সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১

সুনেও তোমিতা’র গল্প: গড়াগড়ি খেলা

 

 

ভাষান্তর: সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত


এক দৈত্যের সাধ হয়েছে যুদ্ধের!

“জাপানের জুডো? দুটো বামনে মিলে একে অপরকে লাথি মারামারি করবে বৈ আর কিছু তো নয়? লোকে বলে বটে ওরা মানুষকে নিয়ে ফুটবলের মতো ছোঁড়াছুড়ি করে, আমার বিশ্বেস হয় না। সে তাদের যতরকম কায়দাই থাকুক না কেন। তাদের এ আশা একেবারেই দুরাশা যে ওই তুলতুলে হাত দিয়ে আমার মতো এক দশাসই আমেরিকানকে তুলবে!”

“কিন্তু মঙ্কস, লোকে তো বলছে জুডো মাস্টার তোমিতা তার আখড়ায় এক ঝাঁক আমেরিকান শিষ্য জুটিয়ে ফেলেছে।”

“ধুস যাদের অনেক সময় আছে নষ্ট করার, তারা যাক গে। দু’একটা ঘুষি মেরে যে কোনো সময় আমি ওদের সিধে করে দেব। ওই জুডোগুরুদের সাহস আছে বলতে হবে, সানফ্রানসিসকোতে নিজেদের আখড়া তৈরি করে বসেছে!”

“তাহলে মঙ্কস, তোমার উচিত ওদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসা।”

“ওরা যেই আমায় দেখতে পাবে ওমনি লেজ গুটিয়ে পালাবে।”

“বেশ তাহলে আমার সাথেই একটা ফাইট দিক।”

বক্সার টোবি মঙ্কস আর তার সাগরেদ জনসন শহরের কুখ্যাত দুই মস্তান, সানফ্রানসিসকো শহরের বাইরের এক বস্তি-ধাবায় বসে গুলতানি মারছে।

টোবি মঙ্কসের সাথে মানুষের থেকে বিতিকিচ্ছিরি কোনো দৈত্যের মিলই বরং বেশি। বছরের পর বছর ঘুসোঘুষির জেরে দুটো কানই তার দুমড়েমুচড়ে এক অদ্ভুত আকার নিয়েছে। এমনকি নাকটাও তার কুটিল, কিম্ভুত মুখের ওপর থেকে যেন খাবলা হয়ে বেরিয়ে এসেছে। গ্যাং-জ্যাকেট গায়ে আর মাথার শিকারি টুপিটা একপাশে হেলিয়ে পরে মঙ্কস যখন চলে, রাস্তার ওপারের পথচারীরা পর্যন্ত ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকে।

পরের সন্ধ্যায় ওরা দু’জন আবার সেই ধাবায় এসে বসেছে।

“জনসন কী ব্যাপার? তোমার সাথে ফাইট করতে কি ও রাজি হলো?”

জনসন ঘাড় নাড়ে। “বলে কোনো লাভ হলো না। হতচ্ছাড়া জাপানিটা শুধুই হাসে। কোনো ভ্রুক্ষেপই করল না। আমি বললাম, ঠিক আছে, তোমাদের ব্যাপারটা আমায় বুঝিয়ে বলো। তখন বলে জুডো নাকি শুধুমাত্র আত্মরক্ষার জন্য, বক্সিং-এর মতো খেলা নয়। বক্সারদের মতো লোকদেখানো ফাইট দেওয়া জুডোর কাজ নয়। তিনি এটাও বলেলেন।”

“কী হাস্যকর কথাবার্তা! লোক দেখানো ফাইট, শালা!” রাগে মঙ্কসের চোখমুখ লাল হয়ে যায়, মুঠি পাকিয়ে টেবিলে একটা ঘুষি মারে সে।

সানফ্রানসিসকোর শহরতলির চাকচিক্যহীন এক জুডো-আখড়ায় (dojo) যিনি জুডো শেখাতেন তিনি হচ্ছেন সিক্সথ-দান নেজিরে তোমিতা। কোদোকান জুডোসংস্থার প্রতিষ্ঠাতা জিগেরো কানোর প্রথম শিষ্য ছিলেন তোমিতা। জুডো শিক্ষা বিস্তারের জন্য ১৯০৫ সালে তিনি আমেরিকায় আসেন। আমেরিকায় তাতামি-মাদুর না পেয়ে তোমিতা বিছানায় পাতার খড়ের মাদুর তাঁর আখড়ার মেঝেতে বিছিয়েই শিক্ষাদান শুরু করেন।

সমস্ত জাপানি-জাতি মনে করত যে পরাক্রমের জোরে তারা রুশ-জাপান যুদ্ধে জয়লাভ করেছে, তবু দেশের বাইরে তাদের তেমন কদর ছিল না। বেশিরভাগ মার্কিনিরাই তাঁদের হেয় করত আর অল্প কিছু সংখ্যক লোকই জুডোর ব্যাপারে আগ্রহী ছিল।

“তুমি এখনও আমার সাথে লড়বে না বলছ?”

“না লড়ব না।”

এইভাবে কতবার যে মঙ্কস তোমিতাকে প্রতিযোগিতায় আহ্বান জানিয়েছে, আর প্রতিবারই তোমিতা অস্বীকার করে গিয়েছে।

“জুডো বাইরের দর্শক-মজানো কোনো খেলা নয়। একজন বক্সারের সাথে লোক-দেখানো খেলায় আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।”

“হুম, বলো একজন বক্সারের সাথে একরাউন্ড খেলার ক্ষ্যামতা নেই। আসল কথা জুডো কতগুলো সস্তা চাল ছাড়া আর কিছুই নয়।”

“কী বললে?”

চতুর্থবারে মঙ্কসের ঘ্যানঘ্যানানিতে বিরক্ত হন তোমিতা। চোয়াল শক্ত করে তাচ্ছিল্য ভরে মঙ্কসকে দেখেন।

“বেশ, একটা ম্যাচ খেলব।”

“চলো তাহলে হোক, যতক্ষণ পর্যন্ত না একজন জ্ঞান হারায়।”

“খুবভালো।”

*********

কেন লড়ব?

সারাটা দিন নিজেকে ঘরবন্দী রেখে আসন্ন খেলা নিয়ে চিন্তায় মগ্ন হয়ে থাকেন সিক্সথ-দান তোমিতা। জুডো আর মুষ্টিযুদ্ধের নিয়মাবলি এবং উদ্দেশ্যর মধ্যে রাত-দিনের ফারাক। জুডোতে যেখানে লক্ষ্য থাকে মাটিতে নিক্ষেপ করা, প্রতিপক্ষকে আঁকড়ে ধরা, গিঁট-আবদ্ধ আর শ্বাসরোধের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য করা। সেখানে বক্সিং তো পুরোটাই মারামারি। এই দুই খেলার মধ্যে প্রতিযোগিতা কীভাবে সম্ভব? কিন্তু কথা হচ্ছে, তোমিতার জেতাটা যে ভীষণভাবেই দরকার। এখানে পরাজয় হবে দেশবাসীর জন্য লজ্জার। আর তখন জুডো একটা হাসির খোরাক ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। যদিও তোমিতা খুব ভালোভাবেই জানেন যে মুখোমুখি লড়াইয়ে তিনি কিছুতেই এক শক্তিশালী মুষ্টিযোদ্ধার ধাক্কা সামলাতে পারবেন না। যদি সে সজোরে একটা আপারকাট মারে, তা সোজাসুজিই হোক আর হুক-পাঞ্চই হোক তাহলে রেফারির একটা কাউন্টেই তিনি ধরাশায়ী বা নক-ডাউন হবেন। বক্সারদের ঘুষি চোখের পলক ফেলার চেয়েও দ্রুত চলে, বাঁদিকে ঘুষি মেরে ডজ করার সাথে সাথেই ডানদিক থেকে আঘাত করে, বা তার চাইতেও খারাপ কিছু। আরও মুস্কিল হলো তোমিতার প্রতিপক্ষ থাকবে খালি গায়ে, আঁকড়ে যে কিছু একটা ধরবেন, তার উপায় নেই। পুরো ঘেঁটে যাবে খেলাটা, আরও কঠিন হবে। কিন্তু তোমিতা মরে গেলেও হার স্বীকার করতে রাজি নন। পরের দিন তোমিতা প্রতিযোগিতার কিছু নিয়মাবলি মঙ্কসের কাছে পাঠান।


মুষ্টিযুদ্ধের নিয়ম মুষ্টিযোদ্ধা মেনে চলবে।


জুডোর নিয়ম জুডো খেলোয়াড় মেনে চলবে।


প্রতিযোগিতা হবে কাঠের মেঝে-বিশিষ্ট একটি ঘরে।


প্রাণপণ খেলার ব্যাপারে কোনোপক্ষেরই আপত্তি থাকবে না।

মঙ্কস নিয়মগুলো দেখে, আর সাগ্রহে সম্মতি দেয়।

আর প্রতিযোগিতার স্থান নির্ধারিত হয়, সেন্ট্রাল ক্লাবের সবচাইতে বড় হলঘরে।

প্রতিযোগিতার দিন সে এক দেখার মতো দৃশ্য! যদিও এই প্রতিযোগিতার কথা চাউর করা হয়নি (গুপ্ত রাখা হয়েছিল)। কিন্তু খবর ঠিক ছড়িয়ে পড়ে, আর সেন্ট্রাল-হলে কৌতূহলী দর্শকের ভীড় উপচে পড়ে একটা শ্বাসরূদ্ধকারী জান-বাজি রাখা খেলা দেখার প্রতীক্ষায়।

সেন্ট্রাল হলে কাঠের মেঝের ঠিক মাঝখানে দড়ি দিয়ে ঘেরা ৩০ ফিট/৩০ ফিটের রিং প্রস্তুত।

মঙ্কস পরে আছে একটা সবুজরঙা বক্সিং শর্টস আর সিক্সথ-দান তোমিতা কালো কোমরবন্ধনী দেওয়া একটি পরিচ্ছন্ন সাদা জুডো পোশাকে (জুডো-গি) সজ্জিত। রেফারি মঙ্কসের বক্সিং গ্লাভস তোমিতার হাতে তুলে দেন, যাতে তিনি একবার দেখে নিতে পারেন সেগুলি ক্ষতিকারক কি না। মঙ্কসও তোমিতার পোশাকের প্রতি খাঁজখোঁজে চাপড় মেরে দেখে নেয় সেখানে কোনো তরবারি লুকনো রয়েছে কি না।

জাপানের মার্শাল আর্ট জুডো কি বিজয়ী বলে ঘোষিত হবে? না মার্কিনি মুষ্টিযুদ্ধ জয়ীর মুকুটে ভূষিত হতে চলেছে? হলের পরিবেশ ভীষণ থমথমে।

তোমিতা ও মঙ্কস বলিষ্ঠ করমর্দনের পরই লাফিয়ে পেছনের দিকে সরে নিজেদের মধ্যে ২০ ফিট দূরত্ব রচনা করে তৈরি হয়ে দাঁড়ায়। বক্সিং-এর ঘন্টাধ্বনি খেলা শুরুর সংকেত জানায়, আর মঙ্কস হিংস্র মুখে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে তোমিতার দিকে।

সমস্ত কিছু তাঁর বিপক্ষে। ৫ ফুট ১ ইঞ্চির এক জাপানি কি ৬ ফুটের এক মার্কিনিকে কাবু করতে পারবে?

********

পলক পড়ার আগেই মেঝেতে! কী আশ্চর্য!

ঘন্টা বাজার সাথে সাথেই তোমিতা নিজেকে মাটিতে শুইয়ে ফেলেন, কাঠের মেঝেয় শুয়ে মৃদু হাসতে শুরু করেন, যেন খানিক ঝিমিয়ে নিচ্ছেন। এক পায়ের ওপর আরেক পা মঙ্কসের দিকে রেখে নিরুদ্বেগে শুয়ে, হাত দুটো রেখেছেন বালিশের মতো মাথার ঠিক তলায়। ছবিটা এরকম, যেন সমুদ্রসৈকতে ফুরফুরে ছুটির মেজাজে গুনগুন করছেন কেউ।

মঙ্কস বুঝেই উঠতে পারে না যে সে কী করবে। যে মুহূর্তে সে তোমিতার বুকে আঘাত করতে যায়, দেখে তোমিতা ঘুমিয়ে পড়েছে। মঙ্কস তার গতি হারায়, আর পর মুহূর্তেই অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে। তোমিতা মিটিমিটি হাসতে থাকেন, মঙ্কস খুব অপমানিত বোধ করে।

“উঠে দাঁড়াও।”

“জুডোর নিয়মে এরকমটা কোথাও বলা নেই যে ঘুমোনো যাবে না।”

শান্ত মুখে ইংরিজিতে তোমিতা মঙ্কসের কথার জবাব দেন।

এরকম অবস্থায় মঙ্কস একটা ঘুষিও মারতে পারবে না। বস্তুত আঘাত করার কোনও জায়গাই সে খুঁজে পায় না। রেগে গিয়ে মঙ্কস তোমিতার মাথায় মারতে উদ্যত হয়। কিন্তু তোমিতা অন্য পাশে গড়িয়ে যায়। ক্রমাগত গড়াতে গড়াতে তোমিতা মঙ্কসকে তাঁর মাথার কাছে কিছুতেই আসতেই দেন না। ছুঁচের মত দ্রুত তিনি গড়াতে থাকেন। অবিরাম গড়াগড়ি খেয়েও তোমিতাকে দেখাচ্ছে ক্লান্তিহীন, আর ওদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী চক্রাকারে জুডো মাস্টারকে পাক খেতে খেতে একসময়ে হাঁপিয়ে ওঠে।

“পা চালাও, ওকে লাথি মারো, লাথি।” দর্শকের গুঞ্জন এবার চিৎকার করে মঙ্কসের কাছে দাবী জানায়। যেই মঙ্কস প্রস্তুত হয় তার পরের ধাপের জন্য, হঠাৎই তোমিতার বাড়ানো পায়ের ফাঁকে সে আটকা পড়ে, আর বুঝতে পারে তোমিতার বজ্রআঁটুনিতে তার বাজু বাঁধা পড়েছে। মঙ্কস তার ডান হাত ছাড়াতে পেরে প্রতিপক্ষের চোয়ালে ‘আপার কাট’ মারতে উদ্যত হয়, কিন্তু তোমিতা নিজেকে দ্রুত সামলে নেন। ঝুঁকে পড়ে জুডোমাস্টার মঙ্কসের পেট লক্ষ্য করে জুডোর প্রচলিত সেই তাৎক্ষণিক চিৎকার দিয়ে উঠিয়ে দেন তাঁর একটি পা।

“ই-ই-ইয়া – হ!”

তোমিতা একটি নির্ভুল ‘সার্কল থ্রো’ (তোমো-রেজ) হানেন যা যে কোনও জুডো খেলার জয় নিশ্চিত করে। শূন্যে পাক খেয়ে চিৎপটাং হয়ে মঙ্কস ধপাস করে মেঝেতে পড়ে। কাঠের মেঝে ছেড়ে কথা বলে না। নিজেকে সুরক্ষিত রেখে কীভাবে নীচে পড়তে হয়, সে ব্যাপারে মঙ্কসের কোনো ধারণাই ছিল না। তাই তার মাথা কাঠের মজবুত পাটাতনে সরাসরি আঘাতগ্রস্ত হয়। পিঠেও বেশ চোট লাগে। এমন যন্ত্রণা সে আগে কখনও পায়নি।

“উ-ফ-ফ-ফ!”

মঙ্কস সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, মুখ বিকৃত করে সে বসে। চোট পাওয়া মাথায় হাত বোলায়। উত্তেজনায় সে মনোসংযগ করতে অপারগ হয়।

তোমিতা তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে আবার মাটিতে শুয়ে আরাম করছেন, মুখে মৃদু হাসি।

যন্ত্রণাকাতর মঙ্কস নিজেকে টেনে তোলে, আর হতবুদ্ধির মতো দাঁড়ায়। কিন্তু এবার তোমিতার কাছাকাছি যেতে খুব ভয় করে তার। শুধু লেংচে-লেংচে একবার সে এদিক একবার ওদিক করে, আর তোমিতার দিকে ভুরু কুঁচকে তাকাতে থাকে।

জবাবে জুডোমাস্টার লাফিয়ে উবু হয়ে বসেন। হাত দুটো বুকের কাছে জড়ো করা, চোখ বন্ধ, ঠিক যেন রাস্তার ধারে বসে একটু ঝিমিয়ে নিচ্ছেন। মঙ্কস ঘাবড়ে যায়, যদি তার প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে থাকত, তাহলে না হয় সে তেড়ে যেত। কিন্তু উবু হয়ে বসা প্রতিপক্ষকে আঘাত করার একমাত্র উপায় নীচু হওয়া।

পশ্চিমের লোকেদের পা তেমন বলিষ্ঠ হয় বলে জানা যায় না। উবু হয়ে বসা তোমিতাকে আক্রমণ করতে গেলে তার কাছে গিয়ে পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে তারপর জোরের সঙ্গে তাকে ঘুরিয়ে মারতে হবে।

একজন প্রতিপক্ষ দুর্বল পা নিয়ে প্রায় নুয়ে পড়ে যখন তোমার দিকে এগিয়ে আসছে, তখন সেটা কোনও চ্যালেঞ্জই নয়। তোমিতা নিজের কৌশল ঠিক করে নিলেন।

মঙ্কসের ওই ভয় পেয়ে যাওয়া ভঙ্গি দেখে আমেরিকান দর্শক একটুও সন্তুষ্ট নয়। তাঁরা মঙ্কসকে নানারকম আওয়াজ দিতে থাকে, গালি দিতে থাকে, আর সেই গর্জন ক্রমাগত বাড়তে থাকে।

শেষমেশ মনে হলো সাহস সঞ্চয় করে একটা প্রত্যাঘাত মঙ্কস হানতে পারবে। সে একটু পিছিয়ে দাঁড়ায় আর বদলা নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে। কিন্তু তার প্রতিপক্ষের নড়বার কোনও লক্ষণই দেখা যায় না। নিজের সমস্ত শক্তি জড়ো করে মঙ্কস সামনের দিকে ধেয়ে আসে একটা ‘হুক’ মারার জন্য।

ঠিক তখনই ঘটল ঘটনাটা। আচমকা তোমিতা মঙ্কসের বাড়ানো পা দুটো হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে। ঠিক একটা বড় গাছের গুঁড়ি যেমন মাটিতে উপড়ে পড়ে, মঙ্কসও মুখ থুবড়ে পড়ল আর তার পা হাওয়ায় লটকাতে লাগল।

“আহ্‌!”

ওর মুখ ব্যথায় কুঁচকে গেল, আর শেষ পর্যন্ত মঙ্কস ভিরমি খেল। দর্শকরা এতটাই থম মেরে গেল যে মনে হলো তারাও বুঝি সব ভিরমি খেয়েছে।

********

অনেকদিন পর্যন্ত, সানফ্রানসিসকোর আমেরিকানরা যে কোনও জাপানিকে দেখলেই মনে মনে ভয় পেত, ভাবত তিনি নির্ঘাত ভেতরে ভেতরে একজন জুডো মাস্টার। সবার মধ্যে এই ধারণাই বদ্ধমূল হয় যে, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে জাপানিরা এই জুডোর প্যাঁচ দিয়েই জিতে ছিল।


---------------
 
জাপানি লেখক সুনেও তোমিতা’র ছোটগল্পের ইংরেজি অনুবাদ ‘এ রোলিং ম্যাচ’-এর ভাষান্তর। ইংরেজি অনুবাদকঃ জেড কওফম্যান
 
অনুবাদক(বাংলা) পরিচিতি:
সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত
গল্পকার। অনুবাদক। বাচিকশিল্পী 
কলকাতায় থাকেন।
 

1 টি মন্তব্য: