রুশ বিপ্লবের অন্যতম কারিগর লিওন ট্রটস্কি ১৯২৪-এ একটি বই লিখেছিলেন, নাম ছিল ‘সাহিত্য ও বিপ্লব’। সেখানে তিনি প্রকৃত প্রলেতারিয়েত সাহিত্য সৃষ্টির ডাক দিয়েছিলেন, বলেছিলেন রুশ সাহিত্য ততদিন যা হয়েছে তা নিতান্তই বুর্জোয়া। আমি একটু সরলীকরণ করলাম, উনি ব্যাপারটার উপস্থাপনা করেছেন তৎকালীন বিপ্লবী অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, বলশেভিক তত্ত্বের আঙ্গিকে। প্রাক-বিপ্লব যুগের কবিদের ভর্ৎসনা করে লিখেছিলেন যে, তারা মনে করেছিল মন ও যৌক্তিক চিন্তা জগতকে পরিচালনা করবে, অর্থাৎ বুদ্ধিজীবীরা প্রগতিকে পরিচালনা করবে, কিন্তু ইতিহাস দেখায় যে, মন বাস্তবের পেছনে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলে। তাই বিপ্লবে কবিদের কোনো অবদান রইল না, বরং অনেকেই প্রতিপক্ষের সাথে যোগ দিল, আরা যারা সতর্ক ছিল তারা চুপ করে রইল। তাই বিপ্লবের সময় কোনো সাহিত্য রচনা হলো না। ট্রটস্কির মতে, সেটা না হয়ে ভালই হয়েছে, সেই সাহিত্য রচিত হলে তা বিপ্লবের বিপক্ষে যেত। অক্টোবর বিপ্লব রুশ মানুষকে বদলে দিয়েছে এবং এই প্রেক্ষাপটের বাইরের সাহিত্যিকদের মূল্যহীন করে দিয়েছে, তাদের কিছুই বলার নেই, বিপ্লব থেকে পালানো প্রবাসী সাহিত্যিকরা কোনো ধ্রুপদী কিছু সৃষ্টি করতে পারেনি। ট্রটস্কি এদের মধ্যে মাক্সিম গোর্কি ও ইভান বুনিনের নাম করেছেন, গোর্কি অক্টোবর বিপ্লবের এক বছর পরে রাশিয়া ছেড়ে যান (অবশ্য পরে ফিরে এসেছিলেন)। আরো নামের মধ্যে ছিল আনা আখমাতোভা আর মারিয়া ৎসেতায়েভা। ......
ফিরে পড়া গল্প
তানভীর মোকাম্মেল বাংলাদেশের সুপরিচিত একজন চলচ্চিত্রনির্মাতা ও লেখক। তানভীর মোকাম্মেল দশবার জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন এবং বাংলাদেশ সরকারের “একুশে পদক”-য়ে ভূষিত হন।
বাংলাদেশে গত ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মৌলবাদের হুংকার দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে তানভীর মোকাম্মেল একটি বিদেশী পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি পত্রস্থ হলো।
গল্প লেখার গল্প
গল্প:
বই নিয়ে আলাপ
ফিরে দেখা একাত্তর
লেখালিখি হলো একধরনের লড়াই। বিস্মৃতির বিপক্ষে স্মৃতির লড়াই। এ স্মৃতি আমাদের পূর্বপুরুষের। তাঁদের লিখিত স্মৃতির বাতাবরণে আমরা বেড়ে উঠেছি। সে স্মৃতি গৌরবের, সে স্মৃতি অশ্রু আর রক্তমাখা মুক্তিযুদ্ধের। পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের মাথা তুলে দাঁড়ানোর ইতিহাস। আমাদের লিখিত স্মৃতির ঘেরাটোপের ভেতর বেড়ে উঠবে আগামী প্রজন্ম। তারা জানবে তাদের গৌরবময় ইতিহাস। যে ইতিহাস রিসেট বাটনের চাপে মুছে ফেলার পায়তারা চলছে। তার বিরুদ্ধে হোক আমাদের অবস্হান।
মিলান কুন্দেরা বলেছিলেন, ক্ষমতার বিপক্ষে মানুষের লড়াই হলো বিস্মৃতির বিপক্ষে স্মরণের লড়াই। এই ক্রান্তিকালে আমাদের লড়াইটা হবে গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের অর্জনের স্মৃতিসমূহ অক্ষত রাখার লড়াই। লেখালিখির নানা ফর্মের মাধ্যমে আমাদের চেষ্টা থাকবে গৌরবময় একাত্তরকে স্মরণ করা।
গল্প:
বই নিয়ে আলাপ
অনুবাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা
অমৃতা প্রীতম পাঞ্চাবি এবং হিন্দি ভাষার একজন উল্লেখযোগ্য লেখক। একাধারে তিনি কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং প্রাবন্ধিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তাঁর আদি নাম অমৃতা কৌর। ব্রিটিশ শাসিত অবিভক্ত ভারতবর্ষের পাঞ্জাব অঞ্চলের গুজরানওয়ালা গ্রামে ১৯১৯ সালের ৩১ আগস্ট তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান। তাঁর বাবার নাম করতার সিং ও মায়ের নাম রাজ বিবি। বাবা করতার ছিলেন হিতকরি ব্রজ ভাষার একজন পণ্ডিত, স্কুল শিক্ষক, শিখ ধর্ম প্রচারক এবং কবি। লেখালিখির নেশাটা বাবার কাছ থেকে তাঁর মধ্যে সঞ্চারিত হয়। ছোটোবেলা থেকেই তিনি গতানুগতিক নিয়মকানুনের ফাঁক-ফোকর নিয়ে প্রশ্ন করতে অভ্যস্ত ছিলেন। প্রশ্নহীন ভাবে কোনো নিয়ম-নীতি মেনে নেওয়ার বিপক্ষে ছিলেন। তাঁর লেখালিখিতে সেই দ্রোহ, প্রতিবাদ স্পষ্ট।
গল্পপাঠের গল্পকার-অনুবাদকদের অনুবাদ এবং মৌলিক গল্প
























0 মন্তব্যসমূহ