মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৫

শাহীন আখতারের ধারাবাহিক উপন্যাস : সখী রঙ্গমালা--পর্ব ৫


প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব
তৃতীয় পর্ব
চতুর্থ পর্ব


পঞ্চম পর্ব
৫.

ফুলেশ্বরী যখন বন্ধ ঘরে ছটফট করছে, শ্যামপ্রিয়া বৈষ্ণবী তখন রাজবাড়ির দিঘির পাড়ে। গায়ে সেই ছেঁড়া কাঁথা, হাতে লোটা। কুড়ায় বাক দিচ্ছে - বধূমণির দেখা নাই। রাজবাড়ির পাহারায় যা আঁটাআঁটি, ঘরের বার হতে গিয়ে বউটা আবার হাতেনাতে ধরা পড়ল কি না! তবে তো টঙ্কালাভের শেষ আয়োজনও ভেস্তে যাবে।


খানিক বাদে সে-পথে ধুলা উড়িয়ে দুজন অশ্বারোহী এগিয়ে আসে। জেওরের রুনুঝুনু রাও শোনার জন্য প্রিয়ার কান দুটি খাড়া হয়ে ছিল। তাই অশ্বখুরধ্বনি শুনতে পায় নাই। তবে রাম ভাঁড়ারির উড়া লাথি গায়ে পড়ার আগেই সে নিজে থেকে পথ ছেড়ে জলে ঝাঁপ দেয়। এবং এদের চলে যাওয়ার পর বুঝতে পারে, সওয়ারি দুজন তার এক শ সিক্কার দেনাদার আর নিজে সে পাওনাদার হয়েও অপরাধীর মতো দিঘির গলাপানিতে দাঁড়িয়ে আছে।

পর পর দুদিন যখন একই ঘটনা ঘটে, শ্যামপ্রিয়া নিজেকে নিয়ে ভাবনায় পড়ে। রূপ গেছে কোনকালে, এ বেলায় হুঁশ-জ্ঞানও যেতে বসেছে। তা থাকতে থাকতে পোড়ার দেশ ছেড়ে নবদ্বীপধামে চলে যাওয়াই উত্তম। সেথায় মহাপ্রভু নেই, তবে তাঁর পায়ের ধুলা ছড়ানো পথঘাট রয়েছে। আর কত বড় বড় আখড়া, আশ্রম! ওই পুণ্যভূমি - শ্যামপ্রিয়ার মতো হতভাগিনীদের শেষ আশ্রয়স্থল।

যেদিন আমার দিন ফুরাবে ওহে দিন তারণ

সেদিন আমায় ভুলো না হে দিও শ্রীচরণ।

পড়ন্ত বেলায় কাঁথা মুড়ে দাওয়ায় বসে গুনগন করছিল শ্যামপ্রিয়া। ডালে ডালে শিমুল ফুল ফুটে লাল হয়ে আছে। দিনভর কোকিলের আনাগোনা। ঋতুরাজ বসন্ত বিদায় নিচ্ছে, যৌবনের সেই আনচান কই। দেহের খাঁই চুকে গেলেও পেটের দায় মিটছে না। চন্দ্রমুখী ফের পোয়াতি হয়েছে। মাস শেষে বাচ্চা দেবে। ভালোমন্দ খেতে চায়। প্রিয়া বিড়ালের গায়ে হাত বুলিয়ে কাঁথা ফেলে ঘরে ঢোকে। মুঠো খানেক কেড়ি-ধরা খুদ ধামার তলায় পড়ে রয়েছে। তাই দিয়ে জাউ রেঁধে দাওয়ায় এসে চন্দ্রমুখীকে তাড়া দেয়, ‘চন্দ্র, বাত্তিত ত্যাল নাই। হাইন্জা হাইন্জা খাই ল।’ থালা উপচে পড়ছে ট্যালটেলা পাতলা জাউ। বিড়ালটা পাশে বসে লেজ নাড়ছে। প্রিয়ার জ্বরের মুখে না হয় অমৃতেও অরুচি, অবুঝ প্রাণীটাও ম্যাও-ম্যাও করে পাত ছেড়ে উঠে যায় - তা এতটাই বিস্বাদ। চন্দ্রমুখীর মুখ চেয়ে হলেও কাল একবার ভিক্ষার জম্বুল হাতে শ্যামপ্রিয়াকে বেরোতে হবে। পা-ই লক্ষ্মী।

পরদিন সকাল সকাল স্নান করে ধোয়া শাড়ি পরে কপালে তিলক কেটে নাকে রসকলি আঁকে শ্যামপ্রিয়া। পান-দোক্তায় ঠোঁট রাঙিয়ে ঝোলায় খঞ্জনি ভরে ধীরে ধীরে বাড়ি থেকে বেরোয়। মাধুকরীর আড়ালে আশেক-মাশুকের জোড়-গাঁথা - যৌবন-পড়তির কাল থেকে প্রিয়ার পেশার অধিক নেশা। পিরিতের লেনদেনের কারবারি সে। জরাগ্রস্ত শরীর, মানুষের মোনাফেকি-জুলুমবাজি দমাতে পারেনি। পথে বের হলেই আপনা থেকে গলায় গান আর জম্বুল থেকে খঞ্জনিখানা হাতে চলে আসে - ‘দেখি গো দেখি গো আমি একবার দেখি/সে কূলে কদম্বতলে মনচোর নাকি’। রসিক নাগর দুনিয়াদারি থেকে দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে, তা সে গানের হোক চাই প্রেমের হোক। সারা দিন ডানে-বামে কত বাড়ির অন্দরে উঁকি দিয়েছে শ্যামপ্রিয়া, কিন্তু ‘টান মারিয়া হাটে কন্যা, বাণ মারিয়া যায়’ - রঙ্গমালা হেন কারও সাক্ষাৎ পায় নাই। এই একজন সৃজন করে ঈশ্বর কি নিদ্রা গেলেন?

বাড়ির ফিরতি-পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে শ্যামপ্রিয়া নরবাড়ির দেউড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। বছর খানেক এদিকটায় পা দেয়নি। তার টাসকি লাগে, যখন দেখে বেগর মেহনতে মানুষের ঘরবাড়ি রাতারাতি কেমন বদলে যায়। নরবাড়ির নিশানা বলতে আছে, পুকুরের গায়ে ঝাঁপ-দিয়ে-পড়া বাঁশঝাড়টি। একলপ্তে যে ছনের ছাউনির বেড়ার ঘর সব ছিল, সেসব ঝেঁটিয়ে বিদায় করে লম্বা বালাখানা উঠেছে। পুকুরের মধ্যিখানে মনোহর জলটুঙ্গি। এর বাঁশের পাটাতন ধাপে ধাপে ঢালু হয়ে মিশেছে দেউড়ির গায়। সেখানে বাহারি ফুলের ঝাড় আর এর নিচে বসে বিঘত খানেক লম্বা গোঁফে তা দিচ্ছে যে দ্বারবান, সে জনাদশেক শ্যামপ্রিয়া পায়ের তলায় পিষে মারতে পারে।

লোকটার দিকে চেয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে শ্যামপ্রিয়া। সিন্দুরকাইত চৌধুরীবাড়ির বগলে প্রিয়ার বাস। সামনে যে চান্দা বীরের নকল গুম্ফধারী বীর, সে তো রাজবাড়ির সঙ্গে টেক্কা দিয়ে গড়া হালের নরবাড়িরই নফর। রঙ্গমালার ওপর নজরদারি করতে আগদরজায় বসিয়ে দিয়েছে রাজচন্দ্র। আশেকের মন সদাই উচাটন। জয় করেও ভয় যায় না। কিন্তু শ্যামপ্রিয়া তো মরদ নয়। দৈত্যটাকে ভজানোর জন্য এ বেলায় বাতচিত কিছু করা যাক।

সামনে টানটান বিশাল বপু। মুখে কুলুপ আঁটা - ভালো-মন্দ সব কথায়ই লা-জওয়াব। শ্যামপ্রিয়ার দেয়া কুশল সম্বাদ পাষাণে বাড়ি খেয়ে ফিরে আসে। বৈষ্ণবী হাল ছাড়ে না। একসময় লোকটার আগড়বাগড় কথা শুনে বুঝতে পারেÑ চুল্লু সিং নামদার ভিন্ মুল্লুক থেকে আমদানি আর পুরাদস্তুর গোবেচারাও বটে। যেন মাটির দেহটাতে প্রাণ দিতে পেল্লাই গোঁফ জোড়া ঠোঁটের ওপর সাঁটানো হয়েছে। তার আধবোজা চোখ দুটি জানান দিচ্ছে, যখন-তখন গঞ্জিকা সেবনে আপত্তি নেই। শ্যামপ্রিয়া মওকা পেয়ে জম্বুল খুলে চটজলদি কল্কে সাজায়। নিজে এক টান দেয় তো চুল্লু সিং গুড়ুম-গুড়ুম দশ টান মারে। তার টানের চোটে কল্কে ফাটার উপক্রম। আশপাশ ধোঁয়ায় অন্ধকার। দ্বারবানের চোখ জোড়া ছোট হতে হতে অদৃশ্য যখন, তখন আর অন্দরবাড়ি ঢোকার পথে বাধা থাকে না শ্যামপ্রিয়ার। তবে সে এগোতেও সাহস পায় না। এর কারণ অবশ্য ভিন্ন।

এখন যেখানে দেউড়িঘর, সেখানে বছর খানেক আগেও ছিল সুপারির বাইলের বেড়া। দারোয়ান-চৌকিদারের বালাই ছিল না। দুর্গা দাসী একাই গাছকোমর বেঁধে বৈষ্ণবীকে চুলের মুঠি ধরে বেড়ার বাইরে ছুড়ে ফেলেছিল। পেছনে রঙ্গমালার খিলখিল হাসি। যাচ্ঞা পুরা হলে মানুষ কত যে রঙ্গ দেখায়! মনের কষ্ট মনে রেখে শ্যামপ্রিয়া ঝোলা থেকে খঞ্জনি বের করে গান ধরে -

আর কি কুলে রব লো সখী

আর কি কুলে রব।

কালিয়া কালিয়া বিষম কালিয়া

কে বলে কালিয়া ভালো,

কালিয়ার সনে পিরিতি করিয়া

কাঁদিতে জনম গেল॥

ভেতরবাড়ির মাটির দাওয়ায় কামরাঙা পাটি পেতে সামনে পা মেলে বসে আছে রঙ্গমালা। আলতায় তার পা রাঙাচ্ছে রমা নাপতিনী। পেছনে দাঁড়িয়ে আছে দুর্গা দাসী - এক হাতে কাঁকই, আরেক হাতে সুগন্ধি তেলের বাটি। এ সময় দেউড়ি থেকে ভেসে আসে শ্যামপ্রিয়ার গান। একমনে পুরো গানটা শোনে রঙ্গমালা। গলায় এত বিষাদ কেন বৈষ্ণবীর? চৌধ্রীর খারাপ খবর বয়ে আনে নাই তো! নিজের ঘরেই তো শত্রু মানুষটার। এক দিনের অসাক্ষাতে মনটা কেমন কু গাইছে। রাজচন্দ্রের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বৈষ্ণবীকে অন্দরবাড়ি ডেকে পাঠায় রঙ্গমালা।

‘জয় রাধারানী’ - মাটিতে জম্বুল থুয়ে হাত জোড় করে দাওয়ার নিচে দাঁড়ায় বৈষ্ণবী। বঙ্কিম ঠাম। পান-রাঙা স্ফুরিত ঠোঁট ষোলো বছরের অভিমানী ছুঁড়ির - এমন চটকদার। মাগির যাত্রাপালার নটির স্বভাব। রঙ্গমালা হাসবে না কাঁদবে। ভাবে, চাল-কড়ি দিয়ে আপদ বিদায় করে দেবে। আবার চৌধ্রীর সম্বাদ জানার জন্যও মনটা কখন থেকে আনচান করছে।

শ্যামপ্রিয়া একঠায় দাঁড়িয়ে পায়ের নখে উঠানের মাটি খোঁড়ে। হাবে-ভাবে মনে হয়, দুর্গার প্রহারের ক্ষতটা এখনো মনে বয়ে বেড়াচ্ছে - ভোলে নাই। সমাদর করে না বসালে মুখ খুলবে না। রঙ্গমালা চন্দন কাঠের জলচৌকি আঁচলে মুছে শ্যামপ্রিয়ার দিকে এগিয়ে দেয়, ‘ভৈনদি, বইয়ো চাই। কী বিষয়-আশয়? ম্যালা দিন এ মুইক্কা আইয়ো ন!’ নাপতিনী আলতা পরানো শেষ করে তুলি-শিশি নিয়ে উঠে পড়ে। রঙ্গমালার ইশারায় দুর্গা দাসী পিঠটান দিলেও যাবার কালে চোখ দিয়ে শেল মেরে যায়, যা বৈষ্ণবীর জান পয়মাল করার জন্য যথেষ্টই।

শুরুতে রঙ্গমালার বেশ কিছু মন-খোলা কথা ফাউয়ে গেল। শ্যামপ্রিয়া যেন নরবাড়ির শান-শওকত দেখতেই ব্যস্তÑ শুনেও শোনে না, চোখ দুটি বাড়ির চার ভিটায় লাটিমের মতো ঘুরছে। ‘চৌধ্রীর কাছ তন্ কোনো খবর আইনচো নি ভৈনদি? কতা কও না কিল্লাই?’ কথাটা যখন রঙ্গমালা শুধায়, তখন বৈষ্ণবীর নজর উঠানের কোণের মোরগঝুঁটি ফুলগাছের ওপর। চোখ দিয়ে ফুলের লাল রং তিল তিল শুষে নিচ্ছে সে। রঙ্গির আকুতি কানে গেলেও মুখে রা করে না। আচমকা রাঙা চোখ দুটি খুশিতে নেচে ওঠে। এ আয়নার মতো সাফা যে রাজচন্দ্র-সৈরপমালার সমাচার এখনো নরের ঝির কানে পৌঁছায় নাই। দেউড়িতে এমন পালোয়ান খাড়া থাকলে আন-মানুষ তো মানুষ, মশা-মাছিও বাড়ির ত্রিসীমানায় ভিড়তে পারার কথা নয়। শ্যামপ্রিয়া নিজেও কি জানত রাজবাড়ির বগলে থেকেও? আজ পথে বেরিয়ে এক দিনের ঝুটা খবর বাতাসে ফাঁদ পেতে ধরতে হয়েছে। তবে চৌধুরীর জন্য এ আর নতুন কী? ডালভাত ছাড়া! পথেই খবরটা হজম হয়ে গিয়েছিল শ্যামপ্রিয়ার। রঙ্গমালার আশনাই দেখে তা ঢেকুরের মতো পেটের তল থেকে উঠে আসে। দাদ তোলার এমন মওকা পেলে কে ছাড়ে! এতে বাণমারার মতো খুন-খারাবিও আবশ্যক হবে না। আড়ালে থেকে চৌধুরীর দুই কান মলে দেয়া যাবে। তবে ভাবনার বিষয়, বাণমারা বা চুগলিখোরি - কোনোটাই আখেরে গোপন থাকে না।

‘ভৈনদির মুক্কান হুগনা কিল্লাই, হেডে দানাহানি হড়ে ন নি?’ রঙ্গির মুখ থেকে কথাটা মাটিতে পড়ে নাই, দাওয়ায় লাফ দিয়ে ওঠে দুর্গা দাসী। এক হাতে কাঁসার থালায় দুটি খইয়ের মোয়া আর একটা সবরি কলা, আরেক হাতে জলের ঘটি। শ্যামপ্রিয়া নড়েচড়ে বসে। তবে দুর্গার চোখের দিকে তাকানোর সাহস পায় না। হাতে মেরে মাগি তুষ্ট হয় নাই, চোখে মারতে উঠেপড়ে লেগেছে। যাক, পেটে তো মারছে না। শ্যামপ্রিয়া জলের পাত্র নামিয়ে মোয়ায় কামড় বসায় আর চাঁদির গয়নার ঝমর-ঝমর ঝংকার তুলে দুর্গা দাসীর উঠানময় দাপাদাপি দেখে। রমা নাপতিনীও ঘুরঘুর করছে আশপাশ। বোঝা যায়, দুজনের নজর এদিকেই। যেকোনো ছুতায় দাওয়ায় উঠে আসতে পারে। তখন আবার মারধর খেতে হয় কি না!

শ্যামপ্রিয়ার পেট ঠান্ডা করলেও মন সুস্থির হওয়ার সুযোগ দেয় না রঙ্গমালা সুন্দরী। ‘আঁই বড় জ্বালাত আছি গো, কাইল চৌধ্রী আইবো কই আইয়্যে ন। কোনো বুরা খবর আছে নি ভৈনদি?’ বৈষ্ণবী মৃদু মৃদু মাথা দোলায় আর রঙ্গিকে নিরিখ করে। নরের বেটির মুখের খরখরে ধার গেল কই? চোখ দুটিতে আগের মতো শাণ দেয়া ছুরির ঝিলিক নাই। গাভিন গরুর মতো ড্যাবড্যাব চাহনি। সুখে নধর শরীর বেয়ে তেল গড়াচ্ছে। তলোয়ারের মতো যে টানটান তনুতে চৌধুরী দুফালা হয়ে গেল - পিরিত এক দিকে, জাত আরেক দিকে - জায়গা-অজায়গায় মেদ জমে তা থলথল করছে। পরিণামহীন সুখের সায়রে গা ভাসায় যে নারী, তার তো রান্ডিবাড়ির চড়ায় কলাগাছের মতো ভেসে ওঠা ছাড়া গতি নাই। নরের ঝির সে হুঁশ আছে?

‘ছোডো মুকে আমনেরে কী সবক দিয়্যুম আঁই?’ বৈষ্ণবোচিত দীনভাবে বলে শ্যামপ্রিয়া, ‘হাইনজা অই গেছে। হুকুম দ্যান - আঁই বাইত যাই।’ কিন্তু সে উঠতে গেলে জম্বুল চেপে ধরে জোর করে বসায় রঙ্গমালা। নিজেও পাটি ছেড়ে মাটিতে বসেছে। চোখেমুখে পাগল পাগল ভাব - ‘তোমার কতার ভেদ আঁই বুঝি ন গো ভৈনদি। ভগমানের দোহাই লাগে, আঁরে এককানা ভাঙি কও চাই!’



শ্যামপ্রিয়া মুখ খোলার আগে রঙ্গমালার গতর ভরা জেওরে চোখ বোলায়, একনজর নরবাড়ির জলুস দেখে, দুর্গা দাসীর নিকষ কালো দেহে চাঁদির ঝিকিমিকি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরখ করে, তারপর নিজের হাতে না-পাওয়া এক শ সিক্কার কথা স্মরণ করে জোড়হাত কপালে ঠেকায়। ঈশ্বর জানেন, দুনিয়াদারির আশেক-মাশুকের যে জোড় মেলায়, ভাঙানি দেয়া তার কর্ম নয়। তবে এ দন্ডে আর উপায় কী। রাজচন্দ্র-রঙ্গমালার পিরিতের চাকে আগুন দেয়ার কালে সবজান্তার দরবারে এই তার ক্ষমাভিক্ষা - আরজি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন