সুহান রিজওয়ানের জন্ম ৯ এপ্রিল, ১৯৮৮, চট্টগ্রামে। বেড়ে ওঠা ঢাকায়। উচ্চ মাধ্যমিকের পড়াশোনা নটরডেম কলেজে, পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্রপ্রকৌশলে স্নাতক।পড়তে পড়তেই নিজের ভালো লাগা বইগুলোর মতো কোনো উপন্যাস লিখতে চান সুহান। সাক্ষী ছিলো শিরস্ত্রাণ, পদতলে চমকায় মাটি, গ্রাফিতিও প্রশ্ন করে, ২৩°৪৪’৫৮” ৯০°২২’৫০” সুহানের উল্লেখযোগ্য রচনা। বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখালেখির সন্ধান পাওয়া যাবে shuhanrizwan.com ওয়েবসাইটে। গল্পপাঠের পক্ষ থেকে সুহানকে ২৫টি প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। প্রশ্নগুলো বইপড়া ও লেখালিখি নিয়ে। লেখককে জানার জন্য এ প্রশ্নের উত্তরগুলো খুব দরকারী।
গল্পপাঠ:
কোন লেখক আপনাকে প্রভাবিত করেছেন এবং কীভাবে প্রভাবিত করেছেন?
কোন লেখক আপনাকে প্রভাবিত করেছেন এবং কীভাবে প্রভাবিত করেছেন?
সুহান রিজওয়ান:
এ ধরনের প্রশ্নগুলোর আসলে উত্তর দেয়া যায় না। সব লেখকের লেখাই আমাদের কম-বেশি প্রভাবিত করে। ভালো লেখক তো অবশ্যই, খারাপ লেখকেরাও আমাদের প্রভাবিত করে- আমরা তখন বুঝি যে ওরকম কিছু আমরা লিখতে চাই না।
গল্পপাঠ:
এখন কোন বইগুলো পড়ছেন, খাটের পাশের টেবিলে কোন বইগুলো এনে রেখেছেন পড়বার জন্য?
সুহান রিজওয়ান:
কিন্ডলের ই-বুক আর কাগজের বই মিলিয়ে আমি সবসময় চার-পাঁচটা বই একত্রে পড়ি। মানে যখন যেটা ভালো লাগে শুরু করে দেই। যেটা ভালো লাগতে থাকে সেটা নিয়ে টানা এগোই।
সম্প্রতি বাসা বদল হয়েছে, নিজের পুরাতন বইগুলোর প্রায় সবই এখনও বাক্সবন্দী। হাতের কাছে আছে মূলতঃ প্রবাসী বন্ধুদের উপহার দেওয়া কিছু বই। ম্যাগি ফেরেল-এর Hamnet, রেমন্ড কারভারের Where I am calling from, আরভিন ইয়ালোমের When Nietzsche Wept, কার্লোস রুই জাফোনের The shadow of the wind, নেইল গেইম্যানের Neverwhere।
আর আছে বইমেলায় কেনা বইগুলো। এই সাক্ষাৎকারের সময় পড়ছিলাম ভার্গাস ইয়োসার উপন্যাস ‘The Dream of the Celt’ , রবীন্দ্রনাথের ‘ছিন্নপত্র’ আর হুমায়ূন আহমেদের সাক্ষাৎকারের একটা সংকলন।
সম্প্রতি বাসা বদল হয়েছে, নিজের পুরাতন বইগুলোর প্রায় সবই এখনও বাক্সবন্দী। হাতের কাছে আছে মূলতঃ প্রবাসী বন্ধুদের উপহার দেওয়া কিছু বই। ম্যাগি ফেরেল-এর Hamnet, রেমন্ড কারভারের Where I am calling from, আরভিন ইয়ালোমের When Nietzsche Wept, কার্লোস রুই জাফোনের The shadow of the wind, নেইল গেইম্যানের Neverwhere।
আর আছে বইমেলায় কেনা বইগুলো। এই সাক্ষাৎকারের সময় পড়ছিলাম ভার্গাস ইয়োসার উপন্যাস ‘The Dream of the Celt’ , রবীন্দ্রনাথের ‘ছিন্নপত্র’ আর হুমায়ূন আহমেদের সাক্ষাৎকারের একটা সংকলন।
গল্পপাঠ:
সর্বশেষ কোন শ্রেষ্ঠ বইটি আপনি পড়েছেন?
সুহান রিজওয়ান:
‘শ্রেষ্ঠ বই’ কথাটা বুঝতে পারলাম না ঠিকমতো।
‘শ্রেষ্ঠ বই’ কথাটা বুঝতে পারলাম না ঠিকমতো।
যদি আমার সদ্য পড়া বইগুলোর মাঝে কোনটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সেইটা প্রশ্ন হয়ে থাকে, তাহলে চট করে মাথায় আসছে নেইল গেইম্যানের স্যান্ডম্যান গ্রাফিক নভেল সিরিজ, দুর্দান্ত। তারপর আপনার বর্ণালি সাহার ‘জবরখাকি’। আরেকটা যেমন হচ্ছে গোর্কির ‘পৃথিবীর পথে’, আফসোস হচ্ছে এই বইটা শৈশবে পড়া হয়নি বলে।
গল্পপাঠ:
আপনার প্রতিদিনকার পাঠের অভিজ্ঞতার কথা বলুন, কখন কোথায়, কী এবং কীভাবে পড়েন?
সুহান রিজওয়ান:
আমি সর্বাবস্থায় পড়তে পারি। সকালে ঘুম থেকে উঠে যেমন পড়তে পারি, হাসপাতালের ওয়েটিং রুমেও পড়ি। স্ত্রী-র সাথে ঝগড়া হলেও বই পড়ি, আবার ধরেন রাতে ঘুমোবার আগেও কিন্ডল পড়ি!
... মানে পড়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় নাই। কোথাও গেলে ব্যাগেও কিন্ডল নেই। ফাঁক পেলে পড়া শুরু করে দিই।
... মানে পড়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় নাই। কোথাও গেলে ব্যাগেও কিন্ডল নেই। ফাঁক পেলে পড়া শুরু করে দিই।
গল্পপাঠ:
কোন বইটি আপনার খুব প্রিয় কিন্তু অনেকেই বইটির কথা জানেন না?
সুহান রিজওয়ান:
অনেকেই জানে না কি না জানি না- তবে হ্যাঁ, খুব পছন্দের কিছু বই আছে যেগুলা নিয়ে নিজের পরিচিত বৃত্তে আলাপ কম দেখি।
চট করে মনে আসছে ধরেন আহমাদ মোস্তফা কামালের ‘বাংলা গল্পের উত্তরাধিকার’-এর কথা। তারপরে আপনার হাসনাত আবদুল হাইয়ের তিন খণ্ডের ভ্রমণ সমগ্র। সতীনাথ ভাদুড়ীর ‘সত্যি ভ্রমণ কাহিনি’। ভেরা পানোভার ‘পিতা ও পুত্র’।
চট করে মনে আসছে ধরেন আহমাদ মোস্তফা কামালের ‘বাংলা গল্পের উত্তরাধিকার’-এর কথা। তারপরে আপনার হাসনাত আবদুল হাইয়ের তিন খণ্ডের ভ্রমণ সমগ্র। সতীনাথ ভাদুড়ীর ‘সত্যি ভ্রমণ কাহিনি’। ভেরা পানোভার ‘পিতা ও পুত্র’।
গল্পপাঠ:
কোন বইটি জীবনে একবার হলেও প্রত্যেকের পড়া উচিৎ?
সুহান রিজওয়ান:
এমন কোনো বই মনে হয় না আছে। প্রচুর মানুষ আছেন, যারা বই না পড়েই জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন- তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আর বইপড়ুয়াদের মাঝেও খোঁজ নিলে দেখা যাবে একজন যে বইকে অবশ্যপাঠ্য বলছেন, অন্য আরেক পাঠক সেটা কোনোভাবে মিস করে গেছেন।
গল্পপাঠ:
ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, সমালোচক এবং কবিদের মধ্যে এখনও লিখছেন এমন কাকে আপনি সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করেন? কেন করেন?
সুহান রিজওয়ান:
নিজে উপন্যাস লিখতে চাই বলে আমি দুজন ঔপন্যাসিকের কথাই বলবো। অরহান পামুক আর মারিও ভার্গাস ইয়োসা।
শ্রদ্ধার কারণ তো তাদের দুজনের লেখা’ই। দুজনের নাম বলছি কারণ দুজন’কে শ্রদ্ধা করার কারণ আদর্শিকভাবে তারা বিপরীত মেরুতে। পামুকের লেখায় ইতিহাস সচেতনতা আছে, কিন্তু তিনি আদতে অধিক মনোযোগী উপন্যাসের আঙ্গিক নিয়ে পরীক্ষা করতে, উপন্যাসের নতুন দিগন্ত আবিষ্কার করতে। অন্যদিকে ইয়োসা আঙ্গিকের পরীক্ষায় আগ্রহী ঠিকই, কিন্তু তার উপন্যাসের আসল আকর্ষণ আমার কাছে ইতিহাস প্রিয়তায়। মানে ঐতিহাসিক নানা ঘটনাকে তিনি যে বক্তব্য আকারে, একটা গল্পের আকারে উপস্থাপন করে পাঠকের কাছে আনেন- সেই ব্যাপারটাই আমার কাছে তাকে প্রিয় করেছে।
বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে চাচ্ছি সালমান রুশদীকে। তার উপন্যাসের জগতে এখনও ঠিকঠাক ঢোকা না হলেও তার অকল্প-সাহিত্য, মানে ননফিকশন পড়েই তার কল্পনাশক্তি আর বিশ্লেষণে আমি দারুণ মুগ্ধ।
শ্রদ্ধার কারণ তো তাদের দুজনের লেখা’ই। দুজনের নাম বলছি কারণ দুজন’কে শ্রদ্ধা করার কারণ আদর্শিকভাবে তারা বিপরীত মেরুতে। পামুকের লেখায় ইতিহাস সচেতনতা আছে, কিন্তু তিনি আদতে অধিক মনোযোগী উপন্যাসের আঙ্গিক নিয়ে পরীক্ষা করতে, উপন্যাসের নতুন দিগন্ত আবিষ্কার করতে। অন্যদিকে ইয়োসা আঙ্গিকের পরীক্ষায় আগ্রহী ঠিকই, কিন্তু তার উপন্যাসের আসল আকর্ষণ আমার কাছে ইতিহাস প্রিয়তায়। মানে ঐতিহাসিক নানা ঘটনাকে তিনি যে বক্তব্য আকারে, একটা গল্পের আকারে উপস্থাপন করে পাঠকের কাছে আনেন- সেই ব্যাপারটাই আমার কাছে তাকে প্রিয় করেছে।
বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে চাচ্ছি সালমান রুশদীকে। তার উপন্যাসের জগতে এখনও ঠিকঠাক ঢোকা না হলেও তার অকল্প-সাহিত্য, মানে ননফিকশন পড়েই তার কল্পনাশক্তি আর বিশ্লেষণে আমি দারুণ মুগ্ধ।
গল্পপাঠ:
লেখক হিসেবে তৈরি হতে কোন বইটি আপনার মনকে শৈল্পিক করে তুলেছে এবং কীভাবে?
সুহান রিজওয়ান:
এটাও ঠিক উত্তর দেয়ার মতো প্রশ্ন নয়। এককভাবে কোনো বই মনকে শৈল্পিক করতে, বা বিষাক্ত করতে পারে বলে মনে হয় না। পাঠক হিসেবে আমরা যা, সেটা আমাদের পড়া সমস্ত ভালো এবং সমস্ত খারাপ বইয়ের প্রভাবের সমষ্টি।
গল্পপাঠ:
কোন বিশেষ ভাব কিংবা পরিবেশ কিংবা পরিস্থিতি আপনাকে লিখতে বাধ্য করে?
সুহান রিজওয়ান:
আমাকে লিখতে বাধ্য করে চিন্তাবীজ, মানে আইডিয়া। যেটা হয়, পড়তে পড়তে বা লিখতে লিখতে মাথায় তো অবিরাম সব চিন্তাবীজ আসতেই থাকে। সেগুলোকে আমি তুলে রাখি একটা নোটপ্যাডে। আমি যেহেতু উপন্যাসই লিখি, এবং লিখি দীর্ঘসময় ধরে, ফলে দেখা যায়, একটা লেখা শেষ হবার আগেই অনেকগুলো অমন চিন্তা জমে যায়। দেখা যায়, ওই জমে থাকা চিন্তাবীজগুলোর কোনো কোনোটা এখন আমাকে আর আলোড়িত করছে না- মানে সেগুলা তাদের আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেছে। তবে অবশ্যই একটা বা দুটো আইডিয়া থাকে, যেটা তখনো তীব্রভাবে আমাকে আলোড়িত করে- মনে হয় যে এদের নিয়ে লিখতে বসলে দারুণ একটা ইন্টেলেকচুয়াল এডভেঞ্চারে যাওয়া যাবে। তখন আমি সেটা নিয়ে আবার একটা লম্বা সময়ের জন্য লিখতে বসি।
... তবে, স্বীকার করি, কবিদের ওপর কবিতা নাজিলের সময় যেমন হয় শুনি, তেমনই আমারও মাঝে মাঝে বিশেষ ভাব বা পরিস্থিতিতে কী একটা লিখতে তীব্রভাবে ইচ্ছে করে। তখন যেটা হয়, আমি জার্নালে কিছু একটা লিখে রাখিঃ কোনো পরিস্থিতি বা অনুভূতিকে বর্ণনা করে, মাথার ভেতরের অজস্র চিন্তাকে নিয়ে জট পাকিয়ে শব্দের খেলা খেলে। সম্প্রতি আমার তেমন একটা জার্নাল প্রকাশিতও হয়েছে। অনেক পাঠক অভিযোগ করেছে যে সেগুলো ঠিক দিনলিপি নয়, কিন্তু আমার সেটা নিয়ে মাথাব্যথা নাই। আমার জার্নাল আসলে প্রথাগত জার্নাল নয়, দিনলিপির চেয়ে সেগুলা বরং শব্দের খেলা বেশি। মানে আপনারা যেটাকে বললেন ‘বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে লিখতে বাধ্য হওয়া’, ওইরকম একটা মুহুর্তে ভাব প্রকাশের চেষ্টা।
... তবে, স্বীকার করি, কবিদের ওপর কবিতা নাজিলের সময় যেমন হয় শুনি, তেমনই আমারও মাঝে মাঝে বিশেষ ভাব বা পরিস্থিতিতে কী একটা লিখতে তীব্রভাবে ইচ্ছে করে। তখন যেটা হয়, আমি জার্নালে কিছু একটা লিখে রাখিঃ কোনো পরিস্থিতি বা অনুভূতিকে বর্ণনা করে, মাথার ভেতরের অজস্র চিন্তাকে নিয়ে জট পাকিয়ে শব্দের খেলা খেলে। সম্প্রতি আমার তেমন একটা জার্নাল প্রকাশিতও হয়েছে। অনেক পাঠক অভিযোগ করেছে যে সেগুলো ঠিক দিনলিপি নয়, কিন্তু আমার সেটা নিয়ে মাথাব্যথা নাই। আমার জার্নাল আসলে প্রথাগত জার্নাল নয়, দিনলিপির চেয়ে সেগুলা বরং শব্দের খেলা বেশি। মানে আপনারা যেটাকে বললেন ‘বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে লিখতে বাধ্য হওয়া’, ওইরকম একটা মুহুর্তে ভাব প্রকাশের চেষ্টা।
গল্পপাঠ:
.আপনি কীভাবে আপনার বইগুলোকে গুছিয়ে রাখেন?
সুহান রিজওয়ান:
ফিকশন আর নন-ফিকশনের বই আলাদা শেলফে রাখি। তবে শেলফ থেকে নেমে হাতে এলে কিংবা পড়ার টেবিলে এলে সবাই একঘাটে জল খেয়ে মিশে যায়।
গল্পপাঠ:
এই বইগুলো পড়ার পর কোন বইগুলো পড়বেন বলে ভেবেছেন?
সুহান রিজওয়ান:
জানি না। তখন পড়ার ইচ্ছে যেদিকে নিয়ে যাবে।
গল্পপাঠ:
শব্দকে আপনি কীভাবে অনুভব করেন? আপনি কি কখনও শব্দের গন্ধ পেয়েছেন?
শব্দকে আপনি কীভাবে অনুভব করেন? আপনি কি কখনও শব্দের গন্ধ পেয়েছেন?
সুহান রিজওয়ান:
নাহ, গন্ধ পাইনি। শব্দকে অনুভব করি কান আর মন দিয়ে। মানে ভালো গদ্য পড়ার সময় শব্দ কানে একটা ছন্দ তৈরি করে। আমি সবসময় সেই ছন্দটা আবিষ্কার করত্যে চাই।
গল্পপাঠ:
১৩.সাম্প্রতিক কোন ক্ল্যাসিক উপন্যাসটি আপনি পড়েছেন?
১৩.সাম্প্রতিক কোন ক্ল্যাসিক উপন্যাসটি আপনি পড়েছেন?
সুহান রিজওয়ান:
মানে ক্লাসিক কোন উপন্যাসটি সম্প্রতি পড়েছি? ... প্রথম পড়ার মাঝে চট করে মনে পড়ছে ইউকিও মিশিমার The Sailor who fell from grace with the sea, খুবই সুন্দর। ইতালো কালভিনোর If on a winters night a traveler, এটাও ভালো লেগেছে। আর পূর্বে পড়া ক্লাসিকের কাছে তো মাঝে মাঝেই ফেরত যাই। সতীনাথ ভাদুড়ীর ‘অচিন রাগিনি’ পড়েছি সম্প্রতি, মার্কেজের General in his Labyrinth।
গল্পপাঠ:
আপনি যখন একটি বইয়ের কাজ করছেন, লিখছেন, সম্পাদনা করছেন, কাটাকাটি করছেন, সেই সময়টায় আপনি কোন ধরণের লেখাপত্র পড়েন? আবার ঠিক এরকম পরিস্থিতিতে কী ধরণের লেখা আপনি এড়িয়ে চলেন?
সুহান রিজওয়ান:
যখন উপন্যাসের প্রথম খসড়ার কাজ করি, তখন পড়ার সূচীটা বেশ এলোমেলো হয়ে যায়। তখন মূলত সেই ধরনের বইপত্রই পড়ি, যা আমার চিন্তাকে স্পার্ক করে।
ধরেন আমি একটা কথোপকথনের দৃশ্য লিখছি, সেখানে কী ধরনের আলাপ থাকবে- সেটার একটা আবছা ধারণা তো আমার ভেতরে থাকে। ফলে আমি তখন ওই ধরনের বইপত্র পড়তে থাকি, যেগুলো আগে পড়েছি- এবং সেগুলোর বিশেষ কোনো জায়গায় আমি যে আলাপটা লিখতে চাই- তার সাথে সম্পর্কযুক্ত কিছু আছে। মানে আমার কাছে চিন্তা আসে শব্দ থেকে। ফলে ওই পড়া জিনিসগুলো পড়তে পড়তেই আমার ভেতরে আমি যা বলতে যাচ্ছি- সেই চিন্তাটা গুছিয়ে আসে। তখন আমি লেখা শুরু করি। তবে এটা শুধু প্রথম খসড়ার সময়। পরের খসড়াগুলোয় তেমন নির্দিষ্ট কোনো বইপত্র পড়ি না।
নির্দিষ্ট কোনো ধরনের লেখা এড়িয়ে চলি না। মানে যেটা বললাম, আগে পড়া বইগুলো আমি পড়ি চিন্তাকে গুছিয়ে আনতে। একই সাথে নতুন কিছু পড়ারও ইচ্ছাও তো থাকে।
ধরেন আমি একটা কথোপকথনের দৃশ্য লিখছি, সেখানে কী ধরনের আলাপ থাকবে- সেটার একটা আবছা ধারণা তো আমার ভেতরে থাকে। ফলে আমি তখন ওই ধরনের বইপত্র পড়তে থাকি, যেগুলো আগে পড়েছি- এবং সেগুলোর বিশেষ কোনো জায়গায় আমি যে আলাপটা লিখতে চাই- তার সাথে সম্পর্কযুক্ত কিছু আছে। মানে আমার কাছে চিন্তা আসে শব্দ থেকে। ফলে ওই পড়া জিনিসগুলো পড়তে পড়তেই আমার ভেতরে আমি যা বলতে যাচ্ছি- সেই চিন্তাটা গুছিয়ে আসে। তখন আমি লেখা শুরু করি। তবে এটা শুধু প্রথম খসড়ার সময়। পরের খসড়াগুলোয় তেমন নির্দিষ্ট কোনো বইপত্র পড়ি না।
নির্দিষ্ট কোনো ধরনের লেখা এড়িয়ে চলি না। মানে যেটা বললাম, আগে পড়া বইগুলো আমি পড়ি চিন্তাকে গুছিয়ে আনতে। একই সাথে নতুন কিছু পড়ারও ইচ্ছাও তো থাকে।
গল্পপাঠ:
সম্প্রতি পঠিত বইগুলো থেকে এমন কোনও বিস্ময়কর ব্যাপার কি জেনেছেন যা আপনার লেখক- জীবনকে ঋদ্ধ করেছে?
সুহান রিজওয়ান:
ঋদ্ধ করেছে নাকি জানি না, তবে বিস্ময়কর মনে হয়েছে নেইল গেইম্যানের কল্পনার জগতটাকে। ওনার লেখা গত দু’তিন মাস ধরে টানা পড়ছি। স্যান্ডম্যান সিরিজের কথা তো বললামই, সেটা ছাড়াও লোকটার চিন্তা প্রক্রিয়া বেশ মজার লেগেছে। আমাদের সুকুমার রায় আর ওই নেইল গেইম্যান একত্রিত হলে কী করতে পারতেন, সেই চিন্তা করে রোমাঞ্চিত হয়েছি।
...ও হ্যাঁ, বিস্ময়ের কথা যেহেতু এলো, লিউ সিশিনের কথাও বলতে চাই। তার The Three body Problem থ্রি-বডি প্রবলেম তো ইতোমধ্যেই মাস্টারপিস বলে স্বীকৃতি পেয়েছে। খুবই নিরেট বিজ্ঞানকে কেন্দ্র করে লেখা সাইফাই, তবে দারুণ আকর্ষণীয়। এই লোকটার কল্পনার জগতও তুখোড়।
...ও হ্যাঁ, বিস্ময়ের কথা যেহেতু এলো, লিউ সিশিনের কথাও বলতে চাই। তার The Three body Problem থ্রি-বডি প্রবলেম তো ইতোমধ্যেই মাস্টারপিস বলে স্বীকৃতি পেয়েছে। খুবই নিরেট বিজ্ঞানকে কেন্দ্র করে লেখা সাইফাই, তবে দারুণ আকর্ষণীয়। এই লোকটার কল্পনার জগতও তুখোড়।
গল্পপাঠ:
আপনি কোন ধরণের লেখা পড়তে আগ্রহ বোধ করেন, আর কোন ধরণটি এড়িয়ে চলেন?
সুহান রিজওয়ান:
কখন কীসে আগ্রহ বোধ করি, তা ঠিক বুঝি না। যা পড়তে ভালো লাগে, তা-ই পড়ি। বিশেষ কিছু এড়িয়ে চলি না।
গল্পপাঠ:
আপনার জীবনে উপহার হিসেবে পাওয়া শ্রেষ্ঠ বই কোনটি?
সুহান রিজওয়ান:
আমার সপ্তম জন্মদিনটা বেশ বড় করে আয়োজন করা হয়েছিলো, নানা বাড়িতে। একসাথে অনেকগুলো বই পেয়েছিলাম তখন। কিছু চমৎকার বই ছিলো সেগুলোর মাঝে। আমার বিশেষভাবে মনে আছে সুকুমার রায়ের ‘আবোল-তাবোল’, আর হুমায়ূন আহমেদের ‘নীল হাতি’র কথা। উপহার হিসেবে সেই বইগুলাই আজও আমার সবচেয়ে প্রিয়।
গল্পপাঠ:
ছোটবেলায় কেমন বই পড়তেন? সেই সময়ে পড়া কোন বই এবং কোন লেখক আপনাকে আজও মুগ্ধ করে রেখেছে?
সুহান রিজওয়ান:
ছোটবেলায় বই মনে হয় প্রচুর পড়তাম। স্বাভাবিকভাবেই অত বাছবিচার করে পড়তাম না তখন, যা সহজলভ্য ছিলো চার পাশে- সেগুলোই পড়তাম। তখনকার পছন্দের লেখকদের প্রতি প্রেম আমার বড় হয়েও অক্ষুণ্ন আছে। হুমায়ূন আহমেদ, কাজী আনোয়ার হোসেন, সত্যজিৎ রায়, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, শাহরিয়ার কবির, সুনীল গাঙ্গুলী- তাদের কিশোরোপযোগী লেখারা আমায় এখনও মুগ্ধ করে। সেই সময়ে পড়া বইয়ের মাঝে বিশেষভাবে মনে আছে কাজী আনোয়ার হোসেনের ‘রবিন হুড’ আর মুহম্মদ জাফর ইকবালের আমার বন্ধু রাশেদ আর সত্যজিতের ‘শঙ্কু সমগ্র’ এর কথা। খুবই আবেগমথিত হয়েছিলাম ওই বই দুটো পড়ে।
গল্পপাঠ:
এ পর্যন্ত কতগুলো বই অর্ধেক কিংবা পড়া শুরু করে শেষ না করেই ফেলে রেখেছেন?
সুহান রিজওয়ান:
প্রচুর, হিসেব নেই।
প্রচুর, হিসেব নেই।
গল্পপাঠ:
কোন বইগুলোয় আপনি নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন?
সুহান রিজওয়ান:
পছন্দের সমস্ত বইয়ের মাঝেই। বইয়ের মাঝে নিজের অস্তিত্ব বা মনের কোনো না কোনো অংশকে আবিষ্কার করা না গেলে সে বই আমাদের পছন্দ হয় না।
গল্পপাঠ:
কোন বইগুলো জীবনে বারবার পড়েছেন এবং আরও বহুবার পুনর্পাঠ করবেন?
সুহান রিজওয়ান:
সবচেয়ে বেশি মনে হয় পড়েছি জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’ আর মানিকের ‘পদ্মানদীর মাঝি’, স্কুল কলেজের পরীক্ষার জন্য! এমনিতে বার বার পড়েছি হুমায়ূন আহমেদের গল্পসমগ্র, রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ, সুকুমার রায়ের শিশুসমগ্র, কাজী আনোয়ার হোসেনের অগ্নিপুরুষ, শরদিন্দুর ব্যোমকেশ সমগ্র, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই, নোটস ফ্রম আন্ডারগ্রাউন্ড, জীবনানন্দের শ্রেষ্ঠ কবিতা।
এছাড়া এক-দু’বার পড়া, কিন্তু বারবার ফিরে ফিরে পড়তে চাই এমন বই অনেক, অনেক।
এছাড়া এক-দু’বার পড়া, কিন্তু বারবার ফিরে ফিরে পড়তে চাই এমন বই অনেক, অনেক।
গল্পপাঠ:
লেখালেখির নিরন্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে কীভাবে একাত্ম থাকেন?
সুহান রিজওয়ান:
...উম, এখন আসলে লেখাটাই আমার পেশা। একটা সরকারি চাকরি করতাম আমি, তবে কয়েক বছর চাকরি করে মনে হয়েছিলো লেখা আর চাকরির এই দুই নৌকায় পা রেখে চলা আমার জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ফলে চাকরি ছেড়ে এখন আমি লেখাকেই প্রতিদিনের সঙ্গী করেছি।
তবে একটা ব্যাপার হচ্ছে, চাকরি না করলে- মানে ঘরে বসে কাজ করলে পারিবারিক অনেক কাজের ভার কাঁধে চাপে। এখন চাকরির বদলে সেইসব কাজ সামলে লেখালেখির সাথে একাত্ম থাকার চেষ্টা করি।
তবে একটা ব্যাপার হচ্ছে, চাকরি না করলে- মানে ঘরে বসে কাজ করলে পারিবারিক অনেক কাজের ভার কাঁধে চাপে। এখন চাকরির বদলে সেইসব কাজ সামলে লেখালেখির সাথে একাত্ম থাকার চেষ্টা করি।
গল্পপাঠ:
কে সেই লেখক যাকে আপনি পাঠ করেন গভীর আনন্দের সঙ্গে, যিনি আপনার ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেন?
সুহান রিজওয়ান:
এমন লেখক আসলে অনেক। মানে গত কয়েক বছর ধরে যা হয়, যে লেখককে খুব ভালো লাগে, চেষ্টা করি তার লেখা টানা পড়তে। এটা আপনার আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বলেন, আর এদুয়ার্দো গ্যালিয়ানো বলেন- সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তখন টানা কিছুদিন ওই লেখকের সাথেই ঘোরা হয়, ওই লেখকই তখন আমার ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেন। তারপর মোটামুটি যখন মনে হয় ওই লেখকের সাথে একটা বোঝাপড়ায় আসতে পেরেছি, তখন আমি অন্য কোনো লেখকের দ্বারস্ত হই।
গল্পপাঠ:
গল্প লিখতে শুরু করেন কীভাবে? একজন রিপোর্টারের মতোই কি আপনি চারপাশটাকে অবিরাম পর্যবেক্ষণে রাখেন? আপনি কি নোট নেন?
সুহান রিজওয়ান:
এটার উত্তর মনে হয় আগে দিয়েছি। গল্প আমি লিখি না। উপন্যাস লিখতে বসি চিন্তাবীজ থেকে। পর্যবেক্ষণ তো করার চেষ্টা করিই, তবে আধুনিক মানুষের মস্তিষ্ক হাইপার-অ্যাকটিভ খুব, ফলে অবিরাম পর্যবেক্ষণ হয়তো অধিকাংশ সময়েই সম্ভব হয় না।
আমি নোট নেই। যে জিনিসটা আমার চোখে একটু অন্যরকম বলে মনে হলো, চেষ্টা রাখি সেটা জার্নাল বা কোথাও তুলে রাখতে। অনেক সময়ই দেখা যায় ওইরকম নোটগুলো আমার লেখায় কাজে লেগে গেছে।
আমি নোট নেই। যে জিনিসটা আমার চোখে একটু অন্যরকম বলে মনে হলো, চেষ্টা রাখি সেটা জার্নাল বা কোথাও তুলে রাখতে। অনেক সময়ই দেখা যায় ওইরকম নোটগুলো আমার লেখায় কাজে লেগে গেছে।
গল্পপাঠ:
লেখালেখির সবচেয়ে কঠিন দিক হিসেবে কোনটিকে চিহ্নিত করবেন?
সুহান রিজওয়ান:
লেখার সবচাইতে কঠিন দিক, ভেবে মনে হচ্ছে জীবনের ভার। বাস্তবতা এমন রূঢ় ব্যাপার, অক্ষরের মতো বায়বীয় জিনিসের দাম তার কাছে বেশি না। জীবন কেবলই আমাদের লেখার টেবিল থেকে দূরে নিয়ে যেতে চায়।


0 মন্তব্যসমূহ