সকাল সাড়ে আটটা বেজে গেছে । ঝটতি হাতে নাইটিটা খুলে সায়ার উপরেই চুড়িদারের টপটা পরে নিল শ্রীপর্ণা। সে একটা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে চাকরি করে। আগে সকাল সাতটায় ট্রেন ধরার জন্য স্টেশনে ছুটতে হতো। যখন থেকে এই লকডাউন শুরু হয়েছে ভোরের স্বপ্নের আমেজটা নিতে পারছে। ধীরে সুস্থে সকাল আটটায় ঘুম থেকে ওঠে। ব্যালকনিতে রাখা ফুলের টবগুলির সঙ্গে বসে গল্প করে। আয়েস করে গ্রিন টি খায়।
আজ একটু বেশিই দেরি হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা সাঁড়াশি হয়ে গলার কাছে এগিয়ে আসছে। লোকে ঠিকই বলে লকডাউন মানুষকে কুঁড়ে বানিয়ে দিয়েছে। আয়নার সামনে দাড়াতেই নজর পড়ে পাখির বাসার মতো এলোমেলো চুলগুলোর দিকে। দ্রুত হাতে হেয়ার সিরাম লাগিয়ে মাথার সামনের দিকটা সেট করে নিল। বারবার চোখ চলে যাচ্ছে ঘড়ির দিকে। এই রে ন’টা বেজে গেল। স্টুডেন্টদের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে লিঙ্ক পাঠাতে হবে। ততক্ষণে একের পর এক মেসেজ ঢুকতে শুরু করেছে –“গুড মর্নিং মিস,গুড মর্নিং মিস।“ মনে মনে বিরক্ত হয় শ্রীপর্ণা। এই বাচ্চাগুলোর পেরেন্টসদের কী সকাল থেকে কোনও কাজ নেই! একদম রাইট টাইমে এন্ট্রি নিতে হবে! লিঙ্ক পাঠিয়েই শ্রীপর্ণা ক্যামেরা অন করে না। বন্ধ ক্যামেরার আড়ালে দ্রুত হাতে প্রসাধন সেরে নেয়। আর মাঝে মাঝে মুখে বলতে থাকে –“গুড মর্নিং, গুড মর্নিং,হাউ আর ইউ।“ না আর সময় নেই। ন’টা দশ হয়ে গেল। এবার ক্যামেরা অন করতেই হবে। প্রেয়ার টাইম। এখন শ্রীপর্ণার অবস্থা অনেকটা পুজো প্যান্ডেলের দুর্গা ঠাকুরের মতো। পেছনে উসখো খুসখো চুল। নিচে রংচটা সায়া। ক্যামেরায় তো শুধু সামনের অংশটাই দৃশ্যমান। যা কিছু অদৃশ্য- তার জন্য কবে কে পরিশ্রম করেছে ?
প্রায় দুবছর হতে চলল এইভাবে অনলাইন ক্লাস চলছে। প্রথম প্রথম এক্টূ অসুবিধা হলেও এখন সবকিছু বেশ হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। ওইটুকু ছোট ছোট বাচ্চারাও শিখে গেছে কীভাবে মোবাইল বা কম্পিউটারে ভিডিও কনফারেন্স করতে হয়। এই ভাবেই হয়ত এক একটা মহামারি সভ্যতাকে কয়েক কদম এগিয়ে দেয়। সত্যি কথা বলতে কি শ্রীপর্ণা বেশ উপভোগ করছে এই নিউনরম্যাল লাইফ। ক্লাস করতে করতেই কখনও ক্যামেরা বন্ধ রেখে টুক করে উঠে গিয়ে, রান্নার বউটাকে কী রাঁধতে হবে বলে আসছে। হাজবেন্ড কখনও কিছু খুজে না পেলে খুঁজে দিচ্ছে। স্টুডেন্টরা যেই বলছে ‘মিস আপনাকে দেখা যাচ্ছে না। “ অমনি উত্তর মুখের কাছে সাজানো -“নেটের প্রব্লেম হচ্ছিল ।“ শুধু শ্রীপর্ণা নয় এই তো সেদিন দেখল,অরণ্যর মা ছেলেকে নিয়ে বসেছে ,পাশে রাখা আছে একগাদা মটরশুঁটি। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে মটরশুঁটি ছাড়াচ্ছে। হাত বাড়িয়ে অরণ্য যেই দুটো মুখে পুরেছে তাই দেখে দিশা বায়না জুড়ল ” মা আমিও মটরশুঁটি খাব ।“ শ্রীপর্ণার হাসি পেলেও গম্ভীর হয়ে বলেছিল ,প্লিজ ডোন্ট ফরগেট, ক্যামেরা ইজ অন।“
শ্রীপর্ণার দিদির মেয়ে টুসি। সেও একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সিনিয়র সেকসনের টিচার। ওর স্কুল থেকে ওকে দুমাসের জন্য সাসপেন্ড করেছে। খবর পেয়ে শ্রীপর্ণা সেদিন দিদিকে ফোন করেছিল ।
“আর বলিস না সবই আমার ভাগ্য।“বলে দিদি যা বলল তার মর্মার্থ হলো -সেদিন টুসির অনলাইন ক্লাসে ঝপ করে ওয়েব ক্যামেরাটা নিচের দিকে ঝুলে পড়তেই স্টুডেন্টসরা সিটি দিয়ে উঠেছিল। দু একজন ছাত্র বলে উঠেছিল “মিস ইউ আর লুকিং হট।“
“ সে কি! কেন?” শ্রীপর্ণা অবাক হয়ে জিগ্যেস করল।
দিদি দুঃখ করে বলল,” দেখ্ না , মেয়েটা ঘুম থেকে উঠে প্যান্ট ছাড়ার সময় পায় নি। রাতে ঘুমোনোর শর্ট প্যান্টের উপর একটা ভালো টপ পরেই ক্লাস করতে বসে গেছিল ,আর তাতেই … । ও কী করে বুঝবে বল ক্যামেরাটা অমন বেগরবাই করবে।“
দিদির কথায় শ্রীপর্ণা মুচকি হাসল ।
দিদি রাগত স্বরে আরও বলল, “তুই ভাবতে পারিস শ্রী ,এই সামান্য কারণে পেরেন্টসরা প্রিন্সিপলের কাছে ইমেল পাঠিয়েছে ! তুইই ভালো আছিস। ছোট্ট বাচ্চাদের স্কুল। ওসব ঝামেলা নেই।“
শ্রীপর্ণা হেসে বলল,” ভালো না কচু। আমার অবস্থা আরো খারাপ। আমাকে যে কত রকমের নাটক দেখতে হয় ,তা যদি জানতিস।
“কেন ? ওই টুকু বাচ্চারাও কী …।“
দিদি কথা শেষ করতে পারে না। শ্রীপর্ণা বলে ওঠে, “ শুধু বাচ্চারা নয় ,আমার ক্লাসে তো বাচ্চার বাবা মায়েরাও বসে যায়। কী যে বিরক্ত লাগে তোকে কী বলব।
“অ্যাঁ ! বাবা মা দুজনেই ?”
“তো আর কী বলছি। মা ফোনের সামনে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বসবে। আর বাবা পিছনে খালি গায়ে বারমুডা পরে গোল গোল চোখ করে তাকিয়ে থাকবে।“
দিদি হো হো করে হেসে বলল ,”ওয়াও !”
দিদির হাসি শুনে শ্রীপর্ণা বিরক্ত স্বরে বলল,”শুধু বসে থাকলে তাও ঠিক ছিল, এই অনলাইন ক্লাসের মধ্যেই চলে স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া। বাচ্চাদের নিয়ে বাবা-মায়েদের কম্পিটিশন। “
“আরিব্বাশ! দারুণ ইন্টারেস্টিং তো। দাঁড়া টুসিকে ডাকি। ও বেচারা মুড অফ করে বসে আছে। তোর কথা শুনে একটু যদি মনটা ভালো হয়।“
(দুই )
আগামীকাল নার্সারি ক্লাসের মৌখিক পরীক্ষা। শ্রীপর্ণার ঘুম আসছে না। কাল আবার কী হবে কে জানে! বিশেষ করে পরীক্ষার দিনগুলিতে কম্পিউটার স্ক্রিনে পেরেন্টসরা যেন লড়াইয়ে নামে। দূর্যোধনের ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচাগ্র মেদীনীর“ মতো পণ করে বসবে মায়েরা। কোনো প্রশ্নের উত্তর বাচ্চা যদি বলতে না পারে, পাশ থেকে মা বই খুলে ধরে থাকে। বাচ্চাকে ইশারা করে, দেখে বলবার জন্য। ওইটুকু বাচ্চা কখনও কখনও মায়ের ইশারা ধরতে পারে না। দেখেও ভুল বলে। মা গজরাতে থাকে “তোর দ্বারা কিচ্ছু হবে না। গাধাই থেকে যাবি সারাজীবন।“ এতই রেগে থাকে যে মাইক্রোফোন অফ করার কথাও তাদের মাথায় আসে না। আবার কারও বাচ্চা যদি ভাগ্যক্রমে ঠিকঠাক বলে দেয়, সেই বাবা মা আহ্লাদে আটখানা হয়ে দশবার করে বলতে থাকে,”গুড ,ভেরি গুড। তুমি তো ক্লাসে সব থেকে ভালো ছেলে।“
শ্রীপর্ণা কম্পিউটারের উল্টোদিকে বসে সবই দেখতে পায়। কখনও হাসি পায়। কখনও বা বিরক্ত হয়। বাচ্চাদের দুষ্টুমি তাও সামলানো যায় কিন্তু বাচ্চার বাবা মায়ের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ কীভাবে সামলাবে বুঝতে পারে না। শ্রীপর্ণার মনে হয় মহাভারতের যুদ্ধ তো আঠারো দিন ধরে চলেছিল কিন্তু এই যুদ্ধ চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যায় তার। তখন তো, না লকডাউন ছিল ,না ছিল অনলাইন ক্লাস। কিন্তু সেই সময়ও এই লড়াই অব্যাহত ছিল। কোন ক্লাসে পড়ে তখন শ্রীপর্ণা? ক্লাস থ্রি কিংবা ফোর। একবার ক্লাসের হাফ ইয়ারলি পরীক্ষায় থার্ড হয়েছিল। বরাবর ক্লাসে ফার্স্ট হওয়া মেয়ে থার্ড হয়েছে। বাবা অফিস থেকে ফিরে জানতে পেরে সারারাত খেতে দেয়নি। শুধু ওইটুকু করেই ক্ষান্ত হয়নি, সরজমিনে তদন্ত করে জানতে পেরেছিল, যে বাচ্চা দুটি ফার্স্ট আর সেকেন্ড হয়েছিল, তাদের টিউশন টিচার ছিলেন স্কুলেরই শিক্ষক। তিনি আগে থেকে বাচ্চাদুটিকে ওই প্রশ্নপত্রের উত্তর করিয়ে দিয়েছিলেন। এটা শুনে বাবা- মায়ের সেকি তড়পানি। বাড়িতে যে আসছে তাকেই বোঝাচ্ছে কেন তার মেয়ে থার্ড হয়েছে। এমন কি বাবা পাড়ার ক্লাবে তাস খেলতে গিয়েও একথা আলোচনা করেছিল। শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে যে ঘুণ ধরে গেছে তা নিয়ে অনেক কথা বলছিল। ওই বয়সে শ্রীপর্ণা সব কথা বুঝতে পারেনি। শুধু একটা কথা বুঝেছিল, ভয়ানক কিছু একটা ভুল করেছে সে। শুধু সে একা ভুল করেনি। শিক্ষাব্যবস্থা বলে একটা লোকও তার সঙ্গে ভুল করেছে।
ছোটকা বিরক্ত হয়ে বাবাকে বলেছিল, “একটা সামান্য ব্যাপার নিয়ে তুমি একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করছ বড়দা।“
ছোটকার কথায় বাবা রেগে গিয়ে বলেছিল ,”হোক না তোর ছেলে মেয়ে ,তখন বুঝবি, ছেলেমেয়ের জন্য সম্মানহানী হলে কেমন কষ্ট হয়।“
ছোটকা অবাক হয়ে বলেছিল, ”এই সামান্য কারণে সম্মানহানীর কী হলো ?”
মা পাশ থেকে বলে উঠেছিল, “এখন তুমি বুঝবে না ঠাকুরপো। নিজের বাচ্চা কাচ্চা হোক তখন বুঝতে পারবে।“
হ্যাঁ বুঝতে পেরেছিল ছোটকা । ছোটকার ছেলে বুবুনের তখন এক বছর বয়স। জয়েন্ট ফ্যামিলিতে বাচ্চাদের ঠিক মতো পড়াশোনা হয় না, এই অজুহাত দিয়ে ওরা আলাদা হয়ে গিয়েছিল।
শ্রীপর্ণা মনে মনে ভাবে নিজের নাড়ী ছেঁড়া সম্পদকে নিয়ে যুগ যুগ ধরে এই প্রতিযোগিতা চলে আসছে। রামায়ণে কৌশল্যা আর কৈকেয়ী যদি নিজেদের ছেলেদের নিয়ে কম্পিটিশনে না নামতেন তাহলে হয়ত রাম রাবনের যুদ্ধই হতো না। আবার মহাভারতেও তাই, ধৃতরাষ্ট্র যদি পাণ্ডুর সন্তানদের হিংসে না করতেন তাহলে কত সহজে অত রক্তক্ষয় আটকানো যেত। বাচ্চাগুলোকে দেখলে মাঝে মাঝে কষ্ট হয় শ্রীপর্নার। আহারে ! ওইটুকু ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাগুলো সারাদিন গৃহবন্দি। খেলা ধুলো,বন্ধুদের সঙ্গে দুষ্টুমি, কিচ্ছু নেই। কেমন যেন শোকেসে পুরে রাখা পাপেট হয়ে হয়ে গেছে সব।
(তিন)
আজ একটু আগে ভাগেই তৈরি হয়ে নিয়েছে শ্রীপর্ণা। কম্পিউটারে লিঙ্ক পাঠাতেই মুহূর্তের মধ্যেই সব স্টুডেন্ট ঢুকে পড়েছে। আজ বাচ্চাদের থেকে মায়েদের বেশি টেনশন। মনীষার মায়ের পিছনে ওর বাবা বসে আছে। মনে মনে বিরক্ত হল শ্রীপর্ণা। একটু ভালো করে নজর করতেই বুঝতে পারল ,শুধু মনীষার বাবাই নয়,আরও অনেকেরই বাবা ছেলেমেয়ের পাশে বসে আছে। লকডাউন হওয়ায় সব বাবারাই এখন ঘরে।
শ্রীপর্ণা প্রেয়ারের পর অ্যাটেন্ডেন্স নিল। একবার মনে মনে ভাবল কথাটা ইংলিশে বলবে। তারপর ভাবল, না , বাংলায় বলাটাই ঠিক হবে। যদিও বাবা মায়েরা খুশি হয় শ্রীপর্না তাদের সঙ্গে ইংরাজীতে কথা বললে কিন্তু এখন যে কথা সে বলতে যাচ্ছে সেটা বাংলায় বলা ভালো। কারণ শ্রীপর্ণা এটাও ভালোভাবে জানে যে বেশিরভাগ পেরেন্টসই বাংলা মিডিয়ামে পড়াশোনা করেছে তাই পরিষ্কার বাংলায় বলল,”দেখুন আজ তো ওদের পরীক্ষা। আজ ওদেরকে কোনও সাহায্য করবেন না প্লিজ। ওরা যেমন পারে তেমন উত্তর দিক।“
সঙ্গে সঙ্গে সব পেরেন্টস সমস্বরে বলে উঠল ‘ইয়েস মিস ,অফকোর্স মিস।“
“ ওকে নাউ অ্যাট ফার্স্ট ,আই অ্যাম আস্কিং টু ইউ মনীশা। টেল মি নেমস অফ ফাইভ ফ্লাওয়ারস। “ মেয়েটা ভয় পেয়ে গেছে। বাবা মা দু জনেই বলে চলেছে –“বল্, মিস জিগ্যেস করছে বল।“ বাচ্চাটা একবার বাবা, একবার মায়ের মুখের দিকে তাকাচ্ছে। ক্যামেরার কাছ থেকে মুখটা সরিয়ে নিতে চাইছে। ওর মা মনীষার পনিটেল করা চুল ধরে এক টান দিলো।
মেয়েটা “আঃ” করে উঠল।
শ্রীপর্ণার খুব খারাপ লাগছে। নিজেকে কেমন অপরাধি মনে হচ্ছে। আহারে, তার জন্য সকাল সকাল বাচ্চাটার হেনস্থা হচ্ছে। তাড়াতাড়ি করে বলল,”ওকে নো প্রব্লেম , আই উইল আস্ক ইউ আফটার সামটাইম। “
শ্রীপর্ণা দেখতে পাচ্ছে ,মনীষার বাবা তেড়ে এলো মেয়ের দিকে। “এত পয়সা খরচ করছি আর এই সামান্য প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছিস না। ” বলেই ঠাস করে বাচ্চাটার গালে এক চড়।
শ্রীপর্ণা চেঁচিয়ে যাচ্ছে “ডোন’ট ডু লাইক দিস প্লিজ… “
মনীষার বাবা কিছু শুনছে বলে মনে হচ্ছে না। উচ্চস্বরে বলে যাচ্ছে ,”সারাদিন বাড়িতে বসে কী করো ? সবার বাচ্চা পারছে , ও কেন পারছে না ।“
বাচ্চাটা তারস্বরে কাঁদছে… অন্য স্টুডেন্টসরা, তাদের পেরেন্টসরা বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। ভয়ে শুকিয়ে গেছে অন্য বাচ্চাগুলোর মুখ। শ্রীপর্না তাড়াতাড়ি মনীষার মাইক্রোফোন অফ করে দিলো।
( চার)
ক্লাস শেষ হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। মোবাইলটা খুলে বিবশ হয়ে বসে আছে শ্রীপর্না। মোবাইল স্ক্রীনে সদ্য গোঁফ ওঠা এক কিশোরের ছবি। কত স্মৃতি ভিড় করে আসছে চোখের সামনে।
“মা আমি বিদেশে যাব না। আমি বাড়ি থেকেই পড়াশোনা করব।“
“পাগলামো করিস না বাবাই। আমরা যে সোসাইটিতে থাকি সেখানে সবার ছেলেমেয়েরাই হায়ার স্টাডির জন্য বিদেশে যায়। তোমাকেও যেতে হবে। নিজের মাইন্ডটাকে ব্রড করতে শেখো।“
বুকটা হুহু করে ওঠে শ্রীপর্ণার। একটা কষ্ট চাপা দীর্ঘশ্বাস হয়ে বেরিয়ে আসে। কতদিন ছুঁয়ে দেখেনি ছেলেটাকে। গন্ধ পায়নি ছেলেটার শরীরের। লম্বা করে শ্বাস নেয় শ্রীপর্ণা। গন্ধটাকে খুঁজতে থাকে। আলমারি থেকে টেনে টেনে বার করে ছেলের পুরোনো জামা কাপড়গুলো। একটার পর একটা বুকের ভেতর জড়িয়ে ধরে চুমু খায়। নিজের অজান্তেই নোনা জলে দুচোখ ভরে ওঠে।
লেখক পরিচিতি:
কাকলি দেবনাথ
গল্পকার।
হুগলি জেলার কুলুপুকুরে থাকেন।


4 মন্তব্যসমূহ
খুব ভালো লাগল। লক ডাউনকে প্রেক্ষাপটে রেখে সেই সময়ের জাল বুনতে বুনতে আপনি চিরন্তন এক বাস্তবিক এবং মানসিক দূরত্বজনিত ব্যথার কথা বেশ মুন্সিয়ানার সঙ্গে উপস্থাপনা করেছেন ।
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ
মুছুনগল্পটা পরে খুব ভালো লাগলো. আরো পড়ার ইচ্ছে রইলো I
উত্তরমুছুনধন্যবাদ
মুছুন