
স ম্পা দ কী য়
আগস্ট বাঙালির জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। বাংলা সাহিত্যের যুগস্রষ্টা কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণবার্ষিকী এই মাসে। যত দিন বাংলা ভাষা থাকবে, ততদিন তাঁরা থাকবেন, তাঁদের সৃষ্টিকর্ম থাকবে। আবার এ মাসেই ইতিহাসের ঘৃণ্যতম ঘাতকদের হাতে সপরিবারে নিহত হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। কেননা ইতিহাস লেখা হয় অমোছনীয় কালিতে। জঘন্য ও ঘৃণ্যতম ঘাতকেরা এই ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল ঊনিশ শ পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট। পারেনি। পারবে কী করে? বঙ্গবন্ধু তো মৃত্যুঞ্জয়ী। মৃত্যুঞ্জয়ীকে কে কবে মা-র-তে পেরেছে? তাঁকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। হয়তো ভবিষ্যতেও হবে। কিন্তু সফল হবে না। ভুলিয়ে দেওয়ার যতই চেষ্টা করা হবে ততই তিনি ভাস্বর হবেন। তাঁর স্মৃতিচিহ্নসমূহ বিনষ্ট করা হয়েছে। তাতে কী? তিনি তো আছেন বঙ্গজদের হৃদয়ে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—এই মহীরুহের প্রতি আমাদের অনিঃশেষ প্রণতি।
শোকাবহ আগস্টে প্রকাশিত হলো গল্পপাঠের ৯৯তম সংখ্যা। এই ওয়েবজিনের প্রতিটি সংখ্যা যে পাঠকদের জন্য বৈচিত্রপূর্ণ বিষয় নিয়ে সাজানো হয়, তা পাঠকেরা জানেন। বর্তমান সংখ্যাটিও তার ব্যতিক্রম নয়।
এই সংখ্যায় রয়েছে কথাসাহিত্যিক কল্লোল লাহিড়ী ও কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক আনিসুজ্জামানের দুটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার। সঙ্গে রয়েছে তাঁদের সৃষ্টিকর্ম। সাহিত্যের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকার দুটি যোগ করবে ভিন্ন আমেজ।
সূচিপত্রে চোখ বুলালেই দেখা যাবে এই সংখ্যায় গল্পকারদের তালিকা দীর্ঘ। মোট ২৬জন গল্পকারের গল্প প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের চেষ্টা থাকে মানসম্পন্ন গল্পগুলো নির্ভুলভাবে পাঠককে উপহার দিতে। প্রকাশের আগে আমরা প্রতিটি গল্পের মান যাচাই করে থাকি। আমাদের সম্পাদকমণ্ডলী প্রতিটি গল্প পড়ে তারপর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এই সংখ্যায় প্রকাশিত প্রতিটি গল্প পাঠককে দেবে গল্পের প্রকৃত আস্বাদ।
রয়েছে ৯টি অনূদিত গল্প। বাংলা ভাষার পাঠকরা যাতে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার গল্পকারদের সেরা গল্পগুলো পড়তে পারেন, সেজন্য আমাদের এই প্রচেষ্টা। আশা করি পাঠকদের ভালো লাগবে। এছাড়া প্রতিসংখ্যার মতো বর্তমান সংখ্যাতেও রয়েছে নিয়মিত সব বিভাগ। পাঠকদের ভালো লাগাই আমাদের পরম আনন্দ।
সবার জীবন সুন্দর হোক। শুভেচ্ছা। শুভ কামনা।

চিরায়ত গল্প
প্রতি সংখ্যার মতো এবারও প্রকাশিত হলো বাংলা ভাষার দুটি কালজয়ী গল্প। নরেন্দ্রনাথ মিত্র ও আল মাহমুদ বাংলা ছোটগল্পের দুই অনিবার্য নাম। তাঁদের কিছু কিছু গল্প সত্যিকারার্থেই কালকে জয় করেছে। বর্তমানে তো বটেই, ভবিষ্যতেও সেসব গল্প পাঠিত হতে থাকবে। দুজনের এ দুই সেরা গল্প আশা করি পাঠকদের ভালো লাগবে...
বিশেষ সাক্ষাৎকার
কল্লোল লাহিড়ী আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বহুমাত্রিক ও স্বতন্ত্র এক নাম। তাঁর 'ইন্দুবালা ভাতের হোটেল' উপন্যাসটি বহুল পঠিত। তাঁর সৃষ্টিশীলতার ক্যানভাসে রয়েছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক ইতিহাসের গভীর মেলবন্ধন। দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত আন্তরিক ও প্রাঞ্জলভাবে বলেছেন তাঁর শৈশবের দিনগুলোর কথা, সিনেমা ও সাহিত্যের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের কথা, চিত্রনাট্য রচনার চ্যালেঞ্জের কথা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং তাঁর গল্প-উপন্যাসের পেছনের অজানা সব প্রেক্ষাপটের কথা। শিল্প, স্মৃতি ও জীবনের মেলবন্ধনে সমৃদ্ধ সাক্ষাৎকারটি নিঃসন্দেহে পাঠকের জন্য আনন্দপাঠ হবে...
দীর্ঘ সাক্ষাৎকার
অনুবাদক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুজ জামান মূল স্প্যানিশ থেকে লাতিন আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন লেখকের লেখা অনুবাদ করেছেন। গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের নিঃসঙ্গতার একশ বছর তাঁর প্রথম প্রকাশিত অনুবাদগ্রন্থ। অনূদিত বইটি বাংলাদেশের বিস্তর পাঠক পড়ছে। আনিস লিখেছেন গল্প-উপন্যাসও। এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন অনুবাদের কলাকৌশল, ম্যাজিক রিয়েলিজম, ব্যক্তিজীবন, নিজের লেখালেখি ইত্যাদি প্রসঙ্গে...
সাক্ষাৎকার
পুরুষোত্তম সিংহ বিশ-একুশ শতকের বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননচর্চার নানা প্রবণতা নিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা ও লেখালেখি করে চলেছেন। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের পাঠ, গবেষণা ও মননচর্চাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। ইতিমধ্যে তাঁর দশটি মৌলিক প্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে দুই শতাধিক প্রবন্ধ। গভীর পাঠ, বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি ও নিরবচ্ছিন্ন সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তিনি সমকালীন বাংলা প্রবন্ধ-সমালোচনার জগতে ক্রমশ একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠছেন...
মুক্তিযুদ্ধ
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হন মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গল্পপাঠের নিয়মিত আয়োজন ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বিভাগে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রয়াত সাংবাদিক ফজলে লোহানীর এই আলাপচারিতা প্রকাশিত হলো। সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছে বাতিঘর থেকে প্রকাশিত ‘মুখোমুখি বঙ্গবন্ধু : ৫০টি সাক্ষাৎকার ও কথোপকথন’ শীর্ষক বই থেকে। এবং প্রকাশিত হলো রাজীব সরকারের একটি প্রবন্ধ...

আলোচনা
দুই বিশিষ্টি গল্পকারের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে লিখেছেন পুরুষোত্তম সিংহ। অভিজিৎ সেন সক্রিয় রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ, রাজনীতির দিশাহীন অবস্থা থেকে নিজের মুক্তি এবং অস্তিত্বের হতাশাপরায়ণ সংকট থেকে বাংলা গল্পে প্রবেশ করেছিলেন। রাজনীতির মধ্য দিয়ে যে সমাজ বদলের আকাঙ্ক্ষায় ঘর ছেড়েছিলেন, বাম রাজনীতির কোলাহলে বারবার নতুনের দিকে ঝুঁকে সমাজ পরিবর্তনের ভাবনায় মশগুল হয়েছিলেন। আর সাহিত্য যে যথার্থ নির্মাণের সৃজনশীল প্রয়াস, জীবনের ভাঙন-গড়নের অভিসম্পাতকে নতুন দিগন্তের অপত্যাশিত সৌন্দর্যে প্রতিষ্ঠার নব্য ধারাপাত—সে সম্পর্কে মিথিলেশ ভট্টাচার্য প্রথম থেকেই সচেতন ছিলেন বলেই নিজের উপস্থিতি প্রগাঢ়ভাবে জানান দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

বিশেষ গদ্য
হোমার কোথায় থাকতেন, কবে জন্মেছিলেন, কার কাছ থেকে গান শিখেছিলেন, সত্যিই অন্ধ ছিলেন কি না—এসব বলতে গেলেই প্রাচীন সূত্রগুলোর গলায় কাশি ওঠে। প্রচলিত কাহিনি বলে, তিনি অন্ধ ছিলেন, কিওস দ্বীপে জন্মেছিলেন, সেখানকার মহাকাব্য আবৃত্তিকারীদের একটি গোষ্ঠী নিজেদের হোমেরিদাই, অর্থাৎ হোমারের সন্তান বলে পরিচয় দিত এবং তাঁর সরাসরি বংশধর হওয়ার দাবি করত। প্রমাণ চাইলে ঘরে হঠাৎ নীরবতা। হোমারের নামে লেখা প্রাচীন জীবনী আছে, কিন্তু তার অনেক ঘটনাই এমন যে পড়লে বোঝা যায়, জীবনীকার কবিকে যতটা পাননি, তার চেয়ে বেশি বানিয়েছেন। হোমারকে নিয়ে একটি চমৎকার অনুসন্ধান...
বই নিয়ে
স্মরণ
১৯৭১ বা বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া-দুই প্রকার লোকগোষ্ঠির বসবাসেই বাংলাদেশের চেহারা প্রভিতাত হয়। শহীদুল জহির পরিস্কার মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাঙালির পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ফলত, শহীদুল জহির যতখানিই নতুন দিগন্তের কত্থক হয়ে উঠুন না কেন, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে নিতে পারেন না যারা, রাজাকারগিরি করেছেন যারা বা রাজাকারগিরির পক্ষে ঝুঁকে থাকতে চান যারা, শহীদুল জহিরের ব্যাপারে তাদের এলার্জি ফুটে ওঠে...
















0 মন্তব্যসমূহ