শনিবার, ১৫ মে, ২০২১

রোয়াল্ড ডাল'এর গল্প: স্বর্গের রাস্তা


অনুবাদ: মনিজা রহমান

মিসেস ফস্টারকে সারাজীবনই একটি মানসিক শঙ্কা তাড়া করে। ট্রেন, প্লেন, কিংবা স্টিমার ছাড়ার আগে পৌছাতে পারবেন তো! এমনকি থিয়েটারের পর্দা ওঠার আগে পৌছানোর ব্যাপারেও তিনি একইরকম শঙ্কায় থাকতেন। অথচ বাস্তবে তিনি নার্ভাস ধরনের মানুষ নন। 
কিন্তু সময় মত পৌছানোর চিন্তা তার স্নায়ুর ওপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে, যেটা তিনি নিতে পারেন না। সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হল- গোপণে চোখ মারার মত বাম চোখের একটা মাংসপেশী উচুঁ হয়ে থাকা। এমনকি ট্রেন কিংবা প্লেনে চড়ার এক ঘন্টা পরেও সেই উচুঁ হওয়া মাংশপেশী অদৃশ্য হতে চাইত না। 
 
এটাকে সত্যিই অস্বাভাবিকই বলতে হবে, কোন মানুষের সময়মত ট্রেন ধরতে না পারার দুশ্চিন্তা ক্রমে বাড়তে বাড়তে গুরুতর মানসিক রোগে পরিণত হতে পারে। এই যেমন, মিসেস ফস্টার ট্রেন স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হবার আধ ঘন্টা আগে থেকে টুপি, কোট আর দস্তানা পরে একদম প্রস্তুত হয়ে যান। তারপর তিনি আর কোথাও বসতে পারেন না। এক রুম থেকে আরেক রুমে হাঁটাহাঁটি করেন আর বিড়বিড় করতে থাকেন। তার এই উসখুস ভাব চলতেই থাকে। স্ত্রীর এই ব্যাপারটি মিস্টার ফস্টার ভালোভাবে জানেন। শেষমেশ আড়াল থেকে বের হয়ে তিনি ঠান্ডা শুস্ক গলায় বলেন- ‘আমরা কি এখন যেতে পারি, পারি কিনা?’ 
 
স্ত্রীর বোকামির কারণে বিরক্ত হবার সব ধরনের অধিকার মি. ফস্টারের আছে। কিন্তু অযথা অপেক্ষা করিয়ে স্ত্রীর দুর্দশা বাড়ানোর কোন অধিকার তার নেই। নিশ্চিত করে আপনি বলতে পারবেন না, তিনি ইচ্ছে করে এই কাজটি করেছেন, তবুও যখনই তারা কোথাও যাবেন, তখনই সেখানে তারা এক বা দুই মিনিট দেরি করে ফেলতেন, স্বামী লোকটি সুকৌশলে এই কাজটি করতেন! 
 
স্বামীপ্রবরের পদ্ধতিটি এতটা নির্লজ্জ যে এটি বিশ্বাস করা কঠিন- তিনি অসুখী এক ভদ্রমহিলার ওপর উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিজের এই বিকৃত অত্যাচার দিনের পর দিন চালিয়ে আসছিলেন। একটা জিনিষ স্বামী ভদ্রলোক খুব ভালো করে জানতেন, স্ত্রী তাকে কখনই যাবার জন্য ডাকতে কিংবা তাড়াহুড়ো করার জন্য কিছু বলতে সাহস করবে না। এজন্য স্ত্রীকে খুব ভালো ভাবে তৈরী করেছিলেন। স্বামী জানতেন যদি তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, তাহলে বলা যায় না তার স্ত্রী পাগলও হয়ে যেতে পারে। বিবাহিত জীবনের প্রথম কয়েক বছরে অবশ্য দুইএকবার এই কাজটি করেছেন, ইচ্ছে করে ট্রেন মিস করে স্ত্রী বেচারীকে দুর্দশায় ফেলে দিতেন।
 
ধরে নেয়া যায় স্বামী দোষী ছিলেন (যদিও কেউ নিশ্চিত নন), তবে তার এই মনোভাবকে দ্বিগুন অযৌক্তিক করে তুলেছিল এই জন্য যে- সামান্য নিরাময় অযোগ্য এই অক্ষমতা ছাড়া মিসেস ফস্টার ছিলেন একজন ভালো ও প্রেমময় স্ত্রী। তিরিশ বছরের বেশী সময় ধরে তিনি স্বামীর অনুগত ছিলেন। সব ধরনের সেবা দিয়ে আসছিলেন। এই নিয়ে তার স্বামীর মনে কোন সন্দেহ ছিল না। এমনকি তিনি ছিলেন সচেতনভাবে বিনয়ী একজন নারী। যদিও বহু বছর ধরে নিজেকে এই বিশ্বাস করতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, মিস্টার ফস্টার সচেতনভাবে তাকে যন্ত্রণা দিতে পারেন। যদিও এমন একটা সময় সত্যি এসেছিল যখন তার এরকমই মনে হতে লাগল। 
 
মিস্টার ইউজিন ফস্টার, যিনি প্রায় সত্তর বছর বয়সী ছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির ইস্ট সিক্সটি সেকেন্ড স্ট্রিটের একটি বিশাল ছয় তলা বাড়িতে থাকতেন। তাদের চারজন গৃহকর্মী ছিল। অন্ধকারাচ্ছন্ন বাড়িতে খুব কম লোকই তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসত। তবে জানুয়ারির এই বিশেষ সকালে বাড়িটি জীবিত হয়ে উঠেছিল। বেশ একটা হৈচৈ পড়েছিল গিয়েছিল চারদিকে। একজন দাসী প্রত্যেক ঘরে ধুলার আস্তরণ না পরার জন্য চাদরের বান্ডিল বিতরণ করছিল। অন্য একজন ফার্নিচারের ওপরে সেগুলো টানছিল। বাটলার স্যুটকেসগুলি নামিয়ে হলরুমে রাখছিলেন। রাঁধুনী রান্নাঘর থেকে বারবার আসা যাওয়া করছিলেন আর বাটলারের সঙ্গে কথা বলছিলেন। 
 
মিসেস ফস্টার নিজেই একটি পুরনো ফ্যাশনের পশম কোট এবং একটি মাথায় একটা টুপি পরে, ঘর থেকে ঘরে ঘুরে তাদের কর্মকান্ডগুলি তদারকি করার ভান করছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, তার স্বামী শিগগির স্টাডিরুম থেকে বেরিয়ে এসে বাইরে যাবার প্রস্তুতি শুরু না করলে, তিনি তার বিমানটি মিস করতে পারেন, এছাড়া তিনি কিছুই ভাবতে পারছিলেন না। 
 
‘ওয়াকার, এখন কয়টা বাজে?’ তিনি বাটলারকে বলরেন। লোকটা পাশ দিয়ে যাচ্ছিল ।

‘নয়টা দশ বেজে গেছে ম্যাডাম।’’

‘আর গাড়ি কি এসেছে?’’

‘হ্যা ম্যাডাম। গাড়ি অপেক্ষা করছে। আমি এখনই মালপত্র রাখতে যাচ্ছি।’’

মিসেস ফস্টার বললেন, ‘‘আইডলওয়াইল্ড যেতে এক ঘন্টা সময় লাগবে।’ ‘‘ সেখান থেকে আমার বিমান রাত এগারোটায় আকাশে উড়াল দেবে। আনুষ্ঠানিকতার জন্য আধ ঘন্টা ব্যয় হবে। আমি দেরী করে ফেলব। আমি কেবলি মনে হচ্ছে আমি দেরী করে ফেলব।’

‘আমার মনে হয় ম্যাডাম আপনার হাতে প্রচুর সময় আছে।’’ বাটলার অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বললেন। ‘আমি মি: ফস্টারকে নয়টা পনেরোতে যাবার ব্যাপারে সতর্ক করে দেব। তার আরও পাঁচ মিনিট বাকি আছে।’’

‘হ্যাঁ, ওয়াকার, আমি জানি, আমি জানি। তবে মালপত্র একটু তাড়াতাড়ি নিয়ে এসো, প্লিজ! ”

এই বলে ভদ্রমহিলা হলরুমের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় হাঁটতে লাগলেন। আর যখনি বাটলার সামনে পরছিল- সময় জিজ্ঞাসা করছিলেন। আর নিজেকে বলতে থাকলেন, ‘‘আমি নিশ্চয়ই বিমানটি মিস করব না ‘’

বাইরে যাবার জন্য স্বামীকে রাজি করাতে তার কয়েক মাস সময় লেগেছিল। এখন যদি স্ত্রী ফ্লাইট মিস করে, তবে স্বামী মহাশয় সহজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবেন যে-পুরো যাত্রাটা বাতিল করে দেয়া উচিত। মুশকিল হল, স্বামী ভদ্রলোক নিজেই জোর করেছেন বিমানবন্দরে গিয়ে স্ত্রীকে বিদায় জানানোর ব্যাপারে।

"হায় খোদা," ভদ্রমহিলা উচ্চস্বরে বলছিলেন, "আমি এটি মিস করছি। আমি জানি,আমি জানি- আমি ফ্লাইটটা মিস করতে যাচ্ছি।" বাম চোখের পাশের ছোট্ট পেশীটি এমনভাবে দপদপ করছিল, ভদ্রমহিলার মনে হল তিনি পাগল হয়ে যাবেন। প্রায় কেঁদে দেবার মত অবস্থা তার।

"ওয়াকার, কয়টা বাজে এখন?"

"ম্যাডাম, আঠারো মিনিট পেরিয়ে গেছে।"

"এখন আমি সত্যিই এটি মিস করব!" ভদ্রমহিলা কাঁদতে লাগলেন, "ওহ, আমি আশা করছি এখনই আমার স্বামী স্টাডিরুম থেকে বের হয়ে আসবেন!"
 
এই যাত্রাটা মিসেস ফস্টারের জন্য বিশেষ কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি প্যারিসে একা একা যাচ্ছিলেন তার একমাত্র সন্তানের সাথে দেখা করতে। তার একমাত্র কন্যা একজন ফরাসীকে বিয়ে করেছিল। মিসেস ফস্টার ফরাসী মেয়ে জামাইকে খুব বেশী পাত্তা দিতেন না। তবে তিনি তার কন্যার প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তার চেয়েও বড় কথা, তিনি তিন নাতি নাতিকে চোখে দেখার জন্য আকুল আকাঙ্খা বোধ করছিলেন।

নাতিদের যে ছবিগুলি মিসেস ফস্টার পেয়েছিলেন সেটা দিয়েই তিনি ওদের চিনেছিলেন। সেই ছবিগুলি তিনি পুরো বাড়ির কোনায় কোনায় টাঙ্গিয়ে রেখেছিলেন। ছবিগুলি সুন্দর ছিল। তিনি রীতিমত স্নেহান্ধ ছিলেন। প্রতিবার কোনও নতুন ছবি এলে তিনি সেটাকে দীর্ঘসময় বসে বসে দেখতেন। ভালোবাসার চোখ দিয়ে তিনি ছবিগুলিকে অবলোকন করতেন। আর ছবির মুখগুলির মধ্যে রক্তসম্পর্কের লক্ষণগুলি খুঁজতেন।

ইদানীং তিনি অনুভব করতে পারছিলেন, সত্যিকার অর্থে তিনি এমন কোন জায়গায় থাকতে চান, যেখানে এই শিশুদের কাছাকাছি থাকতে পারবেন। তাদের সাথে দেখা করতে, তাদের নিয়ে বাইরে ঘুরতে, তাদেরকে উপহার কিনে দিতে, এবং তাদের বেড়ে ওঠা দেখতে চান। তিনি অবশ্যই জানতেন, স্বামী জীবিত থাকতে এ জাতীয় চিন্তাভাবনা করা অন্যায়। তিনি আরও জানতেন, তার স্বামী আগের মত নানা ধরনের ব্যবসা কর্মকান্ডে যুক্ত নন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি কখনও নিউইয়র্ক ছেড়ে প্যারিসে বাস করতে রাজি হবেন না। তবে এটা প্রায় একটি অলৌকিক বিষয় ছিল, স্বামী তাকে ছয় সপ্তাহের জন্য প্যারিসে গিয়ে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। ওহ, কিন্তু তিনি মনে মনে সব সময় চাইতেন ওখানে গিয়ে সব সময় থাকতে। আর ওদের কাছাকাছি থাকতে।

"ওয়াকার, এখন সময় কত?"

"বাইশ মিনিট চলে গেছে, ম্যাডাম।"

তিনি কথা বলতে বলতে দরজা খুলে গেল এবং মিস্টার ফস্টার হলরুমের ভিতরে প্রবেশ করলেন, এক মুহূর্তের জন্য তিনি দাঁড়ালেন এবং মনোযোগের সঙ্গে স্ত্রীর দিকে তাকালেন। স্ত্রীও ঘুরে তাকালেন, ছোটখাট কিন্তু এখনও চটপটে একজন বয়স্ক দাড়িওয়ালা মানুষ, যার সঙ্গে এন্ড্রু কার্নেগির পুরনো ছবিগুলির বেশ বিস্ময়কর সাদৃশ্য আছে।

"বেশ," মি: ফস্টার বলে ওঠেন, "আমি মনে করি তুমি যদি উড়োজাহাজটি ধরতে চাও তবে আমাদের শিগগিরই রওনা হওয়া দরকার।”

"হ্যাঁ, প্রিয়, হ্যাঁ! সবকিছু প্রস্তুত।” মিসেস ফস্টার বললেন, “গাড়ী অপেক্ষা করছে। "

" খুব ভাল," স্বামী বলে ওঠেন। একদিকে মাথা রেখে স্ত্রীকে তিনি খুব কাছ থেকে দেখছিলেন। অদ্ভুত এক ‍উপায়ে তিনি মাথা খাড়া রেখে ছোট ছোট দ্রুত লয়ে সেটাকে ঝাঁকাতেন। হাত দুটি বুকের সামনে হাততালির দেয়ার ভঙ্গীতে রেখে দাঁড়াতেন। তাঁকে দেখতে অনেকটা কাঠবেড়ালির মত লাগতো। পার্ক থেকে বের হওয়া একটি দ্রুত চালাক পুরাতন কাঠবেড়ালি।

‘‘প্রিয়, এখানে আপনার কোট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওয়াকার। পরে নিন।”
 
"এক মিনিটের মধ্যে আসছি," তিনি বলেন। " শুধু আমার হাত ধুতে যাচ্ছি।"

স্ত্রী অপেক্ষা করতে লাগল। লম্বা বাটলার তাঁর পাশে কোট এবং টুপি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

‘‘ওয়াকার, আমি কি ফ্লাইট মিস করব?’’

‘‘না, ম্যাডাম,” বাটলার বললেন। ‘‘আমার মনে হয় আপনি ফ্লাইট ধরতে পারবেন।”

তারপরে মিঃ ফস্টার আবার উপস্থিত হলেন। বাটলার ওনাকে তাঁর কোটটি পরতে সহায়তা করলেন।

মিসেস ফস্টার তাড়াতাড়ি বাইরে গিয়ে ভাড়া করা ক্যাডিল্যাকে উঠলেন। স্বামী পিছন পিছন বের হয়ে এলেন। তবে তিনি আকাশ পর্যবেক্ষণ করতে করতে এবং শীতের সকালে শীতল বাতাসে নি:শ্বাস নিতে নিতে বাড়ির সিড়ির ধাপগুলি পার হলেন।

"কিছুটা কুয়াশাচ্ছন্ন লাগছে," তিনি গাড়ীতে স্ত্রীর পাশে বসে বললেন।

এই আবহাওয়া বিমানবন্দরে সব সময় খারাপ হয়। ফ্লাইটটি ইতিমধ্যে বাতিল হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। "

"প্রিয়, দয়া করে এই ধরনের কথা বলবেন না।"

গাড়িটি নদীর উপর দিয়ে লং আইল্যান্ড পর্যন্ত না যাওয়া পর্যন্ত তারা আর কোন কথা বলল না।

‘‘আমি চাকরবাকরদের জন্য একটা বন্দোবস্ত করেছি," মিস্টার ফস্টার বললেন। ‘‘তারা সবাই আজ চলে যাচ্ছে। আমি তাদের ছয় সপ্তাহের জন্য অর্ধেক বেতন দিয়েছি। ওয়াকারকে বলেছি যখন আমরা তাদের আবার চাইব, তখন তাকে একটা টেলিগ্রাম পাঠিয়ে দেব।’’

"হ্যাঁ," মিসেস ফস্টার বললেন। ওয়াকার আমাকে বলেছে। ”

“আমি আজ রাতেই ক্লাবে ঢুকব। ক্লাবে থাকাটা একটা দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা হবে ”

‘‘আচ্ছা প্রিয়তম, আমি আপনাকে চিঠি লিখব। "

"সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা জানতে আর চিঠিপত্র নেবার জন্য আমি মাঝে মাঝে বাড়িতে আসব।”

"তবে আপনার কি সত্যিই মনে হচ্ছে না, জিনিসপত্র ঠিকভাবে দেখাশোনা করার জন্য ওয়াকারের বাড়িতে সবসময় থাকা উচিত ছিল?" মিসেস ফস্টার নম্রভাবে জিজ্ঞাসা করলেন।

"আজেবাজে কথা বোল না তো! যত্তসব অপ্রয়োজনীয় কথা। ওয়াকারকে বাড়িতে রাখলে আমাকে ওর পুরো মজুরি দিতে হবে, সেই খেয়াল আছে!"

"ওহ হ্যাঁ, হ্যাঁ" মিসেস ফস্টার বললেন। "অবশ্যই।"

"আর তোমার কোন ধারণাই নেই, চাকর-বাকররা যখন ঘরে বসে থাকে তখন তারা কী করতে পারে," - ঘোষনার ভঙ্গীতে কথাটা বলে মিস্টার ফস্টার একটি সিগার বের করলেন। সিলভারের কাটার দিয়ে সিগারেটের প্রান্তটি কেটে নিয়ে সোনার লাইটার দিয়ে সেটা জ্বালালেন।

মিসেস ফস্টার গলায় ফাঁস দেবার মতো দুই হাত দিয়ে গলাটা আকড়ে ধরে গাড়িতে বসেছিলেন।
 
"আপনি কি আমাকে চিঠি লিখবেন?’’

‘দেখি,’’ মিস্টার ফস্টার বললেন, ‘তবে আমার সন্দেহ আছে। তুমি জান যে জরুরী কিছু বলার না থাকলে আমি চিঠি লিখতে পারিনা।”

‘‘হ্যা প্রিয়তম, আমি জানি। সেজন্য আপনাকে বিরক্ত করতে চাই না।”

তারা কুইন্স বুলেভার্ড বরাবর চলল। যখন তারা ফ্লাট মার্শাল্যান্ডের কাছে পৌঁছাল, দেখতে পেল কুয়াশা আগের চেয়ে ঘন হবার কারণে গাড়ির গতি ধীর হয়ে যাচ্ছে।

"ওহে প্রিয়!" মিসেস ফস্টারকে কেঁদে ফেললেন। "আমি নিশ্চিত ফ্লাইটটা মিস করব! এখন কয়টা বাজে?"

"চেঁচামেচি বন্ধ কর তো," স্বামী বললেন। " আর কোন পথ আমি দেখছি না। ফ্লাইট এখন বাতিল হতে বাধ্য। এই ধরণের আবহাওয়ায় প্লেন কখনও উড়ে যায় না। এই অবস্থায় তুমি কেন বাইরে যাবার জন্য বিরক্ত করছ আমি জানি না। "

স্ত্রী ঠিক নিশ্চিত নন, তবে তার কাছে মনে হচ্ছিল হঠাৎ স্বামীর কণ্ঠে অচেনা এক সুর ভর করেছিল। সে স্বামীর দিকে ফিরে তাকাল। মাথাভর্তি চুলের নীচে তাঁর অভিব্যক্তির কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করা কঠিন ছিল।

তাছাড়া স্বামীর মুখ দেখে মনের অবস্থা গননা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। ইচ্ছে হচ্ছিল, যেমনটি তিনি আগে প্রায়শই করতেন, যাতে তিনি মুখটি পরিষ্কার দেখতে পান। একমাত্র তিনি যখন রেগে থাকতেন তখন চোখে ক্রোধ ছাড়া অন্য কিছু দেখা যেতনা।

"অবশ্যই," তার স্বামী একইভাবে বলে চলছিলেন, "যদি কোনও সুযোগে প্লেনটি আকাশে ওড়েও, তবে আমি তোমার সাথে একমত -তুমি এটি মিস করবে নিশ্চিত! তুমি এখনও কেন যাবার পরিকল্পনা বাতিল করছ না, আমি বুঝতে পারছি না? ”

মিসেস ফস্টার মুখ ঘুরিয়ে জানালা দিয়ে বাইরের কুয়াশা দেখতে লাগলেন।

গাড়ি চলার সাথে সাথে কুয়াশা যেন আরও ঘন হয়ে উঠেছে বলে মনে হল তার। তিনি কেবল রাস্তার সামান্য অংশ দেখতে পাচ্ছেন, পুরোটাই যেন কুয়াশায় অদৃশ্য। তিনি জানতেন তার স্বামী এখনও তার দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি আবার স্বামীর দিকে ঘুরে তাকালেন, এবং এবার তিনি এক ধরণের আতঙ্কের সাথে লক্ষ্য করলেন যে সে তার বাম চোখের কোণার সামান্য জায়গায় লাফাচ্ছে। আর যেটা যেন ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে। যেন সে পেশী কুঁচকানো অনুভব করতে পারে।

"তুমি তাহলে করবে না?"

স্ত্রী বললেন. "আমি কি করব না?"

“যদি ফ্লাইট ওড়েও তুমি নিশ্চিতভাবে মিস করবে। এই বাজে আবহাওয়ার মধ্যে দ্রুত গাড়ি চালানো সম্ভব না। "

এরপরে তিনি আর কিছু বললেন না। গাড়িটি হামাগুড়ি দেবার মত করে আস্তে আস্তে চলেছে। রাস্তার ধারে হলুদ বাতি জ্বলতে দেখে ড্রাইভার গাড়ি চালিয়ে গেল। কুয়াশার ভিতর থেকে কখনও সাদা এবং কখনও হলুদ বাতি বেরিয়ে আসতে লাগল। একটি বিশেষভাবে উজ্জ্বল আলো ছিল যা সমস্ত সময় তাদের পিছনে অনুসরণ করতে লাগল।

হঠাৎ চালক গাড়ি থামালেন। "এখানে এসে আমরা আটকে গেলাম!" মিঃ ফস্টার সাহেব চিৎকার করে উঠল। " আমি এটা জানতাম।"

"না স্যার," ড্রাইভার ঘুরে বললেন। “আমি পেরেছি স্যার। এই যে বিমানবন্দর। ”

কোনও কথা ছাড়াই মিসেস ফস্টার গাড়ি থেকে লাফিয়ে নামলেন। ভবনে প্রবেশপথে ঢুকে পড়লেন। ভিতরে প্রচুর লোক ছিল। বেশিরভাগ মানুষ টিকিট কাউন্টারগুলির আশেপাশে বিচ্ছিন্নভাবে দাঁড়িয়ে ছিল।

মিসেস ফস্টার পথে সবাইকে ধাক্কা দিয়ে ক্লার্কের কাছে চলে এলেন।

"জি ম্যাডাম," ক্লার্ক জানালেন, “আপনার বিমান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে দয়া করে দূরে যাবেন না। আমরা আশা করছি আবহাওয়া যে কোনও মুহুর্তে পরিষ্কার হয়ে যাবে।"

মিসেস ফস্টার তার স্বামীর কাছে ফিরে এলেন। তিনি এখনও গাড়ীতে বসে ছিলেন। তাকে সংবাদটা জানালেন।

”আপনি আর অপেক্ষা করবেন না প্রিয়," মিসেস ফস্টার বললেন। "তার কোন দরকার নেই।।"

"আমি করব না," স্বামী জবাব দিলেন। “যতক্ষণ না ড্রাইভার আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। তুমি কি আমাকে নিয়ে যেতে পারবে, ড্রাইভার? ”

লোকটি বলল, “আমার মনে হয় পারব”।

"মালপত্র বাইরে আছে?"

"জী স্যার."

"বিদায় প্রিয়," মিসেস ফস্টার বললেন। গাড়ির ভিতরে ঝুঁকে পড়ে স্বামীর ধুসর গালে ছোট্ট একটি চুমু দিলেন তিনি।

"বিদায়," স্বামী উত্তর দিলেন। "যাত্রা শুভ হোক."

গাড়িটি চলে গেল। মিসেস ফস্টার একা হয়ে গেলেন।

দিনটি মিসেস ফস্টারের জন্য এক ধরণের দুঃস্বপ্ন ছিল। তিনি ঘন্টার পর ঘন্টা বেঞ্চে বসে থাকলেন। যতটা সম্ভব এয়ারলাইন কাউন্টারের কাছাকাছি বসে থাকতেন। প্রতি ত্রিশ মিনিট অন্তর তিনি উঠে ক্লার্ককে জিজ্ঞাসা করতেন যে পরিস্থিতি বদলেছে কিনা। তিনি সর্বদা একই জবাব পেতেন - তাকে অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে, কারণ কুয়াশা যে কোনও মুহুর্তে বয়ে যেতে পারে। সন্ধ্যা ছয়টা তখনও বাজেনি, সেইসময় লাউডস্পিকারগুলি ঘোষণা করল যে, পরের দিন সকাল এগারোটা অবধি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।

মিসেস ফস্টার এই খবরটি শুনে কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। তিনি বেঞ্চে কমপক্ষে আরও আধা ঘন্টা বসে রইলেন, অবাক হয়ে ভাবলেন, ক্লান্ত ও আবছা অন্ধকারে, তাকে এখানে রাত কাটাতে হবে। তবু তিনি বিমানবন্দর ছেড়ে যাবার কথা ভাবতেও পারছেন না। তিনি চাননা যাবার আগে আর স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে। তিনি এখনও আতঙ্কিত, তার স্বামী কোন না কোন উপায় তাকে ফ্রান্সে যেতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করবেন। তিনি পুরো রাত বেঞ্চে বসে কাটাতেই পছন্দ করলেন। সেটাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ। তবে তিনি ইতিমধ্যে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। কোনও বয়স্ক মহিলার পক্ষে এভাবে একটা বেঞ্চে রাত কাটানো যে হাস্যকর, সেটা তিনি বুঝতে পারলেন। তাই শেষ পর্যন্ত তিনি ফোনের কাছে গেলেন এবং বাড়িতে কল করলেন।

তার স্বামী তখন ক্লাবের উদ্দেশ্যে রওনা হতে যাচ্ছিলেন, তাই ফোনটি তিনিই ধরলেন। মিসেস ফস্টার স্বামীকে ফ্লাইট বিলম্বের কথা জানালেন। চাকররা এখনও বাড়িতে আছে কিনা জানতে চাইলেন।

"তারা সবাই চলে গেছে," স্বামী জানালেন।

“সেক্ষেত্রে প্রিয়, এখানে কোথাও রাত কাটানোর জন্য একটি ঘর পেয়ে যাব। আপনাকে এই নিয়ে বিরক্ত করতে চাইনা। "

"এটা বোকামি হবে," মি. ফস্টার বললেন। “তোমার নিজের হাতে সাজানো একটি বিশাল বাড়ি আছে। সেখানে এসে থাক।"
 
"তবে, প্রিয়, বাড়িটি এখন খালি।"

" আমি নাহলে তোমার সাথে থাকব।"

"বাড়িতে কোনও খাবার নেই। কিছুই না।”

‘‘তাহলে এখানে আসার আগে কিছু খেয়ে আস। বোকামী কোর না, আরে মহিলা, তুমি যা করছ, তাতে মনে হয় তুমি ইচ্ছে করে অশান্তি করতে চাইছ।”

"আমি দুঃখিত।” মিসেস ফস্টার বললেন, আমি এখানে নিশ্চয়ই স্যান্ডউইচ পেয়ে যাব এবং তারপরে আমি আসব।"

বাইরে কুয়াশা কিছুটা পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল। তারপরও দীর্ঘ সময় ধরে ধীর গতির ট্যাক্সি চলছিল। বেশ দেরীতেই সিক্সটি-সেকেন্ড স্ট্রিটে তার বাড়িতে পৌছাল।

স্টাডি রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে তাঁর স্বামী বললেন, ‘‘প্যারিস কেমন ছিল?”

“আমাদের সকাল এগারোটায় আবার ওখানে পৌছাতে হবে। তিনি উত্তর দিলেন। "এটা নিশ্চিত।"

" যদি কুয়াশা না থাকে।"

“কুয়াশা এখন পরিষ্কার হচ্ছে। বাতাস বইতে শুরু করেছে! ”

"তোমাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে," মিস্টার ফস্টার বললেন। "তোমার জন্য অবশ্যই একটি উদ্বেগজনক দিন ছিল।"

“এটা খুব আরামদায়ক ছিল না। আমার মনে হয় সরাসরি বিছানায় যাওয়া দরকার। ”
 
 "আমি সকালের জন্য একটি গাড়ি অর্ডার দিয়েছি।" মিস্টার ফস্টার বললেন। "নয়টা বাজে গাড়ি আসবে।"

"ওহ, আপনাকে ধন্যবাদ, প্রিয়। আমি অবশ্যই আশা করব আপনি আমাকে বিমানবন্দরে দিয়ে আসার কষ্ট করবেন না।”

"না," মিস্টার ফস্টার ধীরে ধীরে বললেন। "আমার মনে হয় না আমি সেটা করব। তবে তোমার যাওয়ার পথে আমাকে ক্লাবে নামিয়ে না দেওয়ার নিশ্চয়ই কোন কারণ নেই।”

মিসেস ফস্টার স্বামীর দিকে তাকিয়ে রইলেন। আর এই মুহুর্তে মনে হচ্ছিল তিনি তাঁর স্বামীর থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে আছেন, সীমানা ছাড়িয়ে। হঠাৎ তাঁর স্বামী ছোট আর এত দূরে চলে গেলেন, তিনি নিশ্চিত হতে পারছেন না, তিনি কী করছেন, বা তিনি কী ভাবছেন, বা তিনি সত্যিই আছেন কিনা!

"ক্লাবটি ডাউনটাউনে," মিসেস ফস্টার বললেন। "এটি বিমানবন্দরের পথে নয়। "

"তবে তোমার হাতে প্রচুর সময় থাকবে, প্রিয়তমা। তুমি কি আমাকে ক্লাবে নামিয়ে দিতে চাও না? "

"ওহ, হ্যাঁ - অবশ্যই।"

"এটা ভালো হল। তারপর তোমার সঙ্গে তাহলে সকাল নয়টায় দেখা হচ্ছে।”

মিসেস ফস্টার দ্বিতীয় তলায় তার শয়নকক্ষে ঢুকলেন। দিন শেষে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন যে শুয়ে পড়ার সাথে সাথেই তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন।
 
পরের দিন সকালে, মিসেস ফস্টার খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়লেন। সাড়ে আটটার মধ্যে তিনি বাইরে যাবার জন্য প্রস্তুত হয়ে নীচে নেমে এলেন।

নয়টা বাজার একটু পরে তার স্বামী হাজির হলেন। "তুমি কি কফি তৈরি করেছ?" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।

"না প্রিয়, আমি ভেবেছিলাম আপনি ক্লাবে একটি দুর্দান্ত প্রাতঃরাশ পাবেন। গাড়ি চলে এসেছে। বাইরে অপেক্ষা করছে। আমি যাবার জন্য প্রস্তুত। "

তারা দুজনে হলরুমের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল। আজকাল তারা নিয়মিত হলরুমেই মিলিত হতেন। স্ত্রী তার টুপি, কোট এবং পার্স নিয়ে তৈরী ছিলেন। উঁচু লেপেলযুক্ত এডওয়ার্ডিন জ্যাকেট পরেছেন মিস্টার ফস্টার।

"তোমার মালপত্র?"

"সব বিমানবন্দরে"

"ওহ্ হ্যাঁ," তিনি বলে উঠলেন। "অবশ্যই. এবং তুমি যদি আমাকে প্রথমে ক্লাবে নামিয়ে দাও, তাহলে আমার মনে হয় এখনই রওনা দেয়া উচিত, তাইনা?”

"হ্যাঁ!" মিসেস ফস্টার অস্থিরভাবে চিৎকার করে উঠলেন "হ্যা অবশ্যই ধন্যবাদ!"

“শুধু কয়েকটা সিগারেট নেব। এখনই আসছি। তুমি গিয়ে গাড়িতে ওঠ।”

মিসেস ফস্টার ঘুরে যেখানে গাড়ির শোফার দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে গেলেন। তিনি যাবার সাথে সাথে শেফার গাড়ির দরজাটি খুললেন।

"কটা বাজে?" মিসেস ফস্টার তাকে জিজ্ঞাসা করলেন।

"প্রায় সোয়া নয়টা।"

মিঃ ফস্টার পাঁচ মিনিট পরে বাইরে বেরিয়ে এলেন। আগের মত ধীরে ধীরে সিঁড়ির ধাপগুলো পার হতে লাগলেন। মিসেস ফস্টারের কাছে স্বামীর পা ‍দুটি সরু স্টোভপাইপ ট্রাউজার পরে থাকার কারণে ছাগলের পা জোড়ার মত লাগছিল। আগের দিনের মত সিঁড়ির মাঝখানে থেমে বাতাস শুকতে শুকতে আকাশের অবস্থা দেখতে লাগলেন। আবহাওয়া এখনও খুব ভালো না। তবে কুয়াশা চাদর ভেদ করে সূর্য উঁকি দিচ্ছিল।

"সম্ভবত এবার তোমার ভাগ্য প্রসন্ন হবে," তিনি গাড়ীতে স্ত্রীর পাশে বসতে বসতে বললেন।
 
"তাড়াতাড়ি চলুন প্লিজ," মিসেস ফস্টার শোফারকে বললেন। গাড়ি সাজানোর গালিচা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। আমি গালিচা সাজিয়ে নেব। অনুগ্রহ করে তাড়াতাড়ি চলুন। আমি দেরি করে ফেলেছি।"

লোকটি হুইলের পিছনে নিজের সিটে এসে বসে ইঞ্জিন চালু করল।

"এক মিনিট!" মিঃ ফস্টার হঠাৎ বললেন। "শোফার, আপনি কি এক মিনিটের জন্য অপেক্ষা করতে পারবেন?"

"কি হয়েছে , প্রিয়?" মিসেস ফস্টার স্বামীর ওভারকোটের পকেটের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন।

"এলেনের জন্য তোমার হাত দিয়ে পাঠানোর জন্য একটা ছোট্ট উপহার ছিল আমার। এখন সেটা কোথায় গেল? আমি নিশ্চিত যে নীচে নেমে আসার সময় উপহারটা আমার হাতে ছিল।”

“আমি আপনার হাতে কিছুই দেখিনি। কি ধরনের উপহার? "

“ সাদা কাগজে মোড়ানো একটি ছোট্ট বাক্স। গতকাল তোমাকে দিতে ভুলে গেছি। আজ এই ভুল করতে চাই না। "

"একটি ছোট বাক্স!" মিসেস ফস্টার আর্তচিৎকার দিয়ে উঠলেন। "আমি কোনও ছোট্ট বাক্স দেখিনি!"

তিনি গাড়ির পিছনে পাগলের মত খোঁজা শুরু করলেন। তার স্বামী ওভার কোটের পকেটে হাত দিয়ে খোঁজাখুজি শুরু করলেন। তারপরে তিনি কোটটি খুলে ফেললেন। তারপর হাত দিয়ে চারপাশে কিছু একটার অস্তিত্ব খুঁজতে লাগলেন। "বিভ্রান্ত বোধ করছি," তিনি বললেন, আমি অবশ্যই এটি আমার শয়নকক্ষে রেখে এসেছি। এক মিনিটের মধ্যে সেটা নিয়ে আসছি। "

"ওহ্ দয়া করে আপনি যাবেন না, মিসেস ফস্টার প্রায় কেঁদে ফেললেন। “আমাদের হাতে একদম সময় নেই! অনুগ্রহ করে এটি বাদ দিন। আপনি এটা ডাকযোগে পাঠাতে পারবেন। এটি নিশ্চয়ই সেই হাস্যকর চিরুনীগুলির একটি হবে। আপনি ওকে সব সময় চিরুনী উপহার দিতেন।”

"চিরুনী দেয়ার মধ্যে ভুল কি আছে, আমি কি জানতে পারি?” অত্যন্ত রেগে গিয়ে মিস্টার ফস্টার কথাটা বললেন যে, মিসেস ফস্টার নিজের কথা ভুলে গেলেন।

‘‘কিছুই না প্রিয়। আমি নিশ্চিত করে বলছি। কিন্তু....।”

‘‘এখানে থাক।” আদেশের সুরে কথাটা বললেন মিস্টার ফস্টার। "আমি এটা আনতে যাচ্ছি।"

“দ্রুত শেষ করুন, প্রিয়! ওহ, দয়া করে দ্রুত করুন! "

মিসেস অপেক্ষা করতে লাগলেন। অপেক্ষা যেন ফুরায় না।

"শোফার, এখন সময় কত?"

ভদ্রলোক কব্জির ওপরে বাধা ঘড়ি দেখে বললেন, ‘ সাড়ে নয়টার মত বাজে।’’

"আমরা কি এক ঘন্টার মধ্যে বিমানবন্দরে যেতে পারব?"

"এখন গেলে কাটায় কাটায় গিয়ে পৌছাব"

সেই মুহুর্তে, মিসেস ফস্টার হঠাৎ তার স্বামী যেদিকে বসে ছিলেন তার সিটের ফাঁকে সাদা রঙের কিছু পড়ে থাকতে দেখলেন। তিনি জায়গাটির কাছে গিয়ে একটি ছোট কাগজ-মোড়ানো বাক্স টেনে বের করলেন। সেই সঙ্গে তিনি লক্ষ্য করলেন, জিনিষটা ভিতরে এত শক্তভাবে আটকে আছে যে কেউ হাত দিয়ে ঢুকিয়ে না রাখলে, এভাবে রাখা সম্ভব নয়।

"এটা এখানে!" মিসেস ফস্টার রীতিমত চিৎকার করে উঠলেন। “আমি এটি খুঁজে পেয়েছি! ওহ প্রিয়, এবং এখন তিনি ওপরে গিয়ে জিনিষটা খুঁজছেন নিশ্চয়। শোফার আপনি কি দ্রুত দৌড়ে গিয়ে ওনাকে ডেকে আনতে পারবেন প্লিজ?

ছোট আইরিশ মুখের স্বাধীনচেতা শোফার, কারো এই ধরনের অনুরোধে খুব বেশী পাত্তা দেবার মতো মানুষ নন। তবু তিনি গাড়ি থেকে উঠে বাড়ির সামনের দরজার সিড়ির ধাপে উঠলেন। তারপরে তিনি ঘুরে ফিরে এলেন। শোফার ঘোষণা দেবার ভঙ্গীতে জানালেন। “দরজা বন্ধ”। "আপনার কাছে কি কোন চাবি আছে?"

"হ্যাঁ - এক মিনিট অপেক্ষা করুন।" মিসেস ফস্টার তাঁর পার্সে পাগলের মত চাবি খুঁজতে লাগলেন। উদ্বেগে তার মাথা ঠিকভাবে কাজ করছিল না। মুখটা হা হয়ে গিয়েছিল।

"এটা এখানে! না - আমি নিজে যাব। এরফলে আরও তাড়াতাড়ি হবে। আমি জানি সে কোথায় থাকতে পারে।"

তিনি গাড়ি থেকে তাড়াতাড়ি নেমে এক হাতের চাবিটি ধরে বাড়ির দরজার সামনে সিঁড়িতে উঠে গেলেন। তিনি চাবিটি কীহোলের মধ্যে স্লাইড করে ঘোরাতে যাবেন, সেই মুহুর্তে তিনি থামলেন। তিনি মাথা উচুঁ করলেন, কিছুক্ষণের জন্য যেন স্থবির হয়ে রইলেন। পুরো শরীরটি চাবি ঘুরিয়ে ঘরে ঢোকার মুহূর্তে যেন আটকে গেল। তিনি অপেক্ষা করতে লাগলেন- পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়, দশ সেকেন্ড, তিনি অপেক্ষা করছিলেন। তিনি সেখানে যেভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁর মাথা এবং শরীর এতটা উত্তেজনা সহকারে কাঁপছিল দেখে মনে হচ্ছিল যেন তিনি কোনও শব্দের পুনরাবৃত্তি শুনতে পাচ্ছেন। যে শব্দের সঙ্গে তিনি পরিচিত। বাড়ির ভিতরে কোন জায়গা থেকে শব্দটি আসছিল।

হ্যাঁ - বেশ স্পষ্টতই তিনি শুনছিলেন। তার পুরো মনোযোগ শব্দটি শোনার জন্য একাগ্র হয়েছিল। তিনি একটি কান দরজার একদম কাছে নিয়ে গেলেন। এখন ঠিক দরজায় কান লাগিয়ে কয়েক সেকেন্ড সেভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন। মাথা উচুঁ, কান দরজায়, হাতে চাবি, দেখে মনে হবে চাবি হাতে তিনি ঘরে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন, কিন্তু তিনি ঘরে প্রবেশ করছিলেন না। তার পরিবর্তে তিনি চেষ্টা করছিলেন, বাড়ির ভিতর থেকে আসা অদ্ভুত শব্দগুলো যাচাই করতে।

তারপর, হঠাৎ তিনি যেন সম্বিত ফিরে ফেলেন। দরজা থেকে চাবি বের করে নিলেন। পিছনে ঘুরে দ্রুত সিড়ির ধাপগুলো পার হলেন।

"প্রচন্ড দেরি হয়ে গেছে!" মিসেস ফস্টার চিৎকার করে শোফারকে বললেন। "আমি আর তার জন্য অপেক্ষা করতে পারছি না, একদম না। আমি বিমান মিস করব, তাড়াতাড়ি, শোফার, তাড়াতাড়ি আমাকে নিয়ে চলুন এয়ারপোর্টে!"

শোফার যদি তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন, তবে লক্ষ্য করতেন যে মিসেস ফস্টারের মুখটি একেবারে ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। আর তার পুরো অবয়ব যেন হঠাৎ বদলে গেছে। সেই নিরীহ আর সরল চেহারা আর ছিল না। একটি অদ্ভুত কঠোরতা যেন তার ওপরে ভর করেছিল। ছোট্ট মুখ, এমনিতে তুলতুলে মনে হত, কিন্তু এখন শক্ত ও পাতলা আর চোখগুলো তীব্রভাবে উজ্জ্বল। আর কণ্ঠস্বরে এক ধরনের কর্তৃত্বের সুর।

"তাড়াতাড়ি, ড্রাইভার, তাড়াতাড়ি!"

‘‘আপনার স্বামী কি এক সাথে ভ্রমণ করছেন না?" অবাক হয়ে লোকটি জিজ্ঞাসা করলেন।

"অবশ্যই না! আমি কেবল তাকে ক্লাবে নামিয়ে দিয়ে যাচ্ছিলাম। এটা কোন ব্যাপার না। তিনি বুঝতে পারবেন। তিনি একটি ট্যাক্সি পেয়ে যাবেন। ওখানে বসে থেকে কথা বলবেন না। তাড়াতাড়ি চলুন! প্যারিসে যাওয়ার জন্য আমাকে কিছুক্ষণের মধ্যে বিমানে চড়তে হবে!"

মিসেস ফস্টার পিছনের সিট থেকে বার বার তাড়া দেবার কারনে, লোকটি দ্রুত সমস্ত পথ গাড়ি চালিয়ে যান। কয়েক মিনিট বাকী থাকতে তিনি তার বিমানটি ধরতে পারলেন। শিগগিরই বিমানটি উঠে এল আটলান্টিকের ওপরে। মিসেস ফস্টার বিমানে নিজের চেয়ারে আয়েশ করে বসে থাকলেন। বিমানের ইঞ্জিনের মৃদু গুঞ্জন শুনতে লাগলেন সেই সাথে। শেষ পর্যন্ত প্যারিসের দিকে রওনা হলেন।

তাঁর পাল্টে যাওয়া মনোবল তখনও বহাল। তিনি অত্যন্ত দৃঢ় এবং একরকমভাবে দুর্দান্ত অনুভব করতে লাগলেন। তিনি একটা স্বস্তির নি:শ্বাস নিলেন। তিনি যেটা করেছেন, সেটা বিস্ময়ের অধিক কিছু ছিল। বিমানটি ধীরে ধীরে নিউইয়র্ক এবং ইস্ট সিক্সটি থ্রি স্ট্রিট থেকে দূরে, আরো দূরে উড়ে যাওয়ার সাথে সাথে তার মধ্যে একটা অসাধারণ শান্তির অনুভূতি সৃষ্টি হতে লাগল। তিনি প্যারিসে পৌঁছানোর পরে নিজের ইচ্ছে মতো ঠিক ততটাই দৃঢ়, শীতল এবং শান্ত ছিলেন।

তিনি তার নাতি নাতনিদের সাথে দেখা করলেন। তারা ছবির চেয়ে বাস্তবে আরো অনেক বেশী সুন্দর ছিল। তারা দেবদূতের মত সুন্দর ছিল। প্রতিদিন তিনি নাতি নাতনিদের হাঁটতে নিয়ে যেতেন। তাদের কেক খাওয়াতেন, উপহার কিনে দিতেন এবং তাদের চমৎকার সব গল্প বলতেন।

সপ্তাহে একবার, মঙ্গলবার, তিনি তার স্বামীকে চমৎকার একটা চিঠি লিখতেন। নানারকম খবর আর গসিপে পূর্ণ থাকত সেই চিঠি। প্রতিটি চিঠি শেষ হত এভাবে, "আপনার নিয়মিত খাবার দাবারের ব্যাপারে আমি কিছুটা শংকিত। প্রিয়তম, আমি আশঙ্কা করছি যে, আমি যখন নেই আপনি হয়ত ঠিকঠাকভাবে খাওয়া দাওয়া করছেন না।’’

যখন ছয় সপ্তাহ শেষ হয়ে এল, তখন সবাই দুঃখ পেয়েছিল যে তাকে আমেরিকায় তার স্বামীর কাছে ফিরে যেতে হবে। একমাত্র তিনিই ছিলেন ব্যাতিক্রম। আশ্চর্যের বিষয় হল, তিনি যতটা আশা করেছিলেন, ততটা খারাপ তার লাগেনি। তিনি তার রীতিতে তাদের সকলকে বিদায় জানালেন। আর বিদায়কালে তিনি যে কথাগুলি বলেছিলেন তাতে নিকট ভবিষ্যতে তার ফিরে আসার সম্ভাবনার ইঙ্গিত ছিল।

তবে একজন বিশ্বস্ত স্ত্রীর মতো তিনি নির্দিষ্ট সময়ের বেশী প্যারিসে থাকেননি। তিনি আসার ঠিক ছয় সপ্তাহ পরে, স্বামীর কাছে একটি তারবার্তা পাঠালেন।। এরপরে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে উড়াল দিলেন।

ইডলিউলে পৌঁছে মিসেস ফস্টার খুব আগ্রহের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছিলেন তাকে নিতে কোন গাড়ি এসেছে কিনা! আসেনি দেখে খুব সামান্যই বিস্মিত হয়েছিলেন তিনি। তবে তিনি অত্যন্ত শান্ত ছিলেন। যে কুলি তার লাগেজ সহ ট্যাক্সিতে উঠতে সাহায্য করেছিলেন, তাকে অতিরিক্ত বখশিস দিতে ভুললেন না।

নিউইয়র্ক প্যারিসের চেয়ে শীতল ছিল। রাস্তার পাশে নর্দমাগুলিতে প্রচুর নোংরা তুষার পড়ে ছিল। ট্যাক্সিটি সিক্সটি-সেকেন্ড স্ট্রিটের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালো। মিসেস ফস্টার তার দুটি বড় স্যুটকেস সিঁড়ির শীর্ষ ধাপে নিয়ে যেতে ড্রাইভারকে রাজি করাতে সমর্থ হলেন। তারপরে তিনি ড্রাইভারের ভাড়া বুঝিয়ে দিয়ে বাড়ির ঘণ্টা বাজালেন। তিনি অপেক্ষা করেছিলেন, কিন্তু কোনও উত্তর নেই। কেবল তা নিশ্চিত হবার জন্য তিনি ঘন্টাটা আবার বাজালেন। বাড়ির পিছনে প্যান্ট্রি থেকে ঝাঁকুনি খেয়ে শব্দ ফিরে আসা শুনতে পেলেন। তবুও কেউ আসেনি।

তাই তিনি নিজের চাবিটি বের করে নিজেই দরজা খুললেন।

তিনি ঘরে প্রবেশের সময় প্রথম যে জিনিসটি দেখলেন, সেটি হল মেঝেতে পড়ে থাকা এক গাদা চিঠি। লেটারবক্স উপচে পড়ে সেগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে পড়েছে। জায়গাটা ছিল অন্ধকার আর ঠান্ডা। গ্র্যান্ডফাদার ক্লকটার ওপর ধুলোর আস্তরণ পড়ে আছে। শীত থাকা সত্ত্বেও, ঘরের আবহাওয়া একদম অন্যরকম। বাতাসে একটা অদ্ভুত ও অচেনা গন্ধ, যা তিনি আগে কখনও পাননি।

তিনি হলরুমটি দ্রুত পার হলেন। এক মুহুর্তের জন্য পিছনের দিকে বাম কোণে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যমূলভাবে কাজটি তিনি করলেন। তিনি হলেন এমন এক ধরনের মহিলা যে কোন কিছু সন্দেহ করলে তার সত্যতা যাচাই করতে নিজেই তদন্ত করেন। যখন তিনি কয়েক সেকেন্ড পরে ফিরে এলেন, তখন তার মুখে সন্তুষ্টির কিছুটা ঝলক দেখা গেল।

তিনি হলরুমের মাঝখানে এসে থামলেন, ভাবছিলেন এরপরে তার কী করা উচিত। তারপর হঠাৎ করেই তিনি ঘুরে তার স্বামীর স্টাডিরুমে চলে গেলেন। ডেস্কে তিনি তার ‘এড্রেসবুক’টা পেলেন। কিছুক্ষণ খোঁজার পরে তিনি ফোনটা তুললেন এবং একটি নম্বর ডায়াল করলেন।

"হ্যালো," তিনি বললেন। “শুনুন - এটি নাইন ইস্ট সিক্সটি সেকেন্ড স্ট্রিট......হ্যাঁ এটা ঠিক. আপনি কি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাউকে পাঠাতে পারবেন, আপনি কি মনে হয়? হ্যাঁ, এটি দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলার মধ্যে আটকে আছে বলে মনে হচ্ছে। নির্দেশক ওদিকেই দেখাচ্ছে। এখনই পাঠাচ্ছেন? ওহ, আপনি খুব দয়ালু। দেখুন, আমার দুর্বল পা লম্বা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার জন্য খুব ভাল নয়। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ. বিদায়। "
 
তিনি রিসিভারটি প্রতিস্থাপন করলেন এবং সেখানে তার স্বামীর ডেস্কে বসলেন, ধৈর্য সহকারে সেই লোকটির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন, যিনি শিগগিরই লিফটটি মেরামত করতে আসবেন। 
 
 
 
লেখক পরিচিতি:
রোয়াল্ড ডাল
জন্ম ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯১৬ সাল ও মৃত্যু ২৩ নবেম্বর ১৯৯০। তিনি হলেন একজন ব্রিটিশ উপন্যাসিক, ছোট গল্পের লেখক, কবি, চিত্রনাট্যকার ও যুদ্ধকালীন যোদ্ধা পাইলট। তাঁর লেখা বই এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী দুইশত পঞ্চাশ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। ওয়েলসে জন্ম নেয়া ডালের পিতামাতা নরওয়ের অভিবাসী ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি এয়ার ফোর্সে দায়িত্ব পালন করেন। ডাল সব বয়সী পাঠকদের জন্য লিখেছেন। ১৯৪০ সালে লেখক হিসেবে তাঁর খ্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের লেখকদের একজন হয়ে ওঠেন। তাঁকে শিশুদের জন্য বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা গল্পকার বলা হয়। ২০০৮ সালে টাইমস ১৯৫৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত সর্বশ্রেষ্ঠ ৫০ জন ব্রিটিশ লেখকদের তালিকায় ডালকে ১৬ নম্বর স্থানে রাখে। তাঁর লেখা বই থেকে বিশ্বখ্যাত বহু সিনেমা হয়েছে।  



অনুবাদক পরিচিতি:
মনিজা রহমান
গল্পকার। অনুবাদক
নিউইর্য়কে থাকেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন