ফরাসী বিপ্লবের প্রায় ৭০ বছর পরে চার্লস ডিকেন্স, সে বিপ্লবের পটভূমিতে, লিখেছিলেন উপন্যাস A Tale of Two Cities। এই উপন্যাসের শুরুর বাক্যটি অনেকেরই পরিচিত - It was the best of times, it was the worst of times… সেই সময়টি ছিল সেরা, সেই সময়টি ছিল সবচেয়ে খারাপ, সেটি ছিল জ্ঞানের যুগ, সেটি ছিল মূর্খতার যুগ, সেটি ছিল বিশ্বাসের যুগ, সেটি ছিল অবিশ্বাসের যুগ, সেটি ছিল আলোর ঋতু, সেটি ছিল অন্ধকারের ঋতু, সেটি ছিল আশার বসন্ত, সেটি ছিল হতাশার শীত, আমাদের সামনে সবকিছু ছিল, আমাদের সামনে কিছুই ছিল না, আমরা সবাই সরাসরি স্বর্গে যাচ্ছিলাম, আমরা সবাই সরাসরি অন্য পথে যাচ্ছিলাম - সংক্ষেপে, সময়কালটি ছিল বর্তমান সময়েরই অনুরূপ যখন কর্তৃপক্ষ উচ্চস্বরে সেটাকে শুধুমাত্র ভালো বা মন্দের চরম পর্যায়ে গ্রহণ করার ওপর জোর দিয়েছিলেন।
ডিকেন্স হয়তো জটিলতা এবং সূক্ষ্মতা স্বীকার না করে কীভাবে লোকেরা তাদের নিজস্ব সময়কে ইতিহাসের সেরা বা সবচেয়ে খারাপ সময় হিসাবে দেখেন তা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। বর্তমানের বাংলাদেশকে কি ডিকেন্সের দৃষ্টিতে দেখা যায়? বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে স্বচ্ছ নির্বাচন না দেওয়ায় এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করে কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছিল। ছাত্র হত্যার প্রতিবাদ থেকে আন্দোলন জোরদার হয়ে আওয়ামী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু এই আন্দোলনের সময় থেকে সমাজ নানাভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে। অনেকে আওয়ামী সরকারের নানাবিধ পদস্খলণের বিপক্ষে থাকলেও মনে করেছেন আন্দোলনে ডানপন্থী ধর্মীয় দলগুলির প্রভাব রয়েছে সেজন্য দ্বিধাভরে সমর্থন দিয়েছেন অথবা দেননি। ব্যাপকহারে ছাত্রদের নিহত হবার ঘটনায় উদ্বেলিত হয়েছেন অনেকেই, এবং শেষাবধি শেখ হাসিনার সরকার থেকে মুক্ত হয় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন, ভবিষ্যতের দিকে আশাবাদী দৃষ্টিপাত করছেন। অনেকে আছেন যাঁরা গত ১৬ বছরের আওয়ামী সরকারের শাসনকে দুঃশাসন মনে করেছেন, ডানপন্থী ধর্মীয় দলগুলির আত্মপ্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছেন। আর শেষোক্ত গোষ্ঠীর মধ্যে অনেকে বাংলাদেশকে ১৯৪৭-এর আদর্শে দেখতে চাইছেন। ১৯৭১ তাঁদের কাছে ইতিহাসের পাতায় একটি টীকা মাত্র।
শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ত্যাগের পরপরই ধানমণ্ডী ৩২ নম্বরের রাস্তায় মিউজিয়াম বাড়িটি তছনছ করা হয়, তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নয়, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে শিল্পকলার বহু স্থাপত্য। আক্রমণের মুখে পড়েছে মন্দির, আহমেদিয়া মসজিদ ও মাজার। শিক্ষকদের আইন বহির্ভূত অবস্থায় চাপ সৃষ্টি করে পদত্যাগ করানো হচ্ছে। যেহেতু এই সমস্ত কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে বলিষ্ঠ কোনো মন্তব্য আসছে না, এবং যেহেতু প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীকে নানাবিধভাবে বিগত সরকারের তল্পিবাহক হিসেবে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা হচ্ছে, সেহেতু প্রতিশোধের স্পৃহা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তিভূমির বিপক্ষের মতামত প্রাধান্য পাচ্ছে।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি একটি দেশের পরিচয় বহন করে। আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি বা বেআইনী কার্যকলাপ দেশের সংস্কৃতির কন্ঠরোধ করার কারণ হতে পারে না। নতুন সময়ে আমরা মনে করি নতুন করে আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মূল্যায়ণ করতে হবে। নতুবা সঙ্গীতবিহীন, নৃত্যকলাবিহীন, নাট্য ও কাব্যিক শিল্পবিহীন একটি সমাজ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
সাম্প্রতিক যেসব কথাসাহিত্যিক সাহিত্যে বহুবিস্তারময় আধুনিকতাকে পল্লবিত করেছেন জয়ন্ত দে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন। বিভূতিভূষণের মতো নিবিড় দৃষ্টিতে তিনি দেখেছেন--গ্রাম নয়, এই নগরকে। তিনি খুব বেশি কথা বলেন না তাঁর লেখায়, তবে অল্প কথায় নিখুঁত চিত্রটি ফুটিয়ে তোলেন। সম্পর্কের নানা দিক প্রকাশ করতে প্রায় অচেনা রং-তুলি তিনি ব্যবহার করেন। ২০২৩ সালে তিনি অন্নপূর্ণা উপন্যাসের জন্য বঙ্কিম পুরস্কার পেয়েছেন।
গল্পপাঠ ওয়েবজিনের জন্য জয়ন্ত দে'র এই সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন শুভদীপ বড়ুয়া। জয়ন্ত দে'র বঙ্কিম পুরস্কারপ্রাপ্ত উপন্যাস অন্নপূর্ণা উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করেছেনও শুভদীপ বড়ুয়া।
জয়ন্ত দে'র সাক্ষাতকার :
গত ১৬ জুলাই গল্পপাঠের অন্যতম অনুবাদক প্রবাল দাশগুপ্ত প্রয়াত হয়েছেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। থাকতেন কলকাতায়। এর মধ্যেও তিনি গল্পপাঠের জন্য অনুবাদ করেছেন। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন গল্পপাঠের রঞ্জনা ব্যানার্জী। গভীরভাবে শোকপ্রকাশ করছে গল্পপাঠ টিম।
--রঞ্জনা ব্যানার্জী
প্রবাল দাশগুপ্তের কয়েকটি অনুবাদ--
আন্তন চেখভের গল্প : চন্দ্রাহত
আন্তন চেখভের গল্প : চন্দ্রাহত
হারুকি মুরাকামি – জাপানি লেখক। জন্ম ১২ জানুয়ারি ১৯৪৯। তাঁর লেখা উপন্যাস এবং ছোটগল্প কেবল জাপানে নয়, সারা বিশ্বে সমাদৃত। বিশ্বের পঞ্চাশটি ভাষায় তাঁর লেখা অনুবাদ করা হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু উপন্যাস হল – ‘নরওয়েজিয়ান উড’, ‘দ্য ওয়াইন্ড-আপ বার্ড ক্রনিক্ল’, ‘কাফকা অন দ্য শোর’। বর্তমান রচনাটি তাঁর ‘ফার্স্ট পারসন সিঙ্গুলার’ সঙ্কলনের ‘ক্রীম’ গল্পের অনুবাদ। মুরাকামি বহু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।
অনুবাদ : উৎপল দাশগুপ্ত
জুলাই ১, ২০২৪
অনুবাদ : উৎপল দাশগুপ্ত
একজন কৃতি কাহিনীকারের বয়ানে নিজস্ব শৈলী, সৃজনশীলতা এবং কী ভাবে তিনি সাহিত্যিক প্রতিবন্ধকতা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পেরেছেন -
অনুবাদঃ নৃপেন্দ্রনাথ সরকার
ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা (১১ জুন ১৮৯৯ – ১৬ এপ্রিল ১৯৭২) ছিলেন একজন জাপানি ছোটোগল্পকার ও ঔপন্যাসিক। তাঁর সরল, কাব্যময় ও সূক্ষ্মবর্ণনাযুক্ত গদ্যের জন্য ১৯৬৪ সালে তাকে সাহিত্যের নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়। তিনিই প্রথম জাপানি যিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। তার রচনা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এবং অদ্যাবধি জনপ্রিয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কাওয়াবাতার অন্যতম সাহিত্যিক অণুপ্রেরণা।
জাপানি গল্প
ইংরেজি থেকে অনুবাদ : © শুভদীপ বড়ুয়া
অনুবাদ : অমিতাভ চক্রবর্ত্তী
অনুবাদ : দোলা সেন
অনুবাদ : মাজহার জীবন
দ্য গার্ডিয়ান, ১৩ জুন ২০২৩
অনুবাদ- এলহাম হোসেন
মুলঃ মাইকেল কলিন্স
অনুবাদঃ নৃপেন্দ্রনাথ সরকার ও মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন
জয়া চৌধুরী অনুবাদে স্প্যানিশ
মারিয়া এউখেনিয়া রামোসের গল্প :
মৌসুমী বিলকিসের অনুদিত গল্প
জামাইকা কিনকেডের গল্প :
মার্গারেট মিচেলের ধারাবাহিক উপন্যাস:
পর্ব : ৩৬
অনুবাদ : উৎপল দাশগুপ্ত
উপল মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক উপন্যাস:
পর্ব-৬



















0 মন্তব্যসমূহ