বুধবার, ৩ জুন, ২০২০

রেবেকা মাক্কাই'এর গল্প : একটা গল্প তোমার মেয়ের, একটা গল্প তোমার ছেলের

অনুবাদঃ সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত 


শহরের অনেক এলাকাই যুদ্ধের কারণে বন্ধ, বেশিরভাগ ছোট শহরের সাথে বিচ্ছিন্ন। পরিচিত সব রাস্তাই বন্ধ পেয়ে টুপি বিক্রি করতে পাহাড়ের পথ ধরল টুপিওয়ালা। হয়ত সেখানেই তার ভাগ্য খুলে যাবে এবার! মারা যাবার আগে ম্যাপে ছোট্ট একটা পাহাড়ি গ্রামের ওপর গোল দাগ দিয়েছিলেন লোকটার বাবা। লিখে রেখেছিলেন – ওখানে ব্যবসা বেশ ভালো হয়। কিন্তু দু দুটো দিন লাগে সেই দুর্গম রাস্তা দিয়ে যেতে। আঁকাবাঁকা সরু রাস্তা পেরোতে হয় দ্রুত, আর ব্রিজটা তো পুরো ভেঙে পড়ছে। হাঁটু মুড়ে কোনো মতে ঘোড়াটা সে ব্রিজ পার করল।

সারাদিনের সফর শেষে প্রায় সূর্যাস্তের কাছাকাছি টুপিওয়ালা একটা সবুজ পায়ে চলা পথের কাছে পৌঁছুল। সামনেই খুব সাধারণ দেখতে একটি যুবতী মেয়ে দুধ দুইছে। টুপিওয়ালাকে দেখে মেয়েটি জানালো যে সে তার খামারবাড়িতে এসে রুটি, ব্র্যান্ডি খেতে পারে। টুপিওয়ালা খেয়াল করল এই কথাগুলো বলার সময় মেয়েটি একবারও তার দিকে পিঠ ফেরালো না। না ঘুরেই তার কাজগুলো করছে-- সে তার মাকে ডাকল, রুটি ভাগ করল। তারপর সে গেলাস খুঁজতে লাগল। লোকটা আন্দাজ করল এই রাস্তা দিয়ে যে সব সেনারা যায় তারা হয়ত পানীয় ছাড়া আরো কিছু মেয়েটির কাছে চায়। 

টুপিওয়ালা রাতটা এখানে কাটাতে চায় কিনা সেটা মেয়েটির বিধবা মা জানতে চাইলেন । রাতের বিছানা, খাবার, ওটস সব কিছুর বিনিময়ে লোকটা তাদের সামনে নিজের টুপির ব্যাগ খুলে দিল। পছন্দমত একটা বেছে নিতে বলল। মেয়েটি ঘন বুনোটের লালরঙা একটি টুপি ব্যাগ থেকে তুলে নিল। আর বলল-- “ওই গ্রাম নিয়ে বেশি চিন্তা করার কিছু নেই। ওখানে ওদের নিজেদের দরকারি সবকিছুই আছে। তোমার বিক্রিবাটা ওখানে সেরকম কিছু হবে না”। বলে মেয়েটি টুপিওয়ালাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত এমন ভাবে দেখল যেন সে একটা খাবার জিনিস। 

- “তোমার টুপিগুলো বেশ দেখতে।” মেয়েটি বলল। 

সকালে আরো চার ঘন্টা সেই নির্জন পথে ঘোড়া চালিয়ে শেষপর্যন্ত টুপিওয়ালা সেই গ্রামটির মাঝামাঝি এসে পৌঁছুল। সেখানে দোকান-বাজারে মহিলারা ঢুকছে-বেরোচ্ছে, ছোট ছেলে-মেয়েরা রাস্তায় খেলাধুলো করছে। এইজায়গাটা পছন্দ হলো টুপিওয়ালার। একটা গাছের ছায়ায় ঘোড়ার পিঠ থেকে জিনিসপত্র নামিয়ে পশরা সাজিয়ে বসল। বাচ্চারা নিজেদের খেলা থামিয়ে অচেনা লোকটিকে দূর থেকে খানিক তাকিয়ে দেখল। কেউ মুখটিপে হাসল। কেউ আবার ভয় পেয়ে চিৎকার করে পালিয়ে গেল। ধীরে ধীরে সাহস বাড়ল ওদের। কেউ কেউ কাছে এলো, কেউ আবার একটা কাঠি দিয়ে ঘোড়ায় গায়ে খোঁচা দিল। 

- “গতবছরের গরমেও তোমাদের কেউ এখানে এসেছিল।” একটি মেয়ে বলল। 

তক্ষুণি মেয়েটির কথা কেটে আরেকটি ছেলে বলল-- “কিন্তু তার এরকম গোঁফ ছিল না”।

টুপিওয়ালা বাচ্চাদের বলল – - “যাও তোমরা তোমাদের মাকে ডাকো টুপি দেখার জন্য। তোমাদের বাবারা যদি মাঠের কাজে না গিয়ে থাকেন তবে তাদেরকেও ডাকতে পারো ”। 

মাঠ বলতে লোকটা চাষের মাঠের কথাই বলল, যুদ্ধের মাঠ না। এই গ্রামটা যেন অসূর্যস্পর্শা। বাচ্চাদের গালদুটো ফোলা ফোলা আর লাল টুকটুকে। চারদিকের জানলায় কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা যাচ্ছে না। বাচ্চাগুলো একনাগাড়ে হেসে যাচ্ছে, আর ক্রমাগত ঘোড়াটাকে খোঁচা মারছে। শেষমেশ ক্লান্ত হয়ে চলে গেল তারা। 

বেশ কিছুক্ষণ ধরেই টুপিওয়ালা খেয়াল করল-- বয়স্ক মহিলারা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে আর তার দিকে কটমট করে তাকাচ্ছে। আর যারা যুবতী তাদের হাবভাবে একটা তাড়ার ভাব আছে। কিন্তু সবাই টুপিওয়ালাকে দেখছে খুব মনোযোগ দিয়ে। সে দৃষ্টিতে একই সাথে আছে সন্দেহ আর ক্ষিধে। 

ওদেরই মধ্যে এক যুবতী রাস্তার ওদিক থেকে বেশ কিছুক্ষণ ধরে টুপিওয়ালাকে দেখছিল। তার চুল রাতের অন্ধকারের মত ঢেউ খেলানো। তারপর রাস্তা পেরিয়ে টুপিওয়ালার দিকে এগিয়ে এলো। একটা খয়েরি রঙা নরম টুপির কানায় হাতের আঙুল বোলালো। বলল - - "এইরকম সুন্দর সব টুপির আমাদের কোনো দরকার নেই। এমন কেউ আমাদের নেই যার জন্য আমরা সাজব"। 

এই গল্পটিকে আরো ছোট করে বলি-- এর খানিক পর টুপিওয়ালাকে সেই যুবতী মেয়েটির বিছানায় দেখা গেল। মেয়েটির সাথে সে অন্তরঙ্গ হয়ে আছে। মেয়েটি দু হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরল লোকটিকে, তার কাঁধে রাখে নিজের, পা’ও তুলে দিল টুপিওয়ালার ওপর। 

সব হয়ে যাওয়ার পর টুপিওয়ালা জিজ্ঞেস করল – “তোমার স্বামী নেই? সে এখুনি ফিরে আসবে না তো?” কারণ তেমন হলে টুপিওয়ালা আগেভাগেই জানলা দিয়ে লাফিয়ে পালাবে। 

মহিলাটি উত্তর দিল –" তুমি কি খেয়াল করোনি যে সব লোকেরাই চলে গেছে? কেউ নেই।" 

যুদ্ধের কথাই মনে এলো লোকটার, কিছু জিজ্ঞেসও করতে গেল। কিন্তু মহিলাটি তার নিজের কথাই চালিয়ে গেল -

“বহুদিন আগে এক ধাই এখানকার একটা মেয়েকে পানীয়র মধ্যে বিষ মিশিয়ে কি করে মারকুটে স্বামীর হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়, সেই বিদ্যে শিখিয়ে দিয়েছিল।” (কথাটি বলতে বলতেই যুবতীটি টুপিওয়ালার তলপেটে, তার ঊরুতে হাত বোলাতে থাকে)। “এর পরে আরেকটা মেয়ে একই ভাবে ওর বাবাকে শেষ করে। বাবা মেয়েটির বিয়ে দিতে রাজী হচ্ছিল না। এমনকি নিজের মেয়েকেই দাবি করে তার বউ বলে! তারপর বলি এক বুড়ির কথা। নিজে মা’র বাড়িটা বাগিয়ে বুড়ি মাকে কুঁড়েঘরে ভাগানোর মতলব এঁটেছিল ওর ছেলে। ক্রমেই মেয়েরা এই পথ বেছে নিতে থাকল। কারণ অনেক পুরুষই বিয়ের নাম করে মেয়ে কেনাবেচা করত, বউদের পেটাতো, পেট খসিয়ে দিত। ছাগলকে লাথি মারত বা ঘর-বাড়ি নোংরা, দুর্গন্ধ করে রাখত। তারপর আর কি, একে একে প্রায় সব মেয়ে ওই রাস্তাই ধরল।”

“যে দু’চারজন সুবোধ পুরুষ বেঁচেবর্তে ছিল,” মেয়েটি বলে চলল, “ওদের কদর এত বেড়ে গেল যে, - বলতে গেলে ওরা মেয়েদের লালসার পাত্র হয়ে উঠল, - ওদের খুব পায়া ভারি হয়ে গেল। দেখতে দেখতেই ওরাও হয়ে উঠল বড় ভয়ানক, স্বার্থপর, আর কুঁড়ে। আর শেষপর্যন্ত ওদেরও বিষ খাওয়াতেই হল। তবে এসব অনেক আগের কথা।”

লোকটি জিজ্ঞেস করে - 

- "তবে এই বাচ্চারা"? 

- "তোমাদের মত লোকরাই এদের বাবা”-- মেয়েটি জবাবে বলল। 

- "আর এই ছোট ছেলেগুলো বড় হয়ে উঠলে তখন? তাদের ও --"? 

- "তাদের সরিয়ে দিই। যেই ছেলেদের গলা ভারী হতে শুরু করে, ব্যাস তাদের যাবার সময় হয়ে যায়"। 

- "তারা আর ফেরে না" ? 

- "তারা শুধু একটা পথই জানে। আমরা সেই ছেলেগুলোকে পাঠিয়ে দিই সেনাবাহিনীতে-- নয়ত মঠে"। 

টুপিওয়ালা আবার জিজ্ঞেস করল – "কেউ কিচ্ছু বলে না"? 

মেয়েটি উত্তর দিল – "কে বলবে"? 

- "আমার মত কেউ"। টুপিওয়ালা উত্তর দিল। “যতই হোক কীভাবে এটা সম্ভব?” 

- "জানো, পুরুষরা হয় দুরকমের। এক. যারা বলতে পারে আর এক যারা ফিরে আসতে পারে” বলতে বলতে মেয়েটি লোকটির কানে হালকা কামড় দিয়ে কানের লতির পিছনে জিভ বুলোতে শুরু করল। লোকটা বলল “আমি যদি এর কোনো ধরনেরই না হই?” কারণ সেই যুবতী মেয়েটি টুপিওয়ালার কানে, গলায় এমন ভাবে আদর করতে শুরু করল যেটা তার একই সাথে মারাত্মক আর সম্মোহক লাগে। ভয়ংকর লাগে সাথে সাথেই তাকে বিমোহিত করে তোলে। 

ওই অবস্থায় মেয়েটি বলল – “তাহলে? তাহলে - আমি তোমাকে আমার লুকোনো একটা পোষ্য বানিয়ে রাখব”। 

ভোরের আলো তখনও ভালো করে ফোটেনি। টুপিওয়ালা চুপিচুপি ঘর থেকে বেরিয়ে ঘোড়ার বাঁধন আলগা করল। গ্রামটি থেকে এক ঘন্টা দ্রুত চলে আসার পর লোকটার খেয়াল হলো, আরে! সেতো তার বোঁচকাটাই আনতে ভুলে গেছে, সব টুপি ওই মেয়েটির বাড়িতেই ফেলে এসেছে। তার টেবিলের ওপর। পঞ্চাশ, সত্তর, প্রায় শ’খানেক হবে। সে তো তার টুপির বেশিটাই বিক্রি করে উঠতে পারেনি, ভগবান জানে, সে তো প্রায় কিছুই বিক্রি করতে পারেনি। 

ফেরার পথেও টুপিওয়ালা সেই খামারবাড়িতেই ঢুকল। এরপর সারা রাস্তায় আর কোনো বিশ্রামের জায়গা নেই। শুধু জল খেলো টুপিওয়ালা, ওরা রুটি দিতে চাইল। কিন্তু টুপিওয়ালা খেতে চায় না, কারণ বদলে এবার আর টুপিওয়ালার কিছু দেওয়ার নেই। খামারবাড়ির মেয়েটি ও তার বিধবা মাকে ও জিজ্ঞেস করল- 

- "আচ্ছা ওই যে গ্রামটা – ওখানকার মানুষগুলোকে চেনেন? ওরা কি আপনাদেরই?" 

মেয়েটি মৃদু হাসে, উত্তর দেয় না। বয়স্কা মহিলাটি ঘাড় নাড়ল, বলল--

- "আমার বোন ওখানে ধাইয়ের কাজ করে। ওদের জানি. কিন্তু আমাদের কেউ নয় ওরা।” 

টুপিওয়ালার মনের মধ্যে অনেক প্রশ্ন আঁকুপাঁকু করছে, ওদের কাছ থেকে সে সবের উত্তর জানার জন্য কিন্তু সে প্রশ্ন করল – 

- "আচ্ছা ওরা কি ভালো আছে? ওইভাবে?" 

বয়স্ক মহিলাটি কাঁধ ঝাঁকাল আর অল্পবয়েসী মেয়েটি টুপিওয়ালার সামনে থেকে খালি গেলাসটি নিয়ে সিঙ্কের কাছে দাঁড়াল। খুব আস্তে করে গেলাসটি নামিয়ে রাখল। 

- "তবে অনেকদিন ধরে ওরা শান্তিতেই আছে।” বয়স্ক মহিলাটি বলল। 

এরপর কেটে গেছে অনেক কটা বছর। সেই যুদ্ধের শেষে এবং আর এক নতুন যুদ্ধ শুরু হবার মুখে তখন দেশের সীমান্তগুলি ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে পড়েছে। 

এক মানচিত্রকর এলো সেই শহরে --যে শহরে টুপিওয়ালা বাস করে তার ছোট দোকানটির ওপরে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছেন সেই মানচিত্রকর। এসেছেন মোটর-গাড়ি চালিয়ে। টুপিওয়ালা বিস্ময়ে দেখল সেই মোটরগাড়িটি। শোনে গাড়ির গর্জন। যারা নানা জায়গায় বেড়িয়েছেন কাজের সূত্রে বা রোমাঞ্চ-অভিযানে তাদের কাছে সেই মানচিত্রকর তার মানচিত্র দেখিয়ে বেড়াতে থেকে। সেই সূত্রেই এসেছে টুপিওয়ালার কাছেও। বুড়ো হয়ে গেছে টুপিওয়ালা, আর এই জায়গা ছেড়ে কোথাও বেরোতে পারে না, একাই থাকে এই শহরে। ঝুঁকে পড়ে মানচিত্রকরের ম্যাপের ওপর, উৎসাহভরে দেখল রেখাগুলো। 

ম্যাপের ওপর খসখসে একটা আঙুল রেখে ওপর দিকে উঠে যাওয়া হাল্কা একটা রেখা দেখতে পেলো। ওর জানা আছে এটাই সেই পাহাড়ের চড়াইয়ের দিকটা। সেই রেখা থেকে একটু সরে গিয়ে একটা বিন্দু – গ্রামের নামটা বোঝা গেল না। 

মানচিত্রকরকে বলল, “এই যে গ্রামটা দেখছেন – আপনি কি ওখানে গিয়েছিলেন?” কত দশক ধরে ওখানে ফেরার ইচ্ছে হয়েছে ওর, যাবার কথা ভেবেছে, ফিরে যাবার কথা ভেবে ভয় পেয়েছে, কখনও জায়গাটার জন্য মন উচাটন হয়েছে, মনে হয়েছে কত অল্প সময় কাটিয়েছে ওখানে, আবার কখনও ক্ষিপ্ত হয়ে ভেবেছে পৃথিবীর ওই সীমানাকে নিজের বলে দাবি করার অধিকার ওর নেই! ওখানে যাবার পর থেকে এতটা সময় কেটে গেলেও নিজেকে কখনওই সম্পূর্ণ মনে হয়নি আর। 

“খুবই অল্প সময়ের জন্য একবার গিয়েছিলাম,” মানচিত্রকর বলল। “তাও অনেক বছর হয়ে গেল।” টুপিওয়ালা খেয়াল করে কথাটা বলতে গিয়ে ও লজ্জা পেল না বা ওর মুখ শুকিয়ে গেল না। 

“আচ্ছা আপনি--,” টুপিওয়ালা বলতে গেল। তারপর ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করল, “ওখানে আপনি উল্লেখযোগ্য কিছু লক্ষ্য করেননি?” 

“খুবই অল্প সময়ই ছিলাম,” মানচিত্রকর অন্যমনস্কভাবে বলল। 

আর তারপরেই – ওহ্‌ হ্যাঁ হ্যাঁ! একটা কথা মনে পড়েছে – আর মনে হয় এটাই সেই জায়গাটা। পাণ্ডববর্জিত হলে কি হবে – সবাই ঠিক ওই যে, ওই রকম টুপি মাথায় দেয়!” বলে একটু হাসল, স্মৃতি রোমন্থন করার হাসি। “সকলের মাথায় – ঠিক এই অসামান্য টুপি।” 




লেখক পরিচিতি
রেবেকা মাক্কাই
আমেরিকান ঔপন্যাসিক ও ছোটো গল্পকার রেবেকা মাক্কাই'এর জন্ম ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে। ২০১১ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রথম উপন্যাস The Borrower প্রকাশিত হলে টপ লিস্টে চলে আসে।




অনুবাদক পরিচিতি
সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত
কোলকাতায় থাকেন।
গল্পকার। অনুবাদক। বাচিক শিল্পী।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন