মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২১

রোয়াল্ড ডাল'এর গল্প: ছাতাওয়ালা লোকটা


ভাষান্তর : নাহার তৃণা 

গতকাল সন্ধ্যায় আমাদের সাথে আজব যে ঘটনাটা ঘটলো, সে গল্পটা আপনাদের শোনাবো। বয়স হিসেবে আমি দশ বছরের বালিকা হলেও লম্বায় ইতিমধ্যে আমার চৌত্রিশ বছর বয়স্ক মায়ের কাঁধ ছুঁয়ে ফেলেছি। দশাসই সাইজ হলে কি হবে দাঁতের যত্নে খুব গাফলতি করি। যে কারণে দাঁতের অবস্হা খুব সুবিধার না।


দাঁত ব্যথায় কাহিল হওয়াতে গতকাল বিকেলে মা আমাকে নিয়ে দাঁতের ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল। এই দাঁতের ডাক্তারটি আমার খুব পছন্দের। খোঁচাখুঁচি করে ব্যথা দেন না খামোখাই। দাঁত পরীক্ষা করে পেছনের সারির একটা দাঁতে গর্তের খোঁজ পাওয়া গেল। যতটা সম্ভব কম ব্যথা দিয়ে তিনি আমার দাঁতের গর্তটা ভরাট করে দিলেন। কাজ হয়ে যাওয়ার পর, ধারেকাছের একটা ক্যাফেতে গেলাম। আমি নিলাম ব্যানানা স্পিল্ট আর মা নিলো কফি। ব্যানানা স্পিল্টটা যা ছিল না কী বলবো! খাওয়া শেষ হতে হতে ছটা বেজে গেল। সন্ধ্যা আরো ঘন হওয়ার আগে আমাদের বাড়ি ফিরতে হবে। 

ক্যাফে থেকে বেরোনো মাত্রই আকাশ ভেঙে শুরু হলো বৃষ্টি। ‘সর্বনাশ! এখন ট্যাক্সি না পেলে তো বিপদে পড়তে হবে।’ মা সভয়ে বলে ওঠে। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচবার মতো কোনো প্রস্তুতি নিয়ে বের হইনি আমরা। সঙ্গে না আছে ছাতা, না পরনে বর্ষাতি। আর বৃষ্টি নেমেওছিল আকাশ ছিঁড়ে।

‘বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত ক্যাফেতে ফিরে গিয়ে অপেক্ষা করলে কেমন হয় মা?’ মনে মনে আরো একটা ব্যানানা স্পিল্ট বাগানোর মতলব নিয়ে কথাটা বললাম মাকে। জিনিসটা সত্যিই সুস্বাদু।

‘এ বৃষ্টি সহজে থামবে না মামণি।’ মা বললো। ‘তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরা প্রয়োজন।’

বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আমরা খোলা ফুটপাতে ট্যাক্সির আশায় দাঁড়িয়ে রইলাম। পাশ কাটিয়ে বেশ কিছু ট্যাক্সি এলো গেল। কিন্তু সবগুলোর ভেতরে গ্যাট হয়ে বসা আরোহী। মা বেশ খানিকটা আফসোস ভরে বলে উঠলো, ‘আহা আমাদের নিজেদের যদি গাড়ি থাকতো!’ 

মায়ের দুঃখবোধ নিয়ে কিছু বলার কিংবা ভাববার সময় পেলাম না। ঠিক তখন হুট করে কোত্থেকে আমাদের সামনে এক লোক এসে উপস্হিত হলেন। লোকটা ছোট্টখাট্টো গড়নের হলেও চেহারা সুরত বেশ আকর্ষণীয়। বয়স আনুমানিক সত্তর বা আরো বেশি হবে। সৌজন্য দেখিয়ে তিনি মায়ের দিকে তাকিয়ে আনত হলেন। মুখে বিব্রত এক টুকরো হাসি নিয়ে লোকটা মাকে বললেন, ‘যদি কিছু মনে না করেন একটু কথা বলতাম।’ লোকটার নাকের নীচে ধবধবে সাদা গোঁফ, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘন একজোড়া ভ্রু। বয়সের ছাপে মুখটা ভরপুর হলেও তাতে গোলাপি আভায় মাখামাখি। লোকটার হাতে ধরা ছাতাটা এই নিদারুণ বৃষ্টি থেকে তাকে রক্ষা করছিল। 

‘কি কথা বলুন?’ মা বেশ সতর্ক এবং ঠাণ্ডা গলায় জানতে চাইলেন। 

‘ইয়ে মানে, কীভাবে যে বলি’, কথাটা খুলে বলতে লোকটা একটু ইতস্তত করলেন, ‘আমি একটু বিপদে পড়েছি। উদ্ধারের জন্য তাই সাহায্য চাইছি আপনার।’ 

তাকিয়ে দেখলাম মা লোকটিকে বেশ সন্দেহভরে মাপতে চেষ্টা করছে। মায়ের সন্দেহবাতিক স্বভাব। চট করে কোনো কিছু বিশ্বাস করা তাঁর ধাঁতে নেই। দুটো বিশেষ ক্ষেত্রে মায়ের সন্দেহ তুলনা বিহীন বলা চলে। প্রথমটা, অপরিচিত মানুষ আর দ্বিতীয়টা, সেদ্ধ ডিম। ডিম সেদ্ধ খাওয়ার সময় মায়ের হাবভাব দেখার মতো একটা বস্তু। একটা সেদ্ধ ডিমের উপরের অংশটা মা যখন ভাঙে, এমন সর্তক হয়ে ডিমটার চারপাশে টোকা দেয় যেন ওটার ভেতর থেকে ইঁদুর বা সে জাতীয় কিছু বেরিয়ে আসবে বলে তাঁর ধারণা। অপরিচিত মানুষজন নিয়ে মায়ের বহুল ব্যবহৃত একটা বিখ্যাত বচন হলো, ‘ অপরিচিত কোনো মানুষ বাইরে যত বেশি মধুর ব্যবহার করে সে ততই সন্দেহজনক। ওগুলো ভেতরে ভেতরে এক একেকটা বদের হাড্ডি- পাঁজির পাঝাড়া হয়।’ 

কিন্তু এই ছোট্টখাট্টো গড়নের বুড়ো মানুষটাকে আমার ভালোই মনে হচ্ছে। বেশ মার্জিত। কথাবার্তাও পরিশীলিত। পরনের পোশাক-আশাকে যথেষ্ট রুচির ছাপ। মানুষটা যথার্থই একজন নিপাট ভদ্রলোক। এতটা নিশ্চিত হয়ে তাকে ভদ্রলোকের সার্টিফিকেট কীভাবে দিচ্ছি, প্রশ্ন জাগছে তো? ব্যাপারটা মায়ের কাছ থেকে শিখেছি। কে কতটা ভদ্রলোক সেটা বুঝতে পারি তার পায়ের জুতো জোড়া দেখে। এ বিষয়ে মায়ের প্রিয় বাণী হচ্ছে, ‘কারো পায়ের জুতো দেখেই তুমি বলে দিতে পারো কে কেমন লোক।’ বুড়ো লোকটার পায়ে চমৎকার একজোড়া বাদামি রঙের জুতো রয়েছে।

‘আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে কি’ বুড়ো লোকটা আবারও কুণ্ঠিতভাবে বলে উঠলেন। ‘ আমি একটু বিপদেই পড়েছি। তাই সাহায্য চাওয়া। না, না ঘাবড়াবেন না, সেরকম কিছু নয়, নিশ্চয়তা দিচ্ছি। বলতে গেলে তেমন কিছুই না আসলে। কিন্তু আপনার সাহায্যটা আমার খুব প্রয়োজন। এই বয়সে আমার মতো বুড়োদের ভুল হওয়ার ব্যাপার তো হরহামেশাই ঘটতে পারে, বলুন…’

মা চিবুক তুলে নাক বরাবর তীক্ষ্ণ চোখে লোকটার দিকে তাকিয়ে রইল। মায়ের এই চাহনিটা আমার চেনা। ব্যাপারটা বেশ ভীতকর। মা যখনই তাঁর এই ভয়ানক চাহনিটা কাউকে দেখায় সে-ই আতঙ্কে শতছিন্ন হয়ে যায়। একবার সচক্ষে দেখেছি মায়ের ওরকম ভয়ানক চাহনির সামনে পড়ে আমার প্রধান শিক্ষক বেচারা কেমন তোঁতলাচ্ছিলেন আর এক সঙ্গে কেমন বুদ্ধিনাশার মতো হাসছিলেন। কিন্তু মায়ের সেরকম চাহনিতে বৃষ্টি মুখর সন্ধ্যায় ফুটপাতের উপর ছাতামাথায় দাঁড়িয়ে থাকা বুড়োটার চোখের পাতাটা পর্যন্ত কাঁপলো না! লোকটা আলতো একটু হেসে বললেন, ‘বিশ্বাস করেন, এভাবে মহিলাদের পথরোধ করে নিজের বিপদের কথা বলে বিরক্ত করে বেড়ানো আমার স্বভাব নয়। নেহায়েত বিপদে পড়েই আজ…’

‘সেরকম না হলেই ভালো।’ মা কেটে কেটে বললো। মায়ের এমন অতিরিক্ত কঠোর ভাবভঙ্গিতে আমার কেমন একটু বিব্রত লাগছিল। আমার বলতে ইচ্ছে করছিল, ‘ওহ মা, দোহাই তোমার একটু সদয় হও। বুড়ো একজন মানুষ। তাছাড়া তিনি কোনো রকম অভাব্যতা করেননি। মার্জিত ব্যবহার, আর সবচে’ বড় কথা বিপদে পড়েই বেচারা তোমার সাহায্য চাইছেন, কাজেই তোমার উচিত তার প্রতি সদয় হওয়া।’ কিন্তু বাস্তবে আমার মুখ দিয়ে টু শব্দটাও বের হলো না।

বুড়ো মানুষটা এক হাত বদলে ছাতাটা অন্য হাতে নিয়ে বললেন, ‘এমন মারাত্মক ভুল আসলে আমার আগে হয়নি।’

‘কি ভুল হয়নি আপনার আগে?’ কঠিন গলায় জিজ্ঞেস করলো মা।

‘বাড়ি থেকে মানিব্যাগ আনতে ভুলে গেছি।’ ভুল করে আমি নিশ্চয়ই ওটা অন্য জ্যাকেটের পকেটে রেখেছি। কেমন বেকুবের মতো হয়েছে কাজটা বলুন দেখি?’

‘সাহায্যের নামে আপনি কি আমার কাছে টাকা চাইছেন?’ ঝাঁজের সাথে মা বলে উঠলো।

‘ওহ কপাল আমার! দোহাই আপনার ওভাবে নেবেন না বিষয়টা। যা ভাবছেন তা একদমই নয়, প্রায় ককিয়ে উঠলেন বুড়ো মানুষটা।

‘তাহলে কি চাইছেন আপনি?’ গলার স্বরে তাড়ার ভাব নিয়ে মা জানতে চাইলো, ‘যা বলবার তাড়াতাড়ি বলুন দয়া করে। এভাবে কতক্ষণ আর কাকভেজা হওয়া সম্ভব। যেতে হবে আমাদের।’

‘সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি।’ লোকটা বললেন। আর সেজন্যই আমার এই ছাতাটা আপনাদের দিতে চাইছি। যেন বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পান। ছাতাটা আপনাকে একেবারেই দিয়ে দিতে চাই। যদি.. যদি একটু…’

‘যদি একটু কি?’ মা ঝটপট জিজ্ঞেস করলেন।

‘ছাতাটা নিয়ে যদি তার বদলে আপনি কিছু টাকা দেন বড় উপকার হয়, আমার বাড়ি ফেরার ট্যাক্সি ভাড়াটা হয়ে যায়।’ লোকটা বিনীতভাবে উত্তর দিলেন।

মা এখনও সন্দেহের ঘেরাটোপ থেকে বেরোতে পারেনি। তাই সন্দেহভরা গলাতেই প্রশ্ন করলো, ‘এখানে কীভাবে এলেন তাহলে?’

‘হেঁটে এসেছি।’ উত্তর দিলেন তিনি। হাঁটাহাঁটি বহু বছরের অভ্যাস আমার। প্রতিদিন গোটা পথটা হেঁটে এদিকটায় আসি। ফেরার পথে ট্যাক্সি ধরে বাড়ি যাই। সারা বছরই তাই করি। আজই বেখেয়ালে মানিব্যাগ ফেলে এসে এই বিচ্ছিরি বৃষ্টির মধ্যে বিপদে পড়ে গেছি।’ 

‘এখন হেঁটেই বাড়ি ফিরছেন না কেন?’ মা জানতে চাইলো।

‘আহ্ সেটা যদি পারতাম, কেমন একটু আফসোস নিয়ে বললেন কথাটা। ‘সেটা সম্ভব হলে তাই করতাম।

খামোখাই আপনাকে বিরক্ত করতে আসতাম না। এতবেশি হাঁটাহাঁটি হয়েছে আজ, যে ব্যথায় আমার বুড়ো পা দুটো টনটন করছে। এখন হেঁটে বাড়ি ফেরা আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।’

মা নিশ্চল দাঁড়িয়ে তাঁর নীচের ঠোঁট কামড়ে কিছু একটা ভাবছিল। তার মানে ভেতরে ভেতরে মা সামান্য হলেও গলতে শুরু করেছে। ওঁর এই ভঙ্গিটাও আমার চেনা। কাকভেজা বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে একটা ছাতার তলায় আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা মা কে হয়ত কিছুটা গলাতে পেরেছে।

‘ছাতাটা কিন্তু বেশ সুন্দর।’ মায়ের মন আরো একটু ভেজানোর উদ্দেশ্যেই হয়ত লোকটা বলে উঠলেন।

‘ হ্যাঁ, দেখেছি সেটা।’ ছোট্ট করে উত্তর দিলো মা।

‘সিল্কের তৈরি এটা।’ আরেক ধাপ প্রশংসা করলেন লোকটা।

‘বেশ বুঝতে পারছি।’

‘তাহলে এটা আপনি কিনে নিচ্ছেন না কেন,’ ছাতাটা কিন্তু বেশ দাম দিয়েই কিনেছিলাম আমি। আপনাকে সত্যিটাই বলছি, বিশ্বাস করুন। কিন্তু এখন এটার তেমন গুরুত্ব নেই। তারচে’ বরং বাড়ি ফিরে পা দুটোকে বিশ্রাম দেয়াটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

খেয়াল করলাম মায়ের হাতখানা এখন তার ব্যাগের হুক খোলার অপেক্ষায় প্রায় মুখিয়ে আছে। মা দেখেছে আমি তাঁকে খেয়াল করছি। এবার আমি আমার বিশেষ চাহনিটা তাঁকে দেবার চেষ্টা করলাম, এবং মায়েরও বুঝতে বাকি থাকলো না আমি তাঁকে ঠিক কি বলতে চাইছি। ‘শোনো মা, সুযোগ পেয়েছো বলেই একজন অসহায় বুড়োর ছাতাখানা পানির দরে বগলদাবা করবে এটা একেবারেই ঠিক কাজ নয়। কাজটা খুবই খারাপ হবে।’ মা খানিক থমকে আমার দিকে সপাটে চাইলো। তারপর বুড়ো লোকটা কে বললো, ‘ আমার মনে হয় না কাজটা মোটেও ঠিক হবে, আপনি এত দাম দিয়ে ছাতাটা কিনেছিলেন নাম মাত্র দামে সেটা নেওয়া ঠিক হবে না। তারচে’ ভালো আমি আপনাকে ট্যাক্সি ভাড়ার জন্য কিছু টাকা দিচ্ছি। আপনি বাড়ি চলে যান।’

‘না, না, না! বুড়ো মানুষটা প্রায় গুমড়ে উঠলেন। প্রশ্নই আসে না। এভাবে কারো দয়া নেবার কথা আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনা। কোনো বিনিময় ছাড়া আপনার টাকা আমি কোনোভাবেই নিতে পারি না। ছাতাটা দয়া করে নিন, এবং বৃষ্টির হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করুন।’ 

মা এবার আমার দিকে তাকিয়ে বিজয়ের হাসি দিয়ে বুঝিয়ে দিতে চাইলো, ‘হলো তো বাছা! তোমার ভাবনাটা ভুল ছিল বুঝলে এবার? লোকটা ভীষণভাবে চাইছে আমি যেন তার ছাতাটা নিয়ে তাকে উদ্ধার করি। সেটাই করছি আমি, বুঝলে সোনা…’

মা তার ব্যাগটা খুলে টাকা বের করে লোকটার সামনে ধরলো। টাকা নিয়ে লোকটা তার ছাতাটা মায়ের হাতে তুলে দিলেন। লোকটা পকেটে টাকা পুরে, মায়ের দিকে ঝুঁকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চলে গেলেন।

‘পাখি, ছাতার নিচে এসে দাঁড়াও, বৃষ্টিতে আর ভিজো না’, মা আমার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘এত দামি সিল্কের ছাতা আগে কখনও ব্যবহার করিনি। এমন ছাতা কেনাটা আমার পক্ষে সম্ভবও ছিল না। অথচ দেখো আজ কেমন ছাপ্পড় ফেড়ে বৃষ্টির সাথে সাথে আমাদের কপালটা খুলে গেল।’

‘তুমি শুরুতে লোকটার সাথে ওরকম কঠিন ব্যবহার করছিলে কেন মা?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম।

‘লোকটা কোনো চালাকি করছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হওয়ার জন্যই ওটা করেছি সোনা।’ মা বললো।

‘উনি যথার্থই একজন সজ্জন মানুষ। তাকে সাহায্য করতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে।’

‘ঠিক বলেছো মা।’ মায়ের কথায় সঙ্গত দিলাম।

‘উনি একজন সত্যিকার ভদ্রলোক,’ মা বলে চললো, ‘পয়সাওয়ালাও বটে। তা না হলে তার কাছে এমন দামি সিল্কের ছাতা থাকতো না। আমি খুব অবাক হবো না যদি বুড়োটা কেউকেটা ধরনের কেউ হয়। হয়ত দেখা যাবে তিনি কোনো বিখ্যাত নামের মানুষ। 

‘ একদম ঠিক বলেছো মা।’ আমি বললাম।

‘আজকের এই ঘটনা তোমার জন্য একটা শিক্ষনীয় ব্যাপার হলো কিন্তু। মা বলেই যাচ্ছে। ‘কোনো কিছুতেই তাড়াহুড়ো করো না। দুম করে কাউকে বিশ্বাস করতে যেও না। মানুষকে খুব সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করবে। ধীরে সুস্হে সিদ্ধান্ত নিলে তোমার কখনও ভুল হবে না।’

‘ওই দেখ মা লোকটা,’ মায়ের কথা শেষ হওয়া মাত্রই আমি বলে উঠলাম। ‘ওই দেখো।’

‘কোথায়?’

‘ওই তো রাস্তার ওই দিকে। রাস্তা পার হচ্ছেন। বাপ্রে! ভাবচক্করে মনে হচ্ছে ভীষণ তাড়ায় আছেন।’ এমন ব্যস্ত একটা রাস্তা লোকটা কেমন কায়দা করে চটজলদি পার হয়ে গেলেন। রাস্তাটা পেরিয়ে অন্য পাশে গিয়ে লোকটা বাম দিকে বাঁক ঘুরলেন। খুব দ্রুত পায়ে হাঁটছিলেন তিনি।

‘তাকে দেখে কিন্তু মোটেও ক্লান্ত মনে হচ্ছে না, তোমার কি মনে হচ্ছে মা?’

মা কোনো উত্তর দিলো না।

‘এমন কী এটাও মনে হচ্ছে না তিনি বাড়ি ফেরার জন্য ট্যাক্সির খোঁজ করছেন।’ আবার আমি ফোঁড়ন কাটলাম।

মা কেমন থম ধরা পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রাস্তার ওপাশে বুড়ো লোকটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো।

এখান থেকে আমরা তাকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। ভীষণ তাড়া নিয়ে তিনি তড়বড়িয়ে হেঁটে চলেছেন। ফুটপাতে হোঁচট খেয়ে, পথচারীদের ধাক্কা দিয়ে, পদাতিক বাহিনির মতো প্রায় মার্চের ভঙ্গিতে এগিয়ে চলেছেন বুড়ো মানুষটা।

‘ব্যাটা তো সুবিধার না রে! দেখে মনে হচ্ছে কোনো মতলবে ছুটছে।’ গম্ভীর গলায় বললো মা।

‘কি সেটা?’ 

‘তা জানি না,’ মা বেশ শীতল গলায় উত্তর দিলো। ‘তবে আমি সেটা দেখেই ছাড়বো, জলদি এসো।’ মা আমার হাত ধরে টানলো, এবং আমরা দ্রুত রাস্তা পেরিয়ে বাম দিকে মোড় ঘুরলাম।

‘লোকটাকে দেখতে পাচ্ছো?’ মা জিজ্ঞেস করলেন।

‘হ্যাঁ, দেখা যাচ্ছে। ওই তো ডান দিকে বাঁক নিয়ে অন্য আরেক রাস্তায় এখন।

আমরাও রাস্তার কোণায় এসে ডান দিকে বাঁক নিলাম। বুড়োটা আমাদের থেকে বিশ গজ দূরত্বে। খরগোশের মতো দ্রুত পায়ে হাঁটছেন। ওকে অনুসরণ করে হাঁটতে গিয়ে তাল মেলানো আমাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ছিল। তার উপর বৃষ্টি আরো ঝেপে পড়া শুরু করলো। লোকটা বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। তার মাথা থেকে পানি গড়িয়ে কাঁধে পড়ছে, সিল্ক ছাতার নীচে না ভিজে স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে চলতে সেটা স্পষ্টই দেখতে পেলাম।

‘লোকটার ভাবগতিক কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। কি করতে চায় সে?’ মায়ের গলায় অস্হিরতা।

‘লোকটা যদি পেছন ফিরে তাকায় আর আমাদের দেখে ফেলে?’ আমি জানতে চাইলাম।

‘বয়েই গেছে দেখে ফেললে। আমরা তো কোনো চালাকি করিনি, বরং সেই করেছে তার মতিগতি সেরকমই বলছে এখন। মিথ্যে বলেছে সে। তার পায়ে নাকি ব্যথা, যার কারণে হেঁটে বাড়ি ফেরা তার পক্ষে অসম্ভব-- ব্যাটা তো এখন রীতিমত দৌড়াচ্ছে- আমাদেরও দৌড়ে মারছে! ব্যাটা একটা চোখ উল্টানো মিথ্যেবাদী, বাটপাড়ের বাটপাড়।’ রাগে গর গর করছে মায়ের গলা।

‘তার মানে সে মোটেও তালেবর কেউ নয়? আমি জানতে চাই।

‘ চুপ! বকে মাথা খেও না এখন।’ বিরক্তি ঝরে পড়লো মায়ের গলায়।

পরের রাস্তা পারাপারের সময় লোকটা আবার ডান দিকে মোড় নিলো।

তারপর সে বাম দিকে মোড় নিলো।

এরপর ডান দিকে।


‘এত সহজে ছাড়ছি না বাছাধন।’ মা বেশ নাটকীয় ভাবে বললো।

‘হায় হায় লোকটা কোথায়!’ আমি চেঁচিয়ে উঠলাম। ‘কোথায় উবে গেল ভোজবাজির মতো?’

‘সামনের ওই দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকেছে।’ শান্ত গলায় মা বললো, ‘আমি দেখেছি। ওই বিল্ডিংটার ভেতরে গেছে, হায় কপাল! ওটা তো একটা বার মনে হচ্ছে!’ 

হ্যাঁ ওটা একটা বার-ই বটে, দুনিয়ার মদ্য মাতালদের আড্ডাখানা। বিল্ডিংটার বাইরে সাইনবোর্ডে বড় বড় অক্ষরে নাম লেখা আছে ‘জলন্ত লাভা’।

‘তুমি নিশ্চয়ই ভেতরে যাবে না মা?’ কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইলাম।

‘না’ মা উত্তর দিলো। ‘আমরা বাইরে থেকে ব্যাটার উপর নজর রাখবো।’ 

বারের সামনের দিকটায় কাচ ঘেরা বড় বড় জানলা থাকায় বাইরে থেকে ভেতরটা দেখা যায়। তবে ভেতর থেকে অতটা দেখার ব্যবস্হা নেই। ভেতরের দিকের কাচ ঈষৎ ঘষা। আমরা যদি সামনে গিয়ে দাঁড়াই তাহলে ভেতরটা আরো ভালোভাবে দেখা যাবে।

আমরা মা-মেয়েতে জড়ামড়ি করে জানলা ঘেঁষে দাঁড়ালাম, লোকটার কর্মকাণ্ড দেখার জন্য। একটা চাপা

উত্তেজনায় আমি মায়ের হাত প্রায় খাঁমচে ধরে থাকি। আমাদের ছাতার উপর বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটাগুলো চটর পটর শব্দ তুলে ভালোই বেজে যাচ্ছিল।

‘ওই যে বুড়োটা’ আমি বলে উঠলাম। ‘ওইখানে।’ 

বাইরে থেকে যে রুমটার ভেতরে আমরা তীক্ষ্ণভাবে নজর রাখছিলাম সেটা লোকে গিজগিজ করছিল আর সিগারেটের ধোঁয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন। লোকজনের ভিড়ের মাঝে বুড়োটা দাঁড়িয়ে আছে। তার পরনে এখন আর জ্যাকেট নেই।

লোকজনের ভিড় ঠেলে সে সামনে বারের দিকে এগোতে থাকলো- আমরা দেখতে থাকলাম। এরপর বারের কাছাকাছি পৌঁছে হাতদুটো বারের উপর রেখে বারের লোকটার সাথে গুজগুজ করে কিছু বললো। 

অর্ডার দেবার সময় আমি তার ঠোঁটের নড়াচড়া দেখতে পেলাম। বারের লোকটা অর্ডার নিয়ে চলে গেল এবং কিছুক্ষণ পর যখন ফিরে এলো তখন তার হাতে বাদামি রঙের তরলে ভর্তি একটা মাঝারি গ্লাস ছিল। যেটা সে বুড়োর সামনে রাখলো। বুড়ো পকেট থেকে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া টাকা কাউন্টারের উপর রাখলো।

‘ওটা আমার টাকা!’ মা গনগনে গলায় বলে উঠলো। ‘কত্তবড় ফেরেববাজ ব্যাটা।’

‘বুড়ো যে খাচ্ছে ওই গ্লাসে কি আছে মা?’ আমি জানতে চাইলাম।

‘মদ’। মা বললো। ‘বিশেষ একধরনের মদ।’

বারের লোকটা ওকে কোনো খুচরো ফেরত দিলো না। গোটা টাকাটাই জলের পেছনে গেল।

‘মনে হচ্ছে বেশ দামী জিনিস, কেমন তারিয়ে তারিয়ে খাচ্ছে দেখো হাভাতের হদ্দটা।’ মায়ের গলায় রাগ।

কীভাবে বুঝলে তুমি? দাম দেখে আন্দাজ করলাম। সাধারণ গুলোর চেয়ে ওটার তিনগুণ বেশি ধক্, দামও তাই বেশি।’ মা বললো। কত বড় বুদ্ধিনাশা হলে মানুষ এসব গিলতে আসে! ‘দুধ বেচে মদ খাওয়া’ একেই বলে। বুড়োটা তার গ্লাসটা তুলে ধরলো ঠোঁটের কাছে তারপর গভীর এক চুমুকে নিমিষে পুরো গ্লাসটা খালি করে ফেললো।

‘পচা জিনিসটার দাম আছে মেলা।’ আমি বললাম।

‘বেকুবটা টাকাই খেল চিবিয়ে। বদ হজম হবে নির্ঘাত।’

‘লোকটা আসলেই একটা বেকুব। প্রথমে সে তার অত দামী ছাতাটা পানির দরে দিয়ে দিলো। তারপর সে টাকায় অখাদ্য কিনে খেল। ওর সব দিক থেকেই লস হলো কিন্তু।’ 

‘সেয়ানা গাধাদের তাই হয়।’ ঝাঁজের সাথে মা বললো।

বুড়োটা খালি গ্লাস হাতে নিয়ে বারের সামনে দাঁড়িয়ে। সে তখন মিটিমিটি হাসছিল। তার গোলাপি মুখটা এখন স্বর্ণালি আভায় কি এক সুখময় আনন্দে মাখামাখি। আমি দেখলাম সে জিভ বের করে তার গোঁফে লেগে থাকা দামী কিন্তু পচা জিনিসটার ফোঁটা চেটেপুটে নিলো। এরপর সে ধীরে সুস্হে দোকান থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিলো। হ্যাঙারে কোট-জ্যাকেট ঝুলিয়ে রাখার জায়গা থেকে সে তার জ্যাকেটটা তুলে নিয়ে পরে নিলো। তারপর অত্যন্ত ধীরেসুস্হে সবার নজর এড়িয়ে কোট র‍্যাকে ঝুলতে থাকা ভেজা ছাতার ভেতর থেকে আস্তে করে একটা ছাতা তুলে নিয়ে ভদ্রলোকের মতো বাইরে বেরিয়ে এলো। 

‘দেখলে! দেখলে!! বাটপাড়টার কাণ্ড দেখলে?’ মা প্রায় চেঁচিয়ে উঠলেন।

‘চুপ! চুপ! বুড়োটা বাইরে বেরিয়ে আসছে।’ ফিসফিস করে মাকে সাবধান করলাম।

আমরা আমাদের ছাতাটা নীচু করে তার আড়ালে নিজেদের মুখ ঢাকলাম যেন বুড়োটার চোখে না পড়ি। বুড়ো বাইরে বেরিয়ে হাঁটতে শুরু করলো। সেখান থেকে তার পিছু নিলাম। কিন্তু বুড়োটা একবারের জন্যও আমাদের দিকে ঘুরে তাকাইনি। নতুন ছাতাটা খুলে এবার সে মাথার উপর ধরলো। যে পথ ধরে এসেছিল সে পথ ধরেই ফিরে চললো ব্যাটা।

‘এভাবেই তাহলে কৌশল খাটিয়ে সে লোকের সাথে বাটপাড়ি করে।’ মা মাথা নেড়ে বললো। 

‘ঝানু! বুদ্ধি বটে’ আমি বললাম। বুড়োটাকে অনুসরণ করে ঠিক আগের জায়গাতে ফিরে দেখতে পেলাম সে একই কায়দায় ছাতার বদলে টাকা হাতানোর জন্য ছুতো খুঁজছে। কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই এক লোকের কাছে সে ছাতাটা হাত বদল করে ফেললো। এবার সে যার কাছে ছাতা চালান দিলো সে একেবারেই উড়নচণ্ডী একজন। যার পরনে না ছিল জ্যাকেট না জৌলুশময় কিছু। লোকটার কাছ থেকে হাতানো টাকা পকেটে পুরে বুড়োটা পথের জনারণ্যের ভিড়ে মিশে গেল। তবে এবার সে আর আগের পথে গেল না। তার বিপরীত দিকে হাঁটা ধরলো।

‘কি রকম ধড়িবাজ ব্যাটা দেখেছো?’ রাগ ঝরে পড়লো মায়ের গলা থেকে। একই দোকানে সে দ্বিতীয় বার যায় না।’ ‘বুড়োটা তো মনে হয় সারারাত ধরেই এই কাণ্ড করে বেড়াবে।’ আমার কথার পিঠে ঝাঁঝালো গলায় মা বলে উঠলো, ‘হ্যাঁ, সেরকমই মনে হচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে বৃষ্টি তার জন্য পোয়াবারো হয়ে আসে। আমি বাজি ধরতে পারি এমন বৃষ্টিমুখর দিনের জন্য বদের হাড্ডি বুড়োটা মুখিয়ে থাকে।’


----------------

লেখক পরিচিতি:

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা কথাসাহিত্যিক রোয়াল্ড ডাল। ওয়েলসের কার্ডিফে বসবাসকারী নওরজিয়ান মা-বাবার কোল আলো করে ১৯১৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রোয়াল্ড ডাল পৃথিবীতে আসেন। অবাক করা লেখনীশক্তির এই মানুষটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জন্মভূমি ইংল্যান্ডের সপক্ষে রয়াল এয়ারফোর্সে পাইলটের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি লেখালেখির জগতে পা রাখেন। মূলত ১৯৪০ সালের পর থেকেই সাহিত্য জগতে তাঁর খ্যাতি লাভের সূচনা। সাহিত্যপ্রেমী পাঠকেরা তাঁর অনবদ্য লেখনী ক্ষমতার যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে কার্পণ্য করেননি। তাঁর বইগুলো বেস্ট সেলারের মর্যাদা পেতে শুরু করে। তিনি শুধুমাত্র বড়দের চমকে দেওয়ার মতো অসাধারণ সাহিত্য সৃষ্টি করে ক্ষ্যান্ত হননি। ছোটোদের প্রতি দারুণ মমতা পোষণকারী রোয়াল্ড ডাল তাঁর ভালোবাসার চিহ্ন হিসেবে রেখে গেছেন অসাধারণ সব সৃষ্টি। ‘জেমস অ্যান্ড জায়ান্ট পিচ’, ‘চার্লি অ্যান্ড চকলেট ফ্যাক্টরি’, ‘মাটিল্ডা’ ইত্যাদি অবাক করা ভালোলাগার মতো সৃষ্টিগুলো পৃথিবীর তাবত ছেলে-বুড়ো পাঠকের জন্য অমূল্য প্রাপ্তি।

বড়দের জন্যেও তিনি প্রচুর লিখেছেন। বড়দের জন্য লেখা প্রথম বই ‘ওভার টু ইউ’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৬ সালে। বইটিতে ভিন্নস্বাদের ১০টি অপ্রচলিত ছোটো গল্প স্হান পায়। বিশ্বযুদ্ধে রয়্যাল এয়ারফোর্সের পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে বইয়ের গল্পগুলো। ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর ‘কিস কিস’ বইটি। ১৯৬০–এ আসে ছোটগল্পের বই ‘সামওয়ান লাইক ইউ’। ডালের অধিকাংশ গল্প পড়েই পাঠককে কিছুক্ষণ থম্ ধরে থাকতে হয়। কেননা তার গল্পের শেষে থাকে অসামান্য চমক। যে কোনো পাঠকের পূর্বানুমানকে তিনি ব্যর্থ করে দেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু গল্পের মধ্যে, ‘দ্য ওয়ে আপ টু হেভেন’, ‘পয়জন’, ‘দ্য ল্যাম্ব টু দ্য স্লটার’, ‘দ্য সাউন্ড মেশিন’, ‘এডওয়ার্ড দ্য কনকুয়েরর’, ‘ভেঞ্জেন্স ইজ মাইন’, ‘দ্য স্কিন’, ‘মিস্টার বটিবল’ ইত্যাদি অসংখ্য মনকাড়া সব সৃষ্টি রয়েছে। রোয়াল্ড ডালের অনেক বিখ্যাত গল্প নিয়েই চলচিত্র নির্মিত হয়েছে। সেগুলোও দর্শকের মনে দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছে। এখন অবধি সারা পৃথিবীতে তাঁর বই ২৫০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। অসংখ্য অসংখ্য সৃষ্টিকর্ম পেছনে রেখে ১৯৯০ সালের ২৩ নভেম্বর রোয়াল্ড ডাল পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। 



অনুবাদক পরিচিতি
নাহার তৃণা
গল্পকার। অনুবাদক।
রাজশাহীতে বাড়ি। এখন আমেরিকার শিকাগোতে থাকেন। 

২টি মন্তব্য: