মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২১

রে ব্রেডবারী'র গল্প : পদব্রাজক


রঞ্জনা ব্যানার্জী 
মূল : দ্য পেডেস্ট্রিয়ান 


এই নৈঃশব্দ্যের শহরে সন্ধে আটটায় হাঁটতে বেরুনোর অর্থ হলো কুয়াশা ফুঁড়ে অরক্ষিত ঘাসের ভেতর হারিয়ে যাওয়া কাঁকড় বিছানো পথটির অনুসন্ধান করা। পকেটে দুই হাত পুরে নিস্তব্ধতাকে সঙ্গি করে রোজ ঠিক এই কাজটিই করেন মি. মিড। এবং প্রতি সন্ধ্যায় চৌরাস্তার মোড়টিতে পৌঁছেই নিয়ম করে খানিক্ষণ থামেন তিনি। চার দিকের জ্যোৎস্না ঢালা ফুটপাথগুলি নিবিড় পর্যবেক্ষণের পরেই তিনি তাঁর যাত্রার পথ নির্ধারণ করেন। যদিও সকল রাস্তাই তাঁর পায়ের কাছে সমান দিশার সম্ভাবনা নিয়েই বিছিয়ে থাকে কারণ ২০৫০ খৃষ্টাব্দের এই পৃথিবীতে সম্ভবত তিনিই একমাত্র নিঃসঙ্গ মানুষ অন্তত তেমনই অনুমিত হয়। তবুও প্রতি সন্ধ্যায় এই দিক-বাছাইয়ের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরেই তিনি বড় বড় পা ফেলে চুরুটের ধোঁয়ার মতো হিমেল হাওয়ার নকশা বুনতে বুনতে বাছাইকৃত নির্জন পথটি ধরেই তাঁর পদযাত্রা শুরু করেন। 

মাঝে মাঝে তিনি মাইলের পর মাইল হাঁটতেই থাকেন। সেই দিনগুলোতে বাড়ি ফিরতে তাঁর মাঝরাত কাবার হয়ে যায়। পথের ধারের ছোটো-বড়ো বাড়িগুলোর অন্ধকার জানালায় চোখ রেখে পা চালাবার সময় তাঁর মনে হয় এমন নির্জীব রাস্তায় হাঁটা আর কবরস্থানের ভেতর দিয়ে চলা একই কথা; জানালাগুলোর পেছনে কবরের মতোই নিবিড় অন্ধকার এবং হঠাৎ পিছলে যাওয়া জোনাকির আলোর মতোই ফিকে আলোর আভাস। কখনো কোনো পর্দাতোলা জানালার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘরের ভেতরের দেয়ালে ভৌতিক অবয়ব ভেসে বেড়ায়। কবর-শীতল এই বাড়িগুলোর কোনো কোনোটির খোলা জানালার পাল্লা দিয়ে ফিসফাস গুঞ্জন শোনা যায়। 

মি. লেনার্ড মিড পথ চলতে চলতে থামেন, মাথা উঁচিয়ে এইসব লক্ষ করেন, শোনেন এবং পুনরায় হাল্কা পায়ে সেই এবড়োথেবড়ো পথটি ধরেই ফের চলতে থাকেন। অনেকদিন আগেই বেশ বিচক্ষণতার সঙ্গে তিনি তাঁর শক্ত গোড়ালির জুতোজোড়া পাল্টে এই নরম-তলির স্নিকার জোড়া বেছে নিয়েছিলেন। জুতোর গোড়ালি শক্ত হলে গলির মোড়ের নেড়ে কুকুরের দল তাঁর পায়ের আওয়াজ টের পেতো এবং সেই আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গত করে সারা পাড়া মাথায় তুলতো, বাতি জ্বলে উঠতো কোথাও না কোথাও, অদেখা মুখেরা দৃশ্যমান হতো এবং নভেম্বরের হিমেল রাতে তাঁর মতো এক একলা পদব্রাজকের উপস্থিতি আবিষ্কার করে সমগ্র রাস্তাটিই ভড়কে যেত । 

আজকের এই বিশেষ সন্ধ্যায় তিনি পশ্চিমদিকটিই বেছেছিলেন। রাস্তার আড়ালে থাকা সমুদ্রতীর ছিল তাঁর গন্তব্য। বাতাসে স্ফটিককুচির মতোই হিম চকমকাচ্ছে; নিশ্বাস নেওয়ার সময় নাক চেঁছে যাচ্ছে; ফুসফুসে বড়দিনের আলোকসজ্জার মতোই গনগনে তাপ ছড়াচ্ছে বুকের ভেতরে; আক্ষরিক অর্থেই আলোর এই জ্বলা-নেভা অনুভব করা যাচ্ছে । আশেপাশের সমস্ত ডালপালা অদৃশ্য তুষারকণায় ভার নিয়ে নুয়ে আছে। শরতের ঝরা পাতাদের জুতোয় আলতো ঠেলে হাঁটতে তাঁর মনোরম লাগছিল এবং তিনি দাঁতের ফাঁকে ঠান্ডা হাওয়ার শান্ত শিস তুলে চলছিলেন।মাঝে মাঝেই উবু হয়ে ঝরা পাতা তুলছিলেন। ক্বচিৎ কোনো ল্যাম্পপোস্টের দেখা পেলে তার অস্বচ্ছ আলোয় শুকনো পাতাটির শিরা উপশিরার পাঠ নিচ্ছিলেন এবং তাদের মরচে পড়া গন্ধটি বুক ভরে টেনে নিচ্ছিলেন।। 

‘কেউ আছেন?’, রাস্তার দুধারের প্রতিটি বাড়ি পেরোনোর সময় তিনি ফিসফিস আওড়াচ্ছিলেন, ‘আজ কী চলছে চ্যানেল ৪,৭ কিংবা ৯ এ? কাউবয়েরা কোথায় ছুটছে অমন করে আর ঐ যে দূরে পাহাড়ের ধারে উদ্ধারকারী দল দেখতে পাচ্ছি, ওরা কি যুক্তরাষ্ট্রের পদাতিক বাহিনী?’ 

সুনসান এই দীর্ঘ ফাঁকা রাস্তায় কেবল তাঁর ছায়াটিই চলছিল শহরের মধ্যিখানে ডানা মেলে ওড়া বাজপাখির ছায়ার মতো। তিনি যদি চোখ বুজে জমাট বরফের মতো স্থির হয়ে দাঁড়ান তবে নিমেষেই নিজেকে বাতাসহীন এই অ্যাারিজোনার বিস্তীর্ণ মরুভূমির ঠিক মাঝ বরাবর কল্পনা করতে পারেন যেখানে মাইলের পর মাইল বাড়িঘর নয় কেবল শুষ্ক নদীর চর আর ফাঁকা রাস্তাই তাঁর সঙ্গি… 

“এর পরে কী?”, তিনি ঘড়ির দিকে চোখ রেখে বাড়িগুলোর কাছে জানতে চান। -রাত সাড়ে আটটা? একডজন হরেকরকম খুনের কাহিনী? নাকি জ্ঞান জিজ্ঞাসা? আনন্দমেলা অথবা একজন কমেডিয়ানের মঞ্চ ছিটকে পতন?” 

জ্যোৎস্না-ধোয়া সাদা বাড়ির ভেতর থেকে কেউ চাপা গলায় হেসে উঠল যেন! খটকা লাগল তাঁর। থামলেন। নাহ্‌, মনের ভুল- তিনি ফের পা চালালেন। সেই বিশেষ অসমান জায়গাটার কাছে এসেই হুমড়ি খেলেন। জায়গাটার সিমেন্ট, বুনো ফুল এবং অযত্নে বাড়া ঘাসের ঝাড়ে হাপিস হয়ে গেছে। দশ বছর ধরে তিনি এই একই রাস্তায় সকাল-সন্ধ্যা মাইলের পর মাইল হাঁটছেন কিন্তু অদ্যাবধি এক মুহূর্তের জন্যেও আরেকটি প্রাণের দেখা মেলে নি। 

ক্লোভারফুলের ত্রিপত্রের মতো প্যাঁচানো ইন্টারসেকশনটিতে পৌঁছে তিনি চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। এই খানে দুই প্রধান মহাসড়ক পরস্পরকে ডিঙিয়ে শহরকে পেঁচিয়ে রেখেছে। দিনের বেলায় এই রাস্তায় একসময় সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো গাড়িঘোড়া চলত, মনে হতো যেন এক বিশাল পতঙ্গ ত্বড়িতপাখায় অবিরাম গুঞ্জন তুলে উড়ছে, গ্যাস স্টেশন গুলোতে ফাঁকা জায়গা পাওয়ার জন্য গাড়িগুলোর মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা দেখে খালি জায়গা পেলেই গুবড়ে পোকাদের মতোই টুপ করে জায়গার দখল নিয়ে নিতো। ওদের নির্গমনল ছুঁয়ে থাকা আবছা আলোর রশ্মি বাড়িমুখি গতিপথকে আলোকিত করে রাখত। আজও এই মহাসড়ক পাথরের বুকে চন্দ্রকলার আলোয় ভেসে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে রাস্তা ছুঁয়ে যেন স্রোতস্বিনীর ধারা বইছে । 

তিনি পাশের গলিতে বাঁক নিয়ে ঘুরে বাড়ির পথ ধরলেন। বাড়ির প্রায় কাছকাছি আসতেই রাস্তা ফুঁড়ে যেন গাড়িটি উদয় হয়েছিল । জোরালো সাদা আলোর শঙ্কু তাকে আলোকিত করে রাখল। এই হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে তিনি পতঙ্গের মতোই খানিকক্ষণ স্থানু হয়ে ফের আলোর টানেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন কাছে। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির ভেতর থেকে তীক্ষ্ণ ধাতব স্বর তাঁকে সতর্ক করল: 

“খবরদার স্থির হয়ে দাঁড়ান। যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন। নড়বেন না। “ 

তিনি থামলেন। 

“দুই হাত ওপরে তুলুন! “ 

“কিন্তু” …তিনি কিছু একটা বলবার চেষ্টা করছিলেন। 

“হাত ওপরে! নতুবা গুলি করতে বাধ্য হব। “ 

পুলিশ তো বটেই কিন্তু এটি বিরল ঘটনা; ত্রিশ লক্ষ মানুষের এই শহরে জানামতে এখন কেবল একটিমাত্র পুলিশের গাড়ি, তাই নয় কি? গতবছর, ২০৫২র নির্বাচনের পরেই তিনখানা টহলদার গাড়িকে কমিয়ে একটিতে আনা হয়েছিল। অপরাধ কমে গেছে; পুলিশের প্রয়োজনই নেই, তাই এই একটি গাড়িই নানা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে নজরদারীর দায়িত্ব করছিল। 

“আপনার নাম?” - গাড়ি থেকে কেউ ধাতব গলায় ফিসফিসিয়ে জানতে চাইল। 

সেই জোরালো আলোর ঘোর কাটিয়ে তিনি গাড়ির ভেতরের মানুষদের কাউকেই ঠাহর করতে পারলেন না। 

“লেনার্ড মিড”, তিনি উওর দিলেন। 

‘কথা বলুন!” 

“লেনার্ড মিড!” 

“ব্যবসা নাকি পেশা?” 

“আমায় লেখক বলতে পারেন” 

“পেশাহীন”, যেন নিজের সঙ্গেই কথা বলছে গাড়িটি। 

গবেষণাগারে ঠিক যেভাবে কোনো নমুনাকে বুক বরাবর পিনবদ্ধ করে অধ্যয়ন করা হয় আলোর রশ্মিটি তাঁকে তেমনভাবে গেঁথে রেখেছে । 

“তাও বলতে পারেন”, মি. মিড সাঁয় দিলেন । 

তিনি অনেকদিন ধরেই লিখছেন না। সাময়িকী কিংবা বই আজকাল আর বিকোয় না। তিনি মনে মনে কল্পনা করেন কবরের মতো ঠান্ডা ঐ বাড়িগুলোতে সবই চলছে এই রাতে। সেখানে টেলিভিশনের দুর্বল আলোয় আলোকিত কক্ষগুলিতে মৃতের মতো বসে আছে সকলে, ধূসর কিংবা রঙিন আলোর আভা তাদের মুখ স্পর্শ করছে, আসলে এই আলো ওদের ছুঁতেই পারছে না। 

“কোনো পেশা নেই”, গ্রামোফোনের আওয়াজের মতো হিসিয়ে উঠল সেই স্বর, “তা বাইরে কী করছেন?” 

“হাঁটছিলাম”, লেনার্ড মিড বললেন। 

“হাঁটছিলাম” 

“মানে এমনিতেই হাঁটছিলাম”, তিনি সহজ হওয়ার চেষ্টা করলেন, অনুভব করলেন তাঁর মুখমণ্ডলে বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে আছে। 

“হাঁটছিলেন। এমনি এমনিই হাঁটছিলেন?” 

“ঠিক ধরেছেন স্যার,” 

“হেঁটে কোথায় যাচ্ছিলেন? কেন যাচ্ছিলেন?” 

“হাওয়ার জন্য হাঁটছিলাম। দেখার জন্য হাঁটছিলাম।“. 

“আপনার ঠিকানা?” 

“১১ সাউথ সেইন্ট জেইমস স্ট্রিট” 

“এবং আপনার বাড়িতে হাওয়ার চলাচল আছে, উপরন্তু একটি বাতানুকূল যন্ত্রও আছে নিশ্চয়, মি. মিড?” 

“আছে” 

“এবং দেখন-পর্দা যাতে আপনি দেখতে পারেন তাও বর্তমান?” 

“না” 

“না?” 

প্রশ্নটিতেই অভিযোগের প্রচ্ছন্ন পরিহাস লুকোনো যেন। 

“আপনি কি বিবাহিত মি. মিড?” 

“না” 

“বিবাহিত নন।“ তীব্র আলোর পেছনের পুলিশী কণ্ঠটি বলে উঠল আবার। 

অনেক উঁচুতে তারাদের নহবতে চাঁদ যতটা মুখর আশেপাশের বাড়িগুলো ঠিক ততটাই বিষণ্ণতা নিয়ে নীরব। 

“আসলে কেউ আমাকে চায় নি”, স্মিত হেসে কৈফিয়ত দিলেন মি. মিড। 

“প্রশ্নের বাইরে অযাচিত কোনো কথা বলার চেষ্টা করবেন না!” 

অতঃপর লেনার্ড মিড সেই হিম জড়ানো অন্ধকারে পরের প্রশ্নটি শোনার জন্য চুপচাপ অপেক্ষা করতে থাকলেন। 

“তাহলে মি. মিড আপনি এমনিতেই হাঁটছিলেন?” 

“হ্যাঁ” 

“এবং এই নৈশভ্রমণের কারণটি আপনি এখনো ব্যাখ্যা করেন নি । “ 

“ব্যাখ্যা করেছি। খোলা হাওয়ায় হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। “ 

“আপনি কি প্রায়ই এমন করেন?” 

“হ্যাঁ সারা বছরই এমন সময়ে আমি নৈশভ্রমণে বেরোই। “ 

টহল গাড়িটি রাস্তার মাঝখানেই দাঁড়িয়ে রইল, ওর ধাতব স্বরের মৃদু গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। 

“তবে তাই হোক মি.”, আওয়াজটি বলল। 

“ব্যস! এবার তবে যেতে পারি?”, তিনি বিনীতভাবে জানতে চাইলেন। 

“অবশ্যই”, স্বরটিও যেন সুর মেলাল, “এইখানে”, 

একটা ফিকে দীর্ঘশ্বাস এবং ফাঁকা আওয়াজ হলো কোথাও। 

মি. মিড দেখলেন গাড়ির পেছনের দরজাটা হাট করে খুলে গেল। 

“উঠে পড়ুন” 

“এক মিনিট। আমি তো কিছুই করিনি। “ 

“ভেতরে ঢুকুন” 

“আমি তীব্র প্রতিবাদ করছি” 

“মি. মিড!” 

হঠাৎ মাতাল হলে যেভাবে কেউ ভারসাম্য হারায় তিনি ঠিক সেইভাবে টলমল পায়ে গাড়ির দিকে এগোলেন। গাড়িটির সমুখের আয়না পেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ভেতরে লক্ষ্য করলেন, ঠিক যেমনটি ভেবেছিলেন, কেউ নেই সামনের আসনে! আসলে গাড়ির ভেতরে কোনো মানুষই নেই। 

“উঠে পড়ুন” 

তিনি দরজার হাতলে হাত রেখে ভেতরে উঁকি দিলেন। ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠ, ছোটখাটো কারাগারের মতোই গারদ আঁটা। রিবট করা ইস্পাতের ধাতব গন্ধ তাঁর নাকে লাগল। জীবানুনাশকের ঝাঁঝালো গন্ধ; অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার গন্ধ সব মিলেমিশে কঠিন ধাতব-পরিবেশ। কোনো কিছুতেই কোমলতার চিহ্ন নেই। 

“বিবাহিত হলে একজন স্ত্রী থাকত এবং রেহাই পাওয়ার অন্তত একটা আইনগত অজুহাতের উপায়ও থাকত আপনার”, ধাতব স্বরটি আফসোস করল। 

“আমাকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে জানতে পারি?” 

গাড়িটি যেন খানিক ইতস্তত করল অথবা এই শোঁশোঁ মৃদু আওয়াজের সংগে ধাতব কিছু যুক্ত হওয়ার শব্দটি হয়তো অতি দ্রুততায় তাঁর প্রশ্নের বিশেষ তথ্যটি কার্ডে যুক্ত করে, বৈদ্যুতিন চোখের তদারকিতে ফোকর গলিয়ে পৌঁছে দেওয়ার সংকেত। 

“মনোরোগ কেন্দ্রে; প্রত্যাবর্তী-প্রবণতা সংক্রান্ত গবেষনার জন্যে” 

তিনি ভেতরে ঢুকলেন। ভোঁতা আওয়াজ করে গাড়ির দরওজা বন্ধ হয়ে গেল। অন্ধকার গলির ভেতর অনুজ্জ্বল আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে গাড়িটি এগিয়ে চলল। খানিক পরেই সেই বাড়িটির সামনে এলো । এই অদ্ভুত অন্ধকার শহরের সকল বাড়ির মধ্যে এটিই একমাত্র বাড়ি যার অন্দরমহলের প্রতিটি ঘরে উজ্জ্বল বিজলি বাতি দিপ্তী ছড়াচ্ছে। হিম জড়ানো এই অন্ধকারে এই বাড়ির প্রতিটি জানালা যেন হলুদ চৌকোণো আলোর উষ্ণতা বিকিরণ করছে চারপাশে। 

“এটাই আমার বাড়ি”, লেনার্ড মিড বললেন। 

কেউ উত্তর দিলো না। 

গাড়িটি শুষ্ক নদীর চর পেরিয়ে গতি বদলাল এবং পেছনে সেই নীরব ফুটপাথকে সঙ্গি করে বিরান অন্ধকার রাস্তাটি বাকি রাতটুকুন এমনই শব্দহীন জড়তা নিয়ে জেগে রইল।

--------------------------------------------------------------------------------------------------------

লেখক পরিচিতিঃ রে ব্রেডবারির (১৯২০ -২০১২) জন্ম আমেরিকায় রূপকথা এবং বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জন্য খ্যাতিমান হলেও সাহিত্যের সকল শাখায় তাঁর অবাধ এবং সাবলীল বিচরণ লেখার শৈলীর জন্যেও তিনি পাঠক এবং সমালোচকদের কাছে নন্দিত তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলির মধ্যে দ্য মারশান ক্রনিক্যালস, আই সিং মাই বডি ইলেক্ট্রিক, দ্য অক্টোবর কান্ট্রি এবং ফারেনহাইট ৪৫১ উল্লেখযোগ্য অনুদিত দ্য পেডেস্ট্রিয়ান গল্পটি  ১৯৫১ সালে লেখা হয়েছিল  

 


অনুবাদক পরিচিতি
রঞ্জনা ব্যানার্জী
কানাডাতে থাকেন।

রসায়নবিদ। গল্পকার। অনুবাদক।

প্রকাশিত গল্পের বই--
একে শূন্য
আহেলী
তেত্তিরিশ




৩টি মন্তব্য:

  1. যেমন গল্প তেমন অনুবাদ। প্রায় এই পৃথিবীই যেন ২০২০-তে পার করে এলাম আমরা। রে ব্র্যাডবেরি আরো অনূদিত হন বাংলাভাষায়।

    উত্তর দিনমুছুন
  2. অপূর্ব হয়েছে এই translation। রে ব্র্যাডবেরি লেখা আমি আগে কখনো পড়িনি, এবার বুঝলাম পড়তে হবে। শ্রীমতী রঞ্জনা ব্যানার্জী কে ধন্যবাদ জানাই এই বিশেষ লেখাটির জন্যে।

    সৌমেন সেনগুপ্ত

    উত্তর দিনমুছুন