বুধবার, ৩ জুন, ২০২০

চিনুয়া আচেবে'র গল্প: অতিপ্রাকৃত

নাইজেরিয়া গল্প

অনুবাদ: ফজল হাসান

জুলিয়াস ওবি টাইপ রাইটারের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তার টেবিলের উপর মাথা রেখে গোলগাল শরীরের বস নাক ডেকে বেঘোরে ঘুমোচ্ছে। সবুজ রঙের উর্দি পড়ে দারোয়ানও তার আস্তানায় বসে গভীর নিদ্রায় নিমজ্জিত। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে একজন খদ্দের গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢোকেনি।
বিশাল দাঁড়িপাল্লার একপাশে একটা খালি ঝুড়ি পড়ে আছে। মেশিনের চতুর্দিকে ধূলোবালির সঙ্গে গাঢ় রঙের কয়েকটি পামের বীচি ছড়িয়ে আছে। চারপাশে শুধু মাছি পুরো উদ্দোমে ভনভন করে ওড়াওড়ি করছে।

জুলিয়াস জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। সেখানে দাঁড়ালে নাইজার নদীর পাড়ের বড় বাজার স্পষ্ট দেখা যায়। এই বাজার ইবো১দের অন্যান্য বাজারের মতোই সপ্তাহের চারদিন বসতো। তবে শ্বেত মানুষের আগমন এবং উমুরু২তে বিশাল পাম তেলের নদী-বন্দর করার পর থেকে এই বাজার প্রতিদিন বসে। যাহোক, তা সত্ত্বেও এখনো আদি নোকো দিবসে৩ বাজারের ব্যস্ততার মতোই মানুষের আনাগোনা অব্যহত রয়েছে। এলাকার মানুষের কাছে এই নোকো দিবস অত্যন্ত তাৎপর্যমন্ডিত। কেননা মানুষেরা বিশ্বাস করে যে, এই দিনে ঈশ্বর তার দৈবানুগ্রহ বর্ষণ করে। এলাকার মানুষের মুখে কথিত আছে যে, এই দিনে ঈশ্বর একজন বৃদ্ধ মহিলার বেশে কাকভোরে বাজারের মাঝখানে আগমন করে এবং দূরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য সে তার অলৌকিক পাখা দিয়ে চারদিকে – সামনে, পেছনে, ডানে এবং বামে - বাতাস করে। তখন চতুর্দিক থেকে দলে দলে পুরুষ এবং মহিলারা তাদের উৎপাদিত শস্য এবং অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী, যেমন পামের বীচি, তেল, কোলা বাদাম, কাসাভা, মাদুর, ঝুড়ি, মাটির পাত্র ইত্যাদি, নিয়ে বাজারে এসে হাজির হয়। দিনের শেষে বাড়ি ফেরার সময় তারা বিভিন্ন রঙের কাপড়চোপড়, ধোঁয়ায় পোড়া মাছ, লোহার হাঁড়িপাতিল এবং থালাবাসন কিনে নিয়ে যায়।

বিশাল নদীর অপর পাড়ের মানুষেরা নৌকা দিয়ে মিষ্টি আলু এবং নানা ধরনের মাছ নিয়ে আসে। মাঝেমাঝে এসব নৌকা এত বড় যে, তাতে করে এক ডজন বা তারচেয়েও বেশী লোক অনায়াসে আসতে পারে। অনেক সময় নৌকা খুবই ছোট থাকে। সেসব ডিঙ্গি নৌকা করে শুধু স্বামী এবং স্ত্রী আসে। নদীর পাড়ে তারা নৌকা বেঁধে মাছ নিয়ে বাজারে যায় এবং বেশী দর-কষাকষি না করে মাছ বিক্রী করে। তারপর মহিলারা বাজারের ভেতর ঢোকে এবং তেল-নুন ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীর জিনিসপত্র ক্রয় করে। তবে তারা সুযোগ মতো সস্তায় কাপড়চোপড়ও কিনে। এছাড়া ছেলেমেয়েদের জন্য সীমের কেক অথবা ইগারা৪ এবং মহিলাদের তৈরী আকারা৫ ও মাই-মাই৬ ক্রয় করে। সারাদিন বেঁচা-কেনার পরে তারা সূর্যাস্তের সময় বাড়ির দিকে রওনা হয়। তখন গোধূলির রক্তিম আভায় নদীর পানি চিকমিক করে। ক্রমশ তাদের ডিঙ্গি নৌকা জনারণ্যের আড়ালে হারিয়ে যেতে থাকে। একসময় অন্ধকার আকাশ ফুঁড়ে একটুকরো সোনালী চাঁদ উদ্ভাসিত হয়। ফিরতি পথে সেই আবছা আলো-আঁধারিতে দু’টো অস্পষ্ট শরীর নৌকা বেয়ে চলে যায়।

জুলিয়াস ওবি উমুরুর আদিবাসি লোক নয়। সে কুড়ি মাইল বা তারচেয়ে বেশী দূরের কোনো এক গ্রাম থেকে এসেছে। কিন্তু ১৯২০ সালে সে যখন মিশনারী স্কুল থেকে ষষ্ঠ শ্রেনীর সাধারণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তখন সে এক নাইজার কোম্পানীতে কেরানীর চাকুরী নিয়ে উমুরুতে আসে। এই কোম্পানী পাম তেলের ব্যবসা করে। উমুরুর বিখ্যাত বাজারের পেছনেই কোম্পানীর অফিস। তাই কাজে যোগদান করার দুই বা তিন সপ্তাহের মধ্যেই সে বাজারের তুমুল হৈচৈ এবং কোলাহলের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। অনেক সময় প্রধান কেরানী যখন অফিসে অনুপস্থিত বা উপস্থিত থেকেও ঘুমিয়ে থাকে, তখন সে জানালার কাছে দাঁড়িয়ে বাইরের জনমানুষের কর্মচঞ্চলতা দেখে। আপনমনে সে ভাবে, গতকাল বাজারে এত মানুষ ছিল না, তবুও সেখানে একধরনের গমগম ভাব ছিল। তাহলে নিশ্চয়ই দুনিয়ায় আরো অনেক মানুষ আছে। অবশ্য লোকে বলাবলি করে, যারা বাজারে আসে, তারা সবাই আসল মানুষ নয়। জ্যানেটের মা-ও এমন ধরনের কথা বলেছেন।

‘তুমি যে বাজারের ভীড় ঠেলে অনিন্দ্য সুন্দরী মেয়েদের যাতয়াত করতে দেখেছ, ওরা সবাই রক্ত-মাংসের আসল মেয়ে নয়। ওরা নদী থেকে আগত ম্যামী-ওয়োটা৭,’ জ্যানেটের মা বললেন।

‘কিভাবে ওদের চেনা যায়?’ জুলিয়াস জিজ্ঞেস করে। কেননা পাশ্চাত্যের শিক্ষাদীক্ষা এ ধরনের অযৌক্তিক এবং অন্ধবিশ্বাস থেকে তাকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। কিন্তু তার এই মন-মানসিকতাকে সে প্রকাশ করেনি, বরং সন্তর্পণে লুকিয়ে রেখেছে। সে ভালো করেই জানে, এসব কুসংস্কার নিয়ে মায়েদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করা মোটেও সমুচিত নয়।

‘সব সময় তুমি বুঝতে পারবে,’ জ্যানেটের মা ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘কেননা ওরা এত বেশী সুন্দরী যে, এই তামাম দুনিয়ার কোনো রক্ত-মাংসের মেয়েদের পক্ষে তা মোটেও সম্ভব নয়। এছাড়া তুমি যদি সরাসরি ওদের দিকে তাকাও, তাহলে দেখবে ওরা পলকেই ভীড়ের মাঝে হারিয়ে গেছে।’

এসব অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে ভাবতে ভাবতে একসময় জুলিয়াস জানালার কাছে এসে বাইরের বিরান বাজারের দিকে অপলক তাকিয়ে ভাবনার অতলে তলিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু কে আছে যে ভাবতে পারে, কোলাহলপূর্ণ বাজার এখন এমনভাবে জনশূন্য হয়ে খাঁ খাঁ করবে? একমাত্র কারণ হলো কিটিকপা৮ বা জলবসন্ত ।

উমুরু যখন ছোট্ট একটা গ্রাম ছিল, তখন সেখানে হাতেগোণা কয়েকজন মানুষের বসতি ছিল। কিন্তু এখন উমুরু একটা বিশাল এবং কর্মচঞ্চল নদী-বন্দর শহরে রূপান্তরিত হয়েছে। একসময় কিটিকপা আসে। ইবো নৃ-গোষ্ঠী মানুষের কাছে কিটিকপার চেয়ে আর কোনো অসুখ ভয়াবহ নয়। তারা এই অসুখকে দেবতার অভিশাপ হিসেবে দেখে। যারা এই রোগে আক্রান্ত হয়, তারা শুধু অভিশপ্ত নয়, বরং সমাজের চোখে অপমানিত হিসেবে পরিগণিত হয়। তখন একই এলাকার মানুষের মধ্যে এবং এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামের লোকদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। লোকেরা যখন বলে, অই গ্রামে কিটিকপা এসেছে, তখন আশেপাশের গ্রামের লোকজন সেই রোগাক্রান্ত গ্রামের লোকজনের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

জুলিয়াস খুবই চিন্তিত। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জ্যানেটের সঙ্গে তার কোনো দেখা-সাক্ষাত নেই, এমনকি যোগাযোগও নেই। জ্যানেট তার বাগদত্তা এবং শীঘ্রই তারা বিয়ে পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছে। জ্যানেটের মা সাবধান করে বারবার জুলিয়াসকে বলেছে যে, যতদিন না পর্য্যন্ত জেহোবাহ্৯র অলৌকিক শক্তিতে এই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, ততদিন সে যেন কিছুতেই জ্যানেটকে দেখতে না আসে। জ্যানেটের মা একজন গোড়া খ্রীষ্টান। একমাত্র কারণে তিনি তার মেয়েকে জুলিয়াসের কাছে বিয়ে দিতে সম্মত হয়েছেন, তাহলো জুলিয়াস গির্জার সঙ্গীত দলের সঙ্গে গান পরিবেশন করে।

‘তুমি ঘরেই থাকবে,’ সতর্ক করার ভঙ্গিতে জ্যানেটের মা বললেন। তারপর একটু থেমে তিনি রাস্তার উল্টোদিকের একটা বাড়ির দিকে আঙুল উঁচিয়ে বললেন, ‘তুমি জানো না, রাস্তায় কখন কার সঙ্গে তোমার মোলাকাত হবে। অই বাড়ীর লোকজন এই রোগে আক্রান্ত।’

জুলিয়াসকে বিদায় জানানোর জন্য জ্যানেট খানিকটা পথ একসঙ্গে হাঁটে। তারপর একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে বিদায় জানানোর অন্তিম মুহূর্তে তারা পরস্পর করমর্দন করে, যা সামাজিকতার দিক থেকে খুবই বেমানান।

জ্যানেটের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে জুলিয়াস সরাসরি বাড়ী ফিরে আসেনি। সে নদীর ধারে গিয়ে আনমনে এদিক-ওদিক হাঁটাহাঁটি করেছে। হয়তো সে অনেকক্ষণ হেঁটেছে। কেননা এসময় সে রাতের অশুভ শক্তির একওয়ে১০ বা কাঠের বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ শুনতে পেয়েছে। শোনার সঙ্গে সঙ্গে সে বাড়ী ফিরে আসে। সেই অশরীরী শক্তি পুরো শহরের একদিক থেকে অন্যদিকে চলে যাওয়ার আগে বাড়ী ফেরার জন্য তার হাতে মাত্র আধ ঘন্টার মতো সময় ছিল।

তড়িঘড়ি করে বাড়ী ফেরার সময় জুলিয়াসের পায়ের নিচে কি একটা জিনিস ভেঙে গিয়ে একধরনের পিচ্ছিল পদার্থ রাস্তার উপর ছড়িয়ে পড়ে। সে থমকে দাঁড়ায় এবং সামনের দিকে সামান্য ঝুকে ফুটপাথের দিকে তাকায়। তখনও বিশাল আকাশের গায়ে চাঁদ ভালো করে উঠেনি। তবে অস্পষ্ট ফ্যাঁকাসে আলোয় সে দেখতে পায় যে, ওটা খুব বেশী দূরে নয়। সে বুঝতে পারে, পায়ের চাপে একটা অশুভ ডিম ভেঙে ফেলেছে। ডিমের চারপাশে কচি পাম গাছের পাতা। এই রাতের বেলা অশুভ ডিম কারোর জন্য অমঙ্গলের বার্তা বয়ে নিয়ে এসেছে। সে ভাবে, সেই অশুভ ডিম পায়ের চাপে ভেঙে সে নিজের কপালেই অমঙ্গল ডেকে এনেছে।

‘ননসেন্স,’ বিরক্তির স্বরে বলেই জুলিয়াস তাড়াতাড়ি হাঁটতে থাকে। কিন্তু বড্ড দেরী হয়ে গেছে। রাতের এই অশুভ শক্তি দূরে কোথাও দেখা দিয়েছে। ক্রমশ ভয়ঙ্কর বাতাসে অশুভ শক্তির হিসহিস আওয়াজ বাড়তে থাকে। যদিও অশুভ শক্তির অবস্থান অনেক দূরে, কিন্তু জুলিয়াস জানে, এই অশুভ শক্তির জন্য দূরত্ব কোনো ব্যাপারই নয়। সুতরাং সে সরাসরি রাস্তার পাশের মিষ্টি আলুর ক্ষেতের উপর মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। তবে কদাচিৎ সে একাজ করে। যখনই সে অশুভ শক্তির বজ্রনিনাদ শুনেছে, তখনই তাকে এ ধরনের কাজ করতে হয়েছে। তার সারা শরীর কাঁপতে থাকে। মনে হয়, আওয়াজটা তার দিকেই ধেয়ে আসছে এবং একসময় সে পায়ের শব্দও শুনতে পাচ্ছে। কুড়িজন লোকের একসঙ্গে দৌঁড়ুনোর শব্দের মতো শব্দ অনুরণিত হতে থাকে। মুহূর্তেই যেন শব্দ পাশ কেটে চলে গেল এবং অবশেষে রাস্তার উল্টোদিকে মিলিয়ে যায়।

জুলিয়াস জানালার ধারে দাঁড়িয়ে জনমানবহীন ফাঁকা বাজারের দিকে তাকিয়ে পুনরায় সমস্ত রাত কাটিয়ে দেয়। মাত্র এক সপ্তাহ আগে ঘটনাটা ঘটেছে। অথচ মনে হয় এই অল্প সময়কে কেউ যেন বর্তমানের একরাশ নিঃসঙ্গতার কালো চাদরে ঢেকে দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নিঃসঙ্গতা আরো গভীর এবং দীর্ঘ হতে থাকে। একদিকে জুলিয়াস দাঁড়িয়ে আছে এবং অন্যদিকে জ্যানেট ও তার মার অসার দেহ পড়ে আছে, যাদেরকে জলবসন্ত এসে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।


পাদটীকাঃ [যদিও মূল গল্পে কোনো পাদটীকা নেই, তবে পাঠকের সুবিধার্থে উল্লেখযোগ্য শব্দের অর্থ এবং ব্যাখ্যা দেওয়া হলো – অনুবাদক ]

১ ইবো - দক্ষিণ-পূর্ব নাইজেরিয়ার আদিবাসী। এরা আফ্রিকার সবচেয়ে বড় নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়। গ্রামাঞ্চলে এরা সাধারণত কারুশিল্পী,কৃষিজীবী এবং ব্যবসায়ী হয়। ইউরোপিয়ান ঔপনিবেশিক আধিপত্য বিস্তারের সূচনা লগ্ন থেকে এদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি ক্রমশ লুপ্ত হতে থাকে। এদের জীবনকাহিনী নিয়ে চিনুয়া আচেবে তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘থিংক্স ফল এপার্ট’ রচনা করেন, যা আফ্রিকার কথাসাহিত্যের এক অমূল্য সাহিত্য কর্ম হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃত এবং সমাদৃত।

২ উমুরু - দক্ষিণ-পূর্ব নাইজেরিয়ার শহর।

৩ নোকো দিবস – দেবদেবীর নামানুসারে ইবো আদিবাসীদের চারদিনের সাপ্তাহিক বাজারের একদিন । ইবো সম্প্রদায়ের কাছে এইদিন অত্যন্ত তাৎপর্যমন্ডিত। কেননা তারা বিশ্বাস করে যে, এই দিনে ঈশ্বর তার দৈবানুগ্রহ বর্ষণ করে।

৪ ইগারা – আফ্রিকার উপজাতি সম্প্রদায়।

৫ আকারা – আফ্রিকা এবং ব্রাজিলের একধরনের খাবার, যা পাম তেলে ভাজা খোসা ছাড়ানো কালো মটরশুটি দিয়ে তৈরী করা হয়।

৬ মাই-মাই – মটরশুটি দিয়ে তৈরী একধরনের কেক।

৭ ম্যামী-ওয়োটা – পশ্চিম, মধ্য এবং দক্ষিণাঞ্চল আফ্রিকার একধরনের জলজ ঐশ্বরিক শক্তি বা জলপরী, যা ক্যারাবীয় দ্বীপপুঞ্জে এবং দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকায় দেখতে পাওয়া যায়। সাধারণত এই শক্তি নারীর রূপ ধারন করে । এই জলপরী আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার শিল্প-সাহিত্য, কবিতা ও সঙ্গীতে এক বিশেষ ভূমিকা দখল করে আছে।

৮ কিটিকপা – দক্ষিণ-পূর্ব নাইজেরিয়ার উপজাতি ভাষায় জলবসন্ত।

৯ জেহোবাহ্ – হিব্রু বাইবেলে বর্ণিত ইজরাইলী ঈশ্বরের প্রকৃত নাম।

১০ একওয়ে – ইবো আদিবাসীদের তৈরী ড্রাম জাতীয় একধরনের কাঠের বাদ্যযন্ত্র।



লেখক পরিচিতি: পশ্চিম আফ্রিকার কথাসাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে কয়জন সাহিত্যিকের উল্লেখযোগ্য এবং বিশেষ অবদান রয়েছে, তাদের মধ্যে আফ্রিকান কথাসাহিত্যের যাদুকর এবং নাইজেরিয়ার বিখ্যাত লেখক চিনুয়া আচেবে অন্যতম। তার পুরো নাম অ্যালবার্ট চিনুয়ালুমোগু আচেবে। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, গল্পকার, কবি, সাহিত্য সমলোচক এবং অধ্যাপক। তার জন্ম নাইজেরিয়ার শহরে, ১৯৩০ সালের ১৬ নভেম্বর। তার শৈশব কেটেছে ওগিডি গ্রামে। তিনি ইবদান শহরের ইউনিভার্সিটি কলেজে আর্টসের উপর পড়াশুনা করার জন্য বৃত্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করেন। কর্মজীবনে তিনি নাইজেরিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন, বৃটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। বিশ্ব সাহিত্যাঙ্গণে আলোড়নকারী তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘থিংক্স ফল এপার্ট’ ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়া ‘নো লঙ্গার অ্যাট ইজ’ (১৯৫৮), ‘অ্যারো অফ গড’ (১৯৬৪), ‘ এ ম্যান অফ পিপল’ (১৯৬৬), ‘সিভিল পিস’ (১৯৭১) ‘অ্যান্টহিলস্ অফ দ্য সাভানা’ (১৯৮৭), ‘এনাদার আফ্রিকা’ (১৯৯৮) এবং ‘হোম অ্যান্ড এক্সাইল’ (২০০০) তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। তিনি একাধিক বিখ্যাত ছোটগল্পের রচয়িতা। ১৯৮১ সালে প্রকাশিত ‘বিও্যয়ার, সৌল ব্রাদার অ্যান্ড আদার পোয়েমস্’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি ‘কমনওয়েলথ্ পোয়েট্রি প্রাইজ’ লাভ করেন। কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তিনি ২০০৭ সালে ‘ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল’ পুরস্কার অর্জণ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তার সাহিত্যকর্ম অনুবাদ করা হয়েছে। তবে দেশ-কালের নির্মোহ উপস্থাপনার কারণে মাঝে মাঝে তাকে বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, তিনি দেশীয় বিষয়কে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের সাহিত্যকর্মকে বিক্রয়যোগ্য করতে চেয়েছেন । তিনি ২০১৩ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরে দেহত্যাগ করেন।

গল্প সূত্র: ‘অতিপ্রাকৃত’ গল্পটি চিনুয়া আচেবের ইংরেজীতে ‘দ্য স্যাক্রিফিসিয়্যাল এগ’ গল্পের অনুবাদ । গল্পটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ‘গার্লস্ অ্যাট ও্যয়্যার অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’ গল্পসংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে । পরবর্তীতে এই গল্পটি জেমস ডেলী সম্পাদিত ‘দ্য ওয়ার্ল্ড গ্রেটেস্ট শর্ট স্টোরিজ’ গল্পসংকলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন