জাকারিয়া তামেরের গল্প : দশম দিনে বাঘ




জাকারিয়া তামের একজন সিরিয়ান শিশুসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও সম্পাদক। জন্ম ১৯৩১ সালে সিরিয়ার দামেস্ক শহরে। তিনি সমকালীন আরবি সাহিত্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী, প্রতিভাবান ও জনপ্রিয় ছোটগল্পকার হিসেবে বিবেচিত। শৈশবে পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে তাঁকে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। তবে বই পড়ার অদম্য বাসনা তাঁকে নৈশকালীন স্কুলে ভর্তি হতে প্রেরণা জোগায়। তাঁর ছোটগল্প পৃথিবীর অসংখ্য ভাষায় অনূদিত ও বহুল পঠিত। সহজ সাবলীল ভাষায় তিনি ব্যঙ্গাত্মক ছোটগল্প ও কলাম লিখে থাকেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাই তাঁর রচনার মূল বিষয়বস্তু। তামেরের অধিকাংশ গল্পই সিরিয়া তথা আরব বিশ্বের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রচিত। 

তাঁর রচনাশৈলী সংক্ষিপ্ত অথচ সারবহুল, হাস্যরসধর্মী অথচ শ্লেষাত্মক, কল্পনাপ্রবণ অথচ কৃত্রিমতাবর্জিত। তাঁর সাহিত্যকর্ম মূল্যায়ন করতে গিয়ে কবি মোহাম্মেদ আল-মাঘাউত বলেন, ‘তামের তাঁর পেশাগত জীবন শুরু করেছিলেন কারখানার একজন দুর্দান্ত কর্মকার হিসেবে। মূল পেশাটি কখনোই ছেড়ে যাননি তিনি। মৃৎশিল্পের মধ্য দিয়ে এক দুর্দান্ত দেশ গড়ার কর্মকার তিনি, সবকিছুকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, কোনো কিছুই অক্ষত রাখেননি, কবর আর কারাগার ছাড়া আর কিছুই তাকে থামাতে পারেনি।’ ‘টাইগার্স অন দ্য টেনথ ডে’ তার অন্যতম ছোটগল্প সংকলন। এটি ইংরেজিতে অনূদিত হওয়ার পর দুনিয়াজোড়া ব্যাপক সাড়া পড়ে। এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় পনেরোটি ছোটগল্প সংকলন, দুটি গদ্যগ্রন্থ এবং ডজনখানেক শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

তামেরের গল্প সংকলন ‘ব্রোকেন নি’ ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয়। তামেরের উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থের মধ্যে স্প্রিং ইন দ্য অ্যাশেজ, দ্য থান্ডার, দামেস্কাস ফায়ার, উই শ্যাল লাফ, সাওয়ার গ্রেপ, ইফ, দ্য হেজহগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ব্যঙ্গাত্মক গদ্যের মধ্যে ‘দ্য ভিকটিমস স্যাটায়ার অব হিজ কিলার’ অন্যতম। ২০০৯ সালে তিনি ব্লু মেট্রোপলিস মন্ট্রিয়েল ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ লাভ করেন। ২০১৫ সালে স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার জন্য মাহমুদ দারবিশ পুরস্কারসহ এ পর্যন্ত আরো অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। প্রতিভাবান এই সাহিত্যিক ছিয়াশি বছর বয়সে ২০১৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। গল্পটি ডেনিস জনসন ডেভিসের ইংরেজি অনুবাদে ১৯৮৫ সালে ‘টাইগার্স অন দ্য টেনথ ডে অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’ গ্রন্থে প্রকাশিত হয়। 
অনুবাদ করেছেন মাইনুল ইসলাম মানিক



ধাও হয়ে গেছে সবুজ অরণ্য, খাঁচায় বন্দি বাঘ। কিন্তু অরণ্যের কথা ভুলতে পারে না সে। ঘৃণামিশ্রিত তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে খাঁচার বাইরের মানুষগুলোর দিকে তাকায়। নির্ভীক ও কৌতূহলী অসংখ্য চোখ তাকে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের একজন খুব শান্ত ও কর্তৃত্বপূর্ণ কণ্ঠে কথা বলছেন, ‘আমি যে কাজটি করছি, তোমরাও যদি সেটি করতে চাও, মানে চিড়িয়াখানার একজন তত্ত্বাবধায়ক হতে চাও, একমুহূর্তের জন্যও তোমরা ভুলে যেতে পারবে না যে তোমাদের প্রতিপক্ষের পাকস্থলীই হলো তোমাদের প্রথম লক্ষ্যবস্তু। তোমরা দেখবে, এটি এমন এক পেশা, যা একই সময়ে সহজ ও কঠিনÑউভয়ই হতে পারে। বাঘটার দিকে তাকাও : সে হিংস্র, দাম্ভিক এবং তার স্বাধীনতা, শক্তি ও ক্ষমতা নিয়ে খুবই অহংকারী। কিন্তু সে বদলে যাবে, একটা ছোট্ট শিশুর মতো বিনম্র, নিরীহ এবং বাধ্যগত হয়ে যাবে। যার কাছে খাবার আছে আর যার কাছে খাবার নেই, এই দুইয়ের মধ্যে কী কী ঘটে দেখো এবং শেখো।

তত্ত্বাবধায়ক পেশায় দক্ষ হতে হলে শিক্ষার্থীদের করণীয় কী হতে পারে, তা শেখানোর উদ্দেশ্যে লোকটি সামনে অগ্রসর হলেন। তিনি মুচকি হাসি দিলেন আর তারপর বাঘটিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে সম্বোধন করলেন, ‘কেমন আছেন, সম্মানিত অতিথি?’
বাঘ বলল, ‘এখন খাবারের সময়। আমার খাবার প্রস্তুত করো।’

একটা বিদ্রুপের হাসি দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘তুমি আমার বন্দি হয়ে আমাকেই আদেশ করছ? কী অদ্ভুত বাঘ তুমি! তোমার বোঝা উচিত, এখানে আমিই একমাত্র ব্যক্তি যে কাউকে আদেশ করার ক্ষমতা রাখি।’
বাঘ বলল, ‘বাঘদের কেউ আদেশ দেয় না। সে ক্ষমতা কারো নেই।’
তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘তুমি এখন আর বাঘ নও। বনের ভেতর তুমি বাঘ ছিলে কিন্তু এখানে চিড়িয়া। এখন তুমি বড়জোর একজন গোলাম, যে আমার আদেশ পালন করবে এবং আমাকে মান্য করবে।’
খিটখিটে মেজাজে বাঘ জবাব দিল, ‘আমি কারো গোলাম নই।’
এবার তত্ত্বাবধায়ক প্রত্যুত্তর করলেন, ‘আমার কাছে ছাড়া আর কারো কাছে খাবার নেই।’
বাঘের জবাব, ‘আমি তোমার খাবার চাই না।’
তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘তুমি উপোস থাকতে চাইলে থাকতে পারো। তুমি যা করতে চাও না, তোমাকে তা করতে জোর করব না আমি।’ তারপর শিক্ষার্থীদের বললেন, ‘সে কীভাবে তার মনকে বদল করে সেটা তোমরা দেখতে পাবে। কারণ ওপরে থাকা মাথা ক্ষুধার্ত পাকস্থলীকে সন্তুষ্ট করতে পারে না।’
বাঘ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে। গভীর হতাশায় তার মনে পড়ে পুরোনো দিনের স্মৃতিÑউন্মত্ত বাতাসের মতো ছুটে চলা, অপরিমেয় স্বাধীনতা; শিকারকে ধাওয়া করার আনন্দময় সময়গুলো খুব মনে পড়ে তার।

পরের দিন তত্ত্বাবধায়ক ও তার শিক্ষার্থীরা খাঁচার চারপাশে দাঁড়ায়।
তত্ত্বাবধায়ক জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি ক্ষুধার্ত? তুমি ক্ষুধার্ত এ জন্য খারাপ লাগছে। তুমি ক্ষুধার্ত এ কথা তোমার নিজের মুখে বলতে হবে। তাহলে তুমি যেটুকু মাংস খেতে পারবে, সেটুকু তোমাকে খেতে দেওয়া হবে।’
বাঘটি চুপ করে থাকল।
তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘আমি যা বলি তা করো। বোকামি কোরো না। স্বীকার করে নাও তুমি ক্ষুধার্ত। তাহলে তোমাকে দ্রুতই খাবার দেওয়া হবে।’
বাঘ মুখ খোলে, ‘আমি ক্ষুধার্ত।’
তত্ত্বাবধায়ক হাসলেন এবং তার শিক্ষার্থীদের বললেন, ‘এবার সে এমন একটা ফাঁদে পড়েছে, যা থেকে সে আর মুক্তি পাবে না।’ তিনি আদেশ দিলেন এবং বাঘকে যথেষ্ট মাংস দেয়া হলো।

তৃতীয় দিনে তত্ত্বাবধায়ক বাঘটিকে বললেন, ‘যদি খাবার পেতে চাও তবে আমি যা বলি তা করো।’
বাঘ জবাব দিল, ‘আমি তোমার কথা শুনব না।’
এবার তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘এত অস্থির হোয়ো না। আমার আদেশ খুব সাদামাটা। এখন তুমি তোমার খাঁচায় হাঁটছ। আমি যখন তোমাকে থামতে বলব, থেমে যাবে।’
বাঘ নিজে নিজে ভাবল, ‘সত্যিই তো এটি খুব সাদামাটা কাজ। এটাতে আমার বিরক্ত হওয়ার কিছু নেই, অনাহারে থাকারও কোনো কারণ নেই।’
খুব রুক্ষ ভাষায় তত্ত্বাবধায়ক আদেশের সুরে বললেন, ‘থামো।’
বাঘ সাথে সাথে থেমে গেল।
বন্ধুত্বপূর্ণ গলায় তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘তোমার উন্নতি হচ্ছে।’
তত্ত্বাবধায়ক যখন তার শিক্ষার্থীদের বোঝাচ্ছিলেন, ‘বাঘটা অল্প দিনের মধ্যেই কাগুজে বাঘে পরিণত হবে’, বাঘটা তখন খুব আনন্দচিত্তে পেটভরে খাবার খাচ্ছিল।

চতুর্থ দিনে বাঘটা বলল, ‘আমি খুবই ক্ষুধার্ত, আমাকে থামতে বলো।’
তত্ত্বাবধায়ক তার শিক্ষার্থীদের বললেন, ‘সে আমার আদেশকে ভালোবাসতে শুরু করেছে।’ তারপর বাঘটার দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন, ‘আজ যদি তুমি ছোট্ট বিড়ালছানার মতো মিউমিউ না ডাকো তবে কোনো খাবার পাবে না।’
বাঘ তার ক্রোধ সংবরণ করল এবং ভাবল, ‘বিড়ালছানার মতো মিউমিউ ডাকা একধরনের রসিকতা।’ সে মিউমিউ ডাকল।
তত্ত্বাবধায়ক কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে অসম্মতি জানালেন, ‘এটা ভয়ংকর রকম শুনিয়েছে। গরগর আওয়াজ কখনো মিউমিউ হতে পারে না।’

বাঘ আবার চেষ্টা করল। কিন্তু তত্ত্বাবধায়কের ভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হলো না। খুব অবজ্ঞাসূচক ভঙ্গিতে বললেন, ‘তোমার মিউমিউ খুবই ভয়ংকর। মিউমিউ চর্চা করার জন্য তোমাকে একদিন সময় দিলাম। আগামীকাল তোমার পরীক্ষা নেব। যদি তুমি সফল হও, তুমি খাবার পাবে, নইলে তোমাকে অনাহারে থাকতে হবে।’

তত্ত্বাবধায়ক বাঘের খাঁচার কাছ থেকে খুব শান্ত ও ধীর পায়ে বেরিয়ে গেলেন। তার মুখে তখন চাপা হাসি আর শিক্ষার্থীদের সাথে ফিসফিসানি কথাবার্তা। বাঘ খুব কাকুতিমিনতি করে অরণ্যকে ডাকতে থাকে কিন্তু অরণ্য তখন অনেক দূরে।

পঞ্চম দিনে তত্ত্বাবধায়ক বাঘকে বললেন, ‘যদি ছোট্ট বিড়ালছানার মতো মিউমিউ ডাকতে পারো তবে আজ তুমি তাজা বড়সড় এক টুকরো মাংস পাবে।’
বাঘ নিখুঁতভাবে মিউমিউ ডাকল এবং তত্ত্বাবধায়ক হাততালি দিলেন। খুব আনন্দের সাথে বললেন, ‘চমৎকার। একেবারে বিড়ালছানার মতোই মিউমিউ ডেকেছ তুমি।’ এরপর বাঘটির দিকে বড় এক টুকরো মাংস ছুড়ে দিলেন।

ষষ্ঠ দিনে তত্ত্বাবধায়ক বাঘের খাঁচার কাছে পৌঁছামাত্রই বাঘটি মিউমিউ ডাকতে শুরু করল। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক অসন্তুষ্টচিত্তে ভুরু কুঁচকে রইলেন।
‘আমি তো বিড়ালছানার মতোই মিউমিউ করেছি।’
‘গাধার মতো হি-হ আওয়াজ করো।’ তত্ত্বাবধায়ক আদেশ করলেন।
তীব্র অসন্তোষ নিয়ে বাঘ জবাব দেয়, ‘আমি বাঘ। বনের পশুরা আমাকে ভয় পায়। গাধার মতো হি-হ আওয়াজ আমি করব? আমি বরং মরে যাব তবু এ কাজ করব না।’
কোনো রকম শব্দ না করেই তত্ত্বাবধায়ক খাঁচার কাছ থেকে চলে গেলেন।

সপ্তম দিনে তত্ত্বাবধায়ক খুব নম্র হাসিতে বাঘের খাঁচা পর্যবেক্ষণ করলেন।
‘তুমি খেতে চাও?’
বাঘের প্রত্যুত্তর, ‘আমি খেতে চাই।’
‘তুমি যে মাংস খাও, সেটা বিনা পয়সায় আসে না। গাধার মতো শব্দ করো, তুমি খেতে পাবে।’
বাঘ অরণ্যের কথা ভাবতে চাইল। কিন্তু সে ব্যর্থ হলো। সে চোখ বন্ধ করল এবং হি-হ ডেকে উঠল।
তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘তোমার হি-হ খুব একটা ভালো হয়নি। তবু তোমাকে করুণা করে এক টুকরো মাংস দিচ্ছি।’

অষ্টম দিনে তত্ত্বাবধায়ক বাঘটিকে বললেন, ‘আমি একটা বক্তব্যের প্রারম্ভিক অংশটুকু বলব। যখন আমার বলা শেষ হবে, তুমি এমনভাবে হাততালি দেবে যেন মনে হয় তুমি খুব পছন্দ করেছ।’
বাঘ বলল, ‘আমি হাততালি দেব।’
এবার তত্ত্বাবধায়ক তার বক্তব্য শুরু করলেন, ‘হে নাগরিকগণ... আমরা আমাদের সময়ের হেতু ব্যাখ্যা করে অসংখ্যবার আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি, আর যত যা-ই হোক না কেন, এই দৃঢ়তাপূর্ণ সৎ অবস্থান কখনোই পরিবর্তন হবে না। শত্রুরা আমাদের বিরুদ্ধে যত চক্রান্তই করুক না কেন, বিশ্বাস রেখেই বলছি, আমরাই বিজয়ী হব।’
বাঘ বলল, ‘আপনি যা বলেছেন, আমি তার কিছুই বুঝিনি।’
‘আমি যা-ই বলি না কেন, তুমি তার সবটুকুই পছন্দ করবে এবং খুব স্পৃহা নিয়ে খুব উদ্যম নিয়ে হাততালি দেবে।’
বাঘ বলল, ‘আমাকে ক্ষমা করুন। আমি অক্ষরজ্ঞানহীন। আপনার বক্তব্য অনেক গভীর, অনেক মূল্যবান। আর আপনি যেহেতু চাচ্ছেন, আমি হাততালি দেব।’ তারপর বাঘ হাততালি দিল।
‘আমি শঠ ও শঠতাÑকোনোটাই পছন্দ করি না। শাস্তিস্বরূপ আজ তুমি কোনো খাবার পাবে না।’

নবম দিনে তত্ত্বাবধায়ক এক ঝুড়ি খড়কুটো নিয়ে এলেন এবং বাঘের সামনে নিক্ষেপ করলেন।
‘খাও।’
বাঘ বলল, ‘এসব কী? আমি মাংস খাই।’
‘এখন থেকে তুমি খড়কুটোই খাবে। এ ছাড়া আর কোনো খাবার পাবে না।’

যখন বাঘের ক্ষুধা বাড়ল, সে খড়কুটো খেতে চেষ্টা করল। খড়ের স্বাদ ও গন্ধে সে অস্বস্তি বোধ করল। খেতে না পেরে ফিরে গেল। বিরক্ত হয়েও আবার খড়ের কাছে ফিরে এলো। সে আবার ফিরে গেল। একটু পর আবার খড়ের কাছে ফিরে এলো। এভাবেই খড়ের সাথে তার মিথস্ক্রিয়া হয়ে ওঠে।

দশম দিনে তত্ত্বাবধায়ক, তার শিক্ষার্থীরা, বাঘ ও খাঁচাÑসবকিছু উধাও হয়ে গেল, বাঘ নাগরিক হয়ে গেল আর তার খাঁচা হয়ে গেল একটা শহর।





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ