রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০

রোয়াল্ড ডালে'র গল্প: কালকূট



অনুবাদ: মনিজা রহমান

প্রায় মধ্যরাতের দিকে আমি বাড়ি ফিরলাম। ড্রাইভ ওয়েতে এসে খেয়াল করলাম হ্যারির ঘরে তখনো আলো জ্বলছে। তার মানে সে জেগে আছে। গাড়িটা পার্ক করে বারান্দা পেরিয়ে হ্যারির ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালাম। সন্তর্পণে দরজার খুলে ভেতরে তাকালাম। হ্যারি বিছানায় শুয়ে আছে। বুঝতে সমস্যা হলো না সে জেগেই আছে। কিন্তু হ্যারি নড়ল না। এমনকি আমার দিকে মাথা ঘুরিয়েও তাকাল না। তবে তাকে বলতে শুনলাম, ‘টিম্বার, টিম্বার, এদিকে এসো’।

হ্যারি আস্তে আস্তে কথা বলছিল। প্রতিটি কথা সাবধানে ফিসফিস করে বলছিল ও। ’থামো। একটু দাঁড়াও, টিম্বার।’

ও কি বলছিল ভালোভাবে শোনা যাচ্ছিল না। ‘ব্যাপারটা কি, হ্যারি?’

’চুপ! আস্তে কথা বলো।’, হ্যারি আবার ফিসফিস করে বলতে লাগল, ‘দোহাই, কোন আওয়াজ কোরো না। আমার কাছে আসার আগে তোমার জুতা খুলে নাও। আমি যা বলছি তাই করো, টিম্বার।’

জুতা খুলে ফেলার কারণটা ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। তবু নীচে গিয়ে জুতা খুলে মেঝের মাঝখানে রেখে দিলাম। তারপর আবার হ্যারির বিছানার কাছে ফিরে গেলাম।

’বিছানা ছুঁয়ো না! দোহাই লাগে, বিছানাটা স্পর্শ করার চেষ্টাও করো না!’ হ্যারি নীল, বাদামী ও সাদা ডোরা কাটা স্লিপিং স্যুট পরেছিল। প্রচণ্ড ঘামছিল ও। গরমের রাত বলে আমি নিজেও হালকা ঘামছিলাম। তবে হ্যারির মতো না। ঘামে ওর পুরো মুখ ভেজা ছিল। এমনকি ওর মাথার বালিশ ঘামে ভেজা দেখাচ্ছিল।

’ কি হয়েছে হ্যারি?’

’একটা কেউটে সাপ।’ ও বলল।

’কেউটে! হায় খোদা! তোমাকে কামড়েছে? কোথায় কামড়াল? কখন কামড়াল ? আমাদের এখনই কিছু করতে হবে। আমাকে বলো, ওটা তোমাকে কোথায় কামড় দিয়েছে?’

’নাহ্, এখনও কামড়ায়নি।’ হ্যারি ফিসফিস করে বলল, ‘এখনো না। কেউটেটা আমার পেটের ওপর শুয়ে আছে।’

’তুমি বলতে চাইছ তোমার পেটের ওপর একটা বিষধর সাপ শুয়ে আছে?’ আমি বললাম, ‘ওটা ওখানে গেল কিভাবে?’

’বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে বই পড়ছিলাম। হঠাৎ বুকের ওপর কিছু একটা অনুভব করলাম। টিকটিকির মতো নরম। তারপর চোখের কোনা দিয়ে দেখলাম, একটা ছোটখাট কেউটে আমার জামার ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। প্রায় দশ ইঞ্চি হবে সাপটা। বুঝতে পারছিলাম, এই অবস্থাতে কোনভাবে নড়াচড়া করা যাবেনা।’

হ্যারি একটু থেমে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, ‘ কেউটেটা এখনো আছে। প্রথমে আমার জামার ভিতরে ওটাকে অনুভব করতে পারছিলাম। তারপর এটা আমার পেটের ওপর হালকা নড়াচড়া শুরু করে। এক সময় নড়াচড়া বন্ধ করে দেয়। এখন সাপটা আমার শরীরের উষ্ণতায় চুপটি করে পড়ে আছে। সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।’

’ ব্যাপারটা কতক্ষণ আগে ঘটেছে?’

’অনেকক্ষণ।’ হ্যারি ফিসফিস করে বলল, ‘কয়েক ঘন্টা হবে। বলা যায় ভয়ংকর কয়েক ঘন্টা।’

হ্যারির গল্পের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ করার কিছু নাই। আর একটা কেউটে সাপের জন্যও বিষয়টা অসম্ভব কিছু না। উষ্ণ জায়গার খোঁজে তারা মানুষের ঘরের চারপাশে ‍ঘুরে বেড়ায়। অবাক করা ব্যাপার হলো কেউটেটা হ্যারিকে এখনও কামড়ায়নি।

’ঠিক আছে, হ্যারি’, আমি বললাম, ‘আর নড়ো না। প্রয়োজন না হলে কোন কথা বলো না।’ কথা শেষ করে ধীরে ধীরে মোজা পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলাম। তারপর রান্নাঘর থেকে ছোট্ট ধারালো একটা ছুরি নিয়ে এলাম। বলা তো যায় না, সাপটা যদি কামড়ে বসে। কামড়ানো জায়গা থেকে বিষ বের করার প্রস্তুতি হিসেবে ছুরিটা রাখা ।

’হ্যারি,’ আমি বললাম, ‘আমার মনে হয় প্রথম কাজ হল ওটা যেখানে আছে সে জায়গাটা দেখা।’

’বোকার মতো কথা বল না।’

’কেন, কি বললাম?’

’আলো দেখলে কেউটেটা ভয় পাবে। অন্ধকার বলে এখনও ওটা চুপচাপ আছে।’ হ্যারি বলল।‘ তারচে’ তুমি একজন ডাক্তার আনার ব্যবস্থা করছ না কেন!

’ঠিক বলেছ, এখনই একজন ডাক্তার দরকার! আমি গান্ডারবাইকে ডেকে নিয়ে আসছি।’

পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে সন্তর্পণে ঘর থেকে বেরিয়ে হলরুমে গিয়ে নোটবুক থেকে গান্ডারবাইরের নম্বর বের করলাম। তারপর ফোনটা তুলে অপারেটরকে বললাম তাড়াতাড়ি লাইনটা ধরে দিতে।

’হ্যালো, ড. গান্ডারবাই।’ আমি বললাম, ‘আমি টিম্বার উডস।’

’হ্যালো মি. উডস। এত রাতে! আপনি এখনও ঘুমাননি!’

’আপনি কি এখন একবার আসতে পারবেন? সাপের বিষ নিরাময়ের সিরাম আনবেন সাথে।’

’কাকে কামড়েছে?’

’কাউকে না। মানে এখনও কাউকে কামড়ায়নি। কিন্তু হ্যারি পোপের পেটের ওপর কেউটেটা শুয়ে আছে। ওর পেটের ওপর চাদরের নীচে ঘুমাচ্ছে ওটা ।’

‘মি. পোপকে এভাবে চুপচাপ শুয়ে থাকতে বলুন। নড়াচড়া করা কিংবা কারো সঙ্গে কথা বলা যাবে না। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, আমি কি বলছি? আমি এক্ষুনি আসছি।’

হ্যারির বেডরুমে ফিরে গেলাম। ওর বিছানার পাশ দিয়ে যাবার সময় দেখলাম, ওর চোখ আমাকে খুঁজছে।

’গান্ডারবাই আসছেন। তিনি তোমাকে চুপচাপ শুয়ে থাকতে বলেছেন।’

’কি যে বলো না! আমি এতক্ষণ ধরে তাহলে কি করছি!’

রুমাল বের করে ধীরে ধীরে হ্যারির মুখ আর ঘাড় থেকে ঘাম মুছে দিলাম। খেয়াল করলাম, গাড়ির হেড লাইটের আলোতে উজ্জ্বল হল জানালা। গান্ডারবাইয়ের গাড়ি বাংলোর সামনে এসে থামল। ওর সঙ্গে দেখা করতে এগিয়ে গেলাম।

’কি অবস্হা তার এখন?’ গান্ডারবাই জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তিনি কোথায়? কোন রুমে?’

গান্ডারবাই আমাকে অনুসরণ করে হ্যারির রুমে ঢুকলেন। লোকটা পায়ে নরম বেডরুমের চপ্পল পরেছিলেন। সাবধানে বেড়ালের মতো মেঝে পার হলেন। হ্যারি তাকে চোখের কোনা দিয়ে দেখছিল।

’প্রথম কাজ হচ্ছে ওনার শরীরে সিরাম পুশ করা।’ গান্ডারবাই ব্যাগ খুলে তার প্রস্তুতি শুরু করলেন। ‘ আমাকে সবকিছু নিখুঁতভাবে করতে হবে।’

হ্যারির চোখ এখন উজ্জ্বল ও পুরোপুরি খোলা। হ্যারির হাত না নাড়িয়ে গান্ডারবাই ওর জামার হাতা কনুই পর্যন্ত গোটালেন। তারপর ফিসফিস করে বললেন, ‘আমি আপনাকে একটা ইনজেকশন দিতে যাচ্ছি। সিরাম। নড়াচড়া না করার চেষ্টা করবেন। পেটের পেশী শক্ত করা যাবেনা।’

হ্যারি সিরিঞ্জের দিকে তাকাল। তারপর ছাদের দিতে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে আবার চোখ খুলল। কিন্তু সে নড়ল না।

যখন ইঞ্জেকশন দেয়া শেষ হল, তখন গান্ডারবাই এগিয়ে গিয়ে ঝুঁকে হ্যারির কানের কাছে মুখ রেখে বললেন, ‘এখন আপনাকে সাপটা কামড়ালেও কিছু হবে না। আপনি কিন্তু নড়বেন না। আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসছি।’

গান্ডারবাই তার ব্যাগ তুলে হলঘরের দিকে পা বাড়ালেন। আমি তাকে অনুসরণ করলাম। ‘হ্যারি কি এখন নিরাপদ?’ তাকে জিজ্ঞাসা করলাম।

’না’। ছোটখাট গড়নের ভারতীয় ডাক্তার হলঘরে দাঁড়িয়ে দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়াচ্ছিলেন ।

’ইঞ্জেকশন অবশ্যই ওকে কিছুটা সুরক্ষা দেবে।, তাই না?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

’দুর্ভাগ্যবশত না।’ ডাক্তার উত্তর দিলেন। ‘এটা ওকে বাঁচাতে পারে। আবার নাও পারে। আমি অন্য কিছু করার চেষ্টা করছি।’

’আমরা কি এক ঝটকায় চাদরটা টেনে নিয়ে সাপটা কিছু করার আগেই ওটাকে ফেলে দিতে পারি না?’

’কখনই না। আমাদের ঝুঁকি নেবার অধিকার নেই। তাহলে আমাদের অবশ্যই সেই প্রাণীর ওপর অ্যানাস্থাশিয়া প্রয়োগ করতে হবে। এটা নিরাপদ নয়।’ গান্ডারবাই আরো বলতে লাগলেন, ‘কারণ সাপ হল খুব ঠান্ডা মাথার প্রাণী। আর এই ধরনের প্রাণীর ওপর অ্যানাস্থাশিয়া তেমন ভালো বা দ্রুত কাজ করেনা। তবে এটা অন্যান্য ক্ষেত্রে ভালো। আমরা ব্যবহার করতে পারি…ক্লোরোফর্ম… এটাই সবচেয়ে ভালো।’

’তাড়াতাড়ি কিছু একটা করেন।’

’আমার ব্যাগ থেকে ক্লোরোফর্মের বোতলটা বের করে নিন। বোতলের গায়ে কমলা রঙের একটা লেবেলের ওপর নাম লেখা আছে।’ নিশ্চিত হওয়ার জন্য গান্ডারবাই বললেন, ‘ আপনি ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছন তো?’

’পেরেছি, পেরেছি। আমি শুধু হ্যারিকে বলতে চাই আমরা কি করতে যাচ্ছি।’

গান্ডারবাই বেডরুমে ফিরে গেলেন। আমি দুই হাত দিয়ে ধরে বোতলটা সাবধানে নিয়ে গেলাম। হ্যারি আগের মতো একইভাবে বিছানায় শুয়ে আছে। আমি হ্যারির উদ্দেশ্যে ‘থাম্বস আপ’ দেখিয়ে বোঝালাম সব ঠিক আছে।

গান্ডারবাইকে দেখলাম একটা ফাঁকা রাবার টিউব হাতে। ছোট কাগজের ফানেল টিউবের এক প্রান্তে লাগানো আছে। হ্যারির বিছানার গদির তলা থেকে চাদর ধরে টানতে লাগলেন গান্ডারবাই। তারপর টিউবের অন্য প্রান্ত খোলা জায়গায় ঢুকিয়ে দিলেন। যাতে এটি বিছানার গদি বরাবর চাদরের নীচে হ্যারির শরীরের দিকে চলে যায়। কাজটা করতে গিয়ে গান্ডারবাই ঘেমে নেয়ে একাকার হলেন।

ওপরের দিকে না তাকিয়ে ক্লোরোফর্মের জন্য তিনি আমার দিকে হাত বাড়ালেন। তারপর আমাকে বললেন, ‘হ্যারিকে বলেন আমি বিছানার গদি ভিজিয়ে দেবো। এতে তার শরীরের নীচে খুব ঠান্ডা অনুভূতি হবে।’

আমি ঝুঁকে হ্যারিকে বিষয়টা জানালাম।

’ওহ খোদা! তুমি সর্বশক্তিমান, সহায় হও!’ প্রথমবারের মতো হ্যারি তাঁর কণ্ঠস্বর ওপরে তুলল। গান্ডারবাই ওর দিকে তীক্ষ্ণভাবে তাকালেন। তারপর নিজের কাজে মন দিলেন।

গান্ডারবাই কাগজের ফানেলে কয়েক ফোঁটা ক্লোরোফর্ম ঢেলে টিউবের ভিতর গড়িয়ে পড়ার অপেক্ষা করতে লাগলেন। তারপর আরো কয়েক ফোঁটা ঢেলে দিলেন। আমি দেখতে পেলাম ক্লোরোফর্মের ভারী বাস্প কাগজের ফানেলের ওপর ধোঁয়ার মতো ধীরে ধীরে ঘুরতে লাগল

গান্ডারবাই ঘুরে আমাকে ফিসফিস করে বললেন, ‘নিরাপত্তার জন্য আমরা ‌ওটাকে ১৫ মিনিট সময় দেবো।’

আমি ঝুঁকে হ্যারিকে বললাম, ‘আমরা ওটাকে ১৫ মিনিট সময় দিচ্ছি শুধু নিরাপদে থাকার জন্য।’ তারপর আমরা হ্যারির বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। ডাক্তার তার সমস্ত ইচ্ছাশক্তি নিয়োগ করেছিলেন হ্যারিকে চুপ করিয়ে রাখার জন্য।

ক্লোরোফর্মের গন্ধটা পীড়াদায়ক ছিল। গন্ধটা আমাকে রীতিমত অসুস্থ করে তুলছিল। গান্ডারবাই ঘুরে মাথা নেড়ে ইশারা করলেন। বুঝলাম যে তিনি এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। তিনি আমাকে বললেন, ‘আপনি বিছানার অন্য পাশে যান। আমরা দুজন চাদরের এক পাশ ধরে একসঙ্গে টেনে নামাবো। কাজটা করতে হবে ধীরে ধীরে আর খুব শান্তভাবে।’

ক্লোরোফর্মের গন্ধটা ভয়ানক ছিল। আমি নি:শ্বাস বন্ধ রাখার চেষ্টা করছিলাম। যখন আমি আর পারছিলাম না, তখন অগভীরভাবে শ্বাস নিলাম। যাতে ধোয়ার গন্ধ আমার ফুসফুসে ঢুকতে না পারে।

হ্যারির পুরো বুক এখন দৃশ্যমান। অথবা বলা যায় ডোরাকাটা স্লিপিংস্যুটের জামাটা ওর শরীরের ওপরের অংশ ঢেকে রেখেছিল সেটা এখন দেখা যাচ্ছে। তারপর দেখলাম, ওর শরীরের নীচের অংশে পায়জামার সাদা দড়িটা গিঁট দিয়ে বাঁধা। সাদা দড়ির ওপরে আমি একটা বোতাম দেখলাম। বোতাম ছাড়া তার পেটের উপর কিছুই দেখতে পেলাম না। আমি আর গান্ডারবাই তাড়াতাড়ি চাদরটা টেনে নিয়ে গেলাম। ধীরে ধীরে হ্যারির পা পর্যন্ত উন্মুক্ত করে দেবার পরে আমরা চাদরটা তার বিছানার নীচে মেঝেতে ফেলে দিলাম।

’নড়বেন না’। গান্ডারবাই বললেন, ‘নড়বেন না হ্যারি পোপ।’ ‘সাপটা যে কোন জায়গায় থাকতে পারে। ওটা আপনার পায়জামার পায়ের ওপরেও থাকতে পারে।’ যখন গান্ডারবাই কথা বলছিলেন, হ্যারি তাড়াতাড়ি বালিশ থেকে মাথা তুলে তার পায়ের দিকে তাকাল। এই প্রথম সে নড়ে উঠল। তারপর হঠাৎ করেই লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলল, ‘কেউটেটা এখানে নেই।’

গান্ডারবাই বিছানার গদির দিকে তাকালেন। তারপর হ্যারির দিকে তাকালেন। হ্যারি ঠিক আছে। বোঝাই যাচ্ছে কেউটে সাপ ওকে কামড়ায়নি। এখন আর কেউ ওকে কামড়াবে না….। সবকিছু ঠিক আছে। তবে কেন যেন সবাই অস্বস্তি বোধ করছিলাম।

’হ্যারি পোপ, আপনি কি নিশ্চিত যে সাপটাকে আপনি দেখেছিলেন? আপনার মনে হয় না ওটা আসলে স্বপ্ন ছিল, তাই না?’ গান্ডারবাই প্রশ্ন করলেন।

’আপনি কি বলতে চাইছেন যে আমি একজন মিথ্যাবাদী?’ হ্যারি চেঁচিয়ে বলল, ‘ আপনি একটা নোংরা হিন্দু, নর্দমার ইদুঁর!’

’চুপ কর হ্যারি।’ আমি বললাম।

’আপনি একটা নোংরা কালো---’। হ্যারি থামছিল না।

’হ্যারি!‘ আমি গান্ডারবাইকে ফোন করেছি আসার জন্য। ’তুমি কি চুপ করবে হ্যারি!’ হ্যারি যা বলছিল সেসব ভয়ানক অশোভন ছিল।

গান্ডারবাই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। আমি ওর পিছু নিলাম। বের হয়ে আমার হাত ওর কাঁধে রাখলাম। ‘ আপনি হ্যারির কথায় দয়া করে কিছু মনে করবেন না।’ আমি বললাম। ’ পুরো ঘটনাটা ওকে অসুস্থ করে ফেলেছে, তাই সে জানেনা কি বলছে।’

আমরা বারান্দা থেকে স‍িঁড়ি দিয়ে নেমে গান্ডারবাইয়ের পুরনো মরিস গাড়ির কাছে পৌঁছলাম। তিনি দরজা খুলে গাড়িতে বসার পরে আমি বললাম, ‘ আপনি অনেক বড় উপকার করলেন। আসার জন্য অনেক ধন্যবাদ।’

’ওর আসলে একটা দিন ছুটি দরকার।’ আমার দিকে না তাকিয়ে গান্ডারবাই শান্তভাবে কথাটা বললেন। তারপর গাড়ির ইঞ্জিন চালু করে দ্রুত বেরিয়ে গেলেন।

------------------------

মূল গল্প: ‘Poison’ by Roald Dahl



লেখক পরিচিতি: 
রোয়াল্ড ডাল
জন্ম ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯১৬ সাল ও মৃত্যু ২৩ নবেম্বর ১৯৯০। তিনি হলেন একজন ব্রিটিশ উপন্যাসিক, ছোট গল্পের লেখক, কবি, চিত্রনাট্যকার ও যুদ্ধকালীন যোদ্ধা পাইলট। তাঁর লেখা বই এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী দুইশত পঞ্চাশ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। ওয়েলসে জন্ম নেয়া ডালের পিতামাতা নরওয়ের অভিবাসী ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি এয়ার ফোর্সে দায়িত্ব পালন করেন। ডাল সব বয়সী পাঠকদের জন্য লিখেছেন। ১৯৪০ সালে লেখক হিসেবে তাঁর খ্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের লেখকদের একজন হয়ে ওঠেন। তাঁকে শিশুদের জন্য বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা গল্পকার বলা হয়। ২০০৮ সালে টাইমস ১৯৫৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত সর্বশ্রেষ্ঠ ৫০ জন ব্রিটিশ লেখকদের তালিকায় ডালকে ১৬ নম্বর স্থানে রাখে। তাঁর লেখা বই থেকে বিশ্বখ্যাত বহু সিনেমা হয়েছে।




অনুবাদক পরিচিতি
মনিজা রহমান। জন্ম বরিশালের পিরোজপুরে।
এখন নিউ ইয়র্কে থাকেন।
কবি। গল্পকার। অনুবাদক। সাংবাদিক। 
































































কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন