বুধবার, ৩ জুন, ২০২০

নগুগি ওয়া থিয়োং’ও --এর গল্প : কালো পাখি

অনুবাদ: এলহাম হোসেন 

(নগুগি ওয়া থিয়োং’ও কেনিয়ার বর্তমান সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী লেখক। নিজ দেশ থেকে প্রায় তিন দশক ধরে নির্বাসিত। থাকেন আমেরিকায়। লিখেছেন উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, ছোটগল্প ও গবেষণা-প্রবন্ধ। শুরুতে লিখতেন ইংরেজিতে, পরে ফিরে আসেন মাতৃভাষা গিকুয়ুতে। তিনি নিজেকে ‘ভাষাযোদ্ধা’ বলেন। তাঁর লেখা পৃথিবীর ষাটটিরও বেশি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী পেয়েছেন এগারটি। এই গল্পটি তাঁর ব্ল্যাক বার্ড গল্পের বঙ্গানুবাদ।) 


আসলে কেউ তাকে চিনতো না। এমনকি ওয়ামাইথা-ও। যে তার হৃদয়ের সবচেয়ে কাছাকাছি, সে-ও তাকে কখনো বুঝে উঠতে পারেনি। ও একা একা থাকতো। তাহলে ওকে সাহায্য করল কে?

তার কথা আমার ভালোভাবেই মনে আছে। মনে পড়ে, ও ছিল হ্যাংলা আর ওর হাত-পাগুলো শক্তপোক্ত। যেকেউ দেখলেও তার মনে হতো, ও যদি কারো ওপর দিয়ে হেঁটেও যায়, তবে সে চিলে চ্যাপ্টা হয়ে যাবে। ওর চোখ দুটো ডাগর, কালো আর উজ্জ্বল। যদিও কখনো কখনো ওই সর্বভেদী চোখ দুটোকে মিনতিপূর্ণ বা শিশুর মতো অসহায় দেখাতো। চোখগুলো দেখলে ওর প্রতি আপনার করুণা হবে। ভয়ও পেতে পারেন। কখনো কখনো ও দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকতো এমন ভঙ্গিতে যেন এর প্রতিটি বিন্দুকে সে শুষে টেনে নিচ্ছে। আমি জানি না সে দৃষ্টিভ্রমে ভোগে কিনা। কিন্তু প্রায়ই মনে হয় যেন সে স্বপ্ন-কল্পনা ভেঙ্গে জেগে উঠে চারপাশে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। মনে হয়, সে যেন দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠেছে। 

তার সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ স্কুলে। মাঙ্গুয়ো ছিল তখনকার দিনে লিমুরুর একমাত্র স্কুল। কাজেই সারা গ্রাম থেকে অনেক ছেলে মেয়ে পড়তে আসতোএখানে। ও আসতো গাথিগি ইনি রিজ থেকে। এটি স্কুল থেকে কয়েক মাইল দূরে। বাড়ি পৌঁছার পূর্বেই ওকে পাহাড়, উপত্যকা আর সমভূমি মাড়াতে হতো। স্কুলে আমরা ওকে ’কুরুমা’ বা ’কামরাইন্না’ বলে ডাকতাম। নামটা মজার হলেও আমার মনে নেই কেন আমরা ওকে ওই নামে ডাকতাম। ওর আসল নাম ছিল ম্যাঙ্গারা। ও হ্যাংলা, অ্যাথলেটিক। ওকে সুদর্শনই মনে হতো। মেয়েরা ওকে পছন্দ করতো। কিন্তু ও ওদের পাত্তা দিত না। ও কাউকেই পাত্তা দিত না। খেলাধূলাতে ভালো ছিল। শক্ত ইভেন্টগুলো ও পছন্দ করতো, যেমন, দৌড়, লম্ফ এবং বক্সিং। ও বিশেষ করে কুস্তি পছন্দ করতো। ও যে কাউকেই চ্যালেঞ্জ করে বসত। এমনকি সিনিয়রদেরও। ধরাশায়ী হলে আবার চেষ্টা করতো। ২০ বার হারলেও সে রাগ দেখাত না। ফুটবলে ওর জুড়ি মেলা ভার। প্রায় সবার কাছেই ও ছিল বীর। 

প্রথম দিকে আমি ওর প্রতি খুব একটা আকৃষ্ট হইনি। এটি সম্ভবত আমার তরফ থেকে ঈর্ষাই ছিল। আপনারা দেখছেন, আমি অবশ্য খেলাধূলায় ভালো ছিলাম না। কোনো ক্ষেত্রেই আমি ভালো করতে পারিনি, ক্লাশেও না। যে ছোকরা সব মেয়ে ও শিক্ষকদের কাছে জনপ্রিয়, সে তো অপেক্ষাকৃত কম সৌভাগ্যবানদের কমবেশি ঈর্ষার উদ্রেক করবেই। আমি ওকে ঘৃণাই করতাম। ওর উদাসীনতাকে আমি ঘৃণা করতাম। কোনো আনুকূল্যের জন্য অথবা বন্ধুত্বের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেও ও দাম্ভিকতাপূর্ণ অবজ্ঞা প্রদর্শন করতো। এজন্যও আমি ওকে ঘৃণা করতাম। 

এরপর একদিন আমি ওর একাকীত্বের ব্যাপারটি জানলাম। 

আমি জানি না কোন জিনিসটা আমাকে প্রথম এটি আবিষ্কার করতে সাহায্য করলো। ওর চোখগুলো কি? সম্ভবত তাই হবে। আমার মনে হয় স্কুলের অ্যাসেম্বেলির সময় হঠাৎ পেছন ফিরে ওর দিকে তাকালে দেখতাম যে, ও ওর আশপাশে ঘটে চলা ব্যাপার-স্যাপারগুলো বেশ মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করছে। কিন্তু তাকে আবার উদাসীনও মনে হতো। এক সেকেণ্ডের জন্য হলেও। আমাকে দেখলে ও মাথা নিচু করতো। দৃষ্টি অন্য খানে সরিয়ে নিতো। 

অন্য আরেকদিন আমি একটু সকাল সকালেই স্কুলে এলাম। কবর স্থানের দিকে হাঁটতে লাগলাম। ম্যাঙ্গারা ওখানে আমার আগেই পৌঁছে গেছে। একা, গভীর ধ্যানে মগ্ন। আমি ওর সঙ্গে কথা বললাম না। 

ওর সঙ্গে আমার প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ তখনো হয়ে ওঠেনি। 

আমাদের স্কুলের নিচের ছোট্ট ঘন বনে আগে কেউ যায়নি। ছেলেরা জানত, ওই বনটাতে ভূত-প্রেত আছে। কথিত আছে যে, একবার এক মহিলা তার স্বামীর হাতে এমন মার খায় যে, সে দৌঁড়ে চলে যায় ঐ জঙ্গলে। সেখানে সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যু ঘটে। 

আমাকে সেখানে কী তাড়া করে নিয়ে গিয়েছিল? মনে হয়, আমার একা একা লাগছিল। যাই হোক, তখন দুপুরের খাবারের বিরতি। অন্যান্য ছেলেরা বাড়ি চলে গিয়েছিল। আমি ঘন গাছগাছড়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম। শীঘ্রই ছোট্ট বনটার মাঝখানে একটা বড়, খোলা এবং পরিচ্ছন্ন স্থানে এসে পড়লাম। ওখানে ম্যাঙ্গারা একাই বসেছিল। আমার অনুপ্রবেশে সে চমকে গেল। বিরক্তও হলো। আমার দিকে জ্বলজ্বল করে তাকালো। আমিও ওর ওপর দৃষ্টিপাত করলাম। আমি কথা বলে নিরবতা ভাঙ্গার আগ পর্যন্ত আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলাম। 

এখানে কী করছ? 

ও সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলো না। আমার দিকে তাকিয়ে একটু ভ্রু কুচকালো। যেন আমার প্রশ্নের মাপজোখ করছিল। আমি বিরক্তই হলাম। যখন আবার আমি তাকে জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলাম তখন সে মুখ খুললো। 

‘আমি কালো পাখিটা খুঁজছি।’ 

‘কালো পাখি?’ 

‘হ্যাঁ’, ও প্রায় ফিস ফিস করে বললো। ও এদিক সেদিক তাকাচ্ছিল। দৃষ্টি ফিরালাম ও কিসের দিকে তাকিয়ে আছে, তা দেখার জন্য। কিছুই আমার নজরে এলো না। থতমত খেয়ে গেলাম। ওর আচরণ আমার কাছে অদ্ভুত ঠেকছিল। তৎক্ষণাৎ এক মাস আগের সকালটার কথা মনে পড়ে গেল যখন তাকে আমি করবস্থানে দেখেছিলাম। 

‘তোমাকে তো আমি কবরস্থানে দেখেছিলাম।’ 

‘ও হ্যাঁ, মনে আছে।’ 

‘হ্যাঁ।’ 

‘আবার সেই কালো পাখি।’ 

আমি হাসলাম। সেও হাসলো। তারপর আবার ও গুরুগম্ভীর হয়ে পড়লো। আমার মনে হলো এগুলো সবকিছু স্কুলের বাচ্চাদের গাঁজাখোড়ি চিন্তা-ভাবনা। 

‘তুমি কি দেখেছো?’ 

‘নাহ!’ 

এটা নিয়ে আর ভাবিইনি। তবে ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের ভাব তৈরি হলো। 

আমরা স্কুলে যেতাম একসঙ্গে। এরপর আর কখনো সে কালো পাখির কথা বলেনি। ও বুদ্ধিমান। যদিও মনে হতো না যে, সে যথেষ্ট লেখাপড়া করে-- তবুও সে চূড়ান্ত পরীক্ষায় ভালো করেছিল। যে দু-একজন কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছিল তাদের মধ্যে ও একজন। আমাদের পথ আলাদা হয়ে গেল। আমি লিমুরুতে টি এন্ড এইচ ট্রেডিং কোম্পানিতে চাকরি পেলাম। মেডিকেলের ছাত্র হিসেবে ও বেশ ভালোই করছিল। লেকচারারসহ সবাই ওর ব্যাপারে খুব আশাবাদী ছিলেন। 

‘কিন্তু ওর সমস্যাটা কী?’ --একদিন নাইরোবীর এক ক্যাথেতে চা খাওয়ার সময় ওর এক সহপাঠী আমাকে জিজ্ঞেস করলো। 

‘কেন?’ 

‘ও সব সময় কি যেন একটা কিছুতে আবিষ্ট থাকে। বেশ অদ্ভুত... আমি বলব, ও সবার কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে? আর যেভাবে ও সবকিছুর দিকে তাকায়... তুমি ভাবতেই পার...।’ 

কলেজে পড়ার সময় গিকোরোরো গ্রাম থেকে আসা ওয়ামাইথা নামে এক মহিলা শিক্ষকের সঙ্গে ওর সাক্ষাৎ হয়। ওর সঙ্গে সে খুব ঘনিষ্ট হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে আমার সঙ্গে দেখা হলেও আমাকে ওর ব্যাপারে এটাসেটা বলতো। সে ওকে বিয়ে করতে চায়। ওই বছরগুলোতে তার একাকীত্ব তাকে ছেড়ে পালিয়েছে বলেই মনে হতো। ও একটু সুখের সন্ধান করছিল। শিশুসুলভ সুখের ভাবনা আর নারীসঙ্গ পাবার বাসনার মধ্যে অদ্ভুত ও মর্মান্তিক কিছু একটা ছিলো। দুই একবার আমি ওদের দুজনকে এক সঙ্গে দেখেছি। মেয়েটা ছিল হ্যাংলা, লিকলিকে। ওর উজ্জ্বল কালো চুলগুলো সব সময় পরিপাটি করে গোছানো থাকতো। আমার কাছে ওকে ধার্মিক বলেই মনে হয়েছিল। এমনকি ও হাঁটলেও স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়তো। ও সুন্দরী। তবে ওটা শারীরিক নয় বরং ওর ভেতর থেকেই এক মাধুর্য বেরিয়ে এসে সারাটা শরীর আচ্ছন্ন করে রাখতো। 

চূড়ান্ত পরীক্ষার পূর্বে এক ছুটিতে সে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। ওর চোখে ভৌতিক চাউনি ফিরে এসেছে। ও এখন বুড়িয়ে গেছে। ক্লান্ত। সুখের চাকচিক্য হারিয়ে গেছে। আশঙ্কা করলাম, ওয়ামাইথা হয়তো ওকে ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু ওই বিষয়টার প্রতি ইঙ্গত না করাই আমার কাছে বুদ্ধিমানের কাজ মনে হলো। 

আমাদের বাড়িতে ছোট একটা ঘর ছিল যেখানে বসে খানাপিনা, লেখাপড়া ও গল্পগুজব করতে আমরা ভালোবাসতাম। একদিন সন্ধ্যায় খাওয়ার পর আমরা টেবিলেই বসেছিলাম। এটি আমাদের প্রথা। বাতিটা যেন শয়তানের দখলে। দপদপ করে জ্বলছিল। আমাদের মধ্যে কোনো কথা হলো না। আমি একটা বই পড়ছিলাম। বইটার শিরোনাম আমার মাথায় আসছে না। মনোযোগও দিতে পারছিলাম না। ম্যাঙ্গারা আগের চেয়ে আরো বেশি একা হয়ে গেছে। 

‘তুমি কালো পাখির কথা শোনোনি।’ আমি প্রায় লাফিয়ে উঠলাম। ছেলেবেলার স্কুলের কথা মনে পড়ে গেল। আমাদের যে এক গা ছমছমে বনের মধ্যে দেখা হয়েছিল, সেই স্মৃতি মনে পড়ে গেল। 

‘যে পাখিটাকে তুমি স্কুলে পড়ার সময় খুঁজছিলে?’ 

‘হ্যাঁ।’ 

‘দেখ, তুমি কিন্তু সিরিয়াসলি বলছ না!’ 

‘আমি জীবনে কখনোই সিরিয়াস ছিলাম না।’ এ কথা বলে ও থামলো। হাসতে চাইলাম। কিন্তু যে সুরে ও এ কথা বললো তাতে আমি দমে গেলাম। তারপর লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো যেন অনেকক্ষণ ধরে ও নিশ্বাস আটকে রেখেছিল, বলল, ‘ওহ, সারাটা জীবন আমাকে তাড়া করেছে।’ এরপর সে আমার দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলো। 

‘তুমি তো কোন কুসংস্কারে বিশ্বাস কর না। আমি জানি, তুমি কুসংস্কারাচ্ছন্ন নও। তাহলে তো তুমি মেডিকেলের ছাত্রকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন হতে দেখে অবাক হবে। কিন্তু আমি তোমাকে বলছি, এটা কুসংস্কার নয়। এটা-- তুমি কি কখনো অতীত নিয়ে ভাব?’ 

‘হুম, তবে খুব বেশি নয়।’ 

‘উদাহরণস্বরূপ, তুমি কি ভাব না যে, অতীত তোমাকে তাড়া করতে পারে প্রতিশোধ স্পৃহায় আমৃত্যু।?’ 

‘কিভাবে?’ আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। ভয়ও পেলাম। 

‘বিষয়টা তাহলে খুলেই বলি। তুমি কি মনে কর যে, অনেক আগে যা তোমার বাবা বা দাদার ক্ষেত্রে ঘটেছিল, তা তোমাকে আক্রান্ত করতে পারে?’ 

‘কোন দিক থেকে?’ 

‘আহ, সবদিক থেকে... তোমার বাবা অভিশপ্ত ছিলেন। সেই অভিশাপ কি তোমাকেও আক্রান্ত করবে?’ 

‘বাবার পাপ কি সন্তানদের বা তৃতীয় এবং চতুর্থ প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত হবে-- হ্যাঁ?’ 

‘ঠিক তাই।’ 

কেন নয়! এটি উদ্ভট ব্যাপার!’ 

ও দীর্ঘশ্বাস ফেললো। তারপর স্বগতোক্তি করে বলল, ‘ওহ, আমি তোমাকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু এখন আমি বুঝি যে, ওয়ামাইথা বুঝবে না।’ 

আমি চমকে উঠলাম। এ যাবতকালে শোনা সবচেয়ে করুণ আর্তনাদ মনে হলো। 

‘সময়টা ছিল রবিবারের বিকেল,’ সে হঠাৎ করে বলতে শুরু করলো, ‘আমি এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়া যাকে আমরা দাদী বলে ডাকি, তার বাড়ি থেকে ফিরছিলাম। অবশ্য এখনো আমি বয়সে তরুণ। চাঁদের আলোয় প্রলুব্ধ হয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে এখানে-সেখানে ঘুরছিলাম। তাই বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে গেল। বাড়িতে মা ছিলেন। ফায়ারপ্লেসের পাশে পাতা বিছানায় আমার দুই ভাই খেলছিল। ওদের সবাইকে ফুরফুরে মেজাজে দেখাচ্ছিল। বাবা বাড়িতে ছিলেন না। ব্যাপারটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল কারণ, বাবা সাধারণত এত দেরি করে বাইরে থাকেন না। এমনকি ধর্মীয় সমাবেশগুলো, যেগুলো তিনি নিজেই পরিচালনা করতেন, সেগুলো থেকেও তিনি সাধারণত আগেভাগেই ফিরতেন। কাজেই কিছু সময় পর আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলাম। ‘যেইমাত্র খাবার শেষ করেছি হঠাৎ দরজায় বজ্রের মতো প্রচণ্ড ধাক্কার শব্দ হলো। মুহূর্তেই এক ভৌতিক কালো অবয়ব দরজায় এসে দাঁড়ালো। এই কালো অবয়বটা হলো আমার বাবা। তার পরিচ্ছন্নভাবে সাজানো চুলগুলো তখন আলুথালু। চোখ দুটো রক্তিম। কথা না বলে দরজার কাছে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো। মনে হলো, কি যেন তিনি পর্যবেক্ষণ করছেন। তারপর ধুলি ধুসরিত মেঝেতে ধপ করে পড়ে গেলেন। 

‘আমরা তো সবাই ভয়ে চিৎকার দিলাম কারণ আমাদের মনে হলো, উনি মারা গেছেন।’ 

আসলে তিনি মরেননি। মা যখন তার মাথায় ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিলেন, তখন দেখলাম উনি ধীরে ধীরে চোখ খুললেন। আমাদের সবাইকে তার চারপাশে দেখে তিনি অবাক হলেন। তাকে আতঙ্ক পেয়ে বসেছে। তিনি বেশ কাঁপছিলেন। ফিস ফিস করে কী যেন বলছিলেন। যে শব্দগুলো আমার কানে লাগলো। তা হলো-- ‘কালো পাখি’! আর কিছু নয়। আবার ঘুমিয়ে পড়লেন। পরদিন অবধি ঘুমালেন। 

‘সেই প্রথমবার আমি কালো পাখির ব্যাপারে শুনলাম। সেই ধকল কাটিয়ে বাবা বেশি দিন বাঁচেননি। মাসখানেক বাদে তিনি মারা গেলেন। তাঁর অকস্মাৎ মৃত্যু নিয়ে অনেক কথা হলো। কারণ, আমার বাবা খুব সফল ব্যক্তি ছিলেন। ধর্মীয় স্পৃহা ও সততার জন্যও তিনি ছিলেন সুপরিচিত। 

‘এরপর আমার দুই ভাইও মারা গেল নিউমোনিয়ায়। আমিই শুধু মার কাছে রয়ে গেলাম। আমাদের সবকিছু বিক্রি করে দিয়ে কিয়াম্বুতে পালিয়ে গেলাম। আমরা গাথিগি ইনিতে থাকতে এলাম। তখন আমার মা আমাকে গল্পের যেটুকু জানতেন, তার সবটুকুই শুনিয়েছিলেন। অর্থাৎ ওই কালো পাখির গল্প। ম্যাঙ্গারা একটু থামল, দীর্ঘ একটা শ্বাস নিলো। 

‘দেখছই তো, সবকিছু কেমন জানি মুরাংগার দিকেই যায়। ওই জেলাই ছিল আমাদের জন্মস্থান। ওখানে আমাদের অনেক জমি ছিল। সাদাদের আমদানি করা খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত তরুণদের মধ্যে আমার দাদা ছিলেন প্রথমজন। নতুন ধর্মান্তরিত খ্রিস্টানরা ছিল উচ্ছ্বাসে ভরপুর। এরা বিশ্বাস করে যে, ওদের লোকদের মধ্যে প্রচলিত সবকিছুই ছিল শয়তানিতে ঠাসা। প্রতিটি ধর্মাচারই পাপ। লোকজনের প্রতিটি বিশ্বাসই ছিল কুসংস্কার। শয়তানের কারসাজি। আমাদের ঈশ্বরকে বলা হলো অন্ধকারের রাজপুত্তুর। আমার দাদা ও তার অন্যান্য চ্যালারা নিজেদেরকে ঈশ্বরের সৈন্যবাহিনী মনে করতো। বিশেষ করে, খ্রিস্টীয় ঈশ্বরের। ওরা মনে করতো প্রাচীন এই গোত্রের মানুষদের চিরস্থায়ী জাহান্নামে বাস করা থেকে মুক্তি দেওয়াই ওদের কাজ। কোন কিছুই ওদের ক্ষতি করতে পারেনি। ওদের পক্ষে তো যিশু ছিলেন। কাজেই ওরা পাহাড়কে করেছে পদদলিত। পবিত্র স্থানগুলোকে করেছে পদপিষ্ট। মুগোমোর অধীনে নগাইয়ের জন্য যে মাংস উৎসর্গ করা হয়েছিল, তাও তারা ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। এ যেন যিশুর সৈন্য বাহিনীর শয়তানের বিরুদ্ধে ক্রুসেড ঘোষণা। 

‘বুড়ো মু- মুগোকে ওখানকার সবাই শ্রদ্ধা করতো। সে অনেক রোগের চিকিৎসা করতে পারতো। রোগবালাইসহ অন্য সব খারাপ লোকের বিরুদ্ধে সে যুদ্ধও করেছিল। বলা হতো যে, সে নাকি ভবিষ্যত দেখতে পায়। তার যাদুবিদ্যা ছিল বেশ শক্তিশালী। সে এই যাদু ব্যবহার করতো মানুষের কল্যাণার্থে, বিশেষ কওে, যুদ্ধ ও খরার সময়। এই লোকের কাছেই আমার দাদা এলেন। বেশ উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনায় আমার দাদা তার সবকিছু ধ্বংস করে আগুন লাগিয়ে দিলেন। পুড়ে ছাঁই করে ফেললেন। এরপর তার কাছে ধর্মের বাণী প্রচার করলেন। বৃদ্ধ লোকটি প্রথমে যা দেখলেন তা বিশ্বাস করতে পারলেন না। তারপর ভয়ার্ত কণ্ঠে আমার দাদাকে বললেন, সে যা করল তার মূল্য তার জীবনে তাকে দিতে হবে। বলে বৃদ্ধ লোকটি দেশ থেকে উধাও হয়ে গেলেন। 

‘কয়েক বছর পর তিনি ফিরে আসলেন। কালো পাখির রূপ ধরে। আমার দাদা তো মরে গেলেন। তার বউ-পোলা পাইনও তার পথ ধরলো। আমার বাবা ছাড়া। মরে যাবার আগে ওরা সবাই বলেছে যে, ওরা কালো পাখিটাকে দেখেছে। আমার বাবা মুরাংগা থেকে পালিয়ে কিয়াম্বুতে এলো। তুমি তো জানোই, কালো পাখিটা তারও পিছু নিলো।’ 

আবার ম্যাঙ্গারা থামলো। তারপর ক্লান্ত স্বরে সে আমাকে ওপরের দিকে তাকাতে বললো। বলল, ‘আমরা গাথিনি ইনিতে আসার পর পরই আমার মা মারা গেল। সেও কালো পাখিটিকে দেখেছিল। আমি এবার বিষয়টা নিয়ে জোরেসোরে ভাবতে লাগলাম। যে পাপ আমার বাবা-মা করেননি, সে পাপে কেন তাঁদের মরতে হলো? কেন? কেন? এরপর আমি প্রতিজ্ঞা করলাম যে, ওই কালো পাখিকে আমি খুঁজে বের করবো। একে ধরার জন্য আমি প্রার্থনা করেছি, আকাঙ্ক্ষাও করেছি। কিন্তু সবই ব্যর্থ হয়েছে। তুমি এটা বিশ্বাস নাও করতে পার। কিন্তু তখনো পর্যন্ত এ পাখিটি আমার কাছে বাস্তব ছিল। স্কুলের পুরোটা সময় আমি একে খুঁজেছি। তারপর কলেজে গেছি। 

‘ওয়ামাইথার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। আমি পাখিটার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। পুরোটা সময় পৃথিবীর সঙ্গে খাপ খাওয়ার কথা ভেবেছি যাতে তাকে আমি বিয়ে করতে পারি। আমি ভেবেছিলাম যে, আমি সফল হচ্ছি। আদতে আমি একটা বোকা। কারণ, সবে আমি সফলতার পেছনে ছুটছি। 

‘সম্ভবত আমি ভেবেছিলাম যে, এই সফলতা আমার মনে স্বস্তি এনে দেবে, আর ওই পাখিটার কথাও আর কখনোই আমার মনে আসবে না। আর যদি মনে আসতোই আমি পড়াশোনার গভীরে ডুব দিয়ে একে তাড়িয়ে দিতে চেষ্টা করতাম।’ 

এবার ও থামলো। মাথার পেছনে দু’হাত রেখে চেয়ারে হেলান দিলো। আমাকে ছাড়িয়ে দূরে তাকিয়ে রইলো তারপর বললো : 

‘আমি এখন কালো পাখির সন্ধান পেয়েছি।’ 

শুনে আমি দাঁড়িয়ে ভয়ে ভয়ে চারপাশে তাকালাম। দেয়ালে পাখা ঝাপটানোর ছায়া অমঙ্গলের প্রতীক। আবার বসে পড়লাম। লজ্জা পেলাম। 

‘গত সপ্তাহের কথা। তুমি তো জানোই, আমি কিন্তু এখানে সরাসরি আসিনি। রবিবারে আমি ওয়ামাইথার সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। জীবনে কখনো এতো ভালো লাগেনি। মনে হচ্ছিল জীবনে প্রথম আমি অতীত থেকে পালিয়ে বাঁচলাম। নতুন বিশ্বে আমি এক নতুন মানুষ। এ বিশ্বে শুধু আমি আর ওয়ামাইথা। আমরা কৌতুক করছিলাম; হাস্যরস করছিলাম। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল। একটা পাহাড়ে বসে শিশুর মতো আমরা খেলছিলাম। কিছু সময়ের জন্য ওয়ামাইথা আমার কাছ থেকে একটু সরে ছিল। আমি কাত হয়ে শুয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে তাকিয়ে ছিলাম। 

‘পাখিটা আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল। এই ভয়ার্ত মূর্তির প্রভাব আমার ওপর কতটা পড়েছিল, তা আমি ভাষায় বর্ণনা করতে পারব না। আমি চিৎকারও করতে পারলাম না। আমি শুধু তাকিয়ে রইলাম। খানিকটা বিস্মিত হলাম নিজেকে দেখেই। যে পাখিটার সাক্ষাৎ লাভের আশায় আমি সবসময়ই প্রার্থনা করেছি, এখন আমি তার মুখোমুখি। নড়াচড়াও করতে পারলাম না। পাখিটা কালো। একেবারে কালির মতো কালো। সম্ভবত সন্ধ্যাটা ওই কালোকে আরো কালো করে দিয়েছে।... কিন্তু ওর চোখগুলো বড় বড় আর... আর... মানুষের চোখের মতো... ওগুলো লাল... এহ্... না। নাহ্। ও চলে গেল, আর আমি নড়তেও পারলাম না।’ 

ম্যাঙ্গারা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বেশ কাহিল হয়ে পড়লো। আমিও ভয়ে কাঁপতে লাগলাম। দরজার কাছে দৌঁড়ে গিয়ে ছিটকানিটা লাগিয়ে দিলাম। ছুটে গিয়ে জানালাটাও লাগিয়ে দিলাম। অমঙ্গলকর অন্ধকারের মুখের ওপর পর্দাটাও টেনে দিলাম। তারপর ফিরে এলাম। 

‘তুমি কি ওয়ামাইথাকে ব্যাপারটা বলেছো?’ 

‘নাহ্, বলিনি। আমি ওকে বললাম, আমার ভালো ঠেকছিল না। ও আমাকে কাঁপতে দেখল। ও ভেবেছিল, আমার ঠাণ্ডা লেগেছে। ... এই বিষয়টাতে আমি কিভাবে তাকে জড়াবো? যেভাবেই হোক, ও আমার গল্পটা বিশ্বাস করবে না। এমনকি তুমিও...।’ 

আমি সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করলাম। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি নিজের দুর্বলতার সঙ্গেই যুদ্ধ করছিলাম। আমার কাছে এটিকে লজ্জাকর মনে হলো যে, ডাক্তারিবিদ্যা পড়া একজন ছাত্র, যে কি-না ইউরোপের ধর্মকর্মের মধ্যে মানুষ হয়েছে, সে এমন আজগুবি কাহিনী কিভাবে বিশ্বাস করে। 

‘আমি জানি তুমিও বিশ্বাস কর না। কেউ আমাকে এ রকম গল্প বললে আমিও বিশ্বাস করতাম না। ...’ 

পরে রাতে যখন আমরা ঘুমাতে যাচ্ছিলাম তখন সে আমাকে ডেকে বলল, 

‘তুমি তো জানো, আমার দাদা ঐ পবিত্র গাছের নিচে পরিস্কার করার জন্য গিয়ে থাকতে পারে। মা মারা যাবার আগে এ রকম কিছু একটা বলে গিয়েছিল।’ 

সে রাতে আমার পক্ষে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়লো। 

ম্যাঙ্গারা চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে কলেজে ফিরে গেল। তার আর কোনো খবর পেলাম না। কোম্পানিতে ভালো একটা পজিশন পেলাম। ওরা তাঞ্জানিয়ায় একটা ডিপোর দায়িত্বে আমাকে পাঠালো। প্রশংসার জোয়ারে ভাসতে লাগলাম কারণ, এ রকম একটা পদে আমিই প্রথম আফ্রিকী। 

একটা সংক্ষিপ্ত ছুটিতে বাড়ি ফেরার আগ পর্যন্ত তাঞ্জানিয়ায় আমাকে ছয় মাস থাকতে হলো। লিমুরু খুব একটা বদলেনি। একটা ট্রেডিং সেন্টার নির্মাণের জন্য একটা নতুন জায়গার মাপযোগ করা হয়েছে। কিন্তু ওখানে তখন একটা পুরানো ভারতীয় বাজার ছিল। বাজারের মধ্য দিয়ে হেঁটে ছোট একটা রাস্তায় এসে নামলাম। এ রাস্তাটি বাড়ি অব্ধি গেছে। ওখানেই ওয়ামাইথার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো। ও বদলে গেছে। ও লিকলিকে, হ্যাংলা। মুখটা উদ্ভ্রান্তের মতো। যে পোশাকটা পড়ে আছে, তাও সপ্তাহ খানেক ধরে ধোয়া হয়নি। অদ্ভুত। ওর উজ্জ্বল পবিত্র চেহারাটা কোথায় মিলিয়ে গেল? ম্যাঙ্গারা কোথায়? 

‘কেমন আছ?’ করমর্দন করতে করতে জিজ্ঞেস করলাম। 

‘ভালো আছি।’ 

‘ম্যাঙ্গারা কেমন আছে?’ আনন্দের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম। 

ও আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আমিও ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে হলো, আমার প্রশ্নটা ওর বুকে শেলের মতো বিঁধেছে। 

‘তুমি শোননি?’ 

‘কী শুনবো?’ 

‘ও মারা গেছে।’ 

‘মারা গেছে!’ 

‘ও পরীক্ষায় ফেল করেছিল। লোকজন বলাবলি করছিল, ও আত্মহত্যা করেছে।... ওহ! ওহ! ও কেন আমাকে বিশ্বাস করল না? আমি তো ওকে আগের মতোই ভালোবাসতাম।...’ 

ও কাঁদতে লাগলো। যেন ওর মৃত্যুর ব্যাপারটা ওর মনে এখনো তাজা রয়েছে। আমি কিছু ভেবে পাচ্ছিলাম না। ও কিভাবে পরীক্ষায় ফেল করতে পারে? 

এক সপ্তাহ পরে আমি ড. কে-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলাম। উনিও ওই কলেজের স্নাতক। কারণ, আমি বুকে ব্যথা অনুভব করছিলাম। অনেক কাশি হচ্ছিল। সম্ভবত আবহাওয়ার পরিবর্তনের জন্য। দুজনের অনেক কথা হলো। আলাপচারিতা ম্যাঙ্গারার মৃত্যুর প্রসঙ্গ পর্যন্ত গড়ালো। 

‘লোকে বলে ফেল করার কারণে ও নাকি আত্মহত্যা করেছে। আমার তা বিশ্বাস হয় না। ও ছিল অদ্ভুত। যদিও মেধাবি। আমরা কেউ তাকে মূল্যায়ন করতে পারিনি। শেষের পরীক্ষায় ও পড়াশোনাকে অবজ্ঞা করেছে। দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছিল। বিকেলে ওকে কলেজের গীর্জাটার আশপাশে দেখা যেত। মনে হতো ও নিষ্প্রাণ। কিন্তু পরীক্ষার সময় তার চোখ দুটো অদ্ভুতভাবে উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল ও সুন্দর ও উত্তেজনাকর কিছু একটা দেখছিল।... যখন ফল বের হলো, দেখা গেল ও ফেল করেছে। ও এখানে রেজাল্ট জানলো। আমি তার সঙ্গেই ছিলাম। তোমাকে হলফ করে বলছি, রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারণে ও একটুও ব্যথিত হয়নি। মনে হয়েছিল ও যেন সবকিছু আগেভাগে জানতই। এক সপ্তাহ পর ওই পবিত্র গাছের নিচে ওকে মৃত পাওয়া গেল। ওর চোখে এক অদ্ভুত প্রশান্তির ছাপ ছিল, মনে হচ্ছিল ও যেন একটা কঠিন কাজ সম্পন্ন করেছে। এ ধরনের চাউনি পুনর্জীবন দানকারীদের চোখে মুখে থাকে। 

বাড়ি ফিরেই শুয়ে পড়লাম। অনেকক্ষণ ধরে শূন্যে তাকিয়েই রইলাম। সিদ্ধান্ত নিতে পারলাম না, বাতিটা নিভিয়ে দেব, না-কি দেব না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন