মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২১

বেগম জাহান আরা : গল্পের কাছে কী চাই



প্রথম কথা হলো, পাঠক হিসেবে লেখকের গল্পের কাছে আমরা আনন্দ চাই। চাই স্বস্তির বিনোদন। অবসরে মন ভালো রাখার আরাম চাই। জীবন সংগ্রামের ঝায় ঝামেলা জ্বালা যন্ত্রণা ক্লান্তি থেকে বেরিয়ে বিমল বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে চাই। যাতে নিজেকে উজ্জীবিত রাখতে পারি। গল্প সুখের বা সর্বজনীন দুঃখের হতে পারে, যার সাথে মানুষী জীবনের অন্তর্গত সহজাত যোগাযোগের সম্পর্ক। যে অনুভব সৃষ্টি করে অ-দেখা ভুবনের মানবিক সুখ দুঃখকে। গল্পের একক চরিত্রের মধ্য দিয়ে আমরা বহুকে দেখতে চাই। ক্ষনিকের জন্য হলেও যেনো আপনাকে ভুলে অন্যের সুখ দুঃখ ধারণ করতে পারার অনুভব চাই নিজের মধ্যে। চাই, গল্পের শিল্প শৈলী এবং বয়ানের উতকর্ষ যা আমাদেরকে হাসাবে, কাঁদাবে এবং ভাবাবেও। সবই মোটা দাগের দাবি। 

আসলে আমাদের জীবনের চারপাশে যে বর্ণিল প্রাণের হাট, তাকে দেখতে এবং বুঝতে চাই গল্পের মধ্যে। একটা জীবনের লক্ষ কোটি অলি গলিতে যে সুখ, আনন্দ, জটিলতা, কুটিলতা, উৎসুখ হয়ে থাকি তা দেখার জন্য। সে এক আজব কৌতূহল। একজন গল্প লেখক হিসেবে, একজন গল্পকারকে ঠিক সেই একই জিনিস তুলে দিতে হয় অন্যের পাতে। অন্যের কৌতূহল মেটাতে। এখানে সংক্ষেপ বলে কিছু নেই। নেই ফাঁকি বা আপোষের ব্যাপার। প্রয়োজনে দধীচির মতো আপন অস্থি জ্বালিয়ে আলো তৈরি করতে হয়। অস্থি জ্বালানো মানে মগ্নতা। সহস্র প্রতিকুলতাকে ডিঙিয়ে গভীর বোধের ধ্যান। যে ধ্যানে ঐশী কিছু একটা নেমে আসে। যখন সৃস্টি ছড়িয়ে যায় নিজের চারপাশ মাড়িয়ে ছাড়িয়ে, মাঠঘাট ডিঙিয়ে, মানচিত্রের সীমারেখা পেরিয়ে বিশ্বজনীনতার দিকহারা আকাশে। বিশ্ব সাহিত্যের কথা সাহিত্য তাই আমাদের আপনার হয়ে ধরা দেয় অতি সহজে। আমরা বন্দনা করি জীবন ঘনিষ্ঠ সেই সর্বজনীন গল্প কথাকে। শ্রদ্ধার শীর্ষে তুলে রাখি তেমন সৃজনশীল লেখককে। 

মূলত আমরা পাঠপুষ্ট হয়েছি দেশের সাহিত্য পড়েই। আমাদের যুবা বয়সে কারবালায় ইমাম হোসেনের হত্যাকাণ্ড পড়ে কিংবা দেবদাসের মৃত্যুদৃশ্যের বর্ণনা পড়ে কেঁদে আকুল হয়ে যেতাম। অল্প সল্প নয়, লম্বা কান্না। লাইলি মজনুর প্রেম কাহিনির দুঃখ আকুল করে রাখতো অনেক দিন। সে কি কাতরতা! মনে হতো, আমারই দুঃখের ঘটনা সব। বঙ্কিমচন্দ্রের কপালকুণ্ডলা নিদ্রা হরণ করেছে কতো রাতের, তার হিসেব দেয়া অসম্ভব। কেমন এক ভয় কাজ করতো মনে। ভেবেছি, জীবন তাহলে নিয়তির কাছে জিম্মি? মানুষের ভাগ্য জয়ের সংগ্রাম তাহলে শুধুই পন্ডশ্রম? বেগম রোকেয়ার অবরোধবাসিনীর নারীরা বিপর্যস্ত করে রাখতো আমার মন। শুধু বিশ্রি কুসংস্কার আর অশিক্ষার কারণে আমাদের পূর্বসুরী নারীদের জীবনে যে বঞ্চনা অসম্মান অপমান হীনমান আর নির্যাতনকে স্বাভাবিক মনে করা হতো, তা যদি আমাদের জীবনে বজায় থাকতো! বিভীষিকায় ঘুম ভেঙে যেতো আধোরাতে। 

রবীন্দ্রনাথের ছোটো গল্প ছিলো আমাদের কালে পড়ুয়াদের উৎকৃষ্ট গদ্যপাঠ। মনে হতো, এই না হলে গল্প? কি রোমান্স, কি তন্ময়তা! কি ভাষার গাঁথুনি! ক্ষুধিত পাষাণের গা ছম ছম করা গল্প মনটাকে নিয়ে উধাও হয়ে যেতো কোথায়! শরৎচন্দ্রের "গফুর, আমিনা, মহেশ'”, নিষ্কৃতির একান্নবর্তী পরিবারের গল্প, মেজদিদির ব্যাকুল স্নেহ, অরক্ষণীয়ার নিগৃহীত জীবনে অবশেষে ভালোবাসার আশ্বাস পাওয়া, স্মৃতিতে আছে এখনও। মনে হতো, লেখক আমাদের মতো অসংখ্য পাঠকের মন ভরাবার জন্যই লেখেছেন। 

ঘটনাগুলো হয়তো সত্যি। হয়তো নয়। জানি না আমরা। তবে নিরেট সত্যের জবরদস্তিতে শিল্পসম্মত গল্প হয়না। অনুপান লাগে সাজানোর জন্য। যে লেখকেরা গল্পের মধ্যে অনুপান জুড়ে দিয়ে কাহিনি তুলে এনেছেন, কৃতিত্ব তাঁদের। প্রগাঢ় অনুভব নিয়ে তাঁরা সেই সব জীবনের মধ্যে প্রবেশ করেছেন। শুধু শিল্পী সাহিত্যিকেরাই পারেন অন্য জীবনের এলাকায় প্রবেশ করে এমন নিপাট মগ্নতার মধ্যে ডুব দিতে। তখন 'ডিভিনিটি' না এসে পারে না। গল্প বলা তখন হয়ে ওঠে বিশ্বজনীন। এই বিশ্বজনীনতা খুঁজি আমরা গল্পে। এবং এই বিশ্বজনীনতা তৈরি করতে চাওয়াই একজন সত্যিকার লেখকের ঈপ্সা। লিপি স্রষ্টার জন্য আপনাকে স্বপ্নের চেয়ে বড়ো করে দেখার বিশ্বস্ত আকুলতা। সামান্য লেখক হিসেবে আমিও তার বাইরে নই। কতোটা পারি, সেটা অন্য কথা। 

গদ্য সাহিত্যের ইতিহাসে তথা কথা সাহিত্যের ইতিহাসে ছোটো গল্প অনেক পরের সমাচার। বাঙলা সাহিত্য নিয়ে মাস্টার্স পড়ার সময় অনেক রকম সংজ্ঞা পড়তে হয়েছে ছোটোগল্পের। তখন গল্প পড়লেই সংজ্ঞার ছকে ফেলে যাচাই করতাম গল্পটাকে। ছোটো ছোটো হাসি গান, ছোটো ছোটো দুঃখ কথা, ছোটো ছোটো আনন্দ বিরহের সংবাদ পড়ার পর গল্প শেষ হয়ে গেলেও যখন আরও জানার আকুল ইচ্ছেতে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতাম, তখন মনে হতো "ইউরেকা"। এই তো পেয়েছি সার্থক ছোটো গল্প। 

একটা সময় এলো, যখন গল্প কথার ব্যাকরণ ভুলে গেলাম। বড়ো হয়ে উঠলো পাঠের পিপাসা। বই পেলেই পড়ি। পরিচিত লেখকের কাছে বেড়ে গেলো প্রত্যাশা। আমাদের কালে বিদেশি গল্পের অনুবাদ কমই পেয়েছি। ভিন্ন দেশ, ভিন্ন মানুষ, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন পরিবেশ সত্বেও "লা মিজারেবল" পড়ে প্রথম বুঝেছিলাম, সব মানুষের রক্ত যেমন লাল, তেমনি সব মানুষের সুখ দুঃখের আনন্দ বেদনার প্রকাশও একসুরে বাঁধা। সব মানুষেরই অশ্রুর স্বাদ নোনতা। লেখকের সৃজন-সততার গুণেই সেটা দেখতে পাই আমরা। 

এখন বিদেশি গল্প, মূল এবং অনুবাদ, পড়ার সুযোগ অনেক বেশি। কথা সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া বই এখন পাওয়া যায়। প্রাণান্ত মনোযোগ নিয়ে পড়ি। বোঝার চেষ্টা করি তার বয়ান এবং কাহিনি নির্মাণের অনন্য শিল্প শৈলী। বুঝতে চেষ্টা করি, জীবন দর্শনের প্রতি লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি। মূল্যায়ন করতে চাই, কেমন করে একটা জীবন কেন্দ্রিক কাহিনি মানচিত্রের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব মানচিত্রের সকল দুয়ারে লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়? কি সে পরিশ্রম? কেমন সে মেধা? কেমন সেই পারঙ্গমতা? নগন্য লেখক হিসেবে আমিও স্বপ্ন দেখেছি, পাঠকের জন্য তেমন কিছু লেখতে। যেখানে ফাঁক বা ফাঁকি থাকবে না। তবে মানুষের সব স্বপ্ন তো বাস্তবায়িত হয় না। কিন্তু একটা আদর্শ সামনে থাকলে এগিয়ে যেতে সুবিধে হয়। যখন দেখি ফোন করে আমার পাঠক নায়িকার জন্য কাঁদে, আমাকে অভিযুক্ত করে নায়িকার কষ্টের জন্য, তখন আমিও আনন্দে কেঁদে ফেলি। লেখক হিসেবে এমন পাওয়া আমি ভুলতে পারি না। মনে হয়, সামান্য হলেও পাঠকের মন ছুঁতে পেরেছি। দিতে পেরেছি কিছু সততার স্বাদ। 

গল্পপাঠে আমি আর একটা বিষয় চাই লেখকের কাছে, সেটা হলো, সাবলীল ভাষা। আমি দেশের গল্পের কথাই বলবো, কারও কারও লেখায় চরিত্র চিত্রনে ' পাটি বিছানো অলঙ্কারবহুল গদ্য' দেখি। মানে, অনেক বড়ো বর্ণনার ঘনঘটা ঠেসে চরিত্রের ভাবনা চিন্তাকে প্রকাশ করা। আসলে সেটা যে লেখকের চিন্তা, সেটা প্রকট হয়েই পড়ে। আধুনিক গল্পে সেটা বেমানান লাগে আমার কাছে। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের কাছে কথাগুলো বলা যায় না। সমালোচনা অনেকেই সইতে পারেন না। তবে সামান্য লেখক হিসেবে, নির্ভার গদ্যের মেদহীন বাকশিল্প আমার পছন্দ। নকসা তোলা পাটি বিছানো ভারি ভাষা নয়। ভাষা হবে সহজ অথচ বুদ্ধিদীপ্ত। সংক্ষিপ্ত এবং চমৎকারিত্বে মনকাড়া। এখনও চেষ্টা করে যাই। 

পাঠক হিসেবে আমি বেশ পুরনো। নানা ধরনের গল্প আমি পড়েছি শৈশব থেকে। রুপকথা, রহস্য সিরিজ, শিশুতোষ লেখা, ছোটোগল্প, উপন্যাস, নাটক সব কিছুই আমার ভালো লাগতো পড়তে। তখনকার সাহিত্যে বিনোদনই খুঁজেছি। ভালো লাগলে বই পড়েছি, না লাগলে পড়িনি। ক্রমে বুঝতে পেরেছি গল্প পাঠের অনেক দিক আছে। গল্প পাঠে লেখক – পাঠকের মধ্যে একটা অদৃশ্য লেনা দেনা থাকে। যাকে হিসেব নিকেশে বাঁধা যায় না। পাঠক লেখককে এটাও বুঝতে হয়। 

বেশ ছোটো বেলা থেকেই আমি লেখি। প্রথমে রুপকথার গল্প অনুকরণ করেছি। সেই সব লেখা লুকিয়ে রাখতাম। কারণ জানতাম, সেগুলো কিছুই হয়নি। তবু ধরা পড়েছি মাঝে মাঝে। বড়ো ভাই একদিন সেই লুকোনো খাতা নিয়ে উচ্চস্বরে পড়েছিলেন সবার সামনে। তিনি নিজে হেসেছিলেন আর অন্যরাও হেসেছিলেন। সেই শেষ আমার নকল গল্প লেখা। 

কিন্তু লেখক হওয়ার ইচ্ছেটা গেলো না। বুকের ভেতর তুষের আগুনটা আমাকে জ্বলন্ত রেখে দিলো। পরে কেমন করে লেখনি হাতে নিয়ে বরাদ্দ হয়ে গেলো আমার রাত্রি যাপন, তা মনে পড়ে না। তখন থেকেই মৌলিক লেখার উপাদান খুঁজেছি মন দিয়ে, হৃদয় দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে, শ্রম দিয়ে। ফাঁকির দরজায় উঁকিও দিইনি কোনোদিন। পাঠকদের সন্তুষ্ট করার জন্য, তাদের দিকে তাকিয়ে লেখিনি কোনোদিন। আমার সত্যকে সাজিয়ে গুছিয়ে কাহিনি বানিয়ে দিয়েছি। কে কি ভাববে, কে কি বলবে, তা নিয়ে ভাবিনি গল্প নির্মাণের সময়। অন্তর্গত সত্যটাকে মূলধন করেছি পরম বিশ্বাসে। মনে প্রাণে জেনেছি, গল্প হলো আমার সন্তান, আমার সৃষ্টি; আর পাঠক হলো তার উত্তরাধিকার। কাউকেই ফাঁকি দেয়া সম্ভব নয়। কতোটুকু কি পেরেছি, তা আমার পাঠকেরা বলবেন একদিন। হয়তো সেদিন আমি থাকবোনা। 

বর্তমানের পাঠক হিসেবে আরও একটা বিষয়ে আমার অপছন্দের কথা জানাতে চাই। তা হলো, আধুনিকতার নামে অশালীন শব্দের যথেচ্ছ ব্যবহার ভালো লাগেনা আমার। নারী পুরুষের বিশেষ বিশেষ অঙ্গের নাম, কুশ্রাব্য গালাগালি, বাস্তবতার নামে দেহজ আদিম লীলার রগরগে বর্ণনা, ঠিক মানতে পারি না। কোনও অজুহাতেই না। তা তিনি যতো বড়ো লেখকই হোন না কেনো। এটা অবশ্যই আমার একান্ত নিজের কথা। আধুনিকতা ছাড়িয়ে উত্তর আধুনিকতার দোহাই দিলেও না। গল্প তথা কথা সাহিত্য একটা মনোরম নির্দোষ পবিত্র শিল্প। সেখানে এক ফোঁটা দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা সেঁটে দিলে তার মান নেমে যায় আমার দৃষ্টিতে। সংযমহীন উদোম সংস্কৃতি আমার ঐতিহ্য নয়। একজন লেখক হিসেবে আমি তাই খুব সতর্ক থাকি। তাছাড়া, বাঙলা ভাষার শব্দ ভান্ডার এতো কাঙাল নয় যে, শব্দের আকালে পড়ে যাবো। এই ব্যাপারে ভাষার যাদুকর সৈয়দ মুজতবা আলী আমার আইকন। তিনি অনেক বলেন, কিন্তু কিছুই বলেন না। লেখক হিসেবে সেই পথে চলতে চেষ্টা করি। অর্থাৎ, গল্পে পরিশীলিত বচন এবং শিল্পিত ভাষাকে পছন্দ করি। পড়তে এবং লেখতে। মনে করি, এটা আমার দায়বদ্ধতা। সত্যি কথা বলতে কি, গল্পের কাছে এটাও চাই নিবিড়ভাবে। 

আমাদের আমলের পৃথিবী এখন বদলে গেছে। মানুষ এখন আন্তর্জাতিক হয়েছে বস্তুগতো ভাবে। উন্নত জীবনের আশায় মানুষ দেশ ছেড়ে ছোটে দিকবিদিক। হয় অভিবাসী। পরিবর্তিত হয় তাদের মন মনন পেশা জীবনাচার। ছোটো গন্ডি থেকেও এসে বৃহত্তর জগতের ঘাত প্রতিঘাতে এলমেলো হয়ে যায় আজন্ম লালিত জীবন ঘনিষ্ঠ সংস্কৃতি। এক কথায় জীবনের গল্পই হয়ে যায় অন্যরকম। অভিবাসী লেখকদের কাছে পাঠকের প্রত্যাশা তাই অন্য রকম। 

দেশের কথা, জন্মভূমির কথা, ফেলে আসা চিরচেনা জীবনের কথা, শেকড়ের টান, এইসব নিয়ে গল্প লেখেন অনেকেই প্রবাসে বসে। কেউ বা প্রবাস জীবনের নতুন নতুন কথা, জীবন যাপনের নব নব অনুসঙ্গ, অন্য দেশের সাথে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা, ভিনদেশির সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক সৃস্টি, সংকর প্রজন্মের আত্মপরিচয়ের দোলাচলতা, শেকড়-বিচ্ছিন্নতা, ইত্যাদি নিয়ে লেখছেন। অভিজ্ঞতাই উপাদান যোগাচ্ছে তাঁদের। কিছু পাঠক তেমন লেখকের গল্প থেকেও শেকড় ঘেঁষা লেখাই বেশি পছন্দ করে। আমিও করি। জানি না, এটা আমাদের হীনমন্যতা কিনা? আবার বিশ্বপরিব্যাপ্ত জীবনে অভিবাসী লেখকের কাছ থেকে নতুন জীবনের গানও শুনতে চাই। 

এখন প্রবল ইচ্ছে, আমাদের গল্প বিদেশি পাঠকদের পাতে তুলে দেয়ার। বিশ্বসাহিত্যের সাথে লেনাদেনা করার। বিশ্ব-আত্মীয়তা স্থাপন করার। আসলে মানব জীবনের পরিসর বিশাল থেকে বিশালতরো হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি একটা খবর কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তিক এলাকায়। সুখে দুখে বিশ্বমানব তখন এক সাথে হাসে, এক সাথে কাঁদে, এক সাথে বিষণ্ন হয়, একসাথে বিপণ্নবোধে কাতর হয়। নিজের ঘরে বসে আন্তর্জালের ক্যারিশমায় পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তের মানুষের সাথে কথা বলছি। তো সেই বিশাল ব্যাপ্তিময় 'আমি'কে গল্পে ধারণ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে ভাবি, আমাদের চাওয়া পাওয়ার থই কি হারিয়ে যাচ্ছে? এরপর কি? 



৪টি মন্তব্য:

  1. গল্পগুলো হোক জীবনের আয়না, সমাজের প্রতিচ্ছবি।বহুমাত্রিক দেশজ আখ্যানে গড়ে উঠা দ্বান্দ্বিক জীবনালেখ্য।

    উত্তর দিনমুছুন
  2. লেখাটা আমাকে লিখতে ও পড়তে অনুপ্রাণিত করলো। আগে লেখকরা কিভাবে লিখতে শিখলেন বা সাহিত্য পড়তে অভ্যাস করলেন - সেটা জানতে পারলাম। আজকাল লেখক ও পাঠকদের অনেক প্রযুক্তি হাতে রয়েছে। তারা সেজন্য হয়তো ভবিষ্যৎ নিয়ে - fantasy নিয়ে - অনেক কিছু ভাবছেন , লিখছেন। কিন্তু ডেইলি জীবনকে নিয়ে লেখা - সে ইতিহাস, প্রেম বা রহস্যই হোক - তার চাহিদা কমবে না বলেই মনে হয়. ভাষার দূরত্ব কমে যাবে এবং যাচ্ছে। আপনার এই লেখাটাই মুহূর্তের মধ্যেই একটা বাটন পুশ করে ইংরেজীতে পড়লাম! খুব এনজয় করলাম লেখাটা পরে।

    উত্তর দিনমুছুন
  3. ধন্যবাদ লেখাটা পড়ার জন্য। সাহিত্যের জগত আকাশের মতো। সিমা ছাড়া। দিকহারা। জীবনের চলমান ঘটনাই গল্পের প্রধান উপাদান। যতদিন জীবনের প্রবাহ থাকবে, গল্পের উপাদানে ততোদিন ঘাটতির সম্ভাবনা নেই। সৃজনশীল লেখকের কাছে তার সৃস্টি নন্দিত কুসুমের মতো। পাঠক যদি তাতে একাত্ম হতে পারে, তখন তাতে সুবাস ওড়ে। পাঠকই হলো গল্পের কষটিপাথর।

    উত্তর দিনমুছুন
  4. আপা,গল্পটি পড়লাম। বেশ ভালো লাগলো।আর ও ভালো লাগলো রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের উদাহরনগুলো । আপা, লিখে যান অবিরত ।মারা পাঠক, তারা পড়বেই। ভালো থাকুন।
    আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি ,আমিন ।

    উত্তর দিনমুছুন