গল্পপাঠ ওয়েবজিন।। একাদশ বর্ষ ।। সংখ্যা ৯৫

সম্পাদকীয়

পৃথিবীর সব জাতির বীরত্বের ইতিহাস নেই। বাংলাদেশের বাঙালি ও অপরাপর জাতিগোষ্ঠীর আছে। ভারতবর্ষ কিংবা দক্ষিণ এশিয়ায় কত কত জাতিগোষ্ঠীর বাস। কোনো জাতি যুদ্ধ করে সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। যুদ্ধে বিজয়ের গৌরব অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশের বাঙালি ও অপরাপর জাতিগোষ্ঠী পেরেছে। ১৯৭১ সালের এদিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। আজ বিজয় দিবস। আজ বাঙালি এবং বাংলাদেশ ভূখণ্ডের অপরাপর জাতিগোষ্ঠীর আনন্দের দিন। আজ সম্মিলিত গৌরবের দিন।

বিজয় দিবসে প্রকাশিত হলো কথাসাহিত্যের ওয়েবজিন ‘গল্পপাঠ’-এর ৯৫তম সংখ্যা। বর্তমান সংখ্যাটিকে আমরা একটু ব্যতিক্রমভাবে সাজানোর চেষ্টা করেছি। এই সংখ্যায় মোট প্রকাশিত হলো ৫৫টি লেখা। এসব লেখার মধ্যে রয়েছে বাংলা ভাষায় রচিত গল্প, চিরায়ত বাংলা গল্প, বিদেশি গল্পকারদের অনূদিত গল্প, প্রবন্ধ, বই আলোচনা, বাংলা ভাষার লেখকদের সাক্ষাৎকার, বিদেশি লেখকদের অনূদিত সাক্ষাৎকার, মুক্তযুদ্ধ নিয়ে বিশেষ আয়োজন, একটি নোবেল ভাষণের অনুবাদ এবং অনূদিত ধারাবাহিক উপন্যাস। আশা করি পাঠকদের ভালো লাগবে।

প্রিয় পাঠক, গল্পপাঠ আপনাদেরই ওয়েবজিন। আপনারাই এর লেখক, আপনরাই পাঠক। আপনাদের সহযোগিতায় গল্পপাঠ অব্যাহত রাখবে তার অগ্রযাত্রা। সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ : শ্যামল বসাক, কানাডা। 
-------------------------------------------------------------------
গল্পপাঠের সম্পাদকীয় নিবন্ধ—
 সাংস্কৃতিক প্রতীক ও আত্মবিস্মৃতি
দীপেন ভট্টাচার্য
নোবেল ভাষণ ২০২৫
চলতি বছর সাহিত্যে নোবেল জিতেছেন হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। সুইডিশ অ্যাকাডেমির মতে, আকর্ষণীয় ও দুরদর্শী রচনার জন্য লাসলোকে এ বছর সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, তার লেখনি বৈশ্বিক ভয়াবহতার মধ্যে শিল্পের শক্তিকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। লাসলো ক্রাসনাহোরকাই ১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ছোট শহর গিউলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার রচনাগুলো বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জার্মান, স্প্যানিশ, ফরাসি, ইংরেজি, চেক, রুশ, সুইডিশ ও হিব্রু ভাষা। প্রকাশিত হলো তাঁর নোবেল ভাষণ
অনুবাদ : শুভশ্রী বিন্তু
চিরায়ত গল্প
ফিরে দেখা একাত্তর
মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির গৌরব। জাতি হিসেবে ইতিহাসে এটি বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন। একাত্তরের বাংলাদেশের মানুষের এই সশস্ত্র সংগ্রাম ছিল বছরের পর বছর ধরে পরিচালিত গণসংগ্রামের শীর্ষ বিন্দু। জনগণের ধারাবাহিক সংগ্রামী অভিযাত্রার শক্তিকে অবলম্বন করেই গড়ে ওঠে সশস্ত্র সংগ্রামের রাজনৈতিক-সামাজিক-আদর্শিক ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রবহমাণ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গল্পপাঠের বিশেষ আয়োজন ‘ফিরে দেখা ৭১’। এই আয়োজনে প্রকাশিত হলো পাঁচটি লেখা—
অনূদিত গল্প 
গল্পপাঠ সবসময় অনুবাদ-সাহিত্যকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। অনুবাদের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার পাঠক সহজে পরিচিত হতে পারে অন্য ভাষার সাহিত্যের সঙ্গে। গল্পপাঠ চেষ্টা করে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ লেখকদের লেখা মানসম্পন্ন অনুবাদে প্রকাশ করতে। বর্তমান সংখ্যায় রয়েছে ছয়জন খ্যাতিমান গল্পকারের অনূদিত গল্প—

সামান্তা শয়েবলিনের গল্প : হেডলাইটস
অনুবাদ : ফারহানা আনন্দময়ী
অনুবাদ : রঞ্জনা ব্যানার্জী
অনুবাদ : উৎপল দাশগুপ্ত
তায়েব সালিহ'র গল্প : এক মুঠো খেজুর
অনুবাদ : তুতুন বিশ্বাস
এ সময়ের বিশ্বসাহিত্যের বিজ্ঞান কল্পকাহিনি আর কেবল ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি বা মহাকাশযানের কল্পনায় আটকে নেই; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু বিপর্যয়, নজরদারি রাষ্ট্র, জেনেটিক হস্তক্ষেপ, অভিবাসন, স্মৃতি ও পরিচয়ের সংকটের মতো সমসাময়িক বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করে মানুষের নৈতিকতা, ক্ষমতা ও অস্তিত্বের প্রশ্ন তুলে ধরছে—যেখানে বিজ্ঞান হয়ে উঠেছে আয়না, আর কল্পকাহিনি সেই আয়নায় দেখা মানুষের ভঙ্গুর ভবিষ্যৎ। এর সঙ্গে কথাসাহিত্যিক বিজ্ঞানী দীপেন ভট্টাচার্য মিশিয়ে দেন দার্শনিক ডিসকোর্স। 
গল্প

কথাসাহিত্যিক স্মৃতি ভদ্র। একজন সমাজ ও রাজনীতি-সচেতন লেখক। দেশভাগ, মুক্তিযুদ্ধ, জঙ্গিবাদ এবং মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে বর্তমানের অসুয়া উল্লাস...ইত্যাদি বিষয় তাঁর লেখায় আবর্তিত হয়। শুধু গল্পে নয়, গদ্য রচনাতেও যে তিনি সিদ্ধহস্ত, সেই প্রমাণ তাঁর রসুইঘরের রোয়াক বইটি। দুইখণ্ডের জনপ্রিয় এ বইতে তিনি সময় উজিয়ে বিগত দিনের সমাজ, সংস্কৃতি, জীবন তথা আত্মগত ধারাবিবরণী উপস্থিত করেছেন শিল্পিত ভাষায়। সম্প্রতি স্মৃতি তাঁর প্রথম উপন্যাস রচনা শেষ করেছেন। পড়ুন স্মৃতি ভদ্রের লেখালেখি নিয়ে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার—
২০২৫ সালের ম্যান বুকার পেলেন হাঙ্গেরীয় ব্রিটিশ লেখক ডেভিড সলয়। তাঁর জন্ম ১৯৭৪ সালে কানাডায়। মা কানাডীয়, বাবা হাঙ্গেরীয়। তাঁদের পরিবার একসময় বৈরুতে চলে যায়। ২০১৬ সালে ‘অল দ্যাট ম্যান ইজ’ বইয়ের জন্য ম্যান বুকার পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পান সলয়। ২০২৫ সালে প্রকাশ করেন উপন্যাস ‘ফ্লেশ’। উপন্যাসটির জন্য পেলেন এ বছরের ম্যান বুকার পুরস্কার।
বিখ্যাত ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি ছিলেন গ্রান্টা পত্রিকার শুরুর দিককার প্রধান লেখকদের একজন, যখন পত্রিকাটি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছোট ঘর থেকে প্রকাশিত হতো। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকাটির সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, এবং তিনি এর পাতায় গল্প, প্রতিবেদন, কবিতা, স্মৃতিকথা ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ লিখেছেন। এই বসন্তে গ্রান্টা-র সম্পাদক ম্যানহাটনে রুশদির বাসায় গিয়েছিলেন। তাঁরা এক ঘণ্টা ধরে পত্রিকাটির সঙ্গে রুশদীর সম্পর্ক, ভারতীয় কথাসাহিত্যের গতিপথ এবং ভারতীয় রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সংঘাত নিয়ে কথা বলেছিলেন—
অনুবাদ : শাহনাজ রেজা

নাদিন গর্ডিমারের গল্পে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যমূলক বাস্তবতা সরাসরি স্লোগানে নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন সম্পর্ক, নীরব অপরাধবোধ ও নৈতিক দ্বন্দ্বের ভেতর দিয়ে প্রকাশ পায়। তাঁর ভাষা সংযত ও সংক্ষিপ্ত, নাটকীয়তা কম হলেও ভেতরের টানাপোড়েন গভীর। গল্পের শেষে তিনি সহজ কোনো সমাধান দেন না; বরং পাঠককে নিজের নৈতিক অবস্থান নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেন।
নাদিম গার্ডিমরের গল্প : ঝাঁপ
অনুবাদ : রঞ্জনা ব্যানার্জী
হারুকি মুরাকামি জাপানি লেখক। তাঁর লেখা উপন্যাস এবং ছোটগল্প কেবল জাপানে নয়, সারা বিশ্বে সমাদৃত। নতুন উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লেখক জটিলতা, নারী চরিত্র লেখার পদ্ধতি এবং পাঠকদের সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২৪ সালের ২৩ নভেম্বর মুরাকামি কথা বলেন John Self-এর সঙ্গে। প্রকাশিত হয়েছে The Guardian পত্রিকায়—
অনুবাদ : শাহনাজ রেজা
ইসমাইল কাদারে বিশ এবং একুশ শতকের বিশ্বসাহিত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামগুলোর একটি। তাঁকে বলা হয় আধুনিক হোমার। জন্ম আলবেনিয়ার জিরোকাস্তারে, ১৯৩৬ সালে। কাদারের এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি নেন ইরানি কবি ও সম্পাদক শুশা গাপ্পি। প্রকাশিত হয় ‘প্যারিস রিভিউ’ পত্রিকার ১৮৭তম সংখ্যায়, ১৯৯৮ সালে। সাক্ষাৎকারটিতে আলবেনীয় ভাষা, সাহিত্য, কমিউনিস্ট স্বৈরশাসন চলাকালীন আলবেনিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে কাদারের বেড়ে উঠা, সাহিত্যদর্শন সবকিছুই বিস্তারিতভাবে ফুটে উঠেছে—

অনুবাদ : আহমেদ নাজিব
লেখকের কথা
এ বছর প্রকাশিত হয়েছে ফরিদ কবিরের ‘নীল মাকখির চোখ‘, অংশুমান কর-এর ‘পাখি মানুষর ঘর’ এবং মোজাফ্ফর হোসেনের ‘কল মি লাইকা।’ তিনজনই নিজ নিজ ক্ষেত্রে খ্যাতিমান। উপন্যাস তিনটির নানা দিক নিয়ে তাঁরা কথা বলেছেন গল্পপাঠের সঙ্গে—

ফুঁকোর ইশকুল
পর্ব—১

লিখেছেন : নির্ঝর নৈঃশব্দ
মেঘা মজুমদার ভারতীয় ঔপন্যাসিক। বসবাস করছেন নিউ ইয়র্ক শহরে। তাঁর প্রথম উপন্যাস এ বার্নিং নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের একটি ছিল। বইটি ২০২১ সালে সাহিত্য একাডেমি যুবা পুরস্কার পুরস্কার এবং ২০২২ সালে একটি হোয়াইটিং পুরস্কার জিতেছিল। ২০২১ সালে মেঘা মজুমদার লিখছিলেন এক পান্ডুলিপি, যা পরে তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস আ গার্ডিয়ান অ্যান্ড আ থিফ। বইটি এ বছরের National Book Award–এর শর্টলিস্টে আছে। প্রকাশিত হলো মেঘামজুমদারের একটি সাক্ষাৎকার এবং আ গার্ডিয়ান অ্যান্ড আ থিফ নিয়ে একটি লেখা। অনুবাদ করেছেন : পিউ  শ্রীপর্ণা

মুম রহমান। কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও অনুবাদক। দেশে এবং দেশের বাইরে উল্লেখযোগ্য পত্র-পত্রিকায় অসংখ্য গল্প-উপন্যাস-নাটক-প্রবন্ধ-অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কাজ করেছেন মঞ্চ ও বেতারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ থেকে নাট্য রচনায় এমএ। পত্রপত্রিকা ও বিজ্ঞাপনী সংস্থায়ও কর্মরত ছিলেন। গল্পপাঠকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে বলেছেন নিজের লেখালেখি, পাঠ এবং কথাসাহিত্যের নানা প্রসঙ্গে—
দূরের জানলা
লিখেছেন : সৌম্য কৌস্তভ
লিখেছেন : আনন্দ রোজারিও
লিখেছেন : অনিন্দ্য পাঠক 
পারসিভাল এভারেট সমকালীন মার্কিন কথাসাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠ। তিনি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (USC) ইংরেজির বিশিষ্ট অধ্যাপক। ব্যঙ্গ, দার্শনিক ভাবনা, ভাষা-রাজনীতি ও পরিচয়ের প্রশ্ন—সব মিলিয়ে তিনি তীক্ষ্ণ, বহু-স্বরে কথা বলা উপন্যাস নির্মাণ করেন। সাম্প্রতিক উপন্যাস জেমস-এর জন্য তিনি ২০২৪ সালের ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড ও ২০২৫ সালের পুলিৎজার পুরস্কার—দুটিই পেয়েছেন। বইটি ২০২৪ সালের বুকার পুরস্কারেও শর্টলিস্ট হয়েছিল এবং কার্কাস প্রাইজ জিতেছিল। প্রকাশিত হলো তাঁর একটি সাক্ষাৎকার এবং তাঁর উপন্যাস ‘জেমস’ নিয়ে একটি লেখা। অনুবাদ ও লেখা : শুভশ্রী বিন্তু
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী : ড্যান হোয়াইট
পর্ব : ৪১
অনুবাদ : উৎপল দাশগুপ্ত






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

  1. আপনাদের ওোয়েবসাইটের ডানপাশে একটাা ইমেজবাটন দেখা যাচ্ছে। লেখা গ্রন্থগত। এটা কীসের সাইট? আপনাদের সাইটে একে রে্রখেছেন কেন?

    উত্তরমুছুন