শনিবার, ১৫ মে, ২০২১

আলেজান্দ্রা লরিয়েনসিচের গল্প: দ্য সিক্রেট


অনুবাদ: হারুন রশীদ

স্টপেজে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই বাসের দরোজাটা ঝাঁ করে খুলে গেল। সিটে বসে এলেনা দেখতে পেলেন যাত্রীরা হুড়াহুড়ি করে উঠে পড়ছে। 
‘ব্যাটা কী জানে এতগুলা লোক কোথায় দাঁড়াবে?’ ড্রাইভারের উপর বিরক্তি প্রকাশ করে জানালার পাশের সিটে বসা কন্যার উদ্দেশ্যে বললেন তিনি।
 
কন্যা মাথা নেড়ে সমর্থন জানালো। সে তার কানে ওয়াকম্যানের হেডফোন লাগিয়ে মাথা দুলিয়ে গান শুনছিল, তার মাথার কালো চুলের উপর নীল হেডফোনের আলো ঝিকমিক করছিল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে এলেনা বাসের জানালার বাইরে দৃষ্টি দিলেন।

‘ব্যাটা কি এখানে গরুছাগল বোঝাই করছে বলে ভাবছে?’ পাশ থেকে খনখনে একটা কন্ঠ বলে উঠল।

কন্ঠটা এলেনার কানে বাজলো। কিশোরী কন্যার দিকে তাকিয়ে তিনি ভাবছিলেন ক্যাসেট কিনতে গিয়ে কতগুলো টাকা অপচয় করেছে মেয়েটা। সামনে তাকিয়ে তিনি এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাঁর কন্যাকে কনুই দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বললেন, ‘জেসি, উঠে দাঁড়াও’।

জেসি কান থেকে হেডফোন খুলে জানতে চাইল, ‘কী ব্যাপার?’

এলেনা ইশারায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে দেখিয়ে বললেন, ‘ওনাকে তোমার সিটটা ছেড়ে দাও।’

জেসি বড় বড় চোখ করে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো, ‘মা, তুমি কি পাগল হয়েছো? আমি এই স্কার্ট পরে ওই লোকগুলোর ঠেলাঠেলির মধ্যে গিয়ে দাঁড়াবো?’

এলেনা তখন নিজের পরিপাটি মার্জিত ট্রাউজারের সাথে জেসির মিনিস্কার্টের তুলনা করে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তারপর উঠে দাঁড়াবার জন্য সামনের হাতলটা খুঁজে নিয়ে বললেন,

‘তোমার সবসময় একটা না একটা অজুহাত থাকে, তাই না?’

‘সে তুমি যাই বলো মা, তোমাকে মানতেই হবে যে ওইসব লোকেরা বয়স্ক মহিলাদের উত্যক্ত করে না।’ জেসি মায়ের দিকে তাকিয়ে কন্ঠে মধু ঢেলে দিয়ে বললো।

তিনি জেসির দিকে তাকিয়ে দেখলেন- কথা শেষ করে সে আবারো তার কানে হেডফোন গুঁজে দিয়েছে। এতক্ষণ কী বলা হলো সেটা ভুলে গিয়ে জানালার বাইরে দৃষ্টি রেখে গানের জগতে ডুবে গেল আবার।

এলেনা সামনে তাকিয়ে দেখলেন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাটি রেলিং এর সাথে চেপে কোনমতে দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা করছে। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে হাতের ইশারায় মহিলাকে ডাকলেন। মহিলা ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসার সময় উপস্থিত লোকদের যে ভাষায় শাপশাপান্ত করছিলেন সেটা শুনলে জেসির তামাটে গালটা লাল হয়ে যেতো।

‘অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ’ কাছাকাছি এসে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা বললেন।

‘না, ঠিক আছে, আরাম করে বসুন আপনি’ মহিলার আটমাস উঁচু পেটের গুঁতো খাবার অস্বস্তিটা আড়াল করার জন্য হাসিমুখে বললেন এলেনা।

জেসির পাশের সিটে বসে মহিলা বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন স্বস্তির সাথে। সে তার হেডফোনের গানেই ডুবে আছে- পাশে কে এসে বসলো তাতে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। এলেনা রেলিংটা হাতে ধরে পা দুটো ফাঁক করে দাঁড়ালেন যাতে বাসের দুলুনি থেকে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়।

‘বেয়াদপ মেয়ে’। বাম পাশ থেকে সেই খনখনে গলার মহিলা বলে উঠলেন।

কথাটা কে বললো এলেনা বুঝতে পারলেন। তবু তিনি না শোনার ভাণ করে দাঁড়িয়ে থাকলেন। পেছন থেকে ভেসে আসা শব্দে মা হিসেবে মেয়েকে উপযুক্ত শিক্ষা দেবার ব্যর্থতাকে দায়ী করা হলো। এটাই শোনার বাকী ছিল তার। তিনি রাগত চোখে জেসির দিকে তাকাতেই জেসির জামার গলার ফাঁক দিয়ে সুঢৌল স্তনের দিকে চোখ গেল। এই মেয়ে এত সুন্দর শরীর কোথা থেকে পেল? বদমাশগুলো যে তাকে পাবার জন্য হন্যে হয়ে আছে সেটা তো খামাকা নয়। তাঁর মনে পড়লো জেসির স্কুলের বন্ধুগুলোর অবিরাম টেলিফোনের কথা। মেয়েটা নিজেকে দেবী মনে করে। অথচ তার উচিত নিজের জায়গায় সামলে থাকা। তার বয়স মাত্র চৌদ্দ বছর। ওই বয়সে এলেনা নিজেও কম সুন্দরী ছিলেন না। শুধু সুন্দরী নয়, তিনি ছিলেন বিদ্রোহীও। তবে একটু চাপাও ছিলেন। ফলে তিনি নিজের সমস্ত আঘাত লুকিয়ে ফেলতে পারতেন। সে কী বহু আগের কথা? বড়জোর আরেক যুগ। ষাটের দশক থেকে নব্বই দশক। এমনকি ত্রিশ বছরও পার হয়নি। ত্রিশ বছর? তাঁর ভাবনা বাধা পেলো যেন। এটা কী সত্যি ত্রিশ বছর হয়ে গেছে যখন তিনি চোদ্দ বছর বয়সী ছিলেন? গত মাসে টিভিতে দেখা জ্যাগারের কুঁচকানো ত্বকের কথা মনে পড়লো।

তাঁর কেমন যেন গা গুলাচ্ছে। এটা কী গরমের জন্য, নাকি এত লোকের গায়ের সম্মিলিত গন্ধের জন্য, তিনি কী বেহুঁশ হয়ে যাবেন? জ্যাগারের বয়স কত হবে এখন? মনে মনে হিসেব করার পাশাপাশি তিনি স্যাণ্ডেলটা দিয়ে তাঁর পাশের জনের এগিয়ে আসা আটকে দেবার চেষ্টা করছিলেন। পাশেই সেই খনখনে গলার মহিলা।

জ্যাগারের বয়স তখন নিশ্চয় ২০ হবে যখন পেলো ম্যাগাজিনে তাঁর মাইক্রোফোন চুম্বনের ছবিটা ছাপা হয়েছিল। সেই ছবির পোস্টারটা তার চককচে ওয়ারড্রোবে পিন দিয়ে আটকে রাখার দৃশ্যটা এখনো তার চোখে ভাসছে। কিথ রিচার্ড একটা টাইট ভেলভেট ট্রাউজার পরা ছিল। বাকীরা যেভাবে তার কোমরঘেঁষে বসেছিল দৃশ্যটা এলেনের খুব প্রিয়। তবে জ্যাগারের গমগমে কন্ঠের কোন তুলনা হয় না। একবার সে যখন তার বেডরুমের দরোজা খোলা রেখে রেকর্ড প্লেয়ারে উচ্চ স্বরে Paint it Black বাজাছিল, তখন মা এসে দুহাতে তার মাথাটা ওয়ার্ডরোবের সাথে চেপে ধরেছিলেন। বেচারী বুড়ো মা।

জেসির এখন সেরকম একজোড়া হাতের দরকার ছিল তার গালের উপর চেপে বসার জন্য। আসলেই কী ৩০ বছর হয়ে গেছে? তাঁর ভাবনা বাধাগ্রস্থ হলো পেছন থেকে গায়ের উপর এসে পড়া একটা চাপে। তিনি বুঝতে পারলেন মুখরা মহিলাটির চাপ থেকে বাঁচার জন্য তাঁকে একপাশে সরে গিয়ে জায়গা দিতে হবে নইলে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাটির শরীরের উপর চেপে দাঁড়াতে হবে। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন বাঁ দিকে মহিলাটির দিকে চেপে দাঁড়াতে। তার আগে একবার মহিলার দিকে তাকিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিলেন। তাকিয়ে দেখতে পেলেন বয়স্ক মহিলার ঠোঁটের ওপর এক জোড়া পাতলা গোঁফের আভাস যার দুপাশে ঘামের চিকন রেখা নেমে গেছে। মহিলাটি তাঁর চেয়ে বয়স্ক সন্দেহ নেই। তবে ত্রিশ বছরের বেশী হবে না এটা নিশ্চিত। ত্রিশ বছর আগে তাঁরও চোদ্দ বছরের কিশোরীকাল ছিল এই কথা ভাবার সাথে সাথে পেছন দিকের চাপ লাগলো আবারো। ত্রিশ বছর আগে তাঁরও চোদ্দ বছরের কিশোরীকাল ছিল এই কথা ভাবার সাথে সাথে পেছন দিকের চাপ লাগলো আবারো।

‘আমি দুঃখিত, আমিও পেছন দিক থেকে ধাক্কা খেয়েছি।’ বয়স্ক মহিলার গায়ের উপর পড়তে গিয়ে সামলে নিয়ে বললেন তিনি।

‘বাচ্চাটার উঠে দাঁড়ানো উচিত’ বয়স্ক মহিলাটি খনখনে গলায় বলে উঠলেন।

এলেনা একটু হাসার চেষ্টা করে মহিলার উত্তরকে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করলেন। কিন্তু পরক্ষণেই ভাবলেন এটা অতি বিনয় হয়ে যাচ্ছে, তাঁর অহংবোধ আহত হচ্ছে। তিনি তাঁর চোদ্দ বছর বয়সের বেয়াড়া অহংবোধ যা গেসেলের পাইনবনের নীচে ঘুমিয়ে আছে সেটার কথা ভাবলেন। বয়স মাত্র চোদ্দ বছর কিন্তু অসমসাহসী ছিলেন তিনি। এবার একটু রেগে তাঁর পেছনদিকে খানিকটা জায়গা উদ্ধার করার কথা ভেবে ঘুরে তাকাতে দেখতে পেলেন ঠিক তার ঘাড়ের উপরেই সোনালী চুলের একটা ছেলে হাসিমুখে তাকিয়ে আছে। এলেনা ভাবলেন, কী সুন্দর ছেলেটার চোখ দুটো।

‘তুমি আমাকে ধাক্কা দিচ্ছো’ বললেন এলেনা। বলেই তিনি বুঝতে পারলেন কথাটা যথেষ্ট অভিযোগের সুরে বলেননি, বরং কিছুটা সম্মতির ছাপ তাতে।

‘খুব দুঃখিত। আমিও পেছন থেকে ধাক্কা খাচ্ছি’ ছেলেটা নির্বিকার স্বরে বললো।

এলেনা ছেলেটার দিকে পেছন ফিরে দাঁড়ালেন। কী মুগ্ধ করা কন্ঠস্বর। ছেলেটা আধখোলা মুখ থেকে ‘দুঃখিত’ শব্দটা এমন মধুর স্বরে বেরিয়ে এসেছে এলেনা রীতিমত পুলকিত। ছেলেটার আকর্ষণীয় ঠোঁট জোড়া তাঁকে রীতিমত উত্তেজিত করে তুললো। তিনি চোখ বন্ধ করে ফেললেন। কিন্তু বামদিক থেকে পেটের উপর কনুইয়ের গুঁতোয় তিনি সম্বিত ফিরে পেলেন। এবার বুড়ি মহিলার সাথে তার বয়সের পার্থক্যটা স্পষ্ট হলো। মহিলার চোখে জিজ্ঞাসাসূচক ইঙ্গিত নিয়ে জানতে চাইলেন, ‘ছেলেটা কী তোমাকে উত্যক্ত করছে?’

‘কে?’ এলেনা জানতে চাইলেন।

‘তোমার পেছনের ছেলেটা?’ মহিলা বললেন।

এলেনা কাঁধ ঘুরিয়ে পেছন দিকে তাকিয়ে জবাব দিলেন, ‘না তো।’

ছেলেটা তাঁর দিকে তাকিয়ে কেমন করে যেন চোখ টিপে দিল।

এলেনার বুকের ভেতর ছ্যাৎ করে উঠলো। ছেলেটার চোখে কী মোহনীয় চাউনি। তিনি বৃদ্ধা মহিলার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। তাঁর গণ্ডদ্বয় রাঙা হয়ে উঠেছিল এবং সেটা গরমের কারণে নয়। এক সেকেণ্ড পরই তিনি তাঁর নিতম্বে একটা কিছুর ঘষা অনুভব করলেন। পেছন দিকে ট্রাউজারের ওপর দিয়ে জিনিসটা তাঁকে খোঁচা দিচ্ছে এবং মনে হলো কিছু একটা প্রতিউত্তর চাইছে। তিনি সেটাকে এড়াতে পারলেন না, কিংবা এড়াতে চাইলেন না। তাঁর হাঁসফাঁস লাগছিল রীতিমত। তিনি জেসির দিকে তাকালেন। যে মাথা নাড়ছে গান শুনতে শুনতে। বাস থেকে নেমে ব্যাপারটা নিয়ে জেসির সাথে কিভাবে আলাপ করবেন সেটা নিয়ে ভেবে আমোদ পাচ্ছিলেন। হুঁ হুঁ, খুব তো বলেছিলে তারা বয়স্কদের প্রতি আগ্রহী না। এবার শোনো কী হয়েছে….. না, তিনি এই ব্যাপারটা জেসিকে বলবেন না। এটা তার নিজের কাছেই থাকবে শুধু।

ত্রিশ বছর আগে পাইনের বনে যে কিশোরী গোপন প্রেমের কথা লুকিয়ে রেখেছিল, এটাও সেরকম গোপন থাকবে। তুমি চল্লিশোর্ধ এক মহিলা এলেনিতা, এখনো তুমি সেই আনন্দ পেতে পারো যা তুমি কৈশোরে পেতে। তিনি নিজেকে নিয়ে খুব গর্ব বোধ করলেন এবং তাঁর নিতম্বকে আরো পেছনে ঠেলে দিলেন ছেলেটার দিকে যাতে ছেলেটা আরেকটু বেশী চাপ দিতে পারে। তিনি তাঁর ঘাড়ের ওপর ছেলেটার উত্তপ্ত নিঃশ্বাস অনুভব করছিলেন। উত্তেজনায় তাঁর স্তনবৃন্ত শক্ত হয়ে গিয়েছে। তবে তিনি বামদিকে বুড়ি মহিলার বিরক্তিকর চাহনীটা সম্পর্কেও সচেতন ছিলেন। বুড়ি জানে এখানে কী চলছে। কিন্তু তার এখানে তার নাক গলানো অনুচিত। অন্তঃসত্ত্বা মহিলাটা হাতের কাগজ দিয়ে বাতাস করছিল। এলেনাও ঘামছিলেন, কিন্তু সেটা গরম থেকে নয়। এলেনা ভাবছিলেন তিনি যদি অজ্ঞান হয়ে পড়েন তাহলে ছেলেটার বাহুডোরে এলিয়ে পড়বেন।

তিনি জেসির নড়াচড়া দেখে সচকিত হয়ে উঠলেন। জেসি ক্যাসেটটা উল্টে দিচ্ছিল। তারপর ভলিউম ঠিক করে তাঁর দিকে তাকিয়ে ইশারায় ভ্রু নাচালো এবং মাথা ঝাঁকিয়ে ইশারায় জানতে চাইল, সব ঠিক আছে? এলেনা ভাবছিলেন তাঁর চেহারায় উত্তেজনার রক্তিম ছাপটা ধরা পড়ে যাচ্ছে কিনা। সেই ছাপ যা কয়েকদিন আগে বাথরুমের আয়নায় নিজের নগ্ন শরীর দেখার পর পড়েছিল।

জেসিকে ইশারায় আশ্বস্ত করলেন তিনি ঠিক আছেন। জেসি জানালার বাইরের দিকে চোখ দিল এবং তিনি নিশ্চিন্তে মন দিলেন পেছন দিকে যা ঘটছিল তার দিকে। এটা কী সত্যি সম্ভব তার বয়সী একজন মহিলার সাথে শরীর চেপে আনন্দ পাচ্ছে এরকম এক অল্প বয়সী তরুণ? দুজনের মধ্যে সংঘটিত এই ব্যাপারের গোপন আনন্দটি লুকোতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। গোপনই থাকুক এটা। জেসিকে কখনোই বলবেন না তারা বয়স্ক মহিলাদের সাথেও যা করে। তিনি তাঁর দুই হাতই উপরের হাতলে রেখে এমনভাবে দাঁড়ালেন যেটা ছেলেটার কাছে সম্পূর্ণ সমর্পনের লক্ষণ। উপভোগ করতে করতে তিনি চোখ বন্ধ করে ফেলে মিক জ্যাগারের ‘সুগার ব্রাউন’ গানটার কথা ভাবতে লাগলেন।

পাশ থেকে তিরস্কারের শব্দ শুনে তিনি চোখ মেললেন। তাঁর পেছনদিকের চাপটা সরে গেছে। তিনি আবারো বয়স্ক মহিলাটির কনুইয়ের গুঁতো অনুভব করলেন তার পাঁজরে। তাঁর চারপাশে একটা গুঞ্জনধ্বনি। পেছনদিকে তাকিয়ে তিনি দেখতে পেলেন ছেলেটা বাস থেকে নেমে যাচ্ছে।

‘আপনার হাতব্যাগটা চেক করেন জলদি করে।’ বয়স্ক মহিলা চোখা স্বরে বললেন।

‘আপনার ব্যাগের চেইনটা তো খোলা।’ অন্তঃসত্ত্বা মহিলা তাঁর হাতব্যাগের দিকে আঙুল নির্দেশ করে বললেন।

এলেনা ঝট করে ব্যাগের ভেতর হাত ঢুকিয়ে দিলেন। হাত দিয়েই অনুভব করলেন ওয়ালেটটা নেই।

বয়স্ক মহিলা এবার খনখনে গলায় বলে উঠলেন, ‘দেখলেন, দেখলেন আমি তখন থেকেই আপনাকে এটা বলার চেষ্টা করছিলাম। তারা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে...’

এলেনা এবার বয়স্ক মহিলার দিকে কড়া চোখে তাকালেন এবং এক টানে ব্যাগের চেইনটা বন্ধ করলেন। তারপর দৃঢ়তার সাথে বললেন, ‘কী করে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে? কই আমার তো কিছুই হারানো যায়নি!’
-----------------------------------------------------------------------------------------
মূল গল্প: ALEJANDRA LAURENCICH এর THE SECRET

লেখক পরিচিতি:
লেখক- সম্পাদক আলেজান্দ্রা লরিয়েনসিচের জন্ম ১৯৬৩ সালে বুয়েনস আয়ার্সে। তিনি স্পেনিশ ভাষায় প্রকাশিত La Balandra নামের একটি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তাঁর দুটো উল্লেখযোগ্য উপন্যাস Vete de mí (2009) এবং Las olas del mundo ( 2015) তিনি PEN Argentina এর সদস্য। তাঁর লেখালেখি ইংরেজি, হিব্রু, শ্লোভেনিয়া, জার্মান, পর্তুগীজ ভাষায় অনুদিত হয়েছে



অনুবাদক পরিচিতি:

হারুন রশীদ

গল্পকার। অনুবাদক। ইতিহাস গবেষক

চট্টগ্রামে থাকেন।








৩টি মন্তব্য: