সম্পাদকীয়
সুগ্নোমে: সহানুভূতির নীরব দর্শন
লিও তলস্তয়কে আমরা চিনি ‘আনা কারেনিনা’র জন্য, হয়তো ‘যুদ্ধ ও শান্তি’র জন্য। আরো বিদগ্ধ পাঠক হয়তো ‘ইভান ইলিচের মৃত্যু’ কিংবা ‘পুনরুত্থান’-এর কথা বলবেন। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর আর একটি কাজ, যেটা তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়েছিল—‘হাদজী মুরাদ’—সেরকম পরিচিতি পায়নি। এই উপন্যাসটি উনিশ শতকে ককেশাস অঞ্চলে রুশ সাম্রাজ্যবাদের প্রেক্ষাপটে লেখা। হাদজী, একজন চেচেন যোদ্ধা, রাশিয়াকে সহযোগিতা করছেন নিজের পরিবারকে বাঁচানোর জন্য। তলস্তয়ের এই উপন্যাসে যুদ্ধ নেই, সময়কে অতিক্রম করতে পারে এমন নায়ক নেই, আছে ব্যক্তিগত বেঁচে থাকার লড়াই, প্রশ্ন। আছে আত্মসংকট ও নৈতিক দ্বন্দ্ব। এখানে কাউকে নায়ক বানানো হয়নি। তলস্তয় একদিকে নিজস্ব খ্রিষ্টীয় বিশ্বাস, অপরদিকে রুশ জাতীয়তাবাদের উর্ধে উঠে অন্তর্নিহিত নিজে একজন মানব-সত্তার দার্শনিক হিসেবে হাদজীর চরিত্রকে এঁকেছেন। অনেক সাহিত্য সমালোচকই বলবেন, লেখক বা সমালোচকের দায়িত্ব রাজনৈতিক বা ধর্মীয় আনুগত্য নয়, বরং মানুষের সত্যকে ‘অবস্থানহীন’ভাবে দেখা, তলস্তয় তাই করেছেন। এটা সহজ কাজ নয়। হাদজী একদিকে রাশিয়াকে সহযোগিতা করছে, অন্যদিকে সে নিজে একজন বিদ্রোহী যোদ্ধা—এই যে দ্বৈততা তার মধ্যে যে সংশয় এবং অন্তর্দ্বন্দ্ব নিহিত তাতে সাহিত্যের গভীরতা নির্ধারিত হয়েছে।
Martha Nussbaum নামে একজন মার্কিন দার্শনিক ও সাহিত্য সমালোচক আছেন, তাঁর একটি কথা আছে—moral imagination। সাহিত্য হলো এই নৈতিক কল্পনার জগৎ যা কিনা পাঠককে অপরের জীবনে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। Nussbaum বলছেন, উপন্যাসের কাঠামো এক ধরনের suggnome (সুগ্নোমে)। সুগ্নোমে একটি গ্রীক শব্দ যার সরাসরি অর্থ হলো ক্ষমা বা করুণা। এখানে কথাটা ব্যবহার হয়েছে এই অর্থে যে, উপন্যাস এমনই এক প্রপঞ্চ, যাতে পাঠক অন্যের জগতে প্রবেশ করে সহানুভূতির সঙ্গে চরিত্রদের বেদনা, সংকট, দ্বিধা, সংগ্রাম ইত্যাদি উপলব্ধি করতে পারে। যেমন একসময়ে হাদজীকে ‘শত্রু’ হিসেবে দেখা পাঠক এই উপন্যাসে তাকে একজন পিতা, যোদ্ধা ও মানুষ হিসেবে চিনতে শেখে। উপন্যাসটি কোনো মতবাদকে আশ্রয় করে না, বরং মতবাদ পেরিয়ে এক মানবতাবাদী চেতনার দিকে এগোয়। এই অর্থে, ‘হাদজী মুরাত’ একটি গূঢ় রাজনৈতিক উপন্যাস নয়, বরং একটি নৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে সাহিত্যের দায়বদ্ধতা কীভাবে প্রকাশ পেতে পারে, তার এক সংযত উদাহরণ। বর্তমান অস্থির বিশ্বে এই প্রশ্নটি আমাদের সামনে বারে বারে আসছে। মার্কিন দেশ, বাংলাদেশ, ভারত সারা বিশ্ব জুড়ে চলছে আমাদের সাহিত্য কি কেবল রাজনৈতিক, জাতিগত বা ধর্মীয় মতবাদের প্রসারমাধ্যম হয়ে উঠবে? নাকি তার কাজ এর চেয়েও গভীরতর—ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সমাজের অনির্ণেয়তা, এবং মানুষের হৃদয়ের আর্তিকে প্রকাশ করা?
তবে সাহিত্যিকরা তো তাত্ত্বিক পন্থা অবলম্বন করে সাহিত্য রচনা করেন না, বরং তাঁর তত্ত্বটি হৃদয়ের গভীরে সুপ্ত থাকে যাকে তিনি কোনো নামে চিহ্নিত করেন না। Theodor Adorno ছিলেন বিশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক ও সাংস্কৃতিক সমালোচক, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুলের অন্যতম পুরোধা। আধুনিকতা, পুঁজিবাদ, গণসংস্কৃতি এবং যুক্তিবাদের নামে সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা নিয়ে তাঁর গভীর আলোচনা রয়েছে। তাঁর একটি কথা ছিল—Instrumental Reason—'আধুনিক যুক্তিবাদ’ উপযোগিতা, দক্ষতা এবং ফলাফল অর্জনকে মূল্য দেয়, সৌন্দর্য বা নৈতিকতা নয়। কার্যকারিতাই এখানে প্রধান। Adornoর মতে, এই প্রবণতা শুধু রাজনীতিতে নয়, শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য এমনকি প্রেম বা সম্পর্কের ভেতরেও ঢুকে পড়ে, এবং এক ধরনের ‘নীরব সহিংসতা’ সৃষ্টি করে। যেমন কবি যদি গরিব হয়, তবে তার কাব্যস্পৃহা তাকে সমাজে হাস্যাস্পদ করে। আমি Adornoর সাথে পুরোপুরি একমত নই, আধুনিক যুক্তিবাদকে অগ্রাহ্য করে বর্তমান সমাজ খুব সহজেই এমন অন্ধকারে আপতিত হয়ে এমন সহিংসতা সৃষ্টি করতে পারে যা একেবারেই ‘নীরব’ নয়।
রবীন্দ্রনাথের “ঘরে-বাইরে” উপন্যাসে নিখিলেশের স্ত্রী বিমলা সন্দীপের ‘স্বদেশপ্রেমে’ মোহিত, অন্যদিকে নিখিলেশ মোটা দাগের আদর্শবাদের বদলে ব্যক্তিগত মানবতায় বিশ্বাসী—স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা আছে জেনেও স্ত্রীর স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সন্দীপের মুখে ‘স্বদেশ’ নামক শব্দটি যত উচ্চকিত, তার কাজ ততটাই নির্দয়, আত্মকেন্দ্রিক এবং ভণ্ডামিতে ভরা। সন্দীপের ‘স্বদেশপ্রেম’ আদর্শের নামে মানবিক সম্পর্ক, পারিবারিক বিশ্বাস এবং নারীর স্বাতন্ত্র্যকে বিসর্জন দিতে চায়—একটি মতবাদ এখানে কার্যকারিতার ছদ্মবেশে প্রবেশ করে। Adorno-র তত্ত্বকে অনুসরণ করে হয়তো বলা যায় সন্দীপের ‘দেশপ্রেম’ এখানে একটি cultural instrumental reason যা কিনা দেশের জন্য অত্যাচার করতে দ্বিধা করে না। এর বিপরীতে নিখিলেশের কথাটি আমাদের হৃদয়কে নাড়া দেয়—‘দেশের জন্যে অত্যাচার করা দেশের উপরেই অত্যাচার করা…।’ এইখানেই রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মতবাদ নয়, মানুষের দ্বিধা, হৃদয় ও অনুশোচনাই ভালো সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ উপাদান।
কিন্তু এটুকু লিখে আমি নিজেই দ্বিধাই ভুগছি—সন্দীপের আত্মকেন্দ্রিক ‘দেশপ্রেম’ কি আদৌ কোনো instrumental reason-এর উদাহরণ হতে পারে? Nussbaum-এর ‘সুগ্নোমে’কে আমি যত সহজে গ্রহণ করেছি, সেই ভিত্তিভূমিতে বিমলা, নিখিলেশ বা সন্দীপকে বিচার করেছি, তার তুলনায় Adornoর নিক্তিতে এই উপন্যাসের চরিত্রদের মূল্যায়ণ করা আমার জন্য কঠিন, এমনকি গল্পকার হিসেবে আমার জন্য সেটি কোনো সাহায্যর উপকরণ নয়।
এই আলোচনাটি শেষ করব অন্য একটি ধারণার মধ্য দিয়ে। ‘ঘরে বাইরে’র এক অংশে সন্দীপ বলছে, ‘…দেখো নিখিল, ধর্মনীতির সোনাবাঁধানো চশমার ভিতর দিয়ে জীবনটাকে দেখা তোমার একটা মানসিক বাবুগিরি; এইজন্যেই কাজের সময় তুমি বাস্তবকে ঝাপসা দেখো, কোনো কাজ তুমি জোরের সঙ্গে করতে পার না। নিখিল বললে, জোরের সঙ্গে কাজ করাটাকেই আমি কাজ করা বলি নে।’ যারা অজ্ঞতায় বিশ্বাস করে নিজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিঃসংশয় থাকে শুধু তারাই জোরের সঙ্গে কাজ করে, রবীন্দ্রনাথ এই বাস্তবটি বুঝতে পেরেছিলেন, তাই সংশয়ের মধ্যে মানবতাকে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। বিশ্বের চলমান শত অস্থিরতা, মতাদর্শিক বিভাজনের যুগে আমি মনে করি এই ‘সংশয়’ হলো সাহিত্যের অন্যতম চরিত্র। আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও মানবতা ধরে রাখতে ‘সংশয়’ প্রয়োজন; সুগ্নোমে যেমন হতে পারে ক্ষমা বা করুণা, তেমনই তা হতে পারে মানবিক সংশয়।
-দীপেন ভট্টাচার্য
ফিরে পড়া গল্প
কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম। নিভৃতিপ্রিয় শামীম মনে করেন– “বড় হতে চাইতে নেই, মানুষ কখনও বড় হতে পারে না, শুধু বড় হওয়ার ভান করে, তারপর ভান করতে করতে মারা যায় একদিন। কেবল বয়স বাড়লেই মানুষের চোখে এসব ধরা পড়ে। তখন দেখতে পায় যে, বাজারের হারান মুচির যে যোগ্যতা আছে, তা বিদ্যাসাগরের নেই; আবার বিদ্যাসাগরের যে যোগ্যতা আছে তা হারানের নেই। কেউ কারও বড় নয়।” চমৎকার ভাবনার এই লেখকের সাক্ষাৎকারটি পাঠককে আনন্দ দেবে বলেই বিশ্বাস।
স্মরণ
২০২৫ সালে আমরা পর পর তিনজন কৃতী মানুষকে হারিয়েছি। বছর শুরুতে চলে গেলেন গুণী কথাসাহিত্যিক ফয়জুল ইসলাম। ফেব্রুয়ারিতে জীবনের লেনাদেনা সাঙ্গ হলো মেঘমল্লার খ্যাত চলচ্চিত্রকার জাহিদুর রহিম অঞ্জনের। ২৫ মার্চের কালো রাত্রির শোককে যেন আরো গাঢ় করে তুললো সনজীদা খাতুনের প্রয়াণ। আজকের বাংলাদেশের জন্য তিনি ছিলেন সেই বাতিঘর, যার আলোয় বহুবার দেশ ও দেশের মানুষ পথের সন্ধান পেয়েছে। নীরব অথচ দৃঢ়তার সঙ্গে কর্মযজ্ঞ সচল রাখার এক অনুকরণীয় উত্তরাধিকার তিনি রেখে গেছেন বাংলাদেশের জন্য। দেশের এই তিন কৃতী সন্তানের প্রতি গল্পপাঠের পক্ষ থেকে রইলো শ্রদ্ধাঞ্জলি।
গল্প

শ্রদ্ধাঞ্জলি
চলে গেলেন মারিয়া বার্গাস য়োসা ১৩ এপ্রিল অনন্তের পথে। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। জন্মেছিলেন পেরুতে। লিখেছেন উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ। রাজনীতিকও হয়েছিলেন। লাতিন ভাষার য়োসা জীবদ্দশায় হয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম কিবদন্তি লেখক। হয়ে উঠেছিলেন লেখকদের কণ্ঠস্বর।
মারিয়া বার্গাস য়োসা্র একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার বেশ কয়েক বছর আগে গল্পপাঠ প্রকাশ করেছিল এমদাদ রহমানের অনুবাদে। প্যারিস প্রবাসী এমদাদ রহমান আবার অনুবাদ করে দিয়েছেন তরুণ লেখককে লেখা একটি চিঠি যা এ যে-কোনো আখ্যানকারের জন্যই একটি মেনিফেস্টো হয়ে উঠেছে। য়োসা জীবনে গল্প লিখেছেন মাত্র ৯টি। তার একটি মূল স্প্যানিস থেকে অনুবাদ করেছেন জয়া চৌধুরী। একটি প্রবন্ধ লিখেছেন রিটন খান। তিনি য়োসার ছবিটিও এঁকেছেন।
অনুবাদ এমদাদ রহমান
অনুবাদ: জয়া চৌধুরী
রিটন খান
বই নিয়ে আলাপ
খণ্ডিত সত্তার ভেকধারী আখ্যান: পুরুষোত্তম সিংহ
মাঠ ও মেদিনী যে আখ্যানের ধাত্রীভূমি: পুরুষোত্তম সিংহ
যে আখ্যানে অভিজ্ঞতার উত্তরণ ঘটেছে দার্শনিকতায়: পুরুষোত্তম সিংহ
প্রতিভা সরকার এসময়ের একজন শক্তিশালী কথাকার। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী এবং অধ্যাপক তিনি। অনেক বছর কাটিয়েছেন উত্তরবঙ্গে, ফলে সেই ভূখণ্ডের মানুষ, সমাজ এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পৃক্তি। আশির দশকে ‘মধুপর্ণী’ ও অন্যান্য পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লিখলেও, একসময় এই জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। দীর্ঘ বিরতি শেষে ফের সক্রিয় লেখালিখিতে এসেছেন বিগত কয়েক বছর। ‘ফরিশতা ও মেয়েরা’, ‘মানসাই’ ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। “গভীর মমতায় তিনি এঁকে চলেছেন মূলত মেয়েদের, সাধারণ মানবী তারা, কিন্তু দিব্য বিভায় উদ্ভাসিত তাদের ঘামে ভেজা মুখ।“ গল্প উপন্যাসরচনার পাশাপাশি প্রবন্ধ, মুক্তগদ্য এবং অনুবাদে তিনি সক্রিয় রয়েছেন। পাঠকের জন্য এবারের আয়োজনে রইলো সাহিত্যিক প্রতিভা সরকারের সঙ্গে আলাপচারিতা।
ফিরে দেখা একাত্তর
লেখালিখি হলো একধরনের লড়াই। বিস্মৃতির বিপক্ষে স্মৃতির লড়াই। এ স্মৃতি আমাদের পূর্বপুরুষের। তাঁদের স্মৃতির বাতাবরণে আমরা বেড়ে উঠেছি। সে স্মৃতি গৌরবের, সে স্মৃতি অশ্রু আর রক্তমাখা মুক্তিযুদ্ধের। পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের মাথা তুলে দাঁড়ানোর ইতিহাস। আমাদের লিখিত স্মৃতির ঘেরাটোপের ভেতর বেড়ে উঠবে আগামী প্রজন্ম। তারা জানবে তাদের গৌরবময় ইতিহাস। কারণ ইতিহাসকে উপেক্ষা করে কোনো দেশ কিংবা জাতি টিকে থাকতে পারে না। আজকের বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যত ধোঁয়াশা তৈরির চেষ্টাই চলুক না কেন, আমরা যদি ইতিহাসকে ধারণ করি তবে বাংলাদেশ কখনও দিশা হারাবে না বলেই বিশ্বাস করি। সেই বিশ্বাস আঁকড়ে, বিস্মৃতি-বিকৃতির বিরুদ্ধে হোক আমাদের অবস্থান । এই লিংকে ক্লিক করলে সবগুলো লেখা পড়া যাবে।
ফিরে পাওয়া বই
গল্প
‘মাই বিউটিফুল লনড্রেট’ ও ‘দ্য বুদ্ধ অব সুবারবিয়ার’ গ্রন্থের স্রষ্টা হানিফ কুরেশি বক্সিং ডেতে রোমে ছুটি কাটাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর থেকে হাত-পা নাড়ানো তাঁর জন্য কাষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তিনি ধরেই নিয়েছিলেন যে তিনি মারা যাচ্ছেন। তড়িঘড়ি সন্তানদের বিদায় জানাতে ভিডিও কল করতে চেয়েছিলেন। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুরেশি সেই স্মৃতি উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি মৃত্যু দেখেছি। মৃত্যু আমার সঙ্গে কথা বলছিল।’ রিটন খানের অনুবাদে আসুন পড়ে নেওয়া যাক হানিফ কুরেশির একটি সুখপাঠ আলাপচারিতা।..
অনুবাদ: রিটন খান
অনুবাদ: উৎপল দাশগুপ্ত
বিরহিলিও পিনিয়েরাকে নিয়ে আয়োজন
বিরহিলিও পিনিয়েরা (Virgilio Piñera) কিউবার কারদেনাসে ৪ আগস্ট ১৯১২ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবা কারদেনাস শিক্ষাবোর্ডের সেক্রেটারি হিসেবে প্রথম জীবনে কাজ করেন। পরে কারদেনাস একোইডাক্ট(aqueduct) বিভাগের প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন(ব্রিটানিকার তথ্যমতে তাঁর বাবা রেলওয়ের প্রকৌশলী ছিলেন)। মা ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। ১৯২৩ সালে তাঁরা সপরিবারে হাভানায় বসবাস শুরু করেন। কবিতা দিয়ে তাঁর লেখালিখির সূচনা হয়। প্রথম কবিতা এল গ্রিটো মুডো El Grito Mudo (The Mute Scream) ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৩৭ সালে প্রথম রচিত নাটক ক্ল্যামার এন এল পেনাল(Clamor en el Penal (Noise in the Penitentiary)। এই নাটক রচনার মধ্যে দিয়ে দর্শনশাস্ত্রে ডিগ্রীধারী পিনিয়েরা পুরোদস্তুর লেখক জীবনে প্রবেশ করেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা সৃষ্টি হলো ‘লা ইসলা এন পেসো’ La isla en peso (The Island in Weight) ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়া তাঁর অন্যান্য রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে সাহিত্য সম্পর্কিত প্রবন্ধগুচ্ছ, সাহিত্য সমালোচনা। ছোটো গল্পের সংকলন যা ‘কোল্ডটেলস’ শিরোনামে পরিচিত, এটি ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে। পিনিয়েরা অসংখ্য নাটক রচনা করেন। যার অনেকগুলোই দর্শকের সমাদর পেয়েছিল। তাঁর গল্পে উদ্ভট আর অলৌকিক ব্যাপারের কেমন একটা মেলবন্ধন চোখে পড়ে যা কাফকাসুলভ বলে বোদ্ধাদের মতামত। পিনিয়েরার সাহিত্য যতবেশি অনুবাদিত হচ্ছে ততই তা বিংশ শতকের স্বৈরশাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের খতিয়ান হিসেবে পাঠকের সামনে উপস্থাপিত হচ্ছে। সমাজ-রাজনীতি সচেতন এই গুণী মানুষটি ১৯৭৯ সালের ১৪ অক্টোবর হাভানায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গল্পপাঠের এবারের আয়োজন কিউবান এই গুণী সাহিত্যিককে নিয়ে। আয়োজনের গল্পগুলো পিনিয়েরার কোল্ড টেলসের অন্তর্ভুক্ত। গল্পগুলোর ইংরেজি অনুবাদক মার্ক শেইফার।
অনুবাদ: রিটন খান
অনুবাদ: কুলদা রায়
অনুবাদ: প্রতিভা সরকার
অনুবাদ: বিপ্লব বিশ্বাস
অনুবাদ: রঞ্জনা ব্যানার্জী
অনুবাদ: উৎপল দাশগুপ্ত
অনুবাদ: ইন্দ্রাণী দত্ত
অনুবাদ: হারুন রশীদ
অনুবাদ: ফারহানা আনন্দময়ী
অনুবাদ: মৌসুমী বিলকিস
অনুবাদ: অনামিকা বন্দোপাধ্যায়
অনুবাদ: মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ
অনুবাদ: নাহার তৃণা
চ্যাট জিপিটির উঠোন :
চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কিউবার হারিয়ে যাওয়া লেখক বিরহিলিও পিনিয়েরা বিষয়ে দীর্ঘ আলাপ করা হয় গল্পপাঠের টিমের। আলাপটি হয় প্রশ্নোত্তরে। পিনিয়েরার জীবন, তাঁর লেখাপত্র, লেখার শৈলী, তাঁর সঙ্গে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ, সার্ত্রে, কাফকা,সেমুয়েল বেকেট, মিসেল ফুকোর সঙ্গে পিনিয়েরার লেখাপত্রের মিল-অমিল নিয়ে বিস্তর কথা হয়। তাঁদের লেখার সঙ্গে চ্যাটজিপিটির তুলনামূলক আলোচনা হাজির করেছে। এই বৈঠকটি দীর্ঘ হলেও মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। আপনার চিন্তাকে উস্কে দেবে আশা করছি।
গল্প
অনুবাদ: খালিকুজ্জামান ইলিয়াস
অনুবাদ: ফজল হাসান
অনুবাদ: এলহাম হোসেন
গল্প
ওভারডোজ
কল্যাণী রমা-র জন্ম ঢাকায়। ছেলেবেলা কেটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ভারতের খড়গপুর আই আই টি থেকে ইলেকট্রনিক্স এ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল কমুনিকেশন ইঞ্জিনীয়ারিং-এ বি টেক করেছেন। এখন আমেরিকার উইস্কনসিনে থাকেন। কাজ করেছেন ম্যাডিসনে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং স্পেশালিষ্ট হিসাবে। তিনি কবিতা, গল্প লিখতে ও অনুবাদ করতে ভালোবাসেন।



































2 মন্তব্যসমূহ
চমৎকার চমৎকার গল্পে সাজানো হয়েছে এসংখ্যাটি। পাঠান্তে অনুরণন থাকে বহুক্ষণ। অভিনন্দন লেখকদের।
উত্তরমুছুনI found the author, he is a Cuban medical doctor, only progressive . I think his wife is his office manager thus it the short story .and reference to company .. Kagoj or company stock share . That is where if any one has. , quip Walter Mondale where is the beef ..that kind of digg bottom less basket eureka
উত্তরমুছুন