মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২১

করোনাকালের গল্প : লকডাউনের বিশতম দিন




মূল: গ্লিন সিনক্লেয়ার
অনুবাদ : ফজল হাসান 

আমি এখন লকডাউনে আছি । সত্যি কথা বলতে কি, আমি আসলে অদ্ভূত এবং অন্যরকম কোন পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পারছি না । হয়তো তার কারণ যে, আমি একাকী বসবাস করি এবং একধরনের লকডাউনের মধ্যে আমি একাকীত্বের জীবন বয়ে বেড়াচ্ছি সেই ২০০৬ সাল থেকে যখন আমার স্বামী মারা গিয়েছেন । দীর্ঘ তেতাল্লিশ বছরের দাম্পত্য জীবন কাটানোর পর আমি একাকীত্ব জীবনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি । 

এই সময়টা আলাদা । অন্য সময়ে মন খারাপ হলে আমি ভি অ্যান্ড অ্যা জাদুঘরে, কিউ গার্ডেনে কিংবা পায়ে হাঁটা দূরত্বে হ্যারডসে যেতাম । 

আমার ফ্রিজার ভর্তি খাবার । নিদেন হলেও সেসব খাবার দু’সপ্তাহ, এমনকি তিন সপ্তাহও চলে যাবে । আমার পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার এবং টয়লেট পেপার মওজুদ আছে । আমি কাপবোর্ড পরিস্কার করা শুরু করেছি । কাজটা আমি অনেকদিন যাবত এড়িয়ে গেছি । কোন কিছুই অতিরিক্ত কাজ না । প্রতিদিন হয়তো একটা বা দুটি কাপবোর্ড পরিস্কার করবো । 

যখন আবহাওয়া ভালো হবে, তখন ময়লা পর্দা ধোব এবং জানালা সাফ করবো । সাধারণত এসব বসন্তকালীন কাজ । 

সকালে আমি কাজ শুরু করি । নাস্তা সেরে দোতলায় আমার অফিস কক্ষে যাই এবং ব্যাংঙ্কের কাজ সম্পাদন করি, নাকি আমি বলবো ব্যালেন্স দেখি । 

ঘরের বাইরে না যাওয়ার অন্যতম ভালো দিক হলো আমাকে বেশি খরচপাতি করতে হয় না । আমার পরবর্তী কাব্যগ্রন্থের পান্ডুলিপি প্রস্তুত করার জন্য আমি মনোযোগ দেই । বেশ কয়েক সপ্তাহের কাজ বাকি আছে । প্রতিদিন এক ঘন্টা কিংবা দু’ঘন্টা কাজ করে আমি নিচে নামি । 

আমি আমার নাতি-নাতনিদের জন্য সেলাই করি । টেলিভিশন দেখার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত আমার সেলাইয়ের কাজ চলে । 

তবে ভালো দিক হলো নাতি-নাতনিরা আমার সঙ্গে ফেসটাইমে যোগাযোগ করে । তখন কাজের প্রতি আমার মনোযোগ আরো বেশি বেড়ে যায়, যা আসলেই চমৎকার । 

আমার কাজের তালিকায় রয়েছে বাগানের পরিচর্যা । আমি বাগানটি পরিস্কার করে এমন সুন্দর একটা বাগান তৈরি করবো যেখানে নিরিবিলি হাঁটাচলা করা যায় । গ্যারেজ থেকে স্তুপীকৃত জিনিসপত্র ফেলা দরকার । এটা একটা কক্ষের মতো, যেখান অপ্রয়োজনীয় গৃহসামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে । আমি সেসব জিনিসপত্র সহজেই ফেলতে পারি না । 

সামান্য কথাবার্তার সঙ্গে আমার নাস্তা খাওয়া নিয়ে আমি একটা শর্ট ভিডিও তৈরি করার জন্য মনোস্থির করেছি এবং নাম রেখেছি ‘রোলকল’। অনেকেই আমাকে সম্মতি দিয়েছে । সুতরাং আমি জানি বন্ধু-বান্ধীরা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে সুস্থ আছে । আমার জন্য কাজটা নতুন । তবে আমি সামান্য অভিজ্ঞতা অর্জণ করেছি । এখন আমার পছন্দের কবিতা ভিডিও করছি এবং একধরনের দক্ষতা ক্রমশ লাভ করছি । 

সাবধানে থাকার জন্য আমি এখন শেষ করবো । ভালো করে হাত ধোওয়া দরকার এবং বাইরে জনারণ্যে না যাওয়াই ভালো ।




লেখক পরিচিতি
গ্লিন সিনক্লেয়ার একজন বৃটিশ লিমেরিক লেখিকা এবং কবি । তাঁর পোশাকী নাম ক্লেয়ার গ্লিন চিতন । তিনি গত তিন বছরে তিনটি গ্রন্থ রচনা করেন: ‘দ্য এমিগ্রান্টস্’ (২০১৭), ‘পোয়েটিকস্ বুক অব ১০০ পয়েমস্’ (২০১৮) এবং ‘পোয়েটিকস্ বুক অব পয়েমস্: ভলিউম ২’ (২০১৯) । একাধিক আবৃত্তিকার তাঁর কবিতা রেডিওর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পাঠ করেন ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন