মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২১

দি আর্ট অফ ফিকশন : রাবিহ আলামেদিন'এর সাক্ষাৎকার



অনুবাদঃ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ 


“আমি একটি সুখী বই (happy book) লিখতে চেয়েছিলাম, সত্যিকার অর্থেই যা সুখী হবে। এবং, এটা করতে গিয়েই এই বইয়ের সৃষ্টি হয়েছে।“ লেবানিজ লেখক রাবিহ আলামেদিন উপরের কথাগুলো বলেছিলেন গতবছর এশিয়ান আমেরিকান লেখকদের ওয়ার্কশপে। তার লেখা An Unnecessary Woman সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে। আপাতভাবে বইটির প্রধানচরিত্র আলিয়া নামের একজন মধ্যবয়সী নীলচুলের মহিলা, যিনি তালাকপ্রাপ্তা। তিনি নিঃসন্তান, নিজ পরিবারের সাথে যোগাযোগহীন ও সত্যিকারের বন্ধুহীন। বছরের পর বছর তিনি শুধু বই-পুস্তকের মধ্যেই জীবন যাপন করেছেন (“বহুদিন পূর্বে আমি নিজেকে লিখিত শব্দের কাছে অন্ধভাবে আত্মসমর্পন করেছিলাম,” তার কথায়)। জীবনের অধিকাংশ সময়েই তিনি একটা বইয়ের স্টোরে করণিক হিসেবে কাজ করেছেন। সেটি বন্ধ হয়ে যাবার পর নিজের এপার্টমেন্টের বুক শেলফগুলোতে এবং অন্য ধরণের একটি কাজে স্বস্তি খুঁজেছেন। সেটি হলো অনুবাদ করা। 

আলিয়ার পশ্চিমা ক্লাসিকগুলোর অনুবাদ কার্যক্রম কষ্টকর, নিরানন্দ ও আপাতভাবে উদ্দেশ্যহীন। কারণ, তার কোন প্রকাশক বা পাঠক নেই। “আমি জানি এই বিষয়টা শুনতে রহস্যময় বলে মনে হয়, এবং আমিও তা শুনতে অপছন্দ করি,” সে বলে থাকে। “তবে এই কাজটাই আমাকে উৎসাহ দিয়ে থাকে।“ আলিয়ার এই ইঙ্গিতপূর্ণ পৃথিবীর অন্তঃস্থলে যদি আমরা প্রবেশ করি, তাহলে তার এই দাবী সম্পর্কে বুঝতে আমাদের সহজ হবে। জীবন এবং আরও নির্দিষ্ট করে বৈরুতের যুদ্ধ বিধ্বস্ত জীবন আলিয়াকে সাহিত্যের পুরোটুকুতে প্রবেশাধিকার দেয়নি। ফলে আলিয়া বিজ্ঞ ও চিত্তাকর্ষক হলেও তাকে সুনির্দিষ্টভাবে প্রশংসা বা পছন্দ করার সম্ভব হয় না। 

অবাক করা ব্যাপার হলো An Unnecessary Woman কে ‘হ্যাপি বুক’ হিসেবে অভিহিত করা হলেও, সেটা ‘হ্যাপি বুক’ এর প্রচলিত ধারাকে অস্বীকার করে। “প্রিয় সাম্প্রতিক লেখকগণ, আপনারা আমাকে ক্ষুদ্রতর ভাবতে বাধ্য করেন, কারণ আমার জীবন আপনাদের মতো পরিচ্ছন্ন ও অর্থবহ নয়,” আলিয়া এভাবেই বিষয়টিকে অনুধ্যান করে থাকেন। কিন্তু আলামেদিন তাকে এই বইগুলোর জন্যেই যোগ্য ভেবেছেন, যেগুলো কল্পকাহিনীর যাদুময়তা ও কৌশল দিয়ে বাস্তব জীবনের বিচিত্রতা ও অসংগতিকে তুলে ধরে এবং একইসাথে আশা দেখায় মানুষকে। 

আমি রাবিহ আলামেদিন সাথে কথা বলেছিলাম সৃষ্টিশীলতা, অনুবাদ এবং নিজ জীবনে আনন্দের অনুসন্ধান নিয়ে, যা তার বইয়ের পাতায়, বইয়ের বাইরে এবং তার লেখার ভেতরে লুকিয়ে আছে। এই আলাপচারিতার শুরু হয়েছিলো গতবছর, যখন তিনি আমাকে তার An Unnecessary Woman বইয়ের একটি কপি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন। এতে একটি নোট লেখা ছিল, যাতে তিনি নিজেই স্বাক্ষর করেছিলেন। এই নোটটিতে বইটির প্রথমদিকে বর্ণিত একটা দৃশ্যের কথা তিনি বলেছিলেন, যেখানে আলিয়া মনের ভুলে তার চুলকে কালোর পরিবর্তে নীল রঙ করে। 


মিথিলি রাওঃ 
 আমি গত বছরে আপনার একটা বই পড়েছি, যেটিতে আপনি আমার কপিটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। সেখানে আপনি লিখেছিলেন যে, আমার মাথার চুল নীল হোক। সুতরাং এই বিষয়টি থেকেই আমি শুরু করতে চাই। কারও মাথার চুল নীল হোক বলতে আপনি আসলে কি বোঝাতে চেয়েছেন? 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
চুল সাদা হোক’ বলে কামনা করার মধ্য দিয়ে আমি ইচ্ছেপোষন করেছি যে, আপনি দীর্ঘজীবী হোন। কিন্তু একইসাথে আপনার কিছু মুদ্রাদোষ থাকুক, তাও চেয়েছি আমি, যাতে এই বয়সেও আপনি নিজের চুলকে অসঠিকভাবে রঙ করেন। আমি মনে করি, যে দুর্ঘটনাক্রমে নিজের চুলকে নীল রঙ করে, সে এখনো যৌবনদীপ্ত। ঠিক একই কারণে আলিয়া তার বয়সকালেও এখনো নতুন কোন অনুবাদ কাজ শুরু করা নিয়ে উত্তেজিত থাকে। এই সকল কিছুর মধ্য দিয়েই সে বোঝাতে চায় যে, তার জীবনযাপন কীরকম চলছে। এটাই তার জীবনকে অর্থবহ করে তোলে। 


মিথিলি রাওঃ 
 আলিয়ার কাছে অনুবাদ হলো কবিতার মতো। কোন শ্রোতার ধার ধারেন না তিনি। 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
 তুমি কি বলতে চাচ্ছ যে, কবিদের কোন শ্রোতা নেই? (কৌতুক করে বলছি।) 


মিথিলি রাওঃ 
আমি বলতে চাচ্ছি আমরা অনেক কিছুই করি, যা কাব্যিক ও আমাদের নিজেদের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেগুলোর কোন শ্রোতা নেই। 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
লেখক (এমনকি আমার ক্ষেত্রেও) ও কবিদের একটা বড় সমস্যা হলো যে, তারা সকল সময়েই নিজেদেরকে তাদের চূড়ান্ত ফলকে দেখতে চান। আমি এমন অনেক লোকদের জানি যারা লেখক হতে চান, কিন্তু তারা বই বা কিছুই লিখতে চান না। তবে কোন একটা রহস্যময় কারণে তারা চান যে, সবাই তাদেরকে শিল্পী বলে ডাকুক। আলিয়ার অবস্থান এই দলের সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে। 

সে প্রকৃতপক্ষে অনুবাদ করার প্রক্রিয়াকেই বেশী পছন্দ করে। এটাই তাকে জীবনের অর্থ এনে দেয়, চূড়ান্ত কোন ফলাফল নয়। এটা আমার কাছে খুবই আকর্ষনীয় বলে মনে হয়। কারণ, একজন মানুষ হিসেবে আমি স্বীকৃতি ও প্রশংসা চাই, কিন্তু একইসাথে অনুভব করি যে, বই লেখা শেষ হবার পর নিজেকে আসলেই শূন্য মনে হয়। কারণ, আমার প্রতিটা বইই স্বতন্ত্র এবং তাদের উদ্দেশ্যও স্বতন্ত্র। এই যেমন আমি এখন অন্য কিছু নিয়ে কাজ করছি। কাজেই আমার সকল প্রচেষ্টাই এখন কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে, সেটি সম্পর্কে বলা বা চিন্তা করার উপরে। আসলে আমাদের মন পড়ে থাকে, যা কিছু আমরা করছি তার উপরে। 


মিথিলি রাওঃ 
 সুতরাং আপনার পরবর্তী বইয়ের বিষয় কি হবে? 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
 হায় ঈশ্বর! 


মিথিলি রাওঃ 
 আমরা এটি নিয়েও কথা বলতে পারি। 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
 আমার পরবর্তী বই সম্পর্কে আমি সব সময়েই বলি যে, ওটা ভিন্ন ধরণের হবে। কিন্তু বাস্তবে সব বইই এক। এই বইটা হবে স্মৃতি এবং স্মৃতি ও বিস্মৃতির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে। বর্তমানের পৃথিবীতে প্রায় স্মৃতিহীনভাবে আমরা কি করে বেঁচে থাকি সেটা নিয়ে। 




মিথিলি রাওঃ 
 এই দর্শন তো আলিয়ার দর্শনের বিপরীত। 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
 আসলে তা নয়। এই বইতেও বর্ণনাকারীর মধ্যে আকস্মিকভাবে একই অনুভূতি ও স্মৃতি কাজ করে থাকে। এবং তা ঘটে থাকে অনেকগুলো চলমান ঘটনার প্রেক্ষিতে। হতে পারে যে, এটা শুরু হয় ড্রোন আক্রমণ অথবা যে জিনিসগুলো বার বার ঘটে থাকে, সেগুলোর চিন্তা থেকে। তবে হঠাৎ করেই তারা পুরনো মোড়ক ছেড়ে সম্পূর্ন নতুন হিসেবে বেরিয়ে আসে। 

আমি আসলে কোন কিছু নিয়েই চিন্তা করতে চাই না। সবকিছু ভুলে থাকতে চাই। শুধু আমরা নই, সারা পৃথিবীতেই ভুলে যাবার সংস্কৃতি চালু হয়েছে। আমরা আরও বড় কিছু চাই। সেটা প্রযুক্তি, কিম কার্ডিসানের নিতম্ব বা পরবর্তী বই, যা কিছুই হোক না কেন। এবং কোন বিষয়েই আমরা কষ্ট করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই না। 

ফিরে যাচ্ছি, যে বিষয়টা নিয়ে কাজ করছি, সে বিষয়ে। যেটা আমার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়, তা হলো যে, প্রতিনিয়ত অবিরাম নতুন প্রতিবিম্ব আমাদের উপরে বর্ষিত হচ্ছে। কিছুদিন পূর্বেই একটা ট্যাক্সির ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখতে পেলাম, সেখানে একটা টিভি স্থাপন করা হয়েছে। এয়ারপোর্টে প্লেনের জন্যে অপেক্ষা করার সময়ে টিভির সামনে বসে থাকতে আমি বিরক্ত বোধ করি। এভাবে অবিরাম তথ্য ও প্রতিবিম্বগুলো ২৪ ঘন্টার খবর, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদির মাধ্যমে আমাদের সময়কে খেয়ে নিচ্ছে। ফলে রোমন্থন করার কোন সময়ই আর আমাদের অবশিষ্ট থাকছে না। 

কিন্ত আলিয়া এর বিপরীতে ভিন্ন এক জীবন বেছে নিয়েছে। সেখানে তার নিজেকে কখনই আপডেট করতে হয় না। 


মিথিলি রাওঃ 
 এর কিছু সংখ্যক তার উপরে আপতিত হয়েছে বৈরুত অবরুদ্ধ থাকার কারণে। 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
 কিন্তু – 


মিথিলি রাওঃ 
 আমার মনে হয় এটা তার নিজেরও পছন্দ। 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
আরোপিত ও পছন্দের দুটোই। আসলে এর মধ্যেই পুরো উত্তেজনা বিরাজ করে। বৈরুতে তার মতো অনেক সমসাময়িক বর্ষীয়সী মহিলাই আছে। সুতরাং তার মতো অনেকেই হয়তো বিষয়টিকে পছন্দ করে। একটা বিষয়ে আমি আগ্রহী, সেটা হলো অনেকগুলো রিভিউতে পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে আলিয়ার বেড়ে উঠা সম্পর্কে লেখা হয়েছে। আলিয়ার এই বেড়ে উঠা কি অন্যদের চেয়ে ভিন্ন? আমি মনে করি না। কারণ লেবাননের চেয়ে এখানে কিছুটা কম পিতৃতান্ত্রিকতা বিরাজ করলেও পার্থক্য খুব বেশী নয়। 


মিথিলি রাওঃ 
আমার মনে হয়নি যে, সে পিতৃতান্ত্রিকতা দিয়ে অন্য এলাকার নারীদের চেয়ে বেশী নিপীড়িত হয়েছে। সে বিয়ে সম্পর্কিত বিষয়ে সে ভিন্ন ধরণের সামাজিক নীতির সংস্পর্শে এসেছে। তবে সে খুবই শক্তিশালী মনের অধিকারিণী। 


রাবিহ আলামেদিনঃ 
রিভিউগুলো থেকে এটা স্পষ্ট যে, কি ধরণের কষ্টকর সময়ের ভেতর দিয়ে তাকে অতিক্রম করতে হয়েছে। তবে আমি মনে করি যে, এখানেও তাকে একই ধরণের সময় অতিক্রম করতে হতো। 


মিথিলি রাওঃ 
 অনুবাদ প্রসঙ্গে ফিরে আসি। আমি ওটাকে পূর্বে কাব্যিক বলেছিলাম। কারণ, সে শব্দের প্রতি ভালোবাসা থেকে অনুবাদ করে থাকে। কিন্তু অনুবাদকে আমরা বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে থাকি। যেমন, সংস্কৃতি সমূহের ভেতরে সেতুবন্ধন স্থাপন করা, লেখক ও পাঠকদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা ইত্যাদি। কিন্তু আলিয়া তা করে না। তাহলে তার অনুবাদগুলো কিসের জন্যে? 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
বিষয়টাকে আমরা এভাবে দেখতে পারি, যদিও আমি নিশ্চিত নই সে আসলে তা করছে কিনা। কারণ, বিষয়টি নিয়ে আমি ইতিপূর্বে এভাবে ভাবিনি। এটাকে একটা রূপক ভাবা যেতে পারে। অর্থাৎ সে যা করছে, তা হচ্ছে এক ধরণের জীবনযাপন। শুধু অনুবাদ নয়। কোন কোন সময়ে তা অনুবাদেরও অনুবাদ। কিন্তু এর মাধ্যমে সে কাউকে সাহায্য করছে না বা কোন ধরণের সংযোগও স্থাপনও করছে না। একসময়ে আমি বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট চিন্তা করেছি। সে কি তার সময়গুলোকে ভরিয়ে রাখছে? সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পাঠক হলেই পারতো সে। একজন পাঠক প্রচুর বই পড়ে। এটা করতে গিয়ে সে হয়তো ক্লান্তও হতো না। কিন্তু না। তার কাছে অনুবাদ হলো জীবনের কাজ, যা উদ্দেশ্যহীন। আমার মতে তার সকল অনুবাদই এরকম উদ্দেশ্যহীন। সে সচেতনভাবে কিছু একটা করার চেষ্টা করলেও তা স্বভাবগতভাবেই উদ্দেশ্যহীন থাকে। কিন্তু আসলে কি তাই? সেক্ষেত্রে মাধ্যম হিসেবে অনুবাদ কেন? 


মিথিলি রাওঃ 
যদি তার সকল কাজই উদ্দেশ্যহীন হয়ে থাকে, তাহলে কোন নির্দিষ্ট কারণ তাকে দিয়ে তা করাচ্ছে? 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
না, তার সকল কাজই যে উদ্দেশ্যহীন, তা নয়। এবিষয়েই আমি অনুসন্ধান করেছি। আমার মতে তার অনেক বইতেই মর্যাদা, বিশেষ করে অর্থহীন জীবনের ভেতরে মর্যাদা ও জীবনের অর্থ খোঁজা হয়েছে। আমরা অনেক সময়েই বিভ্রান্ত হই এই ভেবে যে, প্রতিটা বিষয়েরই কিছু গুরুত্ব আছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে তা থাকে না। গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমাদেরকে সৃষ্টি করে নিতে হয়। 

কিছু কিছু সংস্কৃতি আছে যেগুলো আমাদের জন্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, এবং এর উপরে থাকে ব্যক্তিগত বিষয় সমূহ। আমার সিদ্ধান্তমতে আমার লেখা ও বইগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে তা সত্য নয়। ‘প্রাউস্ট’ এর কথাই ধরুন। পৃথিবীতে ৬.২ বিলিয়ন মানুষ আছে। আমি নিশ্চিত করতে পারি যে, এদের মধ্যে ৬ বিলিয়ন মানুষেরা প্রাউস্ট সম্পর্কে জানে না এবং কখনই তারা জানবে না। 


মিথিলি রাওঃ 
লেখার জগতে আপনার পদচারণাও সরলরৈখিক ছিল না। এই কাজের পূর্বে অন্যধরণের কয়েকটি কাজ আপনার জীবনে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। আপনি কি ইঞ্জিনিয়ার হতে পেইন্টার এবং সেখান হতে লেখক – এই যাত্রা সম্পর্কে কিছু বলবেন? 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
জীবনের জন্যে আমরা কতকিছুই না করে থাকি। তবে এগুলোর সমান্তরালে আমি সবসময়েই একজন লেখক হতে চেয়েছি। কারণ আমি সবসময়েই আমি একজন ভালো পাঠক ছিলাম। আমার পিতার মৃত্যুর সময়ে আমার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। সেসময়ে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, জীবনে আমি কি কাজ করতে চাই। আমি তাকে বলেছিলাম যে, আমি লেখক হতে চাই। সেসময়ে আমি সুপারম্যান কমিকস অথবা ব্যাটম্যান সম্পর্কে লিখতে চেয়েছিলাম এবং সত্যিকারভাবেই সেইসময়ে জানতাম না যে, আমার পক্ষে লেখা সম্ভব কিনা। তবে এটা ছাড়া অন্য কোন কাজ করতে আমি আগ্রহী ছিলাম না। এরপর আমি পেইন্টিং করা শুরু করছিলাম এবং কিছুটা সাফল্যও অর্জন করেছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছিল যে, এটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কখনই মনে হয়নি যে, এটা আমার কাজ। 


মিথিলি রাওঃ 
 কেন মনে হয়েছিল যে, পেইন্টিং আপনার জন্যে নয়? 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
 পেইন্টিং করার সময়ে নিজেকে সবসময়ে আমার নিজেকে প্রতারক বলে মনে হতো। কিন্তু লেখার সময়ে আমার নিজেকে খুব কম সময়েই প্রতারক বলে মনে হতো। অনেক সময়ে দুর্ঘটনাক্রমে আমি ভালো পেইন্টিং করলেও পুরো বিষয়ের উপরে আমার তেমন নিয়ন্ত্রণ ছিল না। 


মিথিলি রাওঃ 
 মনে হচ্ছে আপনার পদ্ধতিটা খুব আনন্দময় ছিল না। 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
 তা নয়। পদ্ধতিটা কৌতুকময়ই ছিল আমার জন্যে। যা যা করার প্রয়োজন, তা আমি সম্পূর্ণই করতাম। আমি এখনও বেশকিছু আর্ট প্রোজেক্ট করে থাকি, কিন্তু সেগুলোকে প্রদর্শন করি না। ওটা শুধুমাত্র নিজের জন্যেই করি। কিন্তু আমি আমি সেটা পরিত্যাগ করেছি, শুধুমাত্র আমার কারণে নয়। একদিন আমার এক বন্ধুকে পেইন্টিং করতে দেখে আমার মনে হয়েছিল যে, সে আর আমি এক কাজ করছি না। সেই সময়ে মাতিসের (Matisse) একটা বিশাল প্রদর্শনী হচ্ছিল নিউইয়র্কে। আমি সেই প্রদর্শনীতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার বোধোদয় হয়েছিল যে, আমি যা করছি তা উনার মতো নয়। উনি অনেক বড় মাপের শিল্পী এবং উনার কাজের সঙ্গে আমার কাজের তুলনা করাই হাস্যকর। তবে লেখার ক্ষেত্রে আমার কখনই এরকম মনে হতো না। এখনো অনেক লেখক আছেন যারা আমার চেয়ে অনেক বেশী ভালো লিখেন, কিন্তু তাদের সাথে তুলনা করে নিজেকে আমার তুচ্ছ মনে হয় না। কিন্তু মাতিসের প্রদর্শনীর সময়ে নিজেকে আমার রীতিমত সঙ বলে মনে হচ্ছিল, এবং আমি অনুভব করেছিলাম যে, আমি নিজের সংগে প্রতারণা করছি। 


মিথিলি রাওঃ 
 স্বচ্ছন্দবোধ করার কারণেই হয়তো আলিয়া অনুবাদ করতে আগ্রহী এবং সে শুধু পাঠক হতে রাজী নয়। 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
আসলে অনুবাদ করার মধ্যদিয়ে আলিয়া পাঠকের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে না। এর মাধ্যমে সে যোগাযোগ করে থাকে লেখকদের সাথে। এবিষয়ে মাঝেমধ্যে সে কথাও বলে থাকে। সে বলে যে, এই লেখকের এটা করা উচিৎ; ওই লেখকের ওটা করা উচিৎ। সে এটাও বলে যে, সে লেখকদের কল্যাণের জন্যে নিজেকে নিয়োজিত করেছে, যদিও কখনই তারা তা জানবে না। এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনি যেভাবেই বলেন না কেন, পড়া একটা খুবই নিষ্ক্রিয় (passive)ধরণের কাজ। আমি নিজেও অবাক হই ভেবে যে, শুধু পাঠকের জীবন আসলেই কাউকে পূর্ণতা দেয় কিনা। 


মিথিলি রাওঃ 
 আসুন, আমরা আপনার পাঠক হিসেবে অভিজ্ঞতার কথা বলি। বিশেষকরে অনুবাদের পাঠক হিসেবে। কোন কোন অনুবাদ আপনি পছন্দ করেন এবং অনুবাদের কোন কোন কাজ আপনার মনের ভেতরে স্থায়ীভাবে গেঁথে আছে? 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
সর্বপ্রথম এবং সন্দেহাতীতভাবে দস্তয়ভস্কি (Dostoevsky)। আমাদের সময়ে লেবাননে দস্তয়ভস্কি অবশ্যপাঠ্য ছিল। 


মিথিলি রাওঃ 
 কেন? 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
আমি আসলেই জানি না। আমরা ’৬০ এর দশকের শেষার্ধ, ’৭০ এর দশকের প্রথমভাগ, এমনকি ’৮০এর দশক পর্যন্ত সময়ের কথা বলছি। বিশেষ করে Crime and Punishment উপন্যাসের জন্যে তিনি বহুল আলোচিত ছিলেন। তারপর টলস্টয় (Tolstoy) । আমার মনে আছে হাইস্কুলের সকল ছাত্ররাই তার বই পড়তো। আমার পরিবারের সকল সদস্যরাই তার বইগুলো পড়েছিল ( এমনকি আমাদের ভেতরে প্রতিযোগিতাও হত কে War and Peace পড়ে শেষ করতে পারে।) তারপর সেটা পরিবর্তিত হয়ে গেল। আসলেন কুন্দেরা (Kundera)। আবার এক সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। সবাইকে দেখা গেল কুন্দেরা পড়ছে। আমার মনে হয় এখন চলছে পাওলো কোয়েলহো’র (Paulo Coelho) সময়কাল। 


মিথিলি রাওঃ 
 আমার ধারণা আপনি ঠিকই বলেছেন। 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
আমি দস্তয়ভস্কি ভালবাসতাম এবং তার পাঠক হিসেবে গর্ব অনুভব করতাম। আমি ভাবতাম যে, ইডিয়ট (Idiot) তার লেখা শ্রেষ্ট বই। আমি টলস্টয়কেও পছন্দ করতাম। তবে সেটা ছিল তার বইগুলো পুনরায় পড়ার সময়ে। এই সময়ে তার রচনাগুলো আমাকে খুবই প্রভাবিত করেছিল। কিন্তু প্রথমপাঠ হিসেবে আমার টীন (teenager) সময়কালে দস্তয়ভস্কিই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। আমি মনে করি তিনি ছিলেন একজন আশ্চর্য রকমের লেখক, যদিও আমি নিশ্চিত নই সেগুলো আমাকে পূর্বের মতো প্রভাবিত করবে কিনা। অন্যদিকে আন্না কারেনিনা (Anna Karenina ) এখনও আমাকে এখনও আমাকে একইভাবে আপ্লুত করে। তবে এটা আমার কম বয়সের সময়ে আমার উপরে কোন প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি। আপনি যদি Rimbaud পুনরায় পাঠ করে থাকেন, তাহলে আপনার মনে হবে যে, পূর্বের পড়ার সময়ে (যখন আপনি হরমোনের দ্বারা উদ্দীপ্ত থাকতেন) আপনার কাছে তা যেরকম গুরুত্বপূর্ণ মনে হতো, এখন আর তা হচ্ছে না। অথচ, সে সময়ে আপনার মনে হতো যে, আপনি পৃথিবীকে পরিবর্তন করতে সক্ষম। আমি এখনও মনে করি যে, ম্যাকবেথ (Macbeth) পৃথিবীর সর্বশেষ্ঠ নাটক। আমার বয়স ছিল চৌদ্দ বা পনের, যখন আমি সেটা পড়ি। আমি তখন লেডি ম্যাকবেথের নীতি দ্বারা পরিচালিত হতাম। 


মিথিলি রাওঃ 
 আপনার লেখার পাঠকদের আদর্শ বয়স কত? 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
 এখন তারা ক্রমশ বয়স্ক হচ্ছে। ‘Koolaids’ আমার অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক সময়কালের বই। আমি মনে করি যে, এই বইটাকে কম বয়সীরা পছন্দ করে থাকে। কিন্তু আমি জানি যে, এটা আসলে বড়দের বই। 


মিথিলি রাওঃ 
 কেন এমন মনে করেন আপনি? 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
 কারণ, আমি মনে করি না যে, বিশ বছর বয়সকালে আমাদের আত্মিক-প্রতিফলন (self-reflective) তেমন শক্তিশালী থাকে। তবে জীবন তখন বাইরের দিকে উদ্দিষ্ট থাকে। কিন্তু এই বই হলো ভেতরের দিকে উদ্দিষ্ট একটি বই। ফলে কমবয়সীরা এতে খুব বেশি আত্ম-প্রতিফলন পায় না। তবে আমি এটাও মনে করি যে,কম বয়সী পাঠকদের ধারণ করতে পারা আসলেই খুব আনন্দের ব্যাপার। 


মিথিলি রাওঃ 
আপনি আপনার The Hakawati-তে একজন গল্পকার নিয়ে নিয়ে গবেষণা করেছেন, যিনি একজন plagiarist। আমি জানতে চাই যে, এটা আলিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিনা, তার অনুবাদও plagiarism হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কিনা। এবং সেক্ষেত্রে এই গলপকারের সংগে তার পার্থক্যটাই বা কি? 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
কোন পার্থক্য নেই। স্পষ্ট করে বললে, আমি plagiarist শব্দটিকে একটা রূপক (metaphor) হিসেবে ব্যবহার করি। হুবহু plagiarism ও হতে পারে। আমি একবার এক লেখককে প্রতিরক্ষা দিয়েছিলাম এই বলে যে, আমরা সকলেই চুরি করে থাকি। তবে যখন কেউ বলে, “ এই লোক আমার বই থেকে ৯২ টা বাক্য নিয়েছে,” অবশ্যই তখন এটা plagiarism। কিন্তু আমাদের দেশে এরকম ধারণা বিরাজমান রয়েছে যে, সৃষ্টিশীল বলতেই এমনকিছুকে বোঝায়, যা সম্পর্কে পূর্বে কখনই ভাবা হয়নি। এটা সঠিক নয়। সত্য হলো যে, পূর্বে চিন্তা করা হয়নি এমন কিছুর অস্তিত্ব আসলেই নেই। 


মিথিলি রাওঃ 
তবে আমি নিজে যেহেতু একটা দৈনিক নিউজ প্রোগ্রামের সাথে জড়িত আছি, সেহেতু আমরা সবসময়েই সৃষ্টিশীল থাকি। অন্তত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। 


রাবিহ আলামেদিনঃ 
ঠিক নয়। আসলে আপনারা অন্যদের কাছ থেকে ধার করছেন সকল সময়ে। জ্ঞানত বা অজ্ঞাতসারে চুরি করছেন। আপনি নিশ্চয়ই সেই বিখ্যাত বাক্যটি জানেন,” একজন ভালো শিল্পী ধার করেন এবং একজন বিখ্যাত শিল্পী চুরি করেন।“ সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এক লেখকের বইয়ের পুরো শেষ দৃশ্যটাই লেখা হয়েছিল আমার এক লেখক বন্ধুর লেখার উপরে ভিত্তি করে। এটাকেই আমি plagiarism বুঝিয়েছি। এর মানে হলো যাকিছু অন্যের ক্ষেত্রে ঘটেছে, আমি সেটাকে নিজের বলে চালিয়ে দিচ্ছি। বড় অনুবাদকদের যে জিনিসটা আমার পছন্দ তা হলো তার অনুবাদ পড়ার সময়ে আপনার কখনই মনে হবে না যে, আপনি অনুবাদ পড়ছেন। বরং মনে হবে যে, ওটা অনুবাদকেরই কাজ। 

আমি যখন পড়ি, ধরুন টলস্টয়ের বই, তখন প্রতিটা অনুবাদই পরস্পর থেকে এতোটাই ভিন্ন যে, সেগূলো টলস্টয়ের কথা হলেও, সেগুলোকে আর তার কথা মনে হয় না। মনে হয় সেগুলো অনুবাদকেরই কথা। তারপরেও এগুলোর মালিকানা লেখকেরই থাকে। কারণ তিনিই এগুলো সৃষ্টি করেছেন। 


মিথিলি রাওঃ 
আমি মনে করি যখন কেউ আবিষ্কার করে যে, কোন লেখকের লেখার অধিকাংশ বাক্যগুলোই অন্য কারো, তখন অনেক লেখকই উত্তর দিয়ে থাকেন যে, বিষয়টি তার অজ্ঞাতসারে হয়েছে। 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
হ্যা। এটা সম্ভব নয়। আমি মনে করি যে, plagiarism বলে অবশ্যই কিছু একটা আছে। আপনি যদি দেখতে পান যে, কোন লেখার অধিকাংশ বাক্যই অন্যের লেখা হতে নেয়া হয়েছে, সে ক্ষেত্রে তা অজ্ঞাতসারে ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে কেউ একজন নিজের প্রতিরক্ষা নিয়েছিল এই বলে যে, তার স্মৃতিশক্তি ফটোগ্রাফিক হবার কারণে এরকম ঘটেছে। সে ক্ষেত্রে আমি বলব, সেটা সম্ভব হলেও হতে পারে। 


মিথিলি রাওঃ 
কিন্তু আপনার যদি ফটোগ্রাফিক মেমোরি হয়ে থাকে, তবে আপনার এটাও মনে থাকার কথা যে, কোথা হতে আপনি ছবিটি নিয়েছিলেন। 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
মজার ব্যাপার হলো যে, আমি মনে করতে সক্ষম নই কোথা হতে আমি জিনিসগুলো নিয়েছি। প্রথম বইয়ে আমি Patrick White এর The Twyborn Affair হতে একটা বাক্য চুরি করেছিলাম। বাক্যটা ছিল “Remembering is a disease I suffer from.” দুই বছর পর যখন আমি উপন্যাসটি পড়তে গেলাম তখন আমি দেখতে পেলাম যে, বাক্যটি আসলে আমি যেভাবে ভেবেছিলাম, সেভাবে চুরি করিনি। আমি ভেবেছিলাম যে, বাক্যটির প্রতিটি শব্দই আমি চুরি করেছি, কিন্তু আসলে তা নয়। আমার লেখায় বাক্যটি ব্যবহৃত হয়েছে রোগের একটা প্রকৃতি হিসেবে। কিন্তু আমার মনের ভেতরে আমি ভেবেছিলাম যে, আমি কিছু একটা চুরি করেছিলাম। আসলে বাস্তবে আমি অন্য কারো গল্প চুরি করে থাকলেও, আমাকে তা নিজের মতো করেই বলতে হয়েছে। 

An Unnecessary Woman উপন্যাসে হান্নাহ এর গল্পের বিষয়ে আমি ঋণ স্বীকার করেছি। ওটা নেয়া হয়েছিল Claudio Magris এর বই হতে। সেখান থেকে আমি রূপরেখা নিয়েছলাম, কিন্তু আমি সেটাকে সম্পূর্ণভাবেই পরিবর্তন করেছি। কিন্তু তারপরেও আমার মনে হয়েছিল যে, আমার ঋণ স্বীকার করা উচিৎ। কারণ, গল্পটা আমার নয়, অন্য কারো। 


মিথিলি রাওঃ 
আপনার পদ্ধতির সবচেয়ে সুন্দর অংশ হলো যে, আপনি কখনোই ভাণ করেন না যে, সেটি শূন্য হতে এসেছে – আপনার মনের প্রতিভা হতে। পৃথিবীতে আপনার পরিপার্শ্বের সকল কিছুই আপনাকে উজ্জীবিত করে থাকে। 

রাবিহ আলামেদিনঃ 
আম নিজেকে চোর বলে সম্বোধন করতে ভালোবাসি। কারণ, আমি সব জায়গা হতেই চুরি করি। এটা কোন নমুনা (sampling) নয়। কারণ নমুনা শেষ পর্যন্ত তার মৌলিক কন্ঠস্বরকেই ব্যবহার করে থাকে। না, আমি সবকিছুকেই পরিবর্তন করে ফেলি। আমার গল্প বলার একটি ধরণ আছে। সেটাই আমার ধরণ। আপনি লেখার বিষয়কে হারিয়ে ফেলবেন, আপনি যদি নিজের মতো করে গল্প বলতে না পারেন। এটা একটা আকর্ষনীয় বিষয়। আমি সবসময়ে এর দ্বারা বিমুগ্ধ হই। 

Hakawati উপন্যাসে অন্যতম একটা গল্প হলো এরকম। এক লোক স্বর্গে যাবার পর শুধু একটার পর একটা জিনিস চাইতেই থাকে এবং চাইতে চাইতে এক পর্যায়ে এতোটাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে যে, শেষ পর্যন্ত সে ঈশ্বরকে বলে,” আমি নরকে যেতে চাই।“ তখন ঈশ্বর তাকে বলেন,” এতক্ষণ তুমি কোথায় ছিলে বলে তুমি মনে করেছো?” একবার একজন আমার প্রকাশককে লিখেছিলো যে, বইটা তিনি পছন্দ করেছেন, তবে তিনি নিশ্চিত হতে চান যে মূলগল্পটি কোথা হতে নেয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন কিনা। তার মতে সেটা নেয়া হয়েছে Twilight Zone এর কোন এপিসোড ( episode) হতে। 

আমি খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম শুনে। কারণ, আমি প্রকৃতপক্ষে গল্পটা নিয়েছিলাম জেন (Zen) বুক হতে, যা আমি পড়েছিলাম যখন আমার বয়স পঁচিশ অথবা তার নিকটবর্তী। আমি প্রশ্নকারীকে বাজি ধরে লিখে জানাতে চেয়েছিলাম যে, Twilight Zone গল্পটি অন্যকোথাও হতে নিয়েছে। 

সুতরাং আমি এটাকে এখানে plagiarism হিসেবেই ব্যবহার করেছি। অন্যকারো জিনিস নিজের বলে ভাণ কেন করতে যাবেন আপনি? ওটার ভেতরে আনন্দ কোথায়? 

------------------------------------------------------------------------------------
প্রকাশিত জানুয়ারী ১৬, ২০১৫ কপিরাইট ২০১৫ মিথিলি জি রাও 

1 টি মন্তব্য: