানবীর কাছেও এটা ছিল দীর্ঘ সময়ের। অপেক্ষায় বসে থাকার সময় কারো কাছে হয়তো পুরো জীবনটাই চোখের সামনে ফুটে উঠবে,  অথবা দুঃখ ভুলতে চাইবে কোন মদ্যপ । অবশ্য আমার যদি কোন গাড়ি থাকতো, তবে আমি হার্ডওয়্যার দোকানে কিংবা পোস্ট অফিসে যেতাম এবং তারপর ফিরে এসে কাপড়গুলো ড্রাইয়ার মেশিনে ঢুকিয়ে দিতাম । 

লন্ড্রিতে কোন কর্মচারী না-থাকা তারচেয়েও খারাপ । তখন মনে হয় সেখানে আমি সব সময় একা । কিন্তু কাপড় ধোওয়ার এবং শুকানোর মেশিনগুলো সচল ... সেই সময় সবাই হার্ডওয়্যার দোকানে । 

লন্ড্রির অনেক কর্মচারীকে আমি চিনি । তারা ইতস্তত ঘোরাঘুরি করা বুড়ো, যাদের কাছে খুচরো আয় থাকে কিংবা কখনই কোন খুচরা থাকে না । এখন স্ফীত ওফেলিয়া, যে ‘নো সোয়েট’ উচ্চারণ করে, কিন্তু শোনায় ‘নো থোয়েট’ । তার শরীরের উপরের অংশ গরুর মাংসের মতো থলথলে । তার উরোজ এত বিশাল যে, বিড়াল ছানার টেবিল ঘোরানোর মতো তাকে দরজা পেরিয়ে যাওয়ার জন্য পাশে ঘুরতে হয় । যখন সে ঝাড়ন নিয়ে কড়িডোরে আসে, তখন সবাই সরে যায়, এমনকী তারা কাপড়ের ঝুড়িও সরিয়ে নেয় । সে টেলিভেশনের চ্যানেল ঘোরাতে পটু । যখনই আমরা ‘দ্য নিউলিওয়েড গেম’ দেখার জন্য সহমত পোষণ করি, তখনই সে চ্যানেল ঘুরিয়ে ‘রায়ান’স্ হোপ’-এ চলে যায়। 

একবার, মার্জিত ভাষায়, আমি তাকে বলেছি যে, তার মতো আমিও ... অস্থির প্রকৃতির । তাই সে আমাকে অস্থিরতার সঙ্গে তুলনা করে । ‘অস্থিরতা নিয়ে তুমি কেমন করে আসো ?’ ‘হ্যালো’ বলার পরিবর্তে সে জোর গলায় জিজ্ঞাসা করে । যা আরো বেশি খারাপ করে, তাহলো সেখানে বসে থাকা এবং বুড়ো হয়ে যাওয়া । আমার সব ছেলে এখন বড় হয়ে গেছে। তাই পাঁচ বার কাপড় ধোওয়ার পরিবর্তে আমি একবার ধুই । কিন্তু একই সমান পরিমান সময় কেড়ে নেয় । 

গত সপ্তাহে আমি বাসা বদল করেছি । হয়তো এ নিয়ে দুই শ’ বার হবে । আমি আমার সবগুলো বিছানার চাদর নিয়েছি । এছাড়া আমি দরজা-জানালার পর্দা এবং তোয়ালেও নিয়েছি । ট্রলি ভর্তি হয়ে গেছে । লন্ড্রির ভেতর উপচে পড়া ভিড় এবং সবাই আলাদা ভাবে এসেছে । আমার সমস্ত কাপড়চোপড় আমি তিনটি ধোওয়ার মেশিনে ঢুকিয়েছি । তারপর ভাংতির জন্য ওফেলিয়ার কাছে যাই । ফিরে এসে আমি মেশিনের নির্দিষ্ট জায়গায় খুচরো ঢুকাই এবং মেশিনের ভেতর সাবানের গুঁড়া ঢালি । বোতাম টিপতেই মেশিন চলতে শুরু করে । কিন্তু আমি ভুল করে অন্য তিনটা মেশিন চালু করি । সেই তিনটি মেশিনে লোকটির কাপড় ধোওয়া তখনই শেষ হয়েছে । 

আমি মেশিনের কাছ থেকে সরে আসি । চোখেমুখে একধরনের অনুভূতির রেখা ফুটিয়ে ওফেলিয়া এবং লোকটি আমার সামনে এসে দাঁড়ায় । আমি দীর্ঘাঙ্গী, পড়নে ঢাউস পেন্টি-মোজা, কিন্তু তাদের দুজনের দেহ বিশাল । ওফেলিয়ার হাতে প্রি-ওয়াশ স্প্রে বোতল । লোকটির পড়নে কাটা প্যান্ট । তার বিশাল ঊরুর সঙ্গে লাল লোম চমৎকার মানিয়েছে । তবে তার ঘন দাড়ি আদৌ চুলের মতো নয় । তার মাথায় লাল রঙের ঝাকড়া চুল এবং গরিলার ছবি আঁকা বেজবল টুপি । যদিও টুপি ছোট নয়, কিন্তু ঝাকড়া চুলের উপর টুপিটি তাকে আরও দীর্ঘদেহী করেছে । দেখলে মনে হয় তার উচ্চতা প্রায় সাত ফুট । এক হাত দিয়ে অন্য হাতের তালুতে সে সজোরে ঘুষি মারে । ‘ধুত্তরি । আমি বোকারাম হয়ে গেলাম ।’ ওফেলিয়া আমার জন্য হুমকি নয়, বরং সে আমাকে রক্ষা করে । লোকটি এবং আমার অথবা লোকটি এবং ওয়াশিং মেশিনের মধ্যিখানে এসে সে দাঁড়ায় । ওফেলিয়া সব সময় বলে লন্ড্রিতে এমন কোন কিছু নেই, যা সে সামাল দিতে পারে না । 

‘মিষ্টার, আপনি বরং বসুন এবং শান্ত হোন । একবার মেশিন চলতে শুরু করলে থামানোর কোন ব্যবস্থা নেই । খানিকটা সময়ের জন্য টেলিভিশন দেখতে পারেন এবং চাইলে পেপসিও পান করতে পারেন ।’ 

আমি সঠিক মেশিনে একটা করে সিকি ঢুকিয়ে চালু করি । তারপর আমার মনে পড়ে যে, আমি দেউলিয়া হয়ে গেছি, আর কোন সাবান নেই । আমার কাছে যেসব সিকি অবশিষ্ট আছে, সেগুলো কাপড় শুকানোর মেশিনের জন্য । আমি কান্না শুরু করি । 

‘কাঁদছেন কেন ? আপনি কি ভাবছেন এই কান্না আমার শনিবারের জন্য কী করতে পারে, বোকার হদ্দ ? যত্তসব ন্যাকামি ।’ 

যদি সে কোথাও যেতে চায়, তাই তার ধোওয়া কাপড় মেশিনের মধ্যে ঢোকানোর প্রস্তাব করি । 

‘আমার কাপড়ের আশেপাশে যেতে দেব না । আমার কাপড় থেকে দূরে থাকুন, মোটা মাথা ।’ 

তার জন্য আমার পাশে বসা ছাড়া আর কোন জায়গা নেই । আমরা মেশিনের দিকে তাকাই । আমার ইচ্ছে হচ্ছিল সে যেন বাইরে চলে যায় । কিন্তু সে বসে পড়ে এবং আমার পাশেই । তার বিশাল ডান পা ঘূর্ণায়মান মেশিনের মতো কাঁপছে । আমাদের সামনে ছয়টি লাল বাতি জ্বলে উঠে । 

‘আপনি সব সময়ই ঝামেলা বাঁধান ?’ সে জিজ্ঞাসা করে । 

‘দেখুন, আমি দুঃখিত । ভীষণ ক্লান্ত । আসলে আমার তাড়া ছিল,’ ঘাবড়ে গিয়ে আমি বোকার মতো বলি ।

‘বিশ্বাস করুন বা না-ই করুন । আমার তাড়া ছিল । আমি একটা টানা গাড়ি চালাই । সপ্তাহে ছয় দিন । দিনে বারো ঘন্টা । এই হলো ঘটনা । আজ আমার ছুটির দিন।’

‘কিসের জন্য আপনার তাড়া ?’ আমি সুন্দর ভাবে জানতে চেয়েছি, কিন্তু সে ভেবেছে আমি ব্যাঙ্গ করেছি ।

‘আপনি একটা নির্বোধ । আপনি যদি পুরুষ হতেন, তাহলে দেখিয়ে দিতাম । রান্না করার জন্য মাথাটা কাপড় শুকানোর মেশিনের ভেতর ঢুকিয়ে দিতাম ।’ 

‘আমি তো বলেছি, দুঃখিত ।’ 

‘রাখুন আপনার দুঃখ প্রকাশ । আপনার বিশাল দুঃখ প্রকাশ শুধু মুরগীর বাচ্চার জন্য প্রযোজ্য। আমার কাপড়ের সর্বনাশ করার আগেই আমি বুঝেছি আপনি একজন অসচ্চরিত্রা । আমি বিশ্বাস করি না । আবারও কান্না শুরু করেছে । ধোওয়া তুলসী পাতা ।’ 

ওফেলিয়া লোকটির উপর চড়াও হয় । 

‘ওকে আর বিরক্ত করবেন না । কী, শুনতে পেয়েছেন ? আমি জানি, সে এখন খারাপ সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে ।’

ওফেলিয়া কেমন করে জানে ? আমি রীতিমতো আশ্চার্য্যান্বিত । সে সব কিছুই জানে, বিশাল দেহী এই কৃষ্ণ সিবিল, এই স্ফিংক্স । ও হ্যাঁ, নিশ্চয়ই সে অস্থিরতা বুঝিয়েছে । 

‘আপনি চাইলে আমি আপনার কাপড়গুলো ভাঁজ করে দিতে পারি,’ আমি তাকে বললাম । 

‘চুপ করুন আপনি,’ ওফেলিয়া বললো । ‘ব্যাপার হলো, এমন কী জটিল সমস্যা দেখা দিয়েছে ? এখন থেকে ‘হানার্ট ইয়ার্স’ কেই-বা খেয়াল করবে ?’ 

‘এ হানার্ট ইয়ার্স,’ লোকটি ফিসফিসিয়ে বললো। ‘এ হানার্ট ইয়ার্স ।’ 

এবং আমিও তাই ভাবছিলাম । এক শ’ বছর । আমাদের মেশিনগুলো প্রচন্ড ঝাকুনি দিয়ে কাঁপতে থাকে এবং একটু পরেই সবগুলো ছোট লাল বাতি জ্বলে উঠে । 

‘নিদেন হলেও আপনার কাপড়গুলো পরিস্কার । আমার সব সাবান আমি ব্যবহার করেছি ।’ 

‘যিশুর দোহাই, আপনাকে আমি সাবান কিনে দেব ।’ 

‘বড্ড দেরি হয়ে গেছে । যাহোক, ধন্যবাদ ।’ 

‘আমার দিনটি সে নষ্ট করেনি, বরং পুরো সপ্তাহটাই মাটি করেছে । কোনো সাবান নেই ।’ 

ওফেলিয়া ফিরে আসে এবং মাথা নিচু করে আমার কানে ফিসফিস করে । 

‘আমি খানিকটা খেয়াল করেছি । ডাক্তার বলেছে, এটা বন্ধ না হলে আমার ‘ডি’ বা ‘সি’ লাগবে । আপনিও কী খেয়াল করেছেন ?’ 

আমি মাথা দোলাই । 

‘আপনিও করবেন । মহিলাদের সমস্যা চলতেই থাকবে। সারাটা জীবনই সমস্যায় জর্জরিত । আমি চুপসে যাই । আপনিও কী তাই ?’

‘সে চুপসে গেছে,’ লোকটি বললো । ‘দেখুন, পানীয় আনার জন্য আমি গাড়ির দিকে যাচ্ছি । আমি চাই আপনি প্রতিজ্ঞা করুন আমার মেশিনের ধারেকাছেও যাবেন না । আপনার মেশিনের নাম্বার হলো চৌত্রিশ, ঊনচল্লিশ, তেতাল্লিশ । বুঝতে পেরেছেন ?’ 

‘হ্যাঁ । বত্রিশ, চল্লিশ, বিয়াল্লিশ ।’ লোকটি ভাবতে পারেনি যে এটা ছিল কৌতুক ।

কাপড়গুলো শেষ বারের মতো ঘুরছে । আমার কাপড় আমি বেড়ার উপর মেলে দিয়ে শুকাবো। যখন বেতন পাবো, তখন সাবান কিনে আসবো । 

‘জ্যাকি ওনাসিস প্রতিদিন বিছানার চাদর বদল করে,’ ওফেলিয়া বললো । ‘আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন, এখন ও-টা শুচিবাই ।’ 

‘শুচিবাই,’ আমি সমর্থন করি । 

আমি আমার কাপড় নেয়ার আগে ঝুড়িতে কাপড় রাখা এবং শুকানোর মেশিনের কাছে যাওয়ার জন্য লোকটিকে সুযোগ করে দেই । কয়েকজন উপহাস করে, কিন্তু আমি তা উপেক্ষা করি । আমার ভেজা বিছানার চাদর এবং তোয়ালে আমি ট্রলিতে তুলি । ঠেলে নেয়ার জন্য ট্রলি অনেক ভারি । কাপড়গুলো ভেজা, তাই ট্রলিতে সব আটেনি । আমি কাঁধের উপর গাঢ় হলুদ রঙের পর্দা ঝুলাই । ঘরের উল্টোদিকে লোকটি কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু দৃষ্টি ঘুরিয়ে নেয় । 

বাড়ি পৌঁছুতে আমার অনেক দেরি হয়ে গেছে । যদিও আমি দড়ি খুঁজে পেয়েছি, তারপরও কাপড় মেলতে আরো সময় লেগে যায় । এন্তার কুয়াশা জমতে শুরু করে । 

আমি কফি ঢালি এবং পেছনের সিঁড়িতে বসি । আমি খুশি । আমার মন শান্ত, কোন তাড়া নেই। পরবর্তী সময়ে আমি যখন চলন্ত ট্রেনে থাকবো, তখন ট্রেন না থামা পর্যন্ত আমি নামার কথা ভাববো না । ট্রেন যখন থামবে, তখন ঠিক সময়েই নেমে পড়বো ।



লেখক পরিচিতি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছোটগল্প লেখক লুসিয়া বার্লিনের জন্ম আলাস্কায়, ১৯৩৬ সালের ১২ নভেম্বর । বাবার কর্মজীবনের তাগিদে তাঁকে শৈশবে অনেক জায়গায়, বিশেষ করে আইডাহো, মন্টানা, অ্যারিজোনা এবং দক্ষিণ আমেরিকার চিলিতে, ঘুরতে হয়েছে । তিনি তিন বার বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁর চারটি পুত্র সন্তান রয়েছে । ছেলেদের লালন-পালনের জন্য তিনি কখনো ছিলেন হাই স্কুলের শিক্ষয়িত্রী, সুইচ বোর্ডের অপারেটর, হাসপাতালের কেরানী, ক্লিনিং লেডী এবং ডাক্তারের সহকারী । জীবনের শেষ দিকে এসে তিনি কবি এড ডর্নের অনুপ্রেরণায় লেখালেখি শুরু করেন । ১৯৮১ সালে সংক্ষিপ্ত আকারে তাঁর গল্প গ্রন্থ (‘এঞ্জেলস্ লন্ড্রোম্যাট’) প্রকাশিত হয় । তবে সেই গ্রন্থের সব গল্পই ষাটের দশকে লেখা হয়েছিল । তাঁর কয়েকটি গল্প প্রকাশিত হয় ‘দ্য আটলান্টিক’ এবং সল বেলোর ‘দ্য নোবেল স্যাভেজ’ ম্যাগাজিনে । যদিও তিনি ছয়টি গল্প সংকলনের রচয়িতা, কিন্তু তাঁর সব গল্প তিনটি ছোটগল্প সংকলনে সন্নিবেশিত করা হয়েছে । এগুলো হলো: হোমসিক: নিউ অ্যান্ড সিলেক্টেড স্টোরিজ’ (১৯৯০), ‘সো লঙ: স্টোরিজ ১৯৮৭-৯২ (১৯৯৩) এবং ‘হোয়্যার আই লিভ নাউ: স্টোরিজ ১৯৯৩-৯৮ (১৯৯০) । 

জীবদ্দশায় লুসিয়া বার্লিন কোন খ্যাতি পাননি, এমনকী সাহিত্য জগতে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য প্রভাবও সৃষ্টি করতে পারেননি । তারপরও তাঁকে রেমন্ড কার্ভার এবং রিচার্ড ইয়েটসের সঙ্গে তুলনা করা হতো । বলা হয়, তিনি আমেরিকার ‘বেষ্ট সিক্রেট‘-দের মধ্যে অন্যতম । তাঁর এক পৃষ্ঠার অণুগল্প ‘মাই জকি’ ১৯৮৫ সালে জ্যাক লন্ডন শর্ট প্রাইজ লাভ করে । ‘হোমসিক: নিউ অ্যান্ড সিলেক্টেড স্টোরিজ’ গল্প সংকলনের জন্য তিনি ১৯৯১ সালে ‘আমেরিকান বুক অ্যাওয়ার্ড’ অর্জণ করেন । তবে ২০০৪ সালের মৃত্যুর এগারো বছর পরে, অর্থাৎ ২০১৫ সালে, ছোটগল্পের সংক্ষিপ্ত সংকলন ‘এ ম্যানুয়েল ফর ক্লিনিং উ্যইমেন: শর্ট স্টোরিজ’ প্রকাশের পর হঠাৎ সাহিত্য মহলে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে । গ্রন্থটি ‘নিউ ইয়র্ক টাইস্’-এ বেষ্ট সেলার হিসাবে দু’সপ্তাহ ছিল । ‘নিউ ইয়র্ক টাইস্ বুক রিভিউ’-এর ‘টেন বেষ্ট বুক অফ ২০১৫’ এবং কার্কুজ পুস্কারের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছিল । ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি দীর্ঘ অসুস্থতার পরে তাঁর আটষট্টিতম জন্মদিনে, অর্থাৎ ২০০৪ সালের ১২ নভেম্বর, ইন্তেকাল করেন ।

গল্পসূত্র: ‘কার্পে ডিয়েম’ গল্পটি লুসিয়া বার্লিনের ইংরেজিতে একই শিরোনামের গল্পের অনুবাদ । গল্পটি ‘এ ম্যানুয়েল ফর ক্লিনিং উ্যইমেন’ গল্প সংকলন থেকে নেয়া ।



ফজল হাসান
অনুবাদক। গল্পকার। ছড়াকার।
অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন