বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

রেচেল কাস্কের গল্প: তৃষ্ণা


অনুবাদ: মোস্তাক শরীফ

ভেনিসে পৌঁছে মা আর মেয়ে গিবসন এমন একটা ধাক্কা খেল যা ব্যাখ্যার অতীত। যেদিকে তাকায় কেবল পানি। ভেনিস সফরের খুঁটিনাটি নিয়ে বড় বেশি মাথা ঘামিয়েছিল জুলিয়া গিবসন। আর মেয়ে শার্লটের ব্যাপার উল্টো, মাথাই ঘামায়নি সে। বড় সন্তানকে নিয়ে মায়েদের সংক্ষিপ্ত সফরে যাবার ব্যাপারটা একধরনের ফ্যাশনে দাঁড়িয়ে গেছে তাদের বন্ধুমহলে, বিশেষ করে সন্তানটি যদি মেয়ে ও প্রাপ্তবয়স্ক হয়। ভাবখানা, পরিবারের এই দুই সদস্যের যে বিশেষ ছাড় বা সুবিধা দরকার তা সবারই জানা-যদিও সেটি তাদের মন ভোলানোর জন্য নাকি পুরস্কার হিসেবে তা স্পষ্ট নয়। ভেনিসে তিন রাত কাটাবে মা-মেয়ে, বিশেষ ছাড় বা সুবিধার জন্য সময়টা মোটামুটি যথেষ্ট বলে ধরে নেয়া যায়।


সব মিলিয়ে তাদের সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বের যে বাতাবরণটি তৈরি হয়েছে তাতে কিছুটা হলেও তাৎপর্য হারিয়েছিল তারা কোথায় যাচ্ছে সেটি। ব্যবসায়ী আর রাজনীতিবিদেরা যেমন গন্তব্য না জেনেই দুনিয়াজুড়ে ঘুরে বেড়ায় ব্যাপারটা তেমনই। যেকোনোখানেই যেতে পারত মা-মেয়ে। যে বিমানে তারা চড়েছিল, উদাহরণ হিসেবে যদি বলি, তাদের অস্পষ্ট ও অশুভ উদ্দেশ্যের জন্য বেশ নিরপেক্ষ ও অনভ্যস্ত মনে হয়েছিল সেটিকেও। পৃথিবীকে পারতপক্ষে কোনো ব্যাপারে ঘাঁটায় না জুলিয়া গিবসন; বস্তুত পৃথিবী বলে কিছু একটা যে আছে সেটাই যথাসম্ভব ভুলে থাকার চেষ্টা করে সে। আকাশের শুকনো নীল অধিবৃত্তে বিমানের নিজ আসনে আটকে থাকা জুলিয়ার কাছে পৃথিবীতে নেমে আসার জন্য ঠিক এ মুহূর্তকে বেছে নেয়া অযৌক্তিক মনে হল না মোটেই। আকাশের এখানে ওখানে সাদা ছোপ। অন্য বিমানের গুপ্ত পথরেখা এগুলো, যার কারণে এক ধরনের ব্যবহৃত এবং অসম্মানজনক চেহারা হয়েছে আকাশের, যেন ব্যবসা আর প্রমোদের বিশাল এক চাতুরীর প্রমাণ এগুলো - নিচে, পৃথিবীর নাট্যশালার রঙঢংকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে যা ঘটে চলেছে অন্তরীক্ষে।

ভাবগতিকে মনে হচ্ছিল বিমানবন্দর থেকেই নৌকায় উঠতে হবে তাদের। ঐ তো নৌকা, একবার উঠছে একবার নামছে পানির তোড়ে, সমুদ্রোপকুলের শীত-বিকেলে কাঠের পন্টুনে আধঘণ্টার অপেক্ষায় দু’গালে রক্তিমাভা। নিজেদের বিপদের ধরনটাও তাদের কাছেও স্পষ্ট হলো তখনই। ‘তোমার বাবার কথা শুনলে এখন মাদ্রিদে থাকতাম আমরা!’ ইঞ্জিনের ঘর্ঘর ছাপিয়ে চেঁচিয়ে উঠল জুলিয়া, কোটের পুরু হাতার ওপর দিয়ে শার্লটের বাহু চেপে ধরে আছে সে, পিচ্ছিল কাপড়ের কারণে ধরতে পারছে না ঠিকমতো। ‘আমার কী মনে হয় জানো? সে চায়নি বেশি মজা করি আমরা।’

তাদের বাবা সম্বন্ধে বাচ্চাদেরকে প্রায়ই এরকম বলে জুলিয়া। তাদের সবার স্বার্থে একটা ক্ষতস্থান বয়ে বেড়াচ্ছে সে-খুব যে অনিচ্ছাসত্তে¡ তা-ও নয়। অন্যদের কাছে, বা তার নিজেরই কাছে ক্ষতটাকে দেখানোর একটা উপায় এটি। মা হিসেবে তার একান্ত ভুবনের গোপনীয়তায় নিজের পোশাক তুলে ক্ষতস্থানটা দেখায় সে, তার কাটাছেঁড়া করা আত্মার সেলাই এগুলো, যার কোথাও কোথাও এখনও ঘাপটি মেরে আছে আড়ষ্টতা আর এক অনিশ্চিত কোমলতা। এটা ঠিক যে মাদ্রিদে যেতে বলেছিল সে তাদেরকে। কেন, তার যুৎসই ব্যাখ্যা দিতে পারেনি অবশ্য। কেবল বলেছিল, তাদের ভালো লাগবে। ব্যস। জুলিয়া কখনো মাদ্রিদে যায়নি, তবে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে মাদ্রিদের সহজলভ্যতাই একটা দাগ লাগিয়ে দিয়েছিল এর ওপর, এবং এটাই যথেষ্ট ছিল জুলিয়ার জন্য। কয়েকটা ঘটনা ঘটতে পারে এখানে। এমন হতে পারে, সে চায়নি তারা বেশি মজা করুক। অন্যটা, প্রথমটার সঙ্গে সম্পর্কিত এটি, হতে পারে নিজেই ভেনিসে যেতে চায় সে। অস্বস্তিকর আরেকটি সম্ভাবনাও আছে, সেটি হলো, হয়তো তার কথাই ঠিক।

‘কী মনে হয়, মাদ্রিদে গেলেই খুশি হতে তুমি?’

শার্লটের হাত ধরল সে ফের, ঠান্ডার ভাব কমাতে ঝাঁকি দিল উপরে-নিচে। ঠান্ডাটা অবশ্য কেবল তার কল্পনাতেই, নৌকার ভেতরটা যথেষ্ট গরম। আসলে নড়াচড়ার ব্যাপারে শার্লটের নির্জীবতাই উৎসাহিত করল তাকে এ কাজ করতে।

‘জানি না,’ শার্লট বলল। ‘জায়গাটা কেমন ধারণা নেই আমার। আসলে ব্যাপারটা আপেক্ষিক।’

‘যাই বলো, মাদ্রিদও নিঃসন্দেহে চমৎকার,’ বলল জুলিয়া, ভ্রু কুঁচকে আছে তার, যেন ব্যতিক্রমী এক আন্তরিকতা দেখানোর প্রাণান্ত চেষ্টা করছে। ‘জাদুঘর, স্মৃতিসৌধ, সরকারি দালানকোঠা-সবই আছে ওখানে। বিশাল একটা প্রশাসনিক কেন্দ্র, সন্দেহ নেই।’

শার্লট কিছু বলল না।

‘অন্যদিকে ভেনিস-’ হাত দিয়ে জানালার দিকে দেখাল সে, যদিও জানালা দিয়ে জলের ওপর ছড়িয়ে থাকা সন্ধ্যার দৈবাৎ গোলাপি আভা ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। ‘জাদুকরি একটা জায়গা, রূপকথার নগরের মতো। কোনো তুলনা নেই এর। মনে হবে অতীতে চলে গেছ। জানো ভেনিসে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই? একটাও না!’

‘কেন?’ চিন্তার ছায়া পড়ল শার্লটের চেহারায়, যেন গাড়ি না থাকাটা অসুবিধাজনক এবং অশুভ।

‘কারণ এখানে রাস্তাই নেই! রাস্তার জায়গায় আছে খাল। মনে আছে তো খালের কথা? বলেছিলাম তোমাকে।’

‘না বলোনি।’

‘লক্ষ্মী,’ জুলিয়ার গলায় ভর্ৎসনা, ‘বলেছিলাম।’

এটাই কি সেটা?’ সঙ্গে সঙ্গে বলল শার্লট, ইঞ্জিনের ক্রমশ স্তিমিত হয়ে আসা স্পন্দন যেন উদ্দীপ্ত করল তাকে।

নৌকার একপাশে নদীর তীরটা নিঃশব্দে ভেসে উঠল চোখের সামনে। সার বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা একের পর এক হোটেলের আলো-ঝলমল পাথুরে ভবনে ভর্তি তীর। পানি থেকে যথেষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকা ভবনগুলোকে বিশাল আর রহস্যময় দেখাচ্ছে। ‘ক্যাম্পারি’ লেখা বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে একটির ছাদে।

গাড়ি আছে কিন্তু,’ শার্লট বলল।

কয়েকটা গাড়ির হেডলাইট দেখা গেল, মাথায় কাঁটা লাগানো কমলা আলো ছড়িয়ে ঝাপসা অন্ধকারে আসছে আর যাচ্ছে। পানিতেও দেখা মিলল একটি বাহনের, জলপাই রঙা বিশাল এক ফেরি। তাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেল সমুদ্রের দিকে। নৌকার অর্ধেক মানুষ উঠে দাঁড়াল, নিজেদের ব্যাগ আর কোট হাতে নিয়ে সার বেঁধে রওনা দিল দরজার দিকে। চেঁচিয়ে কিছু একটা বলল কন্ডাক্টর।

‘এটা ভেনিস লিডো,’ আত্মবিশ্বাসী গলায় বলল জুলিয়া। ‘ভেনিস নয় কিন্তু। বলতে পারো একটা রিসোর্ট। বিখ্যাত একটা সৈকত আছে এর।’

‘তাহলে ভেনিসের বদলে এখানে আসে না কেন সবাই?’ শার্লটের গলায় একধরনের ওপরচালাকি এবং তার এই ভঙ্গিটাই জুলিয়ার সবচেয়ে অপছন্দ, কারণ এ কাজটায় নিজের শক্তির বড় একটা অংশ ব্যয় করে শার্লট।

অন্ধকারাচ্ছন্ন উপহ্রদ পেরিয়ে তাদের নৌকা কালো জলে সোনালি মুকুটের মতো দাঁড়িয়ে থাকা ভেনিসের দিকে মুখ ফেরানো অব্দি চুপ থাকল জুলিয়া। গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়াচ্ছন্ন বৃক্ষে ভর্তি আর্সেনাল এলাকা কিংবা ছোঁক ছোঁক করতে থাকা খালগুলোর ওপর ছোট ভ্রুকুটির মতো ঝুঁকে থাকা সেতুগুলো পার হওয়ার সময়ও কিচ্ছু বলল না। এমনকি অন্ধকারে জ্বলজ্বল করতে থাকা সেন্ট মার্কস চত্বর (ভেনিস সম্বন্ধে যেটুকু পড়াশোনা করেছে তাতে এটাকে তাই মনে হলো জুলিয়ার), জাঁকজমকে ভরা ডোজে’র প্রাসাদ আর ব্যাসিলিকা গির্জার সোনালী ছাদ পেরিয়ে যাচ্ছিল যখন তখনও মুখে কুলুপ এঁটে রাখল সে। তার মনে হলো এ নীরবতার সুযোগে আরো একটু হতবুদ্ধি হোক শার্লট, যাতে ফের তাকে কিছু জ্ঞান দেয়া যায়। পানির ভেতর থেকে এখানে ওখানে মাথা উঁচিয়ে আছে কাঠের ঘাটলা, যেখানে নোঙর ফেলে নৌকাগুলো। ঘাটের সঙ্গে বাঁধা অজস্র গন্ডোলা (ভেনিসীয় নৌকা) চোখে পড়ছে এখানে ওখানে। বেশির ভাগই ত্রিপলের আবরণে ঢাকা। হতে পারে ওগুলোকে জানুয়ারির রাত থেকে বাঁচানোর জন্য কিংবা ওগুলো ব্যবহারের সময় এখন নয়। দৃশ্যটি একইসঙ্গে মনোরম এবং কিছুটা মন খারাপ করাও। ধীরে ধীরে কমে এল নৌকার গতি। এস. মার্কো লেখা স্বল্পালোকিত একটি হলদে-ধূসর স্টেশনে এসে আড়াআড়িভাবে থামল খানিক পরই।

‘এই যে,’ একধরনের ব্যাকুল-বিষন্নতা জুলিয়ার গলায়, যেন এমন একটা জায়গায় তারা এসেছে যেখানে গোটা জীবন কাটিয়েছে সে, যে জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে সম্প্রতি এবং শোচনীয়ভাবে। প্লাস্টিকের আসন থেকে উঠে দাঁড়াল সে, দুজনের স্যুটকেস নিয়ে হেঁটে গেল নৌকার অন্যমাথায়। দ্বিধায় ভরা দীর্ঘ একটি সময়-দেখার চেয়ে যা অনুভবই করল সে বেশি-পার করার পর শার্লটও উঠে দাঁড়িয়ে অনুসরণ করল তাকে।

এক বন্ধু জুলিয়াকে বলেছিল ভেনিসে থাকার মতো জায়গা একটাই আছে। সে পরামর্শে মাদ্রিদের ব্যাপারে একটু ইঙ্গিত থাকলেও-যেন কিছুকে ঠিক কোন উচ্চতায় নেয়া যায় তার একটা নমুনা মাদ্রিদ-ফোন করে একটা কক্ষের বুকিং দিয়ে রেখেছিল জুলিয়া। বেশ অবাক হয়েছিল বন্ধুটা। কয়েক মাস আগে বলে না রাখলে সাধারণত কক্ষ পাওয়া যায় না, বলেছিল সে। সম্ভবত বছরের এ সময়টা বলেই পেয়েছে জুলিয়া, নিজেই ব্যাখ্যা দিয়েছিল শেষে।

আরেকটা নৌকায় উঠল তারা, একটা ভেপরেট্টো (বাসের মতো দেখতে জলযান)। গতি বেশ কম এর। ঘর্ঘর শব্দ করে এমন দুলকি চালে গ্র্যান্ড ক্যানাল ধরে রওনা হলো যে জুলিয়ার খানিক চুপসে যাওয়া স্বতঃস্ফূর্ততা আবার ফিরে এল।

‘এসে গেছি আমরা!’ চিৎকার করে উঠিল সে, শার্লটের কাঁধ চেপে ধরে আছে। ‘গ্র্যান্ড ক্যানাল এটা-দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলোর একটা!’

‘সত্যিই দেখতে পাচ্ছ?’ শার্লট বলল, ‘এত অন্ধকার!’

‘চিন্তা করো না,’ জুলিয়া বলল, ‘ঝাঁঝরা বানিয়ে ফেলব এটা পার হতে হতে।’

‘আসলেই?’

‘অবশ্যই। তোমার কি ধারণা তিনদিন হোটেলে বসে থাকব আমরা?’

কাঁধ ঝাঁকাল শার্লট। ‘জানি না।’

‘চাইলে বসে থাকতে পার,’ জুলিয়া বলল, ‘কিন্তু জঘন্য ব্যাপার হবে সেটা।’

‘জানি পারব না,’ শার্লট বলল, কুয়াশাঘেরা জানালা দিয়ে নদীর কালো জল আর এইমাত্র পাশ কাটানো চোখ ধাঁধানো একটা গির্জার দিকে তাকিয়ে আছে। ‘তুমিই দেবে না বসে থাকতে।’

‘বসে থাকবেই বা কেন?’ শুধাল জুলিয়া। ‘ভেনিসে বেড়াতে এসে হোটেলে বসে থাকা নেহাত পাগলামো, মনে হয় না তোমার?’

খানিক আগে হলেও এ কথার উত্তরে শার্লট অবশ্যই বলত যে হোটেলে বসে থাকার কথা কখনও বলেনি সে। তবে কিছুই বলল না এখন, স্রেফ ঘুরিয়ে নিল মাথাটা। ব্যাপারটা একধরনের অবজ্ঞা, কিংবা না পাওয়ার ভাব সৃষ্টি করল জুলিয়ার মনে। ভাবনাটা একইসঙ্গে মন খারাপ করার মতো, আবার ঝাঁকি দিয়ে সোজা করে দেয়ার মতোও। অন্য আরোহীদের নিপাট, বাদামি-চোখো দৃষ্টি অনুভব করল সে নিজের ওপর। যেন মা-মেয়ের মধ্যে কী ঘটে গেল অনায়াসেই বুঝতে পেরেছে তারা। মুহূর্তের জন্য নিজের একটা ছবি মনের চোখে ভেসে উঠল জুলিয়ার, মেয়ের সঙ্গে অনাকর্ষণীয় সম্পর্কটাকে ঝলমলে পোশাকের মতো পরে আছে যে ছবিতে। বহুদিন আগে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছুটি কাটাতে ফ্রান্সে গিয়েছিল, সেখানে এক মহিলাকে দেখেছিল নিজের মেয়েকে চড় মারতে। ঐ মেয়েটার সমান বয়সই ছিল তখন শার্লটের।

দেখতে ভালোই ছিল মহিলাটি, মেয়েটাও; যে কারণে চড়ের দৃশ্যটাতে এক ধরনের টানটান নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছিল।

‘পানি!’ ফের গলা চড়িয়ে বলল সে, ভেপোরেট্টো থেকে নেমে মানচিত্র দেখে সরু, কবরস্থানের পথের মতো রাস্তা ধরে হোটেলের দিকে ফিরছিল যখন। একটেরে একটা সেতুর ঢাল ধরে দৌড়ে উপরে উঠল জুলিয়া, স্যুটকেসটা হাত থেকে ফেলে দাঁড়াল মাঝসেতুতে। নিস্তেজ ফিতের মতো পড়ে থাকা সরু খালটি থেকে এঁকেবেকে ওপরে ওঠা ভাপের ওপর হাত মেলে দিল। আশা করেছিল তার ভাবভঙ্গি দেখে হাসবে শার্লট। শার্লট হাসলও, বাধ্য মেয়ের মতো।

‘পানি, যেদিকেই তাকাও!’ গলা উঁচিয়ে বলল জুলিয়া। কাপড়ে শরীর মুড়ে সেতু দিয়ে পার হওয়া মানুষগুলো চলতে চলতে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল তার দিকে।

হোটেল ডেস্কের লোকটা একটা ট্রাটোরিয়ার (রেস্টুরেন্ট) খোঁজ দিল তাদের। জানাল, বছরের এ সময় খোলা থাকার কথা ওটি, যদিও সে নিশ্চিত নয়। খোলা থাকার মানে হচ্ছে লক্ষণ ভালো, রহস্যময় ভঙ্গিতে জানাল।

শরীরে অদ্ভুত একটা অনুভূতি নিয়ে সে রাতে তিনবার জেগে উঠল জুলিয়া এবং প্রবল বিস্ময়ে অনুভব করল, একটা তাড়না এটা। প্রচণ্ড তৃষ্ণার। বারবার উঠল সে। অস্পষ্ট সব আসবাবে ভরা কক্ষের অন্ধকার ঠেলে টলমল পায়ে বাথরুমে গিয়ে চড়া আলোর নিচে দাঁড়িয়ে পানি খেল। ফেরার সময়, যেহেতু তৃষ্ণা অনুভব করছে না, অন্য বিছানায় নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকা শার্লটের দিকে তাকানোর ফুরসৎ পেল। এবং প্রতিবারই তীব্র একটা মায়া অনুভব করল। ঘুমন্ত শার্লট সে মায়া পূরণ করতে তো পারলোই না, বরং জুলিয়ার ভালোবাসা আর প্রজ্ঞানের উৎস যে শার্লট তার জায়গা দখল করে জুলিয়ার আকুলতাকে আরো বহুগুণে বাড়িয়ে দিল। সকালবেলা শার্লটও দাবি করল পানি খাওয়ার জন্য অগুনতিবার বাথরুমে গিয়েছে সে। রীতিমতো অবিশ্বাস্য দাবি। কারণ প্রহরীর মতো রাতের বুক ফুঁড়ে অসংখ্যবার এসেছে আর গেছে জুলিয়া, একবারও শার্লটকে এমনকি নড়তেও দেখেনি। যেন একই রাতের কথা বলছে না তারা দুজন। যেন শার্লটের রাতটি ছিল জুলিয়ার রাত থেকে আলাদা; ঘটেছিল তার অপরিণত প্রাপ্তবয়স্কতার সমান্তরাল, স্বয়ম্ভু কোনো বিশ্বে।

নাস্তার ছোট ঘরটা থেকে বাগান দেখা যায়, সেখানেই ভারি রূপালি জগে কফি আর দুধ নিয়ে আসা হলো জুলিয়ার জন্য। জগের ধারে নিজের বাঁকাচোরা প্রতিবিম্বকে কাঁপতে দেখল সে। তেরছা চোখে অন্য অতিথিদের নিরীক্ষণ করল দুজন। বুড়োমতো হালকা পাতলা এক ভদ্রলোককে দেখা গেল, বলিরেখায় ভর্তি বাদামি মুখ, পরনে নীল স্যুট। সঙ্গে অল্পবয়সী একটা ছেলে, নিষ্পাপ ভালোমানুষি চেহারা। মাথাভর্তি কালো চুল পরিপাটি আর টানটান করে উল্টোদিকে আঁচড়ানো। নিজেদের মধ্যে কথা বলছে তারা, ইংরেজি উচ্চারণে আঞ্চলিকতার ছাপ স্পষ্ট। স্থূলদেহী এক মাঝবয়সী দম্পতি জানালার পাশে বসা, চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে। একটা পরিবারকেও দেখা গেল, বাবা-মা এবং দুটো বাচ্চা-চুলগুলো চকচক করছে। একজন আরেকজনের দিকে এবং বাদবাকি সবার দিকে তাকিয়ে কেবল হেসেই যাচ্ছে বাচ্চাদুটো।

‘বড্ড বেশি নোনতা ছিল খাবার,’ মন্তব্য করল শার্লট।

‘হতে পারে,’ জুলিয়া বলল। ‘ঠিক জানি না।’

‘নোনতা। প্রচুর লবণ দিয়েছে।’

‘তোমার কী মনে হয়,’ জুলিয়া শুধাল, ‘ঐ লোক আর তার নাতি ইংরেজিতে কথা বলছে কেন, কেউই তো ইংরেজ না।’

ওদের দিকে এক ঝলক তাকিয়ে কাঁধ ঝাঁকাল শার্লট।

‘হয়ত ছেলেটা বুড়োর নাতি না,’ বলল সে।

‘আর কী হবে এছাড়া?’

‘আচ্ছা খুব বেশি লবণ খেলে কী ঘটতে পারে বলো তো?’

জুলিয়া লক্ষ করল শার্লট তার চুলগুলো কানের পাশে থোকা করে বেঁধেছে, ফলে বোতলের ছিপির মতো মাথা থেকে বেরিয়ে আছে ওগুলো। পাতলা রূপার চেইনে বসানো নীলকান্তমণির ছোট্ট একটা রিং পরেছে গলায়। হাতে ধাতুর ভারি একটা বালা, জুলিয়া আর ডেভিডের দেয়া ঘড়িটার সঙ্গে বারবার ঘষা খাচ্ছে। বড়, অভিব্যক্তিহীন দুই চোখে গাঢ় নীল মাশকারা লাগানো। লবণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্বন্ধে উদ্বেগ যেন তার মনের বন্ধ দেয়ালে বারবার ধাক্কা খাচ্ছে আর ঝনাৎকার তুলছে।

এবং তখনই নতুন একটা উপলব্ধি ভর করল জুলিয়ার মনে। মনে হলো, অমিল খোঁজা আর বড় হয়ে ওঠার এই খেলায় কেবলই দূরে সরে যাওয়া মানুষটি শার্লট নয়, সে নিজেই। ফেলে দেয়ার, ছেড়ে চলে যাওয়ার অপরাধে সে নিজেই অপরাধী। বোতলের ছিপি, মাশকারা এবং শার্লটের শরীরের মধ্যভাগের ব্যাপারে-যেটিকে শার্লট সবসময় উন্মুক্ত রাখতে চায়-যে কারণে ঐ কোমল, একান্ত ব্যক্তিগত মাংসপিণ্ডটুকু এক ধরনের অনামী আর ‘গণ’ চরিত্র পেয়ে গেছে। আসলে অসন্তুষ্ট জুলিয়াই, নিজের কর্তব্যের তালিকায় নতুন এবং অপ্রত্যাশিত এই সংযোজনের কারণে। কীভাবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে সে ব্যাপারে সন্তানদের শেখানোর জন্য কত কিছু শিখতে হয়েছে তাকে। সে তালিকা বাড়তে বাড়তে এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যে নিজের শেখাই বাধার মুখে পড়ছে। সে কে-এ প্রশ্নটাও পড়ে আছে উত্তরহীন, অবহেলিত। অন্য মেয়েরা সমস্যাটাকে কীভাবে সামাল দিয়েছে তার বহু উদাহরণ তার নিজেরই দেখা, এবং সে উদাহরণের কোনোটিই তাকে স্বস্তি দিল না এ মুহূর্তে।

‘মনে হয় না বেশি লবণ তোমার জন্য ভালো হবে,’ বলল সে। ‘তবে আমার নিজেকে খুব নির্ভার লাগছে। তোমার লাগছে না?’

গুরুত্ব দিয়ে কথাটিকে বিবেচনা করল শার্লট। ব্যাপারটা ভাল লাগল জুলিয়ার। ‘হতে পারে,’ মাথা ঝাঁকাল শার্লট।

হোটেলের কাছেই সুবিধাজনক দূরত্বে বিশাল একটা আর্ট গ্যালারিতে গেল তারা। ইতালীয় চিত্রকলার মাহাত্ম্য বোঝাতে শার্লটকে যাই বলল নিজের কানেই কমজোরি আর মুখস্থবিদ্যা মনে হলো জুলিয়ার। চিত্রকলা পড়ার জন্য ফ্লোরেন্সে কাটিয়েছিল কিছুদিন, এবং দীর্ঘ আর নিস্তেজ সেই শিরার মধ্যে মৃদু একটা স্পন্দনের মতো এখনও টের পায় সে। পরিবারের সবাই বিনা তর্কে মানে যে শিল্প কেবল তার আগ্রহের বিষয়ই নয়, ভীষণ গুরুত্বপূর্ণও তার কাছে। এ কারণেই, সন্তানদের কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফুটতে থাকা সত্তার মধ্যে আরো কী কী অনায়াসে অন্তর্ভুক্ত করতে পারত সেটাও উপলব্ধি করল সে।

গ্যালারিতে জড়ো হওয়া মানুষের সংখ্যা একেবারে কম না হলেও পর্যটন মৌসুমে যা তার ধারেকাছেও না। বেলিনির কাজ এবং জর্জিওনির তিনটি ছবি দেখার পর এমন দুটো কক্ষে গেল তারা যেখানে আছে টিনটরেটো আর ভেরোনিজের ছবি।

‘খামোখা ঘুরঘুর করছি না কিন্তু আমরা,’ জুলিয়া বলল। ‘বেছে বেছে আসল জায়গাগুলোতে যাচ্ছি।’

এমন গোটা দেয়ালও পেরিয়ে যাচ্ছিল তারা যেদিকে ফিরেও তাকাচ্ছিল না জুলিয়া। ‘সবগুলোই কি দেখা উচিত না?’ শার্লট শুধাল।

সম্ভব না, জুলিয়ার ইচ্ছে হচ্ছিল বলে। বলতে পারল না অবশ্য। স্রেফ কৌতূহল মেটানো বা ভাবনাচিন্তার পেছনে নষ্ট করার মতো সময় এখন আর নেই। গাছের উপমা যদি দেয়া যায়, একটা অংশের সঙ্গে আরেকটাকে জুড়ে দেয় যে কোষ কিংবা ডালপালা-এসব দেখে কাটানোর মতো সময় নেই। জীবনের ঐ দিকটা সম্বন্ধে অনেক কিছু জেনে বসে আছে সে। এখন সন্ধানে আছে কেবল বড় ফুলের, কেবল সোনার। তার মানে এই নয় যে সে সংকীর্ণমনা বা অনুভূতিশূন্য। আসলে প্রবল এক নিঃসঙ্গতা, এক হৃদয়হীনতা ডানা মেলেছে তার মনের মধ্যে। কেবলই অন্যের চাহিদা পূরণের তাড়নায় ধূসর থেকে ধূসর হয়ে যাওয়া একটি প্রান্তর এখন তার মন, আর এ প্রান্তরে টিকে থাকার দারুণ এক শিক্ষা আয়ত্ত করেছে সে। আগ্নেয়গিরির লাভায় ঢেকে থাকা একটি মাঠের মতো এটি, যেখানে আবেগ আসে উষ্ণ, তীব্র অনুভবের বিশাল বিস্ফোরণের মতো। তাই মনে হয় বটে কখনো কখনো। এবং রাজকীয় একটা অনুভূতি জাগে তখন, যদিও মানুষ যা যা করতে পারে তার একটিমাত্র স্তর ছাড়া বাকি সবগুলোকেই অবজ্ঞা করার ইচ্ছেও জাগে মনে।

কার্পাচ্চিওর একটি প্রদর্শনী চলছিল। ‘ইল সঙ্গো ডি অরসোলা’ নামে একটা পেইন্টিংয়ের ব্যাপারে আগ্রহী দেখা গেল শার্লটকে। আর জুলিয়ার মনোযোগ কাড়ল মেরির জীবনীভিত্তিক একটা সিরিজ। ছবিতে একটা কক্ষ দেখা যাচ্ছে, গৃহস্থালি কাজে মগ্ন কয়েকজন নারী। সদ্যোজাত একটি বাচ্চা, মেরি। তার মাকে দেখা গেল বিছানায় শুয়ে থাকতে। কনুইয়ে ভর দিয়ে এমন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে যে দৃষ্টি জুলিয়ার ভীষণ চেনা। নিজের শরীর ছেড়ে চলে গিয়ে আমূল বদলে গিয়ে ফের সেই শরীরের কাছে ফিরে এলে এমন দৃষ্টি হয়। শার্লটের আগ্রহের ছবিটাও খুব সুন্দর। সেইন্ট উরসুলার চুলগুলো হলুদ। স্থির আর নির্জীব হয়ে শুয়ে আছেন সাদা, পরিপাটি এক বিছানায়। একটা ঘরের কাছে মানুষ যা যা চাইতে পারে সব আছে ঘরটাতে। তরুণ, সুদর্শন এক দেবদূত তাকিয়ে আছে সেইন্ট উরসুলার ঘুমন্ত মুখের দিকে। পরে উপহারের দোকান থেকে ঐ দেবদূতের ছবিওয়ালা একটা বুকমার্ক কিনল শার্লট।

নিটোল গোলাপি সূর্যালোকে শহরের গোলকধাঁধাঁর মধ্যে হেঁটে বেড়াল তারা। ঘুরে ঘুরে দেখল খাল আর সেতুর সৌন্দর্য, অপ্রত্যাশিত ময়দান, নিরিবিলি গলি, লুকানো গির্জা এবং নজরদারির মধ্যে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাওয়া আর আত্মজ্ঞানের আবহ। শার্লটের জামার হাতা আঁকড়ে ধরলে ওটাকে আগের চেয়ে কম পিচ্ছিল মনে হচ্ছে, খেয়াল করল জুলিয়া। ফলে ক্রমশ উষ্ণ হতে থাকল তাদের কথোপকথন এবং একসময় ফিরে গেল পুরনো মেজাজে। কিছুক্ষণ ধরে কদর্যতার যে অনুভূতি জুলিয়ার মনের মধ্যে পাক খেয়ে উঠছিল এ সৌন্দর্য সেটাকে ঠেলে সরিয়ে দিল এবং তার অনুভূতিকে এমনভাবে পাল্টে দিতে লাগল যে দোকানের ছোট আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবির মধ্যেও সম্ভাবনা এবং এমনকি প্রহেলিকার আভাস পেল জুলিয়া।

সন্ধ্যায়, রেস্তোরাঁ থেকে হোটেলে ফিরে ফিটফাট সেই বুড়ো আর ছেলেটার সঙ্গে সিঁড়িতে দেখা হলো তাদের। ভদ্র চেহারা করে পিছিয়ে গেল বুড়োটা, মাথা নুইয়ে বলল, ‘বুয়োনা সেরা’ (শুভসন্ধ্যা)। আর ছেলেটা এমনভাবে হাসল যেন খুব খুশি হয়েছে।

সকালবেলা নাস্তার সময় আবার নতুন মুখ। এক ইংরেজ, বিশের ঘরে বয়স, দোকান থেকে কেনা পদ্মফুলের মতো লম্বা আর মোটাতাজা। ফ্যাশনদুরস্ত কালো ফ্রেমের চশমা চোখে, বাসন্তীকুসুম ফুলের মতো হলুদ কর্ডুরয় ট্রাউজার পরনে। তার সঙ্গী, টুইড স্যুট পরা টেকোমাথা এক বুড়োর জন্য এটা ওটা তুলে নিচ্ছে কাউকে পাত্তা না দেয়ার ভঙ্গিতে। কালকের সেই হাস্যমুখ পরিবারটি জুলিয়া আর শার্লটের দিকে তাকাল পুরনো পরিচয় ঝালাই করে নেয়ার ভঙ্গিতে।

শার্লট জানাল কাল রাতেও বেশ ক’বার বিছানা ছেড়েছে পানি খাওয়ার জন্য। নিজের বিছানার পাশে জলভরা একটা বোতল রেখেছিল জুলিয়া, রাতভর খেয়ে শেষ করেছে ওটা।

‘ভাগ্য ভালো তোমার,’ শার্লট বলল, ‘আমাকে বারবার উঠতে হয়েছে।’

‘চাইলে বোতলটা রাখতে পার তুমি আজ।’

‘কম-সে-কম ছয়বার উঠেছি আমি।’

‘আমি ভরে রাখব তোমার জন্য। শোয়ার সময় সঙ্গে রেখ।’

আজকের গোটা দিনটা টিনটেরেটোর জন্য রাখা যায়, জানাল জুলিয়া। গোটা জীবন ভেনিসে কাটিয়েছেন টিনটরেটো, শহরময় ছড়িয়ে আছে তার কাজ। স্কুয়োলা ডি সান রোক্কোতে বিশাল এক কক্ষের দেয়াল ও ছাদের পুরোটায় যিশুর জীবন নিয়ে ছবি এঁকেছেন। শার্লটের মাথা নোয়ানো, বড় বড় হয়ে উঠতে দেখা গেল তার চোখগুলোকে।

‘দেখতে চাও না তুমি?’ জুলিয়া শুধাল।

নীরবতা।

‘কাল গোটা দিন ছবি দেখে কাটিয়েছি,’ শেষমেষ বলল শার্লট। ‘ভেবেছিলাম আজ অন্য কিছু করব।’

‘যেমন?’

‘জানি না। দোকানে যাওয়া বা এরকম কিছু।’

জুলিয়ার বন্ধুরা জুলিয়ার চেয়ে অনেক গভীরভাবে একটা জিনিস বিশ্বাস করে, সেটা হলো, দুনিয়াটা বিচ্ছিরি আর ভয়ঙ্কর একটা জায়গা যেখানে সন্তানদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এক ধরনের নৈতিক বা অন্তত আবেগগত সান্ত্বনার খোঁজ দিতে পারে। ‘বেচারা শার্লট’-ঐ বন্ধুরা হয়তো এখন হাসতে হাসতে বলত।

‘কেনাকাটার জন্য ভেনিসে আসিনি আমরা,’ জুলিয়া বলল।

বলার সময়ই উপলব্ধি করল, শার্লটকে লজ্জা দিতে চেয়েছিল সে এবং শার্লট লজ্জা পায়নি।

‘আর সব কিছুর মতো দোকানগুলোও ভেনিসের অংশ।’

‘পাঁচশো বছর ধরে যেসব জিনিস এখানে আছে সেগুলোর মতোই?’

‘অবশ্যই!’ বেপরোয়া ভঙ্গিতে মাথাটা পেছনে হেলিয়ে বলল শার্লট। ‘পুরনো হলেই বা কোনো একটা লোক এঁকেছে বলেই কোনো এমনি এমনি ভালো হয়ে যায় না কিছু।’

টিনটরেটোর ‘নিষ্পাপ মানুষদের হত্যা’ছবিটার কথা যদি ওঠে, জুলিয়া তার বিশ্বাসে অনড় যে বরাবরই ভয়ঙ্কর আর বিপজ্জনক জায়গা এই পৃথিবী। ভবনটা অন্ধকারাচ্ছন্ন, সমাধিক্ষেত্রের মতো শীতল। পরিবেশটাও মনটাকে দমিয়ে দেয়ার মতো, ছবিগুলোকে আবিষ্কারের মুহূর্তকে যা রোমাঞ্চকর করে তোলে। জীবনের উন্মত্ততা ফুটে আছে ছবিগুলোতে-দুটো তলার প্রতিটি দেয়াল আর ছাদ ঢেকে রেখেছে যা। কোট গায়ে জবুথবু ভঙ্গিতে একটা চেয়ারে বসে আছে শার্লট, তাকাচ্ছে না কোনোদিকে। তাড়াহুড়ো করল না জুলিয়া। আত্মসন্তুষ্টিতে ভরা এক ধরনের উচ্ছ্বাস এবং অদ্ভুত এক উদারতা ও আগ্রহ অনুভব করছে-যেন কোনো উপলক্ষ্যে খাইয়ে মোটাতাজা করা হচ্ছে তাকে। কোন উপলক্ষ্যে?

টিনটরেটোর ছবির নারীরা এত বিশাল যেন নিজেদের জমে বরফ হয়ে যাওয়া জ্ঞান তাদের অসমর্থ করে রেখেছে শারীরিকভাবে। তাদের হৃষ্টপুষ্ট কাঁধগুলো তেরছাভাবে এঁকেছেন টিনটরেটো-মাথাগুলো হেলে আছে একপাশে, যেন চিরন্তন কোনো আহ্বানে সাড়া দিয়ে যাচ্ছে তারা। জুলিয়ার নিজের বুকের মধ্যেও মাথাচাড়া দিয়ে উঠল সাড়া দেয়ার একটা ভঙ্গিমা। মৃত শিশুদের ছিন্নভিন্ন অবয়ব, ছোট ছোট পা, গোলাকার নিস্তেজ বাহু, কোঁকড়ানো নরম চুলের দিকে তাকাল সে। নিজের বাচ্চাদের জন্য ভালোবাসার শেষ নেই তার। ইদানিং মাঝেমধ্যে মনে হয়, এ ভালোবাসা বিরাট কোনো খরচের মতো যার কিস্তির পর কিস্তি এখনও মিটিয়ে যাচ্ছে সে। এ যেন একটামাত্র অপব্যয়, যা ঘটেছিল দূর অতীতে। ব্যাপার হচ্ছে, শুরুতে কল্পনাও করেনি নিজের আন্তরিকতাকে কত দূর টেনে নিতে হবে। দিনের পর দিন ধরে চলা কোনো একাঙ্কিকার অভিনেত্রী যেন সে, প্রতি রাতে যাকে একই অভিনয়ের পুনরাবৃত্তি করতে হয় এবং অভিনয়শেষে যেতে হয় একই ক্লান্তির মধ্য দিয়ে। এ পুনরাবৃত্তি যে নিরন্তর চাপের মধ্যে তাকে ফেলেছে সেটাই সবচেয়ে হতবুদ্ধিকর। শিশুদের খণ্ডিত মাথা, হাত আর পায়ের প্রতি সমানুভূতির যে বিষন্ন আর তরল একটা তরঙ্গ নিজের মধ্যে অনুভব করল, সেটাকেই মনে হলো নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন।

যদি অন্যভাবে দেখে, তর্কে কখনো কখনো তাকে কাঁদিয়ে ছাড়ে ডেভিড এবং পানিঘটিত প্রাচীন কোনো দুর্ঘটনার মতো হয়ে দাঁড়ায় তখন ব্যাপারটা। বিশাল কোনো পুরনো বাড়ির গর্ভগৃহে যেমন ঘটে। পানির কল খোলার পর দীর্ঘ, গুড়গুড়ে, বিপর্যয়কর বিরতির একটা সময় কাটে, যেটি শেষ হলেই সক্ষোভে বেরিয়ে আসে খয়েরি পানির তীব্র সব ফোঁটা।

রিয়াল্টোর ধারে একটা দোকান থেকে মেয়েকে বেগুনি কাচের একটা ডলফিন কিনে দিল সে, ডলফিনটা নাকি শার্লটকে মন্ত্রমুগ্ধ করে ফেলেছিল। ব্যস্ত রাস্তায়, বিশাল, বিবর্ণ, ঠান্ডা খালের ধারে সন্ধ্যার গোলাপি-নীল আভায় ভেপোরেট্টিগুলো যেখানে দুধের গায়ে দাগ ফেলার মতো পানিতে আঁকিবুকি কাটছে, মা-মেয়ের মতবিরোধ জমাট বেঁধে নীরব ও সান্ত্বনাদায়ক এক আলাপচারিতায় রূপ নিয়েছে। যেন অপ্রীতিকর কিন্তু দরকারি কোনো শল্যচিকিৎসার পর ধীরে ধীরে সেরে উঠছে দুজন। জুলিয়ার ধারণা ছিল শার্লটের রুচি আর পছন্দের তালিকাটি আরেকটু বিস্তৃত হবে। তার ডলফিনটা পছন্দ করাটা অনেকটা যেন মায়ের সহানুভূতি পাবার চেষ্টা বা নিজের প্রত্যাশার একটা বিবৃতি। সামান্য একটা বেগুনি ডলফিনে যার আকাঙ্ক্ষা সীমাবদ্ধ তাকে কীভাবে কিছুর জন্য দায়ী করা যায়? তাকে চকলেটের একটা ব্যাগ আর সেন্ট মার্ক’স চত্বরের ছবিওয়ালা স্প্যানিশ পাখা কিনে দিল জুলিয়া। গলির ভেতর ছোট একটা ঘিঞ্জি দোকানে রঙচঙে ভেনিসীয় মুখোশ নেড়েচেড়ে ঘণ্টাখানেক কাটাল দুজন। বাইরে শহরটাকে এমনভাবে ঢেকে ফেলছে অন্ধকার যেন কোনো কুয়ার তলদেশে অবস্থান এর। দোকানের ভেতরটা গরম, ধুলোমলিন, আলোকোজ্জ্বেল। কাঠ আর রঙের গন্ধ নাকে এসে ধাক্কা মারছে। কাউন্টারের পেছনের অল্পবয়সী ইতালীয় মহিলাটি জানাল, কেবল কার্নিভালের সময় নয়, রহস্য করার জন্য হামেশাই মুখোশ পরত ভেনিসের মেয়েরা। নিজের মুখের সামনে একটা মুখোশ ধরল শার্লট। মুখোশের চোখের জায়গায় গোলাপি পালকের কাজ আর চুমকির ঢেউ খেলানো নকশা।

‘কেমন দেখাচ্ছে?’ জিজ্ঞেস করল সে। ঘুরে দাঁড়িয়ে আয়নায় নিরীক্ষণ করল নিজেকে। জুলিয়া লক্ষ করল, ভেনিসের মেয়েরা মুখোশের আড়ালে নিজেদের লুকাতে চাইত কেন জানতে চাইল না সে। সে জানে, নাকি ভাবছে যে জানে? মনে মনে ভাবল জুলিয়া।

হঠাৎ আকাঙ্ক্ষার একটা আলো জ্বলতে দেখল সে শার্লটের চেহারায়। কিছু দেখা বা জানার জন্য এ আকাঙ্ক্ষা নয়, নেয়ার জন্য। তার তারুণ্যের সহজাত প্রবৃত্তির মনোরম, পালকসদৃশ অনুমান জীবন যেখানে আছে বলে জানিয়েছে সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

‘খুবই রহস্যময়!’ হাসতে হাসতে বলল মহিলাটি, যেন শার্লট তার দোকানে এইমাত্র যা করল অন্যরাও সেটি করলে বিন্দুমাত্র বিচলিত হবার কিছু নেই।

‘পালকের সেই উদ্ভট এবং নির্মম মুখোশ লাগিয়েই মায়ের দিকে ফিরল শার্লট। ‘এটা নিতে পারি আমি?’

‘মনে হয় না,’ হাসিটা মুখে ধরে রেখেই দোকানি মহিলার দিকে তাকিয়ে চোখ ঘোরানোর ভঙ্গি করল জুলিয়া।

কেন?’

‘কারণ আমার মনে হয় না এটা পরবে তুমি।’

‘পরব!’

‘এবং যেহেতু এরই মধ্যে অনেক বেশি জিনিস কেনা হয়ে গেছে,’ ফের চোখ ঘোরাল জুলিয়া।

আয়নার দিকে ফিরে নিজেকে আবার খুটিয়ে খুটিয়ে দেখল শার্লট।

‘তাহলে আমার পয়সায় কিনব এটা,’ আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে বলল শার্লট।

কোটের বোতামগুলো গলা পর্যন্ত আটকাল জুলিয়া, তারপর দরজার কাছে সাজিয়ে রাখা মুখোশগুলোর দিকে তাকাল। ‘এসো সোনা,’ বলল সে। ‘দেরি হয়ে গেছে। সিনোরা দোকান বন্ধ করবেন।’

মহিলা উপরের দিকে তাকিয়ে চোখ গোল করে একটা ভঙ্গি করল। ভাবখানা, এরকম কিছু চাওয়ার ক্ষমতা তার নেই।

‘বললাম তো নিজের পয়সায় কিনব। তুমি দামটা দিয়ে দাও। আমি শোধ করে দেব পরে।’

‘পয়সা নেই আমার কাছে,’ গলায় আন্তরিকতা ফোটাল জুলিয়া।

আছে!’

‘নেই। খরচ করে ফেলেছি সব।’

‘রাতের খাবারের জন্যও পয়সা নেই?’ মুখোশের পেছনে শার্লটের গলা রীতিমতো উদ্ধত।

খানিকক্ষণের নীরবতা।

‘চলো বাইরে গিয়ে কথা বলি এ ব্যাপারে,’ অর্থবোধক গলায় বলল জুলিয়া। ‘চাইলে কাল আসতে পারব আমরা, তাই না?’

‘কাল না,’ মহিলাটা বলল। ‘কাল দোকান বন্ধ।’

‘দেখলে? দোকান বন্ধ কাল। কিনলে এখনই কিনতে হবে।’

একে অন্যের দিকে তাকাল তিনজন।

‘শার্লট,’ জুলিয়া বলল। ‘আমি যাচ্ছি।’

দরজার পিতলের হাতলে হাত রাখল সে। দোকানি মহিলাটি ঘুরে দাঁড়িয়ে কাউন্টারের পেছনে কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। দরজা খুলল জুলিয়া, এক ঝলক ঠান্ডা বাতাসকে ভেতরে ঢুকতে দিল। কিন্তু তার পিছু নেয়ার কোনো তাড়না দেখা গেল না শার্লটের মধ্যে। দোকানে বাতাস যাতে না ঢোকে এবং মেয়ের ওপর রাগ - দুটো বিবেচনা থেকেই দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে এল জুলিয়া। অন্ধকারাচ্ছন্ন ছোট পাথুরে গলিতে দাঁড়িয়ে দোকানের আলো ঝলমল জানালার ফুটে ওঠা চিত্রপটের দিকে তাকাল, যেখানে তার মেয়ে ও দোকানিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল মঞ্চে দাঁড়ানো দুই অভিনেতার মতো। মুখোশ ধরা হাতটাকে ধীরে ধীরে শরীরের একপাশে ছেড়ে দিল শার্লট। মনমরা চেহারা করে তাকের মধ্যে রেখে দিল মুখোশটা। মহিলাটি এখন বুকে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে, তেরছাভাবে তাকিয়ে আছে জানালা দিয়ে বাইরের কিছু একটার দিকে। শার্লট তার পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় হালকা করে মাথা ঝাঁকাল। ‘আরিভেদেচ্চি (বিদায়),’ জানালার কাচের ভেতর দিয়ে তার গলা শুনল জুলিয়া।

‘দুঃখিত,’ শার্লট বেরিয়ে আসতে বলল জুলিয়া, যদিও মোটেই দুঃখবোধ বোধ করছিল না সে।

‘একা থাকতে দাও আমাকে, ঠিক আছে?’ দু-হাত ভাঁজ করে মায়ের আগে হেঁটে যেতে যেতে বলল শার্লট।

পরে ঠিকই খারাপ লাগলো জুলিয়ার। অনুভব করল, সেই তত্ত্বটা মেনে নিচ্ছে সে যেখানে পৃথিবী সত্যিই ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক একটা জায়গা, যার নানাবিধ সংশয়ের ঘেরাটোপের মধ্যে মেয়ের সৌন্দর্যবিষয়ক অস্পষ্ট ধারণাগুলোকে পিষে মারতে চেয়েছিল সে। সবার কি উচিত নয় স্রেফ একে অন্যকে আঁকড়ে ধরে রাখা আর যতটা পারে দয়া দেখানো? ভেপোরেট্টোতে মনমরা হয়ে তার পাশে বসে ছিল শার্লট আর একটু পর পর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছিল। উল্টোদিকে বসা একটা মেয়েকে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখল জুলিয়া, ভ্রু কুঁচকে নিরীক্ষণ করছে তাদের। উলের ধোপদুরস্ত সাদা কোট আর উঁচু হিলের বুটজুতো পরেছে মেয়েটা। বয়সে জুলিয়া আর শার্লটের মাঝামাঝি হবে। যেন তাকে অন্তর্ভুক্ত করলেই তিনজন মিলে একটা ‘সেট’হবে আর সে কারণেই এমন নিবিষ্ট চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে সে। বড় বড়, স্বচ্ছ চোখ তার। চকচকে পুরুষ্ট দুই ঠোঁট স্থির হয়ে আছে। তাকিয়ে থাকা যত দীর্ঘ হলো মেয়েটার বিমূঢ় ভাবটা ততই উপলব্ধি করতে পারল জুলিয়া। দৃষ্টি বলছে, জুলিয়া আর শার্লটকে ভীষণরকমের বাজে লাগছে তার। কুয়াশার ভারি, বিবর্ণ একটা চাদর হঠাৎ নেমে এসেছে খালের ওপর। ভেপোরেট্টোর জানালা দিয়ে ঘাঁটে বাধা গনডোলার পাখির ঠোঁটের মতো মাথাগুলোকে ওঠানামা করতে দেখা গেল আবছা আলোতে। ভেতরের যে তোলপাড় সেটাও বিরক্তিকর, খানিকটা পাগলাটেও-তাদের ভেতরের ওঠানামা।

সাদা বাতাস চারদিক থেকে চেপে আসছে।

‘আমরা আজ কী করব তুমি বেছে নিতে পার,’ পরদিন সকালে ভেনিসে তাদের শেষ নাস্তার সময় বলল জুলিয়া। বিমান বিকেল পাঁচটার আগে ছাড়ছে না। যা খুশি তাই করতে পারব এসময়টাতে।’

‘ঠিক আছে,’ শার্লট বলল। খুব বেশি বিস্মিত মনে হচ্ছে না তাকে। সোজা হয়ে বসল চেয়ারে। কী বেছে নেয়া যায়-এমন একটা দৃষ্টিতে তাকাল চারদিকে।

‘এত বেশি পানি খেয়েছি যে মনে হচ্ছে আত্মাটাকে ধুয়ে বের করে দিয়েছি,’ যোগ করল জুলিয়া।

‘সেটা কি ভালো কিছু?’ শার্লট শুধাল।

বড়রা যেখানে শেষ করে সেখান থেকেই শুরু করে বাচ্চারা এবং এটাই সবচেয়ে ভালো লাগে জুলিয়ার। ঠিক যেভাবে রিলে দৌড়ের সময় ব্যাটনের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয় দৌড়বিদেরা। ব্যাটন হাতে নেয়-ব্যাটনটা এমন কিছু যা চূড়ান্ত এবং সহজ করার উপায় নেই যাকে; সম্ভব নয় পরখ করা কিংবা বোঝাও। তারপর টিঙটিঙে পায়ে দৌড়াতে থাকে-আমাদের ব্যর্থতা, সন্তুষ্টি বা ক্লান্তিহীন টানাপড়েনের ভেতর থেকে। পেছনে পড়ে থাকি আমরা, হয়তো উন্মোচিত হওয়ার জন্য বা ফের নিজের ঠাঁই ফিরে পাবার জন্য।

‘তাইতো মনে হয় আমার,’ মেয়ের প্রশ্নের জবাবে বলল জুলিয়া।

টিনটরেটোর বাড়ির কাছে একটা গির্জায় একটা ছবি দেখল তারা। শিশু মেরিকে মন্দিরে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ছোট, সোনালিরঙা একটা শিশু, একটা মেয়ে। বিশাল, প্যাঁচানো পাথুরে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাচ্ছে আলোকরশ্মিতে ভেসে। এখানেও দেখা যাচ্ছে বিশালদেহী পাকানো শরীরের সেই নারীদের-কেউ সিঁড়িতে বসা আর কেউ দাঁড়ানো-তাদের পার হয়েই এগোচ্ছে সে। সিঁড়ির মাথায় অপেক্ষা করছেন দীর্ঘদেহী একজন মানুষ-মুখে দাড়ি, পরনে পাদ্রির পোশাক। ভীতি জাগানিয়া চেহারা তার, বিচারকের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি চোখে। পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় তার দিকে তাকাচ্ছে মহিলারা। দৃষ্টিতে প্রশংসা, আবার খানিকটা ভয়ও, তার জন্য। কিছু একটা দেখছে তারা, নতুন কিছু।

----------







লেখক পরিচিতি
রেচেল কাস্কের জন্ম ১৯৬৭ সালে, কানাডায়। জীবনের বেশ কিছু সময় তিনি আমেরিকার লস এঞ্জেলসে কাটান। এরপর ১৯৭৪ সালে তিনি বৃটেনে থিতু হন। এখন পর্যন্ত তিনি দশটি উপন্যাস লিখেছেন। চারটি প্রবন্ধের বইও আছে তাঁর। তাঁর আখ্যান একই সঙ্গে মেঘাবী এবং হৃদয়েরগভীরে স্পর্শকারী।





অনুবাদক পরিচিত:
মোস্তাক শরীফ।
গল্পকার। অনুবাদক।
ঢাকা-বাংলাদেশে থাকেন।




                                 




                                                                                       

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন